Home Blog Page 45

এবার কৃষকের চোখের পানি ঝরাচ্ছে পেঁয়াজ উৎপাদন খরচ মণপ্রতি ১৬০০ টাকা, বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকায়

বীজের অস্বাভাবিক দর, সার, কীটনাশক, ডিজেল, সেচ, পরিবহন ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় মৌসুমের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় পেঁয়াজ চাষিরা। সব মিলিয়ে পেঁয়াজ চাষে এবার কৃষককে গুনতে হয়েছে সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ খরচ। মাঠে বাম্পার ফলন হলেও এখন বাজারে সেই পেঁয়াজ বেচতে গিয়ে চাষির মন বেজার। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিমণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। কোথাও কোথাও ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়ও নেমে এসেছে।

অথচ কৃষকের দাবি, এক মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে তাদের খরচ হয়েছে অন্তত ১ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, মূলধনও তুলতে পারছেন না কৃষক। রাজবাড়ী, ফরিদপুর, পাবনা, কুষ্টিয়া ও রাজশাহীর বিস্তীর্ণ অঞ্চলের চাষিরা এখন হতাশ। অনেক কৃষক বলছেন, এভাবে লোকসান চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে আর পেঁয়াজ চাষ সম্ভব হবে না।

পেঁয়াজ বাজারে ধসের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটেছে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে।

ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার ক্ষোভে নিজের উৎপাদিত পেঁয়াজ নদীতে ফেলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এক কৃষক। বালিয়াকান্দির ইসলামপুর ইউনিয়নের হলুদবাড়িয়া গ্রামের কৃষক পলাশ মিয়া গত মঙ্গলবার সোনাপুর বাজার-সংলগ্ন সেতু থেকে হড়াই নদীতে কয়েক বস্তা পেঁয়াজ ফেলে দেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পলাশ মিয়া জানান, এই মৌসুমে তিনি ১০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন। ফলনও হয়েছে ভালো। তবে বাজারে গিয়ে যে দাম পাচ্ছেন, তাতে উৎপাদন খরচও উঠছে না। তিনি বলেন, মাঠ থেকে তোলার সময় কিছু পেঁয়াজ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা মণ বিক্রি করলেও এখন তা বিক্রি করতে হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। অথচ এক মণ পেঁয়াজ ঘরে তুলতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা। তিনি জানান, যেদিন পেঁয়াজ নদীতে ফেলেন, সেদিন বাজারে আনা পেঁয়াজ ছিল বি-গ্রেডের। কোনো ব্যবসায়ীই সেই পেঁয়াজের ন্যায্য দাম বলতে রাজি হননি। ক্ষোভ ও হতাশা থেকেই তিনি চার মণ পেঁয়াজ নদীতে ফেলে দেন।

আরেক কৃষক অজি উল্যাহ বলেন, এবার এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদনে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সার, জ্বালানি তেল, শ্রমিকসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে। যারা লিজে জমি নিয়েছেন, তাদের খরচ আরও বেশি। বর্তমান বাজারদরে পেঁয়াজ বিক্রি করে উৎপাদন খরচ ওঠানো সম্ভব নয়। কৃষক আবুল কাশেম বলেন, উৎপাদনে লোকসানের পাশাপাশি সংরক্ষণ খরচও বাড়ছে। পেঁয়াজ যাতে পচে না যায়, সে জন্য বাড়িতে ফ্যান চালিয়ে রাখতে হচ্ছে। বিদ্যুতের বিলও দ্বিগুণ। তার পরও পচন ঠেকানো যাচ্ছে না।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা ফরিদপুরের একই চিত্র। বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হাজারো কৃষক লোকসানের মুখে পড়েছেন। ফরিদপুর সদরের কানাইপুরের পাইকারি ব্যবসায়ী শাহজাহান বেপারি বলেন, এ বছর উৎপাদন অনেক বেশি হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে প্রচুর পেঁয়াজ বাজারে আসছে। অতিরিক্ত সরবরাহের কারণেই দাম কমে গেছে।

ফরিদপুরের সালথার কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, বীজ, সার, কীটনাশক, ডিজেল ও শ্রমিকের মজুরি আকাশছোঁয়া। অথচ ফসল বিক্রি করতে গেলে কোনো দাম নেই। এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে এক কেজি গরুর মাংস কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাজশাহীতে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হলেও বাজারদর নিয়ে কৃষকের হতাশার শেষ নেই। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ২১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও হাইব্রিড জাতের ব্যবহার বাড়ার কারণে উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। তবে উৎপাদন বাড়লেও দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। পুঠিয়ার বানেশ্বর হাটে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক আব্দুল মমিন বলেন, গত ২০ বছরে আমি এমন বাজারদর দেখিনি।

কৃষকের তথ্য অনুযায়ী, নিজের জমিতে প্রতি বিঘা পেঁয়াজ চাষে খরচ হয় ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। আর লিজ নেওয়া জমিতে এ খরচ ৭০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় পৌঁছে যায়। শুধু জমির ভাড়াই বিঘাপ্রতি প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। দেশীয় মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে ওঠার সময় আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে চলে আসায় স্থানীয় উৎপাদকরা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ৩১ লাখ ৪০ হাজার ৬৯০ টন। আগের অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ২৯ লাখ ৯০ হাজার ৮৪২ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন বেড়েছে দেড় লাখ টন।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়া, চাষের বিস্তার এবং হাইব্রিড জাতের ব্যবহার বাড়ার কারণে উৎপাদন বেড়েছে। তবে সেই অতিরিক্ত উৎপাদনই এখন বাজারে মূল্য পতনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফরিদপুর মসলা গবেষণা উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, মাঠ থেকে তোলার সময় বৃষ্টির কারণে এ বছর পেঁয়াজে বেশি পচন ধরেছে। হাইব্রিড পেঁয়াজে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় সংরক্ষণের সময় দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। অনেক কৃষক নিজে বীজ উৎপাদন করায় বিভিন্ন জাত মিশে যাচ্ছে। ফলে কোন পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষকের খরচ ২৮ থেকে ৩০ টাকা। বাজারদর যদি এর নিচে থাকে, তাহলে কৃষকের ক্ষতি হবেই।

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন,  বৃষ্টি ও নিম্নমানের বীজের কারণে জেলায় উৎপাদিত পেঁয়াজের প্রায় ৫ শতাংশ নষ্ট হয়েছে। কৃষকের কাছে পেঁয়াজ থাকা অবস্থায় যাতে আমদানি করা না হয়, বিষয়টি কৃষি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

রাজবাড়ী জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা নাঈম আহম্মেদ বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতেই দর নির্ধারিত হয়। তবে কৃষকের ক্ষতি কমাতে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন এবং টিসিবির মাধ্যমে সরাসরি পেঁয়াজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পরিচর্যা শাখার পরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, পেঁয়াজ সারাবছর ব্যবহৃত হলেও সবাই একসঙ্গে বিক্রি করতে গেলে বাজারদর কমে যাওয়াই স্বাভাবিক। তাই উৎপাদনের পরপরই পুরো খরচ উঠে আসবে, এমন প্রত্যাশা সবসময় বাস্তবসম্মত নয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, বাজারমূল্য নির্ধারণের বিষয়টি কৃষি বিভাগের হাতে নেই। আমরা কৃষকের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি। সরকার কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছে। আমরা পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ারফ্লো মেশিন পেঁয়াজ চাষিদের সরবরাহ করেছি। পেঁয়াজ সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো গেলে কৃষকরা তাৎক্ষণিক কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম সতর্ক করে বলেন, পেঁয়াজ বাজারের এই ধস শুধু কৃষকের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, এটি গ্রামীণ অর্থনীতির জন্যও ধাক্কা। কারণ হাজার হাজার পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পেঁয়াজ চাষের ওপর নির্ভরশীল। কৃষকের হাতে টাকা না থাকলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাঁর মতে, সংকট মোকাবিলায় সরকারকে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পেঁয়াজ কেনা, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

টেইলর সুইফটের বিয়ে, রাস্তা বন্ধ রাখার অনুমতি চেয়ে আবেদন

বিশ্বসংগীতের আলোচিত তারকা টেইলর সুইফট এবং ফুটবল তারকা ট্রাভিস কেলসির বিয়ে নিয়ে জোর জল্পনা সর্বত্র। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, আগামী ২ জুলাই নিউইয়র্কে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে গোপনে বিয়ের অনুষ্ঠান সারতে পারেন এই তারকাজুটি।

৩ জুলাই, আয়োজন করা হতে পারে বিশাল এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের; যেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন প্রায় দু’হাজার অতিথি। এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, গোপনীয়তা বজায় রাখতে কোনো ছাপানো নিমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়নি কাউকে। পরিবর্তে অতিথিদের সঙ্গে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেই খবর যাতে অনুষ্ঠানের তথ্য বাইরে ফাঁস না হয়। আমন্ত্রিতদের সকলকেই গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

এর আগে জানা গেছে, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে গাঁটছড়া বাঁধার পরিকল্পনা করছেন টেইলর ও ট্র্যাভিস। এক প্রতিবেদনে লেখা হয়েছিল, নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনকেই সম্ভাব্য ‘ভেন্যু’ হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। কারণ এত বড় আয়োজনে সেখানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় রাখা সম্ভব। বিয়ের প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলেছে অন্য সূত্রেও। ট্র্যাভিসের টিম ‘কানসাস সিটি চিফস’-এর কয়েকজন সহখেলোয়াড় নাকি ইতোমধ্যেই বিয়ের জন্য ম্যানহাটানের বিলাসবহুল হোটেলে ঘর সংরক্ষণ করেছেন।

টেইলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলসি। ছবি: গেটি ইমেজেস

টেইলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলসি। ছবি: গেটি ইমেজেস

এ ছাড়াও শোনা যাচ্ছে, ‘উইনিক প্রোডাকশনস’ নামে একটি সংস্থা ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের আশপাশে সাময়িকভাবে রাস্তা বন্ধ রাখার এবং ভেন্যুর বাইরে একটি অস্থায়ী তাঁবু তৈরির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে।  এই পদক্ষেপ বিয়ের জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত সুইফ্ট বা ট্রাভিস, কেউই এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেননি। তাঁদের প্রতিনিধিরাও সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি। ফলে বিয়ের খবর নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা যতক্ষণ না করা হচ্ছে ততক্ষণ পুরো বিষয়টি জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।

এর আগে চলতি মাসের মাঝামাঝি নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এক বক্তব্যে টেইলর সুইফটের বিয়ে খুব দ্রুতই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে কথা বলার সময় গায়িকার বিয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বড় বড় ইভেন্ট আয়োজন করতে অভ্যস্ত এবং এটি নিয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। জানি এই সময় এনবিএতে নিউইয়র্ক নিকসের খেলা চলছে। ৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবসের উদযাপন। এবার একই সময়ে টেইলর সুইফটের বিয়েও হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে বিশ্বকে এখানে স্বাগত জানাতে আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

প্রসঙ্গত, প্রায় দুই বছর প্রেমের পর গত বছরের ২৬ আগস্ট বাগদান সারেন টেইলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলসি। এরপর থেকেই অনুরাগীরা তাদের প্রিয় তারকার বিয়ের দিনটির অপেক্ষায় রয়েছেন।

সিলেটের প্রবীণ সংবাদপত্র এজেন্ট ইসমাইল মারা গেছেন

সিলেটের প্রবীণ সংবাদপত্র এজেন্ট ও আলমগীর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইসমাইল হোসেন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় কানাডার আলবার্টা শহরের একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই দিন আলবার্টা শহরের কোবা জামে মসজিদে জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

সিলেট নগরীর কুমারপাড়া ঝেরঝেরিপাড়ার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও চার মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর এক মেয়ে দেশে এবং পরিবারের বাকি সদস্যরা কানাডায় বসবাস করছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে কানাডায় যান ইসমাইল হোসেন।

অপর দুই মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করে তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। ইসমাইল হোসেনের ভাই হাফিজ উল্লাহ জানান, শুক্রবার ভোরে তিনি অসুস্থ বোধ করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়।

স্বাধীনতার পর সিলেটে যে কয়জন সংবাদপত্র বিপণনে ভূমিকা রাখেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ইসমাইল হোসেন। তিনি নগরীর পৌর বিপণি মার্কেটে অবস্থিত ‘আলমগীর এন্টারপ্রাইজ’ নামে সংবাদপত্র বিপণন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী। শুধু সংবাদপত্র বিপণন নয়; সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ইসমাইল হোসেন। তিনি বাংলাদেশ সংবাদপত্র এজেন্ট সমিতির দীর্ঘদিনের সহসভাপতি ছিলেন।

ইসমাইল হোসেনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ ছাড়া সমকাল পরিবার, সিলেট প্রেস ক্লাব ও হকার্স নেতারা শোক জানিয়েছেন। তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায় শুক্রবার বাদ জুমা সিলেটের বিভিন্ন মসজিদে দোয়া মাহফিল এবং গাজী বুরহান উদ্দিন দারুল হাদিস মাদ্রাসায় কোরআন খতম ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে ফতোয়া নেবে জামায়াত!

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের সমালোচনা করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সংসদ সদস্য (এমপি) শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, ‘ফতোয়ার জন্য আর হাটহাজারী যাব না। ফতোয়ার জন্য পটিয়াও না, লালবাগেও যাবো না। এই মহান সংসদে, জামায়াতে ইসলামীকে ইসলামী দল নয় বলে যিনি বলেন, তার কাছ থেকেই আমরা ফতোয়া নেব।’

আজ শনিবার সংসদে বাজেট আালোচনায় চট্টগ্রাম-১৫ আসনের জামায়াতের এই এমপি এমন মন্তব্য করেন।

শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের চট্টগ্রামের আরেক কৃতি সন্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। চট্টগ্রামে একটা কথা এসেছে, ফতোয়ার জন্য আর মাদ্রাসায় যেতে হবে না। আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন? বলে, ফতোয়া তো আপনাদের এই পার্লামেন্টে দেওয়া হয়। ফতোয়া কী রকম? ফখরুল ইসলাম যেমন ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়।’

শাহজাহান চৌধুরী আরও বলেন, জামায়াতকে জানতে হলে ১০০ বছরের ইতিহাস জানতে হবে। জামায়াতে ইসলামী কী ইসলামী দল, না অন্য কিছু, এ বিষয়ে ফতোয়া দেওয়ার দরকার নেই। এই এমপি বিদ্রুপ করে বলেন, ‘তাই আমাদের চট্টগ্রামে এখন বলতেছে, হাল জামানার মুফতি তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)। আরেকটা বললাম না। আলিফ বা তা জানেন না।’

এরপর বাজেট আলোচনায় বিএনপির এমপি জয়নুল আবেদিন ফারুক  বলেন, ‘তর্ক উত্থাপন করে সংসদকে উত্তপ্ত করতে চাই না। শুধু একটা বলতে চাই, নিজের কথা নিজেরাই বিচার করেন। আপনারা ৭১ সালে কোথায় ছিলেন? নিজেরাই বিচার করেন। আমাদের বলা দরকার নেই। আপনি একটু তাকান মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের দিকে। স্বাধীনতার একদিন আগে কারা হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করেছে। কেন এবং কারা বুদ্ধিজীবীশূন্য করতে চেয়েছিল বাংলাদেশকে।’

মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে জয়নুল আবদিন বলেন, জুলাই বিপ্লবে যারা শহীদ হয়েছে, আহত হয়েছে, তাদের অবশ্যই আমরা স্মরণ করব। কিন্তু একাত্তরকে ভোলা যাবে না।

গুলিবিদ্ধ সেই স্কুলছাত্রের চিকিৎসা সহায়তায় কুসিক প্রশাসক

কুমিল্লা নগরীর কাঁটাবিল এলাকায় মানববন্ধনে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ প্রেমের চিকিৎসায় সহায়তা দিয়েছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। গতকাল শনিবার রাতে তিনি ইথানের কাটাবিলের বাসায় গিয়ে এক লাখ টাকা সহায়তা করেন। এ সময় কুসিক প্রশাসক শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

প্রশাসক টিপু বলেন, কারো বিরোধে একজন নিরপরাধ স্কুলছাত্রের জীবন মৃত্যু ঝুঁকিতে কেন পড়বে। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করছি। গুলিবিদ্ধ ওই ছাত্রের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলেও তিনি জানান।

আহত ইথানের বাবা বলেন, আমার একটাই ছেলে। সে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সবাই তার জন্য দোয়া করছেন। খোঁজখবর নিচ্ছেন। দিনের বেলায় এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সবার নাম জানতে পেরেছে। আমি চাই সবার বিচার হোক।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর কাঁটাবিল এলাকায় একটি মাদকবিরোধী মানববন্ধন ছিল। মানববন্ধন শেষ হলে সেখানে হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় টিফিনের বিরতিতে বাসায় যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হন ইথান আহমেদ প্রেম। ইথান কাটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল হাইস্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। এ ঘটনায় তার বাবা বৃহস্পতিবার রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় মাদক কারবারি সাব্বির ও অপুসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এ ঘটনার ৩ দিন পরও ছাত্রটির শরীর থেকে গুলি বের করতে পারেননি চিকিৎসকরা।

সংশোধন হচ্ছে অর্থ বিল করমুক্ত আয়সীমা চার লাখ টাকা হচ্ছে

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের স্বস্তি দিতে যাচ্ছে সরকার। আগামী কয়েক অর্থবছরে ধাপে ধাপে করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ট্যাক্সপেয়ার্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) জমা দেওয়ার বিধানও প্রত্যাহারের চিন্তাভাবনা হচ্ছে। অর্থ বিল-২০২৬ পাসের আগে শেষ সময়ে এসে বিভিন্ন অংশীজন ও ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে প্রস্তাবিত বাজেটে এসব সংশোধনী আনার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন।
সূত্র জানায়, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা চার লাখ টাকা করা হতে পারে। পরে ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে সাড়ে চার লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে পাঁচ লাখ টাকা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য ব্যক্তি ও কোম্পানির করহার ঘোষণা করে। এতে ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বর্তমানে একজন ব্যক্তি বছরে সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করলে আয়কর দিতে হয় না।

প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক টিআইএন জমার বিধান রাখা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ বিধান নিয়ে বিভিন্ন মহলের আপত্তির পর সরকার প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের কথা ভাবছে। কারণ, ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক থাকলে নিম্ন আয়ের বহু মানুষের আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং সেবায় অন্তর্ভুক্তি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

ব্যবসা থেকে ব্যবসা (বিটুবি) লেনদেনে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) হার প্রস্তাবিত বাজেটে কমিয়ে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ করার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া স্বর্ণের মূলধনি মুনাফার ওপর করও কমানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। বর্তমানে ১৫ শতাংশ হারে কর আরোপের প্রস্তাব থাকলেও তা কমিয়ে ৫ শতাংশ করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
প্রস্তাবিত অর্থ বিলে করদাতার রিটার্নে ঘোষিত স্বর্ণ, রুপা, গহনা, মূল্যবান পাথর, হীরা, মুদ্রা, ডিজিটাল মুদ্রা, শিল্পকর্ম, পুরাকীর্তি ও ক্লাবের সদস্যপদ বিক্রি বা হস্তান্তর থেকে অর্জিত মুনাফাকে মূলধনি মুনাফা হিসেবে গণ্য করে ১৫ শতাংশ হারে কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছিল।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকার স্বর্ণ ও গহনার ওপর করহার পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের করহারও কমানো হতে পারে। বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ করহার প্রযোজ্য। এটি কমিয়ে ৫ শতাংশ করার চিন্তাভাবনা চলছে। তবে আবাসন খাতের ডেভেলপারদের জন্য প্রস্তাবিত কর
ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নেই বলে জানা গেছে।

জানালেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মেগা প্রকল্পের ব্যাপারে সরকার রক্ষণশীল

মেগা প্রকল্পের নামে মানুষকে চমকে দিয়ে উন্নয়নের ফানুস সৃষ্টি এবং সেই আড়ালে ‘মেগা লুটপাটের’ কোনো নীতিতে বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে না বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নেওয়া যেসব মেগা প্রকল্প মাঝপথে বন্ধ করে দিলে বড় ধরনের আর্থিক অপচয় বা জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এসব প্রকল্প পর্যালোচনা করে যৌক্তিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য বাছাই করা হচ্ছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘বাজেটের সুফল পেতে অর্থের জোগান ও বাস্তবায়ন দক্ষতা’ শীর্ষক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সংগঠনটির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হন।  অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেগা প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার অত্যন্ত রক্ষণশীল অবস্থান নিয়েছে। অপ্রয়োজনীয় বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের পরিবর্তে মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জনগণের সরাসরি উপকারে আসে— এমন প্রয়োজনভিত্তিক প্রকল্পকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হার হতাশাজনক। এ অবস্থা উত্তরণে সচেষ্ট সরকার।
জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, করের পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে খুদে দোকানিরা যাতে ন্যূনতম কর দিতে পারেন, সে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হয়রানির উদ্দেশ্যে নয়, ন্যায্যতার ভিত্তিতেই কর আদায় করা সরকারের উদ্দেশ্য।

তুরাগ নদ থেকে তিন তরুণের লাশ উদ্ধার

রাজধানীর তুরাগের রানাভোলা এলাকায় বসবাস করতেন মো. সুমন (১৮) ও আরিফ হাসান রাকিব (২০)। দুজনই পরিবারের সঙ্গে সেখানে থাকতেন। দুই দিনের ব্যবধানে তুরাগ নদ থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গত শুক্রবার সুমনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে আশুলিয়া থানার পুলিশ। ২২ জুন বাসা থেকে বের হন তিনি। তুরাগে লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি সুমনের বলে নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। সুমন কামারপাড়া আড়তে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন।

এর আগে বুধবার তুরাগ নদ থেকে আরিফ হাসানের লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এ ঘটনায় আরিফের চাচা মো. আরশাদুল ইসলাম বাদী হয়ে অপমৃত্যুর মামলা করেছেন।

একই দিন দিয়াবাড়ী ঘাট থেকে রনি মোল্লা (৩৫) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে দুই দিনে তুরাগ থেকে মিলল তিনজনের লাশ।

গতকাল শনিবার রনির বাবা কফিল উদ্দিন মোল্লা সমকালকে জানান, তারা মনিপুরের মোল্লাপাড়া এলাকায় থাকেন। তাঁর ছেলে দিয়াবাড়ীতে একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করেন। তিনি শুনেছেন, ঘটনার দিন বাসায় ফেরার পথে দিয়াবাড়ী ঘাটে পরিচিত একজনের সঙ্গে গোসলে নামেন তাঁর ছেলে। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল না।’ রনির মৃত্যু ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

সুমনের পরিবারের সদস্যরা জানান, ‘সুমন আহমেদ চৌধুরী’ নামে তাঁর একটি ফেসবুক আইডি আছে। ছয় দিন আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি শোভাযাত্রার ভিডিও সেটিতে আপলোড করা হয়েছিল। গতকাল রাতে সুমনের ফেসবুক আইডিতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন সময় দলীয় কার্যক্রমের ভিডিও আপলোড করা আছে।

সুমনের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ফেজবুক পেজ বা আইডি থেকে দাবি করা হয়, ‘তুরাগ থানা এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বের হওয়া মিছিলের পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মী ও আশুলিয়া পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যদের হামলার পর থেকে সাতজন নেতাকর্মী নিখোঁজ। তিন-চারজনের মরদেহ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হয়েছে।’

এদিকে গতকাল পুলিশ সদরদপ্তরের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘তুরাগ নদে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীর লাশ ভাসছে’– এমন শিরোনামে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম সমকালকে জানান, ২৫ জুন দিবাগত রাতে আশুলিয়া বাজারের পাশে তুরাগ নদে একজনের লাশ ভেসে উঠেছে– এমন খবর পায় পুলিশ। এর পর সেই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহত ব্যক্তির পরিবার মরদেহটি সুমনের বলে শনাক্ত করে।

দারুস সালাম থানা সূত্র জানায়, বুধবার তুরাগ নদ থেকে আরিফ হাসান নামের একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। তিনি তুরাগ থানার রানাভোলা এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় আরিফের চাচা মো. আরশাদুল ইসলাম বাদী হয়ে অপমৃত্যুর মামলা করেছেন।

আরিফের চাচা মো. আরশাদুল ইসলাম জানান, ২২ জুন সকালে দিকে বাসা থেকে বের হয় আরিফ। ওই দিন বিকেলে মোবাইলে মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। এর পর থেকে নিখোঁজ ছিল। বুধবার তুরাগ নদ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার হয়।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ হচ্ছে বিসিএস কর্মকর্তা জবাবদিহি নিশ্চিতের উদ্যোগ

দুর্নীতি, অনিয়ম ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলায় জর্জরিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ বা শাখাপ্রধান হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে সুশাসন, জবাবদিহি এবং আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে রাজধানীর কয়েকটি আলোচিত ও বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে।

এ জন্য গত ডিসেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা সংশোধন করে সরকার। সংশোধিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, সরকার প্রয়োজন মনে করলে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে উপযুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা অথবা বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তাকে প্রেষণে নিয়োগ দিতে পারবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ-বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম, গভর্নিং বডির ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিক্ষার মান অবনতির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে এনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রথমে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) তদন্ত পরিচালনা করা হবে। তদন্তে গুরুতর অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মিললে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেখানে শিক্ষা ক্যাডারের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

তবে শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, সিদ্ধান্তটি কার্যকর করতে হলে নিরপেক্ষ তদন্ত, স্বচ্ছ মানদণ্ড এবং প্রেষণে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় নতুন ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ সমকালকে বলেন, শিক্ষা ক্যাডার থেকে কর্মকর্তাদের অধ্যক্ষ করে পাঠালেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে না। বরং মনিটরিং আর জবাবদিহি সুনিশ্চিত করা না গেলে কোনো পদক্ষেপই কাজে আসবে না। যারাই যে দায়িত্ব নেবেন, সেই কর্মকর্তাদের সেখানকার জবাবদিহি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

ইরানের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না—চুক্তি লঙ্ঘনে ট্রাম্পের হুমকি

হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জেরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই হামলার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ওয়াশিংটন আর ধৈর্য ধরবে না। প্রয়োজন হলে এমন সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ‘ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের আর কোনো অস্তিত্বই না থাকে।’

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একযোগে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। পাল্টাপাল্টি এই হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আবারও যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার ইরানে দ্বিতীয় দফার হামলা শুরুর দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানকে কড়া বার্তা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, শনিবারের হামলা আরও বড় ও তীব্র সামরিক অভিযানের কেবল শুরু।

ইরান বারবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে অভিযোগ করে ট্রাম্প লেখেন, ‘খুব সম্ভবত তারা কখনোই শিক্ষা নেবে না। এমন একটি সময় আসতে পারে, যখন আমরা আর যুক্তি দিয়ে কথা বলব না। আমরা সামরিকভাবে সেই কাজ সম্পন্ন করতে বাধ্য হব, যা আমরা সফলভাবে শুরু করেছি। আর যদি তা ঘটে, তাহলে ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে সিরিক শহর, বন্দর-ই লেঙ্গেহ এবং কেশম দ্বীপের বিভিন্ন স্থাপনায় এই হামলা হয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নিশ্চিত করেছে, তাদের অন্তত পাঁচটি উপকূলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র বোমাবর্ষণ করেছে। সেন্টকমের দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ড্রোন সংরক্ষণ কেন্দ্র।

মার্কিন হামলার জবাব দিতে দেরি করেনি তেহরান। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের নৌ ও বিমান বাহিনী কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ‘আলি আল সালেম’ বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি ‘পোর্ট সালমান’ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।

গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও চলমান সংঘাতের কারণে সেই যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে। শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাংকার ‘কিকু’ ড্রোন হামলার শিকার হয়। সেন্টকমের দাবি, ইরান এই হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবারও সিঙ্গাপুরের একটি কনটেইনারবাহী জাহাজে একই ধরনের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। পরপর দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পরই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বিমান অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।