Home Blog Page 448

এপ্রিলে ১৭ হাজার কোটি টাকা হারিয়েছে ঢাকার পুঁজিবাজার

পুঁজিবাজারে এপ্রিল মাসটা মোটেও ভালো কাটেনি বিনিয়োগকারীদের। ঈদের ছুটি কাটিয়ে শুরু হওয়া লেনদেনে লাগাতার পতনে ঘটায় এ মাসে ঢাকার বাজারে প্রধান সূচক কমেছে ৩০২ পয়েন্ট এবং বাজার পুঁজি হারিয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পুরো মাসের লেনদেন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৫২১৯ পয়েন্ট নিয়ে শুরু হওয়া লেনদেন মাস শেষে এসে ঠেকেছে ৪৯১৭ পয়েন্টে।

মাসে মোট ১৮ কার্যদিবস বাজারে লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে ১৫ কার্যদিবসেই হয়েছে পতন। পতনের ধাক্কায় বাজার থেকে অর্থ তুলে নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা, হয়নি নতুন করে অর্থলগ্নি। এতে করে বাজার হারিয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকার পুঁজি।

শুধু প্রধান সূচক নয়, মাসিক লেনদেনে বেহাল দশা শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএসেও। পুরো মাসে এ খাতের সূচক কমেছে ৭৪ পয়েন্ট। অন্যদিকে, বাছাইকৃত ভালো কোম্পানির শেয়ারেও হয়েছে বড় পতন। ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ কমেছে ৯২ পয়েন্ট।

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিসংখ্যান বলছে, এক মাসে ১১ হাজার ৪২৯ জন বিনিয়োগকারী নিজেদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্ট থেকে সব টাকা তুলে নিয়েছেন। বাজারে জিরো ব্যালেন্সের বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। চালু থাকা বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা এক মাসে ১০ হাজারের ওপরে কমেছে।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, এভাবে বাজারে পতন হতে থাকলে দেশের পুঁজিবাজার থেকে বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নেবে। যারা বুকে আশা বেঁধে এখনও বাজারে আছেন, প্রতিদিনই আশাভঙ্গ হচ্ছে তাদের। বাজারের ওপর থেকে আস্থা উঠে যাওয়ায় কোনোভাবেই বাজার ঠিক করা যাচ্ছে না।

প্রায় পাঁচ বছর ধরে শেয়ার ব্যবসা করছেন তারেক হোসেন। তিনি বলেন, ‘আগে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হতো, ভালো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করলে লোকসান হবে না। বিনিয়োগকারীরা মন্দ শেয়ারে বিনিয়োগ করে, তাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত কয়েক মাসে যেসব শেয়ারের দাম কমেছে তার বেশিরভাগই ভালো কোম্পানি। কী করে ১০০ টাকার শেয়ার ৩০-৪০ টাকায় নেমে আসে-এর জবাব কমিশন দিতে ব্যর্থ।’

আরেক বিনিয়োগকারী মনসুর আলী বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মার্জিন ঋণের কারণে। এই ঋণ নিয়ে যারা শেয়ার কিনেছেন, ফোর্স সেলের কারণে তাদের ভালো শেয়ারও বিক্রি হয়ে গেছে। এতে করে বাজারে প্রতিটি শেয়ারের ওপর খারাপ প্রভাব পড়েছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুঁজিবাজার সংস্কারে গঠিত টাস্কফোর্সের এক সদস্য বলেন, ‘মার্জিন ঋণ বাজারে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়য়েছে। এতদিন এই ঋণ প্রদান ও গ্রহণে শক্ত কোনো রীতি ছিল না। সম্প্রতি কমিশনের কাছে টাস্কফোর্স মার্জিন ঋণ নিয়ে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। মার্জিন ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ১০ কোটি টাকা, সর্বনিম্ন ১০ লাখ টাকা এবং বাজার বিনিয়োগ না থাকলে ঋণ দেওয়া হবে না মর্মে সুপারিশ করা হয়েছে।’

কমিশনের কাছে লক-ইন শেয়ার, উদ্যোক্তা শেয়ার, প্লেসমেন্ট, অতালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান, বন্ড, ডিবেঞ্চার ও অতালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডে মার্জিন ঋণের অর্থ ব্যবহার না করার সুপারিশ জানিয়েছে টাস্কফোর্স।

বাজারে পুঁজি জোগানদাতা প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান আবু আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোকে বাজারে নিয়ে আসতে হবে। এসব কোম্পানি বাজারে আনতে পারলে বিনিয়োগকারীরা আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে।’

তবে কমিশনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বাজারে বড় কোনো আইপিও আসার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। এতে করে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর আশু কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।’

তার ওপর সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) অভ্যন্তরীণ গোলোযোগ এবং পরবর্তীতে ২১ কর্মকর্তাকে বহিষ্কারের মতো ঘটনা বাজারে ভালো কোনো বার্তা বয়ে আনেনি বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার দুপুরের মধ্যে ভিসা আবেদন না করলে হজে যাওয়া অনিশ্চিত

হজে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের সোমবার (৫ মে) দুপুর ১২টার মধ্যে ভিসার আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় হজে যেতে পারবেন না হজযাত্রীরা।

লিড বা সমন্বয়কারী এজেন্সিগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ কথা জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি হজযাত্রীর ভিসা হয়নি বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

শনিবার (৩ মে) দুপুর বারোটায় সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো ক্ষুদে বার্তার বরাত দিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব হজযাত্রীর পাসপোর্ট, বায়োমেট্রিক, হোটেল বা বাড়ি ও ফ্লাইটের তথ্য দিয়ে এখনও ভিসার আবেদন দাখিল করা হয়নি, তাদেরকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ ৫ মে দুপুর ১২টার মধ্যে ভিসার আবেদন নুসুক মাসার প্লাটফর্মে এ দাখিল করতে হবে।
এরপরে প্ল্যাটফর্মটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। বন্ধ করে দেওয়ার পর আর কোনোভাবেই ভিসার আবেদন দাখিল করা যাবে না। ফলে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে যেসব হজযাত্রীর ভিসার আবেদন দাখিল করা হবে না, তারা চলতি বছরে হজে যেতে পারবেন না।

এ কারণে সোমবার দুপুর ১২ টার মধ্যে পাসপোর্ট, বায়োমেট্রিক, হোটেল বা বাড়ি ও ফ্লাইটের তথ্যসহ ভিসার আবেদন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব লিড এজেন্সিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে।

এতে আরও বলা হয়, হজ এজেন্সির অবহেলার কারণে কোনো হজযাত্রীর ভিসার আবেদন ৫ মে দুপুর ১২টার মধ্যে দাখিল করা না হলে তার দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট লিড এজেন্সিকেই বহন করতে হবে।

এছাড়া, তাদের অবহেলার কারণে কোন হজযাত্রীর হজে যাওয়া অনিশ্চিত হলে ওই সমন্বয়কারী এজেন্সি বা লিড এজেন্সির বিরুদ্ধে ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন-২০২১’ ও ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০২২’ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৫ জুন হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাওয়ার ফ্লাইট শুরু হয় ২৯ এপ্রিল এবং শেষ হবে ৩১ মে।

এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৭ হাজার ১০০ জন হজযাত্রী হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ২০০ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮১ হাজার ৯০০ জন হজ পালন করবেন।

ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ২২,২০৩ হজযাত্রী। চলতি বছর হজ পালনের জন্য এখন পর্যন্ত সর্বমোট ২২ হাজার ২০৩ জন (ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ) হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে দু’জন হজযাত্রী মারা গেছেন।

রোববার (৪ মে) সকালে হজ পোর্টালে প্রকাশিত পবিত্র হজ-২০২৫ প্রতিদিনের বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়, সৌদি আরবে যাওয়া সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী ৪ হাজার ৫৬৪ জন। বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী ১৭ হাজার ৬৩৯ জন। মোট হজ ফ্লাইট সংখ্যা ৫৪টি।

সর্বশেষ ২ মে হজযাত্রী ফরিদুজ্জামান (৫৭)। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হলো দুজন।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৫৩ জন হাসপাতালে

এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শনিবার (৩ মে) সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। এ সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৩ জন।

রবিবার (৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তি থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ভর্তি হয়েছে ৫৩ জন। নতুন আক্রান্তের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৪ জন। আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৩৯ জন।

বিজ্ঞপ্তি থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, চলতি বছর আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬০ দশমিক ০ শতাংশ পুরুষ এবং ৪০ দশমিক ০ শতাংশ নারী।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ মে পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২ হাজার ৭০৭ জন। এর মধ্যে ৬০ দশমিক ৮ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৯ দশমিক ২ শতাংশ নারী।

আল্লামা নদভীর ইন্তেকালে চরমোনাই পীরের গভীর শোক জানাজায় অংশ নেবেন ইসলামী আন্দোলনের উচ্চ প্রতিনিধি দল

বাংলাদেশের প্রথিতযশা আলেমেদ্বীন, বিদগ্ধ আরবী সাহিত্যিক, কওমি শিক্ষাব্যবস্থার যুগান্তকারী সংস্কারক আল্লামা সুলতান যওক নদভীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।

আল্লামা সুলতান যওক নদভীর ইন্তেকালের সংবাদে শোক প্রকাশ করে চরমোনাই পীর বলেন, আল্লামা সুলতান যওক নদভী ছিলেন আমাদের ইলমি রাহবার। কওমি শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারে তার যুগান্তকারী চিন্তা ও পদক্ষেপ জাতিকে এক উচ্চমাত্রায় নিয়ে গিয়েছে। একজন বাঙালি হয়েও আরবি ভাষা ও সাহিত্যে তার পারদর্শিতা আরব বিশ্বে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছে। তিনি জগৎবিখ্যাত দার্শনিক ও সাহিত্যিক সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী রাহিমাহুল্লাহর একজন একনিষ্ঠ ও সার্থক অনুসারী ছিলেন। তার ইন্তেকালে জাতি একজন ইলমি, আমলি ও আধ্যাত্মিক রাহবার হারালো।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমার আব্বাজান শায়খ সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম রাহিমাহুল্লাহর সাথে তার ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিলো। সেই সূত্র ধরে আমি ও আমার ভাইদের তিনি স্নেহ ও মমতায় দিকনির্দেশনা দিতেন। পরম মমতায় আগলে রাখতেন। তার মৃত্যুতে আমি ও আমার পরিবারও একজন দরদী অভিভাবক হারালাম। চরমোনাই পীর মরহুম সুলতান যওক নদভী রাহিমাহুল্লাহর শোকাহত আত্মীয়-স্বজন ও অনুসারীদের প্রতি সহমর্মীতা জ্ঞাপন করেছেন।

আল্লামা সুলতান যওক নদভী রাহিমাহুল্লাহর জানাজায় অংশ নিচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন দলের সহকারী মহাসচিব মাওলানা সৈয়দ এসহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের, চট্রগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্জ জান্নাতুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ডক্টর বেলাল নুর আজিজ, কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল আলহাজ্ব আল মুহাম্মাদ ইকবাল, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমেদ মানসুর, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা নুরুল বশর আজিজিসহ চট্রগ্রাম মহানগর, জেলার নেতৃবৃন্দ।

৯ মাসেও আ.লীগ নিষিদ্ধ হয়নি, এটাই আমাদের ব্যর্থতা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগ এখন আর কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি ফ্যাসিস্ট দলে পরিণত হয়েছে। দলটির নিবন্ধন বাতিল করে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে রাস্তায় নামতে হচ্ছে, যা নাগরিক থেকে দেশের মানুষের সামষ্টিক ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

শুক্রবার (০২ মে) জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, নৌকা মার্কাকে বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে। এ সরকারের হাতে বিচার ব্যবস্থাও জিম্মি। সরকার যদি বিচার নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে জনতার আদালতেই আওয়ামী লীগের বিচার হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের অযোগ্য ঘোষণা করতে নির্বাচন কমিশন আগ্রহ দেখায় না। তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণাকারী অংশ হয়ে গেছে।

সাংবাদিকদের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা শেখ হাসিনাকে খুনি বলা যায় কি না– এ প্রশ্ন করে, তারা সাংবাদিক না, তারা ফ্যাসিস্টদের দোসর।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অপব্যবহারের অভিযোগ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, স্বাধীনতার পর ‘আমার সোনার বাংলা’ স্বপ্ন মুজিববাদী সংবিধানে ব্যর্থ হয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ থেমে গেছে, সমাজতন্ত্রের নামে পুঁজির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, গণতন্ত্রের নামে বাকশাল কায়েম হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারেনি। পরে ছাত্র-জনতাই রাজপথে নেমেছে। কিন্তু ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর ৯ মাস পার হয়ে গেলেও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা যায়নি। এ বাস্তবতাই আমাদের ব্যর্থতা।

১৮ বছরে ২২ লাখ উদ্যোক্তার কাছে এসএমই ফাউন্ডেশন

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের টেকসই উন্নয়নে পাঁচ বছর মেয়াদী কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে এসএমই ফাউন্ডেশন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে আয়োজিত এক অংশীজন সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

সভায় বলা হয়, এসএমই ফাউন্ডেশন গত ১৮ বছরে দেশব্যাপী প্রায় আড়াই লাখ উদ্যোক্তাকে সরাসরি এবং প্রায় ২০ লাখ উদ্যোক্তাকে পরোক্ষভাবে সহায়তা প্রদান করেছে। সহায়তার আওতায় ছিল দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ, সহজ অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত সহায়তা, বাজার সম্প্রসারণ, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি, এসএমই ক্লাস্টার উন্নয়ন, গবেষণা, এবং নীতিমালা প্রণয়নে পরামর্শ প্রদান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন মো. মুসফিকুর রহমান। বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, মহাব্যবস্থাপক মো. আব্দুস সালাম সরদার এবং এনবিআরের সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী।

সভায় জানানো হয়, ফাউন্ডেশনের ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যা উপকারে এসেছে প্রায় ১১ হাজার উদ্যোক্তার। এ ছাড়া ১১টি জাতীয় ও ৯১টি আঞ্চলিক এসএমই পণ্যমেলা আয়োজন, ১৭৭টি এসএমই ক্লাস্টার চিহ্নিতকরণ ও একটি ক্লাস্টারে কমন ফ্যাসিলিটি সেন্টার (সিএফসি) স্থাপন করা হয়েছে। ৫৭ জন উদ্যোক্তাকে দেওয়া হয়েছে জাতীয় এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার।

তবে সভায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন অংশীজন জানান, দেশের ১ কোটি ১৮ লাখ সিএমএসএমই উদ্যোক্তার বিপরীতে এই উদ্যোগগুলো এখন পর্যাপ্ত নয়। ফলে এসএমই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে সরকারি সহায়তা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়।

চেয়ারপার্সন মো. মুসফিকুর রহমান জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে এসএমই নীতিমালা ২০২৫। দেশের এসএমই খাতের সার্বিক উন্নয়ন ও উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষাই এসএমই ফাউন্ডেশনের অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সভায় অংশ নেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা, ট্রেডবডি, অ্যাসোসিয়েশন, চেম্বার, ক্লাস্টার, একাডেমিয়া, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ফিনটেক এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি ও এসএমই উদ্যোক্তারা।

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর পরিচালনা পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৩০ এপ্রিল) ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে হাইব্রিড পদ্ধতিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ।

সভায় এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খুরশীদ ওয়াহাব, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মো. আবদুস সালাম, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম মাসুদ রহমান, স্বতন্ত্র পরিচালক মো. আবদুল জলিল ও প্রফেসর ড. এম জুবায়দুর রহমান, ম্যানেজিং ডাইরেক্টর (চলতি দায়িত্ব) মো. ওমর ফারুক খান, শরীআহ সুপারভাইজরি কমিটির সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আব্দুস সামাদ, অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. আলতাফ হুসাইন ও মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার এবং কোম্পানি সেক্রেটারি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।

মিরাজের দারুণ শতকে ২১৭ রানের লিড নিয়ে থামল বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ের ২২৭ রানের জবাবে বাংলাদেশ করল ৪৪৪। শুরুতে সাদমান ইসলামের ১২০, শেষদিকে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যান মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরাজের শতক ছাড়াও এদিন দেখার মতো ছিল তানজিম সাকিবের ব্যাটিং, ৮০ বল খেলে গুরুত্বপূর্ণ ৪১ রান করেন অভিষিক্ত সাকিব।

মেহেদি হাসান মিরাজ সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের লিড নিয়ে গেছেন ২১৭ রানে। ঘরের মাঠে টেস্টে ১৫ ইনিংস পর ৪০০ ছাড়িয়ে যায় বাংলাদেশের সংগ্রহ। শেষ পর্যন্ত মিরাজ ব্যক্তিগত ১০৪ রান উইকেট হারালে ৪৪৪ রানে থামে বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ের বোলাররা এদিন খুব একটা চ‍্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি টাইগার ব‍্যাটারদের। গতকাল তিন উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ভোগান্তির কারণ হওয়া লেগ স্পিনার ভিনসেন্ট মাসেকিসা আজ সকালের সেশনে নিতে পারেন কেবল তাইজুলের উইকেট।

এরপর তানজিম হাসান সাকিবকে নিয়ে লিড ২০০ ছাড়িয়ে নিয়ে যান মিরাজ। বাংলাদেশের রান যখন ৪৩৮, জিম্বাবুয়েকে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন স্পিনার ওয়েসলি মাধেভেরে। তানজিম সাকিব ৪১ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরলে ভাঙে ৯৬ রানের ৯ম উইকেট জুটি।

টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটা পেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২০২১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে করেছিলেন প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। এরপর অবশ্য বেশিদূর যেতে পারেননি মিরাজ। ভিনসেন্ট মাসেকিসাকে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে হলেন স্টাম্পড। ১৬ বল খেলা হাসান মাহমুদ কোনো রান না করেই থাকেন অপরাজিত।

মিরাজের হাত ধরে সাকিবের ১১ বছরের রেকর্ডে নতুন পালক

হার দিয়ে সিরিজ শুরুর পর চট্টগ্রাম টেস্টে দাপুটে পারফরম্যান্সে জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। যদিও দুই ম্যাচের সিরিজ শেষ হলো ১-১ সমতায়। মেহেদি হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামদের তোপের সামনে সফরকারীরা দাঁড়াতেই পারেনি। জিম্বাবুয়েকে ইনিংস ও ১০৬ রানের বড় ব্যবধানে হারানোর পথে রেকর্ড গড়েছেন মিরাজ। এ নিয়ে তিনি সাকিব আল হাসানের ১১ বছরের পুরোনো কীর্তিতে ভাগ বসালেন।
এখন পর্যন্ত একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও ফাইফার নেওয়ার রেকর্ড রয়েছে বাংলাদেশের দুজনের। সর্বোচ্চ দুইবার এই কীর্তি গড়েছিলেন সাকিব। এ ছাড়া সোহাগ গাজীর এমন নজির রয়েছে একবার। সাবেক দুই তারকা ক্রিকেটারের রেকর্ডটির বয়স ১১ বছর হয়েছে। সাকিব ২০১৪ সালে সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একই টেস্টে ব্যাট হাতে ১৩৭ রানের পাশাপাশি বল হাতে দুই ইনিংসেই ফাইফার নিয়েছিলেন। সেঞ্চুরির পাশাপাশি দুই ইনিংসেই পাঁচ উইকেট শিকারের রেকর্ডটি টাইগার ক্রিকেটার হিসেবে কেবল সাকিবের রয়েছে।
সাবেক এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার আরেকবার টেস্টে ফাইফার ও সেঞ্চুরি করেন ২০১১ সালে, মিরপুরে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে প্রতিপক্ষ ছিল পাকিস্তান। অন্যদিকে, সোহাগ গাজী ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ১০১ রান এবং ৭৭ রানে ৬ উইকেট শিকার করেন। এতদিন একই টেস্টে ফাইফার ও সেঞ্চুরির কীর্তি ছিল এই দুজনের। এরপর ১১ বছর আর কেউ ওই কীর্তিতে নাম লেখাতে পারেনি। তাদের সঙ্গে এবার সেই রেকর্ডটিই ভাগাভাগি করলেন মিরাজ।
সব মিলিয়ে টেস্টে ইতিহাসে এমন কীর্তি নেওয়ার ঘটনা ৩৯টি। এর মধ্যে তিনটি বাংলাদেশের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশ এক ইনিংসেই কেবল ব্যাট করেছে। যেখানে সাদমান ইসলাম ও মেহেদি হাসান মিরাজের সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪৪৪ রান। এর আগে শুরুতে ব্যাট করা জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংসে ২২৭ রানে অলআউট হয়েছিল। ফলে বাংলাদেশ লিড পায় ২১৭ রানের। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে সফরকারীরা মাত্র ১১১ রানেই গুটিয়ে গেছে।
বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ। যা চলতি সিরিজের চার ইনিংসে তার তৃতীয় ফাইফার। এ নিয়ে টেস্টে তার ফাইফারের সংখ্যা ১৩টি। বাংলাদেশিদের মধ্যে সাকিব সর্বোচ্চ ১৯ এবং তাইজুল ১৬ বার টেস্টে পাঁচ উইকেট শিকার করেছেন। তবে এক ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি সর্বোচ্চ ৩ বার রয়েছে কেবল মিরাজের। এ ছাড়া সাকিব-তাইজুল টেস্টে ১০ উইকেট নেন ২ বার করে।

আমেরিকা: এক যুদ্ধ-আসক্ত রাষ্ট্রের গল্প

যখন বিশ্বে যুদ্ধ, সামরিক হস্তক্ষেপ কিংবা বিদেশি অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ আসে, তখন প্রথম যে দেশের নাম উঠে আসে তা হলো আমেরিকা। অবাক করা বিষয় হলো, ২৪৮ বছরের ইতিহাসের মধ্যে ২৩২ বছরই এই দেশটি যুদ্ধের মধ্যে কাটিয়েছে। অর্থাৎ, তাদের ইতিহাসের মাত্র ৬ শতাংশ সময় তারা যুদ্ধহীন থেকেছে। বিষয়টি শুধু একটি দেশের ইতিহাসের অংশ নয়, বরং অনেকেই মনে করেন যুদ্ধই যেন আমেরিকার অস্তিত্বের মূল ভিত্তি।

অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, কেন আমেরিকা ক্রমাগত সরাসরি যুদ্ধ, গোপন অভ্যুত্থান এবং আন্তর্জাতিক সংকটে জড়িয়ে পড়ে। এটা কি শুধুই ইতিহাসের ধারাবাহিকতা, নাকি দেশটির টিকে থাকার কৌশলের অপরিহার্য অংশ? অনেকের ধারণা, যুদ্ধের সঙ্গে আমেরিকার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক কৌশল এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে, এটি তাদের রাষ্ট্রীয় চরিত্রের অবিচ্ছেদ্য উপাদানে পরিণত হয়েছে।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র একবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘যুদ্ধে আসক্ত’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমেরিকা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে তার এই বক্তব্য যে অতিরঞ্জিত নয়, সেটি অনায়াসে বুঝা যায়। ১৭৭৫ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমেরিকা প্রায় সবসময়ই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোনো না কোনো যুদ্ধে লিপ্ত থেকেছে।

আমেরিকার আধিপত্যবাদী যুদ্ধের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৮৪৬ থেকে ১৮৪৮ সালের মধ্যে মেক্সিকোর জমি দখল করা হয়, ১৮১১ থেকে ১৮৯০ সাল পর্যন্ত চলে আমেরিকান আদিবাসীদের গণহত্যা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ১৯১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগে ১৯৪৫ সালে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলা, শীতল যুদ্ধের সময় কোরিয়া ও ভিয়েতনামে সামরিক হস্তক্ষেপ, ১৯৫৩ সালে ইরানের নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটানো, এসব কিছুই যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকেন্দ্রিক নীতির স্পষ্ট উদাহরণ।

একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আমেরিকার আগ্রাসন থামেনি। আফগানিস্তান ও ইরাক দখল, লিবিয়ায় সামরিক অভিযান, ইয়েমেন ও সোমালিয়ায় ড্রোন হামলা, সিরিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধেও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে। পাশাপাশি কম্বোডিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা এবং আফ্রিকার নানা দেশে তাদের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও সামরিক অভিযান আরও একাধিকবার সংঘটিত হয়েছে।

অনেকে মনে করেন, আমেরিকার এই যুদ্ধনীতি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নয়, বরং অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় পরিচালিত হয়। ২০২৩ সালে দেশটির অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ২৩৮ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্ব অস্ত্র বাজারের ৫১ শতাংশ দখল করে আছে আমেরিকার বিভিন্ন কোম্পানি। যুদ্ধের মাধ্যমে নতুন অস্ত্রের বাজার সৃষ্টি করা, সামরিক ঘাঁটি স্থাপন, মধ্যপ্রাচ্যের তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণ, কৌশলগত করিডোরের দখল নেওয়া এসবই যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতির পেছনে বড় কারণ। বর্তমানে বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে তাদের স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যা তাদের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখতে সহায়তা করছে।

শুধু তাই নয়, আমেরিকা নিজেদের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মূল্যবোধ অন্য জাতিগুলোর ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার নীতিতে বিশ্বাসী। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার একবার বলেছিলেন, আমেরিকা বিশ্বের সবচেয়ে যুদ্ধপ্রেমী দেশ, কারণ তারা সবসময় অন্যদের ওপর নিজেদের মূল্যবোধ চাপিয়ে দিতে চেয়েছে।

বর্তমানে এই যুদ্ধক্ষুধা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত করার হুমকি, পানামা খাল পুনর্দখলের দাবি, এমনকি গ্রিনল্যান্ড কেনার জন্য বারবার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও এসব ইস্যু এখন মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত পরিকল্পনার স্তরে রয়েছে, তবে ভবিষ্যতে এগুলো সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ যেন আমেরিকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ডিএনএর অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে। শান্তির প্রয়োজন তাদের নেই, বরং যুদ্ধই তাদের সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি। তবে এই প্রশ্ন থেকেই যায়—এই ধারা কি চিরকাল চলবে? নাকি বিশ্ব একসময় এই যুদ্ধবাজ নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে?

বর্তমানে আমেরিকার ইতিহাস, তাদের রাষ্ট্রীয় কৌশল ও রাজনৈতিক অবস্থান বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, শান্তি তাদের প্রধান লক্ষ্য নয়। বরং যুদ্ধই তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রধান উপায়। তবে ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি কতদিন অব্যাহত থাকবে, তা সময়ই বলে দেবে।