Home Blog Page 432

আমেরিকার সাথে বাণিজ্য সংলাপ: বাজেটে ৬২৬ পণ্যে শুল্ক ছাড়

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আসন্ন বাণিজ্য সংলাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সরকার ৬২৬টি পণ্যের ওপর শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে।  সোমবার (২ জুন) অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ তাঁর বাজেট বক্তৃতায় এ তথ্য জানান।

অর্থ উপদেষ্টা জানান, আমদানি পণ্যের শুল্ক-কর হার পর্যায়ক্রমে কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায়, ১১০টি পণ্যের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হবে, ৬৫টি পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানো হবে, ৯টি পণ্যের সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করা হবে এবং ৪৪২টি পণ্যের সম্পূরক শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই শুল্ক ছাড়ের ফলে জনগণের ওপর করের বোঝা কিছুটা কমবে এবং পণ্য রপ্তানিতে ‘অ্যান্টি এক্সপোর্ট বায়াস’ (রপ্তানি বিরোধী প্রবণতা) হ্রাস পাবে।

নারী বিশ্বকাপও হাইব্রিড মডেলে! পাকিস্তান খেলবে শ্রীলঙ্কায়

পুরুষদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর এবার নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপও হাইব্রিড মডেলে আয়োজিত হতে চলেছে। ভারতের মাটিতে পাকিস্তানের ম্যাচ আয়োজন নিয়ে জটিলতা এড়াতে আইসিসি এবার শ্রীলঙ্কাকে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে বেছে নিয়েছে। পাকিস্তানের কোনো ম্যাচই ভারতের মাটিতে হবে না; বরং শ্রীলঙ্কার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামেই তাদের ম্যাচগুলো গড়াবে। এমনকি পাকিস্তান সেমিফাইনাল বা ফাইনালে উঠলেও সেই ম্যাচগুলো ভারতে হবে না, অনুষ্ঠিত হবে কলম্বোতেই।

সোমবার আইসিসি নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের ভেন্যু ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের সূচি ঘোষণা করেছে। এতে পরিষ্কার হয়েছে, মূল আয়োজক ভারতের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামকেও একটি ভেন্যু হিসেবে রাখা হয়েছে।

এবারের নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো মোট পাঁচটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে চারটি ভারতের বিভিন্ন শহরে এবং অন্যটি শ্রীলঙ্কার কলম্বোয়। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই টুর্নামেন্ট। এতে আটটি দল অংশ নেবে এবং রাউন্ড-রবিন ফরম্যাটে ২৮টি লিগ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

যদিও এই বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের জন্য বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামকে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, পাকিস্তান দল যদি ফাইনালে ওঠে, তাহলে ফাইনাল ম্যাচ শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে আসরের প্রথম সেমিফাইনাল ২৯ অক্টোবর গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত হবে। তবে, পাকিস্তান গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারলে সেই খেলাও কলম্বোতে স্থানান্তরিত হবে। দ্বিতীয় সেমিফাইনাল পরদিন বেঙ্গালুরুতে।

এফডিসিতে রামদা হাতে যুবক, খুঁজছিলেন শাকিব খানকে!

গত শনিবার (৩১ মে) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলো। রামদা হাতে একজন যুবক সেখানে ঢুকে পড়েন এবং অভিনেতা শাকিব খানকে খুঁজতে থাকেন, যার কাছে তিনি টাকা পান বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনায় মানিক মিয়া নামের ওই যুবককে আটক করেছে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ।

জানা গেছে, যুবকটি ‘গলুই’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় কাজ করেছিলেন এবং সেই কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে শাকিব খানের কাছে টাকা পান বলে দাবি করছিলেন।

নির্মাতা গাজী মাহবুব গণমাধ্যমকে জানান, “হঠাৎ হৈচৈ শুনে আমরা বেরিয়ে দেখি এক যুবক চাপাতি হাতে ভাঙচুর করছে আর চিৎকার করে শাকিব খানের নাম ধরে ডাকছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, শাকিব খানের কাছে তার পাওনা টাকা আছে এবং সে শাকিব খানকে খুঁজতে এফডিসিতে এসেছে।”

গাজী মাহবুব আরও বলেন, যুবকটি নিজেকে জামালপুরের বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় এফডিসি কর্তৃপক্ষ মামলা করেছে এবং আটককৃত যুবককে রবিবার (১ জুন) আদালতে পাঠানো হয়েছে। যদিও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক ওই যুবককে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে উল্লেখ করেছেন।

আইসিইউতে চিত্রনায়িকা তানিন সুবহা

হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা তানিন সুবহা। বর্তমানে তাকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সোমবার (২ জুন) দুপুরে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে তানিনকে প্রথমে আফতাবনগরের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরলেও সন্ধ্যায় আবারও অবস্থার অবনতি হয়। এরপর তাকে বনশ্রীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে দ্রুত তাকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়, যেখানে তাকে সরাসরি আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

তানিন সুবহার মা তাসলিমা গণমাধ্যমকে জানান, সোমবার তার মেয়ের বুকে তীব্র ব্যথা শুরু হয় এবং কয়েকবার বমি হয়, যার কারণে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে তানিনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

মেয়ের দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তানিন সুবহার মা। অভিনেত্রীর অসুস্থতার খবরে শোবিজ অঙ্গনেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে আজাদ কালামের পরিচালনায় ‘জমজ’ নাটকে মোশাররফ করিমের বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে তানিন সুবহার শোবিজ অঙ্গনে অভিষেক হয়। এরপর তিনি মীর সাব্বিরের ‘আলাল দুলাল’, সেলিম রেজার ‘সেয়ানা জামাই’, নাহিদ হাসানের ‘ম্যারেজ মিডিয়া ডটকম’ সহ বেশ কিছু খণ্ড নাটকে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘অবাস্তব ভালোবাসা’, ‘মাটির পরী’, ‘স্বপ্নের সাথী’, ‘দেমাগ’ এবং ‘তুই আমার’।

মালির সেনাঘাঁটিতে দুই দফা হামলা, নিহত ৩০

মালির উত্তরাঞ্চলীয় শহর তিমবুকতুতে একটি সেনাঘাঁটিতে চালানো দুই দফা হামলায় কমপক্ষে ৩০ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা সূত্র ও স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সংঘাতে ডজনখানেক হামলাকারীও নিহত হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সেনাবাহিনী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিমবুকতু শহরের বিমানবন্দরেও হামলা চালানো হয়েছে এবং সেখান থেকে তীব্র গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে।

সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিমবুকতু ক্যাম্পে সন্ত্রাসীরা হামলা চালালে সেনা সদস্যরা পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। এতে ১৪ জন সন্ত্রাসী নিহত এবং ২১ জন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে নিহত সেনা সদস্যের সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি।

পরবর্তীতে জানা গেছে যে, এই হামলায় কমপক্ষে ৩০ সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। বামাকোর একটি নিরাপত্তা সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, তাদের ইউনিটের রিপোর্টে ৩০ জন সেনার নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

সূত্রটি আরও জানায়, সেনারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পায়নি। বেশ কয়েকজন সেনা সদস্য এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্থানীয় কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এই হামলায় কমপক্ষে ৬০ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। অপর একটি নিরাপত্তা সূত্রও নিহতের সংখ্যা প্রায় ৬০ বলে উল্লেখ করেছে। তবে এই সংখ্যায় নিহত, নিখোঁজ এবং জিম্মি হিসেবে অপহৃত সেনা সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সব দলই ডিসেম্বরে নির্বাচন চায়- সালাহউদ্দিন

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে সব রাজনৈতিক দল আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। সোমবার(২ জুন) জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করা সম্ভব। আজ সব রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের জন্য মতামত দিয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, সংবিধান ছাড়া নির্বাচন সংক্রান্ত এমন কোনো সংস্কার নেই যা ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

৩ টি দল বাদে বাকি সবাই ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চেয়েছে: নুরুল হক

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক দাবি করেছেন যে, তিনটি রাজনৈতিক দল বাদে বাকি সব দল আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে মত দিয়েছে। তিনি নিক্কেই এশিয়া ফোরামে প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে প্রকাশিত একটি বক্তব্যকে ‘সঠিক নয়’ বলেও মন্তব্য করেছেন।

সোমবার (২ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা শেষে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নুরুল হক।

নুরুল হক জানান, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণায় বলা হয়েছে আগামী ডিসেম্বর থেকে পরের বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। তবে তিনি বলেন, “বিএনপিসহ আমরা বেশ কিছু রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলেছি। এটাও প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত রোডম্যাপের মধ্যে আছে।”

তিনি আরও বলেন, “যেহেতু সংস্কার কমিশন ইতিমধ্যেই তাদের প্রস্তাবনাগুলো চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে, এখন চাইলে ডিসেম্বরের আগেও নির্বাচন হতে পারে।”

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আজকের বৈঠকে তিনটি রাজনৈতিক দল বাদ বাকি সব দল আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চেয়েছে।” ওই তিনটি রাজনৈতিক দলের নাম জানতে চাইলে নুরুল হক সরাসরি বলতে রাজি হননি এবং সাংবাদিকদের ‘বুঝে নিতে’ বলেন।

সংস্কারের বিষয়ে নুরুল হক বলেন, “যে সংস্কারগুলোর বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে, সে সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হোক। সব সংস্কার চাইলে এখন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।”

তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, কিছু সংস্কার অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলেও কিছু সংস্কারের জন্য সংসদের প্রয়োজন হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সে জন্য আমরা বলেছি, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে যতটুকু সংস্কার করা যায় সেদিকে হাঁটা উত্তম।”

নুরুল হক নুর আরও বলেন, “উপদেষ্টা পরিষদের কিছু সদস্যকে নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটা আপত্তি তৈরি হয়েছে। ফলে উপদেষ্টা পরিষদের পুনর্গঠনটাও জরুরি হয়ে পড়েছে।”

উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আজকের এই বৈঠকে গণঅধিকার পরিষদসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণসংহতি আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এই বৈঠকে অংশ নেন।

২ বিভাগে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, বাড়ছে নদ-নদীর পানি

সুরমা, কুশিয়ারা, মনুসহ সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তত ৮ নদ-নদীর পানি বাড়ছে। মঙ্গলবারও (৩ জুন) এসব নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। এছাড়া, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণা জেলার নদ-নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সোমবার (২ জুন) পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত এক পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদী এবং মৌলভীবাজারের মনু নদের পানি সমতল বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সুরমা, কুশিয়ারা, মনু ও খোয়াই নদের পানি সমতল আরও বাড়তে পারে এবং বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

একই সময়ে সারি, গোয়াইন, যাদুকাটা, ধলাই ও সোমেশ্বরী নদীর পানি সমতলও বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণা জেলার নদ-নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী, ফেনী, হালদা, সাঙ্গু, মাতামুহুরী ইত্যাদি নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে। এরপরের দিন তা স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং পরবর্তী এক দিন হ্রাস পেতে পারে। এই সময়ের মধ্যে মুহুরী, ফেনী ও হালদা নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র নদ ও যমুনা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে তা এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। আগামী ৪ দিন নদ-নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পেলেও তা বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হতে পারে। এরপরের একদিন নদ-নদীগুলোর পানি সমতল হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

অন্যদিকে, গঙ্গা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে এবং পদ্মা নদীর পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে। আগামী ৫ দিন গঙ্গা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং পদ্মা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে; তবে উভয় নদীর পানিই বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে।

ঈদে ট্রেনের ফিরতি যাত্রা: ১৩ জুনের টিকিট বিক্রি শুরু

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে। মঙ্গলবার (৩ জুন) সকাল ৮টা থেকে আগামী ১৩ জুন ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক যাত্রীদের জন্য অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, ঈদ পরবর্তী ফেরত যাত্রার জন্য ১৪ জুনের টিকিট আগামীকাল ৪ জুন এবং ১৫ জুনের অগ্রিম টিকিট ৫ জুন পাওয়া যাবে। সকাল ৮টা থেকেই পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের সব টিকিট অনলাইনে সংগ্রহ করা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদযাত্রার সকল টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া, আজ থেকে দেশের অভ্যন্তরে চলাচলকারী সকল আন্তঃনগর ট্রেনের ডে-অফ (সাপ্তাহিক ছুটি) প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা ঈদযাত্রায় ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়তা করবে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে, ঈদ অগ্রিম ও ফেরত যাত্রার টিকিট রিফান্ড করা যাবে না। একজন যাত্রী ঈদ অগ্রিম ও ফেরত যাত্রার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ একবার টিকিট ক্রয় করতে পারবেন। এই নিয়মাবলী যাত্রীদের সুবিধার্থে এবং টিকিট কালোবাজারি রোধে কার্যকর করা হয়েছে।

পিএসজির বিজয় উদযাপন অনুষ্ঠানে সহিংসতায় নিহত ২

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের বিজয় উদ্‌যাপনকালে ফ্রান্সে দুজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন ১৯২ জন। এ ঘটনায় পাঁচ শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল শনিবার রাতে পিএসজি প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতলে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস ও আশেপাশের এলাকায় বিজয় উন্মাদনা শুরু হয়। ইতালির ক্লাব ইন্টার মিলানকে হারানোর পর শুরু হওয়া এ উৎসব উদ্‌যাপন একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সহিংসতায় আজ রোববার সকাল পর্যন্ত ৫৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শুধু প্যারিসেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৯১ জনকে। তাদের মধ্যে ৩২০ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৫৪ জন প্যারিসের অধিবাসী।

সংঘর্ষ চলাকালে চ্যাম্পস এলিসেস সড়কে কিছু বাস স্টপেজ ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় দাঙ্গা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় পিএসজির হাজার হাজার সমর্থক বিখ্যাত এই সড়কে ভিড় করেছিলেন।