Home Blog Page 431

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৫১ ফিলিস্তিনি নিহত

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নির্মম গণহত্যা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। দখলদার বাহিনীর নৃশংস হামলায় গত ২৪ ঘন্টায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডটিতে আরও ৫১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এনিয়ে দেশটিতে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫২ হাজার ৪০০ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়াহুদিবাদী ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে আরও ৫১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি আগ্রাসনে ভূখণ্ডটিতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫২ হাজার ৩৬৫ জনে পৌঁছেছে।

মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি আক্রমণে আহত হওয়া আরও ১১৩ জনকে গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এর ফলে সংঘাতের শুরু থেকে আহতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯০৫ জনে পৌঁছেছে। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে থাকলেও উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেননি।

দীর্ঘ ১৫ মাস সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল। তারপর প্রায় দু’মাস গাজায় কম-বেশি শান্তি বজায় ছিল; কিন্তু গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে হামাসের মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে মার্চ মাসের তৃতীয় গত সপ্তাহ থেকে ফের গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় নতুন করে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২৭৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৫ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের বর্বর এ হামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে দিয়েছে।

জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। এছাড়া অবরুদ্ধ এ ভূখণ্ডের অধিকাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। অবরুদ্ধ এ ভূখণ্ডে আগ্রাসনের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখিও হয়েছে ইসরায়েল।

পাকিস্তানকে ভয়ংকর ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে চীন

জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়েছে। আর এমন সময়েই পাকিস্তানকে সামরিকভাবে শক্তিশালী করে তুলতে মাঠে নেমেছে চীন। জানা গেছে, জরুরি ভিত্তিতে ইসলামাবাদের কাছে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করছে বেইজিং। চীন থেকে অত্যাধুনিক পিএল-১৫ আকাশ থেকে আকাশ (এয়ার টু এয়ার) ক্ষেপণাস্ত্র হাতে পেয়েছে পাকিস্তান বিমানবাহিনী।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফাস্টপোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি পাকিস্তানের হাতে অত্যাধুনিক পিএল-১৫ আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র তুলে দিয়েছে চীন।

খবরে বলা হয়, গত ২৭ এপ্রিল পাকিস্তানের বিমান বাহিনী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনটি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান-এর ছবি প্রকাশ করে, যা চীনা পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত ছিল। এই যুদ্ধবিমানগুলোর ছবি প্রকাশের মাধ্যমে পাকিস্তান পরোক্ষভাবে ভারতের প্রতি একধরনের ‘শক্তি প্রদর্শন’ করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, জেএফ-১৭ বিমানগুলোর ডিজাইন ও উৎপাদন হয়েছে চীন-পাকিস্তান যৌথ উদ্যোগে। এই জেটগুলো এখন পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর অন্যতম শক্তি। নতুন ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হওয়ার ফলে এগুলোর আকাশযুদ্ধে সক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে গেছে।

চীনের সরকারি সংস্থা অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন অফ চায়না (AVIC) নির্মিত পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রটি রাডার নিয়ন্ত্রিত সক্রিয় অস্ত্র, যা প্রায় ২০০-৩০০ কিলোমিটার দূরত্বে থাকা শত্রু বিমানকে লক্ষ্য করে ধ্বংস করতে সক্ষম। এর গতি ম্যাক ৫ প্লাস (শব্দের গতির ৫ গুণ) বলে দাবি করা হয়।

চলতি দশকে পিএলএ (চীনের বিমানবাহিনী) এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার শুরু করে এবং ২০২৩ সালের ঝুহাই এয়ারশোতে এর উন্নত সংস্করণ, ভাঁজযোগ্য পাখাসহ সংস্করণ প্রদর্শন করে। যদিও এক্সপোর্ট ভার্সনের পাল্লা প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার বলা হয়, তবে প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, পাকিস্তানের হাতে থাকা সংস্করণটির পাল্লা এর চেয়েও বেশি।

ভারতের বিমান সেনার অন্যতম শক্তিশালী যুদ্ধবিমান রাফাল ফাইটার জেট, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ইউরোপীয় মিটিওর ক্ষেপণাস্ত্র- বিয়ন্ড ভিস্যুয়াল রেঞ্জ (BVR) যুদ্ধক্ষেত্রে অন্যতম সেরা বলে পরিচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রটিকে প্রায়ই মিটিওরের প্রতিযোগী বলে বিবেচনা করা হয়।

প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, চীন সংঘাতময় পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে কৌশলগতভাবে ইসলামাবাদকে সহায়তা করছে।

কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনায় ভারত-পাকিস্তান এখন একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে। এই পরিস্থিতিতে চীনের এমন পদক্ষেপ দুই প্রতিবেশী পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ানোর আশঙ্কা সৃষ্টি করছে। ইউরেশিয়ান টাইমস এবং প্রতিরক্ষা সংবাদমাধ্যম ক্ল্যাশরিপোর্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, চীন ভবিষ্যতেও পাকিস্তানকে আরও উন্নত অস্ত্র সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান আকাশ যুদ্ধে ভারতকে চ্যালেঞ্জ করার সক্ষমতার দিকে এগোচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের উচিত নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং বিদেশি মিত্রদের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করা।

সারজিসের অপকর্মের গোমর ফাঁস করলেন রাশেদ!

রংপুরে গাড়ির বহর নিয়ে রাজনৈতিক প্রচারাভিযান, বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ইত্যাদি ইস্যুতে সমালোচনার মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। এসব অভিযোগকে ‘অপপ্রচার’ হিসেবে দাবি করে রবিবার নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি বিস্তারিত পোস্ট দেন তিনি।

সেখানে তিনি দাবি করেন, পাঁচ আগস্টের পর থেকে তিনি কোনো অবৈধ অর্থ গ্রহণ বা অনৈতিক সুপারিশের সঙ্গে জড়িত হননি।

সারজিস তার পোস্টে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন। তিনি রাশেদ খানের নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান প্রপাগান্ডা ছড়িয়েছেন।

আমি তাকে চ্যালেঞ্জ করছি, তিনি যদি আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে আমি রাজনীতি ছাড়ব আর না পারলে তিনি রাজনীতি ছাড়বেন।’

সারজিসের চ্যালেঞ্জের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাশেদ খান নিজের ফেসবুকে দীর্ঘ এক জবাব পোস্ট করেন। সোমবার ‘সারজিস আলমের পোস্টের জবাব’ শীর্ষক লেখায় রাশেদ খান বিস্ফোরক তথ্য উপস্থাপন করেন রাশেদ খান।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান বলেছেন, ‘কয়েকদিন আগে সারজিস আলম আমাকে কল করেন। এক ঘণ্টার অধিক সময় মোবাইলে তার সাথে কথোপকথন হয়।

তিনি আমার কাছে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। বিস্তারিত আলাপ তুলে ধরতে হলে অনেক কথা লেখা লাগবে। কথোপকথনের সারসংক্ষেপ হলো, আমি তার সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করছি।

তিনি ভুল ভাঙাতে চেষ্টা করেন ও আমাকে বলেন, আমি যেন তাকে নিয়ে একটা পজিটিভ পোস্ট করি। কিন্তু আমি করিনি, কারণ আমি যে-সকল বক্তব্য দিয়েছি, তার যথেষ্ট আলামত ও তথ্য উপাত্ত রয়েছে।’

দুর্নীতি ও সচিবালয়ে তদবির বাণিজ্যের অভিযোগে সম্প্রতি গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে দল থেকে অব্যাহতি দেয় এনসিপি। তানভীরের সঙ্গে সারজিস আলম নানাভাবে যুক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন রাশেদ খান। পোস্টে তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করে লিখেছেন, ‘ছাত্র সমন্বয়ক নামধারী গাজী সালাউদ্দীন তানভীর সচিবালয়ে নিজেকে সারজিস ও হাসনাতের পরামর্শে আসার কথা স্বীকার করেন।’

তথ্যপ্রমাণ হিসেবে তিনি ছবি ও দৈনিক যুগান্তর সংবাদদের লিংক উপস্থাপন করেছেন। এছাড়াও রাশেদ খানের পোস্ট করা অন্য একটি ছবিতে দেখা যায়, আট মাস আগে আনসার ক্যু-এর দিন গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে নিয়ে সচিবালয় থেকে বের হচ্ছেন সারজিস আলম ।

রাশেদ খান আরও লিখেছেন, ‘সারজিসের প্রভাব খাটিয়ে ডিসি নিয়োগের প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেন তানভীর। আনসার ক্যু-এর দিন সারজিসের সাথে তানভীর কেন সচিবালয়ে প্রবেশ করলেন ও একসাথে বের হলেন?’

রাশেদ খান আরও লিখেছেন, ‘ডিসি নিয়োগের কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত তানভীর যে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব হয়েছেন, সেই তথ্যও কেউ জানতো না।

সেটিও আমি সারজিস আলমের ঘনিষ্ঠজন থেকে পেয়েছি। এখন প্রশ্ন হলো, একজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কেন সারজিস এনসিপিতে পদ দিতে রেফারেন্স করলেন? এর প্রেক্ষিতে আমি সারজিসকে প্রশ্ন করি। সে আমাকে উত্তর দেন, শুধু কি আমি একাই রেফারেন্স করেছি, আর কেউ করেননি?

কথোপকথনের সময় হাসনাতের নাম আসে। তখন, তিনি বলেন, তাহলে কেন আপনি শুধু আমার নাম নেন? এনসিপি সূত্রমতে, গাজী সালাউদ্দীন তানভীরের সাথে সারজিস ও হাসনাতের দুজনেরই ঘনিষ্ঠতা আছে।

যেটা সারজিসও স্বীকার করেছেন। এবং তাদের দুজনের রেফারেন্সই ডিসি নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে জড়িত ব্যক্তি এনসিপির মত তরুণদের দলে গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা না থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিয়েছে!’

রাশেদ খান আরও লিখেছেন, ‘দ্বিতীয়ত, যখন এনসিটিবির কেলেঙ্কারি সামনে আসে, তখন রাখাল রাহাকে নিয়ে সারজিস পোস্ট করলেও গাজী সালাউদ্দীন তানভীরের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান। কেন গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে এড়িয়ে গেলেন সারজিস? তার সাথে ঘনিষ্ঠতা এজন্য?

ডিসি কেলেঙ্কারির সাথে অভিযুক্ত থাকা ব্যক্তি পুনরায় কাদের সহযোগিতায় এনসিটিভিতে কাজ করার সুযোগ পেলেন?’

গাজী সালাউদ্দিন তানভীর সাদা প্রাডো গাড়ি নিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসে যেতেন তার প্রমাণ হিসেবে ছবি উপস্থাপন করে রাশেদ খান লিখেছেন, ‘তৃতীয়ত, তানভীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাদা প্রাডো গাড়ি নিয়ে যেতেন, কারা কারা তার গাড়ির অপেক্ষায় থাকতেন? ছবি দেখলেই তা বোঝা যাবে।’

রাশেদ খান আরও লিখেছেন, ‘চতুর্থত, যখন গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসানের উপর শহীদ মিনারে যে-সকল আহতলীগের সদস্যরা হামলা করে, এদের জমিন করাতে সহযোগিতা করে সারজিস আলম ও জুলাই ফাউন্ডেশনের মীর মুগ্ধের ভাই স্নিগ্ধ।

গ্রেপ্তারের ১১ ঘণ্টার মধ্যে জামিন পায় তারা। এই জামিনের নেপথ্যেও ছিলেন সারজিস আলম।’

রাশেদ খান আরও লিখেছেন, ‘এছাড়া গণমাধ্যমে সারজিসের বিষয়ে সেসব তথ্য এসেছে, আমি সেগুলো নিয়ে বিভিন্নসময় কথা বলেছি। এমনকি এনসিপির কয়েকজন নেতাও আমাকে বেশকিছু তথ্য দিয়েছেন।

বিশেষ করে তার বিরুদ্ধে আওয়ামী পুনর্বাসনের অভিযোগ (একজন সাংবাদিক প্রমাণসহ পোস্ট করেছেন) এবং বিভিন্নসময় ডা. জারাসহ তাদের নেতাদের পোস্টের আলোকে বিভিন্নসময়ে মন্তব্য করেছি। সারজিসের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব তার দল ও সরকারের।

তার যদি চ্যালেঞ্জ করতে এতোই মন চাইতো, তবে সংবাদ ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারতেন। কিন্তু সাত মাসেও তিনি সেই চ্যালেঞ্জ করেননি!

অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কেন তিনি এতো আশ্রয়প্রশয় দেন? কার সহযোগিতায় তানভীর সচিবালয়ে ও এনসিটিবিতে ঢুকলেন? এসবের তদন্তে সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কেন তদন্ত কমিটি গঠন করছে না? তাহলেই তো জানা যাবে, সারজিস আলম দোষী না নির্দোষ?’

অপকর্ম বন্ধ করুন, নইলে বিএনপিকেও জনগণ ছুড়ে মারবে: মির্জা ফখরুল

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অপকর্ম বন্ধ করুন। না হলে আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিকেও জনগণ ছুড়ে মারবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা যেন আওয়ামী লীগের মতো অন্যায় না করে। এতে মানুষ ভালোবাসবে না। দলের কোনো নেতাকর্মী অন্যায় করলে যাতে জেলার নেতারা তাদের শক্ত হাতে দমন করেন অথবা পুলিশের হাতে তুলে দেন।

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নে মোলানী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গণসংযোগের সময় দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‌‘আমরা মনস্টার (দানব) ডাইনির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি। তারা (আওয়ামী) এমন কোনো খারাপ কাজ নাই যা করেনি। দেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলের মানুষকে হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আপনার দেখেছেন ৫ আগস্টের দিনে সাধারণ মানুষ শেখ হাসিনাকে পালাবার সময়টুকুও দেয়নি। সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে দিয়েছে ফ্যাসিবাদ হাসিনা সরকার। খারাপ কাজ করেছে বলে সাধারণ মানুষ তাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে।’

এসময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, পারলে দেশে এসে মামলা লড়েন।

আজ থেকে শুরু হল পুলিশ সপ্তাহ

‘পুলিশ সপ্তাহ’ শুরু হচ্ছে আজ। চারদিনের এ আয়োজন চলবে ২ মে পর্যন্ত। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটোরিয়ামে ‘পুলিশ সপ্তাহ’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং পদক প্রদান করবেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষ্যে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটোরিয়ামে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হবে।

তারা জানান, পুলিশ সপ্তাহ ঘিরে বাহিনীর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের তৎপরতা শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন ইউনিটের প্রেজেন্টেশনে নিজ নিজ ইউনিটের চ্যালেঞ্জগুলো উপস্থাপন করা হবে। এছাড়াও জনমনে আস্থা ফেরাতে জনবান্ধব পুলিশ হতে লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানো, গবেষণা বৃদ্ধিসহ একগুচ্ছ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষ্যে বুধবার সকালে পুলিশ অডিটোরিয়ামে এসবি, সকাল সোয়া ৯টায় সিআইডি, সকাল ১০টায় র‌্যাবের প্রেজেন্টেশন, পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিবের বৈঠক, ট্যুরিস্ট পুলিশ, পিবিআই ও এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের (এটিইউ) প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হবে।

পরদিন ১ মে আইজির ব্যাজ প্রদান ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্মেলন এবং বিভিন্ন শ্রেণির নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা, পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ও পুলিশ অফিসার্স মেসের বার্ষিক সাধারণ সভা, অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে বর্তমান পুলিশ কর্মকর্তাদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান এবং নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হবে।

এরপর ২ মে বার্ষিক পুনাক সমাবেশ ও আনন্দ মেলা এবং পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির স্টলের পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী হবে।

লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে বাংলাদেশকে অনুরোধ জাতিসংঘের

মিয়ানমারের রাখাইন থেকে আসা নতুন ১ লাখ ১৩ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক অঙ্গ সংস্থা ইউনাইটেড নেশনন্স রিফিউজি এজেন্সি (ইউএনএইচসিআর)। সোমবার এই অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত সরকারি সংস্থা রিফিউজি রিলিফ অ্যান্ড রিপ্যাট্রিশন কমিশনের কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা আনাদোলুকে এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, “গত সপ্তাহে আমাদের চিঠি দিয়েছে ইউএনএইচসিআর। সেখানে মিয়ানমার থেকে উচ্ছেদ হয়ে বাংলাদেশে আসা নতুন প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গাকে আশ্রয় প্রদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।”

মিজানুর রহমান জানান, নতুন এই রোহিঙ্গাদের অনেকে বর্তমানে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের আশেপাশে তাঁবু গেড়ে বসবাস করছেন। অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন স্কুল এবং মসজিদে।

বাংলাদেশের একটি জাতীয় দৈনিকের বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, নতুন এই ১ লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গা ২৯ হাজার ৬০৭টি পরিবারের সদস্য। এই পরিবারগুলোর মধ্যে শুধ গত সপ্তাহেই এসেছে ১ হাজার ৪৪৮টি পরিবার। এদের প্রায় সবাই রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা এবং নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে এসেছেন।

“ইউএনএইচিসিআর নতুন আগত রোহিঙ্গাদের সবাইকে শিবিরে আশ্রয় দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে, তবে আমরা এখনও কোনো উত্তর দিইনি। কারণ আমাদের আশঙ্কা, এভাবে ক্রমাগত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে থাকলে ফের পুনর্বাসনের জন্য তাদের মিয়ানমারে পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠবে,” আনাদোলুকে বলেন মিজানুর রহমান।

সংকটের আড়ালে আছে সম্ভাবনা

ইউএনডিপির হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট অফিসের সাবেক পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম জাহান বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বড় ধরনের সংকটে ফেলছে। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নতুন সংকটের আবির্ভাব হয়েছে। সেই সংকটের নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার রাজধানীর গ্রিন রোডে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউপি) মিলনায়তনে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রা : অর্জন, চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ড. সেলিম জাহান। ডিস্টিংগুইশড লেকচার সিরিজের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ (ডিবিএ) ও ক্লাব অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং (সিএফএ) এ আলোচনার আয়োজন করে।
এ সময় ড. সেলিম জাহান বলেন, শুল্কযুদ্ধ যেটা শুরু হয়েছে সেটা ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়ে কম অংশে ঘাতকের ভূমিকা পালন করবে না। যুক্তরাষ্ট্র শুল্কযুদ্ধ শুরু করলে বিকল্প কী আছে। আমরা কী তা আঞ্চলিকভাবে কাটিয়ে উঠতে পারব? এই চিন্তাগুলো করা এখনই দরকার।
ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত কেবল নেতিবাচক হিসেবে দেখলে আমাদের ভুল হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে সুযোগ কতখানি আছে সেটাও দেখতে হবে। নিজের মতো করে শুল্ক যুদ্ধে আলাদা অবস্থান করতে চাইলে সেটাও ভুল হবে। এখানে যূথবদ্ধভাবে বা যৌথভাবে একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আমরা আমেরিকায় রফতানি বাড়াব। তাদের কাছ থেকে আমদানি বাড়িয়ে ঘাটতি পূরণ করব। তাতে যুক্তরাষ্ট্র খুশি হবে, আমাদের ওপর শুল্ক কমাবে; এটা হবে না। আরও আমদানি করে বাণিজ্য ঘাটতি মেটাব। যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করব, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এগুলো চলবে না। কারণ সে খুব যুক্তির মানুষ নয়। এসব যুক্তি চলে যৌক্তিক মানুষের সঙ্গে।
সেলিম জাহান বলেন, আমাদের বিকল্প চিন্তা করতে হবে। অন্যান্য রাষ্ট্র যারা আছে তাদের পণ্যের ওপরে আমাদের যে শুল্ক আরোপ আছে তা যদি কমিয়ে আনতে পারি, সেসব রাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন রকমের বাণিজ্য গড়ে তুলতে পারব। আঞ্চলিকভাবে বা আঞ্চলিক বলয়ে যেসব দেশ আছে তাদের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে আলাপ আলোচনা করি। এ বাজারে প্রবেশ করতে পারলে ভালো হবে বলে মত দেন এ অর্থনীতিবিদ।
তিনি বলেন, উচ্চ শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমাদের পণ্যের দাম বাড়বে, চাহিদা কমে যাবে। সেখানে নতুন সুযোগ আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে পণ্যের বৈচিত্র্য করতে হবে।
আলোচনায় সেলিম জাহান বলেন, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ হলে কিছু সুযোগ আমরা হারাব। বিনাশুল্কে বা কম শুল্কে পণ্য পাঠাতে পারব না। বৈশ্বিক ঋণের জন্য প্রতিযোগিতা করতে হবে। পণ্য রফতানিতে প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হব। এগুলোর জন্য বাংলাদেশের অর্থনীতি কী প্রস্তুত? এ নিয়ে আমাদের চিন্তা-ভাবনা আছে কী না।
অন্যদিকে আলোচনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সমাজজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কথা ও আলোচনার পরিবর্তে সব সংকট সব সমস্যার সমাধান করতে চাচ্ছি সহিংসতা বা সন্ত্রাসের মাধ্যমে। বাংলাদেশে সন্ত্রাস সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সহিংসতা আমাদের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সহিংসতা যখন একটা সমাজে ভাষা হয়, সেখানে মানব উন্নয়ন হয় না।
দেশে ভৌত অবকাঠামোর অগ্রগতি হলেও কাক্সিক্ষত উন্নয়ন হয়নি। বৈষম্যের কারণে একটি গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে নিজস্ব কোষাগারের মতো ব্যবহার করেছে বলেও অভিমত এই অর্থনীতিবিদের। বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি ক্রান্তিকাল পার করছে জানিয়ে তিনি বলেন, অর্থনীতিবিদরা প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে অনেক মাতামাতি করছেন। প্রবৃদ্ধি ৬.৪ শতাংশ না ৫.৯ শতাংশ। এই ফারাকে কিছু যায়-আসে না। অর্থনীতির অবস্থা যেটা আছে তা মানুষের জীবনে কতখানি উপকার দিচ্ছে। মূল্যস্ফীতির ফলে মানুষের কষ্ট হচ্ছে। রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমেছিল, তা আবারও বেড়েছে।
ইউএনডিপির হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট অফিসের সাবেক এই পরিচালক বলেন, অর্থনীতিতে বড় স্লথগতি এসেছে। বলা হচ্ছে আমাদের প্রবৃদ্ধি কমে যাবে। অর্থনীতি স্লথ থাকলে আমাদের যা অর্জন তা নষ্ট হবে। আইনশৃঙ্খলার অনুপস্থিতি ও আমরা একে অন্যের সঙ্গে যে ব্যবহার করছি- তা সমাজে একধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আজকের বাংলাদেশের সমাজজীবনে মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ- এই ব্যাপারগুলো বিস্মৃত প্রায়।
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের তাৎক্ষণিক কিছু সংস্কার দরকার। কিছু স্বল্পমেয়াদি ও কিছু দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রয়োজন আছে। অবস্থাভেদে আপনাকে নির্ভর করতে হবে কোন সংস্কার তাৎক্ষণিক করতে হবে। মানুষের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে গেছে তখন তাৎক্ষণিক সংস্কার করতে হবে, যাতে মানুষ স্বস্তি পায়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন স্থপতি মাহবুবা হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান। তারা তাদের বক্তব্যে জাতীয় উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে একাডেমিক সংলাপের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্কুল অব বিজনেসের ডিন অধ্যাপক ড. এম. এ বাকি খালিলি, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান সারওয়ার আর. চৌধুরী, বিভিন্ন অনুষদের সদস্য ও শিক্ষার্থীরা।

ড্রামের ৫৯ শতাংশ তেলে নেই ভিটামিন ‘এ’

জাতীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট জরিপের তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রাক্‌-বিদ্যালয়গামী প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে একজন ভিটামিন ‘এ’ এবং দুইজন শিশু ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে ভুগছে। এ জন্য সরকার ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ ও ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধকরণের বাধ্যবাধকতা দিয়েছে।একইসঙ্গে সরকার এ লক্ষে আইনও করেছে।
২০১৩ আইন অনুযায়ী ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ ব্যতীত ভোজ্যতেল বাজারজাত করা নিষিদ্ধ। অথচ সরকারের এই বিধান মানছে না ভোজ্যতেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে ভিটামিন ‘এ’ এবং ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধ ভোজ্যতেল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশের মানুষ। এতে নানা রকম জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর বিআইপি কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত “সবার জন্য ভিটামিন সমৃদ্ধ নিরাপদ ভোজ্যতেল: অগ্রগতি, বাধা ও করণীয়” শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় এসব বিষয় তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞরা। গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত ২৬ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, দেশে রোগমুক্ত সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলতে ভিটামিনসমৃদ্ধ নিরাপদ ভোজ্যতেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ড্রামে খোলা ভোজ্যতেল বাজারজাতকরণ একটি বড় বাধা। একইসঙ্গে ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধকরণ ও গুণগত প্যাকেজিং অত্যন্ত জরুরি।
কর্মশালায় উল্লেখ করা হয়, আইসিডিডিআর’বি-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারে মোট ভোজ্যতেলের ৬৫ শতাংশই ড্রামে বিক্রি হয়। এর মধ্যে ৫৯ শতাংশ তেলে কোনো ভিটামিন ‘এ’ নেই, আর ৩৪ শতাংশ তেলে রয়েছে প্রয়োজনের চেয়ে কম মাত্রায়। মাত্র ৭ শতাংশ ড্রামের খোলা তেলে আইন অনুসারে ভিটামিন ‘এ’-এর নির্ধারিত পরিমাণ পাওয়া গেছে। ফলে সাধারণ মানুষ আইনটির সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
কর্মশালায় আরও জানানো হয়, নন-ফুড গ্রেড উপকরণে তৈরি ড্রাম দিয়ে ভোজ্যতেল পরিবহন করা হয়- যেগুলো আগে কেমিক্যাল, লুব্রিকেন্ট বা মবিল বা অন্যান্য শিল্পপণ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়েছে। এ ধরনের ড্রামে সংরক্ষিত খোলা ভোজ্যতেল জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, পাশাপাশি এতে ভেজাল মেশানোর আশঙ্কাও থাকে। এই পুরোনো ড্রামগুলোতে কোনো লেবেল বা উৎস সম্পর্কিত তথ্য না থাকায় তেলের উৎপত্তিস্থল বা সরবরাহকারীকে শনাক্ত করা যায় না। তাই খোলা ড্রামে ভোজ্যতেল বাজারজাতকরণ আইন বাস্তবায়নে বড় অন্তরায় হয়ে দাড়িয়েছে।
কর্মশালায় জানানো হয়, জুলাই ২০২২ এর পর থেকে ড্রামে খোলা সয়াবিন তেল এবং ডিসেম্বর ২০২২ এর পর থেকে খোলা পাম তেল বাজারজাতকরণ বন্ধে শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখা যায়নি। তাই নিরাপদ ভোজ্যতেল ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে শিল্প মন্ত্রণালয়, বিএসটিআই, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।
ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি অন্ধত্ব, গর্ভকালীন মাতৃমৃত্যুসহ নানা শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, ভিটামিন ‘ডি’-এর অভাব রিকেটস ও হাড় ক্ষয়ের পাশাপাশি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এ প্রেক্ষাপটে, ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ডি’ সমৃদ্ধকরণ একটি সাশ্রয়ী ও কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এতে সাধারণ মানুষ প্রতিদিনের খাবারের মাধ্যমে সহজেই এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন পেতে পারে।
এছাড়াও কর্মশালায় ভোজ্যতেলে গুণগতমানের প্যাকেজিং নিশ্চিতের উপরও জোর দেওয়া হয়। সাধারণত সূর্যরশ্মিসহ যেকোনো আলোর সংস্পর্শে ভিটামিন ‘এ’ নষ্ট হতে থাকে এবং একপর্যায়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। ভোজ্যতেল বাজারজাত হয় যেসব বোতলে সেগুলোর অধিকাংশই আলো প্রতিরোধী না হওয়ায় ভোজ্যতেলের গুণগত ও পুষ্টিমান হ্রাস পায়। সে কারণে ভোজ্যতেলের প্যাকেজিংয়ের জন্য আলো প্রতিরোধী অস্বচ্ছ উপাদান ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কার্যক্রম ও গবেষণাগার বিভাগের পরিচালক (উপসচিব) ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন; ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের কনসালটেন্ট সাবেক অতিরিক্ত সচিব মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখার; ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্টস স্কুল অব পাবলিক হেলথের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ডেপুটি এডিটর সাজ্জাদুর রহমান এবং প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের।
কর্মশালায় গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের লার্জ স্কেল ফুড ফর্টিফিকেশন কান্ট্রি এডভোকেসি বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. রীনা রাণী পাল এবং প্রজ্ঞা’র কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার।

দিনের প্রথম বলেই অলআউট জিম্বাবুয়ে

প্রথম দিনের দুই সেশনে দাপট দেখালেও শেষ সেশনে ব্যাটিং ধসে পড়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ। ২ উইকেটেই ১৭৭ রান থেকে জিম্বাবুয়ে দিনশেষ করে ৯ উইকেটে ২২৭ রানে। তাইজুল ইসলাম ৫ উইকেট নিয়ে সোমবার তাদের এলোমেলো করে দিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) দ্বিতীয় দিন বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল যত দ্রুত সফরকারীদের অলআউট করা যায়। এই লক্ষ্যে দিনের প্রথম বলেই মুজারাবানিকে ফেরায় তাইজুল। এতে প্রথম ইনিংসে ২২৭ রানেই অলআউট জিম্বাবুয়ে। ৬০ রানে ৬ উইকেট নিলেন তাইজুল।

এর আগে ইনিংসের শুরুটা ভালোই করেছিল জিম্বাবুয়ে। দুই ওপেনার বেনেট ও বেন কারেন মিলে গড়ে তোলেন আশাব্যঞ্জক জুটি। অভিষিক্ত তানজিম সাকিবের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেট হন বেনেট। এরপর বেন কারেনকে ফেরান তাইজুল।

তবে ব্যাট হাতে নিক ওয়েলচ ও শন উইলিয়ামসের রেকর্ড গড়া জুটিতে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেই চাপ থেকে বের করে আনেন নাইম ইসলাম। ৪ বলের ব্যবধানে তুলে নেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।

শেষ দিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা জিম্বাবুয়েকে ২৩০ রানে গুটিয়ে দিতে মূল ভূমিকা রাখেন তাইজুল (৬/৫২) ও নাইম ইসলাম (৩/৪৮)। বল হাতে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে টাইগারদের ম্যাচে এগিয়ে দিয়েছেন তারা।

 

ব্রাজিলের কোচ হচ্ছেন আনচেলত্তি!

বেশ কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল কার্লো আনচেলত্তি দায়িত্ব ছাড়ছেন রিয়াল মাদ্রিদের।

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিষয়ক গণমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিকের রিপোর্ট অনুযায়ী, কোচ কার্লো আনচেলত্তি রিয়াল মাদ্রিদের ম্যানেজারের পদ ছাড়ছেন এবং আগামী জুনে ব্রাজিল জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

দ্য অ্যাথলেটিকের সেই রিপোর্ট থেকে আরও জানা যায়, প্রথম ধাপে ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত এক বছরের চুক্তিতে আনচেলত্তি ব্রাজিলের কোচ হবেন। যদিও ৬৫ বছর বয়সী আনচেলত্তি ডিসেম্বর ২০২৩-এ রিয়াল মাদ্রিদের সাথে তার চুক্তি ২০২৬ সাল পর্যন্ত নবায়ন করেছিলেন, তবুও ইতোমধ্যেই ড্রেসিং রুমে খেলোয়াড়দের জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, রিয়াল কোচ কার্লো আনচেলত্তি চলতি লা লিগা মৌসুম শেষ করেই জুনে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেবেন। এর ফলে, তিনি এই গ্রীষ্মের ক্লাব বিশ্বকাপে মাদ্রিদের কোচ থাকছেন না। আনচেলত্তির ছেড়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষের সাথে আগামী কয়েক ঘণ্টা ও দিনে আলোচনা চলবে বলে জানা গেছে। রিয়াল মাদ্রিদ এখন নতুন কোচ খুঁজতে ব্যস্ত। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে ফুটবল ডিরেক্টর সান্তি সোলারি এগিয়ে আছেন, তবে নতুন কোচ হিসেবে বায়ার লেভারকুজেনের কোচ জাবি আলোনসোকেই সবচেয়ে সম্ভাবনাময় মনে করা হচ্ছে।

ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (CBF) অনেকদিন ধরেই আনচেলত্তির প্রতি আগ্রহী ছিল এবং CBF প্রেসিডেন্ট এডনালদো রড্রিগেস তাকে ‘স্বপ্নের কোচ’ বলেও অভিহিত করেছিলেন। আনচেলত্তির সাথে সাক্ষাতের জন্য গত ১৬ এপ্রিল আর্সেনালের বিপক্ষে মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার-ফাইনাল ম্যাচে CBF-এর প্রতিনিধি দিয়েগো ফার্নান্দেস উপস্থিত ছিলেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও কনফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কিছু স্বীকার করেনি, জানা গেছে আলোচনাগুলি সম্মানের সাথেই এগোচ্ছে।