Home Blog Page 398

১১ বছর পর আইপিএলের ফাইনালে প্রীতির পাঞ্জাব

সবশেষ ২০১৪ সালে আইপিএলের ফাইনালে উঠেছিল পাঞ্জাব কিংস। অবশেষে ১১ বছর পর আইপিএলের ফাইনালে উঠেছে পাঞ্জাবের দলটি। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।

রোববার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আইপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছে পাঞ্জাব কিংস। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২০৩ রানের বিশাল পুঁজি পায় মুম্বাই। লক্ষ্য তাড়ায় শ্রেয়াস আইয়ারের অধিনায়কোচিত ইনিংসে ভর করে ৬ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় পাঞ্জাব।

এদিন টস জিতে প্রথমে মুম্বাইকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় পাঞ্জাব। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি মুম্বাইয়ের। দলীয় ১৯ রানে রোহিত শর্মাকে হারায় মুম্বাই। তবে এরপর দলের হাল ধরেন জনি বেয়ারস্টো এবং তিলক ভার্মা। দুইজনের ব্যাটে এগিয়ে যেতে থাকে মুম্বাই। তবে বেয়ারস্টোকে তুলে নিয়ে তাদের ৫১ রানের জুটি ভাঙেন বিজয়কুমার।

এরপর সূর্যকুমারকে নিয়ে ৭২ রানে জুটি গড়েন ভার্মা। এরপর তিন বলের মধ্যে এই দুই ব্যাটারকে হারায় মুম্বাই। দুইজনই ৪৪ রান করে ফেরেন। শেষ দিকে নামান ধীরের ১৮ বলে ৩৭ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে ৬ উইকেটে ২০৩ রানের বিশাল পুঁজি পায় মুম্বাই। পাঞ্জাবের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট শিকার করেন আফগান অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমারজাই।

২০৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই প্রভসিমরন সিংকে হারায় পাঞ্জাব। এরপর বড় জুটি গড়ার দিকেই এগোচ্ছিলেন জস ইংলিশ ও আরিয়া। তবে তাদের জুটি বড় হতে দেননি অশ্বনী কুমার। আরিয়ার উইকেট তুলে নেন তিনি। তার কিছুক্ষণ পর বিদায় নেন অজি ব্যাটসম্যান ইংলিশও। তখন পাঞ্জাবের স্কোর ৭.৫ ওভারে ৭২ রানে ৩ উইকেট।

তখন নেহাল ওয়াধেরাকে নিয়ে এগোতে থাকেন পাঞ্জাবের অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। দুইজনের মারকুটে ব্যাটিংয়ে লক্ষ্যটা সহজ হয়ে যায় পাঞ্জাবের জন্য। ওয়াধেরা ২৯ বলে ৪৮ রান করে ফিরলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে ব্যাটিং চালিয়ে যান আইয়ার। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত এক ওভার ও ৫ উইকেট হাতে থাকতেই জয় তুলে নেয় পাঞ্জাব। আইয়ার ৪১ বলে ৮৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। মুম্বাইয়ের হয়ে ২ উইকেট পেয়েছেন অশ্বনী কুমার।

মঙ্গলবারের একই ভেন্যুতে ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। দুই দলই এখন পর্যন্ত আইপিএলের শিরোপা জেতেনি। ফলে এবারের ফাইনালে যে দলই জিতবে তারাই হলে আইপিএলের নতুন চ্যাম্পিয়ন। এবারের আসরের প্রথম কোয়ালিফায়ারে দুই দলের মুখোমুখি দেখায় জয় পেয়েছিল বিরাট কোহলির বেঙ্গালুরু।

এক নজরে বাংলাদেশের ৫৩টি জাতীয় বাজেট

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সোমবার বিকেল ৩টায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন।এটি হবে দেশের ৫৪তম বাজেট। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বাজেট। সংসদ না থাকায় ভিন্ন আঙ্গিকে পেশ হবে এবারের বাজেট।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বিটিভিসহ অন্যান্য বেসরকারি টেলিভিশনে তাঁর বক্তব্য একযোগে প্রচার করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চলতি বাজেটের চেয়েও ছোট বাজেট দেওয়া হবে। আগামী ২০২৫–২৬ অর্থবছর সরকারি ব্যয় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা চলতি বাজেটের চেয়ে ৭ হাজার কোটি টাকা কম।

এর আগে সংসদের বাইরে বাজেট দেওয়া হয়েছিল ২০০৮ সালে। তখন ক্ষমতায় ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ওই বছরের ৯ জুন তখনকার অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম ২০০৮-০৯ অর্থবছরের জন্য ৯৯ হাজার ৯৬২ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিলেন। সেদিনও ছিল সোমবার। বেলা ৩টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচার করা হয়েছিল মির্জ্জা আজিজুল ইসলামের বাজেট বক্তব্য।

এবার সংসদ না থাকায় সংসদের আলোচনা বা বিতর্কের কোনো সুযোগ থাকছে না। তবে বাজেট ঘোষণার পর প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর নাগরিকদের নিকট মতামত চাইবে অর্থ মন্ত্রণালয়। মতামতের ভিত্তিতে তা চূড়ান্ত করা হবে। এরপর আগামী ২৩ জুনের পর যেকোনো একদিন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদন নিয়ে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ আকারে তা আগামী এক জুলাই থেকে কার্যকর করা হবে।

স্বাধীনতা-পরবর্তী সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দিন আহমেদ ১৯৭২ সালে দেশের প্রথম বাজেট পেশ করেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই বাজেট হবে বর্তমান অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের প্রথম বাজেট। তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

নিচে ক্রমানুসারে বাংলাদেশের ৫৩টি জাতীয় বাজেট এক নজরে তুলে ধরা হলো। এখানে বাজেটের পরিমাণ ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বরাদ্দ উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থবছর-উপস্থাপক-মোট বাজেট-বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি):

১৯৭২-৭৩- তাজউদ্দিন আহমেদ- ৭৮৬ কোটি টাকা – ৫০১ কোটি টাকা।

১৯৭৩-৭৪- তাজউদ্দিন আহমেদ- ৯৯৫ কোটি টাকা – ৫২৫ কোটি টাকা।

১৯৭৪-৭৫- তাজউদ্দিন আহমেদ- ১ হাজার ৮৪ কোটি টাকা – ৫২৫ কোটি টাকা।

১৯৭৫-৭৬- ড. আজিজুর রহমান মল্লিক- ১ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা – ৯৫০ কোটি টাকা।

১৯৭৬-৭৭- মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান- ১ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা – ১ হাজার ২২২ কোটি টাকা।

১৯৭৭-৭৮- লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান- ২ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা – ১ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা।

১৯৭৮-৭৯- প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান- ২ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা – ১ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা।

১৯৭৯-৮০- ড. এম এন হুদা- ৩ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা – ২ হাজার ১২৩ কোটি টাকা।

১৯৮০-৮১ এম সাইফুর রহমান- ৪ হাজার ১০৮ কোটি টাকা – ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

১৯৮১-৮২- এম সাইফুর রহমান- ৪ হাজার ৬৭৭ কোটি- ৩ হাজার ১৫ কোটি টাকা।

১৯৮২-৮৩- এ এম এ মুহিত- ৪ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা – ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

১৯৮৩-৮৪- এ এম এ মুহিত- ৫ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা – ৩ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা।

১৯৮৪-৮৫- এম সাইয়েদুজ্জামান- ৬ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা – ৩ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা।

১৯৮৫-৮৬- এম সাইয়েদুজ্জামান- ৭ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা – ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা।

১৯৮৬-৮৭- এম সাইয়েদুজ্জামান- ৮ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা – ৪ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা।

১৯৮৭-৮৮- এম সাইয়েদুজ্জামান- ৮ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা – ৫ হাজার ৪৬ কোটি টাকা।

১৯৮৮-৮৯- মেজর জেনারেল মুনিম- ১০ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা – ৫ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা।

১৯৮৯-৯০- ড. ওয়াহিদুল হক- ১২ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা – ৫ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা।

১৯৯০-৯১- মেজর জেনারেল মুনিম- ১২ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা – ৫ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা।

১৯৯১-৯২- এম সাইফুর রহমান- ১৫ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা – ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

১৯৯২-৯৩- এম সাইফুর রহমান- ১৭ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা – ৯ হাজার ৫৭ কোটি টাকা।

১৯৯৩-৯৪- এম সাইফুর রহমান- ১৯ হাজার ৫০ কোটি টাকা – ৯ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা।

১৯৯৪-৯৫- এম সাইফুর রহমান- ২০ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা – ১১ হাজার কোটি টাকা।

১৯৯৫-৯৬- এম সাইফুর রহমান- ২৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকা- ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

১৯৯৬-৯৭- শাহ এ এম এস কিবরিয়া – ২৪ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা – ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

১৯৯৭-৯৮- শাহ এ এম এস কিবরিয়া – ২৭ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা – ১২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

১৯৯৮-৯৯- শাহ এ এম এস কিবরিয়া – ২৯ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা – ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

১৯৯৯-২০০০- শাহ এ এম এস কিবরিয়া – ৩৪ হাজার ২৫২ কোটি টাকা – ১২ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা।

২০০০-০১- শাহ এ এম এস কিবরিয়া – ৩৮ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা- ১৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

২০০১-০২- শাহ এ এম এস কিবরিয়া – ৪২ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা – ১৯ হাজার কোটি টাকা।

২০০২-০৩- এম সাইফুর রহমান- ৪৪ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা- ১৯ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

২০০৩-০৪- এম সাইফুর রহমান- ৫১ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা- ২০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

২০০৪-০৫- এম সাইফুর রহমান- ৫৭ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা- ২২ হাজার কোটি টাকা।

২০০৫-০৬- এম সাইফুর রহমান- ৬১ হাজার ৫৮ কোটি টাকা- ২৩ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা।

২০০৬-০৭- এম সাইফুর রহমান- ৬৯ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা- ২৬ হাজার কোটি টাকা।

২০০৭-০৮- মির্জা আজিজুল ইসলাম- ৯৯ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা- ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

২০০৮-০৯- মির্জা আজিজুল ইসলাম- ৯৯ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা- ২৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

২০০৯-১০- এ এম এ মুহিত- ১ লাখ ১৩ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা- ২৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

২০১০-১১- এ এম এ মুহিত- ১ লাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা- ৩৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকা।

২০১১-১২- এ এম এ মুহিত- ১ লাখ ৬১ হাজার ২১৪ কোটি টাকা- ৪১ হাজার ৮০ কোটি টাকা।

২০১২-১৩- এ এম এ মুহিত- ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা- ৫২ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা।

২০১৩-১৪- এ এম এ মুহিত- ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা- ৬০ হাজার কোটি টাকা।

২০১৪-১৫- এ এম এ মুহিত- ২ লাখ ৫০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা- ৭৫ হাজার কোটি টাকা।

২০১৫-১৬- এ এম এ মুহিত- ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা- ৯৩ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা।

২০১৬-১৭- এ এম এ মুহিত- ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা- ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

২০১৭-১৮- এ এম এ মুহিত- ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা- ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা।

২০১৮-১৯- এ এম এ মুহিত- ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা- ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা।

২০১৯-২০- আ হ ম মুস্তফা কামাল- ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা- ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা।

২০২০-২১- আ হ ম মুস্তফা কামাল- ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা- ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা।

২০২১-২২- আ হ ম মুস্তফা কামাল- ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা- ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।

২০২২-২৩- আ হ ম মুস্তফা কামাল- ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা- ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।

২০২৩-২৪- আ হ ম মুস্তফা কামাল- ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা- ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা।

২০২৪-২৫- এ এইচ মাহমুদ আলী- ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা- ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা।

তারপর আওয়ামী লীগের চার মেয়াদে সাড়ে ১৫ বছরে আবুল মাল আবদুল মুহিত টানা ১০ বার, আ হ ম মুস্তফা কামাল পাঁচবার এবং আবুল হাসান মাহমুদ আলী একবার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন।

নির্বাচিত সরকারের আমলের এসব বাজেট জাতীয় সংসদেই উপস্থাপন করা হয়। পরে মাসজুড়ে সেই প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা হত সংসদে। জুন মাসের শেষ দিকে সংসদে পাস হত নতুন অর্থবছরের বাজেট।

নগদের গ্রাহকদের অর্থ ঝুঁকিতে: বাংলাদেশ ব্যাংক

মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ লিমিটেডের গ্রাহকদের টাকা ও তথ্যের নিরাপত্তা এখন ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো একটি লিখিত বিবৃতিতে এ কথা জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

বিবৃতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাবগুলোর স্বাক্ষরদাতা পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ফরেনসিক অডিট কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অডিট ফার্ম কেপিএমজি সম্পন্ন করছিল।

প্রকৃত অর্থ জমা ছাড়াই ‘নগদ’ অতিরিক্ত কমপক্ষে ৬৪৫ কোটি টাকার ই-মানি ইস্যু করেছে। এতে করে ডাক বিভাগ তথা সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে সমপরিমাণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এই অতিরিক্ত ই-মানি ইস্যু রাষ্ট্রের বৈধ মুদ্রা ব্যবস্থার ওপর আঘাত, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একচেটিয়া অর্থ ইস্যুর ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে।

এ ছাড়া অনুমোদনহীন ৪১টি পরিবেশকের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা ‘নগদ’ থেকে উত্তোলন করা হয়েছে, যা মূলত বিভিন্ন সরকারি ভাতা বিতরণের অর্থ ছিল।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরো জানিয়েছে, একটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের ১৮ হাজার ২৩৩ জন গ্রাহকের হিসাবে বেআইনিভাবে অর্থ পাঠানোর কারণে ‘নগদ’-এর ক্ষতি হয়েছে ১৪৪ কোটি টাকা।

সম্প্রতি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ‘নগদ’ নিয়ে গভর্নরের উদ্দেশে একটি আধা সরকারি চিঠি দেন, যা তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশ করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবৃতিতে জানানো হয়, ৭ মে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতের স্থগিতাদেশের ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত প্রশাসক ও তার দল ‘নগদ’-এর কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছেন না।

এ সুযোগে মামলার আসামি ও ‘নগদ’-এর সাবেক এমডি তানভীর আহমেদ মিশুক নিজেকে বৈধ এমডি দাবি করে মামলার অন্য আসামি শাফায়েত আলমকে ই-মেইলের মাধ্যমে ‘নগদ’-এর সিইও হিসেবে নিয়োগ দেন। যদিও এতে পরিচালনা পর্ষদের কোনো অনুমোদন ছিল না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, প্রশাসক দলের ই-মেইল, ফাইন্যান্স ও আইটি বিভাগের নিয়ন্ত্রণ, এমনকি ই-মানি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সিস্টেমে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ১২ মে থেকে প্রশাসক দল কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।

সবশেষে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আন্তর্জাতিক অডিট ফার্ম কেপিএমজিকে দিয়ে ‘নগদ’-এর পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অডিট করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন তাদেরকে কোনো সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না, ফলে অডিট কার্যক্রম থেমে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, ‘নগদ’-এর গ্রাহকদের অর্থ ও তথ্য বর্তমানে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, ৪০টিরও বেশি বিমান ধ্বংসের দাবি

রাশিয়ার অভ্যন্তরে চারটি বিমানঘাঁটিতে বড় আকারের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রোববার ইউক্রেনের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা সংস্থা (এসবিইউ) এই হামলা চালায়। এতে রাশিয়ার ৪০টি বোমারু বিমান ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা। খবর সিবিএস নিউজ’র।

ইউক্রেনের এই দাবি সত্য হলে, এটিই হবে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত রুশ সামরিক ঘাঁটিতে চালানো হামলার মধ্যে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক ড্রোন হামলা, যা মস্কোর জন্য এক বড় ধাক্কা।

ইউক্রেন এর আগে এমন হামলা চালালেও তার মাত্রা এত ব্যাপক ছিল না। সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে রাশিয়া ও ইউক্রেইনের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফা শান্তি আলোচনা শুরুর আগে দিয়ে এই ড্রোন হামলা হল।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ইউক্রেনের ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, রাশিয়ার ৪০ টির বেশি বোমারু বিমানে আঘাত হানা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টিইউ-৯৫ এবং টিইউ-২২। দু’টো যুদ্ধ বিমানই ইউক্রেইনে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে ব্যবহার করে থাকে রাশিয়া।

অন্যদিকে রাশিয়ার গণমাধ্যম মুরমানস্ক এবং ইরকুটস্ক অঞ্চলের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার খবর জানিয়েছে। তবে বলেছে, সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।

ইউক্রেনের কর্মকর্তার শেয়ার করা একটি ভিডিও ফুটেজে হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। এতে কয়েকটি বড় বোমারু বিমানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এগুলো টিইউ-৯৫ যুদ্ধবিমান বলেই মনে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আগুন নিয়ে খেলতে’ সতর্ক করল চীন

তাইওয়ান ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আগুন নিয়ে খেলতে’ সতর্ক করেছে চীন। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের এক মন্তব্যের পর বেইজিং এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। হেগসেথ বলেছেন, তাইওয়ানের জন্য একমাত্র হুমকি এশিয়ার শক্তি চীন। সূত্র: আল জাজিরা।

শনিবার (৩১ মে) শাংরি-লা ডায়লগে বক্তব্য প্রদানকালে হেগসেথ তাইওয়ানে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য চীনের বিরুদ্ধে এক সম্ভব্য মহড়া চালানোর অভিযোগ করেছেন।

তাইওয়ান একটি পৃথক সরকার শাসিত দ্বীপ হলেও চীন একে নিজেদের অংশ দাবি করে। এই দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে নিজেদের অংশ করে নিতে প্রয়োজনে বল প্রয়োগ করারও হুমকি দিয়েছে বেইজিং। তবে তাইওয়ান সরকার চীনের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, দ্বীপটির জনগণই এর ভবিষ্যত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

হেগসেথের এমন মন্তব্যের পর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় দ্রুতই এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বলা হয়েছে, তাইওয়ানের বিষয়টি তাদের অভ্যন্তরীণ। এজন্য বিদেশি শক্তিকে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এ বিষয়ে মন্তব্যে সতর্ক করা হয়েছে। মার্কিন এই মন্তব্য এশিয়া প্রশাস্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে ‘পাউডার কেজ’ এ পরিণত করতে পারে।

বরিশালে বৈছাআ এর মুখ্য সংগঠকসহ ৩ জনের পদত্যাগ

বরিশালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠকসহ ৩ নেতা পদত্যাগ করেছেন। সংগঠনের অন্য নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মব সৃষ্টির অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি তাদের। আজ রোববার (১ জুন) রাতে বরিশাল রিপোর্টাস ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে এ পদত্যাগের ঘোষণা দেন ওই তিন নেতা।

পদত্যাগ করা নেতারা হলেন- জেলা কমিটির মুখ্য সংগঠক হাসিবুল আলম তুরান, যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম আবিদ ও সদস্য তাহসিন আহমেদ রাতুল।

সংবাদ সম্মেলনে তুরান বলেন, ‘সংগঠনের জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মহসিন উদ্দিন সাবেক ছাত্র শিবির নেতা। তিনি কিছুদিন আগে নগরীতে চাঁদাবাজি ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটান। এর সঙ্গে আমি জড়িত না। তারপরও আমার নাম জড়ানো হয়েছে।’

তিনি জানান, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজনৈতিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পরিষ্কার না করে মব তৈরি করে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করছে। সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে শিক্ষিত এবং সচেতনতা তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে সংগঠনটি। পুরনো রাজনৈতিক ধারায় দখলবাজি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মামলা বাণিজ্য ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি নিজেদের মধ্যে কোন্দলও সৃষ্টি করা হচ্ছে। এখন নারীরা রাস্তায় নামতে ভয় পান। তাদের নানা অপবাদ ও ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। এ সব কর্মকাণ্ড জুলাইয়ের শহীদ-আহতদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানির শামিল।’

সংবাদিকাদের প্রশ্নের জবাবে পদত্যাগ করা তিন নেতা বলেন, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের জন্য তারা জুলই আন্দোলনে নিয়েছিলেন। এখন যা হচ্ছে- তাতে মানুষের অভিশাপ নেওয়া লাগছে। অভিশাপমুক্ত থাকতে তারা পদত্যাগ করেছেন।

৩ নেতার পদত্যাগ প্রসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন বলেন, ‘ দলে অপকর্ম হয়ে থাকলে আগে প্রতিবাদ করেননি কেন তারা? আমার কাছে কারো কোনো অপকর্মের প্রমাণ নেই। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেব।’

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি: ছাত্র ইউনিয়ন

নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন ছাত্রসংগঠনগুলোর গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইসলামী ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। আজ রোববার (১ জুন) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা।

এ সময় ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার, সহসভাপতি মনীষা ওয়াহিদ, স্কুলছাত্রবিষয়ক সম্পাদক একরামুল হক জিহাদসহ গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে হামলার হুমকিদাতাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি তামজীদ হায়দার চঞ্চল। তিনি বলেন, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামকে খালাস দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকাসহ সারা দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের এবং চট্টগ্রাম নগরে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্রশিবির হামলা করেছে। ‘শাহবাগবিরোধী ঐক্য’–এর ব্যানারে জামায়াতে ইসলামী-ইসলামী ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাংশের নেতা–কর্মীদের এসব হামলায় গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের প্রায় ৩০ জন নেতা–কর্মী আহত হন। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াত-শিবিরের নৃশংস হামলার ধারাবাহিকতায় গত ৩০ মে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকারের পরিবারকে, কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি ও সিলেট জেলা সংসদের সভাপতি মনীষা ওয়াহিদকে এবং কেন্দ্রীয় সংসদের স্কুল ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা সংসদের সভাপতি একরামুল হক জিহাদকে হুমকি দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের আপামর জনগণ ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর যে বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা করেছিল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সেই আকাঙ্ক্ষাকে ছাত্রশিবির বিনষ্ট করেছে। ভিন্নমত দমনে নৈমিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্যাগিং, পেশিশক্তি, মব–সন্ত্রাস বেছে নিয়েছে ছাত্রশিবির, যা গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস বিনির্মাণে প্রতিবন্ধকতা তৈরির পাশাপাশি পুরোনো ফ্যাসিস্ট–ব্যবস্থাকে জিইয়ে রেখেছে। জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা চট্টগ্রামে ও রাবিতে নৃশংস হামলা চালিয়েছে, নারী আন্দোলন কর্মীদের বর্বরোচিতভাবে আঘাত করেছে। এমন সন্ত্রাসী তৎপরতার পর জামায়াত-শিবির ক্ষান্ত না হয়ে একেক পর এক ছাত্র ইউনিয়নের নেতা–কর্মীদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

ছাত্রশিবিরের ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ নজির এটাই প্রথম নয় উল্লেখ করে ছাত্র ইউনিয়নের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৯৮৪ সালে শিবির চট্টগ্রাম কলেজের সোহরাওয়ার্দী হলে ছাত্র ইউনিয়ন নেতা ও মেধাবী ছাত্র শাহাদাত হোসেনকে জবাই করে হত্যা করে। ১৯৮৮ সালে শিবিরের ক্যাডার বাহিনী ছাত্র মৈত্রীর নেতা ডাক্তার জামিল আক্তার রতনকে কুপিয়ে ও হাত পায়ের রগ কেটে হত্যা করে। একই বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাসদ নেতা জালালকে হত্যা করে। তা ছাড়া শিবিরের হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন ছাত্র ইউনিয়নের নেতা সঞ্জয় তলাপাত্র এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের নেতা তপন।

ঢাকাসহ ৪ বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে রোববার (১ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪-৮৮ মিমি/২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারী (>৮৮ মিমি/২৪ ঘণ্টা) বর্ষণ হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়েছে, অতি ভারী বর্ষণের কারণে সিলেট, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবন ও কক্সবাজার জেলার পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। সেই সঙ্গে ভার বর্ষণজনিত কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।

চিরকুট লিখে সেনা সদস্যের আত্মহত্যা

গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে ওয়ার্কশপ ভবনে এসএম সৌরভ হোসেন নামে এক সেনা সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম।

মৃত সৌরভ হোসেন ঝিনাইদহ জেলার গাড়াগঞ্জ গ্রামের উজির আলী মোল্লার ছেলে। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, ‘রোববার ভোর ৫টা ১০ মিনিটে জয়দেবপুর থানাধীন রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট আরপি গেইট সংলগ্ন সৈনিক ব্যারাকে এসএম সৌরভ হোসেন কনস্ট্রাকশনের বাঁশের সাথে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।’

চিরকুটে আত্মহত্যার আগে সৌরভ তার নিজের দোষ স্বীকার করে আত্মহত্যার কারণ উল্লেখ করেন বলে জানিয়েছেন ওসি।

ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল বেলুচিস্তান

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে একের পর এক জঙ্গি হামলায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা অঞ্চল। সর্বশেষ, শনিবার কোয়েটা শহরের উপকণ্ঠে নওয়ান কিল্লি এলাকায় এক বিস্ফোরণে অন্তত দুইজন নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর: জিও নিউজ।

বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধারকারী দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আহতদের দ্রুত কাছের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এটি কী ধরনের বিস্ফোরণ ছিল, তা এখনও নির্দিষ্ট করে বলা যায়নি। পুরো এলাকা ঘিরে রেখে তদন্ত শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে এই হামলা সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু মূলত নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যরা।

পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (পিআইসিএসএস)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে সন্ত্রাসী হামলার হার পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় ৪২ শতাংশ বেড়েছে। ওই মাসে দেশজুড়ে ৭৪টি জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে, যাতে প্রাণ হারান ৯১ জন। নিহতদের মধ্যে ৩৫ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, ২০ জন সাধারণ নাগরিক এবং ৩৬ জন হামলাকারী। আহত হন আরও ১১৭ জন, যাদের মধ্যে ৫৩ জন ছিলেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, ৫৪ জন সাধারণ মানুষ এবং ১০ জন সন্ত্রাসী।

এই ঘটনার ঠিক একদিন আগে, বেলুচিস্তানের খুজদার জেলার সোরাব শহরে অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার (এডিসি) হিদায়ত বুলেদি জঙ্গি হামলায় নিহত হন। প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ জানিয়েছেন, ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামের একটি জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা ডেপুটি কমিশনারের বাসভবনে হামলা চালায়।

বিবৃতিতে শাহিদ রিন্দ আরও জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-এর সদস্যরা একইদিন সোরাব বাজারে ঢুকে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক লুট করে এবং একাধিক সরকারি কর্মকর্তার বাসভবনে অগ্নিসংযোগ করে। ঘটনার পরপরই ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি), পুলিশ ও লেভিস বাহিনী যৌথভাবে ওই এলাকায় অভিযান চালায়।

২১ মে বেলুচিস্তানের খুজদার জেলার জিরো পয়েন্টের কাছে আরও একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেদিন একটি স্কুলবাসকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় পাঁচ শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৮ জন প্রাণ হারান, আহত হন আরও অনেকে। বাসটিতে ৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ছিল এবং তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে ছিল। এ ঘটনার নিন্দা জানায় দেশটির রাজনৈতিক মহল ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

বেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে আক্রান্ত প্রদেশগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।