Home Blog Page 42

ভূমিকম্পের পর স্বাস্থ্য সংকটের আশঙ্কা করছেন ভেনেজুয়েলার ত্রাণকর্মীরা

ভেনেজুয়েলায় গত ২৪ জুনের ধ্বংসাত্মক জোড়া ভূমিকম্পের পর দেশটিতে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পে কমপক্ষে ২ হাজার ২৯৫ জন নিহত এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। পরিষ্কার পানির অভাব, শোচনীয় স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং আগে থেকেই ধসে পড়া স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পরিস্থিতিকে চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

কারাকাসের হাসপাতাল জোসে গ্রেগোরিও হার্নান্দেজের ট্রমা ইউনিটের প্রধান ইউজেনিও কোভা বলেন, খুব শিগগিরই আমরা যে সমস্যাটির সম্মুখীন হতে যাচ্ছি তা হলো সংক্রামক রোগ, যা দীর্ঘ সময় ধরে এই বিপর্যয়ের শিকার রোগীদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কোভা বলেন, আমরা এরই মধ্যে জটিল ট্রমা বা আঘাতের একটি পর্ব পার করেছি। কিন্তু এখন এটি সংক্রমণের কারণে আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ত্রাণকর্মীরাও সতর্ক করে বলেছেন, অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে রোগের প্রাদুর্ভাবকে উসকে দিতে পারে।

লা গুয়াইরা অঞ্চলের একটি আশ্রয়কেন্দ্র থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তেরেসা বো জানান, এখানকার মানুষদের মধ্যে ডায়রিয়া এবং অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার অনেক খবর পাওয়া গেছে।

বো বলেন, উদাহরণস্বরূপ তারা পোর্টেবল (বহনযোগ্য) টয়লেট চাচ্ছেন এবং সেইসাথে অতিরিক্ত ভিড় ও রোগের বিস্তার রোধে এই জায়গাটিকে পুনর্গঠন করতে সরকারের কাছে সাহায্য চাইছেন।

এদিকে সাউথকমের মুখপাত্র স্টিভেন ম্যাকলাউড জানিয়েছেন, উদ্ধারকার্যে সহায়তায় প্রায় ৯০০ মার্কিন সেনা এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের আরও ১০০ জন কর্মীকে পাঠানো হয়েছে। কারাকাস বিমানবন্দরের রানওয়ে মেরামত ও উপকূলে নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। পাশাপাশি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সাহায্যকারী গোষ্ঠী ও জাতিসংঘের মাধ্যমে ৩০ কোটি ডলারের সহায়তা প্রস্তাব দিয়েছে।

মার্কিন সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। ইউএনডিপি-এর স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় ৬৭০ কোটি ডলারেরও বেশি বস্তুগত ক্ষতি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর (যাকে এ বছরের শুরুতে মার্কিন বাহিনী স্ত্রীসহ অপহরণ করে) আমল থেকে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক সংকটে ৭৭ লাখের বেশি মানুষ দেশত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে দেশের ৬০ হাজার নিবন্ধিত চিকিৎসকের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই রয়েছেন। সমীক্ষা অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি সরবরাহের ৩০ শতাংশ এবং অপারেশন থিয়েটারগুলোতে ৭০ শতাংশেরও বেশি ঘাটতি রয়েছে।

ফের সিনেমার গানে কণ্ঠ দিলেন ইমরান-ন্যান্সি

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও একসঙ্গে প্লেব্যাক করছেন দুই তারকা সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি ও ইমরান মাহমুদুল। কামরুজ্জামান রোমানের পরিচালনায় নির্মিতব্য চলচ্চিত্র ‘শিকার’-এর জন্য তারা নতুন একটি দ্বৈত গান গেয়েছেন। গানটির শিরোনাম ‘দুজন মিলে বাঁচব এক জীবন’। রোমান্টিক ঘরানার এই গানটির কথা লিখেছেন কবির বকুল, আর সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন ইমরান নিজেই।

গত রোববার গানটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন পর ন্যান্সি ও ইমরানের এই গানকে ঘিরে সংগীতাঙ্গনে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে।
গানটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ন্যান্সি বলেন, ‘ইমরানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা সবসময়ই আনন্দদায়ক। গানটির কথা ও সুর অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর, যা শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে। দীর্ঘ বিরতির পর এমন একটি মানসম্মত চলচ্চিত্রের গান গাইতে পেরে ভালো লাগছে।’

অন্যদিকে ইমরান মাহমুদুল বলেন, ‘ন্যান্সি বাংলা সংগীতের অন্যতম শক্তিশালী কণ্ঠশিল্পী। তাঁর সঙ্গে দ্বৈত গান করা সবসময়ই বিশেষ অনুভূতির। নতুন গানটি নিয়েও তিনি বেশ আশাবাদী।

‘শিকার’ চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করবেন অপু বিশ্বাস ও মুরতজা পলাশ। থ্রিলার ঘরানার এই সিনেমার শুটিংয়ের জন্য শিগগিরই পুরো টিম নেপালে যাবে বলে জানা গেছে। সেখানে ছবিটির সম্পূর্ণ শুটিং সম্পন্ন হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চলচ্চিত্রটিতে আরও অভিনয় করবেন মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, রাশেদ মামুন অপুসহ অনেকে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নথিবিনিময় হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালু

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করতে ও স্বচ্ছতা বাড়াতে ডিজিটাল ডকুমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ করার পরীক্ষামূলক একটি কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আওতায় বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে অনুমোদিত ব্যাংকগুলো ঋণপত্র এবং ডকুমেন্টারি কালেকশনের আওতায় আমদানি-রপ্তানি দলিল ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে পারবে। গতকাল বুধবার এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, পরীক্ষামূলক এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ডস (ইটিআর) নিরাপদ ও আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য উপায়ে আদান-প্রদান নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর না করে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে নথি আদান-প্রদান করা যাবে। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো প্রযুক্তি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে ন্যূনতম নিরাপত্তা মান বজায় রাখার বিষয়টি ব্যাংকগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে। সংবেদনশীল বাণিজ্যিক তথ্য মূল মালিকের নিয়ন্ত্রণেই রাখতে হবে; যা শেয়ার্ড বা পাবলিক অবকাঠামোতে বাধ্যতামূলকভাবে জমা রাখা হবে না। প্রযোজ্য মানদণ্ড অনুসরণ সাপেক্ষে এগুলো কাগজভিত্তিক দলিলের আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা, তথ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে বিকেন্দ্রীভূত যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষামূলক কর্মসূচি অংশগ্রহণের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে অনুমোদিত ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে। অনুমোদনের জন্য নির্দিষ্ট বাণিজ্য করিডোর, সংশ্লিষ্ট পক্ষ, লেনদেনের ধরন এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার বিবরণ দিতে হবে। এই ব্যবস্থায় ইনভয়েস, পরিবহন দলিল, ড্রাফটসহ বিভিন্ন ট্রেড ডকুমেন্ট ইলেকট্রনিকভাবে পরিচালিত হবে। তবে যেসব বিধিব্যবস্থায় ডিজিটাল দলিল আইনগত স্বীকৃতি পায় না, সেসব ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী কাগজভিত্তিক দলিলও সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি এ কর্মসূচির এনক্রিপশন, প্রমাণীকরণ এবং অডিট ট্রেইলসহ শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সঞ্চয়পত্রের সুদহার অপরিবর্তিত থাকছে

সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আগামী ছয় মাসের জন্য অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। শিগগির এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ছয় মাস পরপর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পর্যালোচনা করে পুনর্নির্ধারণ করা হয়। গত জানুয়ারিতে সরকার সুদহার কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল। তবে পরে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আগের সুদহারই বহাল রাখা হয়।

এক সময় সঞ্চয়পত্রের সুদহার দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকত। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে প্রতি ছয় মাস অন্তর পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়। ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সুদহার কমানো হলে সরকারের প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হতো। তবে মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর নির্ভর করে সংসার চালান। এ কারণে সরকার বর্তমান সুদহারই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীদের দুটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে রয়েছেন সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগকারী এবং দ্বিতীয় ধাপে সাত লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগকারী। সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফার হার বেশি। বিভিন্ন সঞ্চয় কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত।
আয়কর আইনে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ অগ্রিম কর কেটে রাখার বিধান রয়েছে। এবারের বাজেটে বলা হয়েছে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় উৎসে কেটে রাখা কর চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে গণ্য হবে না। বছর শেষে তা সমন্বয় করা যাবে। যদি কোনো করদাতার প্রযোজ্য করের চেয়ে বেশি কর কেটে রাখা হয়, তাহলে সেই অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ১০ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) প্রয়োজন। ফলে যেসব ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর করযোগ্য আয় নেই, তাদেরও টিআইএন নিয়ে বছর শেষে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়ে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে কেটে রাখা অগ্রিম কর ফেরত নিতে হবে।

কোন সঞ্চয়পত্রে মুনাফা কত
পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়ন করলে প্রথম বছরে ৯.৭৪ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১০.২১ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ১০.৭২ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ১১.২৬ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১১.৮৩ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। দ্বিতীয় ধাপের বিনিয়োগকারীরা একই সঞ্চয়পত্র মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়ন করলে প্রথম বছরে ৯.৭২ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১০.১৯ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ১০.৭০ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ১১.২৩ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১১.৮০ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ১০.৬৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১১.২২ শতাংশ এবং তৃতীয় বছরে ১১.৮২ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। দ্বিতীয় ধাপের বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ১০.৬০ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১১.১৬ শতাংশ এবং তৃতীয় বছরে ১১.৭৭ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।

পেনশনার সঞ্চয়পত্রে প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়ন করলে প্রথম বছরে ৯.৮৪ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১০.৩২ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ১০.৮৪ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ১১.৩৯ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১১.৯৮ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। দ্বিতীয় ধাপের বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ৯.৭২ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১০.১৯ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ১০.৮৪ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ১১.৩৯ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১১.৯৮ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। পরিবার সঞ্চয়পত্রে প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ৯.৮১ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১০.২৯ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ১০.৮০ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ১১.৩৫ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১১.৯৩ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। দ্বিতীয় ধাপের বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ৯.৭২ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১০.১৯ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ১০.৭০ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ১১.২৩ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১১.৮০ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।
পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিটে প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ১০.৬৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১১.২২ শতাংশ এবং তৃতীয় বছরে ১১.৮২ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। দ্বিতীয় ধাপের বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ১০.৬০ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১১.১৬ শতাংশ এবং তৃতীয় বছরে ১১.৭৭ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।

টেকনাফ সীমান্তে বিস্ফোরণের শব্দ, কেঁপে উঠল ঘরবাড়ি

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে সীমান্তবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি। এতে টেকনাফ জাদিমুড়া থেকে শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত আশপাশের জনপদের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বুধবার রাত সাড়ে ৯টার পর চার দফা ভারী মর্টারশেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে সীমান্তবর্তী এলাকা।

শাহপরীর দ্বীপের নাফ নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. আনিছুর রহমান বলেন, হঠাৎ ভয়াবহ ঝাঁকুনি অনুভব করি। মনে হচ্ছিল, যেন পুরো পৃথিবী কেঁপে উঠছে। পরপর চারটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি। প্রথম বিস্ফোরণের সময় নাফ নদীর ওপারে আগুনের লেলিহান শিখাও দেখা গেছে। মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল, আগুনের ঝলক আমাদের দিকেই এগিয়ে আসছে। বিস্ফোরণটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আরাকান আর্মির ছোড়া মর্টার শেলের বিস্ফোরণ হতে পারে।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল ফয়েজ বলেন, বহুদিন পর মিয়ানমারে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এর প্রভাব টেকনাফ সীমান্তেও পড়েছে। বিস্ফোরণের শব্দে মানুষের ঘরবাড়ি কেঁপে উঠেছে। অনেকে আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে গেছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য এমন পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগের।

গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও জান্তা সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে মর্টারশেল ও মুহুর্মুহু গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আরাকান আর্মির দখলে থাকা রাখাইন রাজ্যে আবার হামলা শুরু করেছে মিয়ানমার সরকার। একইদিন সকালে জান্তা সরকার রাখাইনে বুথে এলাকায় বিমান হামলা চালায়।

টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা মো. ইসলাম বলেন, প্রায় সাত মাস পর আবারও মিয়ানমারের দিক থেকে গোলাবর্ষণের শব্দ শুনলাম। মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে চারবার বিকট বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। প্রথমে মনে হয়েছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। পরে বুঝতে পারি, সীমান্তের ওপার থেকেই বিস্ফোরণের শব্দ আসছে।

এ বিষয়ে টেকনাফের সাবরাংয়ের ইউপি সদস্য আবুল ফয়েজ বলেন, বহু দিন পর মিয়ানমারে আবারও যুদ্ধ শুরু হয়েছে। যার কারণে টেকনাফের সীমান্ত এলাকা কেঁপে উঠেছে। অনেকে ভয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেছে।

টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (বিজিবি ২) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, আজ রাত ৯টার দিকে মিয়ানমারের মংডু এলাকার সীমান্তের ওপারে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। ওই গোলাগুলির বিকট শব্দ টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও শোনা যাচ্ছে। যার কারণে অনেক স্থানে ঘরবাড়ি কেঁপে উঠেছে। বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করতে আমি নিজেই সীমান্ত এলাকায় যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি। তবে প্রাথমিকভাবে জেনেছি শাহপরীরদ্বীপ থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি চলছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলির বিকট শব্দ টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও শোনা গেছে। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।

আদাবরে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব, বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

রাজধানীর আদাবরের নবোদয় হাউজিংয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা বাদশা মিয়া নিহত হয়েছেন। বুধবার রাতের এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৫) নামের আরেক বিএনপি নেতা। পুলিশ বলছে, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, গত সোমবার রাতে নবোদয় হাউজিংয়ে ব্রাজিল ও জাপানের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মারামারি হয়। নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক বাদশা মিয়া একপক্ষ এবং একই এলাকার রিপন ও পারভেজ আরেকপক্ষ।

বুধবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষই মীমাংসার জন্য নবোদয় হাউজিংয়ে সালিশের জন্য বসে। কোনো সমাধান না হওয়ায় সাদ্দাম ও বাদশা রাত ৮টার দিকে সেখান থেকে চলে যাচ্ছিলেন। এ সময় পথের মধ্যে তাদের ওপর ধারাল অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়েছে। পরে তাদেরকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় বাদশাহকে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদ জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা সমকালকে বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারি হয়। পরবর্তীতে তারা নিজেরায় মিটমাট করে নেওয়ার জন্য সালিশে বসেছিল। কিন্ত সমাধান না হওয়ায় দু’জনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদশা মিয়া মারা গেছেন। সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মেসির আমেরিকান রূপকথার শুরু যেখানে

যাত্রী নামিয়ে ফিরে যেতে যেতে উবার চালক যা বলে গেলেন, তা অনেকটা এ রকম– ‘ভাই, ওরা তো সবাই চলে গেছে নতুন বাড়িতে। এখানে আর কেউ থাকে না এখন।’ ঠিক তাই; ইন্টার মায়ামি তার পুরোনো মাঠ চেস স্টেডিয়াম ছেড়ে এখন নতুন ঠিকানা ‘ন্যু স্টেডিয়াম’-এ। তবু কোথাও গিয়ে এই চেজ স্টেডিয়ামেই গন্ধ শোঁকা যায় লিওনেল মেসির। তাঁর পায়ের চিহ্ন খুঁজে নেওয়া যায়। তাই হিউস্টন থেকে এই শহরে পা রেখেই ছুটে আসা মেসির বাড়ির আদি মাঠে! চোখে দেখে উত্তর খুঁজে নেওয়া– প্যারিসের সেই করপোরেট ফুটবলের আকাশ ছেড়ে কেন আটলান্টিক পাড়ের এই নোনা শহরে এসেছিলেন মেসি? কীসের টানে এই চেজ স্টেডিয়ামকেই দ্বিতীয় বাড়ি বলে মেনে নিয়েছিলেন?

আমেরিকার এই রৌদ্রকরোজ্জ্বল শহরে যখন বিকেল ফুরিয়ে সন্ধ্যা নামে, তখন ফোর্ট লাউডারডেলের এই পুরোনো চেস স্টেডিয়ামের চারপাশটা বড্ড বেশি নিঃসঙ্গ লাগে। গা ছমছম করা একটা নীরবতা। দুটি কথা বলার জন্য মানুষ নেই সেখানে। অথচ আড়াই বছর আগের একটা জুলাইয়ের সন্ধ্যায় কী জলসাই না হয়েছিল এখানে! এই মাঠ থেকেই শুরু হয়েছিল মেসির ‘আমেরিকান ড্রিম’। সেদিনের সেই মেসিকে বরণ করে নেওয়ার সন্ধ্যায় আকাশ ভেঙে নেমেছিল বৃষ্টি, সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া; যেন প্রকৃতিও জানত কোনো সাধারণ মানুষ না, মায়ামির এই মাঠে পা রেখেছেন ফুটবলের ঈশ্বর! সেদিন সমস্ত ঝড়-জল উপেক্ষা করে গ্যালারিতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। আর যখন সেই চেনা জাদুকর গায়ে গোলাপি জার্সি চাপিয়ে মাঠে ঢুকলেন, পাশে দাঁড়ানো ডেভিড বেকহামের চোখের কোণটা চিকচিক করে উঠেছিল। ‘আপনি তো এখন ভেতরে যেতে পারবেন না’– সম্বিত ফিরে পেছনে তাকাতেই এক নিরাপত্তারক্ষীর গলা। ‘সেটি জানি’– উত্তরের পর বেড়ে যায় কৌতূহল, ‘এখানে কি এখন মেসিরা আর আসেন না খেলতে?’ বাংলাদেশি সাংবাদিক আর ফিফা বিশ্বকাপ কাভার করতে এসেছি শুনে কথা বলতে উৎসাহ পান তিনি। ‘স্টেডিয়ামে খেলা না হলেও এখানে এই অনুশীলন গ্রাউন্ডেই তারা প্রতি সপ্তাহে অনুশীলন করেন।’

চেস স্টেডিয়ামের খাঁ খাঁ করা গ্যালারি আর নিঃসঙ্গতার ঠিক পাশে চোখ ফেরালেই ইন্টার মায়ামির অফিসিয়াল প্র্যাকটিস ডেরা, যার নাম ‘ফ্লোরিডা ব্লু ট্রেনিং সেন্টার’। প্রায় ৫০ হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিস্তৃত বিশ্বমানের স্পোর্টস কমপ্লেক্স। বোঝা যায়, গল্পটা এখনও ফুরিয়ে যায়নি। ইন্টার মায়ামি তাদের অফিসিয়াল ম্যাচের জন্য মায়ামি ফ্রিডম পার্কের সেই ঝাঁ-চকচকে ‘ন্যু স্টেডিয়ামে’ চলে গেছে বটে, কিন্তু লিওনেল মেসির প্রতিদিনের ফুটবল সাধনার আসল মন্দিরটা আজও রয়ে গেছে এই পুরোনো চত্বরেই। রোজ সকালে যখন পামগাছের পাতার ফাঁক দিয়ে রোদ এসে পড়ে এই ট্রেনিং গ্রাউন্ডের সাত-সাতটি নিখুঁত পিচে, তখনও সেখানে এসে থামে কালো কাচঢাকা বিলাসবহুল গাড়ি। গাড়ি থেকে নেমে আসেন সেই চেনা জাদুকর। ম্যাচের চড়া গ্ল্যামার আজ অন্য স্টেডিয়ামে উধাও হতে পারে; কিন্তু মেসির পায়ের ঘাম, লুই সুয়ারেজের সঙ্গে মেট চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে আড্ডা দেওয়া আর ফুটবলের নিত্যদিনের যে জ্যামিতি– তার আসল আঁতুড়ঘর আজও এই পুরোনো মাঠের পাশের সবুজগালিচাটাই। স্টেডিয়ামটা হয়তো আজ একা দাঁড়িয়ে ম্যাচ না হওয়ার আফসোসে ভোগে, কিন্তু তার ঠিক পাশেই প্রতিদিন সকালে পরম তৃপ্তিতে নিজের ঈশ্বরকে ছুঁয়ে দেখার আনন্দটুকু আজও মায়ামির এই পুরোনো মাটি হাতছাড়া করেনি!

এখানে ঘাসে কান পাতলে এখনও সুয়ারেজের সঙ্গে মেসির সেই চেনা হাসির শব্দ পাওয়া যায়। অনুশীলন শেষে দুই বন্ধুর গোল হয়ে বসে ‘মেট চা’ খাওয়ার আড্ডা কিংবা লকার রুমে রদ্রিগো ডি পলের সঙ্গে আর্জেন্টিনার সেই বিশ্বকাপ জয়ের গল্পগাথা–এই মাঠের ধুলোবালিতে সব মাখামাখি হয়ে আছে। এই মাঠেই ক্রুজ আজুলের বিরুদ্ধে সেই অবিশ্বাস্য ফ্রিকিকে মায়ামি জীবনের খাতা খুলেছিলেন মেসি। তার পর থেকে এই গোলাপি জার্সিতে গোল আর অ্যাসিস্টের যে সুনামি তিনি তুলেছেন, তাতে এই ক্লাবটার আলমারিতে প্রথম ট্রফিটা (লিগস কাপ) এসে জুটেছে।

মায়ামি এখন আর স্রেফ হলিউডি সিনেমার শুটিং স্পট কিংবা ধনকুবেরদের হলিডে ডেস্টিনেশন নয়। এই শহর এখন বিশ্ব ফুটবলের মক্কা। ইউরোপের রাজকীয় সিংহাসন, প্যারিসের সেই বিষাদময় রাতগুলো ছুড়ে ফেলে মেসি যখন এখানে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তখন অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছিলেন। কিন্তু সাগরের নোনাজল আর এই রুপালি সৈকতের শহরে পা রেখেই বোঝা যায়, জাদুকর কেন এখানে এসেছিলেন। তিনি একটা আশ্রয় খুঁজছিলেন, যেখানে ফুটবল থাকবে, অথচ প্রতিমুহূর্তে মিডিয়ার কর্কশ আলো তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে খুবলে খাবে না। যে উত্তরের খোঁজে আসা হয়েছিল এখানে, উবার অ্যাপসে হোটেলে ফেরার কল দিতে দিতে মনে হলো সেটি বোধ হয় পেয়ে গিয়েছি।

ইতিহাসের দুয়ারে স্কালোনি

ফুটবল একটি জাতিকে আনন্দ-বেদনার আবেগে ভাসায়। ফুটবল দলের কোচের দায়িত্ব পালন করতে হয় অনেকটা ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’-এ বসে। যে দল নিয়ে ভক্ত-সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ বেশি, কোচদের টিকে থাকা তত ঝুঁকিপূর্ণ। জাতীয় দল তো বটেই, এমনকি শীর্ষ সারির ক্লাবগুলোতেও দীর্ঘ মেয়াদে কোচের দায়িত্ব পালনে রাজকপালই লাগে বটে। খেলোয়াড় নির্বাচন থেকে শুরু করে পারফরম্যান্স– কোথাও পান থেকে চুন খসলেই যেন রক্ষা নেই। সবার আগে কোচকে শুনতে হয়, ‘ইউ ফায়ারড।’ সে ক্ষেত্রে ফুটবলে জীবনের সুখ খোঁজা আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে সেঞ্চুরির মাইলফলক লিওনেল স্কালোনির জন্য অসাধারণ এক অর্জন হতে যাচ্ছে।

শুক্রবার রাতে ফ্লোরিডার হার্ডরক স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াইয়ে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। যে ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়ালেই জাতীয় দলের হয়ে শততম ম্যাচে দায়িত্ব পালনকারী কোচদের অভিজাত ক্লাবে নাম লেখাবেন স্কালোনি। ইতিহাস গড়ার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে স্কালোনির কেমন অনুভূতি হচ্ছে? শনিবার রাতে জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের দায়িত্ব পাওয়ার প্রথম দিনে যেমনটি ছিলাম, আজও ঠিক তেমনিই আছি।’ দুর্বল প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে নির্ভার কিনা– সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ৪৮ বছর বয়সী এই কোচ জানান, (দলের) প্রতিটি ম্যাচ চলাকালেই মনের ভেতর একটা অনুভূতি কাজ করে। পেটের ভেতর সব সময়ই এক ধরনের টান বা উত্তেজনা অনুভব করেন। আর আসলে সহজ ম্যাচ বলেও কিছু নেই।

২০১৮ সালের বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তে দলের বাজে পারফরম্যান্সে কোচ জর্জ সাম্পাওলি চাকরি হারালে অন্তর্বর্তীকালীন হেড কোচের দায়িত্ব পান সাম্পাওলির সহকারী স্কালোনি। এরপর দলের খোলনলচে বদলে দিয়ে মাত্র চার বছরেই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বসেরা দলে পরিণত করেন জাতীয় দলের সাবেক এই ডিফেন্ডার। যুগসেরা তারকা লিওনেল মেসিকে সঙ্গী করে দলকে একের পর এক বিজয়ে নেতৃত্ব দেন স্কালোনি। ২০২১ কোপা আমেরিকা জিতে বড় আসরে আলবিসেলেস্তেদের ২৮ বছরের শিরোপা-খরার অবসান ঘটান। পরের বছর কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ব্যাক টু ব্যাক কোপা শিরোপা এনে দেন। একই সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ ‘ফিনালিসিমা’ ট্রফিও জেতে আলবিসেলেস্তেরা। তাঁর অধীনে ২০১৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার নতুন রেকর্ড গড়ে আর্জেন্টিনা।

পরিসংখ্যান বলছে, স্কালোনির আগে মাত্র একজন কোচ ডাগআউট থেকে আলবিসেলেস্তেদের ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার সেঞ্চুরি গড়েছেন। তিনি হলেন গিলের্মো স্তেবিলে। ১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালের তোলার নায়ক গিলের্মো। যিনি ফাইনাল ম্যাচে গোল করাসহ ওই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। এই সেন্টার ফরোয়ার্ডই ১৯৩৯ সালে আলবিসেলেস্তে দলের কোচের দায়িত্ব পান। টানা ২১ বছর দায়িত্ব পালনকালে ১২৭টি ম্যাচে ডাগআউটে থেকে আর্জেন্টিনাকে পরিচালনা করেন তিনি। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে দলকে বিশ্বকাপ জেতাতে না পারলেও ছয়বার মহাদেশীয় আসর সাউথ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতান।

আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে কোচ স্কালোনির দায়িত্বকাল অন্যতম স্বর্ণযুগ হিসেবে এরই মধ্যে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এ পর্যন্ত ৯৯ ম্যাচে ডাগআউটে থেকে দলকে ৭২ ম্যাচে জয় এনে দিয়েছেন। এ ছাড়া ১৮ ম্যাচ ড্র করেছেন। আর পরাজয় দেখেছেন হাতের আঙুল গুনে মাত্র ৯ বার।

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু আজ

দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে আজ বৃহস্পতিবার একযোগে শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা। শুধু কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ পরীক্ষায় অংশ নেবে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থী।

এবারই প্রথম কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। এ ছাড়া নকল প্রতিরোধে সব পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সেল থেকে দেশের যে কোনো প্রান্তের পরীক্ষাকেন্দ্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ৮ আগস্ট। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। এদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসির (ভোকেশনাল) তাত্ত্বিক পরীক্ষা ২৫ জুলাই, বিএমটির তাত্ত্বিক পরীক্ষা ১ আগস্ট এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্সের তাত্ত্বিক পরীক্ষা চলবে ২২ জুলাই পর্যন্ত। এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার পাবলিক পরীক্ষা আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ ছাড়া উত্তরপত্র মূল্যায়নকারীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪, যা গত বছরের চেয়ে ১৪ হাজার ৩১৬ জন বেশি। চার হাজার ৮৮৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসব শিক্ষার্থী এক হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবে।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় অংশ নেবে ৯২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থী। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (ভোকেশনাল), ডিপ্লোমা ইন কমার্স ও বিএমটি পরীক্ষায় অংশ নেবে এক লাখ সাত হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী। এক হাজার ৮৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৬১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবে।

জানা যায়, এবার ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। মোট পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা দুই হাজার ৬৯৭ এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৯ হাজার ৪৩৯টি।

২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের কারণে ২০২৭ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা যাচ্ছে না। নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নের জন্য এরই মধ্যে একটি কমিটি করা হয়েছে।

দুই সন্তানসহ নিখোঁজ মা, ৯ দিনেও মেলেনি সন্ধান

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় দুই সন্তানসহ জুলি বেগম (৩০) নামের এক গৃহবধূ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। ২১ জুন রাতে দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর গত ৯ দিনেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ অপর দুজন হলেন–জুলি বেগমের মেয়ে ফাইজা ও ছেলে আজান।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কোনো ধরনের পারিবারিক কলহ বা মনোমালিন্য ছাড়াই গত ২১ জুন রাতে দুই সন্তানকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যান জুলি বেগম। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজেও গভীর রাতে সন্তানদের নিয়ে তাঁকে হেঁটে চলে যেতে দেখা গেছে।

জুলি বেগমের স্বামী আজাদ মিয়া জানান, স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের ঝগড়াঝাটি ছিল না। ঘটনার পর থেকে আত্মীয়-স্বজন, হাসপাতালসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছেন। কোথাও হদিস মেলেনি।

এদিকে জুলি বেগমের বাবার বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে। তাঁর এভাবে নিখোঁজ হওয়ার খবরে স্তব্ধ দুই পরিবার। সন্তানদের ফিরে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন আজাদ মিয়া। তারা বলছেন, স্বামীর সংসারে সুখেই ছিলেন জুলি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ সুরমা থানার জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মামুনুর রশীদ জানান, ঘটনাটি বেশ রহস্যজনক। পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করছে। নিখোঁজদের সন্ধানে সব ধরনের প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান ও মাঠ পর্যায়ের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।