Home Blog Page 403

চলতি বছরেই চালু হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট

চলতি বছরের শেষ নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জি খোজিন। রোববার রাশিয়া দিবস উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এ বছর রাশিয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ের ৮০ বছর উদযাপন করছে। একইসঙ্গে সোভিয়েত পারমাণবিক শিল্প প্রতিষ্ঠারও ৮০ বছর। এই গৌরবময় সময়ে রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি আমাদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।’ তিনি জানান, রুশ ও বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের যৌথ প্রচেষ্টায় রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং প্রথম ইউনিট উদ্বোধনের সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, রূপপুর প্রকল্প শুধু প্রযুক্তিগত নয়, রাশিয়া-বাংলাদেশ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের একটি উজ্জ্বল নিদর্শন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে একটি নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’ এর সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র, যার প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং বর্তমানে প্রকল্পের প্রথম ইউনিট পরীক্ষামূলক চালুর প্রস্তুতিতে রয়েছে।

কাল সচিবালয়ে সরকারি কর্মচারীদের গণজমায়েত

সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিলের দাবিতে ফের আন্দোলনে নামছেন কর্মচারীরা। আগামীকাল সোমবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে গণজমায়েত করবেন তারা। এরপর তিনজন উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দেবেন।

রবিবার (১৫ জুন) বাংলাদেশে সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কো-মহাসচিব মো. নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিলের দাবিতে আগামীকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় সচিবালয়ের বাদামতলায় জড়ো হবেন কর্মচারীরা। গণজমায়েতের পর স্বরাষ্ট্র, সমাজকল্যাণ এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টাদের স্মারকলিপি দেওয়া হবে। তারপর ঐক্য ফোরামের নেতারা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

গণজমায়েতে অংশ নিতে ঐক্য ফোরামের পক্ষ থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, ১৯৭৯ সালের অর্ডিন্যান্সের অনুরূপ অমানবিক, অসাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী এবং হাস্যকর সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অবিলম্বে বাতিলের লক্ষ্যে ঈদ-পরবর্তী গণজমায়েতে অংশ নিন।

চার ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধের জন্য বিভাগীয় মামলা ছাড়াই শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের চাকরিচ্যুত করার বিধান রেখে গত ২৫ মে সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। তার আগ থেকে এই অধ্যাদেশের খসড়া বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামেন সচিবালয়ের কর্মচারীরা। চাকরি অধ্যাদেশ জারির পর তারা সচিবালয়ে নজিরবিহীন বিক্ষোভ-সমাবেশ এবং এক ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালনের পর উপদেষ্টাদের স্মারকলিপি দেন।

মার্করামের মহাকাব্যিক ইনিংসে অবশেষে ট্রফি জিতলো দক্ষিণ আফ্রিকা

এইডেন মার্করামের এক মহাকাব্যিক ইনিংসের ওপর ভর করে অবশেষে ক্রিকেটের কাঙ্ক্ষিত শিরোপার দেখা পেল দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো আইসিসি ট্রফি জিতলো প্রোটিয়ারা।

লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে ২৮২ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা যখন চাপে, তখনই ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন মার্করাম। অস্ট্রেলিয়ান পেসারদের আগুনে বোলিংয়ের সামনে তিনি খেলেন ১৩৬ রানের এক অবিস্মরণীয় ইনিংস, যা প্রোটিয়াদের জয় নিশ্চিত করতে মূল ভূমিকা রাখে। এটি কেবল একটি সেঞ্চুরি ছিল না, এটি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটানোর এক ঐতিহাসিক পথনির্দেশক ইনিংস।

যদিও মার্করাম শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকতে পারেননি, তবে তার ইনিংসই দলের জয়ের ভিত গড়ে দেয় এবং সব বিপদ থেকে দলকে মুক্ত করে। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা জয়ের বন্দরে পৌঁছায়। এই জয় শুধুমাত্র একটি ট্রফি নয়, এটি প্রোটিয়াদের জন্য দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

চাঁদে পা রাখতে যাচ্ছেন প্রথম বাংলাদেশি রুতবা

প্রথম বাংলাদেশি ও নারী হিসেবে চাঁদে পা রাখতে যাচ্ছেন রুতবা ইয়াসমিন। ‘স্পেস নেশন’-এর মুন পাইওনিয়ার মিশনের প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করে চাঁদে পা রাখার দৌড়ে সামনের সারিতে আছেন। গত ১৬ এপ্রিল স্পেস নেশন জানায়, তাদের মিশনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ সদস্যই নারী এবং রুতবা তাঁদের একজন।

রুতবা ঢাকার স্কলাসটিকা স্কুল থেকে ম্যাসাচুসেটসের মাউন্ট হোলিওক কলেজে যান। ২০১৪ সালে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে ডিগ্রি এবং গণিতে মাইনর শেষ করেন। পরে কোভিডের সময় বাংলাদেশে ফিরে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ডেটা সায়েন্সে উচ্চতর ডিগ্রি এবং ২০২৪ সালে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আলাবামা থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

মহাকাশ আবহাওয়া নিয়ে রুতবার গবেষণা; বিশেষ করে ‘ভূচৌম্বকীয় ঝড়’ তাঁর আগ্রহকে আরও গভীর করে। রুতবার অনুপ্রেরণা ছিলেন মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস। রুতবা মনে করেন, মহাকাশে নারীর অংশগ্রহণ এখনো সীমিত, তবে এটি পরিবর্তনের সময় এসেছে। তিনি বলেন, ‘মহাকাশশিল্পে মাত্র ১১ শতাংশ মহাকাশচারী নারী। এ চিত্র বদলানো জরুরি।’

‘মুন পাইওনিয়ার মিশনে’ তাঁর প্রশিক্ষণ ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। স্পেসস্যুট পরা, ইভিএ বা মহাকাশের বাইরে কাজ এবং মিশন কন্ট্রোলে যোগাযোগ রক্ষা করার কৌশল শেখা ছিল মূল বিষয়। সিমুলেশনে একটি বিপজ্জনক ত্রুটির সময়, রুতবা জরুরি ইভিএ করে পরিস্থিতি সামাল দেন। পরে তিনি মিশন কন্ট্রোলের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দলের সদস্যদের আইএসআরইউ (স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার) মডিউলের দিকনির্দেশনা দেন।

রুতবার মতে, এই মিশন দলগত কাজ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও চাপের মধ্যে সমস্যা সমাধানের দারুণ এক পরীক্ষা। তিনি বলেন, ‘আমাদের সাফল্য ছিল প্রস্তুতি, সমন্বয় ও নেতৃত্বের ফল।’ তাঁর দল ‘ম্যাগ৭’ এই মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

মানসিক সুস্থতা ও শারীরিক প্রস্তুতিও তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মহাকাশে সুস্থ থাকতে ভালো ঘুম, পুষ্টিকর খাবার এবং পরিচ্ছন্নতার বিকল্প ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়।

রুতবা ভবিষ্যতে চাঁদের ওপর গবেষণা, নমুনা সংগ্রহ এবং আর্টেমিস মিশনের মতো বড় প্রকল্পে কাজ করতে চান। তাঁর লক্ষ্য, শুধু চাঁদে পা রাখা নয়, ইতিহাস গড়ে নারীদের সামনে পথ খুলে দেওয়া। তিনি বলেন, ‘আমি মহাকাশ অনুসন্ধানে ঐতিহাসিক অবদান রাখতে চাই’।

বিয়ে করলেই ইউরোপ-আমেরিকাসহ যেসব দেশের নাগরিকত্ব পাবেন

আধুনিক বিশ্বে সম্ভাবনার এই যুগে এমন অনেকেই রয়েছেন, যারা জন্মভূমির পাশাপাশি সেকেন্ড সিটিজেনশিপ বা দ্বিতীয় নাগরিকত্ব চান। অন্য দেশের নাগরিক হওয়ার জন্য অনেক চেষ্টাও চালান। নাগরিকত্বের জন্য অনেকেই আবার ভিনদেশি মানুষকে বিয়ে করেন। বিশ্বের এমন কিছু দেশ রয়েছে, যেসব দেশের নাগরিককে বিয়ে করলে বৈধ উপায়ে সেই দেশের নাগরিকত্ব লাভ করা যায়। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নোম্যাড ক্যাপিটালিস্ট। এ বিষয়ে তাহলে জেনে নেয়া যাক।

কেপ ভার্ড: প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরা পশ্চিম আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্ড। দেশটির নাগরিককে বিয়ে করলে সেই দেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই দেশটির নাগরিককে বৈধভাবে বিয়ে করতে হবে। নাগরিকত্ব লাভের জন্য কেপ ভার্ডে বসবাসের কোনো পূর্বশর্ত নেই। ফলে এ দেশের নাগরিকদের বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভ সহজ ও সময় সাশ্রয়ী।

স্পেন: দক্ষিণ ইউরোপের  বৃহৎ দেশ স্পেন। দেশটির আইনে বলা আছে, কেউ স্প্যানিশ নাগরিক বিয়ে করার পর একসঙ্গে এক বছর বসবাস করলেই স্পেনের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। দেশটির নাগরিকত্ব একবার পেলে পাশাপাশি লাতিন আমেরিকা, পর্তুগাল, ফিলিপাইন ইত্যাদি দেশের দ্বৈত নাগরিকত্বের সুবিধা পাওয়া যায়। এ জন্য স্প্যানিশ নাগরিককে বিয়ের বৈধ সনদ ও একসঙ্গে বসবাসের প্রমাণাদি লাগে। কখনো কখনো স্প্যানিশ ভাষায় প্রাথমিক দক্ষতা এবং দেশটির সংস্কৃতি সম্যক ধারণা কাজে লাগে।

কলম্বিয়া: লাতিন আমেরিকার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ কলম্বিয়া। দেশটিতে অফুরন্ত সুযোগ রয়েছে। অনেকেরই বিশ্বাস, কলম্বিয়া হচ্ছে আমেরিকার লুকানো রত্ন। সাধারণত দেশটিতে নাগরিকত্বের জন্য পাঁচ থেকে দশ বছর পর্যন্ত সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু দেশটির নাগরিক বিয়ে করলে এই সময় মাত্র দুই বছরে এসে দাঁড়ায়। এ জন্য স্প্যানিশ ভাষায় অনুষ্ঠিত নাগরিকত্ব পরীক্ষায় উত্তীর্ণের প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া আপনি অন্য কোনো লাতিন দেশের হলে মাত্র এক বছরে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আর্জেন্টিনা: ফুটবলপ্রেমী মানুষদের কাছে খুবই পরিচিত এক নাম আর্জেন্টিনা। দেশটির কোনো নাগরিককে বিয়ে করলে সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি মিলে। বিয়ের দুই বছর পরই আর্জেন্টিনার নাগরিকত্ব অর্জনের আবেদন করা যায়। এ জন্য বিয়ের বৈধ কাগজপত্র এবং কোনো ধরনের অপরাধ না করার প্রমাণাদির প্রয়োজন হয়। অনেক সময় স্প্যানিশ ভাষার জ্ঞানও লাগে।

মেক্সিকো: আপনি যদি মেক্সিকান কোনো নাগরিককে বিয়ে করে তার সঙ্গে দুই বছর বসবাস করেন, তাহলে দেশটির নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে উল্লেখ রয়েছে মেক্সিকোর আইনে। এ জন্য আপনার স্প্যানিশ ভাষার দক্ষতা, বিয়ের বৈধ কাগজপত্র ও একসঙ্গে থাকার প্রমাণাদি লাগবে। এখানে ভালো সুবিধা হচ্ছে, আপনি মেক্সিকোর নাগরিকত্ব পেলেও আগের দেশের পাসপোর্ট সঙ্গে রাখতে পারবেন।

তুরস্ক: অনেকের কাছেই তুরস্ক হচ্ছে স্বপ্নের দেশ। ইতিহাস ও ঐতিহ্যে ঘেরা তুরস্কে বিয়ের পর তিন বছর একসঙ্গে থাকলে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। লাতিন আমেরিকা বা ইউরোপের তুলনায় তুরস্কের নাগরিকত্ব অর্জন অনেকটাই সহজ। এ দেশের নাগরিকত্বের জন্য ভাষা বা সংস্কৃতি জানার প্রয়োজন নেই। কেবল তিন বছর একসঙ্গে বসবাস করতে পারলেই দেশটির নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন। নাগরিকত্ব পেলে দেশটির পাসপোর্ট দিয়ে বিশ্বের ১১০টিরও বেশি দেশে ভিসা ফ্রি বা অন অ্যারাইভাল সুবিধা পাবেন।

সুইজারল্যান্ড: কঠোর অভিবাসন নীতির জন্য সুইজারল্যান্ডের নাগরিকত্ব লাভ খানিকটা জটিল। তবে দেশটির নাগরিককে বিয়ের মাধ্যমে বৈধভাবে নাগরিকত্ব লাভ করা যায়। আপনি যাকে বিয়ে করবেন তিনি যদি সুইস নাগরিক হয়ে থাকেন এবং আপনারা একসঙ্গে তিন বছর থাকলে, তাহলে পাঁচ বছর বসবাসের পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবার দেশের বাইরে থাকলেও দাম্পত্যজীবনের ছয় বছর অতিক্রম হলে সুইজারল্যান্ডের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। দেশটির নাগরিকত্ব অর্জন করলে ইউরোপে বসবাসের সুযোগ পাবেন। এ জন্য সুইস সমাজে মিশে যাওয়ার প্রমাণ যেমন- সুইজারল্যান্ডের ভাষা, সংস্কৃতিক সম্পর্কে জানা-শোনা, কোনো ধরনের অপরাধমূলক কাজে না জড়ানোর রেকর্ড ও বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কের সনদ হলেই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

বিজিএমইএর নতুন সভাপতি মাহমুদ হাসান বাবু

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ২০২৫-২৭ মেয়াদের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রাইজিং ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ হাসান খান (বাবু)। শনিবার (১৪ জুন) নির্বাচনী বোর্ড বিজিএমইএ পর্ষদ ২০২৫-২৭ সেশনের জন্য কার্যনির্বাহী পদ বণ্টন সম্পন্ন করেছে। আগামী ১৬ জুন নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

গত ৩১ মে পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় এই সংগঠনটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নির্বাচিত পরিচালকরা সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচনের জন্য ভোট দেন।

সেলিম রহমান সহ-সভাপতি (প্রথম) এবং ইনামুল হক খান সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. রেজওয়ান সেলিম, মিজানুর রহমান (অর্থ), ভিদিয়া অমৃত খান, মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী।

এর আগে, বিজিএমইএ ২০২৫-২৭ মেয়াদের নির্বাচনে ‘ফোরাম’ জোট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। ঢাকার ২৬টি পরিচালক পদের মধ্যে তারা ২৫টিতে এবং চট্টগ্রামের ৯টি পদের মধ্যে ছয়টিতে জয়ী হয়। অর্থাৎ, নির্বাচিত ৩৫ জন পরিচালকের মধ্যে ৩১ জনই ‘ফোরাম’ জোটের, যেখানে ‘সম্মিলিত পরিষদ’ থেকে মাত্র চারজন জয় লাভ করেন।

এবারের বিজিএমইএ নির্বাচনে মোট ৭৬ জন প্রার্থী অংশ নেন। ‘ফোরাম’ ও ‘সম্মিলিত পরিষদ’ উভয় জোটই ৩৫টি পরিচালক পদের জন্য প্রার্থী দিয়েছিল। এছাড়া ‘ঐক্য পরিষদ’ ব্যানারে আরও ছয়জন প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

লক্ষীপুর রায়পুরে জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ৭১-এর কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নুর আহাম্মদ মিলন, লক্ষীপুর প্রতিনিধি:

লক্ষীপুর জেলার রায়পুর উপজেলায় জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ৭১-এর আয়োজনে ৩নং চরমোহনা ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের যৌথ কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সম্মেলনটি ১৩ জুন (শুক্রবার) বিকেলে উত্তর রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় গোটা মাঠ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়পুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি তার বক্তব্যে বলেন,

> “বর্তমান সময় হচ্ছে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার সময়। প্রজন্ম ৭১-এর তরুণ কর্মীরাই আগামী দিনের পরিবর্তনের অগ্রদূত।”

তিনি দলীয় ঐক্য, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, প্রজন্ম ৭১-এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত পরিবেশে শেষ হয়, যেখানে কর্মীরা নতুন উদ্যমে সংগঠনের কাজকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নওগাঁর বদলগাছীতে জামায়াতের ওলামা বিভাগের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী।

মোঃ ফেরদৌস হোসেন,  উপজেলা প্রতিনিধি, বদলগাছী, নওগাঁ। 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ওলামা বিভাগ, বদলগাছী উপজেলা শাখার উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১২ টায় বদলগাছী উপজেলার গোবরচাপা হাট এলাকায় ইলিয়াছ মৌলানার বাড়ীর সামনে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নওগাঁ জেলা শাখার আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য খ. ম. আব্দুর বাকিব। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ নাসির উদ্দীন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বদলগাছী উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইয়াসিন আলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বদলগাছী উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এবং উপজেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা মোঃ ইলিয়াস হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাওলানা আনিছুর রহমান ও মাওলানা রেজাউল করিম।

পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানটিতে পবিত্র কোরআন ও হাদীসের আলোকে সমাজ সংস্কার, ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, ঈদের শিক্ষা আমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং আত্মত্যাগের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে। সেই সঙ্গে দেশের চলমান নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সচেতন ওলামা সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানে বদলগাছী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত ওলামা বিভাগের নেতৃবৃন্দ, সদস্যবৃন্দ ও কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ঈদের আনন্দঘন পরিবেশে সকলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও মুক্তির জন্য প্রার্থনা করা হয়।

ট্রাম্পের বিবৃতিতে বিপাকে পড়েছে ভারত

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করার পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় প্রতিদিনই ভারত নিয়ে মুখ খুলছেন। তিনি নিয়মিত ভারত ও পাকিস্তান নিয়ে, ভারতের বাণিজ্য শুল্ক কম করা নিয়ে, অ্যাপলকে ভারতে আইফোন না বানানোর পরামর্শ দিয়ে যা বলছেন, তাতে কি নরেন্দ্র মোদি সরকার বিপাকে পড়ছে? প্রতিদিনই বিরোধীরা ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে সরকারকে নানা প্রশ্ন করে যাচ্ছে।
ট্রাম্প যা বলেছেন
ভারত ও পাকিস্তান যে সংঘাত থামিয়ে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে, সেই ঘোষণাটা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বা দুই দেশের প্রতিরক্ষা বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী অথবা সেনার তরফ থেকে আসেনি।
নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপর থেকে নিয়মিত এই যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব ট্রাম্প নিজেকে দিচ্ছেন এবং একাধিক মন্তব্য করেছেন।
ট্রাম্প প্রথমে বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এক রাতের আলোচনার পর আমি খুবই আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, ভারত ও পাকিস্তান অবিলম্বে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা বাস্তববোধ ও বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়েছে বলে দুই দেশকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
ট্রাম্পের এই বার্তার পর ভারত, পাকিস্তান এবং গোটা বিশ্ব জানতে পারে, যুদ্ধবিরতি হয়েছে। তার পরের দিনই যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমি খুবই গর্বিত যে যুক্তরাষ্ট্র এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করতে পেরেছে। আমি দুই দেশের সঙ্গেই কাজ করব। দেখতে চাই, হাজার বছর পরে কাশ্মীর সমস্যার কোনো সমাধান হয় কিনা।’
কাশ্মীর সমস্যা হাজার বছর ধরে চলছে, এমন তথ্য ট্রাম্প কোথা থেকে পেয়েছেন, তা জানাননি। তবে এরপর ট্রাম্প জানান, বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়ে তিনি দুই দেশকে সংঘাত থামাতে বাধ্য করেন।
এরপরেও ট্রাম্প থামেননি। তিনি বলেছেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সমস্যা ভয়াবহ হচ্ছিল। রোজ নানা ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দেখা যাচ্ছিল। আমরা তা মিটিয়েছি। আমরা বলছি, এস বাণিজ্য করা যাক।’
তারপর বৃহস্পতিবার ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রায় সব পণ্যে শুল্ক কমাতে ভারত রাজি হয়েছে। তারপর তিনি বলেছেন, অ্যাপল ভারতে যে আইফোন তৈরির কারখানা করছে, সে ব্যাপারে তার আপত্তি আছে। ভারত চড়া হারে শুল্ক বসায়। ফলে ব্যবসা করতে অসুবিধা হবে।
কংগ্রেস ও বিরোধীদের দাবি
লোকসভার বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে দাবি করেছেন, সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হোক। সেখানে পেহেলগাম, অপারেশন সিঁদুর এবং যুদ্ধবিরতি যা প্রথমে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তা নিয়ে আলোচনা হবে। সব বিরোধী দল এটাই চাইছে।
সব বিরোধী দল পেহেলগামের পর সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছিল, অপারেশন সিঁদুর সমর্থন করেছিল। যুদ্ধবিরতির পর তারা এবার প্রশ্ন করতে শুরু করেছে।
রাজ্যসভার নেতা এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও একই দাবি করেছেন। গত ১৪ মে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের পর প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত যে প্রত্যাঘাত করছিল, তা হঠাৎ থামিয়ে দেওয়ায় আমরা বিস্মিত। এটা স্পষ্ট হচ্ছে না। ফলে গুজব ছড়াচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প সবচেয়ে আগে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তিনিই দুই দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপন করেছেন। তিনি বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়ে ভারতকে চাপ দিয়েছিলেন। ভারত সরকার পুরো চুপ করে আছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। অতীতে ভারতের সব সরকার দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে, কাশ্মীর হলো ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সমস্যা। তৃতীয় কোনো দেশের কোনো ভূমিকা থাকতে পারে না। ট্রাম্পের দাবি ভারত খ-ন করেনি। আমরা মনে করি, আমাদের জাতীয় অবস্থান ও সম্মানের সঙ্গে সমঝোতা করা হয়েছে।
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেছেন, ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল শুল্ক-বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করতে ওয়াশিংটন গেছেন। ট্রাম্প দোহা থেকে দাবি করছেন। সরকার চুপ করে আছে।
বিপাকে ফেলে দিয়েছেন ট্রাম্প?
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ডিডাব্লিউকে বলেছেন, ট্রাম্প এই মন্তব্য করে ভারতকে ধরাশায়ী করে দিয়েছেন। ভারত আঞ্চলিক প্লেয়ার থেকে আন্তর্জাতিক প্লেয়ার হতে চাইছিল, জি২০তে গুরুত্ব পাচ্ছিল, বিশ্বগুরু নিয়ে কথা হচ্ছিল, সেই ভারতকে বিশাল ধাক্কা দিয়েছেন ট্রাম্প।
প্রবীণ সাংবাদিক শরদ গুপ্তা ডিডাব্লিউকে বলেছেন, ইন্দিরা গান্ধীকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন বলেছিলেন, ১৯৭১-এ যুদ্ধ বন্ধ করতে। ইন্দিরা শোনেননি। আমেরিকা সেভেন ফ্লিট পাঠায়। তাও ইন্দিরা পিছু হটেননি। আর এবার বাণিজ্য নিয়ে ট্রাম্পের হুমকিতেই যুদ্ধবিরতি হয়ে গেলো!
বিশ্বনাথ বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভূরাজনৈতিক কারণে ভারতকে প্রধান পার্টনার করেছিল। ভারতকে সঙ্গে নিয়ে কোয়াড তৈরি হয়। ট্রাম্প পুরো বদলে দিলেন। তিনি পুরনো বন্ধু হিসাবে পাকিস্তানকে রিভাইভ করলেন। ক্লিন্টনের সময় থেকে ভারত যে প্রাধান্য পাচ্ছিল, সেখান থেকে সরে এলেন ট্রাম্প। আজ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট যদি অ্যাপলকে ভারতে বিনিয়োগ করতে মানা করেন, তারপরে তারা কি তাকে অমান্য করে এই বিনিয়োগ করতে পারে?

ইসলাইল বর্বরতা: গাজায় খাদ্যের প্রলোভন দেখিয়ে ১০২ জনকে হত্যা

মানবসভ্যতার ইতিহাসে ভয়াবহ গণহত্যা চলছে ফিলিস্তিনের গাজায়। দিন দিন দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর তা-ব বাড়ছে। ফিলিস্তিনিদের হত্যায় ব্যবহৃত হচ্ছে অত্যাধুনিক সব অস্ত্র ও কৌশল। নতুন করে সেই কৌশলে যোগ হয়েছে ‘খাবারের প্রলোভন’। ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের পক্ষে সেই প্রলোভন এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। সেই সুযোগটিই নিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। খাবারের আশায় ত্রাণ শিবিরে জড়ো হওয়া গাজাবাসীর ওপর বোমা ফেলে তাদের হত্যা করা হচ্ছে। গত আট দিনে বিভিন্ন ত্রাণসহায়তা কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে অন্তত ১০২ জনকে হত্যা করেছে দখলদাররা। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাফাহ শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিচালিত সহায়তা সংস্থা গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশনে (জিএইচএফ) হামলা চালায় তারা। সেখানে ২৭ ফিলিস্তিনি নিহত হন।
গাজার বেসামরিক সুরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, ‘রাফার আল আলম এলাকায় মার্কিন প্রতিষ্ঠান থেকে ত্রাণ পেতে আসা বেসামরিক মানুষদের ওপর অমানবিক হামলা চালানো হয়েছে।’
মাহমুদ আরও বলেন, ‘ইসরায়েলি বাহিনী ট্যাঙ্ক ও ড্রোন ব্যবহার করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে, এতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।’ এর আগে রোববার একই স্থানে হামলায় ৩১ জন নিহত ও ১৭৬ জন আহত হয়েছিল, যদিও ইসরায়েল সেই হামলার দায় অস্বীকার করেছে।
গাজা উপত্যকার উদ্ধারকারীদের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, ভোরবেলা থেকে হাজারো মানুষ ত্রাণ পেতে আল আলম মোড়ের কাছে জড়ো হতে শুরু করেন। সে সময় ইসরায়েলি সেনারা ট্যাঙ্ক ও ড্রোন থেকে গুলি চালাতে থাকে। তখন ত্রাণপ্রত্যাশীরা কোনোভাবে সেনাদের জন্য বিপজ্জনক ছিলেন না।
খাদ্যসহায়তা প্রত্যাশাকারীদের ওপর হামলাকে অযৌক্তিক বলে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস জানিয়েছে , গাজার বেসামরিক নাগরিকদের খাদ্য ও ত্রাণ পৌঁছানোর পথে বাধা সৃষ্টি করা যুদ্ধাপরাধ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টার্কের মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, আমরা শুনেছি, ত্রাণসহায়তা কেন্দ্রে তিন দিন ধরে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা হচ্ছে। এটি অগ্রহণযোগ্য।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই ঘটনার ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গাজাবাসী খাবারের জন্য জীবন বিপন্ন করছে, যা একদমই মেনে নেওয়া যায় না।