Home Blog Page 423

ওভারঅ্যাক্টিং করে হাসির পাত্র জোভান

ছোটপর্দার জনপ্রিয় নায়ক ফারহান আহমেদ জোভান এবার অভিনয়ের জন্যই হয়েছেন ট্রলের শিকার। ঈদে আসতে চলেছে তার নাটক আশিকি। নবাগত অভিনেত্রী নাজনীন নীহার বিপরীতে এই নাটকে একজন রকস্টারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জোভান।

নাটক এখনো প্রকাশ না পেলেও, ৫১ সেকেন্ডের টিজারে রকস্টার ভূমিকায় দেখা মেলে জোভানের। স্টেজে দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ের রকস্টারের ভূমিকায় তার অভিনয় মোটেও মনে ধরেনি নেটিজেনের। ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। দর্শকদের একাংশ ট্রেলারে জোভানের অভিনয়কে অতিরঞ্জিত বা ‘ওভারঅ্যাক্টিং’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

এই নাটকেই প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছেন জোভান ও নীহা। নাটকে আশিক চরিত্রে অভিনয় করেছেন জোভান, যিনি একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার স্বপ্ন পূরণের জন্য শহরে এসে কলেজে ভর্তি হয় আশিক।

ট্রেলারের আবেগঘন দৃশ্যগুলোতে জোভানের মুখাবয়ব ও সংলাপপ্রদানকে অনেকেই ‘নাটকীয়’ বলে মনে করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপে চলছে তুমুল সমালোচনা। অসংখ্য মিম ও ব্যঙ্গ বিদ্রুপ দেখা যাচ্ছে অভিনেতাকে ঘিরে।

কেউ কেউ বলছেন, ‘গিটার হাতে তার মুখের এক্সপ্রেশান জাষ্ট নেয়ার মতো না।’ কারো মন্তব্য, ‘বিচ্ছিরি!’ কেউ প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন, ‘এতোটা ওভারএক্টিং কেন?’

তবে সমালোচনার পাশাপাশি ট্রেলারের ভিজ্যুয়াল ও আবহসংগীত কিছু দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। জোভান ভক্তরা আশাবাদী যে পূর্ণ সিনেমা হয়তো ট্রেলারের চেয়ে ভালো কিছু হবে। একটি ট্রেলারের ভিত্তিতে পুরো কাজকে বিচার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করছেন অনেকে। সবমিলিয়ে, আশিকি এখন মুক্তির আগেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

এখন দেখার পালা, নেটিজেনদের সমালোচনা টপকে কতোটা ম্যাজিক দেখাতে পারে এটি।

লাইভ অনুষ্ঠানের সময় ভূমিকম্প, পালালেন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ও সাংবাদিকরা

লাতিন আমেরিকার চিলিতে শুক্রবার আঘাত হানে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর কোপিয়াপো ভূমিকম্পে বেশ শক্তভাবে কেঁপে ওঠে। ভূমিকম্প আঘাত হানার সময় দেশটির রাজনীতিবিদ ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ক্যারোলিনা তোহা স্থানীয় একটি রেডিওর চ্যানেলের লাইভ অনুষ্ঠানে ছিলেন।

সেখানে নিজের নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে কথা বলছিলেন। ভূমিকম্পে যখন সবকিছু কাঁপা শুরু করে তখন তিনি দৌড় দিয়ে স্টুডিও ত্যাগ করেন। তার সঙ্গে যে দুজন সাংবাদিক ছিলেন তারাও দ্রুত সেখান থেকে সরে যান।

লাইভ ভিডিওতে পুরো ঘটনাটি ধরা পড়ে। ওই সময় অস্বাভাবিকভাবে সবকিছু কাঁপছিল। স্টুডিওর যেসব জিনিসপত্র ছিল সেগুলো এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছিটকে পড়ছিল।

বার্তাসংস্থা এপি জানিয়েছে, এত শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলেও চিলিতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পটি সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে মরু অঞ্চল আতাকামাতে। এছাড়া ভূমিকম্পের প্রভাবে কোনো সুনামিরও সৃষ্টি হয়নি।

কোনো মানুষ হতাহত না হলেও ভূমিকম্পে কারণে অবকাঠামোগত কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়। একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ২৩ হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিলেন।

ঈদ শেষ না হতেই গাজায় নিহত আরও ৬৬ জন

দখলদার ইসরায়েলের হামলায় গাজায় নতুন করে আরও ৬৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাতে শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

তারা বলেছেন, শনিবার ভোর থেকে এসব মানুষ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার গাজায় উদযাপিত হয় ঈদুল আজহা। বিশ্বের সব মুসল্লি আনন্দে উল্লাসে দিনটি কাটালেও গাজার মানুষের দিনটি গেছে খেয়ে না খেয়ে। আর এমন ঈদ কাটানোর পর দিন ৬৬ জনকে হত্যা করেছে দখলদাররা।

জাতিসংঘের ত্রাণ বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার এক ভিডিওতে বলেছেন, যেখানে সারা বিশ্বের মানুষ ঈদ উদযাপন করছেন। সেখানে গাজার শিশুরা অভুক্ত থেকে দিনটি কাটাচ্ছে। অথচ অন্যদের মতো তাদেরও এ দিনটি আনন্দে উল্লাসে কাটানোর কথা ছিল।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও দখলদার ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৫৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তা সত্ত্বেও থামছে না দখলদারদের বর্বরতা।

ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে বিএনপি

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া বক্তব্যে শব্দচয়ন রাজনৈতিক ভব্যতার সীমা অতিক্রম করেছে বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। শুক্রবার মধ্যরাতে দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ মতামত ব্যক্ত করা হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ভার্চুয়ালি এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পরে মধ্যরাতে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আজ রাতে অনুষ্ঠিত দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় আজ অপরাহ্নে প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণ পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতভাবে এই অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে যে, পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে প্রদত্ত তাঁর বক্তব্য প্রসঙ্গকে অতিক্রম করে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে পরিণত হয়েছে। এই দীর্ঘ ভাষণে তিনি বন্দর, করিডোর ইত্যাদি এমন সব বিষয়ে অবতারণা করেছেন যা তাঁরই ভাষায় অন্তর্বর্তী সরকারের ৩টি ‘ম্যান্ডেটের’ মধ্যে পড়ে না। ভাষণে তিনি শব্দচয়নে রাজনৈতিক ভব্যতার সীমা অতিক্রম করায় সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।’

এতে আরও বলা হয়, ‘সভায় প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে সময়সীমা প্রস্তাব করেছেন তা পর্যালোচনা করে সভা মনে করে যে, এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচন হলে একদিকে আবহাওয়ার সংকট এবং অন্যদিকে রমজানের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা ও কার্যক্রম এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, যা নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অধিকন্তু কেন ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ তাঁর ভাষণে উল্লেখ করা হয়নি।’

প্রেস-বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রায় দেড় যুগ ধরে মৌলিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত এ দেশের জনগণ ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য গুম, খুন, জেল-জুলুম, আহত ও নির্যাতিত হয়েও অব্যাহত লড়াই চালিয়ে গেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপুল আত্মত্যাগের মাধ্যমে তার বিজয় অর্জিত হলেও নির্বাচন অনুষ্ঠানে অহেতুক বিলম্বে জনগণকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে। বিধায় এই সভা রমজান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমপর্যায়ের পরীক্ষা এবং আবহাওয়া ইত্যাদি বিবেচনায় ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করছে। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার একটি ঐক্যমত প্রতিষ্ঠার কথা বললেও একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সিংহভাগ রাজনৈতিক দলের মতামত অগ্রাহ্য করে নিজেদের নিরপেক্ষতাকেই যেভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, তাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে দেশের জনগণ সঙ্গতভাবেই শঙ্কিত হতে পারে বলে সভা মনে করে।’

এপ্রিলে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণায় জাতি হতাশ: মির্জা ফখরুল

থাইল্যান্ডে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নির্বাচন প্রসঙ্গে সরকারের সাম্প্রতিক ঘোষণায় গভীর হতাশা ব্যক্ত করেছেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বারবার বিএনপি বলে এসেছে দ্রুত নির্বাচন চায়। আমাদের প্রত্যাশা ছিল, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু নিঃসন্দেহে বিএনপি শুধু নয়, এপ্রিলে নির্বাচনের ঘোষণায় গোটা জাতি হতাশ হয়েছে।’

এরআগে শুক্রবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের সমালোচনা করা হয়। পাশাপাশি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন দলটির নেতারা।

রাতের মধ্যেই অপসারণ হবে কোরবানির বর্জ্য: আসিফ মাহমুদ

রাতের মধ্যেই কোরবানির বর্জ্য পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যাবে। এ বর্জ্যের কারণে ঢাকাবাসীর ঈদ আনন্দে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর কলাবাগান শিশু পার্ক সংলগ্ন এসটিএস কেন্দ্রে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করে তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, কোরবানির পর বর্জ্য পরিষ্কার করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সময়মতো অপসারণ না হলে এসব বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং নানা রোগবালাইয়ের জন্ম দেয়। সেই বিবেচনায়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ১২ ঘণ্টার মধ্যে সব বর্জ্য পরিষ্কারের চ্যালেঞ্জ নিয়েছে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, পশু কোরবানির জন্য সিটি করপোরেশন নির্ধারিত স্থান নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু এরপরও অনেকেই যত্রতত্র কোরবানি দিচ্ছেন। এতে আমাদের কাজ কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে প্রায় ১০ হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী মাঠে কাজ করছেন। আমরা আশাবাদী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সবকিছু সম্পন্ন হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, ১২ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করব। দুপুর ১২টার পর থেকে বর্জ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।

এর আগে, কলাবাগান এসটিএসে বেলচা দিয়ে ট্রলিতে বর্জ্য ফেলে কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। এ সময় তিনি পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং মিষ্টি বিতরণ করেন।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সেনাপ্রধানের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সস্ত্রীক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে শনিবার দুপুরে তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে তারা ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

এ ছাড়াও দুপুরে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সস্ত্রীক সাক্ষাৎ করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

যে ১০ লক্ষণ জানান দিবে শরীরে ক্যানসারের উপস্থিতি

ক্যানসার বা কর্কটরোগ অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনসংক্রান্ত রোগসমূহের সমষ্টি। প্রাণঘাতী এই রোগটির নাম শুনলে মানুষ সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। তবে চিকিৎসা-বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে বর্তমানে এই রোগে আক্রান্তদের বেঁচে থাকার হার বাড়ছে। আর এর সবই সম্ভব হয়েছে প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরুর কারণে।

যুক্তরাজ্যের ক্যানসার গবেষণা সংস্থার এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের অর্ধেকের বেশি বাসিন্দা জীবনের কোনো না কোন সময়ে এমন কোনো উপসর্গে ভুগেছেন যেটি আসলে ক্যানসারের উপস্থিতি জানান দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু মাত্র ২ শতাংশ মনে করেছেন যে এর কারণে তাদের ভুগতে হতে পারে এবং এক তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ একে কোনো ধরনের পাত্তাই দেননি এবং এর ফলে চিকিৎসকের কাছেও যাননি।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের এক গবেষক এবং এই ক্যানসার গবেষণার প্রধান ক্যাটরিনা হুইটেকার বলেন, আমরা এমন মানুষও পেয়েছি যারা চিকিৎসকের কাছে যেতে বিব্রত বোধ করে। কারণ তারা মনে করে, তারা আপনার সময় নষ্ট করছে এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সম্পদ যথেচ্ছভাবে নষ্ট করছেন।

তিনি বলেন, আমাদের এই বার্তা পাঠাতে হবে, যদি কারও এমন কোনো উপসর্গ থাকে যেটা সহসাই যাচ্ছে না, বিশেষ করে এমন সব উপসর্গ যেগুলোকে হুঁশিয়ারি সংকেত হিসেবে মনে করা হয়, তাহলে সেগুলোকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।

আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি মনে করে, ক্যানসারের ১০টি সাধারণ উপসর্গের বিষয়ে অবহেলা করা উচিত নয়। চলুন বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জেনে নেওয়া যাক ক্যানসার ১০টি উপসর্গ।

কোনো কারণ ছাড়া ওজন কমে যাওয়া: ক্যানসার আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষের কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমতে থাকে। এটাকে বলা হয় ব্যাখ্যাহীন ওজন কমা। এতে চিন্তার কারণ আছে। কোনো কারণ ছাড়াই পাঁচ কেজি বা তার বেশি ওজন কমলে সেটি ক্যানসারের প্রথম লক্ষণ হতে পারে।

অগ্ন্যাশয়, পাকস্থলি, খাদ্যনালি বা ফুসফুসের ক্যানসারের ক্ষেত্রে ওজন কমে যাওয়ার এই লক্ষণ বেশি দেখা যায়।

জ্বর: ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের সবচেয়ে সাধারণ একটি উপসর্গ হচ্ছে জ্বর। অবশ্য যে স্থানে ক্যানসার উৎপন্ন হয়েছে সেখান থেকে দেহের অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়া শুরু হলে তখন প্রায়ই জ্বর দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে জ্বর ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গও হতে পারে। যেমন লিউকেমিয়া বা লিম্ফোমা।

ক্লান্তি: ক্লান্তি বোঝানো হয়েছে চরম ক্লান্তিভাব যা বিশ্রাম নেওয়ার পরও কমে না। ক্যানসার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারে। কিছু কিছু ক্যাসনার যেমন লিউকেমিয়ার ক্ষেত্রে শুরুর দিকেই ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

কিছু কোলন বা মলাশয় ও পাকস্থলির ক্যানসারের ক্ষেত্রে রক্তপাত হতে পারে, তবে সেটা সবার ক্ষেত্রে হয় না। এর কারণেও ক্যানসারের সময় ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

ত্বকে পরিবর্তন: ত্বকের ক্যানসার ছাড়াও আরও কিছু ক্যানসার রয়েছে যাতে আক্রান্ত হলে ত্বকের পরিবর্তন দেখা দেয়। এর লক্ষণ ও উপসর্গের মধ্যে রয়েছে, ত্বক কালো হয়ে যাওয়া বা হাইপারপিগমেনটেশন ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া বা জন্ডিস ত্বক লাল হয়ে যাওয়া। চুলকানি, মাত্রাতিরিক্ত চুলের বৃদ্ধি।

অন্ত্রের ক্রিয়া বা মূত্রাশয়ের কার্যক্রমে পরিবর্তন: কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া বা মলের আকারে দীর্ঘদিন ধরে পরিবর্তন মলাশয়ের ক্যাসনারের লক্ষণ হতে পারে। অন্যদিকে প্রস্রাব করার সময় ব্যথা, প্রস্রাবে রক্তপাত, বা মূত্রাশয়ের কার্যক্রমে পরিবর্তন যেমন আগের তুলনায় কম বা বেশি প্রস্রাব করা ইত্যাদি মূত্রাশয় বা প্রোস্টেট ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

যে ক্ষত ভালো হয় না: অনেকেই জানেন যে দেহে যদি কোনো আঁচিল থাকে যেটি বাড়ে বা ব্যথা হয় বা সেটি থেকে কোনো রক্তপাত হয় তাহলে সেটি ত্বকের ক্যানসারের একটি লক্ষণ হতে পারে। কিন্তু শরীরে যদি কোনো ক্ষত থাকে যেটি চার সপ্তাহের পরও ভালো হয় না বা সেরে যায় না, এমন ক্ষতের প্রতিও আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। মুখে যদি এমন কোনো ক্ষত হয় তাহলে সেটি মুখের ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

শরীরের যেকোনো স্থান শক্ত হয়ে যাওয়া: অনেক ক্যানসার ত্বকের মাধ্যমে শনাক্ত করা যেতে পারে। এ ধরণের ক্যানসার সাধারণত স্তন, অণ্ডকোষ, গ্রন্থি এবং শরীরের নরম টিস্যুতে হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে দেহে শক্তভাব বা মাংস জমে আছে- এ ধরণের অনুভূতি হয়। এটা এসব ক্যানসারের প্রাথমিক বা বিলম্বিত উপসর্গ হতে পারে।

রক্তপাত: ক্যানসারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় কিংবা তা ছড়িয়ে পড়ার পর অস্বাভাবিক রক্তপাত হতে পারে। কাশির সঙ্গে রক্তপাত ফুসফুসের ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। অন্যদিকে যদি মলের সঙ্গে রক্তপাত হয় তাহলে এটি মলাশয় বা মলদ্বারে ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

টানা কাশি বা কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন: টানা কাশি ফুসফুসের ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এ ছাড়া কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন এলে তা স্বরযন্ত্র বা থাইরয়েড গ্রন্থিতে ক্যান্সারের উপস্থিতি নির্দেশ করতে পারে।

গিলতে অসুবিধা: ক্রমাগত বদহজম বা কোনো খাবার গিলতে গেলে সমস্যা হলে সেটা ইসোফ্যাগাস, পাকস্থলি বা গলার ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। তবে যাই হোক না কেন, এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত সব উপসর্গই ক্যানসার ছাড়াও অন্য আরও অনেক কারণেই দেখা দিতে পারে।

বিডা-বেজার ‘আমলনামা’ তুলে ধরলেন আশিক চৌধুরী

দায়িত্ব নেওয়ার আট মাস পূর্তিতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন ‘আমাদের আমলনামা’ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন।

শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে ফেসবুক এ পোস্ট দেন তিনি। তার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

ঠিক আট মাস হলো বিডা-বেজায় আজকে। সরকারের বয়স প্রায় দশ মাস। ব্যারিস্টার ফুয়াদ ঠিকই বলেছেন। একটা আমলনামা দেওয়া দরকার। আমরা কি শুধু দুইটা প্রেজেন্টেশন করলাম এতদিন ধরে? কিছু সাংবাদিক, ফেসবুক বিশেষজ্ঞ ও বটদের লেখা পড়লে তাই মনে হয়। আমাদের রিপোর্ট কার্ডটি শেয়ার করলাম। ধৈর্য ধরে পড়ার অনুরোধ রইলো।

আমাদের কাজ মূলত তিনটা এরিয়ায়:

ক. বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে পলিসি ও এক্সিকিউশন এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়া।

খ. যারা দেশে অলরেডি বিনিয়োগ করেছেন, তাদের কেস বাই কেস ইস্যু সমাধানের মাধ্যমে এম্বাসেডর তৈরি করা।

গ. দেশের ইমেজ ইমপ্রুভ করার পাশাপাশি একটা সলিড ইনভেস্টমেন্ট পাইপলাইন গঠন করা।

#ক
একদম শুরুর দিকে দুইশ’র বেশি দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা ও সিইওদের পরামর্শ অনুযায়ী ৩০টি পদক্ষেপ শনাক্ত করা হয়। তার মধ্যে মোট ১৮টি নির্দিষ্ট সময়সীমার তুলনায় এগিয়ে আছে, ৭টিতে আমরা অন ট্র্যাক আছি, ৫টিতে আমরা প্ল্যান এর থেকে পিছিয়ে আছি। এই প্রগ্রেস আমরা প্রতি দুই মাস পরপর তাদের সাথে ‘স্টেট অব ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেট’ নামে ওয়েবিনার হোস্ট করে শেয়ার করি। ওয়েবিনার এর লিংকগুলো কমেন্টে আছে। ডিসেম্বর নাগাদ সবগুলা কমপ্লিট করার টার্গেট।

যেগুলোতে রোডম্যাপ বা অরিজিনাল টাইমলাইন থেকে এগিয়ে আছি (প্রায়োরিটি অর্ডারে নয়):

১. ইনভেস্টর্স কনসালটেশন: ব্যবসায়ে প্ৰতিবন্ধকতা এবং তার সমাধান সম্বন্ধে তাদের সাথে ডিটেল আলোচনা।

২. ১০০টি ইকোনমিক জোনের বদলে ৫টিতে ফোকাস করা। সেই পাঁচটিতে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, অন্যান্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার এর একটা রোডম্যাপ পাবলিশ করা। অব্যবহৃত জমিতে সোলার পার্ক করা। সামরিক শিল্পে সক্ষমতার জন্য একটি মিলিটারি বা ডিফেন্স ইকোনমিক জোন চালু করা।

৩. প্রতি মাসে আন্ত-মন্ত্রণালয় কো-অর্ডিনেশন মিটিং চালু করা; ব্যবসা পরিস্থিতি আলোচনা ও সমস্যা সমাধান করতে।

৪. গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগকারীদের সমস্যা সমাধান করতে আলাদা একটি টিম গঠন করা।

৫. বিডার ওয়ান স্টপ সার্ভিস পোর্টাল এর মাধ্যমে পাওয়া সেবার পারফরমেন্স ডেটা (কতগুলো সেবা দেওয়া হলো, কার কতদিন লাগলো) বিডার ওয়েবসাইট এ পাবলিক করা।

৬. এফ ডি আই হিটম্যাপ: বাংলাদেশে কোন সেক্টরে বিনিয়োগ করা উচিত, কোন সেক্টরে সামনে সরকার পলিসি সাপোর্ট দেবে, এরকম একটা রিসার্চ প্রকাশ করা। এর সিকুয়েল হিসেবে একটি সেমিকন্ডাক্টর টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। আগামী মাসে তারা রিপোর্ট জমা দেবে।

৭. ফরেন কারেন্সি লোন গ্রহণ প্রক্রিয়ার উন্নতি- স্পিড টু মার্কেট, ফ্লেক্সিবিলিটি, ইত্যাদি।

৮. এনবিআর এ গ্রিন চ্যানেল বা অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর চালু করা।

৯. এনবিআর এ ডিজিটাল ইনভয়েসিং বা ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো চালু করা।

১০. বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দরগুলোর এফিসিয়েন্সি বাড়ানোর জন্য পোর্ট স্ট্রাটেজি নির্ধারণ। এর ধারাবাহিকতায় একটি ফ্রি ট্রেড জোন স্থাপন।

১১. স্টার্টার প্যাক: ব্যবসা শুরু করার জন্য বেসিক যে কয়টি অনুমোদন লাগে তা একটা ডিজিটাল ফর্ম এ নিয়ে আসা।

১২. বিডাতে একটি দক্ষ রিসার্চ উইং চালু করা।

১৩. এফডিআই প্রোমোশনে সবার জন্য প্রণোদনা বা ইনসেন্টিভ প্রোগ্রাম চালু করা।

১৪. ঢাকায় একটি ম্যাচমেকিং ইনভেস্টমেন্ট সামিট আয়োজন করা।

১৫. ইনস্টিটিউশনাল এক্সেলেন্স: বিডা-বেজাকে ডি নথিতে এনে সম্পূর্ণ পেপারলেস করা। ডে-কেয়ার চালু করা কর্মচারীদের জন্য। বিডা অফিসে বিনোয়োগকারীদের এবং কর্মচারীদের জন্য ক্যান্টিন, মিটিং ফ্যাসিলিটি চালু করা।

১৬. কমিউনিকেশন স্ট্রাটেজি বা যোগাযোগ কৌশলের উন্নতি: পরিমার্জিত নতুন ওয়েবসাইট- যেটা এই মাসের শেষে লঞ্চ হবে, বিডা ও বেজার সোশ্যাল মিডিয়া প্রেজেন্স (লিংকডইন, এক্স, ফেসবুক, ইত্যাদি), লোগো রিভ্যাম্প, স্টার্টার এফএকিউ ইত্যাদি।

১৭. এনবিআর, পরিবেশ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এর প্রতিনিধি বিডা অফিসে কোলোকেট বা সংস্থাপন করা। প্রত্যেক সরকারি অফিসের ব্যবসায়ীদের জন্য একজন ফোকাল পয়েন্ট পারসনের নাম পাবলিশ করা।

১৮. ওয়ার্ক পারমিট/ভিসা ও সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থার উন্নতি।

অন ট্র্যাক:

১৯. বিডায় গুরুত্বপূর্ণ ইনভেস্টরদের জন্য রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট টিম চালু করা- একই সাথে দুই বছরের একটি প্রোগ্রাম ডিসাইন করে প্রাইভেট সেক্টরের দক্ষ অফিসারদের দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ করে দেয়া।

২০. সরকারের সবগুলো ব্যবসায়ী সেবার জন্য করা ওয়ান স্টপ সার্ভিস ও ডিজিটাল প্লাটফর্মকে একীভূত করা বা একটি সিঙ্গেল সাইন ইন প্লাটফর্ম এ নিয়ে আসা।

২১. বিভিন্ন লাইসেন্সিং এর প্রয়োজনীয়তা চ্যালেঞ্জ করে লাইসেন্স এর সংখ্যা কমিয়ে আনা।

২২. সরকারি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাইভেটাইজ করা।

২৩. মার্জার ও একুইজিশন রুল সংস্কার।

২৪. বিডা-বেজার আইন আধুনিকীকরণ।

২৫. বিডা, বেজা, বেপজা, হাই টেক পার্ক ও পিপিপি অথরিটিতে সমন্বয়হীনতা কমাতে তাদের একই ছাতার নিচে নিয়ে আসা।

পিছিয়ে আছি:

২৬. প্রাইভেট সেক্টর অ্যাডভাইসারি কাউন্সিল চালু করা: সরকারকে একদম আনফিল্টার্ড ফিডব্যাক দেওয়ার জন্য।

২৭. ট্যাক্স রুলস: ইনকিউবেশন, গ্রান্ডফাদারিং, সানসেট রুলস।

২৮. ক্যাপিটাল রিপেট্রিয়েশন নীতি ও প্রক্রিয়া সংস্কার।

২৯. বিডার সাংগঠনিক কাঠামো সংস্কার/আধুনিকায়ন।

৩০. এনার্জি সিকিউরিটি বা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ স্ট্রাটেজি।

অনেকগুলো উদ্যোগ আমরা ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক, ইউএনডিপি, বিভিন্ন এম্বাসি আর প্রাইভেট সেক্টর পার্টনারদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে করছি। অনেকেই বিনা পারিশ্রমিকে দেশসেবা বা সাহায্য করছেন। তাদের ছাড়া কিছুতেই সম্ভব হতো না আগানো। সংস্কারের কাজ আদৌ হচ্ছে কিনা, তাদেরকেও জিজ্ঞেস করতে পারেন।

#খ

দেশের এক্সিস্টিং বিনিয়োগকারীদের সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টা করা এবং তাদের হয়ে পলিসি অ্যাডভোকেসি করা জরুরি। নতুনরা এসে তাদের কাছেই জানতে চাইবেন এ দেশে ব্যবসা করা উচিত কিনা।

– বেশ কিছু কোম্পানির ইস্যু সমাধান করা হয়েছে। যেমন: ইয়ংওয়ান গ্রুপ, মেটলাইফ, শেভ্রন, লাফার্জ, বাংলাদেশ অটোমোবাইলস। তারা পাবলিকলি এগুলা শেয়ার করেছেন। আরও অনেকে বাকি আছেন। তারা ডিসার্ভ করেন। কিন্তু লোক সল্পতার কারণে সবাইকে সাহায্য করতে পারছি না।

– পলিসি অ্যাডভোকেসির ক্ষেত্রেও কাজ হচ্ছে। যেমন: ফুল ও পার্শিয়াল বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স পলিসি সংস্কার, ম্যান মেড ফাইবার আনুষঙ্গিক ইম্পোর্ট ডিউটি হ্রাস, ইন্সেটিভ এর জন্য নো ডেডাক্শন সার্টিফিকেট ইস্যু প্রক্রিয়া বদল ইত্যাদি। কিছু রিফ্লেকশন এই বাজেট এ এসেছে। আরও অনেক কিছু বাকি রয়ে গেছে। লম্বা লিস্ট। সামনে আশা করি, আরও দেখতে পাবেন।

#গ
আমরা আগে কখনও ইনভেস্টর পাইপলাইন ট্র্যাক করতাম না। ইনভেস্টর আমাদের দেশে এমনিতেই আসবে, এই আরোগ্যান্স এর কোনো কারণ নাই। বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট মেনুর অনেকগুলা অপশন এর মধ্যে একটা। তাছাড়া বিদেশে বসে গুগল সার্চ করলে আমাদের নিয়ে যে পারসেপশন তৈরি হয়, সেটা রিয়েলিটির চেয়ে অনেক বেশি নেগেটিভ। সামনের দিনগুলিতে এমন চাতক পাখির মতো যাতে বসে থাকতে না হয়, ইনভেস্টররা যাতে জানেন কেন বাংলাদেশ ২.০ আগের চেয়ে আলাদা, দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের যাতে ম্যাচমেকিং হয়, সেজন্য আমরা দুটি সামিটের আয়োজন করেছি; একটি সবার জন্য, আরেকটি চীনকে ফোকাস করে। ৬৭৫ জন বিনিয়োগকারী এসেছেন এই প্রোগ্রামগুলোতে। দ্বিপাক্ষিক মিটিং হয়েছে বাংলাদেশি এবং বিদেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে তিনশ’র একটু বেশি।

আমরা আগেও বলেছি, বিলিয়ন ডলার ইনভেস্টমেন্ট একদিনে আসে না। সামিটে এসে ইমোশনাল হয়ে কেউ হুট করে ১০০ কোটি টাকার চেক লিখে ফেলে না। যারা এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজে করেন তারা জানেন। তারপরও সৌভাগ্যক্রমে তিনটি একদম নতুন বিনিয়োগ অলরেডি কনফার্ম করেছে। একটি গার্মেন্টস, একটি এয়ারলাইন্স এর এমেনিটি কিট ও একটি ঘড়ি ম্যানুফ্যাকচারার। সব মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। দশ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে ফ্যাক্টরিগুলো চালু হলে। আরও প্রায় ১৫ টি প্রজেক্ট আছে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ফাইনাল হতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা একটা সলিড পাইপলাইন তৈরি হলো। আগামীতে যারা বিডা চালাবেন তাদের শূন্য থেকে শুরু করতে হবে না।

ইনভেস্টমেন্ট সামিট নিয়ে একটা হাইপ তৈরি হয়েছিল। সেটা আমাদের টার্গেট ছিল না। আমি আগেও অনেকবার বলেছি, যে আমরা খালি একটা গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড প্রোগ্রাম ডেলিভার করতে চেয়েছিলাম। এটার জন্য আলাদা কোনো বাহবা পাবার আশা আমরা একদম করি না। আরও ভালো করার অনেক সুযোগ আছে। কাজগুলো কমিটেড সময়ের মধ্যে হচ্ছে কিনা, এর জন্য আমাদের অ্যাকাউন্টেবল করুন। ধন্যবাদ।

পুনশ্চ ১: অক্টোবর থেকে এপ্রিল এর বিনিয়োগের পরিমাণ আর গত বছরের একই সময়ের নাম্বারটা প্রায় একই। কিন্তু এতে বিডার কোনো ক্রেডিট বা ফেইলিওর নাই। এতো বড়ো অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পরে এতো তাড়াতাড়ি বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ আগের জায়গায় ফিরে গেছে তা আশার কথা। কিন্তু এর পেছনে মূল শক্তি অর্থনৈতিক টার্ন অ্যারাউন্ড: রিসার্ভ বৃদ্ধি, এক্সচেঞ্জ রেট স্থিতি, ইত্যাদি।

পুনশ্চ ২: ইনফর্মেশন প্লিজ ভেরিফায়েড সোর্স থেকে নেবেন। ভুল তথ্যের শিকার হবেন না। আমাদের জিজ্ঞেস করুন। আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো।

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে দেশের যেসব জায়গায় হচ্ছে ঈদুল আজহা উদযাপন

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, পটুয়াখালী জেলার বেশ কিছু গ্রামের মুসল্লিরা আজ শুক্রবার থেকে ঈদ উদযাপন করছেন। সকাল থেকে চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৬ জুন) সকাল ৮টার দিকে হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরিফ মাঠে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দরবার শরিফের পীর মুফতি জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি। অন্যদিকে সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদরাসা মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন সাদ্রা দরবার শরিফের আরেক পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার সকাল থেকে সমেশপুর ঈদগাহ মাঠ, সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল, মাদরাসা মাঠ, সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠসহ ১২টি ঈদগাহ মাঠে এবং উত্তর সাদ্রা বায়তুল সালাম জামে মসজিদ, দক্ষিণ সাদ্রা জামে মসজিদ, উত্তর অলিপুর বেপারী বাড়ি জামে মসজিদ, উত্তর অলিপুর ঢালী বাড়ি মসজিদ, দক্ষিণ বলাখাল হাজী বাড়ি, দক্ষিণ বলাখাল স্কুল বাড়ি, পাঁচানী দরগাম মসজিদ, পূর্ব পাঁচানী সরকার বাড়ি, দেওয়ানজিকান্দি প্রধানিয়াবাড়ী মসজিদ, সাড়ে পাঁচানী প্রধানিয়া জামে মসজিদ, দক্ষিণ মাথাভাঙ্গা ভেন্ডরবাড়ী মসজিদ, পাড়ে পাঁচানী উত্তরপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসহ ১৮টি জেলার বিভিন্ন স্থানে মোট ৩০টি ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া স্ব-স্ব এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে ধর্মীয়রীতি অনুযায়ী তারা পশু জাবাই করেন।

লক্ষ্মীপুর:
লক্ষ্মীপুরে ১১টি গ্রামে আজ শুক্রবার ঈদুল আজহা উদযাপন করা হচ্ছে। জেলার রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও, জয়পুরা, বিঘা, হোটাটিয়া, শরশোই, কাঞ্চনপুর ও রায়পুর উপজেলার কলাকোপা ও সদর উপজেলার বশিকপুরসহ ১১টি গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক মুসল্লি এই ঈদুল আজহা উদযাপন করে।

সকাল ৭টায় রামগঞ্জ উপজেলার খানকায়ে মাদানিয়া কাসেমিয়া মাদ্রাসায় ও নোয়াগাঁও বাজারের দক্ষিণ-পূর্ব নোয়াগাঁও ইদগাহ ময়দানসহ বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় ঈদের নামাজের অনেকগুলো জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে খানকায়ে মাদানিয়া কাসেমিয়া মাদ্রাসায় ইমামতি করেন মাওলানা রুহুল আমিন।

জানা গেছে, এসব গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক মুসল্লি পৃথক পৃথকভাবে স্ব স্ব ঈদ গাঁ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করে থাকেন। মাওলানা ইসহাক (রা.) অনুসারী হিসেবে এসব এলাকার মানুষ পবিত্র ভূমি মক্কা ও মদিনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ঈদসহ সব ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে।

পটুয়াখালী:
পটুয়াখালী কলাপাড়ায় সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ৮ গ্রামের ১০ হাজার মানুষ উদযাপন করছেন আগাম ঈদুল আজহা। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় কলাপাড়ার উত্তর নিশানবাড়িয়া জাহাগিরিয়া শাহ্সূফি মমতাজিয়া দরবার শরীফ জামে মসজিদে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় পৌর শহরের নাইয়াপট্রি জামে মসজিদে ঈদের দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ দুই মসজিদে অনুষ্ঠিত নামাজে সবচেয়ে বেশি মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।