Home Blog Page 453

১৯৮টি ক্রীড়া স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে: ক্রীড়া পরিষদ

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের ১৯৮টি জাতীয় ক্রীড়া স্থাপনার নাম পরিবর্তন করেছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এসব স্থাপনার মধ্যে বেশিরভাগই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ছিল। সে সব স্থাপনার নাম পরিবর্তন করে জাতীয় বীর ও বিভিন্ন শহীদের স্মৃতিকে স্মরণ করে রাখা হয়েছে। তবে বেশিরভাগ স্থাপনার নামকরণ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ, জেলা বা উপজেলার নামে।

নাম পরিবর্তন হওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু স্থাপনার মধ্যে রয়েছে ঢাকার ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, যার নতুন নাম রাখা হয়েছে শুধু ‘জাতীয় স্টেডিয়াম’। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়াম’। রাজশাহীর কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামের নাম বদলে রাখা হয়েছে ‘রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম’।

এছাড়া, ফতুল্লা স্টেডিয়াম ও সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের নতুন নামকরণ করা হয়েছে জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিয়া গোপের নামে।

চিরচেনা ব্যাটিং ব্যর্থতায় পাকিস্তানের কাছে হারলো বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতা অনেকটা প্রাত্যহিক রুটিনের মতো। এবারও তাঁর ব্যতিক্রম হলো না। বুধবার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করে পাকিস্তান ৭ উইকেটে ২০১ রান সংগ্রহ করে। জবাবে টাইগাররা ১৯ ওভার দুই বলে ১৬৪ রান করে অলআউট হয়।

শুরুতে ফিল্ডিংয়ে নেমে দুর্দান্ত শুরু করে লিটন দাসের দল। প্রথম ওভারে পাকিস্তানের ওপেনার সাঈম আইয়ূবকে শূন্য রানে ফেরান শেখ মাহেদী। দ্বিতীয় ওভারে ফখর জামানকে তুলে নেন শরিফুল ইসলাম। পরে মোহাম্মদ হারিস ও সালমান আঘা ৪৮ রানের জুটি গড়েন। হারিস ফিরে যান ১৮ বলে ৩১ রানের ইনিংস খেলেন। তিনি চারটি চার ও একটি ছক্কা মারেন। অধিনায়ক সালমান আঘা ৩৪ বলে ৫৬ রান করেন। আটটি চার ও একটি ছক্কা মারেন তিনি। ঝড়ো ইনিংস হাসান নওয়াজ। তার ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রান। রান বাড়িয়ে নেয়ার কাজটা শেষে করেন শাদাব খান। তিনি ২৫ বলে ৪৮ রান যোগ করেন। ৫টি চার ও দুটি ছক্কা তোলেন তিনি।

জবাবে নেমে শুরুতে ওপেনার পারভেজ ইমন ৪ রান করে ফিরে যান। অন্য ওপেনার তানজিদ তামিম ভালোর আশা দিয়ে ১৭ বলে ৩১ রান করে আউট হন। তিনি তিনটি ছক্কা ও দুটি চার মারেন। লিটন দাসের ব্যাট থেকে আসে ৩০ বলে ৪৮ রানের ইনিংস। বাংলাদেশ অধিনায়ক তিনটি ছক্কা ও একটি চার মারেন। তিনি ১২ ওভারের শেষ বলে দলের ১০০ রানে আউট হন। তখনও ভালো মতোই ম্যাচে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পরের ব্যাটাররা যাওয়া-আসার মিছিল শুরু করায় অলআউট হতে হয় ফিল সিমন্সের শিষ্যদের। চারে নামা তাওহীদ হৃদয় ২২ বলে ১৭ রান করে আউট হয়ে যান। শামীম হোসেন (৪), রিশাদ হোসেন (৪) পুরোপুরি ব্যর্থ হন। জাকের আলী ২১ বলে তিন ছক্কা ও এক চারে ৩৬ রান করে ফিরলে বড় হার সঙ্গী হয় দলের।

বাংলাদেশের ইনিংস ধসিয়ে দেন দীর্ঘ বিরতি দিয়ে জাতীয় দলে ফেরা পেসার হাসান আলী। তিনি দুই ওপেনার ইমন, তামিমকে ফেরান। জাকের কেও শিকারে পরিণত করেন। ৩.২ ওভারে ৩০ রান দিয়ে ক্যারিয়ার সেরা ৫ উইকেট নেন। শাদাব খান ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট।

বাংলাদেশের হয়ে স্পিনার মাহেদী ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। শরিফুল ৩ ওভারে ৩২ রান খরচা করে ২ উইকেট নেন। হাসান মাহমুদ ৩ ওভারে ২৪ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। ২ ওভারে ২২ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন তানজিম সাকিব। রিশাদ হোসেন ৪ ওভারে ৫৫ রান খরচা করে ১ উইকেট নেন। শামীম পাটোয়ারি ৪ ওভার বল করে ৩১ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট।

‘নকল ঐশ্বরিয়া’ বলে কটাক্ষ, জবাব দিলেন উর্বশী

বছর দুয়েক ধরে কান-এ যাচ্ছেন উর্বশী রাউতেলা।তবে এবার পোশাক বিভ্রাট থেকে শুরু করে সাজ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর এক সমালোচনার শিকার হয়েছেন বলিউড এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি চোখের নীল আইশ্যাডো নিয়ে ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে তার তুলনা করায় এবার সমালোচকদের কড়া জবাব দিলেন উর্বশী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উর্বশী নিজের প্রশংসায় পাল্টা একটি পোস্ট করেছেন ।

পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘তাহলে আমি কোনো ক্যারিশমা ছাড়াই ঐশ্বরিয়া রাই হওয়ার চেষ্টা করছি? ঐশ্বরিয়া সত্যিই আইকনিক। কিন্তু আমি এখানে কারও নকল করতে আসিনি। আমি বরং ওর ব্লু-প্রিন্ট।’

উর্বশী আরও লেখেন, ‘আমি নিজেকে সবার থেকে আলাদাভাবে তুলে ধরতে চেয়েছিলাম। জানি আমি সবার পছন্দের নই। আমি হলাম আতশবাজি-সহ শ্যাম্পেনের মতো। কেউ যদি এটা মাপতে যায়, তাহলে বিপদ।’

তার কথায়, ‘কান আমাকে সবার মধ্যে আলাদা হয়ে ওঠার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। আমিও চেষ্টা করি সেটা সবসময় বজায় রাখার।’ কান উৎসবে এর আগেও বহুবার উর্বশীকে ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

রাজাকারের বেকসুর খালাসকে উদযাপন করে আমাদের ভোট চান?’

সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান। যাকে সব সময় অন্যায়-অবিচারের বিরুধে সোচ্চার দেখা যায়। নিজের গান-কবিতার মাধ্যমে অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে কখনো পিছপা হতে দেখা যায়নি তাকে। শুধু কি তাই রাজপথেও তিনি থাকেন সামনের সারিতে। ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে সায়ানকে দেখা গেছে ফ্রন্ট লাইনেই। এবার নিজের ফেসবুক পোস্টে আরো একবার ক্ষোভ ঝড়ালেন এই গায়িকা।

বুধবার দুপুর ১টায় দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, জামায়াতের সাথে হাত মিলিয়ে কোলাকুলি করে ‘ভোটের রাজনীতি’ করতে গিয়ে এই দেশে কিছুদিন আগেই একটা বড় দলের ত্রাহি মধুসূদন দশা হয়েছিল। আওয়ামী এমন নতুন ধারাবাহিক-গুরুতর পাপকর্ম করেছে দেশের মানুষের বিপক্ষে, যে সেই দলের গুরু-পাপকে ভুলিয়ে দিয়েছে প্রায়। নতুন দল এনসিপি’র সার্জিসরা, হাসনাতরা প্রথম থেকেই তাদের রাজনীতি পরিস্কার করে দিয়েছে। ধন্যবাদ। সেই হিসেবে দেশের মানুষের, আমাদের মতো সাধারণ মানুষের অনেক সুবিধা হলো। দিনের শেষে ভোটেই তো দাঁড়াতে হবে আপনাদের। জামায়াতকে বুকের সাথে আগলে রেখে, রাজাকারের ‘বেকসুর খালাসকে’ উদযাপন করে আপনারা আমাদের ভোট চান? বিবেকবান স্বাভাবিক সাধারণ মানুষের?

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, একাত্তরের পরে জন্মেছি বলে কি জামায়াত চিনি না? আলবদর চিনি না? বীরাঙ্গনার ব্যাথা বুঝি না?? এই দেশের ছোট ছোট বাচ্চারাও, ইতিহাসবিদদের মতন দিন তারিখের রেফারেন্স দিয়ে জামায়াতের জন্ম ইতিহাস বলতে পারবে না হয়তো। কিন্তু জামায়াত কি, তাদের আদর্শ কি, তারা এই দেশের মানুষকে নিয়ে কি করতে চায়, তা আজকে সকালে জন্ম নেয়া বাচ্চটাও কালকে বিকালের মধ্যে শিখে যায়।

এনসিপির সমালোচনা করে সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান লিখেছেন, এনসিপি যে এই জায়গাটা ধরতে পারে নাই, তা তাদের বুদ্ধিমত্তার নির্দেশক। তারা নতুন দেশ গড়ার কথা বলে নিজেদের ভোটের জন্য জামায়াতকে বুকে টেনেছে বলে মনে হয়। আবার তাদের আরেকটি সঞ্চয় হলো ‘আওয়ামী-ঘৃণা’। আজকে দেশে অনেক অন্যায় ঘটছে। তাদের সেসবে হেলদোল নাই। কিন্তু জামায়াত আর আলবদরকে ভালোবাসায় তারা আগুয়ান। ধ ন্যবাদ এই স্বচ্ছতার জন্য।

এ ছাড়া ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও বলেন, আমি প্রতি মুহূর্তে নিজের রাজনীতিকে পরিবর্তন করার পক্ষে। আজকে যাকে ভালো লাগছে, কালকে তাকে ছুড়ে ফেলে দিতে দ্বিধা করি না, মাটির প্রশ্নে। সেই হিসেবে আমার রাজনৈতিক-ঈমান খুব তরল এবং সেটাই আমি চাই। নাহিদরা যখন বুক পেতে দিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল গত জুলাইতে, ওদের জন্য ভালোবাসা ছিল, সমর্থন ছিল। সেদিন সেটাই ছিল আমার রাজনীতি। ওদের সেই মৃত্যুর মুখে দাঁড়ানো, সেটাকে সেই সময়ের সত্যিকারের দেশপ্রেম, আর মানুষ প্রেম, মাটি-প্রেম মনে হয়েছিল। তার জন্য আমি একটুও দু:খিত হবো না কোনোদিন। আমার সেইদিনের সমর্থনের জন্য আমি কোনদিন অনুতপ্ত হবো না। নেভার!

ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান লিখেছেন, কিন্তু গত কয়েক মাসের তাদের অনেক আচরণ, অনেক কিছু দেখতে দেখতে দেখছি, আজকে সেই একই দলের ছেলেমেয়েরা যে আজহারের বেকসুর খালাসকে উদযাপন করলো, আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সমর্থন করলো, (এমন কি লজ্জায় বা কৌশলে চুপ করে থাকলো না, প্রকাশ্যে সমর্থন করলো), আর নাদিরা ইয়াসমিন- এর অন্যায়ভাবে বদলির বিরুদ্ধে একটা কথাও বললো না, এই দেশের একজন মানুষ হিসেবে এটাই আমার আপাতত: রাজনীতি, যে এরপর এই নতুন দলটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আজকে থেকে বর্জন করলাম। এইটুকু করার কথা ভেবেই নিজের অশান্ত মনকে আমি খানিকটা শান্তি দিতে পারছি। আগামী নির্বাচনে আমি এনসিপি, জামায়াত, এই সমমনা দলগুলোকে ভোট নিজে তো দেবই না, এবং মানুষকে অনুরোধ করবো, যেন তারা এই দলগুলো থেকে দূরে থাকেন। একজন একক ব্যক্তি হিসেবে এটাই আমার সাধ্য।

ইংরেজিতে তিনি আরও লিখেছেন, আই উইল নেভার সাপোর্ট এনসিপি (আমি কখনো এনসিপিকে সমর্থন করব না)!

বাংলাদেশে সামরিক ঘাঁটি নিয়ে আমেরিকার দাবি ভিত্তিহীন: চীনা রাষ্ট্রদূত

চীন বাংলাদেশে কোনো সামরিক ঘাঁটি তৈরি করতে চায় না বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। আজ বুধবার এক অনুষ্ঠানে এ ব্যাপারে তিনি বলেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার এমন দাবি ভিত্তিহীন। বেইজিং বন্ধুত্বের সম্পর্ককেই গুরুত্ব দেয় বেশি। অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলছেন, এই প্রতিবেদন নিয়ে কিছুই জানেন না তিনি।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী হুমকি মূল্যায়ন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা। এতে দাবি করা হয়, নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করতে চায় চীন। আরও উল্লেখ্য করা হয়, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডসহ ১৬টি দেশে অবকাঠামো নির্মাণ করতে চায় চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)।

রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এই প্রতিবেদন সম্পর্কে চীনের রাষ্ট্রদূতের কাছে জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, মার্কিন প্রতিবেদনটি সত্য নয়। কোন তথ্যের ভিত্তিতে এটি তৈরি করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইয়াও ওয়েন।

গাজায় তাণ্ডব চলছেই, আরও ২৮ মরদেহ উদ্ধার

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বর্বর হামলায় আরও ২৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে অবরুদ্ধ এই উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা প্রায় ৫৪ হাজার ১০০ জনে পৌঁছেছে। বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, ইসরায়েলের লাগাতার হামলায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪ হাজার ৮৪ জনে পৌছেঁছে বলে বুধবার জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে হামলা শুরুর ৬০০তম দিনে এ তথ্য জানায় তারা।

মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন হাসপাতাল ও মেডিক্যাল সেন্টারে নতুন করে ২৮টি লাশ আনা হয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ১৭৯ জন। সব মিলিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৩০৮ জনে।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, এখনো বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন কিংবা রাস্তায় পড়ে আছেন, যাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না উদ্ধারকারীরা।

গত ১৮ মার্চ ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবারও গাজায় হামলা শুরু করে। তখন থেকে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৯২৪ জন নিহত এবং আরও ১১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এর ফলে চলতি বছরের জানুয়ারিতে হওয়া যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ের চুক্তিটি কার্যত ভেঙে পড়ে।

এর আগে, গত বছরের নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তার তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

এ ছাড়া গাজায় ইসরায়েলের এই যুদ্ধকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলাও চলছে।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কোনো সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকার নেয়নি: খন্দকার মোশাররফ

ভোট বা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কোনো সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকার নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, আমরা এই সরকারকে সমর্থন ও সাহস দিয়ে প্রত্যাশা করেছি- অতি দ্রুত মানুষের নির্বাচনের অধিকার ফিরিয়ে দেবে। কিন্তু ১০ মাস অতিক্রম করছে; আমরা দেখছি জনগণের অধিকারের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ভোটের অধিকার। আর ভোট ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মতো এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার।

আজ বুধবার (২৮ মে) বিকেলে নয়া পল্টনে আয়োজিত তারুণ্যের সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, আমরা বারবার তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি কেন অতি দ্রুত নির্বাচন দরকার। কারণ, সরকার দেশে-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র করছে। নির্বাচনকে বিলম্বিত করার জন্য তারা ষড়যন্ত্র করছে। তা না হলে সংস্কার ও মামলার বিষয়টিকে নির্বাচনের সঙ্গে কেন যুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী টোয়েন্টি-থার্টি ভিশন ঘোষণা করেছে এবং তারেক রহমান ১৯ দফা কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে তুলে ধরছেন। অর্থাৎ আমরা সংস্কার নিয়ে সবসময় চিন্তা করেছি। কিন্তু সকল সংস্কার এককথায় করা যাবে না, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।

বিএনপি নেতা বলেন, আমরা চাই নির্বাচনের সংস্কার অতি দ্রুত শেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। তা না হলে তারুণ্যকে নিয়ে আমরা এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করব। এই ষড়যন্ত্র জনগণকে মোকাবেলা করতে হবে।

এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তিতে নারায়ণগঞ্জে দোয়া মাহফিল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তিতে দোয়া নারায়ণগঞ্জ জেলার উপজেলাসমূহে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ তাদের ক্ষমতার ১৭ বছরে জুলুম নির্যাতন গুম খুন আর অন্যায়ভাবে ফাসি দিয়ে বিরোধী মতকে দমনের যে পৈশাচিক ধারা শুরু করেছিলো তা যেন আর ফিরে না আসে এ জন্য দেশপ্রেমিক জনতাকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

রূপগঞ্জ উপজেলা পশ্চিমের আমীর মাওলানা ফারুক হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ আলী খান, থানা সেক্রেটারি মোহাম্মদ হানিফ ভূঁঞা, থানা কর্ম পরিষদ সদস্য আমজাদ হোসেন,  হাফেজ মহিউদ্দিন, ইসমাইল মিয়া, আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেশকে ভারতের একটি তাবেদার রাজ্যে পরিণত করেছিল। প্রতিবেশী দেশের ইশারায় ক্যাঙ্গারু কোর্ট তৈরি সাজানো মামলায় মিথ্যা সাক্ষ্য আর মিথ্যা বয়ানের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদেরকে হত্যা করেছে। এ টি এম আজহারুল ইসলামকেও তারা হত্যার সব আয়োজন সম্পন্ন করেছিলো কিন্তু আল্লাহর কুদরত তিনি তাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। এ টি এম আজহারুল ইসলামের বেঁচে থাকা তথাকথিত মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মুখোশ উম্মোচনের জন্য প্রয়োজন ছিল। দেশের সর্বোচ্চ আদালত বলেছে যে, ইতঃপূর্বে যে রায়সমূহ দেয়া হয়েছে তা সবই ছিল অন্যায় এবং ন্যায়ভ্রষ্ট।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের যে সকল নেতাদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে, কোনো বিচার ছাড়াই শাহবাগে মব সৃষ্টি করে ফাঁসির আবহ তৈরী করা হয়েছে এ সকল আয়োজনের সাথে যারা জড়িত সকলকে বিচারের আওতায় আনার দাবী জানান। একই সাথে শাহবাগে মব সৃষ্টিকারী লাল রাজনীতির সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার জন্য তিনি দাবী জানান।

অতিভারী বৃষ্টিপাতের আভাস, পাহাড় ধসের শঙ্কা

ঢাকাসহ দেশের ছয় বিভাগে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এক সতর্কবার্তায় সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সময়ে কয়েক জেলায় পাহাড় ধসও হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সতর্কবার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি একই এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। এর প্রভাবে আজ বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মি.মি./২৪ ঘণ্টা) থেকে অতিভারী (১৮৮ মি.মি./২৪ ঘণ্টা) বর্ষণ হতে পারে।

অতিভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলাসমূহের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধ্বসের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে। এছাড়াও ভারী বর্ষণজনিত কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।

অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার: প্রধান উপদেষ্টা

বাংলাদেশ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার জাপানে আয়োজিত নিক্কেই সম্মেলনে দেয়া এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, মানুষের ন্যায়বিচার, সমতা, স্বাধীনতা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করতে এবং গণতন্ত্রে মসৃণ রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সাধারণ নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। একটি অস্থির বিশ্বে জনগণের ক্ষমতায়ন ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃত্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এশিয়া এবং এর বাইরেও একের পর এক সংঘাতের সূত্রপাত হচ্ছে, যার ফলে শান্তি এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অধরা হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন, গাজা ও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশে যুদ্ধ ও মানবসৃষ্ট সংকটে হাজার হাজার মানুষের জীবন ও জীবিকা ধ্বংস হচ্ছে।

ড. ইউনূস আরও বলেন, যুদ্ধে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে, অথচ সেই অর্থের অভাবে লাখ লাখ মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে কিংবা মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে। মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ এক নৃশংস রূপ নিয়েছে এবং সাম্প্রতিক ভূমিকম্প সেই সংকটকে আরও গভীর মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত করেছে।

সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সংঘটিত সীমিত আকারের এক যুদ্ধের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর জন্য উভয় দেশের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, আমরা দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রত্যাশা করি। আন্তঃনির্ভরশীলতাকে দ্বন্দ্বে নয়, সহযোগিতায় রূপান্তর করতে হবে। এশিয়ার দেশগুলোকে শূন্য-সমষ্টিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বদলে ভাগ করে নেয়া সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে হবে।