Home Blog Page 399

প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি

মিউনিখের এ মাঠে খেলা হলেই না কি নতুন কোনো দল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জেতে। অলিখিত সেই নিয়মই যেন ধরে রাখল ২০২৫।  শনিবার রাতে ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ চ্যাম্পিয়ন পারি সা জার্মেই।

ইউরোপ সেরা হবার অনুভুতি কেমন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দেখতে হবে পিএসজির উদযাপন। এ যেন অসাধ্যকে সাধন করল লা পারিসিয়ান। এই একটা ট্রফির জন্য কত কিছুইনা করেছে ফরাসি জায়ান্টরা, অবশেষে দিলো ধরা। ডেভিড বেকহ্যাম, রোনালদিনিয়ো থেকে মেসি, নেইমার, এমবাপ্পেরা যা করে দেখাতে পারেনি, সেটাই করে দেখালেন দেম্বেলে, দুয়েরা।

একই ফ্রেমে আনন্দ-বেদনা, দেড় দশকের খরা কাটানো হলো না নেরাজ্জুরিদের। যাদের কিনা দেড় মাস আগে সুযোগ ছিল ট্রেবল জয়ের, তবে মৌসুম শেষে শূন্য হাতে ফিরল সিমোনে ইনজাঘির দল। তিন মৌসুমে দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলেও শিরোপাটা ছোঁয়া হলোনা ইতালিয়ান বসের।

ইতিহাসের পাতায় লুইস এনরিক। ভিন্ন ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ একবারের বেশি ট্রেবল জয়ের এলিট ক্লাসে নাম লেখালেন স্প্যানিশ ট্যাকটিশিয়ান। তার আগে এই কীর্তি আছে শুধু পেপ গার্দিওয়ালার।

মিউনিখ দখলে নিয়েছিল পিএসজি সমর্থকরা। তাদেরও হতাশ করেনি পারি সা জার্মেই। প্রথমার্ধেই দুই গোলের লিড। দিজিরে দুয়ের পাস থেকে স্কোরশিটে নাম লেখান আশরাফ হাকিমি। নিজের সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে ছিলো না গোল উদযাপন।

প্রথম গোলের কারিগর এবার অনেকটা ভাগ্যের ছোঁয়ায় জালের দেখা পেয়েছেন। সবচেয়ে কম ১৯ বছর বয়সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল ও অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়লেন দুয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে যেন হাল ছেড়ে দিয়েছে ইন্টার মিলান। ৬৩ থেকে ৮৪ আরও তিন গোল ইতালিয়ান জায়ান্টদের জালে। দুয়ে পূর্ণ করেন জোড়া।

কাভারাৎস্খেলিয়া ও আরেক তরুণ তুর্কি সিনে মায়ুলু জয়ের আনন্দ বড় করেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মৌসুমে ১৩ গোলে অবদান ওসমান দেম্বেলের। পিএসজি জার্সিতে ছাড়িয়ে গেছেন এমবাপ্পেকে। ব্যালন ডি অর জয়ের যোগ্য দাবিদার ফরাসি তারকা।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মিউনিখের ইতিহাস অক্ষুণ্ন রইলো। পাঁচ ফাইনালে প্রতিবারই নতুন চ্যাম্পিয়ন পেলো ইউরোপ।

শিল্পীদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়া ন্যক্কারজনক: আবুল হায়াত

ছোট পর্দার বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াত শিল্পীদের হাতকড়া পরিয়ে গ্রেপ্তার করার ঘটনাকে ‘ন্যক্কারজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। শনিবার (৩১ মে) রাজধানীর পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত অভিনয় শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের ‘অ্যাক্টর’স ফ্যামিলি ডে ও অভিষেক-২০২৫’ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আবুল হায়াত বলেন, “কথা নেই, বার্তা নেই, শিল্পীদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায়, এক হাজারজনের মধ্যে সে নাকি আসামি, মানুষ খুন করেছে। তাকে সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে জেলখানায় ধরে রিমান্ডে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

এই ধরনের গ্রেপ্তারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি অভিনয় শিল্পী সংঘের লিগ্যাল কমিটির প্রতি আইনি বিষয়ে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

তার মতে, “আইনি বিষয়ে আমাদের আরো শক্ত হতে হবে। এ জিনিসগুলো নিয়েও আমাদের লিগ্যাল কমিটির কাজ করতে হবে, অনেক করণীয় আছে। কারণ, পাবলিকের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হয়।”

একজন শিল্পীকে গ্রেপ্তার করা হলে জনমনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়, সে বিষয়েও আবুল হায়াত আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, একটি সংবাদমাধ্যম থেকে তাকে একজন শিল্পীর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, “আমার ফিলিংয়ের কিছু নেই, ওনার যদি অপরাধ থাকে, সেটা তদন্ত হবে, বিচার হবে; কিন্তু অপরাধ যদি না থাকে, তাহলে এভাবে নিয়ে যাওয়া ন্যক্কারজনক, এটা রীতিমতো অন্যায়।”

আবুল হায়াত মনে করেন, রাজনীতি করার অধিকার সবারই আছে। তবে, কে কতটা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকছেন এবং তা দেশের বা সংগঠনের ক্ষতি করছে কিনা, সেদিকে নজর রাখা জরুরি।

তিনি বলেন, “এই সব ব্যাপার এখন ওপরে আসছে, সংগঠনকে এ বিষয়গুলো দেখতে হবে।”

স্বামী রবিনের আবেগঘন বার্তায় ভাসছেন পূর্ণিমা

চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা ও তার জীবনসঙ্গী আশফাকুর রহমান রবিন আজ তাদের ভালোবাসার তিন বছর উদযাপন করছেন! ২০২৩ সালের ২৭ মে তাদের নতুন পথচলা শুরু হয়েছিল, আর দেখতে দেখতেই কেটে গেল তিনটি বছর, যা ভরে উঠেছে ভালোবাসা, বোঝাপড়া আর অসংখ্য সুন্দর স্মৃতিতে।

বিশেষ এই দিনে স্ত্রীর জন্য এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আশফাকুর রহমান রবিন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে পূর্ণিমার সঙ্গে কিছু চমৎকার মুহূর্তের ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আজ আমাদের বৈবাহিক জীবনের তিন বছর পূর্ণ হলো, যা ছিল ভালোবাসা, ধৈর্য আর অগণিত স্মৃতির এক অসাধারণ যাত্রা।”

রবিন তার পোস্টে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন, কীভাবে পূর্ণিমা শুধু একটি দিন নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনের ভাঁজে ভাঁজে তার হৃদয়ের বিশেষ স্থানটি অধিকার করে আছেন। তিনি লিখেছেন, “আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা যে, তিনি আমাকে দিলারা হানিফ পূর্ণিমার মতো একজন জীবনসঙ্গী দিয়েছেন। যে বোঝে, সমর্থন দেয়, আর সবসময় নিঃশব্দে পাশে থাকে। তুমি আমাদের এই পথচলাকে এতটা বিশেষ করে তুলেছো— আমি এর চেয়ে বেশি কিছু কল্পনাও করিনি।”

দেশের ৫০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন

সাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে ঝড়-বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে অনেক জেলা। ঝড়ে লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে কমপক্ষে ৫০ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনা এড়াতে অনেক স্থানে বন্ধ রাখা হয় সংযোগ। ‍বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবা।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সদস্য (বিতরণ) আব্দুর রহিম মল্লিক গতকাল শুক্রবার জানান, দু’দিনের ঝড়-বৃষ্টিতে তাদের কমপক্ষে ৫০ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তবে সন্ধ্যার মধ্যে একটা বড় অংশের বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। যেসব মোবাইল ফোন টাওয়ার বিদ্যুতের অভাবে অচল হয়ে পড়েছিল, সেগুলো সচল হয়েছে। তবে বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ওই লাইনগুলো মেরামতের কাজ চলছে।

এদিকে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত তিন অপারেটরের অচল হওয়া সাইটের সংখ্যা (টাওয়ার) প্রায় ১৩ হাজার। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের ৪ হাজার ৪৭৪টি, বাংলালিংকের ৩ হাজার ২০টি এবং রবির ৫ হাজার ৫০০টি টাওয়ার রয়েছে। তবে গতকাল সন্ধ্যার মধ্যে এসব টাওয়ার ৮০ শতাংশ সচল হয়েছে।

সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধই সেনাবাহিনীর চেতনার উৎস: সেনাবাহিনী প্রধান

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর চেতনার মূল উৎস হলো সংবিধানের নির্দেশনা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতির অসীম আত্মত্যাগ থেকে পাওয়া শিক্ষা। এই চেতনায় বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তি রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আহত শান্তিরক্ষীদের সংবর্ধনার জন্য এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে প্রাণ উৎসর্গ করা দেশের বীর সৈনিক ও পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি, ১৬৮ জন বীর সৈনিক ও পুলিশ সদস্যদের, যারা বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।’

জেনারেল ওয়াকার বলেন, বাংলাদেশ ১৯৮৮ সাল থেকে জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪৮৮০ জন, নৌবাহিনীর ৩৪৩ জন, বিমান বাহিনীর ৩৯৬ জন এবং পুলিশ বাহিনীর ১৯৯ জনসহ মোট ৫৫১৮ জন শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নয়টি শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত রয়েছেন।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমাদের শান্তিরক্ষীরা নিজেদের জীবন ঝুঁকি নিয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ, নৈতিক মূল্যবোধ ও দক্ষতার প্রমাণ রেখে নিরপেক্ষতার সঙ্গে সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে যাচ্ছে। পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি ৩৬৪৫ জন নারী শান্তিরক্ষী সফলভাবে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন। বর্তমানে ৪৪৪ জন নারী শান্তিরক্ষী সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।’

এই পর্যায়ে কূটনীতিক ও বিদেশি অতিথিদের উদ্দেশ্যে ইংরেজিতে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমি আপনাদের অবহিত করতে চাই, বাংলাদেশ বৈশ্বিক শান্তির প্রতি তার সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে, যা প্রতিনিয়ত জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। আমাদের চেতনার উৎস হলো সংবিধানের নির্দেশনা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অসীম আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা। আমরা ভবিষ্যতেও বৈশ্বিক শান্তির পক্ষে অবিচলভাবে অটল থাকব।’

এতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ওপর একটি বিশেষ উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়। জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস ও ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব মো . রুহুল আলম সিদ্দিকী বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড . সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি শেষভাগে বক্তব্য দেন এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত বাংলাদেশি সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময় করেন।

বাংলাদেশে চালু হচ্ছে ‘গুগল পে’, মিলবে যেসব সুবিধা

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, এক মাসের মধ্যে  বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা ‘গুগল পে’। শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর, বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা ‘গুগল পে’ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে চালু হতে যাচ্ছে।’ আগামী এক মাসের মধ্যেই এই সেবা দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় তাদের কার্যক্রম শুরু করবে। এই সেবা চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা তাদের হাতে থাকা ডিভাইসকেই একটি ‘পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ওয়ালেট হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।’ এর ফলে আলাদা করে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড বহন করার প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশে কমে যাবে।

প্রসঙ্গত, এখন পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং অবকাঠামোর সাথে গুগল ওয়ালেটের সমন্বয় না থাকায় বাংলাদেশে এই সেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রযুক্তি-প্রেমী শহুরে ব্যবহারকারীদের মধ্যে এনএফসি পেমেন্টের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এই উদ্যোগ দেশের আর্থিক লেনদেনের খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

সিটি ব্যাংক ও গুগল একসাথে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছে। চালু হলে ব্যবহারকারীরা কনট্যাক্টলেস পয়েন্ট অফ সেল (পিওএস) টার্মিনালে সহজেই ‘ট্যাপ অ্যান্ড গো’ পেমেন্ট করতে পারবেন, যা তাদের কেনাকাটাকে করবে আরও দ্রুত, নিরাপদ ও আধুনিক।

বহুমুখী সংকটে বাংলাদেশের পোশাকখাত

বাংলাদেশের রপ্তানিনির্ভর তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত গত এক বছরে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তবে এই খাত বর্তমানে একাধিক জটিল সংকটে আক্রান্ত—যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধি, ভারতের বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এ শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধিকে গুরুতর হুমকির মুখে ফেলেছে। জাপানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ আসে এই খাত থেকে, যেখানে লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান জড়িত। তবে চলতি বছরের ১৭ মে ভারত সীমান্তবর্তী স্থলবন্দরগুলো দিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ কিছু পণ্যের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই পদক্ষেপটি বাংলাদেশ কর্তৃক ভারতীয় সুতা আমদানিতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার জবাবে দেওয়া হয়। এতে বাংলাদেশের ভারতের বাজারে রপ্তানির প্রায় ৪২ শতাংশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে রপ্তানিকারকদের ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ সমুদ্রপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে বাংলাদেশের পণ্যে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যা ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের এই শুল্ক আরোপকে মার্কিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত অনৈতিক বলে মন্তব্য করেছে, তবে এখনও তা প্রত্যাহার হয়নি।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘আমরা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় দিক থেকেই সংকটে আছি। নীতিগত সহায়তার ঘাটতি, উচ্চ সুদের হার, গ্যাস সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আমদানি-রপ্তানিতে প্রতিবন্ধকতা শিল্পকে চাপে ফেলেছে।’

গ্যাস ঘাটতির কারণে অনেক টেক্সটাইল কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে গেছে। সেই সঙ্গে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও এনবিআর কর্মকর্তাদের ধর্মঘট ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের এসব পদক্ষেপ মূলত দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে এসেছে। গত বছরের আগস্টে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন বৃদ্ধি পেয়েছে। এর জেরে ভারত ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা স্থগিত করে, যার প্রভাব গার্মেন্টস রপ্তানিতে পড়ছে।

জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরাসরি ফ্লাইট না থাকা দেশগুলোতে রপ্তানি ব্যয় বেড়েছে ও সময়ও বেশি লাগছে।’

বিজিএমইএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ভারত হয়ে ৩৬টি দেশে ৩৪,৯০০ মেট্রিক টন পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ, যার মূল্য প্রায় ৪৬২.৩৪ মিলিয়ন ডলার।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ধর্মঘটও বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি কর্মচারী থেকে শুরু করে পোশাকশ্রমিকরা নিয়মিত আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন, ফলে সরকারের মনোযোগ মূলত এসব দমনেই ব্যস্ত, বাণিজ্য নীতিনির্ধারণে নয়।

এই পরিস্থিতির মধ্যেও জুলাই ২০২৪ থেকে এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে তৈরি পোশাক খাত ৩২.৬৪ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।

হাতেম বলেন, ‘আমাদের উদ্যোক্তারা কঠোর পরিশ্রম করছেন, নতুন বাজার খুঁজছেন, পণ্যের মান ও বৈচিত্র্য বাড়াচ্ছেন। ক্রেতারাও আমাদের ওপর আস্থা রাখছেন।’

তবে সব কিছুর পরেও ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফারুক হাসান বলেন, ‘ছোট কারখানাগুলো রক্ষা না করলে ভবিষ্যতে পুরো খাত বিপদে পড়বে। কারণ এদের মধ্য থেকেই বড় শিল্প গড়ে ওঠে।’

বর্তমান রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা চলতে থাকলে এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এমন প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়ীরা ২০২৫ সালের নভেম্বরে নির্ধারিত বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা  থেকে উত্তরণ পেছানোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে শুল্কমুক্ত সুবিধা কিছু সময়ের জন্য বজায় থাকে। যদিও যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তিন বছর, চীন দুই বছর এবং কানাডা ২০৩৪ সাল পর্যন্ত এই সুবিধা অব্যাহত রাখবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এই পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিতে হলে আমাদের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে, পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির দিকে দ্রুত এগোতে হবে।’

কোন বাদাম কেন খাবেন জেনে নিন

বাদাম আকৃতিতে ছোট হলেও এর রয়েছে বিস্তর পুষ্টিগুণ। একেক ধরনের বাদাম একেকভাবে উপকারিতা দেয়। ত্বকের উন্নতি থেকে শুরু করে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত- প্রাকৃতিক প্রতিকারের জন্য নির্দিষ্ট বাদাম খেতে পারেন।

চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন বাদাম কীভাবে উপকার করে-

১. কাঠ বাদাম: আপনি যদি আপনার ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে চান তাহলে কাঠ বাদাম খান। কারণ এটি ভিটামিন ই সমৃদ্ধ। প্রতিদিন কমপক্ষে ৭ থেকে ১১টি কাঠ বাদাম খাওয়ার লক্ষ্য রাখুন। চাইলে কাঁচা বাদাম রাতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খেতে পারেন। এটি ত্বকের জন্য আরও বেশি উপকারী।

২. ব্রাজিল নাটস: থাইরয়েডের স্বাস্থ্যের জন্য সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। তেমনই একটি খাবার হলো ব্রাজিল নাটস। বিশেষজ্ঞরা থাইরয়েডের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে প্রতিদিন কমপক্ষে দুটি ব্রাজিল নাটস খাওয়ার পরামর্শ দেন। এটি যেকোনো সুপারশপে পেয়ে যাবেন।

৩. কাজু বাদাম: হাড় ভালো রাখতে ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানা আছে নিশ্চয়ই। কাজু হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য সাহায্য করে। কারণ এটি ম্যাগনেসিয়ামের একটি ভালো উৎস, যা ঘুমের মান উন্নত করতেও সাহায্য করে।

৪. পেস্তা: পেস্তা বাদাম কেবল ডেজার্টকে সুস্বাদু ও সুন্দর ডেকোরেশনই দেয় না, বরং এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ কার্যকরী। বিশেষ করে আপনি যদি ওজন কমানোর চেষ্টা করেন, তাহলে পেস্তা হতে পারে একটি সহায়ক সংযোজন। এতে প্রচুর ভিটামিন বি৬ থাকে এবং এটি একটি দুর্দান্ত স্বাস্থ্যকর খাবার, বিশেষ করে সন্ধ্যায়।

৫. আখরোট: আখরোট মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য চমৎকার। এতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা মস্তিষ্কের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই নিয়মিত আখরোট খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে আরও অনেক উপকার মিলবে।

এআই’র কারণে বিলুপ্ত হবে কিছু চাকরি

গুগল ডিপমাইন্ডের সিইও ডেমিস হাসাবিস সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে পরিবর্তন আনবে চাকরির বাজারে। কিছু চাকরি বিলুপ্ত হবে, আবার তৈরি হবে একদম নতুন ধরনের পেশা। এ কারণে কিশোর-কিশোরীদের এখন থেকেই এআই শেখা শুরু করা উচিত। তার মতে, যারা প্রযুক্তি বোঝে এবং তা ব্যবহার করতে জানে, ভবিষ্যতে তারাই এগিয়ে থাকবে।

গুগল ডিপমাইন্ডের সিইও ডেমিস হাসাবিসের মতে, যুগের পর যুগ প্রযুক্তি মানবজীবনে পরিবর্তন এনেছে। যেমন: ইন্টারনেট বদলে দিয়েছে ৮০ ও ৯০-এর দশকের প্রজন্ম—মিলেনিয়ালদের জীবনধারা। এরপর স্মার্টফোন যুগ বদলে দিয়েছে জেনারেশন জেড বা জেন-জেড’র জীবনযাত্রা।

ঠিক তেমনি, আগামী প্রজন্ম—জেনারেশন আলফার জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করবে এআই। হাসাবিসের ভাষায়, “যারা এখন থেকেই এআই শিখবে, ব্যবহার শিখবে এবং বুঝে প্রযুক্তির সঙ্গে চলবে, তারাই ভবিষ্যতের বিজয়ী।”

২০২২ সালে ওপেনএআই-এর তৈরি চ্যাটজিপিটি চালুর পর থেকেই বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। শুধু প্রযুক্তি প্রেমীরা নয়, সাধারণ চাকরিজীবী থেকে শুরু করে উদ্যোক্তারাও ভাবছেন, এআই কি তাঁদের কাজ কেড়ে নেবে?

হাসাবিস স্পষ্ট করে বলেন, “হ্যাঁ, কিছু চাকরি হারিয়ে যাবে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে কাজ থাকবে না। বরং পরিবর্তিত বাস্তবতায় তৈরি হবে একেবারে নতুন ধরনের পেশা।”

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, আগে যেমন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার, ইউএক্স ডিজাইনার, ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার ছিল না, ঠিক তেমনই এখনো নাম না জানা অনেক পেশার জন্ম হবে শুধুমাত্র এআই ঘিরে।

এতে যারা মানিয়ে নিতে পারবে, নতুন কিছু শিখতে আগ্রহী হবে এবং সৃজনশীলভাবে কাজ করতে পারবে, তারাই টিকে থাকবে এবং এগিয়ে যাবে।

হাসাবিস প্রযুক্তি শেখাকে কেবল সফটওয়্যার ব্যবহার শেখায় সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। তিনি বলেন, “শুধু জানলেই হবে না যে গুগল কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, বুঝতে হবে গুগল কীভাবে কাজ করে।”

এজন্যই তিনি জোর দেন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) বিষয়ের ওপর। পাশাপাশি তিনি যেসব সফট স্কিল বা মানবিক গুণ প্রয়োজন হবে বলে মনে করেন, তা হলো- শেখার আগ্রহ, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা, সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাভাবনা।

ভবিষ্যতের অনেক কাজ মেশিন বা রোবট করে ফেলবে, তবে যে কাজগুলো মানবিক বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা দাবি করে, সেসব কাজেই থাকবে মানুষের আধিপত্য। এজন্যই মানুষকে বুদ্ধি, শিক্ষা ও দক্ষতা দিয়ে মেশিনের চেয়ে আলাদা থাকতে হবে।

ডেমিস হাসাবিস তরুণ শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করেন—বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু সিলেবাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে যেন তারা সময় বের করে নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হয়।

তিনি বলেন, “এই সময়টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখন শেখা, পরীক্ষা করা, ভুল করা, আবার শেখার সুযোগ রয়েছে। কাজেই প্রযুক্তির গহনে ঢুকে পড়া এখনই সবচেয়ে ভালো সময়।”

তিনি পরামর্শ দেন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ওপেন সোর্স প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে, AI ল্যাব ঘাঁটতে, ফ্রি অনলাইন কোর্স করতে, এবং নিজের আগ্রহ অনুযায়ী বাস্তব সমস্যা সমাধানের প্র্যাকটিস চালিয়ে যেতে।

তাঁর ভাষ্যমতে, ভবিষ্যতে জেতার জন্য শুধু কঠিন টেকনিক্যাল জ্ঞানই যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে প্রয়োজন নিজেকে বদলাতে পারার মানসিকতা।

হাসাবিস বলেন, “মানুষের শক্তি কেবল বুদ্ধিমত্তা নয়, বরং মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। এটাই মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব। তাই যে নিজেকে বদলাতে পারবে, সে-ই টিকে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এআই কেবল ভবিষ্যৎ নয়, এটি এখনকার বাস্তবতা। এটি এখনই আমাদের জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। সময় চলে যাচ্ছে। এই সময় যার হাতে থাকবে এআই জ্ঞান, তার হাতেই থাকবে আগামী দিনের শক্তি।”

ডেমিস হাসাবিসের এই বক্তব্য তরুণদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—এআইকে ভয় নয়, বরং বোঝা এবং নিজের অনুকূলে ব্যবহার করা শিখতে হবে।

জননিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

অন্তর্বর্তী সরকারের নিকট প্রত্যাশা ছিল নিরাপদ জীবন বিধানে কঠোর হবে। কিন্তু কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না অপরাধ, কাটছে না আশঙ্কা। সামাজিক অস্থিরতার কারণে মানুষ সংঘর্ষে জড়িয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। হত্যার তালিকা দীর্ঘ হলেও আইনি ব্যবস্থার তৎপরতা চোখে পড়ছে না। দুঃখজনক হলেও সত্য- বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে দেশে ক্রমেই বাড়ছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। রাজধানীসহ সারা দেশে বাড়ছে খুন, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির মতো ঘটনা। এতে নতুন করে আতঙ্কিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

এরই মধ্যে হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডাকাতির ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রাজধানীর মগবাজারে দিন-দুপুরে চাপাতি দিয়ে এক যুবকের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনা। এ ছাড়া ফিল্মি স্টাইলে রাজধানীর বাড্ডায় হত্যা করা হয়েছে বিএনপির এক নেতাকে। ঘটনা দুটির ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর রাজধানীসহ সারা দেশে আতঙ্কের মাত্রা আরেক দফা বাড়ল।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুযায়ী গত এপ্রিল মাসে শুধু রাজধানীতেই ১৭টি ভয়াবহ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের মতে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে খুনের ৩০০টি ঘটনা ঘটেছে। গত মার্চ মাসে ৩১৬টি এবং গত এপ্রিল মাসে তা বেড়ে ৩৩৬টিতে দাঁড়িয়েছে। তবে ডাকাতির ক্ষেত্রে গত ফেব্রুয়ারিতে ৭৪টি, মার্চ মাসে ৬০টি এবং গত এপ্রিল মাসে ৪৬টি ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতির নেপথ্যে ইন্ধন জোগাচ্ছে কারা- এমন প্রশ্নও চলে আসে?

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীতে কর্মরতদের বেশির ভাগই আওয়ামী শাসনামলে নিয়োগপ্রাপ্ত। এখানেই প্রশ্ন ও আশঙ্কা চলে আসে। ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানে দেশে পটপরিবর্তন হলেও তারা ঘাপটি মেরে থেকে নেপথ্যে ইন্ধন জোগাচ্ছে কীভাবে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা যায়। সম্প্রতি দেশে অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।

পুলিশে সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকার যে ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠন করেছে এরই মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিশনের প্রস্তাব কার্যকর হলে পুলিশ বাহিনী অনেকটাই সংশোধন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। কিন্তু তার অগ্রগতি কতদূর? মানুষ আশায় বাঁচে, তবে নিরাপত্তা কি মিলবে- এমন প্রশ্ন সবার হৃদয়ে। প্রকাশ্যে না বললেও আলোচনা হচ্ছে এমন সব খবর নিয়ে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর, হামলা, ডাকাতি ও প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার মতো ঘটনাও ঘটেছে। একদিকে সেই রেশ, অন্যদিকে নতুন ঘটনা জনমনে ভয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে আতঙ্কে দিন কাটছে সাধারণ মানুষের। এভাবে কেন মানুষ বারবার আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এসব ঘটনাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা যাই বলি না কেন- সরকার দায় এড়াতে পারে না। এ ক্ষেত্রে দ্রুত এসব অপকর্ম নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।

দেশজুড়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জনমনে আতঙ্ক তৈরি করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জানান দিচ্ছে- যা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। আইন প্রয়োগে দুর্বলতা, সামাজিক অসাম্য, রাজনৈতিক উত্তেজনা, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং মিথ্যা তথ্যের প্রসারের কারণেই অপরাধকাণ্ড বাড়ছে- যার পরিণতি খুবই ভয়াবহ। বাংলাদেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা আগেও দেখা গেছে, কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন।

জনতা দ্বারা নিজ হাতে বিচার, একটি গুরুতর সমস্যা যা অনেক দেশেই দেখা যায়। এটি হলো যখন একটি উত্তেজিত জনতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ ছাড়াই কাউকে শাস্তি দেয়। এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করে এবং সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, যা জনমনে অস্থিরতা বিরাজ করছে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তাদের বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা, যা এখনও সম্ভব হয়নি।

দুঃখজনক হলেও সত্য- সরকার জননিরাপত্তার জন্য বিকল্প পথ অবলম্বন করেও সামলাতে পারছে না। বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আমলে নেয়ার কোনো বিকল্প নেই। জননিরাপত্তায় কঠোর না হলে দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দেশের সুনাম রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে বিচারের প্রতি জনতার আস্থা সৃষ্টি এবং অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। সর্বোপরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হয়ে- জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।