Home Blog Page 405

বাংলাদেশে চীনা সামরিক উপস্থিতির ভাবনা, মার্কিন সতর্কতা

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিয়ানমারসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে সামরিক উপস্থিতির কথা বিবেচনা করছে চীন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন দাবিই করেছে আমেরিকা। মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) কর্তৃক প্রকাশিত ‘বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন’ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। তবে এসব দেশে চীন কী ধরনের সামরিক উপস্থিতি চাইছে, সে ব্যাপারে প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয় নি। এ নিয়ে চীনের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের হুমকি নিয়ে প্রতি বছর প্রতিবেদন প্রকাশ করে মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিআইএ)। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে চলতি বছরের প্রতিবেদন। ‘২০২৫ ওয়ার্ল্ডওয়াইড থ্রেট এসেসমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়া অংশে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতে বিভিন্ন হুমকির কথা বলা হলেও বাংলাদেশের কোনো উল্লেখ নেই। তবে প্রতিবেদনের চীন অংশে যেসব হুমকির কথা বলা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী মিয়ানমারও রয়েছে।

চীনের ব্যাপারে সতর্ক করে মার্কিন এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পূর্ব এশিয়ায় প্রধান শক্তিধর দেশ হওয়ার কৌশলগত লক্ষ্য বজায় রেখেছে চীন। তাইওয়ানকে মূল ভূখণ্ড চীনের সঙ্গে একীভূত করা, চীনের অর্থনীতির উন্নয়ন ও স্থিতিস্থাপকতাকে এগিয়ে নেওয়া এবং মধ্য শতাব্দীর মধ্যে প্রযুক্তিগতভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দেশটি বিশ্ব নেতৃত্বের জন্য আমেরিকাকে চ্যালেঞ্জও জানাচ্ছে।’

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ‘কূটনৈতিক, তথ্যগত, সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা ও তার মিত্রদের মোকাবিলা করার জন্য চীন তার বৈশ্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে চলেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইন্দো-প্যাসিফিক ও তার আশপাশের অঞ্চলে আমেরিকা ও তার মিত্রদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। এই প্রতিযোগিতায় চীনকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে তিনি নানা উদ্যোগ নিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন সামরিক জোট ও তার নিরাপত্তা অংশীদারত্বের জন্য সমর্থনকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।’

আমেরিকাকে টেক্কা দেওয়ার জন্য চীন কোন কোন অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতির কার্যক্রম শুরু করেছে এবং কোন দেশগুলোতে শুরু করার চিন্তা করছে, তা মার্কিন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনের চীন অংশের ‘গ্লোবাল মিলিটারি অপারেশনস’ শীর্ষক অনুচ্ছেদে বলা হয়, ‘চীনে থেকেই টানা লম্বা সময় কার্যক্রম চালানোর জন্য পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) বা গণমুক্তি বাহিনীর ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করছে দেশটি। এ ছাড়া আরও শক্তিশালী বিদেশি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করছে চীন। এই বাহিনীর সেনাদের আরও বেশি দূরত্বে মোতায়েন বজায় রাখার জন্য অবকাঠামো তৈরি করছে। এই প্রচেষ্টা মার্কিন বৈশ্বিক কার্যক্রম কিংবা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।’

রিয়াল মাদ্রিদের নতুন কোচ জাবি আলোনসো

নতুন কোচ হিসেবে জাবি আলোনসোর নাম ঘোষণা করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। তার সঙ্গে তিন মৌসুমের চুক্তি করেছে লস ব্লাঙ্কোসরা। কার্লো আনচেলত্তি রিয়ালের দায়িত্ব ছেড়ে ব্রাজিলের দায়িত্ব নিয়েছেন। তার জায়গায় ক্লাব বিশ্বকাপ থেকে কাজ শুরু করবেন জাবি আলোনসো।

রিয়াল মাদ্রিদ এক বিবৃতি দিয়ে বলেছে, ‘রিয়াল মাদ্রিদ ঘোষণা করছে যে, জাবি আলোনসো ১ জুন থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ক্লাবটির কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন। আলোনসো রিয়াল মাদ্রিদ ও বিশ্ব ফুটবলের একজন কিংবদন্তি। এবার তিনি ফুটবলের অন্যতম সেরা একজন কোচ হয়ে রিয়াল মাদ্রিদে ফিরছেন। তিনি বায়ার লেভারকুসেনের হয়ে লিগ, লিগ কাপ এবং জার্মান সুপার লিগ জিতে ইতিহাস গড়েছেন।’

জাবি আলোনসো তার ক্লাব ক্যারিয়ারে রিয়াল সোসিয়েদাদ, রিয়াল মাদ্রিদ, লিভারপুল ও বায়ার্ন মিউনিখে খেলেছেন। এই সময়ে কোচ হিসেবে কিংবদন্তি হোসে মরিনহো, পেপ গার্দিওলা ও রাফায়েল বেনিতেজকে পেয়েছেন তিনি। তার বাবাও স্পেনের ফুটবলার এবং কোচ ছিলেন। ফুটবল ক্যারিয়ারে আলোনসো তার সময়ের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার ছিলেন। তিনি ২০০৯-১৪ মৌসুম পর্যন্ত লস ব্লাঙ্কোসদের জার্সিতে খেলেছেন।

পিএসএলের চ্যাম্পিয়ন সাকিব-রিশাদদের লাহোর কালান্দার্স

কোয়াটা গ্লাডিয়েটর্সের বড় রান তাড়া করে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লাহোর কালান্দার্স। শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে সাকিব আল হাসান, রিশাদ হোসেনদের লাহোর ফাইনালে ১ বল থাকতে ৬ উইকেটে জিতেছে।

রোববার গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) দশম আসরের ফাইনালে কোয়াটা গ্লাডিয়েটর্সকে ৬ উইকেটে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লাহোর কালান্দার্স। কোয়েটার দেয়া ২০২ রানের লক্ষ্যে ১ বল বাকি থাকতেই জয়লাভ করে শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে সাকিব আল হাসান, রিশাদ হোসেনদের দল।

এদিন লাহোরের হয়ে ৪২ রান দিয়ে ১ উইকেট তুলে নেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। শাহীন শাহ আফ্রিদি নেন ৩ উইকেট এবং সালমান মির্জা ও হারিজ রউফ ২ উইকেট করে নেন। সিকান্দার রাজা নেন ১ উইকেট।

এদিকে ওপেনিং জুটিতে ৩৯ রান সংগ্রহ করে লাহোর। ১০ বলে ১১ রান তোলেন ফখর জামান। তারপর জুটি বাঁধেন মোহাম্মদ নাঈম ও আব্দুল্লাহ শফিক। নাঈম ২৭ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেলেন ও শফিক ২৮ বলে ৪১ রান সংগ্রহ করেন।

শেষ দিকে অবশ্য কিছুটা হতাশা সৃষ্টি হয়েছিল। ম্যাচ যেন প্রায় ফসকে যাওয়ার মতো হয়েছিল লাহোরের। তবে ১৭তম ওভারের শেষ দুই বলে দুই বাউন্ডারিতে ১০ রান সংগ্রহ করে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন সিকান্দার রাজা। আর আরেক প্রান্তে ঝড় তোলেন কুশল পেরেরা। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে হাফ-সেঞ্চুরি করেন। শেষের আগের ওভারে সংগ্রহ করেন ১৮ রান।

শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। স্ট্রাইকে ছিলেন রাজা। প্রথম বলেই ওয়াইড। দ্বিতীয় বলে ১ রান সংগ্রহ করেন। স্ট্রাইকে ফেরেন পেরেরা। তারপর ২ বলে ৩ রান আসে। আবারও স্ট্রাইকে রাজা। এবার ৩ বলে ৮ রান দরকার। দুর্দান্ত এক ছক্কা হাঁকান। এর পরের বলে চার মেরে ১ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করেন সিকান্দার।

এ জয় দিয়েই পিএসএলের ৪ বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো জয় পেল লাহোর কালান্দার্স। এর আগে ২০২২ ও ২০২৩ সালের আসরেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লাহোরের দলটি।

ঝিনাইদহে নাট্যশিল্পীর বাড়িতে আগুন

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক নাট্যশিল্পীর বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে গোয়ালঘর ও খড়ের গাদা পুড়ে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে উপজেলার রাখালগাছী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে নাট্যশিল্পী প্রশান্ত হালদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রশান্ত হালদার ঢাকার অনুস্বর নাট্যদলের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। এ ঘটনায় শনিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। ঘটনার পর ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপার মন্জুর মোর্শেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেদারুল ইসলাম ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

নাট্যশিল্পী প্রশান্ত হালদারের লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, শত্রুতাবশত ঘটনার দিন মধ্যরাতে কে বা কারা তার বাড়ির পেছনে খড়ের গাদায় আগুন দেয়। পরে আগুন গোয়ালঘরে ছড়িয়ে পড়ে। কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে আগুন নেভান।

তিনি জানান, এর আগে দুর্বৃত্তরা কয়েকবার তার ঘরের জানালায় মলমূত্র লাগিয়ে দেয়। একাধিকবার টিনের ঘরের চালে ও দোতলা ঘর লক্ষ্য করে ইট ও ঢিল ছুড়েছিল। তারা এ ঘটনা ঘটাতে পারে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নাট্যশিল্পী প্রশান্ত হালদার ও তার বোন শ্রাবণী রাখী ঢাকায় থাকেন। আগুনের খবর পেয়ে তারা গ্রামের বাড়িতে আসেন। তার বাবা-কাকারা গ্রামের বাড়িতেই থাকেন। প্রশান্ত হালদার ঢাকার অনুস্বর নাট্যদলে প্রায় চার দশক ধরে যুক্ত। নাট্যকার ও অভিনেতা হিসাবে তার বেশ পরিচিতি রয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোফাজ্জেল হক বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। দুর্বৃত্তদের ধরতে অভিযান চলছে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

‘তাণ্ডব’-এ শাকিবের সঙ্গে দেখা যাবে সিয়ামকে!

গত ঈদে প্রেক্ষাগৃহে ঝড় তুলেছিল শাকিব খানের ‘বরবাদ’ এবং সিয়াম আহমদের ‘জংলি’ সিনেমা। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে মুক্তি পেয়েছিল ঢালিউডের দুই অভিনেতার দুইটি সিনেমা। এবার বড় সুখবর তারকা জুটির অনুরাগীদের জন্য।

আসন্ন কোরবানি ঈদে মুক্তি প্রতীক্ষিত ‘তাণ্ডব’-এ দেখা যাবে শাকিব-সিয়ামকে। বেশ কিছু গোপন সূত্রে জানা গেছে, ‘তাণ্ডব’ সিনেমায় বিশেষ চমক নিয়ে হাজির হবেন চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ। এ ছবিতে তিনি একটি ক্যামিও চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

‘তাণ্ডব’ সিনেমা শুটিংয়ের আগের শোনা গিয়েছিল শাকিবের সঙ্গে চমক দেখাবেন আফরান নিশো। তবে শাকিবের আপত্তিতে ‘তাণ্ডব’ থেকে বাদ পড়েন নিশো। সেই জায়গায় দেখা যাবে ‘জংলি’ সিনেমার অভিনেতাকে। পরিচালক রায়হান রাফি সিয়ামের ওপরেই ভরসা রাখছেন।

ইতোমধ্যে অন্তর্জালে মুক্তি পেয়েছে ‘তাণ্ডব’ সিনেমার ফরকাস্ট। যেখানে শাকিব খানকে এক ভয়ংকার অবতার রূপে দেখা গেছে। এক মিনিট তিরিশ সেকেন্ডের ফরকাস্ট মনে কেড়েছে শাকিবিয়ানদের। এখন অপেক্ষা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির। প্রথম ঝলকেই সিনেমাপ্রেমীদের মন ঝড় তুলেছেন নির্মাতা রাফি। তবে দেড় মিনিটের ফরকাস্ট দেখা যায়নি সিয়াম আহমদকে।

জানা গেছে, ‘তাণ্ডব’-এ সিয়ামের অভিনয়ের বিষয়টি গোপন রেখেই সিনেমার শুটিং হয়েছে। বর্তমানে চলছে এর এডিটিং। শিগগিরই সব কাজ শেষে জমা পড়বে সেন্সর সার্টিফিকেটের টেবিলে। দেশের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে হামলাকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যাবে ‘তাণ্ডব’ সিনেমার গল্প। যদিও এই সিনেমা নিয়ে এখনই আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন সিনেমাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

শাকিব খান, সাবিল নূর, জয়া আহসানের বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেলেও বাকি অভিনয়শিল্পীদের বিষয় জানতে অপেক্ষা করতে হবে। শীঘ্রই একে একে প্রকাশ পাবে ‘তাণ্ডব’ সিনেমার আরও অনেক প্রচারণামূলক ভিডিও। সেগুলো দর্শকদের আরও চমকে দেবে বলে আশ্বস্ত করেছেন নির্মাতা রায়হান রাফী।

সাইবার ঝুঁকি এড়াতে যেভাবে তৈরি করবেন নিরাপদ পাসওয়ার্ড

বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনলাইন ডিভাইস ও অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ব্যাংকিং অ্যাপ পর্যন্ত প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য প্রয়োজন হয় একটি নিরাপদ ও জটিল পাসওয়ার্ড। দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহারে ঝুঁকি থাকায় সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার অপরিহার্য।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সাধারণ নিয়ম অনুসরণ করলেই একটি নিরাপদ ও কার্যকর পাসওয়ার্ড তৈরি করা যায়। নিচে এমন ছয়টি কৌশল তুলে ধরা হলো—

দীর্ঘ পাসওয়ার্ড তৈর:পাসওয়ার্ড যত বড় হবে, হ্যাকারদের জন্য তা অনুমান করা ততটাই কঠিন হবে। অন্তত ১২ থেকে ১৫ অক্ষরের একটি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার পরামর্শ দেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

নিরাপদ শব্দের বিকল্প সংস্করণ ব্যবহার: কোনো একটি সাধারণ শব্দ যেমন বই বা অভিধান থেকে নিয়ে তাতে সংখ্যা, প্রতীক এবং বড় ও ছোট হাতের অক্ষরের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে একটি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরি করতে পারেন। এটি হ্যাকারদের জন্য অনেক বেশি জটিল করে তোলে।

ব্যক্তিগত উক্তি বা বাক্য দেয়া: আপনার মনে রাখা সহজ, কিন্তু অন্যদের কাছে কঠিন এমন কোনো উক্তি বা বাক্যকে পাসওয়ার্ডে রূপান্তর করুন। এই বাক্যে কিছু অক্ষর প্রতীক বা সংখ্যায় পরিবর্তন করলে তা আরও নিরাপদ হয়ে উঠবে।

ইমোজি এবং প্রতীক ব্যবহার করুন: অনেকে জানেন না যে, ইমোজি বা ইউনিকোড সিম্বলও পাসওয়ার্ডে ব্যবহার করা যায় (যদি সিস্টেম তা সমর্থন করে)। এতে করে পাসওয়ার্ড আরও বেশি নিরাপদ হয় এবং অনুমান করা কঠিন হয়ে পড়ে।

পাসওয়ার্ড জেনারেটরের সহায়তা: অনলাইনে অনেক ফ্রি পাসওয়ার্ড জেনারেটর রয়েছে, যা ব্যবহার করে অল্প সময়ে একটি জটিল ও অনুমান করা কঠিন পাসওয়ার্ড তৈরি করা সম্ভব। এরপর সেটি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কপি করে ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড: একই পাসওয়ার্ড বারবার বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে অন্য অ্যাকাউন্টগুলোতেও সেই পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢুকে পড়া সহজ হয়ে যায়। তাই প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য আলাদা ও কাস্টমাইজ করা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত।

সবশেষে মনে রাখা দরকার, একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড কেবলমাত্র প্রযুক্তির সুরক্ষা নয়, বরং নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারও একটি অংশ। তাই পাসওয়ার্ড ব্যবহারে যতটা সম্ভব সচেতন ও কৌশলী হওয়া প্রয়োজন।

ঈদে শিল্প এলাকায় সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে ব্যাংক

দুল আজহা উপলক্ষ্যে আগামী ৫ জুন থেকে ১৪ জুন টানা ১০ দিন ছুটি থাকবে। এসময় বন্ধ থাকবে ব্যাংকও। তবে তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাসসহ অন্যান্য ভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে পোশাকশিল্প এলাকায় ৫, ১১ ও ১২ জুন সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা রাখতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতাদি পরিশোধের সুবিধার্থে আগামী ৫ জুন সীমিত পরিসরে ব্যাংকের শাখা খোলা থাকবে।

শিল্পঘন ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত পোশাক শিল্পের লেনদেনে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলোতে লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এবং ব্যাংক খোলা থাকবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

বাংলাদেশকে ২৭ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশকে ২৭ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা (প্রতি ডলার সমান ১২১ টাকা ৬০ পয়সা ধরে)। ‘বাংলাদেশ সাসটেইনেবল ইমার্জেন্সি রিকভারি প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স প্রকল্প’ (বি-স্ট্রং) বাস্তবায়নের জন্য এই ঋণ দেওয়া হবে।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে এ ঋণচুক্তি সই হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর গেইল মার্টিন ঋণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

ইআরডির সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরিনা শারমিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, প্রকল্পটিতে মন্ত্রণালয়-বিভাগভিত্তিক পাঁচটি কম্পোনেন্ট রয়েছে। প্রকল্পটি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পানি উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আওতাধীন সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর ২০৩০ মেয়াদে বাস্তবায়ন হবে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো গত ২০২৪ সালের আগস্টে দেশে সংঘটিত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট, বাঁধ মেরামত এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও পুনর্বাসন করা।

জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) থেকে এ ঋণ গ্রহণ করা হবে এবং গৃহীত ঋণ পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। এ ঋণের উত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক ০ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ এবং ১ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে সুদ পরিশোধ করতে হবে। অনুত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ ০ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি দিতে হবে। তবে বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরসহ দীর্ঘদিন ধরে কমিটমেন্ট ফি অব্যাহতি দিয়ে আসছে।

প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বৃহত্তম বহুপাক্ষিক উন্নয়ন অংশীদার। স্বাধীনতার পর থেকে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের জন্য ৪৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যা বাংলাদেশ এবং বিশ্বব্যাংকের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা গভীর করেছে।

বর্তমানে বিশ্বব্যাংক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে ৪৭টি চলমান প্রকল্পের জন্য ১৩ দশমিক ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করছে।

গাজায় স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৯

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে একটি স্কুলে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে ১৯ জন নিহত হয়েছেন। হামলার শিকার স্কুলটি একটি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং এখানে বহু মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে দুজন রেড ক্রস কর্মী এবং এক সাংবাদিকও রয়েছেন। সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইসরায়েলি বাহিনী আবারও গাজা ভূখণ্ডে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। সেখানকার একটি স্কুলে বোমা বর্ষণে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। স্কুলটি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দুজন রেড ক্রস কর্মী, এক সাংবাদিক এবং একাধিক শিশু।

নিহতদের মধ্যে মাত্র ১১ বছর বয়সী গাজার কনিষ্ঠতম সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ইয়াকিন হাম্মাদও রয়েছেন।

এদিকে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে ইউরোপ ও আরব বিশ্বের ২০টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি সম্মেলন বসেছে। সেখানে স্পেন আহ্বান জানিয়েছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড় করা।

পৃথক প্রতিবেদনে আল জাজিরা বলছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১২ জনের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি হাজার হাজার শিশু চরম অপুষ্টির শিকার হয়ে মৃত্যু ঝুঁকিতে আছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমানে গাজায় ৭০ হাজারেরও বেশি শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে।

এর আগে রোববার গাজায় মোহাম্মদ ইয়াসিন নামে চার বছর বয়সী এক শিশু না খেতে পেয়ে মারা যায়। গাজায় সম্প্রতি অনাহারে মারা যাওয়া অসংখ্য শিশুর মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণ করল এই শিশুটি।

এদিকে বোমাবর্ষণ ও স্থল অভিযান আরও বাড়িয়েছে ইসরায়েল। এতে মাত্র এক সপ্তাহেই প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৬০০ জন। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে একটি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত তাঁবুতে হামলায় এক মা ও তার সন্তানরা নিহত হয়েছেন।

এছাড়া খান ইউনিসের পূর্বে বানি সুহেইলায় আরেক শিশুর মৃত্যুর খবর জানিয়েছে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা; ওই শিশুর পরিবারকে লক্ষ্য করে চালানো হয় ড্রোন হামলা। উত্তর গাজার জাবালিয়ায় আরেকটি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন দুই নারী ও এক শিশু। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এছাড়া আলাদা হামলায় নিহত হয়েছে ইয়াকিন হাম্মাদ। তিনি ১১ বছর বয়সেই গাজার জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তারকা ছিলেন। একইসঙ্গে নিহত হয়েছেন ডাক্তার আলা আমির আল-নাজ্জারের ১০ সন্তানের মধ্যে ৯ জনই। একমাত্র জীবিত সন্তান ১১ বছর বয়সী আদম এখনও আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

প্রায় তিন মাস ধরে চলা ইসরায়েলি অবরোধের ফলে গাজায় খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধ সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা সতর্ক করেছে, অল্প সময়ের মধ্যেই হাজার হাজার শিশু অনাহারে মারা যেতে পারে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের ১৯ মাসের হামলায় এখন পর্যন্ত যত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৩১ শতাংশই শিশু। উল্লেখ্য, এ হিসাব শুধু শনাক্তকৃত মৃতদের নিয়ে; বহু মৃত্যুর তথ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

জাতিসংঘের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল বারবার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এর ফলে শিশুদের ওপর সহিংসতা বেড়েছে, শিশু মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। হুমকি-ধামকি উপেক্ষা করে নাগরিকদের সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা জারি রাখতে হবে। প্রতিটি নাগরিককে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার থাকতে হবে। দেশের জনগণ কিন্তু সরকারের করুণার পাত্র নয়। সরকার অবশ্যই জনগণের কথা শুনতে এবং তাদের ন্যায্য দাবি মানতে বাধ্য। এখানে সরকারের মান-অভিমান কিংবা রাগ-বিরাগের কোনো সুযোগ নেই।

রোববার (২৫ মে) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রে স্বৈরাচার কিংবা ফ্যাসিবাদ রুখে দিতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন। জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সংসদ, সরকার গঠিত হলে অবশ্যই সেই সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রে নাগরিকদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয়। দেশে জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত থাকলে সরকারের পক্ষ ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করা সহজ হয় না। সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সরকার, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিংবা তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সরকারের চরিত্র যাই হোক, সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করা না গেলে ক্ষমতাসীন সরকার হয়তো নিজেদের অজান্তেই স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, হাজারো শহীদের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত বর্তমান এই অন্তর্বর্তী সরকারের নৈতিক এবং রাজনৈতিক বৈধতার হয়তো সংকট নেই। তবে এই সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক নয়। সরকার যেহেতু জবাবদিহিমূলক নয়, সেহেতু নৈতিক কারণেই সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জনগণের সামনে স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। জনগণকে অন্ধকারে রেখে, রাজনৈতিক দলগুলোকে অনিশ্চয়তায় রেখে শেষ পর্যন্ত কোনো পরিকল্পনাই কার্যকর এবং টেকসই হয় না, হবেও না।

তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের যোগ্য-অযোগ্যতা বিষয় নয়। দেশে স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক সরকার না থাকায় একদিকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে স্থবিরতা নেমে এসেছে, অন্যদিকে এক অনিশ্চিত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এক রকমের অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে প্রায় প্রতিদিন। এ কারণে আমরা দেখছি, জনগণ প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজপথে নেমে আসছে। যদিও তাদের এই দাবি-দাওয়া শোনার জন্য এই মুহূর্তে কেউ নেই।

তারেক রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের সঙ্গে দেখা করে রাজনৈতিক দলগুলো আবারও জাতীয় নির্বাচনের তারিখ এবং সুস্পষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। বিএনপির দাবি আগামী ডিসেম্বরের ভেতরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য সরকারের প্রতি বিএনপিসহ আমাদের সর্বাত্মক সমর্থন অব্যাহত রেখেছি। সুতরাং দেশে-বিদেশে সম্মানিত দক্ষ এবং যোগ্য ব্যক্তিত্ব অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানের নেতৃত্বে জনগণ অবিলম্বে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে অবাধ ও নিরপেক্ষ একটি জাতীয় নির্বাচন দেখতে পাবে।