Home Blog Page 438

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সব মুসলিমদের জন্য জিহাদের ফতোয়া জারি

গাজায় অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ১৭ মাস ধরে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট মুসলিম বিশেষজ্ঞ এক বিরল ধর্মীয় ফরমান বা ফতোয়া জারি করেছেন। তারা সমস্ত মুসলিম ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

মিশরীয় ইসলামী পণ্ডিত ইউসুফ আল-কারাদভীর নেতৃত্বাধীন ইসলামি সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারসের (আইইউএমএস) মহাসচিব ও প্রভাবশালী কুর্দি সুন্নি ইসলাম পণ্ডিত শেখ আলী আল-কারাদাঘি শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সমস্ত মুসলিম দেশকে তাদের ম্যান্ডেট অনুসারে ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যা ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে অবিলম্বে সামরিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানান।

শেখ আলী আল-কারাদাঘি শরিয়া ও ফিকাহ এবং ইসলামী অর্থনীতির বিশেষজ্ঞ। তিনি দোহার কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়া ও ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের আইনশাস্ত্রের অধ্যাপক। ইসরায়েলকে প্রতিহত করতে তিনি প্রায় ১৫ দফা ফরমান বা ফতোয়া জারি করেছেন।

ফতোয়ায় আলী আল-কারাদাঘি বলেন, গাজা ধ্বংস হওয়ার সময় আরব ও ইসলামি সরকারগুলোর সমর্থন দেওয়ার ব্যর্থতা ইসলামী আইন অনুসারে সেখানকার নির্যাতিত মানুষদের প্রতি বড় অন্যায়। গাজার মুসলমানদের নির্মূলের চেষ্টা করা কাফের শত্রু ইসরায়েলকে সমর্থন করা নিষিদ্ধ, তা সে যে ধরণের সমর্থনই করুক না কেন। ইসরায়েলিদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা নিষিদ্ধ। সুয়েজ খাল, বাব আল-মান্দাব, হরমুজ প্রণালী, অথবা অন্য কোনো স্থল, সমুদ্র বা আকাশপথের মতো বন্দর বা আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে তাদের জন্য অস্ত্র পরিবহন সহজতর করা নিষিদ্ধ।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারস যে ফতোয়া জারি করেছে, সেটিতে গাজার মুসলিমদের সমর্থনে দখলদার শত্রুর (ইসরায়েল) জন্য আকাশ, স্থল ও সমুদ্র অবরোধের দাবি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ফরমান বা ফতোয়া হলো ধর্মীয় জ্ঞানের অধিকারী একজন সম্মানিত ব্যক্তির দেওয়া বাধ্যতামূলক ইসলামী আইনি রায়। এটি সাধারণত কুরআন বা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বাণী ও ইসলামী অনুশীলনের ওপর ভিত্তি করে প্রণয়ন করা হয়। ফতোয়ায় আলী আল-কারাদাঘি মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে সম্মানিত ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের একজন। তার ফতোয়াগুলো পৃথিবীর ১৭০ কোটি সুন্নি মুসলিমের কাছে ব্যাপক গুরুত্ব বহন করে।

কারাদাঘির ফতোয়াকে সমর্থন জানিয়েছেন আরও ১৪ জন ইসলামিক ব্যক্তিত্ব। তারা যেসব মুসলিম দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের ‘শান্তি চুক্তি’ আছে সেগুলো যেন পুনর্বিবেচনা বা পর্যালোচনা করার কথা বলেছেন। একইসঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগ্রাসন নির্মূল ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় মুসলিমদের ওপর হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে বাধ্য করতে মার্কিন মুসলিমদেরকে চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান।

গত জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার আগে নির্বাচনী প্রচারণার সময় বারবার যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি ও অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কথা বলেন ট্রাম্প। কিন্তু গত মাসে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ফের যুদ্ধ শুরু করতে ইসরায়েলকে সবুজ সংকেত দেখান তিনি। যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিল করার পর থেকে ইসরায়েল শত শত শিশুসহ এক হাজার ২০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৫০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় আরও ৩২ ফিলিস্তিনি নিহত

গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলায় একদিনে কমপক্ষে আরও ৩২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক। এতে করে অবরুদ্ধ এই উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা ৫১ হাজার ২৬০ ছাড়িয়ে গেছে।

গত ১৮ মার্চ গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ১৯০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে এবং গাজা শহরের আল ডোরা পেডিয়াট্রিক হাসপাতালে আক্রমণ করেছে। এছাড়া মঙ্গলবার উপত্যকা জুড়ে কমপক্ষে ৩২ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল।

পৃথক প্রতিবেদনে বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, গাজা উপত্যকায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক আগ্রাসনে ভূখণ্ডটিতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ হাজার ২৬৬ জনে পৌঁছেছে বলে মঙ্গলবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি আক্রমণে আহত হওয়া আরও ৬০ জনেরও বেশি মানুষকে গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংঘাতের শুরু থেকে আহতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৯১ জনে পৌঁছেছে। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে থাকলেও উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেননি।

দীর্ঘ ১৫ মাস সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল। তারপর প্রায় দু’মাস গাজায় কম-বেশি শান্তি বজায় ছিল; কিন্তু গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে হামাসের মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে মার্চ মাসের তৃতীয় গত সপ্তাহ থেকে ফের গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় নতুন করে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৯০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৪ হাজার ৯৫০ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের বর্বর এই হামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে দিয়েছে।

জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। এছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে আগ্রাসনের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখিও হয়েছে ইসরায়েল।

৫০০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগে ওয়ান ফার্মা, ল‌ক্ষ‌্য ওষুধ রপ্তানি

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পে রপ্তানি বাজার স¤প্রসারণে নতুন মাইলফলক যোগ করতে যাচ্ছে ওয়ান ফার্মা লিমিটেড। বর্তমানে তিনটি দেশে ওষুধ রপ্তানি করলেও আগামী তিন বছরের মধ্যে নতুন করে আরও ১০টি দেশে রপ্তানি শুরুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ করছে প্রতিষ্ঠান‌টি।শুক্রবার ওয়ান ফার্মার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোম্পানিটি বর্তমানে তিনটি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে। আরও কয়েকটি দেশে রপ্তানি করতে প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে কৃষিপণ্য রপ্তানি করতে চায় তারা। ওয়ান ফার্মা ও এগ্রিকেয়ারের চেয়ারম্যান নাজমুন নাহার বলেন, আমরা ইতোমধ্যে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন দেশে ওষুধ রপ্তানি করছি। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তিতে উৎপাদিত ওষুধ এখন দেশেই কম দামে সরবরাহ করছি, যা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে সহায়তা করছে।চেয়ারম্যান জানান, কোম্পানি বর্তমানে আফগানিস্তান, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কায় ওষুধ রপ্তানি করছে। আলজেরিয়াসহ আফ্রিকার বিভিন্ন অনুন্নত দেশের সঙ্গে নতুন করে রপ্তানির আলোচনা চলছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে আরও ১০টি দেশে পণ্য পাঠানো। টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে একসঙ্গে পথ চলার অঙ্গীকার বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে রপ্তানি বহুমুখীকরণের চেষ্টা থাকবেওষুধ খাতে নতুন মাত্রা যোগ করতে প্রতিষ্ঠানটি ক্যান্সারের জন্য বায়োটেক ওষুধ উৎপাদনের প্লান্ট স্থাপন করছে। এরই মধ্যে কিছু যন্ত্রপাতি স্থাপন হয়েছে এবং আরও যন্ত্রপাতি আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে উৎপাদিত ক্যান্সারের ওষুধ স্বল্পমূল্যে বাজারে সরবরাহ করা যাবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানির দরজা খুলবে ব‌লে জানান ওয়ান ফার্মার চেয়ারম্যান নাজমুন নাহার।কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৫ সালে এই ওষুধ কোম্পানি বগুড়ার বিসিক শিল্পনগরীতে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এই ওষুধ কারখানায় ২০০ শ্রমিক কাজ করছে। শতাধিক জেনেরিক ওষুধ এখন তৈরি করছে কোম্পানিটি। ওয়ান ফার্মার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ২০১৮ সালে ওষুধ রপ্তানি শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৪ সালে আফগানিস্তানে ২ মিলিয়ন ডলারের ওষুধ রপ্তানি করা হয়েছে। চলতি বছরে ৩ মিলিয়ন ডলারের অর্ডার রয়েছে। মিয়ানমারে রপ্তানির পরিমাণ ৫০ হাজার ডলার।তিনি আরও বলেন, আমরা ১০০টি দেশে রপ্তানির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। বর্তমানে আমাদের বার্ষিক টার্নওভার ১৫০ থেকে ১৮০ কোটি টাকা। গত বছর প্রবৃদ্ধি ছিল ৬১ শতাংশ। বর্তমানে আফগানিস্তান ও মিয়ানমারে রপ্তানি হচ্ছে। শ্রীলঙ্কা থেকে রপ্তানি আদেশ দিয়েছে। এই তিন দেশে এখন রপ্তানি হচ্ছে। ক্যান্সারের ওষুধ উৎপাদন শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান ওয়ান ফার্মার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা।বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির তথ্যমতে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২৬৯টিরও বেশি ছোট-বড় ওষুধ কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৪টি কারখানা নিয়মিতভাবে ওষুধ উৎপাদন করে যাচ্ছে। এসব কারখানায় প্রায় ৫ হাজার ব্র্যান্ডের ৮ হাজারেরও বেশি ওষুধ উৎপাদন করা হচ্ছে।কোম্পানির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রæপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ওয়ান ফার্মা। এই গ্রæপ অব কোম্পানির চেয়ারম্যান নাজমুন নাহার। দেশে ফসল উৎপাদন বাড়াতে ২০০২ সালে যাত্রা শুরু করে ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার। তাদের এই কোম্পানি তখন থেকেই উচ্চ ফলনশীল জাতের দেশি বীজ বাজারে সরবরাহ করে আসছে। কোম্পানিটি এখন ধান, ভুট্টা ও সবজির উচ্চ ফলনশীল বীজ উৎপাদন করে বাজারে ছাড়ছে।কোম্পানির হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট আবুল হাসান বলেন, আমরা প্রথম স্পেলেন্ডার ব্র্যান্ডের ওয়াটার ডিসপোজাবল গ্রানুলা কীটনাশক উৎপাদন করে বাজারে ছাড়ছি। এর ফলে অনেকে নিরাপদে এই কীটনাশক ব্যবহার করছে। কারণ এটি পাউডার ফ্রি হওয়ায় ব্যবহারে কোনো ক্ষতি নেই

রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ালো পৌনে ২৭ বিলিয়ন ডলারে

রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ালো পৌনে ২৭ বিলিয়ন ডলারে

দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ধীরে ধীরে বেড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। চলতি এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশের মোট রিজার্ভ বেড়ে প্রায় পৌনে ২৭ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী দেশের রিজার্ভ রয়েছে ২১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।

রোববার (২০ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৬৭৩ কোটি ডলার। তবে আইএমএফ হিসাব পদ্ধতি (বিপিএম-৬) অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ২১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন বা ২ হাজার ১৩৯ কোটি ডলার।
এ দুই হিসাবের বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে, যা শুধু আইএমএফকে জানানো হয়। সেখানে আইএমএফের এসডিআর খাতে থাকা ডলার, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাবে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা এবং আকুর বিল বাদ দিয়ে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের হিসাব করা হয়। সেই হিসাবে দেশের ব্যয়যোগ্য প্রকৃত রিজার্ভ এখন ১৬ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।
একটি দেশের ন্যূনতম তিন মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়। সেক্ষেত্রে আমাদের রিজার্ভ দিয়ে তিন মাসের বেশি সময়ের আমদানি দায় মেটানো সম্ভব। নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের ‘বিপিএম-৬’ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ বের হয়।
রিজার্ভের ইতিবাচক ধারায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনে ১০৫ কোটি ২৪ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত মার্চ মাসে রেমিট্যান্স আহরণে নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে। মার্চে রেমিট্যান্স এসেছে ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। যা দেশের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড, এক মাসে এর চেয়ে বেশি পরিমাণ রেমিট্যান্স আগে কখনো আসেনি।
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। পরের মাস আগস্টে এসেছে ২২২ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, সেপ্টেম্বরে এসেছে ২৪০ কোটি ৪১ লাখ, অক্টোবরে এসেছে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। এরপর নভেম্বর মাসে এসেছে ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে এসেছে ২৬৪ কোটি ডলার। চলতি বছরের জানুয়া‌রি‌তে ২১৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি ডলার ও মার্চে সব রেকর্ড ভেঙে ৩২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পা‌ঠি‌য়েছেন প্রবাসীরা।
অন্তর্র্বতী সরকার দা‌য়িত্ব নেওয়ার পর টানা ৭ মাস দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট‌্যান্স এসে‌ছে দেশে। যার প্রভাবেই চাঙা রয়েছে রিজার্ভ।

লন্ডনে লাগেজভর্তি করে কী নিয়ে গেলেন তাসনিয়া ফারিণ

এবারের ঈদটা তাসনিয়া ফারিণের জন্য অন্যরকম। বিশেষ দিনটি কাটাচ্ছেন সুদূর বিলাতে। সেখানে যাওয়ার আগে লাগেজভর্তি জিনিসপত্র নিয়ে গেছেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।
তাসনিয়া ফারিণের স্বামী রেজওয়ান যুক্তরাজ্যের বার্হিংহামে থাকেন। তিনি সেখানে চাকরি করেন। তার আত্মীয় স্বজনরাও সেখানে থাকেন। মূলত স্বামীর জন্যই লন্ডনযাত্রা ফারিণের।
তাসনিয়া ফারিণ জানান, ঈদের আগে স্বামীর কাছে যাওয়ার উপলক্ষ্যে লাগেজ ভরে নানা কিছু নিয়ে যেতে হয়েছে। নিজে যেমন কেনাকাটা করেছেন, স্বামীর জন্য তেমনি শেখ রেজওয়ানের মা–বাবা এবং শ্বশুর–শাশুড়ির দেওয়া জিনিসপত্রও নিয়ে গেছেন তিনি।
আট বছরের সম্পর্কের পর ২০২৩ সালের আগস্টে শেখ রেজওয়ানকে বিয়ে করেন তাসনিয়া ফারিণ। যখন ফারিণ কলেজে পড়তেন, তখন থেকেই তাদের মধ্যে সম্পর্ক। প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর আগে থেকেই বন্ধুত্ব ছিল ফারিণ আর রেজওয়ানের। ফারিণ দেশে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও রেজওয়ান যুক্তরাজ্যে চাকরি করেন। বিয়ের পর একবার তারা দুজন ঈদ উদ্‌যাপন করেন তুরস্কে। এবার যুক্তরাজ্যে কাটবে।
লন্ডনযাত্রা উপলক্ষ্যে তাসনিয়া ফারিণ বলেন, এখানে আসার আগে অনেক কিছু নিয়ে আসছি। পাঞ্জাবি, শার্টসহ যা যা আছে। আম্মু ইলিশ মাছ ভেজে বক্সে করে পাঠিয়েছেন। রেজওয়ানের বাসা থেকে কোপ্তা রান্না করে দিয়েছে। আচার বানিয়ে পাঠিয়েছে। মসলাপাতি যা যা আছে সবই নিয়ে আসা লাগছে। লাগেজে এমন অবস্থা, আমার কিছুই ছিল না, সবই আমার স্বামীর। লন্ডনে এখন ঠান্ডা, তাই ওর পাঞ্জাবি কেনার ক্ষেত্রে মোটা কাপড়ের কিনতে হয়েছে। তা ছাড়া এখানে কেউ কালারফুল কিছু পরে না, তাই হালকা রঙের কাপড় নিয়েছি।
বিয়ের আগের ঈদ আর এখনকার ঈদের মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পান—এমন প্রশ্নে ফারিণ বলেন, ‘পার্থক্য বলতে আমি তো এখন লন্ডনে। সে হিসেবে বলতে পারি, এটা তো অবশ্যই ভিন্ন রকম। আমার পরিবার ঢাকায়, তাঁদের সঙ্গে ঈদ করা হচ্ছে না। এখানে আমার মামা-মামি আছেন, তাঁদের এখানেই আছি। ঈদ তাদের সঙ্গে হবে। এরপর স্বামীর সঙ্গে তার বাসায় যাব।’
জানা গেছে, মাসখানেক যুক্তরাজ্যে থাকার পর বাংলাদেশে ফিরবেন তাসনিয়া ফারিণ। এরপর মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের শুটিং শুরু করবেন। ‘ইনসাফ’ নামের সেই ছবির পরিচালক সঞ্জয় সমাদ্দার। ইনসাফ ছবির আগেই এবারের ঈদে এই অভিনেত্রীর একটি ওয়েব ফিল্ম মুক্তি পাচ্ছে। কাজল আরেফিন অমি পরিচালিত ‘হাউ সুইট’ নামের এই ওয়েব ফিল্মে তাঁর সহশিল্পী অপূর্ব। এরই মধ্যে হাউ সুইট ছবির ট্রেলার এবং গান প্রকাশিত হয়েছে।

 

পাকিস্তানে বইছে রিশাদ ঝড়

রিশাদ উড়ছেন, দলকে উড়াচ্ছেন। প্রথমবার পিএসএলে খেলতে গিয়েই স্বপ্নের মতো সময় পার করছেন বাংলাদেশের এই স্পিনার। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ৩ উইকেট শিকার করলেন। পরপর দুই ম্যাচে জয় পেল তার দল লাহোর কালান্দার্স।
পিএসএলে নিজের প্রথম ম্যাচটা বেঞ্চে বসেই কাটিয়ে ছিলেন রিশাদ। কে জানতো এরপরের গল্পটা কেবল তারই হবে। কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সের বিপক্ষে নিজের অভিষেক ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করেছিলেন রিশাদ হোসেন। তিন উইকেট নিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বাংলাদেশের স্পিনার। করাচি কিংসের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচেও ঝলক দেখালেন, এবার নিজেকেই ছাড়িয়ে গেলেন।
টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়েছেন রিশাদ। সেই সঙ্গে পিএসএলে করলেন ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। ২৬ রান খরচায় প্রতিপক্ষের মূল্যবান তিন উইকেট তুলে নিয়েছেন। যার সবকটি নিজের করা প্রথম দুই ওভারেই।
করাচিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ২০১ রানের বড় পুঁজি গড়েছিল রিশাদের দল লাহোর। ৪৭ বলে ৭৬ রান করেন ওপেনার ফখর জামান। এছাড়া ৪১ বলে ৭৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ড্যারিল মিচেল। শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে নেমে রানআউট হওয়ার আগে ৩ বলে ২ রান এসেছে রিশাদের ব্যাট থেকে।
লাহোরের বড় টার্গেট তাড়ায় শুরুতেই শাহিন আফ্রিদির তোপের মুখে পড়ে করাচি কিংস। ইনিংসের শুরুর ওভারেই জোড়া আঘাত হানেন লাহোর কাপ্তান। অষ্টম ওভারে বল হাতে নিয়ে প্রথম ডেলিভারিতেই শান মাসুদকে বিলিংসের গ্লাভসে শিকার বানান রিশাদ। চার বল পর ইরফান খানকে মিচেলের ক্যাচ বানান তিনি। ওই ওভারে মাত্র ১ রান দিয়ে জোড়া আঘাত করেন বাংলাদেশি স্পিনার।
এরপর দশম ওভারে বল হাতে নিয়ে আব্বাস আফ্রিদিকে ফেরান রিশাদ। এবার খরচ করলেন মাত্র ৩ রান। ততক্ষণে ৫০ রান তুলতে ৭ উইকেট পড়ে যায় করাচির।
নিজের কোটার শেষ দুই ওভারে আর উইকেট পাননি রিশাদ। ছিলেন কিছুটা খরুচে। দুই ওভারে যথাক্রমে ১১ ও ১২ রান দিয়ে শেষ করেন রিশাদ। প্রথম ম্যাচে ৩১ রান দিয়েছিলেন চার ওভারে। দুই ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক এখন রিশাদ। পাকিস্তানের স্পিনার আবরার আহমেদও ৬টি উইকেট শিকার করেছেন।

 

 

বাংলাদেশি পণ্যে শতকরা ৩৭ ভাগ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

.

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই বাণিজ‍্য যুদ্ধের আভাস দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর যেই কথা সেই কাজ।

একে একে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করে যাচ্ছেন। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের আওতায় এবার বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। এতদিন দেশটিতে বাংলাদেশী পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক ছিল। 

ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় বুধবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে উচ্চ মাত্রার এই শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রে বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি হয় প্রায় ৮.৪ বিলিয়ন (৮৪০ কোটি) ডলার, যা প্রধানত তৈরি পোশাক। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়ায় ৭.৩৪ বিলিয়ন (৭৩৪ কোটি) ডলারে। নতুন করে উচ্চ মাত্রার শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের পাল্টা এই শুল্ক আরোপে ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ৩৪ শতাংশ।

এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরায়েলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ আরোপ করা হয়েছে।

বিডিইয়র্ক ডেস্ক, নিউইয়র্ক

নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশি হেরিটেজ’শীর্ষক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

গতকাল বৃহস্পতিবার দিনটি ছিল নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষের জন‍্য উৎসবের, সম্মানের। নিউইয়র্ক সিটির উন্নয়ন ও কল্যাণে নিরন্তরভাবে কর্মরত বাংলাদেশিদের বিশেষ সম্মান জানানোর মধ্য দিয়ে ‘বাংলাদেশি হেরিটেজ’ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নিউইয়র্কে ‘জয় বাংলা রাষ্ট্রীয় স্লোগান পরিষদ’র আয়োজনে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্কে ‘জয় বাংলা রাষ্ট্রীয় স্লোগান পরিষদ’র আয়োজনে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ১৬ এপ্রিল জ্যামাইকার জেসন পার্টি হলে সংগঠনটি আলোচনা সভার আয়োজন করে।সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন স্বপনের পরিচালনায় এবং সভাপতি এডভোকেট ছায়াদ আহমেদের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী সদস্য সংগঠনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা সরাফ সরকার, সংগঠনের উপদেষ্টা জহিরুল ইসলাম, স্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল, সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা আমিনুল ইসলাম চুন্নু, সংগঠনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মনির হোসেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ নেতা রেজাউল করিম চৌধুরী, একেএম তারেকুল হায়দার চৌধুরী, আকতার হোসেন, ‘জয় বাংলা রাষ্ট্রীয় স্লোগান পরিষদ’র সহ সভাপতি খান শওকত, কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি নুরুজ্জামান সরদার, স্টেট আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিউসবাউর সাকের জুতি, ‘জয় বাংলা রাষ্ট্রীয় স্লোগান পরিষদ’র খলিলুর রহমান, আউব চৌধুরী, ওসমান গনি চৌধুরী, নজরুল ইসলাম, শাহ আলম, যুবায়ের আলী, হাজী উস্তার আলী, জালাল উদ্দিন, হাফিজ শেখ, অধ্যাপক বুরহান উদ্দিন হাওলাদার, আব্দুল ফাত্তাহ, রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন আব্দুল হাই। পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন প্রভাষ চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। বঙ্গবন্ধুসহ মুুজিবনগর সরকারের নের্তৃবৃন্দের আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
মুজিবনগর সরকারের তাৎপর্য উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, দিবসটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য দিন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এদিন মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আ¤্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। আর স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই কঠিন মুহুর্তে মুজিবনগর সরকার বাঙ্গালীর স্বাধীনতা আন্দোলনের ন্যয়সঙ্গত অধিকারের পক্ষ্যে বহির্বিশ্বে জনমত গঠন ও বিভিন্ন রাষ্ট্রসমূহের সমর্থন আদায়ে মূল ভূমিকা পালন করে।
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের এ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীসহ প্রবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনের সভাপতি এডভোকেট ছায়াদ আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন স্বপন অনুষ্ঠানে আগত সকলকে ধন্যবাদ জানান।

সৌদি সফরে কাটছাঁট, দিল্লিতে ফিরছেন মোদি

জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার পাহালগামের বাইসরান উপত্যকায় ভয়াবহ হামলায় বিদেশি নাগরিকসহ অন্তত ২৬ জন পর্যটক নিহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব সফর সংক্ষিপ্ত করে বুধবার সকালে দেশে ফিরছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

নিরাপত্তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটির সঙ্গে তিনি বৈঠকে বসবেন বলে জানা যাচ্ছে। বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরে ভয়াবহ হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সৌদি আরব সফর সংক্ষিপ্ত করে দিল্লিতে ফিরে এসেছেন। এর আগে সৌদি আরবে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক নৈশভোজ এড়িয়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন মোদি।

মূলত বুধবার রাতে তার ফেরার কথা ছিল। তবে মঙ্গলবার পাহলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর বুধবার সকালে তিনি ভারতে পৌঁছেছেন। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমান হামলার নিন্দা জানিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং সৌদি প্রিন্স  সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

জেদ্দায় থাকা অবস্থায় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাৎক্ষণিক বিবৃতি দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। দোষীদের কঠোর শাস্তি দেয়া হবে।’

মঙ্গলবার বিকেলে কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলা হয়। হিমালয়ের কোলে অবস্থিত মনোরম শহর পেহেলগামকে ‘ভারতের সুইজারল্যান্ড’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। জনপ্রিয় এই পর্যটন নগরীর এই হামলা ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার পর কাশ্মীরে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।