Home Blog Page 452

গরমে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখবে যে খাবার

হরমোন মানুষের মেজাজ থেকে শুরু করে বিপাক পর্যন্ত সবকিছুকে অনেক ভাবে প্রভাবিত করে। গরমের সময়ে কিছু শীতল খাবার সতেজতা এবং হরমোনের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হতে পারে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক-

১. লেবুপানি: লেবুপানি লিভার থেকে বিষাক্ত পদার্থ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে, যা হরমোনের ভারসাম্যে বড় ভূমিকা পালন করে। এর ক্ষারীয় প্রভাবও রয়েছে যা শরীরের অ্যাসিডিটি কমাতে এবং অভ্যন্তরীণভাবে জিনিসগুলোকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।

২. জিরাপানি: গ্রীষ্মের প্রিয় একটি দেশি খাবার জিরাপানি পেট হালকা বোধ করতে সাহায্য করে। জিরা, পুদিনা এবং কালো লবণের মিশ্রণ গ্যাস এবং ফোলাভাব কমাতে ভালো কাজ করে, যা অন্ত্র এবং হরমোনের স্বাস্থ্যকে সঠিক পথে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

৩. তরমুজ: ৯০ শতাংশেরও বেশি পানিতে সমৃদ্ধ তরমুজ তীব্র তাপে হাইড্রেটেড থাকার একটি দুর্দান্ত উপায়। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা কোষীয় স্তরে চাপের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং আপনার সিস্টেমকে ঠান্ডা করতে সাহায্য করে, সেইসঙ্গে উন্নত হরমোনের স্বাস্থ্যকেও সহায়তা করে।

৪. বাটারমিল্ক: এই প্রোবায়োটিক পানীয় অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে। যেহেতু অন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং হরমোন নিয়ন্ত্রণ একসঙ্গে চলে, তাই এক গ্লাস বাটারমিল্ক পান করলে হজমশক্তি উন্নত হয় এবং শরীরকে শীতল করার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু উপশম পাওয়া যায়।

৫. জাম: জামের গ্লাইসেমিক সূচক কম এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করে রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করে এমন যৌগেও পরিপূর্ণ, দুটি জিনিস যা বেশিরভাগ হরমোনজনিত ব্যাধির সঙ্গে সম্পর্কিত।

৬. আম: আম কেবল সুস্বাদুই নয়, ভিটামিন এ-তে ভরপুর, যা হরমোন উৎপাদনে সাহায্য করে এবং ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখে। এতে ফাইবারও রয়েছে, যা হজমশক্তি উন্নত করে এবং প্রাকৃতিকভাবে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমায়। আম পরিমিত খেলে সুস্থ থাকা সহজ হবে।

৭. মিছরি: মিছরি প্রাকৃতিকভাবে শীতল হয় এবং গ্রীষ্মকালে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণে ভালোভাবে কাজ করে। বিশেষজ্ঞের মতে, এটি প্রদাহ কমিয়ে এবং তৈলাক্তকরণ উন্নত করে শরীরের জয়েন্টগুলোকে আরও ভালো অবস্থায় রাখতেও সাহায্য করে।

গরমে ডায়াবেটিস রোগীদের সুস্থ রাখতে উপযুক্ত পানীয়

প্রচণ্ড গরমে শরীর হাইড্রেটেড রাখা যেমন জরুরি, তেমনি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ পানীয় নির্বাচন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ গরমে স্বস্তির সেরা পথ হলো বেশি করে পানি পান এবং পানীয় গ্রহণ। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রায় যেন প্রভাব না পরে, সেজন্য কম চিনি কিংবা একেবারে চিনিহীন এবং উচ্চ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন সতেজ গ্রীষ্মকালীন ফল এবং  পানীয় পান করতে হবে।

কী ধরনের পানীয় হতে পারে তার কিছু উদাহরণ এখানে তুলে ধরা হলো-

ঘোল: ঘোল এমন এক ঠান্ডা পানীয় যাতে প্রোবায়োটিক রয়েছে। এ পানীয় হজমে সহায়তা করে এবং শরীরকে হাইড্রেটেডও রাখে। মূলত দুধ বা পাতলা দই দিয়ে তৈরি হয় ঘোল। কম শর্করা এবং ভালো ব্যাকটেরিয়া বেশি থাকে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য একটি আদর্শ পানীয়। স্বাদ বাড়াতে এতে কিছু মশলা যোগ করা যায়।
যেমন: ভাজা জিরা গুঁড়ো, তাজা ধনেপাতা, এক চিমটি কালো গোলমরিচ ও লবণ।

ডাবের পানি: প্রাকৃতিকভাবে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক এবং সুস্বাদু পুষ্টিকর পানীয় হলো ডাবের পানি। স্বাভাবিকভাবেই ক্যালোরি এবং শর্করা কম থাকে। ডাব পটাশিয়াম এবং ইলেক্ট্রোলাইটের একটি দুর্দান্ত উৎস। রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি এড়াতে তাজা এবং পরিমিত পরিমাণে ডাবের পারি পান করুন।

আমলকির রস: আমলকির রস ‘ভিটামিন সি’ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং বিপাক ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাজা আমলকির পেস্ট বা রস পানির সঙ্গে মিশিয়ে পান করুন। চাইলে স্বাদ বাড়াতে এতে সামান্য লবণ ও পুদিনা পাতা মিশিয়ে পান করতে পারেন।

শসা-পুদিনা ডিটক্স ওয়াটার: এক জগ ঠান্ডা পানিতে শসার টুকরো এবং তাজা পুদিনা পাতা মিশিয়ে এক ঘণ্টার জন্য রেখে দিন। শসা-পুদিনা ভেজানো থাকায় এসবের নির্যাস পানিতে মিশে যায়। এ পানীয় গরমে সতেজতার অনুভূতি দিতে পারে। এছাড়াও হজমে সহায়তা করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখে।

অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দিল ভারত-পাকিস্তান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। শনিবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্সে (X) জানান যে ভারত ও পাকিস্তান অবিলম্বে অস্ত্রবিরতি কার্যকরে রাজি হয়েছে।

ইসহাক দার তার পোস্টে উল্লেখ করেন, “পাকিস্তান সর্বদা এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে এবং এক্ষেত্রে তারা দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার সাথে কোনো আপস করেনি।”

অন্যদিকে, একই দিনে সন্ধ্যা ৬টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি দেশটির অস্ত্রবিরতির সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি বলেন, “স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল পাঁচটা থেকে স্থল, বিমান ও নৌবাহিনী পাকিস্তানের দিকে সব ধরনের গুলি চালানো বন্ধ রাখছে।”

বিক্রম মিশ্রি আরও জানান, “পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল মিলিটারি অপারেশনস ভারতীয় সময় তিনটা পঁয়ত্রিশ মিনিটে ভারতের ডিরেক্টর জেনারেল মিলিটারি অপারেশন্সকে ফোন করেছিলেন। তাদের দুজনের মধ্যে স্থির হয়েছে আজ ভারতীয় সময় বিকেল পাঁচটা থেকে দুই পক্ষই সব ধরনের গুলি-গোলা চালানো এবং স্থল, আকাশ ও জলপথে সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করবে।”

তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে উভয় দিকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে এই অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দেন, যার পরপরই দুই দেশ পৃথকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করলো। এই আকস্মিক অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দক্ষিণ এশিয়ার এই দুটি পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে সহায়ক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাশ্মীরে ফের বিস্ফোরণ, চুক্তির অনিশ্চয়তা

ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শনিবার রাতে ফের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে ভারতশাসিত কাশ্মীরে। এই ঘটনায় ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

ভারতশাসিত কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ রাতে একটি ভিডিও শেয়ার করে বলেছেন, “এটি কোনো যুদ্ধবিরতি নয়। শ্রীনগরের মাঝখানে আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট গুলি ছুড়েছে।” এর আগে তিনি শ্রীনগরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথাও জানান। স্থানীয় বাসিন্দারাও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ নিশ্চিত করেছেন, যার ফলে শহরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আলজাজিরার শ্রীনগর-ভিত্তিক সাংবাদিক উমর মেহরাজ জানিয়েছেন, তিনি আকাশে বস্তু উড়তে দেখেছেন এবং বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তিনি বলেন, “বিস্ফোরণের শব্দ, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতা এবং এয়ার সাইরেন শোনা যাচ্ছে। প্রকৃত অবস্থা পরিষ্কার নয়। এগুলো ক্ষেপণাস্ত্র না আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ তা জানা যায়নি।” তিনি আরও জানান, বারামুল্লা ও জম্মুতেও বিস্ফোরণের খবর এসেছে এবং শহরজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি এবং হতাহতের বিষয়েও কোনো নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, শনিবার বিকেলে ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষ অপ্রত্যাশিতভাবে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিল। তবে শ্রীনগরের বর্তমান পরিস্থিতি সেই সমঝোতার দীর্ঘস্থায়িত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ফাঁসির দণ্ড থেকে খালাসপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা হানিফ ১৫ বছর পর দেশে ফিরলেন

দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশে ফিরেছেন শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলার মিথ্যা মামলার অন্যতম ফাঁসির আসামি এবং হানিফ পরিবহনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. হানিফ।শনিবার বেলা ১২টায় বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মো. হানিফ ওই মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা থেকে আদালত কর্তৃক খালাস পান।

তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে শনিবার দুপুরে বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফুলের মালা হাতে ভিড় জমান। সকাল ১০টা থেকেই বিমানবন্দরের বাইরে বিএনপির নেতাকর্মী এবং সারাদেশ থেকে আসা হানিফ পরিবহনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপেক্ষা করতে থাকেন।

বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে মো. হানিফ বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনাল দিয়ে ছাদখোলা একটি জিপে করে বাইরে আসেন। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাকে ফুলের তোড়া ও মালা দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। গাড়ি থেকে হাত নেড়ে তিনি অপেক্ষমাণ জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

বিমানবন্দরে বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক, হানিফের বড় ভাই সাভার উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান ও পরিবহন ব্যবসায়ী আলহাজ কফিল উদ্দিন, হানিফের ছেলে পরিবহন ব্যবসায়ী আরাত, ভাতিজা অভি, ভাগিনা আকাশ এবং বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, জাকারিয়া মাহমুদ (যুক্তরাষ্ট্র), এডভোকেট পারভেজ (যুক্তরাজ্য) সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কোকোর কবর জিয়ারত করলেন ডা. জোবাইদা ও শর্মিলা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করেছেন ডা. জোবাইদা রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি।

শনিবার রাজধানীর বনানী কবরস্থানে আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান। এসময় বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর কবরে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও মোনাজাত করেন তিনি।

ডা. জোবাইদা রহমানের ঢাকা আগমন উপলক্ষে তার নিরাপত্তার বিষয়টি সার্বিকভাবে তত্ত্বাবধান করছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম (অব.)। বিএনপি চেয়ারপার্সনের নিরাপত্তা বাহিনী (সিএসএফ) সদস্যদের মাধ্যমে মূলত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার সাথে নিরাপত্তার বিষয়টি সমন্বয় করছেন এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা।

বনানী কবরস্থানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)-এর পরিচালক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, আরাফাত রহমান কোকো ১৯৬৯ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকার বিএফ শাহীন কলেজে লেখাপড়া করেছেন। ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে পরিচিত কোকো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যা রেখে গেছেন।

সন্ধ্যায় উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক

জরুরি বৈঠক ডেকেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (১০ মে) সন্ধ্যায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠকের নির্দিষ্ট সময় ও স্থানের বিষয়েও কোনো তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধের দাবি, ভারত-পাকিস্তান সংঘাতসহ সাম্প্রতিক ইস্যু উঠে আসতে পারে উপদেষ্টা পরিষদের আজকের বৈঠকে।

এদিকে আওয়ামী লীগের বিচার ও নিষিদ্ধের দাবিতে রাজধানীতে এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের অবস্থান কর্মসূচির মধ্যে উপদেষ্টার পরিষদের এই বৈঠক আহ্বান করা হলো।

এর আগে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে বলা হয়েছিল, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে সরকার সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করছে। এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের আলোচনা করতেই জরুরি বৈঠক: প্রেসসচিব

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সরকারের দেওয়া বিবৃতির পর, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য আজ রাতে উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। শনিবার (১০ মে) বিকেলে যশোরের কেশবপুর পাথরা পল্লী উন্নয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪২ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “আজ রাতে মিটিং আছে, সেখানে আইসিটি অ্যাক্টের অধ্যাদেশ প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। এই কারণেই জরুরি মিটিং।”

সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের দেশত্যাগের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই ঘটনায় কারা জড়িত, সেই ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে। ইতোমধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি যারা জড়িত, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।”

শফিকুল আলম আরও বলেন, “বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের পতন হওয়ায় তাদের (ভারতের) মাথা খারাপ হয়ে গেছে। এই কারণে তারা আমাদের কয়েকটি মিডিয়ার সম্প্রচার তাদের দেশে বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা সেই পথে হাঁটতে চাই না। আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখছি তারা আমাদের নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অভাব রয়েছে, বরং উচ্চকণ্ঠে নাটকীয় উপস্থাপনার মাধ্যমে বিনোদন দেওয়াই যেন তাদের সাংবাদিকতা। সেক্ষেত্রে আমাদের সাংবাদিকতা অনেক বেশি দায়িত্বশীল ও প্রশংসার যোগ্য। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশের যেসব মিডিয়া বন্ধ করা হয়েছে, তারা অনেক ভালো সংবাদ পরিবেশন করে। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

হিজাব পরে খেলার সুযোগ নেই: তাসনুভা তিশা

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা। সেলিব্রিটিদের নিয়ে সম্প্রতি আয়োজিত ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ‘সেলিব্রিটি ক্রিকেট লিগ’ (সিসিএল)-এ অংশ নিয়েছেন তিনি। খেলা ও খেলোয়াড়দের প্রতি সামাজিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এ অভিনেত্রী।

তাসনুভা তিশা বলেন, আমরা যারা মেয়েরা খেলছি, আমাদের নিয়ে অনেক সময় খুবই অপমানজনকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ইউটিউব বা অন্য মাধ্যমে খেলার পারফরম্যান্সের চেয়ে পোশাক নিয়ে আলোচনা বেশি হয়।

কে কী পরল, কতটুকু পরল—এসব নিয়ে মন্তব্য করে আমাদের অসম্মান করা হয়। এসব প্রতিবেদনে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন আমরা খেলতে আসিনি, এসেছি শুধু পোশাক প্রদর্শনের জন্য এমন মন্তব্য করেন তিনি।

জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী আরও বলেন, আমি নিজেও এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়েছি। মানুষ আমাদের ব্যক্তিজীবন নিয়ে আগ্রহী, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের দেশে বলিউডের মতো পাপারাজ্জি সংস্কৃতি নেই। তার বদলে যা হয়, তা হলো হয়রানি। আমাদের অজান্তেই ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হয়, যা নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়। আর এ কারণেই আমরা সামাজিকভাবে ভুগি। কারণ আমাদের পরিবার আছে, তারা এসব দেখে, পড়ে এবং পরে আমাদের কাছেই প্রশ্নের উত্তর চায়।

পোশাক বিতর্ক প্রসঙ্গে তাসনুভা তিশা বলেন, অনেকে আবার বলেন—ঠিকমতো পোশাক পরলেই তো হয়। কিন্তু সেটা করলেও কমেন্ট থেমে থাকে না। শাড়ি পরলেও কথা হয়, আবার ওড়না পরলেও ছাড় নেই। আসলে কী পরব বুঝে উঠতে পারি না। খেলা তো খেলা। সেটা ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সবার জন্যই এক। কিন্তু বাস্তবতা হলো- খেলতে গিয়ে ওড়না বা হিজাব পরে মাঠে নামার কোনো বাস্তব সুযোগ নেই।

জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী মনে করেন, সমাজে নারীদের পোশাক নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত দৃষ্টিভঙ্গি এখনও তীব্র। যা শুধু তাদের ব্যক্তিগত জীবন নয়, পেশাগত পরিসরেও প্রভাব ফেলে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নতুন নেতৃত্ব পেল চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি

নানা নাটকীয়তার পর নতুন নেতৃত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। নতুন মেয়াদে পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন শাহীন কবির টুটুল। আজ শুক্রবার ঢাকা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে নির্বাচন শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বাচ্চু।

বিজয়ী হয়ে প্রতিক্রিয়ায় নতুন সভাপতি শাহীন সুমন বলেন, বিপুল ভোটে বিজয়ের জন্য সবার কাছে কৃতজ্ঞতা। এই বিজয় আমাদের একা নয়, সবার। সবার প্রতি অসীম ভালোবাসা। সাধারণ সদস্যরা বারবার আমাকে নির্বাচিত করছে। তাদের কৃতজ্ঞতায় সব সময় থাকতে চাই। বারবার এভাবে নির্বাচিত করুক। আমাদের প্রথম কাজ হবে সংগঠন এগিয়ে নেওয়ার। সমিতির কল্যাণে কাজ করব৷ আমরা ইশতেহার দিয়ে নির্বাচন করি না, কাজে প্রমাণ দেই। বরাবরের মতো এবারও কাজে প্রমাণ দেব।

নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শাহীন কবির টুটুল বলেন, বিভিন্ন কারণে নির্বাচনে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সাধারণ সদস্যদের অংশ গ্রহণে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। আমরা বিজয়ী হয়েছি। আমি মার্কেটিং-এর লোক। কিভাবে সংগঠন এগিয়ে নিতে হবে সেটা জানি। নিয়মিত কাজগুলো চালিয়ে নেব।

সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন আবুল খায়ের বুলবুল, উপমহাসচিব কবিরুল ইসলাম রানা, কোষাধ্যক্ষ সাইমন তারিক, প্রচার, প্রকাশনা ও দপ্তর সচিব ওয়াজেদ আলী বাবলু, আন্তর্জাতিক ও তথ্যপ্রযুক্তি বন্ধন বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া মুস্তাফিজুর রহমান মানিক।

কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন ছটকু আহমেদ, শাহাদাৎ হোসেন লিটন, পল্লী মালেক, জাকির হোসেন রাজু, বজলুর রাশেদ চৌধুরী, সাঈদুর রহমান সাঈদ, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জয়নাল আবেদীন (জয় সরকার)।

এর আগে কয়েকদফা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।