Home Blog Page 434

রাতের ফ্লাইটে ইংল্যান্ডে যাচ্ছেন তাসকিন

গোড়ালির পুরানো ইনজুরিতে ভুগছেন তাসকিন আহমেদ। এই কারণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে ডানহাতি এই পেসারকে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পাঠানো হচ্ছে ইংল্যান্ডে। আজ রবিবার রাত আটটার ফ্লাইটে ইংল্যান্ডে যাচ্ছেন এই পেস সেনসেশন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী।
আগামী ২৯ এপ্রিল তাসকিনের জন্য যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রফেসর জেমস ক্যাল্ডারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া হয়েছে। পা ও গোড়ালির চিকিৎসার জন্য বিখ্যাত ক্যাল্ডার একজন অর্থোপেডিক সার্জন। তাসকিনকে ইংল্যান্ডে সঙ্গ দেবেন দেবাশীষ, তবে তিনি যাবেন সোমবার রাতে। তাসকিনের এই ইনজুরি থেকে শতভাগ মুক্তি পেতে আরও উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যেই তাকে বাইরে পাঠানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ জানিয়েছেন, ‘আগামী ২৯ এপ্রিল তাসকিনের জন্য ইংল্যান্ডের অর্থোপেডিক সার্জন জেমস ক্যাল্ডারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া আছে। তার পরামর্শ অনুযায়ী পরের ধাপ অনুসরণ করা হবে। তাসকিনের সঙ্গে আমিও থাকবো।’
যদিও বেশ কয়েক সপ্তাহ পুরো বিশ্রাম শেষ হওয়ার পর তাসকিন চোট পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যাচ্ছিলেন। গত তিনদিন মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ছোট রানআপে অনুশীলন করেছেন। বোলিংয়েও খুব একটা গতি ছিল না।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে ফেরার পর চলমান ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডানের জার্সিত তিনটি ম্যাচ খেলেছেন বাংলাদেশের এই তারকা পেসার। রূপগঞ্জ ও গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে তিনটি করে উইকেট নিয়েছিলেন এই পেসার। আর ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবের বিপক্ষে নিয়েছিলেন দুটি উইকেট। তবে এরপর থেকেই মাঠের বাইরে আছেন তিনি।

বোতলজাত সয়াবিন তেলের চূড়ান্ত দাম নির্ধারণ

প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম খোলা বাজারে লিটারপ্রতি ১৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন।
আজ মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) ভোজ্যতেলের আমদানি ও সরবরাহসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
এর আগে, গত ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছিল, প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৪ টাকা বাড়িয়েছে ভোজ্যতেল মিলমালিকেরা। এর ফলে বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম এখন ১৮৯ টাকা, যা আগে ১৭৫ টাকা ছিল।
নতুন ঘোষণা অনুসারে পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের বোতলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯২২ টাকা, যা আগে ছিল ৮৫২ টাকা।
অপরদিকে, বোতলজাত তেলের পাশাপাশি খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১৬৯ টাকা, যা আগে ছিল ১৫৭ টাকা।
এর আগে, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর সর্বশেষ বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন লিটারপ্রতি দাম নির্ধারণ করা হয় ১৭৫ টাকা।

চালের দাম নিয়ে এবার নতুন দুঃসংবাদ

অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কেজিতে চার টাকা বেশি দামে ধান-চাল ক্রয় করছে সরকার। সরকারের বেশি দামে কেনার কারণে বাজারে চালের দাম কিছুটা বাড়বে বলে জানিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।
আজ বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে ধান সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে খাদ্য উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, ধান-চাল ক্রয় নিয়ে কোনো সিন্ডিকেট আর হবে না, হতে দেবে না সরকার। কৃষকের স্বার্থে বিগত বছরের চেয়ে বেশি দামে ধান ও চাল কিনছে সরকার।
তিনি বলেন, বিগত আমন ধান সংগ্রহ অভিযানে কোনো সিন্ডিকেট ছিল না, বোরো সংগ্রহেও কোনো সিন্ডিকেট থাকবে না। বিগত সরকারের আমলে কী হয়েছে, না হয়েছে তা আমার জানা নেই। তবে এখন কোনো সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব থাকবে না।
সরকারি সভার মাধ্যমে অনেক বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করে ধান-চালের মূল্য নির্ধারণ করা হয় বলে জানান উপদেষ্টা।
সরকার প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা ও চাল ৪৯ টাকা কেজি দরে কিনবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বাজারে চালের মূল্য কিছুটা বাড়তে পারে। কৃষক পরিশ্রম করে ধান উৎপাদন করে তাদের উপযুক্ত মূল্য দিতে না পারলে কৃষক ধান চাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। এতে কৃষক লাভবান হবেন বলেও জানান তিনি।
জানা গেছে, এবার সুনামগঞ্জে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৬৪৫ মেট্রিক টন। ৩৬ টাকা কেজি দরে ১ হাজার ৪৪০ টাকা মণ ধান সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কিনবে সরকার।

৭৬ বছরের আওয়ামী লীগের হাল ধরতে এগিয়ে আসছে না কেউ!

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ঢাকায় তাদের দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য লোক খুঁজছে। দলটি এখন দেশের ভেতরে রাজনীতিতে সক্রিয় অবস্থান তৈরির বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানাচ্ছেন এর নেতারা।

কিন্তু বিপর্যস্ত দলটি এখন আকস্মিক ঝটিকা মিছিল এবং সামাজিক মাধ্যমের ওপর ভর করে এগোচ্ছে; এর বাইরে বড় কোনো কর্মসূচি নিয়ে রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার মতো তাদের সাংগঠনিক অবস্থা এখনও হয়নি।

অন্যদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ও ফ্যাসিবাদের তকমা এড়িয়ে দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের সহসাই ফেরত আসা সম্ভব কি না, এই প্রশ্নও রয়েছে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগ প্রায় ৭৬ বছর বয়সে আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় এবার বেশি সংকটে পড়েছে।

গত বছরের পাঁচই অাগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের পতনে শেখ হাসিনাসহ সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য বা দলটির নেতৃত্বের একটা বড় অংশ দেশ ছেড়ে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন।

আর দেশের ভেতরে নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েন বিপর্যস্ত দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

তাদের কাছে কোনো দিকনির্দেশনা ছিল না। তাদের অনেকেই বলেছেন, সে সময় প্রথমে তাদের কাছে জীবন বাঁচানোই প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাদের অনেকে দেশের ভেতরেই পালিয়ে বেরাচ্ছেন। অনেকে গ্রেফতার হয়েছেন।

এখন দলটির সরকারের পতনের আট মাস পার হলেও দেশে থাকা তাদের কোনো নেতা হাল ধরতে বা ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি।

ভারত এবং পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন, আওয়ামী লীগের এমন কয়েকজন নেতা বলেছেন, তাদের শীর্ষ নেতা শেখ হাসিনাসহ তারা এখন মনে করছেন, দেশের ভেতরে দলের মুখপাত্র বা নেতা প্রয়োজন, যিনি আত্মগোপনে না থেকে প্রকাশ্যে এসে বিপর্যস্ত নেতাকর্মীদের সংগঠিত করবেন।

তাদের এমন চিন্তায় সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর নাম রয়েছে।

কিন্তু গ্রেফতার, মামলার ভয়ে এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাদের কেউ এখনও সাহস করে এগিয়ে আসেননি। সেভাবে বিতর্কিত নন, দলটির এমন অন্য কোনো নেতা এগিয়ে আসবেন, সে ধরনের ইঙ্গিতও নেই।

যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপে রয়েছেন, এমন একাধিক নেতার বক্তব্য হচ্ছে, তাদের দল ঢাকায় মুখপাত্র বা কোনো পদ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নেতার নাম ঘোষণা করতে চাইছে না। কারণ কারও নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলেই তাকে মামলা, গ্রেফতারের মুখে পড়তে হতে পারে। এটি তাদের বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ নেতারা অভিযোগ করছেন, ঢাকা থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার বাড়ানো হয়েছে।

সেজন্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনাও সম্প্রতি বলেছেন, দেশের ভেতরে যারা সাহস নিয়ে এগিয়ে এসে দলকে সংগঠিত করার কাজে নেতৃত্ব দেবেন, তারাই নেতা। তবে কেউ এখনও সেই সাহস দেখাননি।

‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ বিষয়ে দলটির চিন্তা কী?

রাজনীতিতে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ বিষয়ে একটা আলোচনা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের কেউ কেউ বিভিন্ন সময় এমন ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যও দিয়েছেন।

তবে আওয়ামী লীগের ভেতরে এ ধরনের কোনো চিন্তা নেই বলে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে বোঝা যাচ্ছে। বরং দলটি এ ধরনের আলোচনাকে তাদের দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে।

দলটির শীর্ষ নেতাসহ বিদেশে অবস্থান করা কয়েকজন নেতা বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তারা এমনও বলেছেন যে, রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের কথা বলে তাদের দল ভাঙার ‘ষড়যন্ত্র’ করা হচ্ছে।

যদিও রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ নিয়ে যে আলোচনা রয়েছে, তাতে সাবের হোসেন চৌধুরী এবং সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর নাম এসেছে। এখন আওয়ামী লীগ যে নেতা খুঁজছে, তাতেও সাবের হোসেন চৌধুরীর নাম বলছেন বর্তমানে বিদেশে থাকা দলটির নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ।

তবে অন্তর্বর্তী সরকার বা তাদের ঘনিষ্ঠ কোনো পক্ষ থেকে যখন কারও নাম বলা হচ্ছে বা দলটির রাজনীতি নিয়ে কোনো বক্তব্য মাঠে ছাড়া হচ্ছে, তখন সেটাকে ভিন্নভাবে দেখছে আওয়ামী লীগ।

‘শেখ হাসিনার বিকল্প ভাবছে না আওয়ামী লীগ’

দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় অবস্থানে ফিরতে আওয়ামী লীগ তাদের নেতৃত্ব তৈরির চেষ্টা করছে, কিন্তু তা বিকল্প নেতৃত্ব নয়।

দলটি তাদের নেতা শেখ হাসিনার বিকল্প অন্য কাউকে চিন্তা করছে না, এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। বিদেশে অবস্থান করা অন্তত পাঁচজন এবং দেশে আত্মগোপনে থাকা চারটি জেলার নেতাদের সঙ্গে কথা বললে তারা ওই অবস্থান তুলে ধরেন।

সেখানে দেশের ভেতরে নেতা খোঁজার বিষয়টি এসেছে প্রয়োজনের তাগিদে। কারণ আওয়ামী লীগ দাবি করছে, বিদেশে অবস্থান করা নেতাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরছেন।

এমনকি দেশের ভেতরে আত্মগোপনে বা পালিয়ে থাকা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও এখন যোগাযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। আর এই যোগাযোগের ভিত্তিতে দিবসভিত্তিক ঝটিকা মিছিলের কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হচ্ছে।

এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা বেশ সক্রিয় হয়েছেন।

তবে শেখ হাসিনাসহ বিদেশ অবস্থান করা দলটির অনেক নেতার বক্তব্য বিভিন্ন সময় বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের জন্যও অনেক ক্ষেত্রে বিপদ বাড়িয়েছে। এমন আলোচনা রয়েছে রাজনীতিতে।

এছাড়া বিদেশে থেকে দলের নেতৃত্ব হয়ত তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে মাঝেমধ্যে ঢাকায় বা ঢাকার বাইরে কোনো কোনো জেলায় ঝটিকা মিছিল করাতে সক্ষম হচ্ছেন।

দলটির নেতারা দাবি করছেন, তাদের এসব মিছিল ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। কিন্তু সেটা রাজনীতিতে কতটা প্রভাব তৈরি করছে, সেই প্রশ্ন রয়েছে।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দেশের ভেতরে দলকে সংগঠিত করার নেতৃত্ব তৈরির তাগিদ অনুভব করছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু তা শীর্ষ নেতৃত্বের বিকল্প নয়।

দেশে দলের কর্মকাণ্ডে কোনো নেতা এগিয়ে এলে তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বা নির্দেশনা মেনে চলবেন, এটাই দলটির অবস্থান।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম বিবিসি বাংলাকে বলেন, বিপর্যস্ত দলের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে শেখ হাসিনাই নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে তাদের দলের কোনো পর্যায়ে ভিন্ন কোনো চিন্তা নেই।

ক্ষমা, অনুশোচনার প্রশ্নে এখনও ‘না’

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দমননীতি ও হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমা চায় বা অনুশোচনা করে, তাহলে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরতে পারে, এমন একটা আলোচনা রয়েছে রাজনীতিতে। সরকারেরও কেউ কেউ এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

তবে ক্ষমা চাওয়ার কোনো চিন্তা দলটিতে এখনো নেই। তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা আছে, এমন ইঙ্গিতও পাওয়া যায় না। বরং তারা এখনও ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ নিয়েই আছেন।

বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। সেটা আমলে নিচ্ছে না আওয়ামী লীগ।

দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এখন বিদেশে অবস্থান করছেন। তিনি বিবিসিকে বলেন, তাদের সরকারের পতনের আগে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সব হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার তারা চান।

কিন্তু অনুশোচনার প্রশ্নে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে। এজন্য অন্য কোনো পক্ষের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার বিষয় নেই বলে উল্লেখ করেন মি. আরাফাত।

বিদেশে অবস্থান করা দলটির আরেকজন নেতা জানান, পরিস্থিতি সামলাতে তাদের কিছু ভুল ছিল, এমন আলোচনাও তাদের মধ্যে আছে। দলগতভাবে অবশ্য তারা এখনও কিছু বলেননি।

এই নেতা উল্লেখ করেন, তাদের দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ এখনও হয়নি। তারা এখন পরিকল্পনার মাধ্যমে এগোতে চাইছেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তুলে ধরার বিষয় নিয়েও তারা আলোচনা করছেন।

বিশ্লেষকেরা বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন ভিন্নভাবে। তারা বলছেন, বাংলাদেশে ভুলের জন্য দলীয়ভাবে ক্ষমা চাওয়া বা অনুশোচনা করার সংস্কৃতি নেই। এর আগে কোনো দল তা করেনি।

আমেরিকান পাবলিক ইউনিভার্সিটি সিস্টেম- এর শিক্ষক সাঈদ ইফতেখার আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘এখন আওয়ামী লীগও সে পথে হাঁটবে না।’

দলটি তাদের ন্যারেটিভ এবং অবস্থান নিয়েই রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে মনে করেন তিনি।

নির্বাচনে অবস্থান কী হবে?

এখন বিএনপিসহ সক্রিয় বেশিরভাগ দল নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে কি না?

কারণ গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের নতুন দল এনসিপিসহ কয়েকটি দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি করছে।

আর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলে দলটির অবস্থান কী হবে, এ নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ভেতরে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে অবস্থান দেখা যাচ্ছে।

দলটির একাধিক নেতা বলছেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া তাদের দলের জন্য আত্মঘাতী হবে, এই আলোচনা তাদের মধ্যে রয়েছে।

তারা অবশ্য রাজনীতিতে ফিরতে নির্বাচনের সময়কে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে চান। তারা মনে করেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়লে সরকারকে সব দলের জন্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আর তা হলে আওয়ামী লীগের জন্য সুযোগ আসতে পারে।

কিন্তু দল নিষিদ্ধ করার বিষয় এলে আওয়ামী লীগ তখন ঝুঁকি নিয়েই কর্মসূচিতে মাঠে থাকার চেষ্টা করবে।

কেন আত্মঘাতী মনে করছে আওয়ামী লীগ

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত দলটির নেতাকর্মীরা এলাকা ছাড়া হয়েছেন।

নির্বাচনের সময় যদি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ তৈরি হয়, হয়ত ঢাকায় দলের কর্মসূচি পালন করা যেতে পারে।

কিন্তু দলের নেতাকর্মীরা এলাকায় ফিরতে পারবেন, সেই নিশ্চয়তা নেই বলে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন।

তারা বলছেন, যে সব দল এখন রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে, এগুলোর মধ্যে বিএনপিসহ বেশিরভাগ দলই তাদের প্রতিপক্ষ।

ফলে সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করবে। গত কয়েক মাসের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনায় তাদের এমন ধারণা হয়েছে।

এছাড়াও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে বিচার নির্বাচনের আগে শেষ করার একটা চেষ্টা রয়েছে।

এমন বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকে নির্বাচনে তাদের দলের অংশগ্রহণকে আত্মঘাতী হিসেবে দেখছেন।

সহসাই রাজনীতিতে ফেরা কি সম্ভব?

গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতৃত্ব, অন্তর্বর্তী সরকার, এখনকার সক্রিয় প্রায় সব দল আওয়ামী লীগ বিরোধী অবস্থানে রয়েছে। দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবিও আছে।

দলটির নেতাদেরই অনেকে মনে করছেন, তারা এখন একা হয়ে পড়েছেন। কারণ তাদের মিত্র ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোরও শীর্ষ কয়েকজন নেতা জেলে রয়েছেন; অন্যরা পালিয়ে আছেন।

ওই দলগুলো নিজেরাই অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। আরেক মিত্র জাতীয় পার্টিও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছে।

আর প্রতিপক্ষ বিএনপিসহ অন্য দলগুলোর অনেক ক্ষোভ রয়েছে আওয়ামী লীগের ওপর। দলটির নেতাদেরই কেউ কেউ মনে করেন, তাদের দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের শাসনে বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের মামলা ও গ্রেফতারের মুখে রাখা হয়েছিল।

ফলে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দিক থেকে কোনো সমর্থন পাচ্ছে না।

এ বিষয়টি যেমন রয়েছে, একইসঙ্গে দলটির সাংগঠনিক অবস্থাও শক্তিশালী নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাঈদ ইফতেখার আহমেদ মনে করেন, আওয়ামী লীগের শাসনে দলটি রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। দলে সুবিধাবাদীদের ভিড় বেড়েছিল। তারা এখন সরে পড়েছেন।

অন্যদিকে দুর্নীতির অভিযোগ এতটাই প্রকটভাবে এসেছে যে, তা দলটির ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলেছে।

এরপরও যদিও আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, তারা পরিকল্পনার মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে রাজনীতির মাঠে নিজেরাই নিজেদের জায়গা করে নেবেন।

কিন্তু বিশ্লেষক মি. আহমেদ মনে করেন, পুরো পরিস্থিতিই যখন বিপক্ষে, তখন মানুষের আস্থা অর্জন করে সহসাই রাজনীতিতে ফেরা বা ভাল অবস্থান তৈরি করা আওয়ামী লীগের জন্য বেশ কঠিন।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে জামায়াত

সংস্কার নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে জামায়াতে ইসলামী। আজ শনিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে প্রবেশ করেন দলটির নেতারা।

এর আগে শুক্রবার দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সভায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এর নেতৃত্বে জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেবে।

প্রতিনিধি দলে থাকবেন সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. হামিদুর রহমান আযাদ সাবেক এমপি, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।

জানা গেছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবে জামায়াতের প্রতিনিধি দলটি।

এর আগে, গত ২০ মার্চ সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ও দুই কক্ষের সংসদের দাবি জানিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে লিখিত প্রস্তাব জমা দেয় জামায়াতে ইসলামী। সেসময় সংবিধান, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ বেশ কিছু বিষয়ে মতামতও দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময় নয়, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যতটুকু সময় দরকার তা সরকারকে জামায়াত দিতে চায় বলেও জানান দলটির নেতারা।

দুপুরের মধ্যে যেসব অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা

দুপুরের মধ্যে দেশের আট অঞ্চলের উপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) রাতে আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবিরের দেওয়া নদীবন্দরের জন্য পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অফিসের ফেসবুকে পোস্টে জানানো হয়, সকাল ১১টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ, পাবনা, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ওপর দিয়ে ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বা তার অধিক গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

চীনের ঐতিহ্যবাহী চা অঞ্চল এখন কফির স্বাদে মাতোয়ারা

দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের পাহাড়ঘেরা এক ক্যাফেতে লিয়াও শিহাও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কফি বিন দিয়ে তৈরি করছেন গরম কফি। এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পানীয়ের মধ্যে এটি এখন এক আধুনিক সংযোজন। চীনের পু’এর থেকে এএফপি জানায়, শত শত বছর ধরে ইউনান প্রদেশের পু’এর অঞ্চল তার সমৃদ্ধ ফারমেন্টেড চায়ের জন্য বিখ্যাত, যাকে কখনও কখনও ‘পু-এহ’ চা হিসেবেও ডাকা হয়। এই চা পূর্ব এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে ব্যাপক পরিচিত।

কিন্তু এখন যখন তরুণ চীনারা তীব্র এসপ্রেসো, ফেনাযুক্ত লাটে ও ফ্ল্যাট হোয়াইটের স্বাদে আকৃষ্ট হচ্ছে, তখন অনেক চাষি ঐতিহ্যবাহী চায়ের পাশাপাশি কফি উৎপাদনের দিকেও ঝুঁকছেন। ‘মানুষ এখন আমাদের হাতে তৈরি ড্রিপ কফি চেখে দেখতে আসছেন এবং এর স্বাদের পূর্ণ অভিজ্ঞতা নিতে পারছেন,’ এএফপিকে বলেন ২৫ বছর বয়সী লিয়াও। ‘আগে তারা বেশিরভাগই বাণিজ্যিক কফির দিকেই ঝুঁকতেন, হাতে তৈরি শিল্পকর্মের মতো কফিতে আগ্রহ দেখাতেন না,’ যোগ করেন তিনি। লিয়াওর পরিবার তিন প্রজš§ ধরে ‘শিয়াওওয়াজি’ নামে পরিচিত কফি খামার পরিচালনা করছে। ছায়াঘেরা একটি উপত্যকায় অবস্থিত এই খামারে খাড়া পাহাড়ের ঢালে সারি সারি চিকন কফি গাছের সমাহার। গাছের চেরির মতো ফল কাঠের পাটাতনে শুকানো হয়। এ মাসে এএফপি যখন খামারটি পরিদর্শন করে, তখন দেখা যায়, বেশ কয়েকজন পর্যটক সবুজ ঢালের দিকে মুখ করে ক্যাফেতে বসে বিশেষ ধাঁচের কফি উপভোগ করছেন।

‘খুবই ভালো,’ বললেন ২১ বছর বয়সী কাই শুউয়েন, যিনি বার স্টুলে বসে একের পর এক নমুনা কফিতে চুমুক দিচ্ছিলেন। ‘যদিও কিছু বিন আমার ধারণার চেয়ে একটু টক লাগছে, আবার কিছু তো আমার প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।’ সরকারি তথ্যমতে, প্রতি বছর পু’এর অঞ্চলের খামারগুলো চীনের বড় বড় শহরে হাজার হাজার টন কফি বিক্রি করে। বেইজিং ও সাংহাইয়ের মতো মহানগরগুলোয় ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের দ্বারা পরিচালিত একটি সমৃদ্ধ ক্যাফে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে সাম্প্রতিক বছরগুলোয়।

কফি রোস্টিং ও বারিস্তা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লিয়াও মনে করেন, তার নিজের অঞ্চলের কফি ‘ক্রিমের মতো স্বাদযুক্ত এবং পেলব, আঁঠালো মুখভরা অনুভূতি’ দেয়। পু’এরে বাণিজ্যিকভাবে কফি চাষ শুরু হয় মূলত আশির দশকে। এখনও অঞ্চলটি তার শতাব্দীপ্রাচীন চা বাণিজ্যের জন্য বেশি পরিচিত।

লিয়াওর দাদা, ৮৩ বছর বয়সী লিয়াও শিউগুই বলেন, ‘কয়েক দশক আগে যখন আমি পু’এরে আসি, তখন এখানে কফি সম্পর্কে কেউ কিছু জানত না।’ তিনি ছিলেন সেই সময়ের খুব কমসংখ্যক চীনাদের একজন, যিনি কফি চাষ সম্পর্কে পড়াশোনা করেছিলেন। তবে এই অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত উচ্চ ভূমি ও মৃদু জলবায়ু নতুন এই ফসলের জন্য বেশ উপযোগী ছিল বলে জানান তিনি।

‘আমরা যে কফি উৎপাদন করি, তা শক্তিশালী হলেও বেশি তেতো নয়, ফুলের সুবাসযুক্ত হলেও বেশি কটু নয় এবং সামান্য ফলের স্বাদও থাকে,’ যোগ করেন তিনি। কোনো রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়া এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অন্যান্য প্রজাতির সঙ্গে মিশ্রভাবে চাষ করা হয় ‘শিয়াওওয়াজি’ খামারে। প্রতি বছর এখানে প্রায় ৫০০ টন কাঁচা কফি ফল উৎপাদিত হয়।
প্রতিদিন দুই-তিন কাপ কফি পান করেন লিয়াও শিউগুই। তিনি বলেন, এই পানীয়ই তার বার্ধক্যে তাকে সুস্থ ও তরুণ রাখছে। ‘কফি পান করলে আপনি তরুণ ও সুস্থ থাকবেন… বার্ধক্য ঠেকানো সম্ভব,’ হাসতে হাসতে বলেন তিনি। ‘আর এখন তো সবাই কাজে এত ক্লান্ত… তারা মস্তিষ্ককে চাঙা রাখতে চায়।’

গত কয়েক বছরে চীনে কফির উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যদিও ব্রাজিল, ভিয়েতনাম ও কলম্বিয়ার মতো ঐতিহ্যবাহী উৎপাদনকারীদের তুলনায় এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে। চীনের প্রায় সব কফি উৎপাদনই হয় ইউনান প্রদেশে, যার বেশিরভাগই কেন্দ্রীভূত পু’এরে।

গত মাসে ইউনান সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছিলেন, এই প্রদেশের কফি ‘চীনকে প্রতিনিধিত্ব করে’, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে। এই খাত আরও সম্প্রসারণে সরকার নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, যাতে উৎপাদন উন্নত হয়, বিনিয়োগ আকৃষ্ট হয় এবং রপ্তানি বাড়ে। সরকার পর্যটনের সঙ্গেও কফি উৎপাদনকে যুক্ত করেছে দেশের অভ্যন্তরীণ ভোক্তা ব্যয় বৃদ্ধির কেন্দ্রীয় উদ্যোগের অংশ হিসেবে।

৫১ বছর বয়সী অভিজ্ঞ কৃষক ইউ দুন বলেন, তিনি তার খামার পরিদর্শন, হোমস্টে এবং তার দাই জাতিসত্তার রন্ধনশৈলীর সঙ্গে কফির সংমিশ্রণে পরিচালিত রেস্তোরাঁর মাধ্যমে নতুন আয়ের উৎস খুঁজে পেয়েছেন। তিনি বলেন, এখন নিজেই বিন প্রক্রিয়াজাত ও রোস্ট করতে শেখার ফলে আগের তুলনায় ‘দশগুণ’ বেশি আয় করছেন। ‘আগে বলতাম কফি শুধু ধনীদের জন্য, কিন্তু এখন সেই ধারণা পুরোপুরি পাল্টে গেছে,’ বলেন ইউ দুন।

ইতালির রোমে গির্জায় সমাহিত পোপ ফ্রান্সিস

ইতালির রাজধানী রোমের কেন্দ্রস্থলে সান্তা মারিয়া মাজোরে ব্যাসিলিকার ভেতরে সমাধিস্থ করা হয়েছে পোপ ফ্রান্সিসকে। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী গির্জাই হলো চূড়ান্ত বিশ্রামস্থল। এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ভ্যাটিকান।

গত শনিবার ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার’স চত্বরে শেষকৃত্যের প্রার্থনসভা অনুষ্ঠানের পর পোপ ফ্রান্সিসের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার মরদেহবাহী কফিন সমাধিস্থ করার জন্য রোমের ওই ব্যাসিলিকাটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। আর্জেন্টাইন এই পোপ সোমবার স্ট্রোক করে ও হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রোমের স্থানীয় সময় বেলা ১টায় ফ্রান্সিসকে সমাহিত করার অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর আধা ঘণ্টার মধ্যেই শেষ শয্যায় শায়িত করা হয় তাকে। বিবৃতিতে ভ্যাটিকান বলেছে, ‘এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভ্যাটিকানের বাইরে সমাহিত হওয়া প্রথম পোপ তিনি। তার এই সমাহিতকরণ একান্তে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার নিকটতমদের শ্রদ্ধা জানানোর অনুমতি দেয়া হয়েছিল।’ ফ্রান্সিসের ইচ্ছা অনুযায়ী, ইতালির রাজধানীর এই সান্তা মারিয়া মাজোরে গির্জাই হয়েছে তার শেষ বিশ্রামস্থল। ভ্যাটিকান জানিয়েছে, রোববার সকাল থেকে আগ্রহীরা ফ্রান্সিসের সমাধি পরিদর্শন করতে পারবেন। আর্জেন্টিনায় জন্ম নেয়া ফ্রান্সিস ৮৮ বছর বয়সে গত সপ্তাহে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর পরপরই প্রায় ১৫০ কোটি অনুসারীর ক্যাথলিক চার্চ পোপ বিদায়ের প্রাচীন রীতি ও আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে।

তাকে শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার সকাল থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পোপের মরদেহ ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত সেন্ট পিটার’স ব্যাসিলিকায় শায়িত রাখা হয়। এই সময়ের মধ্যে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন বলে জানিয়েছে ভ্যাটিকান। তারপর শনিবার সেন্ট পিটার’স চত্বরে ভ্যাটিকানের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রার্থনাসভা শুরু হয়। এই প্রার্থনাসভা শেষ হওয়ার পর একটি বিশেষ গাড়িতে করে পোপের কফিন সান্তা মারিয়া মাজোরে গির্জায় নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে একান্তে একটি সংক্ষিপ্ত প্রার্থনাসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কার্ডিনাল চেম্বারলেইন কেভিন জোসেফ ফারেলের নেতৃত্বে পোপ ফ্রান্সিসকে সমাহিত করা হয়। ভ্যাটিকান জানিয়েছে, ইতালির রাজধানীর রাজপথ দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পোপের কফিনের মিছিল দেখতে প্রায় দেড় লাখ মানুষ রাস্তার পাশে জড়ো হয়েছিলেন।

এর আগে সেন্ট পিটার্স চত্বরে পোপের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুষ্ঠানে আড়াই লাখ মানুষ হাজির হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে তারা। আর ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই দুই স্থানে অন্তত চার লাখ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।

ইইউতে পোশাক রপ্তানিতে বেড়েছে ৩৭ শতাংশ

 ২০২৫ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে ৩৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ৩ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার।

২০২৫ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ে ইইউতে পোশাক আমদানি ১৭ দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়ে ১৬ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

ইইউতে পোশাক আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে ২৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং গড় ইউনিট মূল্যে ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এই ইতিবাচক রপ্তানি প্রবণতার পেছনে বেশ কিছু বিষয় ভূমিকা রেখেছে, যার মধ্যে রয়েছে- ইইউর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, শুল্কমুক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার, নিরাপত্তা মান মেনে চলা এবং নির্মাতা ও শ্রমিকদের সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা।

এসব উন্নয়ন ক্রেতাদের আস্থা বাড়িয়েছে এবং বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারে অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে, ২০২৫ সালের পুরো বছর জুড়ে কাজের অর্ডার বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা (বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশের মধ্যে) বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ক্রেতারা বাংলাদেশে তাদের সোর্সিং কার্যক্রম বাড়াচ্ছেন, ফলে প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তুলনামূলকভাবে, চীন, ভারত, পাকিস্তান এবং কম্বোডিয়া ২০২৫ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে উল্লেখযোগ্য রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

চীনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে পোশাক রপ্তানি ২০২৪ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির ৩.৬৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৪.৫৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, ইউরোপে তুরস্কের পোশাক রপ্তানি ৩.৬৪ শতাংশ কমে ১.৬১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, আর ভিয়েতনাম ১৬.৫৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ৭৫৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

ভারত, পাকিস্তান এবং কম্বোডিয়া ইউরোপীয় বাজার থেকে যথাক্রমে ৮৬৫ মিলিয়ন, ৭১১ মিলিয়ন এবং ৭৭৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে।

ব্র্যান্ড বিজিএমইএ-র সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিউদ্দিন রুবেল বলেন, উপস্থাপিত তথ্য ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে কৌশলগত অভিযোজনের প্রয়োজনীয়তার দিক নির্দেশ করে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রপ্তানিতে পরিমাণ ও মূল্যের দিক থেকে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বৈশ্বিক মূল্য হ্রাসের প্রবণতার মধ্যে দেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান টিকিয়ে রাখা এবং লাভের মার্জিন বৃদ্ধি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।’

রুবেল আরও বলেন, মূল্য সংযোজন এবং বাজার সম্প্রসারণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ও সমৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে মোট ৩৮.৪৮ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছিল, যার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আয় হয়েছিল ১৯.৭৭ বিলিয়ন ডলার।

কবি দাউদ হায়দার মারা গেছেন

বাংলাদেশের প্রথম নির্বাসিত কবি দাউদ হায়দার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে জার্মানির রাজধানী বার্লিনের একটি বয়স্ক নিরাময় কেন্দ্রে মৃত্যু হয় তার।

তার ভাতিজি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাওন্তী হায়দার বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২০ মিনিটে মারা গেছেন তার চাচা।

১৯৭৪ সালে দেশ ছেড়ে কয়েক বছর কলকাতায় থাকার পর ১৯৮৭ সালে দাউদ হায়দার জার্মানিতে চলে যান। এরপর থেকে জার্মানিতে ছিলেন তিনি।

চিরকুমার দাউদ হায়দার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ভুগছিলেন। গত বছর ডিসেম্বরে বার্লিনে তার বাসার সিঁড়িতে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান, তখন তাকে হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল থেকে মুক্তি পেলেও তিনি আর সুস্থ জীবনে ফিরতে পারেননি।

উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাবনায় জন্মগ্রহণ করেন দাউদ হায়দার। তিনি একাধারে ছিলেন কবি, লেখক এবং সাংবাদিক।

১৯৭৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সংবাদে তার কবিতা ‘কালো সূর্যের কালো জ্যোৎস্নায় কালো বন্যায়’প্রকাশিত হলে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এরপর আন্দোলন শুরু হলে ১১ মার্চ তাকে আটক করা হয়।

২০ মে মুক্তি পেলেও নিরাপত্তা না পেয়ে পরদিন সকালে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে তাকে কলকাতায় পাঠানো হয়