আইনি লড়াইয়ের পর মিশিগানের হ্যামট্রাম্যাকের মেয়র হলেন বাংলাদেশি মুহিত
বিশ্বে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও বৃদ্ধির শঙ্কা
আগামী কয়েক মাসে বিশ্বজুড়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। ২০২৭ সালজুড়েও এর প্রভাব অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। যুদ্ধের কারণে পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন এবং এল নিনোর প্রভাবে খরার কারণে শস্যের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং অন্যান্য আরও বেশ কিছু কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ায় বৃষ্টিপাত দেরিতে শুরু হওয়ার পূর্বাভাসের মধ্যেই চালের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। মিসরে রুটির দাম বেড়েছে এক-চতুর্থাংশ, আর এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় ভারতে চিনির দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেন, ‘এসব কারণে পুরো ব্যবস্থার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বছরের শেষ দিকে, আগামী বছরের শুরুতে এবং সম্ভবত পুরো আগামী বছরজুড়েই এর প্রভাব আরও বেশি দেখা যাবে।’
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের গতকাল সোমবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও এশিয়ার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে খাদ্যপণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে। এসব অঞ্চলের পরিবারগুলোর মোট ব্যয়ের বড় অংশই যায় খাবারের পেছনে। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিশ্বের দরিদ্রতম ভোক্তারা। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির বিশ্লেষণ করা ১৫০টি দেশের মধ্যে ২২ শতাংশ দেশে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে ছাড়িয়ে গেছে। আগের প্রান্তিকে এই হার ছিল ১৪ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক বাজারে কেনাবেচা হওয়া বিভিন্ন পণ্যের মাসিক মূল্য পরিবর্তন পরিমাপ করে এফএওর খাদ্য মূল্য সূচক। সেপ্টেম্বরে এ সূচকের গড় ছিল ১৩৬ পয়েন্ট, যা ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী দেশগুলো রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। এতে খাদ্যপণ্যের সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরবরাহে একাধিক ধাক্কা
কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে শস্য পরিবহনের অবকাঠামোয় হামলার কারণে গমের চালান ব্যাহত হচ্ছে। এতে বড় আমদানিকারক দেশ মিসর ও ইন্দোনেশিয়াকে বিকল্প উৎস থেকে গম সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, লোহিত সাগরে নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে জাহাজগুলো আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথে চলাচল করছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার রপ্তানিও ব্যাহত হচ্ছে। এতে কৃষিকাজের ব্যয় বাড়ছে। একই সময়ে এল নিনোর প্রভাবে শুষ্ক আবহাওয়া ভারতে ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ফসলের উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে। ২০২৬ সালে গমের দাম ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ চাল রপ্তানিকারক দেশগুলোতে বড় মজুত থাকা সত্ত্বেও চালের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৩ শতাংশ। ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে সারের দাম যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল, সেখান থেকে কিছুটা কমেছে। তবে দাম এখনও বেশি।
নেসলে ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিশ তিওয়ারি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি, বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি, এখন বাস্তবতা।’ পণ্যের কাঁচামালের বাড়তি দামসহ বিভিন্ন কারণে ব্যবসায়িক পরিবেশকে ‘চ্যালেঞ্জপূর্ণ’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মিসরে ভর্তুকিবিহীন বড় আকারের একেকটি রুটির দাম জুলাইয়ে চার মিসরীয় পাউন্ড থেকে বেড়ে এখন প্রায় পাঁচ পাউন্ড হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে রান্নার তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাম তেল উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়ায় এ বছর ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে ৭ শতাংশ। ভারতে উৎপাদন ঘাটতির কারণে সেপ্টেম্বরে চিনি, পেঁয়াজ ও ডালের দাম আগের মাসের তুলনায় ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
মূল্যস্ফীতি বাড়াচ্ছে যা
২০২৫ সালের শেষ দিক থেকেই খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এখন স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের বাড়তি দাম ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করায় মূল্যস্ফীতি আরও দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার যেসব বড় আমদানিকারক দেশ স্থানীয়ভাবে ভালো ফসল উৎপাদনের পর আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছিল, তাদের এখন আবার বিশ্ববাজারে ফিরতে হচ্ছে। এতে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক শস্য কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ আলেকজান্ডার কারাভায়তসেভ বলেন, ‘কয়েক মাসের মধ্যে আমদানিকারকরা বাজারে ফিরে এলে চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য নতুন ঢেউ তৈরি হতে পারে।’
এফএওর তোরেরো বলেন, বিশ্বজুড়ে শস্যের রেকর্ড মজুত যে সুরক্ষা দিচ্ছিল, তা ক্রমেই কমে আসছে। তিনি বলেন, ‘আগের মৌসুমগুলোর ভালো ফলন ও মজুত এত দিন একটি সুরক্ষাব্যবস্থা হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু সেই সুরক্ষাব্যবস্থার ওপর এখন চাপ বাড়ছে। এর অর্থ, পণ্যের দাম আরও জোরালোভাবে বাড়তে পারে।’ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত তিন থেকে ছয় মাস মেয়াদি চুক্তিতে কাঁচামাল কেনে। এখন এসব চুক্তি নবায়ন করতে গিয়ে তাদের বেশি দাম দিতে হচ্ছে। স্থানীয় মুদ্রার দর পতনও আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম খাদ্য কোম্পানি পিটি ইন্দোফুডের পরিচালক ফ্রান্সিসকুস ওয়েলিরাং বলেন, ‘পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। ইন্দোনেশীয় রুপিয়ায় হিসাব করলে মুদ্রার দর পতনের কারণে এর প্রভাব আরও বেড়ে যায়।’ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দাম বাড়ার পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করতেও সমস্যায় পড়ছে।
জাকার্তাভিত্তিক একটি ময়দা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গমের চালান কমে যাওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার বেশ কয়েকটি গমকল তাদের উৎপাদনক্ষমতার চেয়ে কম হারে চলছে। গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই কর্মকর্তা নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি।
কে-প্লারের তথ্য অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ায় সেপ্টেম্বরে গমের চালান আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১ শতাংশ কমে চার লাখ ৯১ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। এ মুহূর্তে সয়াবিন ও ভুট্টার মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এসব পণ্যের সরবরাহ নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আমেরিকার উৎপাদনের ওপর। জ্বালানির দাম বাড়ায় এ দুটি ফসলের চাহিদাও বাড়ছে, কারণ জৈব জ্বালানি উৎপাদনে এগুলোর ব্যবহার বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক শস্য কাউন্সিলের কারাভায়তসেভ বলেন, দক্ষিণ গোলার্ধে গমের ভালো ফলন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনার মতো রপ্তানিকারক দেশে উৎপাদন প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে তা গমের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
কুমারী পূজায় মানুষের ঢল, আজ মহানবমী
শারদীয় দুর্গোৎসবে গতকাল সোমবার মহাষ্টমীর দিনে কুমারী পূজায় মানুষের ঢল নেমেছিল। রাজধানীর গোপীবাগে রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ পূজামণ্ডপে কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়। দেশের অন্য কয়েকটি মণ্ডপেও এ পূজা উদযাপিত হয়েছে সাড়ম্বরে।
ছয় দিনের দুর্গোৎসবের চতুর্থ দিন মহাষ্টমীতে গতকাল সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটের মধ্যে দেবীর মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও মহাষ্টমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পুষ্পাঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণ শেষে সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৪৩ মিনিটের মধ্যে সন্ধি পূজা অনুষ্ঠিত হয়। রামকৃষ্ণ মিশন, মঠসহ কয়েকটি মণ্ডপে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকামতে দুর্গাপূজা আয়োজনের কারণে এসব মণ্ডপে পূজার সময়ের কিছুটা হেরফের হয়।
উৎসবের পঞ্চম দিন আজ মঙ্গলবার রয়েছে মহানবমী। সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দেবীর মহানবমী কল্পারম্ভ ও মহানবমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা শেষে হোম ছাড়াও যথারীতি পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও সন্ধ্যায় ভোগ-আরতি থাকবে।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকার প্রথমবারের মতো তিন দিনের নির্বাহী ছুটি ঘোষণা করেছে, যা আজ শুরু হয়ে আগামী বৃহস্পতিবার শেষ হবে। এরপর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এবার দুর্গাপূজায় পাঁচ দিনের ছুটি মিলেছে।
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী
গতকাল রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
জগন্নাথ হলের মণ্ডপে রিজভী ও ত্রিবেদী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। এ সময় হলের প্রাধ্যক্ষ ড. দেবাশীষ পাল উপস্থিত ছিলেন। রিজভী বলেন, উৎসব সব সীমারেখা অতিক্রম করতে শেখায় এবং ভ্রাতৃত্ববোধ উন্মুক্ত করে। সম্প্রদায়ের গণ্ডি পেরিয়ে উৎসবের সার্বজনীন আহ্বানে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষও আনন্দ ও সংহতি অনুভব করে। আবহমান কাল ধরে এ দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসছে।
দুর্গাপূজার তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, দানবীয় অসুররূপী সমাজে অসত্যকে বিনাশ করে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করাই দুর্গাপূজার মূল মর্মবাণী। এই আনন্দ-উৎসবের বার্তা কোনো একক ধর্মের নয়; বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য। মা দুর্গার আরেক নাম দুর্গতিনাশিনী। তিনি দুর্গতি বিনাশ করে শান্তি ও সত্য প্রতিষ্ঠা করেন।
এদিকে, ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সস্ত্রীক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি গুলশান ও বনানী পূজামণ্ডপে যান। এ সময় তিনি বলেন, পূজায় অঞ্জলি দেওয়ার প্রকৃত অর্থ হলো অহংকারকে ঈশ্বরের চরণে বিসর্জন দেওয়া এবং নিজেকে সমর্পণ করা।
টাঙ্গাইলে ব্রিটিশ হাইকমিশনার
বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক গতকাল বিকেল ৫টায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা, ট্রাস্টের পরিচালক ও রণদা প্রসাদ সাহার পুত্রবধূ শ্রীমতী সাহা, ট্রাস্টের পরিচালক মহাবীর পতি চন্দন, সম্পা সাহা, কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায় ও উপপরিচালক অনিমেষ ভৌমিক।
এ সময় রোহিঙ্গা সমস্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটে দীর্ঘদিনের অন্যতম সহায়তাকারী।’
প্রতিদিন ১ টি করে কলা খেলে শরীরে যেসব পরিবর্তন হয়
সকালের নাশতায় অনেকেই কলা খেতে পছন্দ করেন। কেউ বা দিনের অন্য সময় কলা খান। এটির এমন একটি ফল, যা সহজেই পাওয়া যায় এবং পুষ্টিগুণেও ভরপুর। পুষ্টিবিদদের মতে, পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। এতে থাকা পটাশিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন সি শরীরের বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে। নিয়মিত কলা খেলে শরীরে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-
হজমশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে
কলায় থাকা ফাইবার, হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। একটি মাঝারি আকারের কলায় প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কলা রাখলে প্রয়োজনীয় ফাইবারের জোগান কিছুটা বাড়তে পারে। তবে হজমশক্তি ঠিক রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং অন্যান্য ফল ও শাকসবজি খাওয়াও জরুরি।
হৃৎপিণ্ড ও রক্তচাপের জন্য উপকারী
কলায় থাকা পটাশিয়াম শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে, পেশির সংকোচন এবং স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজকর্ম ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এর পাশাপাশি, পর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃৎপিণ্ডও সুস্থ থাকে।
শরীরে শক্তি জোগায়
কলায় থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট, শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। এ কারণে কাজের ফাঁকে বা শরীরচর্চার আগে-পরে কলা খাওয়া অনেকের জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে। কলায় থাকা ভিটামিন বি৬ শরীরের বিপাকক্রিয়া এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
কলা খেলে কিছুটা সময় পেট ভরা থাকে। এর ফলে ঘন ঘন খিদে পাওয়া বা অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমে। তবে কলা খেলেই ওজন কমবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। ওজন ণিয়ন্ত্রণে সুষম খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন কলা খেলে কি কোনও ক্ষতি হয়
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন একটি কলা খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যেমন-
ডায়াবেটিস থাকলে: কলায় প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট থাকায় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের কলা খাওয়ার পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।
কিডনির সমস্যা থাকলে: কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সে ক্ষেত্রে কতটা কলা খাওয়া যাবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা জরুরি।
কলায় বেশ কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকলেও শরীরের সব চাহিদা পূরণ করার মতো সব ভিটামিন ও খনিজ নেই। তাই ষুস্থ থাকতে অন্যান্য ফল, শাকসবজি, ডাল, শস্য এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও খেতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। চলমান সংঘাত নতুন করে শুরু করা থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিরত রাখার চেষ্টা হিসেবে ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের উদ্দেশে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে তেহরান। গত এক মাসে ইরানের সামরিক কমান্ডাররা ধারাবাহিকভাবে নানা বক্তব্য দিয়েছেন।
তাদের দাবি, নতুন ধরনের বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের মজুত গড়ে তুলেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা শুরু করলে এসব অস্ত্র দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হবে।
সংঘাত আবার শুরু হলে হামলার লক্ষ্যবস্তু আরও বিস্তৃত করার হুমকি দিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা। এর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবল বিচ্ছিন্ন করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) তথ্যকেন্দ্রে হামলা এবং আঞ্চলিক তেল ও গ্যাস স্থাপনায় আঘাত হানার মতো পদক্ষেপ।
গত মাসের শেষ দিকে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হয়নি। ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছে।’ বিশ্ব অবাক হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে এমন নতুন লক্ষ্যবস্তু রয়েছে, যেখানে এখনও হামলা চালানো হয়নি।’
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে কোনো ‘ভুল হিসাব’ করলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আগের চেয়ে আরও কঠোর জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি গত রোববার সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই হুঁশিয়ারি দেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কারাবন্দি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে নতুন যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। একই সঙ্গে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছেন তিনি।
তেহরানে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো ইরান সফরে তেহরানে পৌঁছেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাহরাইন থেকে তেহরানে পৌঁছান তিনি। সফরে তার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
এদিকে, কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা ফোরামে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে তার দেশ।
হরমুজে জাহাজে হামলা অব্যাহত
হরমুজ প্রণালির কাছে একটি টাগবোটে (জাহাজ টানার কাজে ব্যবহৃত নৌযান) অজ্ঞাতনামা দুটি বস্তু আঘাত হেনেছে। গত রোববার ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকেএমটিও এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের কাছে দক্ষিণ দিকে চলাচলকারী টাগবোটটি অজ্ঞাতনামা দুটি বস্তুর আঘাতের শিকার হয়েছে বলে খবর দিয়েছে।
এদিকে হরমুজ পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের শর্তে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে জানিয়েছে ইরান। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাত দিনের সীমিত যুদ্ধবিরতির যে প্রস্তাব তেহরান দিয়েছিল, তা এখনও আলোচনার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। রোববার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি এ কথা বলেন। খবর সিএনএন ও সিবিএস নিউজের।
নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৪, আহত ২০
নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২০ জন। মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
নাটোর জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বনপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক শামীম হোসেন বলেন, বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাই নবাবগঞ্জগামী আরপি পরিবহনের বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়।
তিনি জানান, আহতদের উদ্ধার করে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। সড়কে এখন যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
নাটোর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আক্তার হামিদ জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি জানান, বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। ভেতর আটকেপড়া যাত্রীদের উদ্ধারে বেগ পেতে হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।
বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, এটি একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সড়কটি প্রশস্ত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে জেলা প্রশাসন।
শপথ ভঙ্গ করেছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক: জামায়াত
মাদকবিরোধী অভিযানের নামে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন পিস্তল উঁচিয়ে যে দৃশ্যের অবতারণা করেছেন, একে ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত বলে আখ্যা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। প্রতিমন্ত্রী এর মাধ্যমে শপথ ভঙ্গ করেছেন বলে দাবি করেছে দলটি।
আজ রোববার বিবৃতিতে এসব কথা বলেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে মাদকের বিস্তার ঘটাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ঘটেছে। সময়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে নানা কৃত্রিম তৎপরতা শুরু করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ইশরাক হোসেন গেন্ডারিয়ায় পিস্তল উঁচিয়ে যে দৃশ্যের অবতারণা করেছেন, তা ত্রাসের রাজত্বের বহিঃপ্রকাশ।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, অস্ত্র আইন অনুযায়ী, নিজের নিরাপত্তা ব্যতীত কোনো ব্যক্তি বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে জনমনে এ ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারেন না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন থাকা সত্ত্বেও একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র উঁচিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, জনমনে ভীতি সৃষ্টি করা এবং তার দেহরক্ষীদের আগ্রাসী ভূমিকা অনভিপ্রেত, আইনবিরোধী ও অনাকাঙ্ক্ষিত।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সক্রিয় হওয়া জরুরি বলে মনে করি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইশরাক হোসেন নিজের আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করে জনমনে ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের যে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন, তা অগ্রহণযোগ্য। তিনি তার এ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শপথ ভঙ্গ করেছেন। তার এমন কর্মকাণ্ড সন্ত্রাসীদের আরও উৎসাহিত করবে এবং জনগণ তা ভালোভাবে নেবে না। সরকারের সব পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদক নির্মূলসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল ওয়াজ শুনতে যাওয়া কিশোরীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ওয়াজ মাহফিল শুনতে যাওয়ার পথে এক কিশোরী (১৪) দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ৭ অক্টোবর রাতে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি আপসের কথা বলে স্থানীয় একটি চক্র ভুক্তভোগীর পরিবারকে মামলা করতে দেয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। অবশেষে গত শনিবার রাতে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে সরাইল থানায় মামলা করেন মেয়েটির মা।
এতে আসামি করা হয়েছে– জাকির মিয়া (৩৩), নাঈম (২৪), সোহাগ মিয়া (২১), মোকলেস (৫২), আলামিন ওরফে জিকির (৪০) ও বাহার মিয়া (২২)। রাতেই পুলিশ বাহার মিয়াকে গ্রেপ্তার
করেছে। আসামিরা সবাই একই ইউনিয়নের বাড়িউড়া গ্রামের বাসিন্দা।
মেয়েটির স্বজন ও পুলিশ সূত্র জানায়, ৭ অক্টোবর একই গ্রামের একটি মাদ্রাসার মাঠে ওয়াজ মাহফিল ছিল। মাহফিল শোনার জন্য সেখানে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় ওই মেয়েটি। পথ থেকে মুখ চেপে অটোরিকশায় উঠিয়ে তাকে নদীতীরের নির্জন স্থানে নিয়ে যায় আসামিরা। সেখানে জাকির, নাঈম ও সোহাগ মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। অন্যরা ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। রাত ১১টার দিকে মেয়েটিকে বাড়ির পাশে ফেলে পালিয়ে যায় তারা। এর আগে কাউকে কিছু জানালে মেয়েটিকে হত্যা করা হবে বলে হুমকিও দেয়।
শারীরিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে মেয়েটি পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয়। পরে গত বৃহস্পতিবার তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালীর ভাষ্য, ওই কিশোরীকে ঘটনার বেশ কয়েক দিন পর ভর্তি করা হয়েছে। এ কারণে আলামত নষ্ট হওয়ার শঙ্কা বেশি। তার পরও নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই বিষয়টি জানা যাবে।
মেয়েটির বাবার ভাষ্য, গ্রামে বিষয়টি জানাজানির হওয়ার পর স্থানীয় কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তি তাদের বিচার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তারা থানায় কিছু জানাতেও মানা করেন। এ কারণে তাদের পুলিশের কাছে যেতে দেরি হয়। ওই ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় নষ্ট করেও সুরাহা না করায় তারা আইনি প্রতিকারের জন্য শনিবার রাতে থানায় মামলা করেন।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে বাহার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
মহিলা পরিষদের নিন্দা
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শামীমা শিকদার বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। আইনে ফাঁকফোকর দিয়ে যেন এসব অপরাধীরা বের হয়ে যেতে না পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজর রাখতে হবে।
দেশ গড়ার সংগ্রামে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছে। একইভাবে আগামী দিনে দেশ গড়ার সংগ্রামেও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
রোববার রাতে রাজধানীর মহাখালী এবং গুলশান-বনানী পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। যুদ্ধের ময়দানে আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান-যারা এই দেশকে ভালোবাসেন, সবাই মিলে দেশকে স্বাধীন করেছেন।’
সংকটকালে দেশের জনগণ সব সময় দেশ রক্ষায় রাজপথে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে জনগণ ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে নেমেছে। সেসব আন্দোলনেও ধর্মীয় পরিচয় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।’
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিনও দলমত নির্বিশেষে নারী-পুরুষ, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমেছিল। আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গণ-অভ্যুত্থানকে সফল করেছিল।’
দেশ গড়ার সংগ্রামে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশকে স্বাধীন করার জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা যেমন ধর্ম দেখিনি, জাত দেখিনি, ঠিক একইভাবে আগামী দিনে দেশ গড়ার সংগ্রামেও আমরা ধর্ম দেখব না। আমরা দেখব কে এই দেশের নাগরিক।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয়, আমরা সবাই বাংলাদেশের মানুষ। এই দেশের ওপর আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও তেমন অধিকার আছে। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রতিটি ধর্ম ও পেশার মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি বলেন, হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য হচ্ছে-এ দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে। আগামী হাজার বছরও যাতে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে, সেটিই সবার প্রত্যাশা হওয়া উচিত।
রাতে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী মহাখালী রক্ষাকালী মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। সেখানে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে তিনি বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে উপস্থিত পূজারি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।
‘হালাল এক্সপো ঢাকা ২০২৬’-এ আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের অংশগ্রহণ
দেশের হালাল অর্থনীতির বিকাশ এবং শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবার প্রসারে ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তুলে ধরতে ‘হালাল এক্সপো ঢাকা ২০২৬’-এ অংশ নিয়েছে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত চার দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে ১৭ অক্টোবর ব্যাংকের স্টল পরিদর্শন করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাফাত উল্লা খান।
পরিদর্শনকালে ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. হাবীব উল্লাহ, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট জালাল আহমেদ ও মো. মজিবর রহমান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনসুর আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. কামরুল ইসলাম ও এস.আই.এম শাহরিয়ার, সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মিজানুর রহমান এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মাজহারুল ইসলাম চৌধুরীসহ ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।
খাদ্য ও পানীয়, প্রসাধনী, শালীন পোশাক, ইসলামী ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্স এবং হালাল পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতের দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করে। আয়োজকরা জানান, প্রদর্শনীতে হালাল পণ্য ও সেবার বাজার সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক হালাল অর্থনীতির বিকাশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ভূমিকা ও শরিয়াহসম্মত আর্থিক সেবার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। এর পাশাপাশি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যাংকের বিভিন্ন আমানত, বিনিয়োগ ও ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে অবহিত করার সুযোগ তৈরি হয়, যা দেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সংবাদ


