অবৈধ বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের বৈধতা দিচ্ছে সৌদি
আমু-সালমান-দীপু মনিসহ নতুন মামলায় গ্রেফতার ১০
ছাত্র-জনতার আন্দোলন নির্মূলের অভিযোগে সংগঠিত অপরাধে রাজধানীর বিভিন্ন থানার আনা পৃথক মামলায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আমির হোসেন আমু, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ দশ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন- ওয়ার্কাস পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাবেক এমপি হাজী সেলিম, সাদেক খান, আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, সাবেক আইজিপি শহীদুল হক ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও অভিনেত্রী শমী কায়সার।
আজ তাদের কারাগার থেকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের এসব মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন।
শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জি এম ফারহান ইশতিয়াক তাদের এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
যাত্রাবাড়ী থানার সাজেদুর রহমান ওমর হত্যা মামলায় আমীর হোসেন আমু, সালমান এফ রহমান, ডা. দীপু মনি, শহীদুল হক, হাজী সেলিম ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতার দেখান আদালত।
শাহবাগ থানার মনির হোসেন হত্যা মামলায় রাশেদ খান মেনন, ভাটারা থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, উত্তরা পূর্ব থানার জুবায়ের ইউসুফ হত্যাচেষ্টা মামলায় শমী কায়সার ও মোহাম্মদ থানার মামলায় সাদেক খানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতে আসুন ঐক্যবদ্ধ হই: তারেক রহমান
সাংবাদিকের সুরক্ষা নিশ্চিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে শুক্রবার রাতে ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।
মেহেদী হকের একটি কার্টুন শেয়ার করে ওই পোস্টে তারেক রহমান লিখেছেন, বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে আসুন, আমরা নৈতিক ও সততার সঙ্গে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সত্য সম্পর্কে প্রতিবেদনকারী সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য একত্রিত হই। সাংবাদিকরা গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে কাজ করেন। তাদের কাজকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে এবং গ্রহণ করতে হবে, কোনোভাবে হামলা বা সেন্সরের মাধ্যমে দমন করা চলবে না। বাংলাদেশে আমরা সাম্প্রতিক ক্ষমতাচ্যুত কর্তৃত্ববাদী শাসকের পৃষ্ঠপোষকতায় দমন-পীড়নের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার নিয়মতান্ত্রিক অবক্ষয় প্রত্যক্ষ করেছি।
এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, সেই সময় সাহস ও প্রতিশ্রুতির সঙ্গে অনেক সাংবাদিক দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আর্থসামাজিক ব্যর্থতা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছিলেন। এই সাহসী সাংবাদিকরা সত্যের সন্ধানে, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য লড়াই করে এবং মতপ্রকাশের মৌলিক মূল্যবোধ রক্ষা করে মূলধারার গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত তুলে ধরেছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও লেখেন, বিএনপি সাংবাদিকতার নতুন ব্র্যান্ডে অনুপ্রাণিত, যা নৈতিকতা ও সততার সর্বোচ্চ মান বহন করে। দলের এজেন্ডার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলেও আমরা সাহসী ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে সম্মান করি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ধারণ করে। নিরপেক্ষ ও সৎ সাংবাদিকতা রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থে কাজ করে। আমাদের যদি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হয়, তাহলে অবশ্যই সাংবাদিকতার অখণ্ডতা ও স্বাধীনতা বজায় রাখতে হবে। আসুন, আমরা এমন দেশ গড়ে তুলি, যেখানে সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং সংবাদমাধ্যমসহ সবার জন্য আইনের শাসন নিশ্চিত করবে।
১৯৬৩ সালে বন্ধ হওয়া আলকাট্রাজ কারাগার ফের চালুর নির্দেশ ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯৬৩ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক আলকাট্রাজ কারাগার পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। ভয়ঙ্কর ও দাগী অপরাধীদের জন্য কারাগারটি আধুনিকভাবে সম্প্রসারণ ও পুনর্নির্মাণ করে আবারও চালু করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
ওয়াশিংটন থেকে তাস জানায়, নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বিবৃতিতে ট্রাম্প লেখেন, ‘আলকাট্রাজ পুনর্নির্মাণ করুন এবং খুলে দিন! বহুদিন ধরে আমেরিকা সহিংস ও ধারাবাহিক অপরাধীদের দ্বারা জর্জরিত। এরা সমাজের জঞ্জাল, যারা সমাজে কেবল দুঃখ ও দুর্ভোগই বয়ে আনে।’
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘অতীতে, যখন আমরা আরও সিরিয়াস জাতি ছিলাম, তখন আমরা ভয়ঙ্কর অপরাধীদের বিনা দ্বিধায় আটক করতাম এবং জনসাধারণ থেকে দূরে রাখতাম। এখন সেই সময় ফিরিয়ে আনার দরকার। এইসব অপরাধীর দৌরাত্ম্য আর সহ্য করা হবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আর অপরাধীদের হাতে জিম্মি থাকব না—না কোনো দুর্বল বিচারকের, না কোনো ব্যর্থ আইন ব্যবস্থার। যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে এবং অপরাধে লিপ্ত হয়েছে, তাদের কঠোরভাবে দমন করাই আমাদের দায়িত্ব। নতুন করে চালু হওয়া আলকাট্রাজ হবে আইন, শৃঙ্খলা ও ন্যায়ের প্রতীক।’
উল্লেখ্য, সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরের একটি দ্বীপে অবস্থিত আলকাট্রাজ কারাগার নির্মিত হয় ১৯১২ সালে। ১৯২০ সালের মধ্যেই এটি বন্দিদের পূর্ণ হয়ে যায়। শুরুতে এটি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক কারাগার হিসেবে ব্যবহৃত হলেও পরে কুখ্যাত অপরাধীদের কঠোর শাস্তির স্থল হিসেবে পরিচিতি পায়। ১৯৩৬ সালে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের আওতায় আসে এবং কঠোর নিরাপত্তার একটি কারাগারে রূপ নেয়। ১৯৬৩ সালে কারাগারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
কোভিড-১৯ মহামারির জন্য দায়ী দাবিকৃত ভাইরাস গবেষণার ওপর নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার জৈবিক গবেষণা ‘গেইন-অফ-ফাংশন’-এর ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন। তার প্রশাসন বলেছে, ওই গবেষণায় চীনে ল্যাব লিকিংয়ের মাধ্যমে কোভিড-১৯ মহামারি ঘটেছে।
সোমবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প স্বাক্ষরিত একটি নির্বাহী আদেশ উদ্ধৃত করে ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র কিছু দেশে রোগ জীবাণুর বৈশিষ্ট্য বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে তথাকথিত ‘গেইন-অফ-ফাংশন’ পরীক্ষার অর্থায়ন বন্ধ করবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র এক্স-এ লিখেছেন, ‘এমন কোনো ল্যাবরেটরি নেই যা লিক থেকে মুক্ত ও ভবিষ্যতে অসাবধানতাবশত লিক হওয়া এবং মানবতা বিপন্ন করা রোধ করতে পারে।’
জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক জয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘কোন দেশ যারা এ ধরনের গবেষণায় জড়িত হয় তারা তাদের নিজস্ব জনসংখ্যার পাশাপাশি বিশ্বকেও বিপন্ন করে, যেমনটি আমরা কোভিড মহামারির সময় দেখেছি।’
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে যে তত্ত্বের পক্ষে কথা বলছেন সেটি হলো, উহান ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি থেকে ‘গেইন-অফ-ফাংশন’ গবেষণার ফলে ‘সার্স-সিও ভি-২’ ভাইরাসটি ছড়িয়েছে। তবে, এর বিকল্প তত্ত্বে বলা হয় ভাইরাসটি প্রাকৃতিকভাবে বন্য প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে একই শহরের একটি সামুদ্রিক খাবারের বাজারে ছড়িয়ে পড়েছিল।
মার্কিন সরকারের ওয়েবসাইট ‘কোভিড ডট গভ.’ ইতোপূর্বে ভ্যাকসিন প্রচার ও পরীক্ষার তথ্য প্রচারের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিল। ওয়েবসাইটটি এখন ল্যাব লিককে সমর্থনের যুক্তি তুলে ধরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন, জ্বালানি বিভাগ ও সম্প্রতি, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সিসহ বেশ ক’টি মার্কিন সংস্থা যারা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ভাইরাস ছড়ানো প্রসঙ্গে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছিল তারা এখন ল্যাব থেকে উৎপত্তির পক্ষে ঝুঁকে পড়েছে। তবে, বেশ ক’টি গোয়েন্দা সংস্থা প্রাকৃতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পক্ষে।
২০১০-এর দশকে, জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক অলাভজনক ইকোহেলথ অ্যালায়েন্সের মাধ্যমে উহান ইনস্টিটিউটে বাদুড়ের করোনাভাইরাস গবেষণায় (ব্যাট করোনা ভাইরাস রিসার্চ)-এ অর্থায়ন করে। তবে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে থাকাকালীন ২০২০ সালে ওই অনুদান বাতিল করে দেন। পরে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীনে অনুদানটি আংশিক পুনরুদ্ধার হয়।
ট্রাম্পের আদেশে চীনকে ‘উদ্বেগের দেশ’ অভিহিত করে বলা হয়, সেখানের এই ধরনের গবেষণা সমর্থন করা উচিত নয়।
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশটি তার প্রশাসনের আমেরিকান বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য নীতি পুনর্গঠনের বিস্তৃত প্রচেষ্টার মধ্যে এসেছে। সরকারি বিজ্ঞানীদের ব্যাপকভাবে বরখাস্ত করা ও গবেষণা বাজেটে ব্যাপক হ্রাস সংস্কারের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শাহরুখের নতুন ইতিহাস গড়ার দিন
বলিউডের ‘কিং খান’ বলে কথা। ভারতীয় সুন্দরীরা সেই কবে থেকেই ‘মেট গালা’র রেড কার্পেটে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন। প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার পর দীপিকা পাড়ুকোন, আলিয়া ভাটরাও মেট গালার লাল গালিচায় নজর কেড়েছেন। কিন্তু কোনো ভারতীয় পুরুষকে এই ফ্যাশন যজ্ঞে শামিল হতে দেখা যায়নি। এবার ইতিহাস তৈরি করতে চলেছেন শাহরুখ। যদিও এই খবর প্রকাশে আসে গত মাসের ১১ তারিখ। তবে নতুন খবর হচ্ছে এবার ঘনিয়ে এসেছে সেই ক্ষণ। আজ সোমবারই ইতিহাস গড়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবেন বলিউড বাদশা শাহরুখ খান। প্রথম ভারতীয় পুরুষ হিসাবে এধরনের বিশ্বমানের ইভেন্টে অংশ নিতে চলেছেন বলিউড বাদশা। আজ সোমবার বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত ফ্যাশন রেড কার্পেট মেট গালায় পা রাখতে চলেছেন তিনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আর্টে আয়োজিত হতে চলেছে সেই অনুষ্ঠান। তার আগে গতকাল রোববার সকালে নিউ ইয়র্ক বিমানবন্দরে নামেন কিং খান। সঙ্গে ম্যানেজার পূজা দাদলানি।
এদিকে বলিউড কিং সেখানে যাচ্ছেন, সেই খবর পৌঁছে যায় সেদেশে বসবাসকারী প্রবাসী অনুরাগীদের মধ্যেও। একারণে গতকাল সকাল থেকেই শাহরুখকে দেখতে জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অপেক্ষা করছিলেন বেশকিছু অনুরাগী। পরনে সাদা টি-শার্ট আর ধূসর জ্যাকেট, এদিন এমনই ছিমছাম লুকেই বিমানবন্দরে পা রাখেন অভিনেতা।
টার্মিনালে উপস্থিত অনুরাগীরা শাহরুখকে এক ঝলক দেখেই আনন্দিত হয়ে ওঠেন। এক মহিলা অনুরাগী এসে ‘কিং’ খানের গলা জড়িয়ে ধরেন। শাহরুখ খানও বাধা দেননি বা নিরাপত্তারক্ষীকেও সরিয়ে দিতে বলেননি। সাদরে গ্রহণ করে সেই মহিলা অনুরাগীর উষ্ণ অভ্যর্থনা। টার্মিনাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে আরও এক অনুরাগীর সঙ্গে আন্তরিক তবে কিছুটা দ্রুত করমর্দন করতেও যায় বলিউড সুপারস্টারকে। সেই ছবি ও ভিডিও উঠে এসেছে অভিনেতার ফ্যান পেজে।
মেট গালার অনুষ্ঠানে কিং খান শাহরুখ কী পোশাকে দেখা দেবেন? বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত ফ্যাশন রেড কার্পেটে শাহরুখ কী পরবেন তা নিয়ে লোকজনের আগ্রহ থাকাটাই স্বাভাবিক। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুসারে জানা গেছে, ফ্যাশান ডিজাইনার সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়ের তৈরি পোশাক পরবেন বলিউড বাদশা। যে পোশাক শিল্পীর জন্য কি না আজ বিশ্বব্যাপী ভারতীয় স্টাইল এবং কারুশিল্প প্রশংসিত হচ্ছে, মেট গালায় তারই ডিজাইনার পোশাকে সাজবেন শাহরুখ।
তবে শুধু শাহরুখই নন এবার মেট গালায় অভিষেক হতে চলেছে হবু মা, অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানির। শোনা যাচ্ছে, গৌরব গুপ্তার একটি কাস্টম পোশাকে দর্শকদের সামনে হাজির হবেন কিয়ারা। এছাড়াও এবার প্রথমবারের জন্য মেট গালায় দেখা যাবে গায়ক অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জকে। আজকের এই মেট গালা চলতি বছরের সবচেয়ে গ্ল্যামারাস রাতগুলো মধ্যে একটি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রনঙ্গত, ১৯৪৮ সালে নিউ ইয়র্কের ফ্যাশন প্রচারক এলিনর ল্যাম্বার্ট নবনির্মিত কস্টিউম ইনস্টিটিউটের জন্য তহবিল সংগ্রহের জন্য মেট গালা শুরু করেছিলেন। বর্তমানে মেট গালাকে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং আকর্ষণীয় ফ্যাশন ইভেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতি বছর মে মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত হয় এই মেট গালা। ধীরে ধীরে বিস্তৃতি ঘটে এই অনুষ্ঠানের।
চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, সংগীত, থিয়েটার, ব্যবসা, খেলাধুলা থেকে রাজনীতি জনপ্রিয় বেশ কিছু মুখকে প্রতি বছর দেখা গিয়েছে এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। শুধুমাত্র আমন্ত্রিত অতিথিরাই অংশ নিতে পারেন মেট গালায়। ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের টিকিটের মূল্য ছিল পঞ্চাশ হাজার মার্কিন ডলার। যা বর্তমানে বেড়ে হয়েছে ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার।
এবারের মেট গালার পোশাক কোড হল ‘টেইলর্ড টু ইউ।’ এই অনুষ্ঠানের সহ-সভাপতিত্ব করবেন গায়ক ফ্যারেল উইলিয়ামস, অভিনেতা কোলম্যান ডোমিঙ্গো, এফ ১ চ্যাম্পিয়ন লুইস হ্যামিল্টন, এবং ‘ভোগ’-এর প্রধান সম্পাদক আনা উইন্টুর।
নয়া মিশনে টম ক্রুজ!
সাবেক স্ত্রী মার্কিন অভিনেত্রী কেটি হোমসের সঙ্গে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা চুকে গেছে ২০১২ সালে। এরপর থেকেই সিঙ্গেল মিশন ইম্পসিবল তারকা টম ক্রুজ সিঙ্গেল। গত এক যুগে কারও সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি অভিনেতা। সে টাই হলো মুশকিল, কারণ কেটির সঙ্গে বিচ্ছেদের পর এত নায়িকার সঙ্গে তার প্রেমের গুঞ্জন শোনা গেছে; কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল, কে জানে! এই যেমন এখন অভিনেত্রী আনা ডে আরমাসের সঙ্গে তার প্রেমের কথা শোনা যাচ্ছে। গত শুক্রবার রাতের ঘটনার পর সেই গুঞ্জনের পালে আরও হাওয়া লাগল। এদিন সাবেক ব্রিটিশ ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যামের ৫০তম জন্মদিনের পার্টিতে হাজির হয়েছিলেন টম আর আনা। ব্যস, পাপারাজ্জিদের ছবি আর ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে দুই তারকার প্রেম আবার শিরোনামে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে টম ক্রুজ ও আনা ডে আরমাসের প্রেম নিয়ে প্রথম খবর প্রকাশ করে পিপলডটকম। ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে বিনোদনবিষয়ক অনলাইন গণমাধ্যমটি দাবি করে, সম্পর্কের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছেন তারা, একসঙ্গে সময় কাটিয়ে পরস্পরকে বোঝার চেষ্টা করছেন। গত ১৪ মার্চ লন্ডনে একই হেলিকপ্টার থেকে অবতরণ করতে দেখা যায় দুই তারকাকে। তখন বলা হয়েছিল, দুজন নতুন কোনো সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত কিন্তু পরে আর সেই সিনেমার খবর পাওয়া যায়নি।
গত শুক্রবার রাতে বেকহ্যামের পার্টিতে টম ক্রুজের সঙ্গে যে আনাও থাকবেন, এটা ছিল পাপারাজ্জিদের অজানা। টম গাড়ি থেকে নামার সময় আলোকচিত্রীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে দেখা যায়, পাশের সিটে থাকা আনাকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন তিনি। সে চেষ্টায় যে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন বলাই বাহুল্য। বিনোদনবিষয়ক অনলাইন গণমাধ্যম রাডার অনলাইন জানিয়েছে, গত কয়েক মাস যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের যেখানে টম গিয়েছেন, বেশির ভাগ সময় আনা সঙ্গেই ছিলেন। ২০২৩ সালে ইউএসএ টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্টান্ট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে টম ক্রুজের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন আনা। ‘আমি টম ক্রুজের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি; তিনি দুর্দান্ত।’
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে ছিলাম, আছি এবং থাকব: মির্জা ফখরুল
বিএনপি বরাবরই সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি, বিএনপি ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক, সব সময় গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করবে। কখনোই অন্যায়ভাবে অন্যের মতকে চাপিয়ে দেওয়াকে সমর্থন করবে না। আরেকজনের মতের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে।’
গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৫ উপলক্ষে সম্পাদক পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের প্রতি অতীতে যে নির্যাতন ও নিপীড়ন হয়েছে, আপনাদের আইন কানুনে পুরোপুরি ফ্যাসিবাদী চরিত্র দেওয়া হয়েছে, এগুলোর বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করেছি। আমরা লড়াই করে চলেছি। এখনো করছি। খুব স্পষ্ট ভাষায় দৃঢ়ভাবে আবারও বলতে চাই, আমরা কখনোই অন্যায়ভাবে অন্যের মতকে চাপিয়ে দেওয়াকে সমর্থন করব না।’
বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টি নতুন নয় উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছি, সেই ষাটের দশক থেকে এই বিষয়টি সব সময় সামনে এসেছে। পাকিস্তান শাসকদের বিরুদ্ধে সেই সময়েও আমরা কথা বলেছি, আন্দোলন করেছি, কাজ করেছি। তখন সংবাদমাধ্যমের একটি নিজস্ব স্বকীয়তা ছিল। যেখানে তাদের কোনও গোষ্ঠীভুক্ত করা অতটা সহজ হতো না। তাদের দেশপ্রেম, আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ ছিল অনেক উঁচু দরের।
বর্তমানে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে গিয়ে কিছুটা আতঙ্কিত থাকেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে কিছুটা আতঙ্কিত থাকি সম্প্রতি প্রেসের সামনে কথা বলতে গিয়ে। মনে হচ্ছে, কোন প্রেস আমার কথাগুলো কীভাবে নেবে। তারপর তারা কীভাবে ছাপবে। অথবা সোশ্যাল মিডিয়া কীভাবে এটা উপস্থাপন করবে। এটা আমাদের জন্য, যারা আমরা রাজনীতি করি। এটা আমাদের জন্য সত্যি একটা চিন্তার বিষয়। কারণ, সম্প্রতি চরিত্র হরণ করার যে প্রবণতা বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখা দিয়েছে, এটাতে চিন্তিত না হয়ে উপায় নেই।’
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিঃসন্দেহে আগের চেয়ে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রায় ১৬ ভাগ বেড়েছে। সমস্যা দেখা দেয় তখনই, যখন দেখি কোনও কোনও সংবাদমাধ্যম গোষ্ঠী আরেকটি গোষ্ঠীকে আক্রমণ করে। কোনও কোনও রাজনৈতিক গোষ্ঠীও সেটার সঙ্গে যুক্ত হয় এবং বিভিন্ন রকম রাজনৈতিক কর্মসূচিও দেন। একটি গণতান্ত্রিক মুক্ত সমাজে এটা কতটুকু গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে এটি আমার বোধগম্য নয়।
সংস্কারের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের বিপক্ষে প্রচার চালানো হয় যে আমরা সংস্কারের বিপক্ষে। প্রায়ই বলা হয়, সংস্কার নয় আমরা নির্বাচন চাই। অথচ সংস্কারের বিষয়টি শুরু করেছে বিএনপি। দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা এনেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। অনেক আপত্তি সত্ত্বেও বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সংবিধানে যুক্ত করেছে। এগুলো বাস্তবতা। ওই বাস্তবতা থেকে অযথা নানা ইস্যুতে বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা একটি ট্রানজেকশন পিরিয়ডে আছি। অনেক রকমের ঘটনা, টানা- হেঁচড়া চলছে। গণতন্ত্রই নেই বলে সংকট হচ্ছে। গত ১৫ বছর ধরে লড়াই করলাম গণতন্ত্র উত্তরণের জন্য। চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি ফ্যাসিস্ট রেজিমকে সরিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শুরু করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এসময়ে জনগণের ওপর আস্থা রাখতে হবে।’
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, আমাদের কাছে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ একটি বিশাল ব্যাপার। এটাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় আমাদের চিন্তা। এজন্য, আমরা সেটার জন্য লড়াই করেছি, যুদ্ধ করেছি, প্রাণ দিয়েছি। দীর্ঘ ৯ মাস অবিশ্বাস্য রকমের কষ্টের মধ্য দিয়ে পার করেছি। সেই জায়গায় আমরা কোনও আপস করতে চাই না। এটাকে অনেকে পছন্দ করতে পারেন, নাও করতে পারেন। তাতে ব্যক্তিগতভাবে আমি কিছু মনে করি না। কারণ ‘দ্যাট ইজ মাই বেসিস’, ওটাই আমার মূল ভিত্তি।
সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি মাহফুজ আনাম। আলোচনা সভায় রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
সম্পাদকদের মধ্যে বক্তব্য দেন দ্য নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবির, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ। আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, সমকালের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী, দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে দেশে বর্তমানে ২৬৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা অথবা সহিংসতা–সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে মামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি মাহ্ফুজ আনাম। তিনি বলেছেন, গণহারে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের আক্রমণ (মামলা) স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থি এবং এটি ভয়ের ব্যাপার।
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার শাসনামল এত জনধিকৃত হয়েছিল, তার অন্যতম কারণ ছিল গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছিল না। আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং আরও অনেক আইনের শিকার হয়েছিলাম। তবে বর্তমানে ২৬৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা অথবা সহিংসতা–সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে মামলা চলছে। এটা কীভাবে সম্ভব? ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও ২০০ বা কিছু বেশি সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। ২৬৬ জন সাংবাদিক আজকে খুনের মামলা অথবা সহিংসতা সংক্রান্ত অপরাধের মামলার আসামি। এটা আমাদের জন্য অসম্মানের।’
সরকারের উদ্দেশে মাহ্ফুজ আনাম বলেন, ‘এটার অর্থ এই নয় যে কেউ দোষ করেননি। দোষ করে থাকলে সঠিকভাবে মামলা করে শাস্তি দেন এবং আমরা কোনোভাবেই তার পাশে দাঁড়াব না, যদি তিনি সত্যিকার অর্থে সমাজের বিরুদ্ধে বা জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের বিরুদ্ধে তার অবস্থান সে রকম থাকে। কিন্তু আজকে ছয় থেকে সাত মাস হয়েছে, তারা এসব মামলায় পড়েছেন। একটি কদমও এগোয়নি তদন্তের ব্যাপারে।’
যাদের নামে মামলা হয়েছে, সেসব সাংবাদিক একটা ভয়ের মধ্যে থাকেন উল্লেখ করে মাহ্ফুজ আনাম বলেন, তাঁরা ‘মব আক্রমণের’ (দলবদ্ধভাবে আক্রমণ) ভয়ে থাকেন। এ রকম দু-একটা ঘটনা ঘটেছে।
১৩ জন সাংবাদিক গ্রেপ্তার আছেন উল্লেখ করে মাহ্ফুজ আনাম বলেন, ‘তারা যদি অপরাধ করে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তাদের বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু আজকে সাত মাস, আট মাস ধরে কারাগারে, তারা জামিন পাচ্ছেন না। তাঁদের আইনি কোনো প্রক্রিয়া চলছে না। বিচার হচ্ছে না। তাহলে এটা কি চলতে থাকবে?’
মামলার প্রবণতার কথা বলতে গিয়ে মাহ্ফুজ আনাম বলেন, এখন মামলার যে প্রবণতা, তাতে ১০০ জন, ৫০ জন, ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তার মধ্যে একজন সাংবাদিকের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হলো।
সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে করণীয় সম্পর্কে নিজের মতামত তুলে ধরে মাহ্ফুজ আনাম বলেন, ‘আমার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব হচ্ছে, সরকারের হয়তো অনেক ব্যস্ততার জন্য এই ২৬৬ জন সাংবাদিকের মামলা দেখতে পাচ্ছে না। কিন্তু তারা দৈবচয়ন ভিত্তিতে ১০-১৫টি মামলা দেখুক না, যেখানে ২০-২৫ জন অভিযুক্তের মধ্যে একজন-দুজন সাংবাদিক আছেন। তারা যদি একটা, দুইটা, ৫টা দৃষ্টান্ত পায় যে সাংবাদিকদের নামে হওয়া মামলা মিথ্যা মামলা, তাহলে কেন পদক্ষেপ নেবে না? বারবার বলা আমাদের কিছু করণীয় নাই, আমি মনে করি যারা এই মামলা দিয়ে সাংবাদিকদের হেনস্তা করছেন, এতে তাদের আরও বলিষ্ঠ করা হয়। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমি দাবি করছি, সরকার সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়াক।’
ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম বলেন, ‘যে সাংবাদিক দোষী, যে সাংবাদিকের শাস্তি হওয়া উচিত, আমরা সরকারের পক্ষে থাকব। কিন্তু খামোখা একেবারে গণআকারে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এই আক্রমণ আমি মনে করি এটা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বিরাট একটা পরিপন্থি ব্যাপার ও এটা ভয়ের ব্যাপার।’
অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সরকার পরিবর্তনের সরকার, এই সরকার সংস্কারের সরকার। আশা করি, এই সরকার গণতন্ত্রকে বলিষ্ঠ করার সরকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে দৃঢ় করার সরকার। কিন্তু এই মুহূর্তে মামলার মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যে নির্যাতন হচ্ছে এবং এটাও শুনেছি হত্যা মামলা দেওয়া হয় কেন, হত্যা মামলায় জামিন পেতে অসুবিধা হয়। সুতরাং যিনি মামলা দিচ্ছেন পরিকল্পিতভাবে, যাতে জামিন না পান। এগুলো তো প্রতীয়মান। সরকারের কাছে কি প্রতীয়মান হবে না?’
সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে মাহ্ফুজ আনাম বলেন, ‘আইন, স্বরাষ্ট্র ও অন্যান্য যারা আছেন, তারা উদ্যোগী হয়ে যেন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এটা শুধু আমাদের মনঃক্ষুণ্ন করছে না, বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।’
আলোচনা সভায় মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘যে দেশে প্রশ্ন করার জন্য সাংবাদিকের চাকরি যায়, সে দেশে মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালন করছি আমরা। অবাক লাগে, আমি বিস্মিত হই, জানি না, আমি কাকে দায়ী করব? আমি কি সরকারকে দায়ী করব, না, আমি কি মালিককে দায়ী করব, না করব না, সাংবাদিক ইউনিয়ন কী করছে বা আমাদের সম্পাদক পরিষদ, যেটিতে আমি প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এখন পর্যন্ত আছি, আমি মনে করি আমরাও ব্যর্থ হয়েছি।’
মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘যা-ই হোক আত্মসমালোচনা আমাদের দরকার, আমরা আসলে কতটুকু করতে পেরেছি। তবে এটা স্বীকার করতেই হবে, পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে অনেকখানি। এক বছর আগে যে অবস্থা ছিল, সেই অবস্থা এখন আর নেই। অনেকখানি বদলেছে।’
গণমাধ্যমে অনৈক্য ও বিভাজন সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে উল্লেখ করে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আমি আশা করব, পত্রিকায় পত্রিকায়, ইদানীং আবার টেলিভিশনে টেলিভিশনের মধ্যে যে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে, এটি অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।’
নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, ‘বাংলাদেশে আজকের দিনে যখন মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালন করছেন, ঠিক তার এক বছর আগেও সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে এই দিবসটি পালন করেছিলেন। কিন্তু এই দুদিবসের মধ্যে অনেক অনেক পার্থক্য সূচিত হয়েছে। কিংবা পার্থক্য সূচিত হওয়ার লক্ষণগুলো দেখা দিয়েছে।’
নূরুল কবীর বলেন, ‘সেটা আমরা কতটা ইতিবাচক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারি, এটা কেবল গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর নির্ভর করে না, সেটা নির্ভর করে প্রধানত রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন, যারা আইন প্রণয়ন ও পরিবর্তন করেন, তাদের ওপরও অনেকাংশে নির্ভর করে।’
আলোচনায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে অনেক গণমাধ্যম বন্ধ হয়েছে, তারাও অনেক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন, সেগুলো আর ভবিষ্যতে চাইবেন না। জনগণের সমর্থন নিয়ে যারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবে, তারা মুক্ত গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সভায় বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদক ছাড়াও রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, সমকালের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী, দৈনিক সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার করিম প্রমুখ।
২৩ মে সারা দেশে হেফাজতের বিক্ষোভ কর্মসূচি
নারীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় আগামী তিন মাসের মধ্যে বিভাগীয় সম্মেলন এবং নারী সংস্কার কমিশন বাতিলসহ চার দফা দাবিতে আগামী ২৩ মে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
শনিবার (৩ মে) দুপুরে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসমাবেশে নতুন এই দুই কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনটির মহাসচিব সাজিদুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘নারীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় আগামী তিন মাসের মধ্যে বিভাগীয় সম্মেলন করা হবে। আগামী ২৩ মে বাদ জুমা চার দফা দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।’
এর আগে, হেফাজত ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত নারী কমিশনের সুপারিশ বাতিলসহ ১২ দফা ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
মহাসমাবেশে বক্তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো নীতি বাস্তবায়ন করা যাবে না। এক্ষেত্রে আমরা কোনো ছাড় দেবো না। এই বিতর্কিত কমিশন ও কোরআনবিরোধী প্রতিবেদন অবিলম্বে বাতিল করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম অংশীদার আলেম-ওলামার পরামর্শ নিয়ে নতুন কমিশন গঠন করুন।
পাশাপাশি শাপলা চত্বরে সংঘটিত গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তারা। বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন দিতে প্রস্তুত। কিন্তু কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
বক্তারা বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য কমিশন হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের গণহত্যার জন্য কমিশন হয়েছে, কিন্তু মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত গণহত্যার বিচারের জন্য কেন তদন্ত কমিশন গঠন হবে না?
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হলেও হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে করা মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। এসব মামলা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান তারা।
নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন সম্পর্কে সমালোচনা করে হেফাজতে ইসলামের নেতারা বলেন, নারীবিষয়ক যে সংস্কার কমিশন, তাতে যেসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তা কুরআন-সুন্নাহবিরোধী। তাদের সংস্কার প্রতিবেদন যদি পাস করা হয় তাহলে জীবন দিয়ে তা রুখে দেওয়া হবে। মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে হেফাজতে ইসলাম।
মহাসমাবেশ থেকে ফিলিস্তিন ও ভারতে ‘মুসলিম গণহত্যা ও নিপীড়ন বন্ধে’ সরকারকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি পাকিস্তানের
রাশিয়ায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ খালিদ জামালি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি ভারত পাকিস্তানে হামলা চালায় অথবা সিন্ধু নদের পানির সরবরাহে বাধা দেয়, তবে ইসলামাবাদ তার সামরিক শক্তির পুরোটা ব্যবহার করবে। এমনকি, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পথও বেছে নেবে। রুশ সম্প্রচারমাধ্যম আরটি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত জানান, ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানে সামরিক হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। তিনি বলেন, ফাঁস হওয়া কিছু নথিতে দেখা গেছে, পাকিস্তানের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। এতে আমাদের মনে হচ্ছে হামলা আসন্ন। এমনটি হলে আমরা আমাদের সম্পূর্ণ শক্তি- সাধারণ এবং পারমাণবিক উভয়ই ব্যবহার করব।
এদিকে, ভারতের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের বিষয়ের জামালি বলেন, নিম্ন অববাহিকায় পানির প্রবাহ আটকে দেওয়া, দিক পরিবর্তন কিংবা আত্মসাৎ করার যেকোনো চেষ্টাই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য। আমরা পূর্ণ শক্তি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাব।
এর আগে, পাকিস্তানের মন্ত্রী হানিফ আব্বাসি প্রকাশ্যে ভারতকে পারমাণবিক প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, পাকিস্তানের অস্ত্রাগার- ঘোরি, শাহিন ও গজনবী ক্ষেপণাস্ত্রসহ ১৩০টি পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রে বলীয়ান। যেগুলো শুধু ভারতের জন্য ও তাদের দিকেই তাক করা রয়েছে। এ ছাড়া আব্বাসি বলেছিলেন, যদি ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করে পাকিস্তানের প্রাপ্য পানি সরবরাহ বন্ধ করার সাহস করে, তাহলে তাদের পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়া উচিত।
এর আগে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেছিলেন, ভারতের সামরিক অনুপ্রবেশ আসন্ন এবং পাকিস্তান সে বিষয়ে সতর্ক। নিজেদের অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি থাকলে ভারতের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকেই দায়ী করেছে। যদিও পাকিস্তান এতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
‘ভারতের সঙ্গে বড় যুদ্ধের শঙ্কা নেই’
পাকিস্তানের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মুঈদ ইউসুফ বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা নেই, তবে সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কাশ্মীরের পেহেলগামে সাম্প্রতিক বন্দুক হামলার প্রেক্ষাপটে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই কথা বলেন তিনি।
ইউসুফ বলেন, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কোনো কার্যকর দ্বিপাক্ষিক সংকট ব্যবস্থাপনা কাঠামো নেই। উভয় দেশই তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভর করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল অনুসরণ করে থাকে। এখন যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে, তা পূর্ববর্তী সংকটগুলোর তুলনায় আরও কঠোর। উদাহরণ হিসেবে ভারত সিন্ধু চুক্তি স্থগিত করেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে বৈধ নয়।
আসন্ন যুদ্ধে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ইউসুফ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বড় যুদ্ধের দিকে যাওয়ার আশঙ্কা কম। তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে, আর একটি ছোট ভুলও বড় সংঘর্ষে পরিণত হতে পারে। আমরা নিশ্চিত নই কী হতে যাচ্ছে। কিন্তু সব আশঙ্কার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।


