Home Blog Page 401

দেশের সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) এক নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার বাজুসের সাধারণ সম্পাদক বাদল চন্দ্র রায়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের সহসভাপতি মো. রিপনুল হাসানকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ঢাকাসহ সারা দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

একইসঙ্গে বাজুসের সহসভাপতি মো. রিপনুল হাসানকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেপ্তারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাজুসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গুলজার আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক বাদল চন্দ্র রায়সহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

প্রসঙ্গত, আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর তাঁতীবাজার নিজ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে বাজুসের সহসভাপতি মো. রিপনুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির কর্মসূচি স্থগিত

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সহ-সভাপতি মো. রিপনুল হাসানকে একটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সারা দেশে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ কর্মসূচি পালন হয়েছে। তবে ঈদুল আজহা সামনে রেখে এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় অনির্দিষ্টকালের এই কর্মসূচি স্থগিত করেছে বাজুস।

বুধবার (২৮ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে মো. রিপনুল হাসানকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একটি ভিত্তিহীন মামলায় রাজনৈতিক পরিচয়ের অপপ্রচার চালিয়ে তাকে হয়রানি করা হয়েছে। রিপনুল হাসান কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন এবং কখনও কোনও রাজনৈতিক পদেও ছিলেন না বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

এই ঘটনায় জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সারা দেশের জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বৃহস্পতিবার (২৯ মে) প্রতিবাদস্বরূপ দোকানপাট বন্ধ রেখে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করেন। বাজুস কেন্দ্রীয় কমিটি এই ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী সব জুয়েলারি ব্যবসায়ীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

বাজুসের সাধারণ সম্পাদক বাদল চন্দ্র রায় এক বিবৃতিতে জানান, সহ-সভাপতি রিপনুল হাসানকে হয়রানিমূলক মামলা থেকে মুক্তি দিতে আমরা প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা, বাণিজ্য উপদেষ্টা, শিল্প উপদেষ্টা, আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি করছি।

তিনি আরও জানান, ঈদুল আজহার আগে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ মে) থেকে সারা দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। তবে দাবি বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তী সময়ে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা আসবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাজুস।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানকে রাজস্ব ভবনে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,  জারিকৃত অধ্যাদেশের খসড়া প্রস্তুতির প্রক্রিয়ার শুরু থেকে প্রতিটি ধাপে এনবিআরের বর্তমান চেয়ারম্যান লুকোচুরির আশ্রয় নিয়েছেন ও চরম অসহযোগিতা করেছেন এবং সরকারকে ভবিষ্যৎ রাজস্ব কাঠামো নিয়ে এনবিআরের কর্মকর্তাদের আশা ও আকাঙ্ক্ষার কথা জানানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সুবিধাভোগী প্রশাসনের এই কর্মকর্তা তার পূর্ববর্তী পদে থাকা অবস্থায় ব্যাংকিং খাতে বিশৃংখলা সৃষ্টিসহ জুলাই পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে কর ফাঁকি বিষয়ে সহযোগিতা করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অডিট কার্যক্রম বন্ধ করেন।

এছাড়াও, নজিরবিহীনভাবে অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে অযৌক্তিক এবং অপরিকল্পিতভাবে ভ্যাট হ্রাস-বৃদ্ধির মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতিতে অস্থিতিশীলতা তৈরী করেন। তিনি বিভিন্ন উপায়ে সরকারের সঙ্গে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের গঠনমূলক ও সার্থক আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের দাবিসমূহের বিষয়ে সরকারকে শুরু থেকেই বিভ্রান্ত করে সরকারের সাথে সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে দুরত্ব তৈরির অপচেষ্টা করে পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতিকে দীর্ঘায়িত ও জটিল করেছেন। তার অবস্থান অতি নেতিবাচক ও ষড়যন্ত্রমূলক না হলে এই সমস্যা অনেক আগেই সুরাহা হয়ে যেতো বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইতোপূর্বে ঘোষিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অপসারণের বিষয়ে সরকার চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত প্রদান করেনি। কিন্তু বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে বলে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। সরকারের আন্তরিক হস্তক্ষেপে ইতোমধ্যে আমাদের ন্যায্য দাবীসমূহ আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের যৌক্তিক এই দাবি বাস্তবায়নে প্রতি পদে পদে বাধা সৃষ্টিকারী, প্রসেস টেম্পারিং ও সবার অগোচরে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ব্যবস্হাপনার মূল কাঠামো ধ্বংসের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী এই চেয়ারম্যানের হাতে প্রকৃত সংস্কার কার্যক্রম হুমকির মুখে বিধায় আমরা আশা করছি সরকার অবিলম্বে এ বিষয়ে চূডান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে আন্দোলনরত কর্মচারীরা জানান, তাদের সঙ্গে আলোচনা করেও হঠাৎ করে সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ জারি করা হয়, যা তাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। ফলে চেয়ারম্যানের অবিলম্বে অপসারণ দাবি করে তারা কর্মবিরতিতে যান।

ফেনীতে ২৪ ঘণ্টায় ১৫৯ মিমি বৃষ্টিপাত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে ফেনীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলায় চলতি মৌসুমে এক দিনে এটি সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড। শুক্রবার (৩০ মে) সকালে ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে জেলায় বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এটি এক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড। আগামীকাল পর্যন্ত জেলাজুড়ে বৃষ্টি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

এদিকে ভারী বৃষ্টিপাত ও নিম্নচাপে অস্বাভাবিক জোয়ার এবং তীব্র স্রোতের কারণে গতকাল জেলার উপকূলীয় উপজেলা সোনাগাজীর চার ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল, তবে পানি আবার নেমে গেছে। বৃষ্টি বাড়লে ভারতের উজানের পানিতে মুহুরি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম বলেন, ভারতের উজানে বৃষ্টিপাত বাড়লে বাংলাদেশের অংশে নদীর পানি বাড়বে। এখনো মুহুরি নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার আশঙ্কায় আমাদের সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার পরশুরাম উপজেলায় ২১টি ও ফুলগাজীতে ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের বিষয়ে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সিলেটমুখী নিম্নচাপটি লঘুচাপে পরিণত হচ্ছে

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করার পর এটি স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সাতক্ষীরা ও আশেপাশের এলাকায় স্থল গভীর নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করে। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টাঙ্গাইল ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করে সিলেটের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিম্নচাপটি এখন দেশের উত্তর-পূর্ব দিকে অর্থাৎ সিলেট ও আশেপাশের এলাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আজ শুক্রবারের পর এটি লঘুচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর এটি আরও উত্তর, উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

তবে এর প্রভাবে আজ দিনভর বৃষ্টি ঝরবে। শুধু আজ নয়, আগামী চারদিন পর্যন্ত থাকবে বৃষ্টি। আবহাওয়াবিদ মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, নিম্নচাপের প্রভাব রয়ে যাবে, অর্থাৎ বৃষ্টি হতেই থাকবে। দেশের সব সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির কুরবানির বিধান

কুরবানি ইসলামি শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সা.) হিজরতের পর প্রতি বছর কুরবানি করেছেন। প্রতি বছর ঈদুল আজহার দিনগুলোর নির্ধারিত সময়ে কুরবানি আদায় করা হয়।

তবে কুরবানি সব মুসলমানের ওপর ওয়াজিব নয়। এটি কেবল সেইসব মুসলমানের ওপর ওয়াজিব, যারা আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান, যাদের কাছে মৌলিক প্রয়োজনের বাইরে ‘নেসাব’ পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। (ইবনু মাজাহ, হাদিস: ৩১২৩)

এই প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে- যদি কোনো ব্যক্তি কুরবানির সময় ঋণগ্রস্ত থাকে, তাহলে কি তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হবে? ইসলামি ফিকহবিদরা এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন।

যদি কোনো ব্যক্তি ঈদুল আজহার দিনগুলোয় সাময়িকভাবে ঋণগ্রস্ত থাকেন এবং চলতি বছর পরিশোধযোগ্য ঋণের অংশ বাদ দেয়ার পর তার হাতে ‘নেসাব’ পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হবে না। কারণ, শরিয়তের দৃষ্টিতে তিনি আর্থিকভাবে সক্ষম বলে বিবেচিত নন।

অন্যদিকে যদি কোনো ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও তার কাছে এমন পরিমাণ সম্পদ থাকে যে, চলতি বছর পরিশোধযোগ্য ঋণ বাদ দেয়ার পরও তার হাতে ‘নেসাব’ পরিমাণ বা তার চেয়ে বেশি সম্পদ অবশিষ্ট থাকে, তাহলে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হবে। অর্থাৎ, ঋণ থাকলেই কুরবানি থেকে অব্যাহতি পাওয়া যাবে না, বরং মূল বিবেচ্য বিষয় হলো পরিশোধযোগ্য ঋণের অংশ বাদ দেয়ার পর ‘নেসাব’ পরিমাণ সম্পদ তার হাতে অবশিষ্ট থাকে কিনা। (বাদায়িউস সানায়ি, ৪/১৯৬; আল-ফাতাওয়াল হিন্দিয়্যা, ৫/২৯২)

সুতরাং কুরবানি আর্থিক ইবাদত হওয়ায় তা ওয়াজিব হওয়ার জন্য ব্যক্তির আর্থিক অবস্থাই মূল বিবেচ্য। একজন মুসলমানের উচিত কুরবানির সময় নিজের আর্থিক অবস্থার সঠিক পর্যালোচনা করে শরিয়তের আলোকে সিদ্ধান্ত নেয়া।

১৯৮টি ক্রীড়া স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে: ক্রীড়া পরিষদ

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের ১৯৮টি জাতীয় ক্রীড়া স্থাপনার নাম পরিবর্তন করেছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এসব স্থাপনার মধ্যে বেশিরভাগই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ছিল। সে সব স্থাপনার নাম পরিবর্তন করে জাতীয় বীর ও বিভিন্ন শহীদের স্মৃতিকে স্মরণ করে রাখা হয়েছে। তবে বেশিরভাগ স্থাপনার নামকরণ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ, জেলা বা উপজেলার নামে।

নাম পরিবর্তন হওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু স্থাপনার মধ্যে রয়েছে ঢাকার ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, যার নতুন নাম রাখা হয়েছে শুধু ‘জাতীয় স্টেডিয়াম’। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়াম’। রাজশাহীর কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামের নাম বদলে রাখা হয়েছে ‘রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম’।

এছাড়া, ফতুল্লা স্টেডিয়াম ও সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের নতুন নামকরণ করা হয়েছে জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিয়া গোপের নামে।

চিরচেনা ব্যাটিং ব্যর্থতায় পাকিস্তানের কাছে হারলো বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতা অনেকটা প্রাত্যহিক রুটিনের মতো। এবারও তাঁর ব্যতিক্রম হলো না। বুধবার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করে পাকিস্তান ৭ উইকেটে ২০১ রান সংগ্রহ করে। জবাবে টাইগাররা ১৯ ওভার দুই বলে ১৬৪ রান করে অলআউট হয়।

শুরুতে ফিল্ডিংয়ে নেমে দুর্দান্ত শুরু করে লিটন দাসের দল। প্রথম ওভারে পাকিস্তানের ওপেনার সাঈম আইয়ূবকে শূন্য রানে ফেরান শেখ মাহেদী। দ্বিতীয় ওভারে ফখর জামানকে তুলে নেন শরিফুল ইসলাম। পরে মোহাম্মদ হারিস ও সালমান আঘা ৪৮ রানের জুটি গড়েন। হারিস ফিরে যান ১৮ বলে ৩১ রানের ইনিংস খেলেন। তিনি চারটি চার ও একটি ছক্কা মারেন। অধিনায়ক সালমান আঘা ৩৪ বলে ৫৬ রান করেন। আটটি চার ও একটি ছক্কা মারেন তিনি। ঝড়ো ইনিংস হাসান নওয়াজ। তার ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রান। রান বাড়িয়ে নেয়ার কাজটা শেষে করেন শাদাব খান। তিনি ২৫ বলে ৪৮ রান যোগ করেন। ৫টি চার ও দুটি ছক্কা তোলেন তিনি।

জবাবে নেমে শুরুতে ওপেনার পারভেজ ইমন ৪ রান করে ফিরে যান। অন্য ওপেনার তানজিদ তামিম ভালোর আশা দিয়ে ১৭ বলে ৩১ রান করে আউট হন। তিনি তিনটি ছক্কা ও দুটি চার মারেন। লিটন দাসের ব্যাট থেকে আসে ৩০ বলে ৪৮ রানের ইনিংস। বাংলাদেশ অধিনায়ক তিনটি ছক্কা ও একটি চার মারেন। তিনি ১২ ওভারের শেষ বলে দলের ১০০ রানে আউট হন। তখনও ভালো মতোই ম্যাচে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পরের ব্যাটাররা যাওয়া-আসার মিছিল শুরু করায় অলআউট হতে হয় ফিল সিমন্সের শিষ্যদের। চারে নামা তাওহীদ হৃদয় ২২ বলে ১৭ রান করে আউট হয়ে যান। শামীম হোসেন (৪), রিশাদ হোসেন (৪) পুরোপুরি ব্যর্থ হন। জাকের আলী ২১ বলে তিন ছক্কা ও এক চারে ৩৬ রান করে ফিরলে বড় হার সঙ্গী হয় দলের।

বাংলাদেশের ইনিংস ধসিয়ে দেন দীর্ঘ বিরতি দিয়ে জাতীয় দলে ফেরা পেসার হাসান আলী। তিনি দুই ওপেনার ইমন, তামিমকে ফেরান। জাকের কেও শিকারে পরিণত করেন। ৩.২ ওভারে ৩০ রান দিয়ে ক্যারিয়ার সেরা ৫ উইকেট নেন। শাদাব খান ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট।

বাংলাদেশের হয়ে স্পিনার মাহেদী ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। শরিফুল ৩ ওভারে ৩২ রান খরচা করে ২ উইকেট নেন। হাসান মাহমুদ ৩ ওভারে ২৪ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। ২ ওভারে ২২ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন তানজিম সাকিব। রিশাদ হোসেন ৪ ওভারে ৫৫ রান খরচা করে ১ উইকেট নেন। শামীম পাটোয়ারি ৪ ওভার বল করে ৩১ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট।

‘নকল ঐশ্বরিয়া’ বলে কটাক্ষ, জবাব দিলেন উর্বশী

বছর দুয়েক ধরে কান-এ যাচ্ছেন উর্বশী রাউতেলা।তবে এবার পোশাক বিভ্রাট থেকে শুরু করে সাজ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর এক সমালোচনার শিকার হয়েছেন বলিউড এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি চোখের নীল আইশ্যাডো নিয়ে ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে তার তুলনা করায় এবার সমালোচকদের কড়া জবাব দিলেন উর্বশী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উর্বশী নিজের প্রশংসায় পাল্টা একটি পোস্ট করেছেন ।

পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘তাহলে আমি কোনো ক্যারিশমা ছাড়াই ঐশ্বরিয়া রাই হওয়ার চেষ্টা করছি? ঐশ্বরিয়া সত্যিই আইকনিক। কিন্তু আমি এখানে কারও নকল করতে আসিনি। আমি বরং ওর ব্লু-প্রিন্ট।’

উর্বশী আরও লেখেন, ‘আমি নিজেকে সবার থেকে আলাদাভাবে তুলে ধরতে চেয়েছিলাম। জানি আমি সবার পছন্দের নই। আমি হলাম আতশবাজি-সহ শ্যাম্পেনের মতো। কেউ যদি এটা মাপতে যায়, তাহলে বিপদ।’

তার কথায়, ‘কান আমাকে সবার মধ্যে আলাদা হয়ে ওঠার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। আমিও চেষ্টা করি সেটা সবসময় বজায় রাখার।’ কান উৎসবে এর আগেও বহুবার উর্বশীকে ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

রাজাকারের বেকসুর খালাসকে উদযাপন করে আমাদের ভোট চান?’

সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান। যাকে সব সময় অন্যায়-অবিচারের বিরুধে সোচ্চার দেখা যায়। নিজের গান-কবিতার মাধ্যমে অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে কখনো পিছপা হতে দেখা যায়নি তাকে। শুধু কি তাই রাজপথেও তিনি থাকেন সামনের সারিতে। ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে সায়ানকে দেখা গেছে ফ্রন্ট লাইনেই। এবার নিজের ফেসবুক পোস্টে আরো একবার ক্ষোভ ঝড়ালেন এই গায়িকা।

বুধবার দুপুর ১টায় দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, জামায়াতের সাথে হাত মিলিয়ে কোলাকুলি করে ‘ভোটের রাজনীতি’ করতে গিয়ে এই দেশে কিছুদিন আগেই একটা বড় দলের ত্রাহি মধুসূদন দশা হয়েছিল। আওয়ামী এমন নতুন ধারাবাহিক-গুরুতর পাপকর্ম করেছে দেশের মানুষের বিপক্ষে, যে সেই দলের গুরু-পাপকে ভুলিয়ে দিয়েছে প্রায়। নতুন দল এনসিপি’র সার্জিসরা, হাসনাতরা প্রথম থেকেই তাদের রাজনীতি পরিস্কার করে দিয়েছে। ধন্যবাদ। সেই হিসেবে দেশের মানুষের, আমাদের মতো সাধারণ মানুষের অনেক সুবিধা হলো। দিনের শেষে ভোটেই তো দাঁড়াতে হবে আপনাদের। জামায়াতকে বুকের সাথে আগলে রেখে, রাজাকারের ‘বেকসুর খালাসকে’ উদযাপন করে আপনারা আমাদের ভোট চান? বিবেকবান স্বাভাবিক সাধারণ মানুষের?

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, একাত্তরের পরে জন্মেছি বলে কি জামায়াত চিনি না? আলবদর চিনি না? বীরাঙ্গনার ব্যাথা বুঝি না?? এই দেশের ছোট ছোট বাচ্চারাও, ইতিহাসবিদদের মতন দিন তারিখের রেফারেন্স দিয়ে জামায়াতের জন্ম ইতিহাস বলতে পারবে না হয়তো। কিন্তু জামায়াত কি, তাদের আদর্শ কি, তারা এই দেশের মানুষকে নিয়ে কি করতে চায়, তা আজকে সকালে জন্ম নেয়া বাচ্চটাও কালকে বিকালের মধ্যে শিখে যায়।

এনসিপির সমালোচনা করে সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান লিখেছেন, এনসিপি যে এই জায়গাটা ধরতে পারে নাই, তা তাদের বুদ্ধিমত্তার নির্দেশক। তারা নতুন দেশ গড়ার কথা বলে নিজেদের ভোটের জন্য জামায়াতকে বুকে টেনেছে বলে মনে হয়। আবার তাদের আরেকটি সঞ্চয় হলো ‘আওয়ামী-ঘৃণা’। আজকে দেশে অনেক অন্যায় ঘটছে। তাদের সেসবে হেলদোল নাই। কিন্তু জামায়াত আর আলবদরকে ভালোবাসায় তারা আগুয়ান। ধ ন্যবাদ এই স্বচ্ছতার জন্য।

এ ছাড়া ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও বলেন, আমি প্রতি মুহূর্তে নিজের রাজনীতিকে পরিবর্তন করার পক্ষে। আজকে যাকে ভালো লাগছে, কালকে তাকে ছুড়ে ফেলে দিতে দ্বিধা করি না, মাটির প্রশ্নে। সেই হিসেবে আমার রাজনৈতিক-ঈমান খুব তরল এবং সেটাই আমি চাই। নাহিদরা যখন বুক পেতে দিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল গত জুলাইতে, ওদের জন্য ভালোবাসা ছিল, সমর্থন ছিল। সেদিন সেটাই ছিল আমার রাজনীতি। ওদের সেই মৃত্যুর মুখে দাঁড়ানো, সেটাকে সেই সময়ের সত্যিকারের দেশপ্রেম, আর মানুষ প্রেম, মাটি-প্রেম মনে হয়েছিল। তার জন্য আমি একটুও দু:খিত হবো না কোনোদিন। আমার সেইদিনের সমর্থনের জন্য আমি কোনদিন অনুতপ্ত হবো না। নেভার!

ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান লিখেছেন, কিন্তু গত কয়েক মাসের তাদের অনেক আচরণ, অনেক কিছু দেখতে দেখতে দেখছি, আজকে সেই একই দলের ছেলেমেয়েরা যে আজহারের বেকসুর খালাসকে উদযাপন করলো, আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সমর্থন করলো, (এমন কি লজ্জায় বা কৌশলে চুপ করে থাকলো না, প্রকাশ্যে সমর্থন করলো), আর নাদিরা ইয়াসমিন- এর অন্যায়ভাবে বদলির বিরুদ্ধে একটা কথাও বললো না, এই দেশের একজন মানুষ হিসেবে এটাই আমার আপাতত: রাজনীতি, যে এরপর এই নতুন দলটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আজকে থেকে বর্জন করলাম। এইটুকু করার কথা ভেবেই নিজের অশান্ত মনকে আমি খানিকটা শান্তি দিতে পারছি। আগামী নির্বাচনে আমি এনসিপি, জামায়াত, এই সমমনা দলগুলোকে ভোট নিজে তো দেবই না, এবং মানুষকে অনুরোধ করবো, যেন তারা এই দলগুলো থেকে দূরে থাকেন। একজন একক ব্যক্তি হিসেবে এটাই আমার সাধ্য।

ইংরেজিতে তিনি আরও লিখেছেন, আই উইল নেভার সাপোর্ট এনসিপি (আমি কখনো এনসিপিকে সমর্থন করব না)!