Home Blog Page 427

ঈদের ছুটিতেও ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে সিএনজি ফিলিং স্টেশন

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো ঈদের দিনসহ মোট ১৩ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। বুধবার ( ৪ জুন)  জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদুল আজহার আগের ৭ দিন, ঈদের দিন এবং ঈদের পরের ৫ দিন অর্থাৎ মোট ১৩ দিন সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো সার্বক্ষণিক খোলা রাখতে হবে।

এই নির্দেশনার ফলে ঈদে ঘরমুখো এবং ঈদ উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের যানবাহন চলাচলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪

ভারতের উত্তর-পূর্বের বেশ কয়েকটি রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ জনে। এর মধ্যে কেবল আসামেই ১৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বুধবার (৪ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত এসব রাজ্যে বন্যা ও ভারী বৃষ্টির কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্য আসাম, যেখানে প্রাণহানি ঘটেছে ১৭ জনের।

অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলোর মধ্যে অরুণাচল প্রদেশে ১২ জন, মেঘালয়ে ৬ জন, মিজোরামে ৫ জন, ত্রিপুরায় ২ জন এবং নাগাল্যান্ড ও মণিপুরে ১ জন করে মারা গেছেন। সাত রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের বেশিরভাগই পানিতে ডুবে, ভূমিধস, পানিবন্দি অবস্থায় দুর্ঘটনা ও অন্যান্য কারণে মারা গেছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসাম ও সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী এবং মণিপুরের রাজ্যপালের সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। আসামে অন্তত ২১টি জেলায় ৬ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ব্রহ্মপুত্রসহ কয়েকটি প্রধান নদী এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অরুণাচল প্রদেশে অসংখ্য ঘরবাড়ি, রাস্তা, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মিজোরামে ভূমিধস ও বন্যায় ৫ জন মারা গেছেন, যাদের মধ্যে ৩ জন মিয়ানমার থেকে আসা শরণার্থী। গত ১০ দিনে রাজ্যটিতে ৫০০টিরও বেশি ভূমিধস রেকর্ড করা হয়েছে।

ত্রিপুরা, মেঘালয় ও নাগাল্যান্ডে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও এখনও বহু মানুষ বিপদে রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সিরিয়ার অস্ত্রভাণ্ডারে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা

সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে একটি অস্ত্রভাণ্ডারে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সিরিয়া থেকে ইসরায়েলের দিকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কয়েক ঘণ্টা পর এই হামলা চালানো হয়। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে “সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন” এবং “অঞ্চলকে অস্থির করার চেষ্টা” বলে অভিহিত করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বুধবার (৪ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

সিরিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলের এই হামলায় “ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি” হয়েছে। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই হামলার দায় স্বীকার করে বলেছেন, ইসরায়েলের ভূখণ্ডে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর জন্য সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে দায়ী করা হবে। গত বছরের ডিসেম্বরে আহমেদ আল-শারা বিদ্রোহী বাহিনী নিয়ে বাশার আল-আসাদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই ইসরায়েল সিরিয়ার অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে।

ইসরায়েল দাবি করেছে, মঙ্গলবার সিরিয়া থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের খোলা জায়গায় আছড়ে পড়েছিল, তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

সিরিয়ার সরকারি বার্তায় বলা হয়েছে, “এই হামলা আমাদের সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন এবং এটি গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিচ্ছে। সিরিয়া কখনও এই অঞ্চলের জন্য হুমকি ছিল না, ভবিষ্যতেও হবে না।”

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, “দক্ষিণ সিরিয়ার কুনেইত্রা ও দারা অঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ওই এলাকা।” এই এলাকাগুলো ইসরায়েল অধিকৃত গোলান মালভূমির সন্নিকটে অবস্থিত। ইসরায়েল ১৯৭৬ সালে সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান দখল করে এবং সেখানে বসতি সম্প্রসারণ চালিয়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ বলে বিবেচিত।

গত মাসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দামেস্কে সিরিয়ার প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেসের কাছে বোমা হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেসময় তিনি বলেন, “এই হামলার মাধ্যমে আমরা স্পষ্ট করে দিয়েছি, দামেস্কের দক্ষিণে কোনও বাহিনী মোতায়েন হতে দেওয়া হবে না।” এই বক্তব্যের পর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ওই হামলাকে সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে আয় বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ দেখিনি: নাহিদ ইসলাম

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিক্রিয়ায় দলটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া যে নতুন বাংলাদেশ, যেখানে আমাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল ধনী-গরীবের আয়ের বৈষম্য কমে আসবে। কিন্তু এই বাজেটে আমরা সেই আয় বৈষম্য কমানোর কোন কার্যকর উদ্যোগ দেখিনি।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর ফাঁকি দেয়, তাদের করের আওতায় আনার তেমন কার্যকর পদক্ষেপ নেই। এর ফলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ওপর করের চাপ অব্যাহত থাকবে। কিছু নিত্যপণ্যে কর কমানো হলেও নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ওপর যে চাপ, তা গুণগতভাবে কমবে না।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, বাংলাদেশের অর্থনীতি তখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ছিল। সবার প্রত্যাশা ছিল এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থার একটা রূপান্তর ঘটবে। গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার একটা ভিশন, অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটা নীতি এই বাজেটে মধ্যে দিয়ে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু বাজেটে আগের অর্থনৈতিক কাঠামোরই ছাপ দেখা যাচ্ছে।

বেকার সমস্যা থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, কর্মসংস্থানের আন্দোলন থেকেই কিন্তু এই গণ-অভ্যুত্থানের সূত্রপাত। ফলে তরুণদের ব্যাপকভাবে প্রত্যাশা ছিল বেকার সমস্যার সমাধান ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগ থাকবে। কিন্তু সেটি বাজেটে দেখা যাচ্ছে না। গত এক বছরে ২৬ লাখ বেকার বেড়েছে। কিন্তু কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য যে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন ছিল, সেই নীতি গ্রহণ করা হয়নি। ফলে এই বাজেট বা অর্থনৈতিক নীতি থেকে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি হবে অথবা বেকার সমস্যা কার্যকরভাবে নিরসন হবে-এমনটি মনে হচ্ছে না।

তাজউদ্দিনের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল হয় কীভাবে প্রশ্ন সারজিসের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তাজউদ্দিন আহমদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিলের বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বুধবার (৪ জুন) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তাজউদ্দিন আহমদ মাঠে থেকে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল হয় কীভাবে?”

সারজিস আলম তার পোস্টে মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, মন্ত্রণালয়ের উচিত ছিল “মুক্তিযোদ্ধার নামে সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার জন্য আওয়ামী আমলে যারা নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা সেজেছেন এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তাদেরকে খুঁজে বের করে তাদের মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল করা।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ইচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে বন্দি হয়ে বিজয়ের পর পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের জেলে বন্দি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি সরাসরি মাঠে ছিলেন না।”

সারজিস আলমের মতে, ” মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মাঠে থেকে যারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় সরাসরি অবদান রেখেছেন তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাতিল করার মতো অপ্রয়োজনীয় কাজ কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

তিনি ইতিহাসের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “ইতিহাস যেন কখনো ক্ষমতাসীনদের পক্ষের না হয়। ইতিহাসকে ইতিহাসের মতো করেই চলতে দেওয়া উচিত।”

বঙ্গবন্ধুসহ ৪ শতাধিক নেতার মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিল

১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী চার শতাধিক রাজনীতিবিদ, যাদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং তাজউদ্দীন আহমদের মতো নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরাও রয়েছেন, তাদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এখন থেকে তারা ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে পরিচিত হবেন। মঙ্গলবার (৩ মে) রাতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগ থেকে এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

নতুন এই অধ্যাদেশ শুধু মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারই নয়, আরও চার শ্রেণির স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়কে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে নির্ধারণ করেছে। এই চারটি শ্রেণি হলো:

প্রথমত, যেসব বাংলাদেশি পেশাজীবী বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশেষ অবদান রেখেছেন এবং বিশ্ব জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

দ্বিতীয়ত, যারা মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর) অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারী বা দূতসহ অন্যান্য সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তৃতীয়ত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সব শিল্পী ও কলাকুশলী এবং দেশ ও দেশের বাইরে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে দায়িত্ব পালনকারী সব বাংলাদেশি সাংবাদিক।

চতুর্থত, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল।

বাতিল হওয়া জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০২২ অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধুসহ প্রবাসী সরকারের এমএনএ বা এমপিএ এবং উল্লেখিত চার শ্রেণির সবাই বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন। নতুন অধ্যাদেশে তাদের মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী করার ফলে তাদের বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিচিতি বাতিল হয়ে গেল।

নতুন অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের প্রণীত খসড়া থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা ও মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী ধারায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের আলোকে খসড়াটি অনুমোদনের পরও দ্বিতীয় দফায় তাতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন অধ্যাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, “বীর মুক্তিযোদ্ধা অর্থ যারা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে গ্রামে-গঞ্জে যুদ্ধের প্রস্তুতি ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এছাড়া যেসব ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে হানাদার ও দখলদার পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের এ দেশে সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম এবং দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন, এই রূপ সবাই বেসামরিক নাগরিক ওই সময়ে যাদের বয়স সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সর্বনিম্ন বয়সের মধ্যে ছিল এবং সশস্ত্র বাহিনী, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর), পুলিশ বাহিনী, মুক্তিবাহিনী, প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) ও ওই সরকার কর্তৃক স্বীকৃত অন্যান্য বাহিনী, নৌ কমান্ডো, কিলো ফোর্স, আনসার সদস্য এবং বাংলাদেশের নিম্নবর্ণিত নাগরিকরাও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন, যথা (ক) হানাদার ও দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগী কর্তৃক নির্যাতিত সব নারী (বীরাঙ্গনা) এবং (খ) মুক্তিযুদ্ধকালে আহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী ফিল্ড হাসপাতালের সব ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসা সহকারী।”

অধ্যাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পরিবর্তিত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, “‘মুক্তিযুদ্ধ’ অর্থ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষায় হানাদার ও দখলদার পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে রাইফেলস, নেজামে ইসলাম এবং দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ।”

এই অধ্যাদেশ দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচিতি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৭ দিন পর সীমিত পরিসরে চালু হলো জাতীয় চক্ষু হাসপাতাল

দীর্ঘ সাত দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে  জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে সীমিত পরিসরে চিকিৎসা কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে। বুধবার (৪ জুন) সকাল পৌনে ৯টা থেকে সীমিত পরিসরে সেবা চালু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জানে আলম। এর আগে গত ২৯ মে থেকে ‘নিরাপত্তা শঙ্কায়’  হাসপাতালটিতে সেবাদান বন্ধ রেখেছিলেন চিকিৎসক-কর্মকর্তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় শতাধিক সেবা প্রত্যাশীকে হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নতুন রোগী। বাকিরা আগে থেকেই হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জানে আলম সেবাদান কার্যক্রম চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে শুধু জরুরি বিভাগের সেবা চালু করা হয়েছে। তবে জরুরি চিকিৎসার পর যদি কারো বাড়তি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তাহলে আপাতত তা দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, সবেমাত্র হাসপাতাল খুলেছে এবং প্রাথমিকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ মে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসক-কর্মচারীদের হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার জেরে চিকিৎসক-কর্মচারীরা নিরাপত্তা শঙ্কায় হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছিলেন। চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের এই অচলাবস্থা নিরসনে গত ৩১ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাসপাতালটিতে প্রতিনিধিদল পাঠানোর কথা জানিয়েছিল।

আমেরিকার সাথে বাণিজ্য সংলাপ: বাজেটে ৬২৬ পণ্যে শুল্ক ছাড়

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আসন্ন বাণিজ্য সংলাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সরকার ৬২৬টি পণ্যের ওপর শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে।  সোমবার (২ জুন) অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ তাঁর বাজেট বক্তৃতায় এ তথ্য জানান।

অর্থ উপদেষ্টা জানান, আমদানি পণ্যের শুল্ক-কর হার পর্যায়ক্রমে কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায়, ১১০টি পণ্যের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হবে, ৬৫টি পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানো হবে, ৯টি পণ্যের সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করা হবে এবং ৪৪২টি পণ্যের সম্পূরক শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই শুল্ক ছাড়ের ফলে জনগণের ওপর করের বোঝা কিছুটা কমবে এবং পণ্য রপ্তানিতে ‘অ্যান্টি এক্সপোর্ট বায়াস’ (রপ্তানি বিরোধী প্রবণতা) হ্রাস পাবে।

নারী বিশ্বকাপও হাইব্রিড মডেলে! পাকিস্তান খেলবে শ্রীলঙ্কায়

পুরুষদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর এবার নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপও হাইব্রিড মডেলে আয়োজিত হতে চলেছে। ভারতের মাটিতে পাকিস্তানের ম্যাচ আয়োজন নিয়ে জটিলতা এড়াতে আইসিসি এবার শ্রীলঙ্কাকে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে বেছে নিয়েছে। পাকিস্তানের কোনো ম্যাচই ভারতের মাটিতে হবে না; বরং শ্রীলঙ্কার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামেই তাদের ম্যাচগুলো গড়াবে। এমনকি পাকিস্তান সেমিফাইনাল বা ফাইনালে উঠলেও সেই ম্যাচগুলো ভারতে হবে না, অনুষ্ঠিত হবে কলম্বোতেই।

সোমবার আইসিসি নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের ভেন্যু ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের সূচি ঘোষণা করেছে। এতে পরিষ্কার হয়েছে, মূল আয়োজক ভারতের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামকেও একটি ভেন্যু হিসেবে রাখা হয়েছে।

এবারের নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো মোট পাঁচটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে চারটি ভারতের বিভিন্ন শহরে এবং অন্যটি শ্রীলঙ্কার কলম্বোয়। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই টুর্নামেন্ট। এতে আটটি দল অংশ নেবে এবং রাউন্ড-রবিন ফরম্যাটে ২৮টি লিগ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

যদিও এই বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের জন্য বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামকে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, পাকিস্তান দল যদি ফাইনালে ওঠে, তাহলে ফাইনাল ম্যাচ শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে আসরের প্রথম সেমিফাইনাল ২৯ অক্টোবর গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত হবে। তবে, পাকিস্তান গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারলে সেই খেলাও কলম্বোতে স্থানান্তরিত হবে। দ্বিতীয় সেমিফাইনাল পরদিন বেঙ্গালুরুতে।

এফডিসিতে রামদা হাতে যুবক, খুঁজছিলেন শাকিব খানকে!

গত শনিবার (৩১ মে) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলো। রামদা হাতে একজন যুবক সেখানে ঢুকে পড়েন এবং অভিনেতা শাকিব খানকে খুঁজতে থাকেন, যার কাছে তিনি টাকা পান বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনায় মানিক মিয়া নামের ওই যুবককে আটক করেছে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ।

জানা গেছে, যুবকটি ‘গলুই’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় কাজ করেছিলেন এবং সেই কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে শাকিব খানের কাছে টাকা পান বলে দাবি করছিলেন।

নির্মাতা গাজী মাহবুব গণমাধ্যমকে জানান, “হঠাৎ হৈচৈ শুনে আমরা বেরিয়ে দেখি এক যুবক চাপাতি হাতে ভাঙচুর করছে আর চিৎকার করে শাকিব খানের নাম ধরে ডাকছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, শাকিব খানের কাছে তার পাওনা টাকা আছে এবং সে শাকিব খানকে খুঁজতে এফডিসিতে এসেছে।”

গাজী মাহবুব আরও বলেন, যুবকটি নিজেকে জামালপুরের বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় এফডিসি কর্তৃপক্ষ মামলা করেছে এবং আটককৃত যুবককে রবিবার (১ জুন) আদালতে পাঠানো হয়েছে। যদিও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক ওই যুবককে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে উল্লেখ করেছেন।