Home Blog Page 441

অর্থনৈতিক সংকটে বাংলাদেশ: বিনিয়োগ স্থবিরতায় বাড়ছে বেকারত্ব

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অস্থিরতার কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে গতি কমেছে, যার ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয়ে বেকারত্ব বাড়ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে আসন্ন বাজেটে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল। ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন এবং রাজস্ব খাত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ২৬ লাখ ৬০ হাজার কর্মক্ষম মানুষ বেকার। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর নতুন করে ৩০ লাখ মানুষ দরিদ্র ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, দুর্বল শ্রমবাজারের কারণে দারিদ্র্যের হার ২২.৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

অর্থনৈতিক কার্যক্রমের এই শ্লথগতি মোকাবিলায় অর্থনীতিবিদরা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে জোর দেওয়ার কথা বললেও, প্রস্তাবিত বাজেটে পর্যাপ্ত উদ্যোগের অভাব দেখছেন তারা।

গবেষণা সংস্থা সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, “এখনও মজুরি বৃদ্ধির হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা বেশি। আমরা যদি বিনিয়োগ বাড়াতে পারি, এটাকে প্রণোদিত করতে পারি, কর্মসংস্থান করতে পারি তাহলে মূল্যস্ফীতি ক্রমান্বয়ে কমে আসবে বলে আমরা আশা করছি। ক্রয় ক্ষমতাটা তখন আমরা ধরে রাখতে পারব।”

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। অথচ চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আয় হয়েছে মাত্র ৩ লাখ ২১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আমদানি ও অন্যান্য শুল্ক, ভ্যাটে চাপ বাড়ানো হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, বাজেটে করজাল বাড়ানোর কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেই। তাদের মতে, কর বৈষম্যের কারণে এই বাজেট বিনিয়োগ সহায়ক নয়।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, “অর্থনীতিকে বেগবান করার জন্য এটা কি একটি সাপোর্টিভ বাজেট হয়েছে? আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাচ্ছি, সাপোর্টিভ কোনো কিছু এই বাজেটে আমরা দেখতে পাইনি।”

ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বারের সভাপতি জাভেদ আখতার দেশের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের দেশে এফডিআই জিডিপির মাত্র ০.৬ শতাংশ। এটা পাকিস্তানের চেয়েও কম এবং ৪০-৪৫ বছর ধরেই কম। এমন নয় যে গত ২ বা ৩ বছরে কমেছে। আপনি দেখবেন, পাকিস্তানের মতো ইকোনমিতে আমাদের চেয়ে বেশি এফডিআই। এটাই কঠিন সত্য। ভিয়েতনামের কথা বললে বলতে হবে, ওখানে এটা কয়েকগুণ বেশি। সুতরাং, স্ট্রাকচারালি আমাদের অনেক কাজ করতে হবে।”

২০২৪ সালে দেশে মোট এফডিআই এসেছে ১২৭ কোটি ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ১৩.২৫ শতাংশ কম। বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি টানা ছয় মাস ধরে ৮ শতাংশের নিচে রয়েছে, যা বিনিয়োগ স্থবিরতার স্পষ্ট ইঙ্গিত।

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত দ্রুত ইসিকে জানান: সালাহউদ্দিন

আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে হওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্রুত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে আলোচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সরকার যথাযথ প্রক্রিয়ায় ইসির সঙ্গে যোগাযোগ করবে, যাতে ইসি জনগণের সামনে এ বিষয়ে সরকারের বার্তা প্রকাশ করতে পারে।

সোমবার(১৬ জুন) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘নাগরিক ঐক্য’ আয়োজিত ‘বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কল্যাণ রাষ্ট্রের ভাবনায় বাজেট ২০২৫-২৬’ শীর্ষক এক সেমিনারে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যেতে পারি, এই ব্যবস্থা এই সরকারকে নিতে হবে। সেই হিসেবে লন্ডনের আলোচনার সূত্র ধরে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা বাস্তবায়নে যথাযথ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরকার যোগাযোগ করবে বলে আশা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “যাতে নির্বাচন কমিশন জনগণের সামনে বলতে পারে যে, তারা সরকারের কাছ থেকে একটা পরামর্শমূলক বা নির্দেশনামূলক বার্তা পেয়েছে।”

বিএনপির এই নেতা প্রস্তাবিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “এই বাজেটে রাজস্ব খরচের পরিমাণ উন্নয়ন খরচের দ্বিগুণ। এই অবস্থায় এই উন্নয়ন বাজেট পরনির্ভরশীল হবে, ঋণ নিতে হয়। অর্থাৎ বাজেট বিদেশি ঋণ ও আর্থিক খাত নির্ভর হয়। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে না পারলে নিজস্ব অর্থনীতির ওপর ভিত্তি করে বাজেট প্রণয়ন করা সম্ভব হবে না।”

তিনি বাজেটে করমুক্ত আয় সীমা চার লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেন। একইসঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা জালের আওতায় দেওয়া বিভিন্ন ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর আহ্বান জানান। জ্বালানি ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব খনিজ সম্পদ দেশীয়ভাবে আহরণে মনোযোগ দেওয়ার গুরুত্বও তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকে বর্তমান সরকারের দায়মুক্তির বিষয়ে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “সংবিধানের ধারা ১০৬ এবং সুপ্রিম কোর্টের একটা রুল অনুসারে এই সরকার গঠিত হয়েছে। সংবিধান যেহেতু এখনও বলবৎ, সেহেতু সাংবিধানিকভাবে এই সরকার চলছে। এই সরকারের বৈধতার জন্য একটা নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন।”

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর মান্নার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, ভাসানী জনশক্তি পার্টির আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) স্থায়ী কমিটির সদস্য মোস্তাক হোসেন।

ইসরায়েলি হামলায় তেহরানের টেলিভিশন ও কেরমানশাহের হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত

ইরানের রাজধানী তেহরানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, কিছুক্ষণ আগে এই হামলা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত সংক্ষিপ্ত ঘোষণায় বলা হয়েছে, “রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বর্তমানে ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্যবস্তু।” তাৎক্ষণিকভাবে হামলার বিস্তারিত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এই হামলার কিছুক্ষণ আগেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হুমকি দিয়েছিলেন যে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিও “অদৃশ্য হতে যাচ্ছে”। এএফপির খবরে কাৎজের বিবৃতির বরাত দিয়ে বলা হয়, ইরানের প্রচারণা ও উসকানির মেগাফোন “অদৃশ্য হতে যাচ্ছে”। এর আগে, ইরানের রাজধানী তেহরানে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের সদর দপ্তর সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইসরায়েলি বাহিনী, যার পরপরই এই হুমকি আসে। তেহরানের ওই এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে, এই হামলার আগে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কেরমানশাহে একটি হাসপাতালেও হামলা চালায় ইসরায়েল। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হামলায় হাসপাতালটির একাংশের ছাদ ধসে পড়েছে এবং কয়েকজন রোগী আহত হয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধ বলে অভিহিত করেছে। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সিএনএনকে জানিয়েছে, তারা ইরানে কোনো হাসপাতালের ওপর হামলার বিষয়ে জানে না।

ইরানের ফারস ও তাসনিম সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত একাধিক ভিডিওর বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, হামলায় কেরমানশাহে ফারাবি হাসপাতালের একটি অংশের ছাদ ধসে পড়েছে এবং অন্যান্য অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এসব ভিডিওচিত্র যাচাই করেছে। তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, হাসপাতালটির ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ভাঙা কাচ ও ছাদ ধসে এই ইউনিটের রোগীরা আহত হয়েছেন।

তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেছেন যে ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, বাঘাই বলেন, “হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকায় হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধ। ইতিহাস অবশ্যই এর বিচার করবে। ইসরায়েলের মিত্র ও পক্ষ অবলম্বনকারীদের জন্য চিরস্থায়ী লজ্জা অপেক্ষা করছে।”

ইরান-ইসরায়েল সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত পুতিন-এরদোয়ান

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে গত চারদিন ধরে যে পাল্টা-পাল্টি হামলা চলছে, সেটি বন্ধে মধ্যস্থতা করার আগ্রহ দেখিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইপ এরদোয়ান।উভয়ই আলাদাভাবে জানিয়েছেন, সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে তারা মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত রয়েছেন।ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ‌‘সংঘাত নিরসনের জন্য রাশিয়ার আগের প্রস্তাব এখনও বহাল রয়েছে। যদিও পরিস্থিতি এখন আরও জটিল হয়ে পড়েছে।’সমস্যার সমাধানে রাশিয়া বিবাদমান পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলেও জানিয়েছে ক্রেমলিন।এদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার রেচেপ তাই0প এরদোয়ান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।ইসরায়েলের সাথে সংঘাতের অবসান ঘটাতে তুরস্ক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনে প্রস্তুত বলে ইরানকে জানিয়েছেন এরদোয়ান।

সাংবাদিকদের সর্বদা সত্যের পক্ষে কথা বলতে হবে: ডা. জাহিদ

সাংবাদিকদের সর্বদা সত্যের পক্ষে কথা বলতে হবে: ডা. জাহিদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, সাংবাদিকদের কেউ কেউ শুধু প্রশংসা করতেই আগ্রহী হন, কিন্তু সমালোচনা করার সাহস দেখান না। পছন্দের সরকারের কেবল প্রশংসা করা, তাদের ভুল-ত্রুটি উপেক্ষা করে যাওয়া গণমাধ্যমের জন্য সঠিক কাজ নয়।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সর্বদা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে হবে। সত্য ও জনগণের পাশে থাকলে মানুষ আপনাদের সব সময় মনে রাখবে।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ডিইউজে সভাপতি শহীদুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ডা. জাহিদ বলেন, আলোচনার মাধ্যমে ১০টি চুক্তি সই হয়েছে, কিন্তু একজন সাংবাদিকও প্রশ্ন করতে সাহস করেননি- এই চুক্তিগুলো আসলে কী নিয়ে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অনেক সাংবাদিক দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন, অনেকে চাকরি হারিয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও আপনারা এখনও টিকে আছেন, এটাই আপনাদের অর্জন। আজকের দিনে অঙ্গীকার হোক, সর্বদা সত্যের পক্ষে কথা বলার, ন্যায়ের পক্ষে থাকার।
বিএফইউজে’র মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, সংবাদপত্র বন্ধ করে শেখ মুজিব গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছিলেন। তিনি জাতিকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করেছিলেন।
আলোচনায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন- জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি দৈনিক কালের কণ্ঠ সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, দ্য নিউ নেশনের সাবেক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, বিএফইউজে’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহিন, মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, সহ-সভাপতি এ কে এম মহসিন ও খায়রুল বাশার, সহকারী মহাসচিব বাসির জামাল, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি খন্দকার হাসনাত করিম পিন্টু, রাশেদুল হক ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খান।

সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে ডব্লিউজিইআইডি ভাইস চেয়ারপার্সনের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘের জোরপূর্বক গুম বিষয়ক কার্যনির্বাহী দলের (WGEID) ভাইস চেয়ারপার্সন গ্রাজিনা বারানোভস্কার।

তার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সোমবার (১৬ জুন) সেনা সদরে সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজে তা প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সাক্ষাতে গ্রাজিনা বারানোভস্কা বিভিন্ন সংস্থায় (যেমন র‍্যাব, ডিজিএফআই, বিজিবি) অতীতে কর্মরত কিছু সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জবাবে সেনাবাহিনী প্রধান জানান, এ ধরনের সেনা সদস্যরা সংশ্লিষ্ট সংস্থার অধীনে নিয়ন্ত্রণাধীন থেকে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিচার প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তদন্ত প্রক্রিয়ায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

‘শপথের সুযোগ নেই, পরিপক্ব আচরণ প্রত্যাশা করি’

স্থানীয় সরকার বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেছেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ইস্যুতে স্থানীয় সরকার বিভাগ কোনো আইন ভঙ্গ করেনি। বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় গেজেটের মেয়াদ ও পরে সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় সরকার বিভাগের শপথ দেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘তবে এভাবে ক্ষমতা প্রদর্শন করে নগর ভবন দখল করে দক্ষিণ ঢাকার দৈনন্দিন নাগরিক সেবায় বিঘ্ন ঘটানো দায়িত্বহীনতা ও আইনের শাসনের প্রতি অবমাননাকর।’

সোমবার (১৬ জুন) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।

বিজ্ঞপ্তিতে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের একজন নেতার থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ প্রত্যাশা করিনি। অবরোধের কারণে বিগত মাসে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ নাগরিক সেবা হ্রাস পেয়েছে। আমাদের অফিসাররা ওয়াসা অফিসে বসে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে নাগরিক সেবা বাধাগ্রস্ত না হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের অংশীজনদের থেকে আমরা আরও দায়িত্বশীল এবং পরিপক্ব আচরণ প্রত্যাশা করি।

বাংলাদেশেও হবে ফিফার একাডেমি

২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৭৫টি ট্যালেন্ট একাডেমি গড়বে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নতুন কমিটি ফিফা ট্যালেন্ট একাডেমি গড়ার উদ্যোগ নিচ্ছে। ফিফার অর্থায়নে এ একাডেমি প্রজেক্টে নিজেদের আগ্রহের কথা আর্সেন ওয়েঙ্গারকে জানিয়েছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল।

শনিবার ‘মিট দ্য প্রেসে’ এক প্রশ্নের জবাবে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেছেন, “প্রত্যেক দেশ এই একাডেমির জন্য আবেদন করতে পারে, তবে টিডিএস কমিটি রাজি হলেও চূড়ান্ত সম্মতি দেন আর্সেন ওয়েঙ্গার। তার কাছে আমি কমিটমেন্ট করেছি গত ফিফা কংগ্রেসে। আমরা আবেদন করব এবং প্রাথমিকভাবে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে আমাদের। আশা করি, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে আমরা ফিফা ট্যালেন্ট একাডেমির চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারব।”

এ প্রজেক্টের আনুষ্ঠানিক নাম হলো ‘ফিফা ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট স্কিম’। এর অধীনে ফিফা আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে ৭৫টি ফিফা ট্যালেন্ট একাডেমি গড়বে বিভিন্ন দেশে। ভারতের ভুবনেশ্বরেও এরকম একটি একাডেমি তৈরি করে দিয়েছে ফিফা। সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে বাহরাইনও নিয়েছে ফিফার এলিট একাডেমির সুবিধা। ফিফার অর্থায়নের পাশাপাশি তাদের গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্টের তত্ত্বাবধানে চলবে এ একাডেমি।

এর আগে ২০১২ সালে একাডেমি গড়বে বলে ফিফার ৭ লাখ ডলার অনুদান নয়-ছয় করেছিল বাফুফে। সিলেট বিকেএসপিকে ফুটবল একাডেমিতে রূপ দিয়ে কিছুদিন চালিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিল তারা।

তবে তাবিথ আউয়ালের কমিটি ফিফার এ এলিট একাডেমি গড়ার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এর আগে বাফুফে সভাপতি চাইছেন ফুটবল সেন্টার অব এক্সেলেন্স-এর একটা সুরাহা করতে, আমাদের তো আগেই একটা ফুটবল সেন্টার করার প্রজেক্ট দিয়েছে, যা কক্সবাজারে হওয়ার কথা ছিল। স্বাভাবিকভাবে ওটা নিয়ে আগে আমাদের চিন্তা করতে হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে সুরাহা করতে না পারলে ওই প্রজেক্ট বাতিল হয়ে যাবে। কথা দিচ্ছি, এটা বাতিল হবে না, তার আগেই এটা কার্যকর করব।

জ্বরে ভুগছেন ওয়ানডে অধিনায়ক মিরাজ

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ দিয়ে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ দলের পূর্ণাঙ্গ সফর। আগামী মঙ্গলবার গলে মাঠে গড়াবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। ম্যাচের আগে আজ রোববার প্রথমবারের মতো অনুশীলনে নামে বাংলাদেশ দল। মাঠে দেখা গেছে শান্ত, মুশফিক, নাহিদ রানা, জাকের আলিসহ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে।

তবে অনুশীলনে ছিলেন না সদ্য ওয়ানডে অধিনায়ক হওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ। জানা গেছে, জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় এদিন বিশ্রামে ছিলেন তিনি।

দিন শেষে অনুশীলনের পর সংবাদমাধ্যমে টাইগারদের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স জানিয়েছেন মিরাজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে। সিমন্স বলেন, ‘হ্যাঁ, মিরাজ জ্বরে ভুগছে। তবে আজ সকালেই তাকে আগের চেয়ে কিছুটা ভালো দেখেছি। চিকিৎসা চলছে। আশা করি আগামীকাল সে অনুশীলনে ফিরতে পারবে।’

তবে মিরাজের না থাকা দলের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে বলেও জানান কোচ। তার ভাষ্য, ‘মিরাজকে নিয়ে আমাদের কিছুটা দুশ্চিন্তা আছে। তবে যদি খেলতে না পারে, তাহলে দলে পরিবর্তন আনতে হবে। এটাই বাস্তবতা।’

গলায় মৌমাছি ঢুকে মারা গেলেন কারিশমার সাবেক স্বামী

বলিউড অভিনেত্রী কারিশমা কাপুরের প্রাক্তন স্বামী শিল্পপতি সঞ্জয় কাপুর না ফেরার দেশে চলে গেছেন। লন্ডনে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান তিনি। বিশ্বের অন্যতম ধনকুবের সঞ্জয়ের মৃত্যু ঘিরে নানা ধরনের খবর প্রকাশ্যে আসে।

তার বন্ধু ও ব্যবসায়িক সহযোগী সুহেল সেঠ এএনআইকে জানান, এ ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর মৃত্যু একটি মৌমাছির কারণে হয়েছে! তিনি একটি মৌমাছি গিলে ফেলেছিলেন। সে ভয়েই তাৎক্ষনিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান সঞ্জয়। ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে বলা হয়, সঞ্জয় চেষ্টা করেছিলেন মৌমাছি গলা থেকে বার করে আনার। কিন্তু আতঙ্কিত হয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। বিষয়টি এতই দ্রুত ঘটে যায়, চিকিৎসারও কোনো সুযোগ মেলেনি।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, সঞ্জয় লন্ডনে পোলো খেলতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। দ্য টেলিগ্রাফ-এর বরাত দিয়ে উক্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোলো ম্যাচ চলাকালীন উপস্থিত দর্শকরা শুনেছিলেন যে সঞ্জয় কিছু একটা বলেছিলেন। তার কথাটি ছিল, আমি কিছু গিলে ফেলেছি।

এ কথায় উপস্থিত অনেকে ধারণা করেন যে তিনি সম্ভবত একটি পোকা গিলে ফেলেছেন। পরে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি একটি মৌমাছি গিলে ফেলেছিলেন।

সঞ্জয় কাপুর এবং কারিশমা কাপুর ২০০৩ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০১৬ সালে দুজনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুই সন্তান রয়েছে। এরপর ২০১৭ সালে মডেল প্রিয়া সচদেবকে বিয়ে করেন সঞ্জয়। দুজনের সে সংসারে একটি ছেলে রয়েছে। তবে কারিশমার সঙ্গে বিচ্ছেদ হলেও তার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন সঞ্জয়। বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা যেত দুজনকে। প্রাক্তন স্বামীর এমন মৃত্যুতে ভেঙে পড়তে দেখা গেছে কারিশমা কাপুরকেও।

এদিকে ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী এই শিল্পপতির সম্পদের পরিমাণ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। সঞ্জয় কাপুরের সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১০ হাজার ৩০০ কোটি রুপি)। ফোর্বস সাময়িকীর জরিপে তিনি বিশ্বের ২ হাজার ৭০৩তম ধনী ব্যক্তি ছিলেন।

সঞ্জয় কাপুর ছিলেন অটোমোটিভ যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী বহুজাতিক সংস্থা সোনা কমস্টারের চেয়ারম্যান। এ সংস্থার বাজারমূল্য ছিল ৪০ হাজার কোটি রুপির কাছাকাছি। বিশ্বের শীর্ষ ১০ গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭টিরই যন্ত্রাংশ সরবরাহ করত সোনা কমস্টার। বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) খাতে ভারতীয় অগ্রগতির অন্যতম পথপ্রদর্শক ছিল কোম্পানিটি।

সোনা কমস্টার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সঞ্জয়ের বাবা সুরিন্দর কাপুর, ১৯৯৭ সালে। ২০১৫ সালে তার মৃত্যুর পর সঞ্জয় ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব নেন। সংস্থাটির কারখানা রয়েছে ৯টি দেশে।