Home Blog Page 448

আ’লীগকে রাজনীতিতে ফেরানোর যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহতে এনসিপির অঙ্গীকার

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করার অঙ্গীকার করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ সময় বিচার, অনুশোচনা, পাপমোচন ছাড়া আওয়ামী লীগের পক্ষে যেকোনো তৎপরতা ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের শামিল বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

শুক্রবার (২১ মার্চ) রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত রূপায়ন টাওয়ারে জাতীয় নাগরিক পার্টির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণহত্যাকারী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলাকালীন আওয়ামী লীগ ও সব সহযোগী সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং এই মাফিয়া গোষ্ঠীকে রাজনীতিতে ফেরানোর যেকোনো প্রচেষ্টাকে এনসিপি প্রতিহত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অবিলম্বে জুলাই গণহত্যাসহ ফ্যাসিবাদী রেজিমির সংঘটিত গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চায়। সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মন্তব্য করেছেন- আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। আমরা তার এই বক্তব্যের নিন্দা জানাই।’

‘আওয়ামী লীগ কর্তৃক সংঘটিত পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড, গুম, ক্রসফায়ার, ভোট ডাকাতিসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রশ্নে কার্যকর অগ্রগতি দৃশ্যমান হওয়ার আগে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদ থেকে এ ধরনের বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত।’

তিনি আরো বলেন, ‘এনসিপি মনে করে, বিচারিক কার্যক্রমের পরিণতি দৃশ্যমান হতে হবে। আত্মপ্রকাশের পর থেকে আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেছি- কৃত অপরাধের বিচার, দায় স্বীকার, অনুশোচনা, পাপ মোচন ব্যতীত আওয়ামী লীগের দল হিসেবে ক্রিয়াশীল থাকার পক্ষে যেকোনো ধরনের তৎপরতা ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের শামিল। এনসিপি জুলাই গণহত্যাসহ বিগত ফ্যাসিবাদী রেজিমে সংঘটিত অপরাপর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চয়তা চায়।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আক্তার হোসেন এবং দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বক্তব্য রাখেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, জ্যেষ্ঠ সদস্যসচিব তাসনিম জারা প্রমুখ।

সূত্র : ইউএনবি

গাজা উপত্যকায় তিন দিক থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর স্থল অভিযান

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার পর ইসরাইলি সেনাবাহিনী তিনটি প্রধান ফ্রন্টে তাদের স্থল অভিযান ব্যাপকভাবে প্রসারিত করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় সূত্র ও সরকারি বিবৃতির ভিত্তিতে জানা গেছে যে সেনাবাহিনী নেটজারিম অক্ষ (মধ্য গাজা), রাফাহ শাবুরা শরণার্থী শিবির (দক্ষিণ গাজা) এবং বেইত লাহিয়া (উত্তর গাজা) অঞ্চলে আক্রমণ চালাচ্ছে।

নেটজারিম অক্ষ : গাজাকে বিভক্ত করার কৌশল

ইসরাইলি বাহিনী নেটজারিম অক্ষে ব্যাপক অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে। গাজার পূর্ব সীমান্ত থেকে সালাহ আল-দিন স্ট্রিটের দিকে অগ্রসর হয়ে তারা গাজার প্রধান উত্তর-দক্ষিণ মহাসড়ক কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এরপর পশ্চিম দিকে হামলা চালিয়ে উপকূলীয় রশিদ স্ট্রিটে অতিক্রমের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। এর ফলে গাজা কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং পরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের নভেম্বরের গোড়ার দিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী এই নেটজারিম অক্ষ তৈরি করেছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল গাজা শহর ও উত্তরের অঞ্চলকে মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন করা। এটি গাজার পূর্ব সীমান্ত থেকে পশ্চিম উপকূলরেখা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী এই অক্ষ থেকে সরে আসে।

রাফাহ অক্ষ : শরণার্থী শিবিরে ধ্বংসযজ্ঞ

একই সময়ে মধ্য গাজায় স্থল আক্রমণ চালিয়ে ইসরাইলি বাহিনী ফিলাডেলফিয়া অক্ষ বরাবর সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়েছে। তারা রাফাহ শহরে স্থল অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়ে শাবুরা শরণার্থী শিবিরে প্রবেশের দাবি করেছে। অভিযানের সময় বহু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে।

ফিলাডেলফিয়া অক্ষটি দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরের এক-তৃতীয়াংশ এলাকাকে ঘিরে রেখেছে। যদিও শাবুরা এলাকায় সেনাবাহিনীর গতিবিধি তুলনামূলকভাবে সীমিত বলে বর্ণনা করা হয়েছে, তবুও সেখানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলছে।

বেইত লাহিয়া অক্ষ : উত্তর গাজায় সহিংসতা

বৃহস্পতিবার ইসরাইলি বাহিনী উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ার উপকূলরেখা বরাবর তৃতীয় স্থল অভিযান শুরু করে। এর সাথে গাজার বিভিন্ন স্থানে তীব্র বিমান হামলা চালানো হয়।

শুক্রবার সকালে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বেইত লাহিয়ায় প্রবেশ করে এবং সেখানে সীমিত স্থল অভিযান পরিচালনা করে। একই সঙ্গে ভারী গোলাগুলি ও কামানের গোলাবর্ষণ চলে।

উত্তর গাজার বিশাল অংশ বর্তমানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চলমান অবরোধের কারণে খাদ্য ও মৌলিক চাহিদার তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে, যার ফলে বহু বেসামরিক নাগরিক দুর্ভিক্ষ ও চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছেন।

মানবিক সঙ্কটের তীব্রতা

ইসরাইলি বাহিনীর এই সামরিক অভিযানের ফলে গাজার হাজার হাজার বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও অবরোধের ফলে মানবিক সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। বেসামরিক জনগণ নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে। খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সহায়তার অভাব পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তুলেছে।

গাজার জনগণ ইসরাইলি আক্রমণের ভয়াবহতার শিকার হচ্ছে, যা একটি চরম মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত করছে।

সূত্র : ওয়াফা নিউজ এজেন্সি

হাসিনাসহ আ’লীগের দেড় শতাধিক মন্ত্রী-এমপি দুদকের মামলাজালে

ছাত্র-জনতার তীব্র গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যসহ দেড় শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রভাবশালীদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্য, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উপদেষ্টা ছাড়াও কয়েকজন আমলা রয়েছেন। গত সাত মাসে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত বৃহস্পতিবারও অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও তার পবিবারের বিরুদ্ধে তিনটি এবং শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক।

মামলার বিষয়ে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো: আক্তার হোসেন বলেন, প্রতিটি মামলারই দুদকের বিধি বা আইন অনুযায়ী যথাসময় তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাসহ আড়াই শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত কার্যক্রম চলমান। অনেকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শেষে মামলা করা হয়েছে, বাকিদের বিরুদ্ধেও মামলার প্রস্তুতি চলছে।

অপর দিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক তা জনগণ প্রত্যাশা করে। কাউকে ছাড় না দিয়ে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। যদি দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া না হয়, তা হলে দুদক নিয়ে আবার মানুষের হতাশা বাড়বে।

দুদকের জনসংযোগ বিভাগ সূত্র জানায়, প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ ও পূর্বাচলে প্লট জালিয়াতির ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা ও তাদের পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে জানুয়ারি মাসে ৯টি মামলা দায়ের করেছে দুদক।

এ ছাড়া জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, বিদেশে টাকা পাচার, টাকা আত্মসাৎ ও জালজালিয়াতির ঘটনায় শেখ হাসিনার উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়।

গত বছর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর তার পরিবার ও তার শাসনামলের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ প্রায় ৩০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়। দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধান ও মামলা ছাড়াও দুদক বিতর্কিত ব্যবসায় গ্রুপ এস আলম, বেক্সিমকোসহ বেশ কিছু প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সম্পদ জব্দ করেছে। গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুরসহ পাঁচজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে।

হাসিনা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা

তথ্য গোপন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ঢাকার পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা করে মোট ২০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে গত ১৪ জানুয়ারি পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে দুদক। একই অভিযোগে শেখ রেহানা ও তার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক (রূপন্তী) এবং ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের (ববি) বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। এই তিন মামলায় রেহানার আরেক মেয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক এবং রেহানার বোন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আসামি করা হয়।

তিনটি বিমানবন্দরের চার প্রকল্পে ৮১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করা হয়।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক হয়েছিলেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। এই অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয়। এ ছাড়া তার সূচনা ফাউন্ডেশন ও আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়। পাশাপাশি গাজীপুরে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বাগানবাড়ি নিয়েও অনুসন্ধান শুরু হয়। অনুসন্ধান শেষে গত বৃহস্পতিবার সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেছে দুদক।

এই মামলার একটিতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসভুক্ত ব্যাংকের সিএসআর খাত থেকে সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে ৩৩ কোটি টাকা সহায়তার নামে আত্মসাতের অভিযোগে এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারকেও আসামি করা হয়েছে।

গতকাল আরো এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। ৩৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আমু, তার শ্যালিকা ও মেয়ের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে দুদক।

গত ১৩ মার্চ আওয়ামী লীগের আরেক প্রভাবশালী নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। লন্ডনে ৭৬ কোটি টাকা পাচার ও ঋণের ৩৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান ও তার ছেলে বেক্সিমকো এলপিজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত ৩ মার্চ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে খুলনা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো: আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক।

গত ৪ মার্চ সাবেক মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক।

গত ৫ মার্চ সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও তার স্ত্রী হাসিনা গাজীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুদক।

গত ৬ মার্চ অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও তার স্ত্রী আইরিন মালবিকা মুনশির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত ৯ মার্চ জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ব্যাংক হিসাবে সন্দেজনক লেনদেনের অভিযোগে সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণপ্রতিমন্ত্রী ডা: মো: এনামুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক।

গত ১২ মার্চ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ৪৫০ কোটি টাকার সন্দেহভাজন লেনদেনের অভিযোগে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও রাজশাহী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো: ওমর ফারুক চৌধুরী এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুদক।

গত ১৪ মার্চ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, সংসদ সদস্য শেখ হেলাল ও সুপ্রিয় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করেছে দুদক। মামলায় মেহের আফরোজ চুমকির স্বামী ও শেখ হেলালের স্ত্রীকে আসামি করা হয়েছে। গত ১৬ মার্চ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও প্রায় ১২ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও কুষ্টিয়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও তার স্ত্রী আফরোজা হকের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে দুদক।

গত ১৮ মার্চ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস ও তার স্ত্রী নিলীমা দাসের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দুদক প্রথম মামলা করে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির অভিযোগে গত ৯ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক। এর আগে সাবেক নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের বিরুদ্ধে ১১ কোটি ৩৬ লাখ ৫১ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়।

জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত প্রায় ৯ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ ও তার স্ত্রী মোছা: হোসনে আরা বেগম এবং তাদের ছেলে মো: রাকিবুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ছাড়াও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ার ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ একাধিক আমলা ও পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধ মামলা দায়ের করেছে দুদক।

দুদকের সূত্র বলছে, গত বছর প্রায় ১৬ হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পেয়েছে দুদক। এর মধ্যে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮০ ভাগ অভিযোগ এসেছে।

দুদক সূত্র জানায়, গত ১৫ বছরে বড় বড় প্রকল্পেও দুর্নীতি হয়েছে।

সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা কমার কোনো লক্ষণ নেই

বাংলাদেশের সাথে প্রতিবেশী ভারতের স্থল সীমান্ত সবচেয়ে বেশি। কিন্তু প্রায় সময়েই নানা কারণে বাংলাদেশীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। যার কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ নানা প্রশ্নও উঠছে। সীমান্তে অব্যাহত ভয়াবহ সহিংসতায় বাংলাদেশী নাগরিকদের প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে।

গত দুই বছরে হতাহতের সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় সীমান্ত এলাকায় চলমান উত্তেজনা ও চ্যালেঞ্জের বিষয়টি উঠে এসেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দফতরের ২০২৩ সালের একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায় ওই বছর সীমান্তে পৃথক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৫ জন বাংলাদেশী।

এর মধ্যে ১৯ জন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে এবং বাকি ছয়জন ভারতীয় বেসামরিক নাগরিকের গুলিতে নিহত হয়েছেন।

এই ঘটনাগুলো বিএসএফ সদস্যদের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার এবং স্থানীয় ভারতীয় বাসিন্দাদের জড়িত বিক্ষিপ্ত সহিংসতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

সীমান্ত হত্যা বন্ধে অর্থাৎ শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য বিএসএফের মহাপরিচালকের কাছ থেকে বছরের পর বছর ধরে আশ্বাস দেয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও, প্রাণঘাতি অস্ত্রের ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে বিএসএফ, যার ফলে বাংলাদেশী নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটছে।

২০২৪ সালে এই প্রবণতা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বিজিবি সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গেল বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বিএসএফের হাতে আরো ১৯ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। আর এসব নিহত আগের বছরের একই ধরনের সহিংসতার ধারাবাহিকতা।

এ ছাড়া বছরটিতে ভারতীয় বেসামরিক নাগরিকদের হাতে আরো পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসব হতাহতের কারণে উভয় সরকারের ক্ষোভ ও জবাবদিহিতার দাবিকে আরো বাড়িয়েছে।

তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো দেশ দুটির সরকার পর্যায় ও বাহিনী পর্যার্য়ে ধারাবাহিক আলোচনা চললেও ২০২৫ সালেও হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়নি। প্রথম দুই মাসে, ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, আরো তিনজন বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হয়েছেন। আরো এসব নিহতদের মধ্যে– একজন বিএসএফ সদস্যদের হাতে এবং দুজন ভারতীয় নাগরিকের হাতে প্রাণ হারান।

সর্বশেষ এই প্রাণহানিগুলো অর্থনৈতিক সুযোগ, অভিবাসন বা বাণিজ্যের সন্ধানে সীমান্ত অতিক্রমকারী ব্যক্তিদের চলমান ঝুঁকির কথা তুলে ধরে।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার উদ্বেগের জন্য একটি কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অঞ্চলে বসবাসকারীদের জীবনকে প্রভাবিত করছে ঘন ঘন সহিংসতা। এসব অঞ্চলে অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম এবং আঞ্চলিক বিরোধের খবরও পাওয়া যাচ্ছে প্রায়ই।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো উভয় দেশকে উত্তেজনা কমাতে, সীমান্ত সুরক্ষা প্রোটোকল জোরদার করা এবং সহিংসতার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে বিস্ময়ের ব্যাপপার হলো সাম্প্রতিক প্রাণহানির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে এর আগের ঘটনাগুলোর ব্যাপক নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। সীমান্তে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে হস্তক্ষেপ ও চাপ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অ্যাডভোকেসি গ্রুপগুলো।

নিহতদের পরিবারের জন্য, সহিংসতা একটি স্থায়ী দুঃখের কারণ এবং যার কোনো সমাধান নেই। মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং আরো নিরাপদ ও মানবিক সীমান্ত নীতির বাস্তবায়নে কাজ করার জন্য বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ের ওপরই চাপ বাড়ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবি সদর দফতরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শফিকুর রহমান বলেন, গত ১০ বছরে ২২০ জন বাংলাদেশী নাগরিককে হত্যা করেছে ভারতের বিএসএফ। এছাড়া একই সময়ে ভারতীয় নাগরিকদের হাতে নিহত হয়েছেন আরো ৫৭ জন বাংলাদেশী।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল রহমান জোর দিয়ে বলেন, বিজিবি সদস্যরা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার নীতমালা কঠোরভাবে মেনে কাজ করে। ‘যদি কোনো ভারতীয় নাগরিক অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে, তাহলে আমরা তাদের আটক করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করি অথবা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করি। আমরা কখনও গুলি চালাই না, যে কারণে আমাদের সীমান্তে বিজিবির হাতে কোনো ভারতীয় নাগরিকের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যখনই বিএসএফের সাথে বৈঠক করি, কমান্ডার স্তরে হোক বা অন্য কোনো স্তরে, আমরা বারবার তাদের অনুরোধ করি যে, যদি কোনো বাংলাদেশী অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে তাহলে তাদেরদের উপর গুলি না চালাতে। বরং তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা উচিত।’

সীমান্তে বিএসএফের প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে কঠোর অবস্থান নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

বিজিবির নজরদারির পরও বাংলাদেশী নাগরিকরা কিভাবে সীমান্ত অতিক্রম করছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সীমান্তে ৯৯ শতাংশ ঘটনা চোরাচালান সংক্রান্ত। সীমান্তের দুই পাশেই রয়েছে চোরাচালান সিন্ডিকেট। যারা চোরাচালানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে তারা প্রায়ই ভারতীয় অংশের সিন্ডিকেট সদস্যদের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। এরপর যখন তারা ফিরে আসতে থাকে তখন তারা বিএসএফের প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়। এসময় সহিংস সংঘর্ষ হয় যেখানে বিএসএফ সদস্যরা বেশিরভাগ প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘অন্যদিকে ভারতীয় নাগরিকরা অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করলে আমরা মানবাধিকার আইন মেনে চলি। গুলি চালানোর পরিবর্তে আমরা তাদের আটক করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করি।’

শফিকুর রহমান আরো উল্লেখ করেন, সীমান্ত ফাঁড়িগুলোর (বিওপি) মধ্যে দূরত্ব অনেক বেশি। প্রতিটি বিওপি ২০ থেকে ৩৫ জন সদস্য নিয়ে পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, ‘সারা দেশে বিজিবির প্রায় ৭০০টি দল রয়েছে। যারা সবসময় সীমান্তে টহল দিয়ে থাকে। তবে তা যথেষ্ট নয়। ফলে বিজিবির প্রতিরোধের শতচেষ্টা সত্ত্বেও কিছু বাংলাদেশী নাগরিক অজান্তেই সীমান্ত অতিক্রম করে।’

ভারতে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম রোধে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, বিজিবি সীমান্ত অতিক্রম নিরুৎসাহিত করতে এবং এর ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্নভাবে সীমান্ত এলাকার জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকয় সীমান্ত সম্পর্কিত হতাহত রোধের বিষয়টি অগ্রাধিকারে রয়েছে। উভয় দেশকে মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে এবং সীমান্তে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ক্রমবর্ধমান চাপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

সূত্র : ইউএনবি

পরীক্ষায় পাশ সাকিব, বোলিং করতে নেই কোনো বাধা

পাশ করলেন সাকিব আল হাসান, উৎরে গেলেন চ্যালেঞ্জ। বোলিং করতে আর কোনো বাধা রইল না তার। ইংল্যান্ডে তৃতীয় ধাপের বোলিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি।

ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে বোলিং নিয়ে অভিযোগ ওঠে সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে। গত বছর ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে খেলতে গিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয় তার বোলিং অ্যাকশন।

এরপর ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম ও ভারতের চেন্নাইয়ে দু’দফায় পরীক্ষা দেন সাকিব। তবে বোলিং ত্রুটিযুক্ত থাকায় পাশ হতে পারেননি। উল্টা সব ধরনের ক্রিকেটে তার বোলিং নিষিদ্ধ করে আইসিসি।

অবশেষে তৃতীয়বারের চেষ্টায় কৃতকার্য হলেন সাকিব। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং করতে তার আর বাধা নেই। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সহসাই দেখা যাবে কিনা, তা নিয়ে আছে সন্দেহ।

সাকিবের এই ফিরে আসার প্রক্রিয়া ছিল দীর্ঘমেয়াদি। কাউন্টিতে যে সারে ক্লাবের হয়ে খেলে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন, সেই দলের প্রধান কোচ গ্যারেথ ব্যাটির সাথেই বোলিং নিয়ে কাজ করতে থাকেন তিনি।

যদিও একটা ভয় থেকেই যাচ্ছে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, একবার নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তির পর ফের যদি কখনো অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তখন পরবর্তী এক বছরের জন্য তিনি নিষিদ্ধ থাকবেন।

ফলে বোলিংয়ে ফিরতে যাওয়া সাকিবকে বাড়তি সতর্কও থাকতে হচ্ছে। যার প্রভাব তার বোলিংয়ে না পড়লেই হয়।

ইমরুলের ব্যাটে রানের ফোয়ারা, সেরা তিনে অগ্রণী ব্যাংক

ডিপিএলে আবারো হেসেছে ইমরুল কায়েসের ব্যাট। জয় পেয়েছে তার দল অগ্রণী ব্যাংকও। এই জয়ে শিরোপার দৌঁড়ে দারুণ পাঙ্গা দিচ্ছে দলটা, ৬ ম্যাচে ৫ জয়ে উঠে এসেছে পয়েন্ট টেবিলের তিনে।

বুধবার (১৯ মার্চ) বিকেএসপিতে শাইনপুকুরের মুখোমুখি হয় অগ্রণী ব্যাংক। যেখানে আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৯৪ রান তুলে তারা। জবাবে ৫ উইকেটে ২৪৮ রানে থামে শাইনপুকুর। ৪৬ রানের জয় পেয়েছে অগ্রণী ব্যাংক।

জয়ের নায়ক ইমরুল কায়েস। ৮৫ বলে ৮৬ রানের অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেন তিনি। তাছাড়া দারুণ ছন্দে থাকা সাদমান ইসলাম ৫৩, অমিত হাসান ৪১ ও ইমরানুজ্জামান করেন ৩২ রান।

জবাব দিতে নেমে রায়ান রাফসান সেঞ্চুরি হাঁকালেও জয়ের দেখা মেলেনি। ১৩০ বলে ১০৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৬১ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলেন মিনহাজুল আবেদিন। তবে বাকিদের ব্যর্থতায় সব ম্লান হয়।

দিনের অন্য ম্যাচে আসরে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে রূপগঞ্জ টাইগার্স। পারটেক্সকে হারিয়েছে ৪ উইকেটে। বিকেএসপিতে আগে ব্যাট করে ২২৩ রান করে পারটেক্স। যা ইনিংসের শেষ বলে পেরিয়ে যায় রূপগঞ্জ।

রূপগঞ্জের জয়ের পথে দারুণ এক শতক হাঁকান আব্দুল মজিদ। ১২৩ বলে ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। আসাদুল্লাহ আল গালিব করেন ৮০ বলে ৫০। অন্যদিকে পারটেক্সের হয়ে জয়রাজ ৫৪ ও রুবেল মিয়া করেন ৫২ রান।

অন্যদিকে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ২ উইকেটে হারিয়েছে গুলশান। মিরপুরে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২৯০ রান করে ব্রাদার্স। বিশাল চৌধুরী ৭৫ বলে ৮৩, মিজানুর রহমান ৫০ ও আইচ মোল্লা করেন ৫১ বলে ৬৫ রান।

জবাবে ৪৮.৩ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় গুলশান। টপ অর্ডার ব্যর্থ হলেও নাইম ইসলামের ৫০, মোহাম্মদ ইলিয়াসের ৫৩, ফরহাদ রেজার ৩৬ বলে অপরাজিত ৪৭ ও মেহেদীর ১৮ বলে ৩২ রানে নিশ্চিত হয় জয়।

লিটন দাস ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি, আউট হোন ৪০ বলে ৩৩ করে। ১৭ বলে ৩০ রান আসে জাওয়াদ আবরারের ব্যাটে। ব্রাদার্সের হয়ে ৪ উইকেট নেন সোহাগ গাজি।

সব মামলায় খালাস তারেক রহমান, ‘দেশে ফিরতে বাধা নেই’

হত্যা মামলা থেকে দায়মুক্তির উদ্দেশ্যে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে করা মামলা থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ আটজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিশেষ জজ আদালত-৩ এই রায় ঘোষণা করেন।

বিএনপির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এর ফলে বিচারিক আদালতে তারেক রহমান ও বাবরের বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা নেই।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির হত্যা মামলার আসামি সাফিয়াত সোবাহান সানভীরকে দায়মুক্তি দেয়ার উদ্দেশ্যে ২১ কোটি টাকা ঘুষ নেয়া হয়। এতে ১/১১-এর সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাদী হয়ে মামলা করে।

বিএনপির আইনজীবী বোরহান উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, আসামিদের বিপক্ষে কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি দুদক। এখন কোনো মামলা না থাকার কারণে তারেক রহমানের দেশে ফিরে রাজনীতি করতে আর কোনো বাধা নেই। সূত্র : বিবিসি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় নিয়োগে দুর্নীতিসহ পুতুলের বিরুদ্ধে ২ মামলা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে জীবন বৃত্তান্তে মিথ্যা ও ভুয়া যোগ্যতা দেখানোর অভিযোগে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে এটিসহ দুটি মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) দুদকের উপ-পরিচালক তাহাসিন মুনোবীল হক মামলা দুটি করেন।

অন্য মামলাটিতে তার বিরুদ্ধে সিএসআর খাত থেকে সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে ৩৩ কোটি টাকা সহায়তার নামে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই মামলায় এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারকেও অভিযুক্ত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)ভুক্ত ব্যাংকগুলোর জন্য এই সিএসআর খাত কাজ করে।

সূত্র : বিবিসি

সীমিত পরিসরে অস্ত্র বিরতিতে সম্মত ইউক্রেন-রাশিয়া

ইউক্রেন ও রাশিয়া নীতিগতভাবে সীমিত পরিসরে অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে এর কার্যকারিতা ও আক্রমণের সীমা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সপ্তাহে দেশগুলোর নেতাদের সাথে আলোচনা করার পর এই চুক্তিটি হয়েছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ট্রাম্পের ৩০ দিনের পূর্ণ যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করার পর এই সীমিত অস্ত্রবিরতির অস্থায়ী চুক্তি গৃহীত হয়েছে। তবে একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু না করার বিষয়ে সম্মতি না হওয়া যুদ্ধের দ্রুত অবসান ঘটানোর ট্রাম্পের প্রচেষ্টার সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার ট্রাম্পের সাথে এক ঘণ্টাব্যাপী কথোপকথনের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন যে এই সপ্তাহান্তে সৌদি আরবে ‘প্রযুক্তিগত’ আলোচনা হবে, যেখানে চুক্তির আওতায় কোন ধরনের অবকাঠামো সুরক্ষিত থাকবে তা নির্ধারণ করা হবে।

তবে চুক্তির ব্যাখ্যা নিয়ে ভিন্ন মত দেখা গেছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে ‘শক্তি ও অবকাঠামো’ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ক্রেমলিন বলেছে এটি কেবল ‘শক্তি অবকাঠামো’ পর্যন্ত সীমিত। আর জেলেনস্কি জানিয়েছেন যে তিনি রেলওয়ে ও বন্দরগুলোকেও সুরক্ষিত রাখতে চান।

জেলেনস্কি বলেন, ‘যুদ্ধ সম্পূর্ণরূপে শেষ করার প্রথম পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে জ্বালানি এবং অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোর উপর হামলা বন্ধ করা। আমি এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছি। ইউক্রেন নিশ্চিত করেছে যে আমরা এটি বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত।’

ট্রাম্পের সাথে আলোচনার সময় তিনি জেলেনস্কিকে পরামর্শ দেন যে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রকে দিলে সেগুলোর দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে পারে। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র তার বিদ্যুৎ এবং ইউটিলিটি দক্ষতার মাধ্যমে এই প্ল্যান্টগুলির পরিচালনায় সহায়ক হতে পারে।’

ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদে অ্যাক্সেস পাওয়ার জন্য একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টার সময়ও এই ধারণাটি সামনে আনে। তবে জেলেনস্কি বলেন, আলোচনা মূলত জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে কেন্দ্র করেই হয়েছে, যা যুদ্ধের শুরু থেকেই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি জানান, ট্রাম্প এমন একটি সমঝোতার ধারণা দিয়েছেন, যেখানে ‘যুক্তরাষ্ট্র প্ল্যান্টটি পুনরুদ্ধার করতে পারে’।

এই আলোচনাটি দুই নেতার মধ্যে কয়েক সপ্তাহ আগে ওভাল অফিসে হওয়া একটি অস্বস্তিকর বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ট্রাম্প ইউক্রেনে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি ও সামরিক সহায়তা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন।

জেলেনস্কি কল চলাকালীন অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার অনুরোধ করেন এবং ট্রাম্প ইউরোপে কী উপলব্ধ আছে, তা খুঁজে বের করতে তার সাথে কাজ করতে সম্মত হন।

এদিকে, পুতিন ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে তিনি ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করতে রাজি। তবে ট্রাম্পের ৩০ দিনের পূর্ণ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ক্রেমলিন জানিয়েছে যে পুতিন ট্রাম্পকে স্পষ্ট করে বলেছেন, যেকোনো চুক্তির অংশ হিসেবে বিদেশী সামরিক সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি বন্ধ করতে হবে। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বুধবার জোর দিয়ে বলেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার জন্য গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি’ অব্যাহত রাখবে।

সূত্র : এপি

৫ বিষয়ের ওপর সংস্কার প্রস্তাব জামায়াতে ইসলামীর

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংসদ ভবনের কার্যালয়ে সংস্কার প্রস্তাব জমা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এতে পাঁচটি বিষয়ের উপর প্রস্তাবনা পেশ করে দলটি।

আজ বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় ঐকমত্য কমিশনের কো-চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজের কাছে সংস্কার প্রস্তাব জমা দেয় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।

এ সময় অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের সাথে ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।

অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজের কাছে জামায়াত নেতারা ১. সংবিধান; ২. নির্বাচন; ৩. বিচার বিভাগ; ৪. জনপ্রশাসন ও ৫. দুর্নীতি দমন কমিশনসহ পাঁচটি বিষয়ের ওপর প্রস্তাবনা পেশ করেন।

উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছে। আমিরে জামায়াতসহ নেতৃবৃন্দ প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে দ্রুত একটি অর্থবহ নির্বাচন দেয়ার জন্য বারবার বলে আসছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়ের ব্যাপারে একটি ধারণা জাতির সামনে পেশ করা হয়েছে। আমরা তার সাথে দ্বিমত পোষণ করিনি। আজকে আমরা পাঁচটি বিষয়ের ওপর আমাদের মতামত তুলে ধরেছি।

তিনি আরো বলেন, কমিশনের প্রস্তাবের সাথে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা একমত হতে পারিনি; আবার অনেক বিষয়েই একমত হয়েছি। আমরা ব্যাখ্যাসহ আমাদের বক্তব্য তুলে ধরেছি। আমরা সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছি। আমরা আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যেই সংস্কার সম্পন্ন করে একটি অর্থবহ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাজ শুরু করবেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি