Home Blog Page 454

৫০ দিনে যেভাবে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিলেন ট্রাম্প

মাত্র ৫০ দিন সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর আগের যে কোনো উত্তরসূরির চেয়ে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নিয়মের ভিতে বেশি নাড়া দিয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয় লাভের পর ৮০ বছরে এ ভিত অনেক কষ্টে গড়ে তোলে যুক্তরাষ্ট্র।

দিক পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিয়ে বা কোনো নৈতিক কৌশল তুলে না ধরেই তিনি ইউক্রেন যুদ্ধে পক্ষাবলম্বন করেন এবং আগ্রাসনকারীকে সমর্থন করেন। তিনি মস্কোকে আগ্রাসনকারী আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘের আনা প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত মিত্রের বিরুদ্ধে গিয়ে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার পক্ষে ভোট দিতে দ্বিধা করেননি।

মঙ্গলবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পানামা খাল, গ্রিনল্যান্ড, গাজা ও সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যেটি– কানাডার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরের মিত্রের (কানাডা) সঙ্গে সীমান্ত মূলত একটি ‘বিভেদের কৃত্রিম রেখা’। ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডার পর তিনি ইউক্রেনে অস্ত্র, এমনকি মার্কিন বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্র পাঠানোও বন্ধ করে দেন।

ট্রাম্প মার্কিন অর্থনীতির জন্য ‘জোঁক’ আখ্যা দিয়ে মিত্রদের ওপর করারোপ করেছেন। সেই সঙ্গে ন্যাটোর আস্থা অত্যন্ত গভীরভাবে নষ্ট করেছেন। এ প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স তাদের পারমাণবিক ছাতা পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে। পোল্যান্ড নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কথা ভাবছে। এ দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্রকে আর চূড়ান্ত সুরক্ষাদাতা মনে করছে না। যখন ন্যাটো চুক্তি হয়, তখন কেন্দ্রে ছিল এ সুরক্ষার বিষয়টি।

বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাবিষয়ক দপ্তর তাদের প্রায় অর্ধেক জনবল ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে। কেন্দ্রীয় সরকারের আকার কমাতে ট্রাম্প প্রশাসন এ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। এ পরিকল্পনার আওতায় শিক্ষা দপ্তরের প্রায় ২ হাজার ১০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের মধ্যে পড়তে পারেন। ট্রাম্প অনেক দিন থেকেই শিক্ষা দপ্তরকে বিলুপ্ত করতে চাইছেন। তবে শিক্ষা দপ্তরকে বিলুপ্ত করতে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে।

বুধবার এনডিটিভি জানায়, শুল্ক নিয়ে আবারও ভারতের সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সম্প্রতি তিনি জানান, মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর কথা দিয়েছে ভারত। এরই মধ্যেই শুল্ক নিয়ে আরেকবার দিল্লিকে নিশানা করেছে ওয়াশিংটন।

কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা প্রত্যাহার

রয়টার্স জানায়, কানাডার ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপ নিয়ে পরস্পরবিরোধী ঘোষণায় আর্থিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার এক ঘোষণায় কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার কথা জানান তিনি। তবে কয়েক ঘণ্টা পরই এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউএসএআইডির নথি ধ্বংসের নির্দেশ

মার্কিন উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির বিপুল নথিপত্র ধ্বংসের আদেশ দিয়েছেন সংস্থাটির এক কর্মকর্তা। মঙ্গলবার আদালতে দায়েরকৃত অভিযোগে এ দাবি তোলা হয়। মার্কিন সরকারি কর্মীদের ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল আদালতে এ অভিযোগ দায়ের করা হয়।

নাসার প্রধান বিজ্ঞানী বরখাস্ত, ছাঁটাইয়ের ইঙ্গিত

বুধবার এএফপি জানায়, নাসা মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে, সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানীসহ আরও কয়েকজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

এ‘সেলফ ডিপোর্টেশন’ অ্যাপ চালু

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে থাকা অভিবাসীদের সম্ভাব্য গ্রেপ্তার ও আটকের মুখোমুখি হওয়ার পরিবর্তে নিজ থেকে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ দিতে একটি অ্যাপ চালু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

টেস্ট ক্রিকেটের দেড় শ’ বছর পূর্তির ঐতিহাসিক ম্যাচ হবে দিবারাত্রির

টেস্ট ক্রিকেটের দেড় শ’ বছর পূর্তিতে ২০২৭ সালে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে দিবারাত্রির টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড।

আজ মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)।

১৮৭৭ সালের ১৫ মার্চ থেকে মেলবোর্নে টেস্ট ইতিহাসের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ওই টেস্টে মুখোমুখি হয়েছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। টেস্টের দেড় শ’ বছর পূর্তিতে ২০২৭ সালের ১১-১৫ মার্চ দিবারাত্রির টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড।

গত মাসের শুরুতে নারীদের অ্যাশেজ দিবারাত্রির টেস্টের পর মেলবোর্নের ভেন্যুতে প্রথমবারের মতো দিবারাত্রির টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে।

সিএ-এর নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ বলেন, ‘এমসিজিতে ১৫০তম বার্ষিকীর টেস্টটি ক্রিকেটের অন্যতম বড় ইভেন্টগুলোর মধ্যে একটি হতে যাচ্ছে। ফ্লাডলাইটের নিচে আমাদের খেলাটার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও টেস্ট ক্রিকেটের আধুনিক রূপে উদযাপনের একটি দুর্দান্ত উপায় হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই মৌসুমে শুরু হতে যাওয়া অ্যাশেজ সিরিজের দু’বছরের মধ্যে ঐতিহাসিক টেস্টের আকর্ষণ অনেকখানি বেড়ে যাবে। ঐতিহাসিক উপলক্ষটি যত এগিয়ে আসছে আমরা সেটি উদযাপনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

এই বছরের নভেম্বরে অ্যাশেজ সিরিজে পাঁচ টেস্টের জন্য ইংল্যান্ডকে আতিথয়েতা দেবে অস্ট্রেলিয়া।

২০২৭ সালে ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ ম্যাচের সিরিজের পর দেড়শ বছর পূর্তির টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে।

১৯৭৭ সালে টেস্ট ক্রিকেটের ১০০ বছর পূর্তিতে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বিশেষ ম্যাচ আয়োজন করা হয়। গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া ৪৫ রানে হারায় টনি গ্রেগের ইংল্যান্ডকে।

সূত্র : বাসস

অপু-বুবলীর ভার্চুয়াল যুদ্ধ

ভার্চ্যুয়াল যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন দুই সতীন আপু ও বুবলী। নায়ক শাকিব খানের সাথে বিয়ের পর ইতোমধ্যে দু’জনই শাকিব বিহীন জীবন যাপন করলেও কয়েকদিন পর পরই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে একে অন্যকে ইঙ্গিত করে খোচা মেরে হানাহানিতে জড়িয়ে পড়েন।

ঢালিউডের আলোচিত-সমালোচিত দুই নায়িকা অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীর এই দ্বন্দ্ব মূলত, শাকিব খানকে কেন্দ্র করে। এই দুই নায়িকার দ্বন্দ্ব চলছে কয়েক বছর ধরে। যদিও শাকিব খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন অপু-বুবলী দুজনেই তাঁর অতীত। দুজনের কারো সাথে তাঁর সম্পর্ক নেই। তবে সন্তানদের কারণে তাদের মায়েদের সাথে মাঝেমধ্যে দেখা–সাক্ষাৎ হয় বাবা শাকিব খানের।

এবারো তাই হয়েছে রোববার সন্ধ্যার পর অপু বিশ্বাসের দেয়া একটি ফেসবুক পোস্ট তেমনই এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এই পোস্টের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিতে চিত্রনায়িকা বুবলীকে খোঁচা দিয়েছেন।

এর আগে শবনম বুবলী ফেসবুকে একটি রিলস ভিডিও পোস্ট করেন। তাতে দেখা যায়, শাকিব-বুবলীর ছেলে শেহজাদ পেনসিল দিয়ে খাতায় মা-বাবার নাম লিখছে। ক্যাপশনে বুবলী লেখেন, ‘বাপজানের প্রথম হাতের লেখা। সবাই দোয়া করবেন আমাদের শেহজাদ বাবার জন্য।’ ছোট্ট শেহজাদের হাতের লেখা দেখে নেটিজেনদের অনেকে প্রশংসাও করছেন।

বুবলীর এমন পোস্টের কয়েক ঘণ্টা পর অপু বিশ্বাস ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন, যাতে লেখা ছিল, ‘এক মা তাঁর মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়া সন্তানের জন্য হাহাকার করে মরছে। আরেক মায়ের আদিখ্যেতা উপচে পড়ছে।’ অপু বিশ্বাসের এমন পোস্টে বক্তব্য তাঁর ভক্তদের কেউ কেউ সমর্থন করে মন্তব্য করেছেন। অনেকে এটিকে ইঙ্গিতপূর্ণ বলছেন।

নেটিজেনদের ভাষ্য, অপু বিশ্বাস তাঁর দেয়া ফেসবুক পোস্টে দুজন মায়ের কথা বলেছেন। একজন মাগুরায় ধর্ষণের শিকার শিশুকন্যাটির মা, অন্যজন শেহজাদের মা (বুবলী)। ধর্ষণের শিকার শিশুটি এখনো লাইফ সাপোর্টে, এ নিয়ে প্রতিবাদে সোচ্চার সারা দেশ। আর এই পরিস্থিতিতে বুবলী তাঁর ছেলের ভিডিও পোস্ট করেছেন—এটিকে অপু বিশ্বাস ‘আদিখ্যেতা’ বলেছেন।’

দুই নায়িকার ঘনিষ্ঠজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হঠাৎ করে বুবলীর এমন রিলস ভিডিও পোস্ট করার পেছনেও একটি কারণ আছে। কারণ হিসেবে জানা গেছে, অপু বিশ্বাসের একটি সংবাদ রোববার সকালে প্রকাশিত হয়, যেখানে তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে শাকিবই হচ্ছে শাহরুখ খান। অপুর ঘনিষ্ঠজনদের মতে, শাকিব খানও যে বুবলীর অনেক বেশি আপন, তা কৌশলে বোঝাতে সন্তানকে নিয়ে তেমন একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন।

ঈদে মুক্তি পাচ্ছে শাকিব খানের ‘বরবাদ’। এই ছবির টিজার প্রকাশিত হয়েছে। ছবির টিজার দেখার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে অপু বলেছেন, ‘ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে দেখার ইচ্ছা আছে। সিনেমাটির টিজার দুর্দান্ত লেগেছে। দেখার পর ফেসবুক পেজ থেকে আমিই প্রথম শেয়ার করেছি।’

ধর্ষণের প্রতিবাদে রাস্তায় শিল্পীরা

দেশে পর পর কয়েকটি স্থানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তবে মাগুরা জেলায় ৮ বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় পুরো দেশের মানুষ নির্বাক হয়ে গেছে। সবাই ন্যক্কারজনক এ ঘটনায় প্রতিবাদ মুখর। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অপরাধীদের শাস্তি চেয়ে আজ (১০ মার্চ) বিকেলে এফডিসি’তে মানববন্ধন করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্যরা।

শিল্পী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে দেশের ঘটে যাওয়া সব ধর্ষণ ও নারীদের প্রতি সহিংসতার মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানিয়েছেন শিল্পীরা।

মানববন্ধনে সবার প্রতি একটি বার্তা তুলে ধরেছেন সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই অবগত যে কী হয়েছে? কী ঘটেছে? এবং আমরা সবাই এই ব্যাপারে সোচ্চার যে আমরা কী করতে চাই, কী বলতে চাই। ওই চাওয়া-পাওয়ার মাঝখান থেকে আজ আবেগের বহিঃপ্রকাশ। আমরা কী চাই? আমরা চাই শিশু ধর্ষণসহ সকল ধর্ষণ ও নারীদের প্রতি সহিংসতার মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হোক।’

মিশা সওদাগর আরো বলেন, ‘অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক; যাতে অন্যরা এই ধরনের অপরাধ করার আগে একবার না, দশবার ভাবে। একইসাথে প্রমাণ সংগ্রহ ও তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরো শক্তিশালী করতে হবে, যাতে অপরাধীরা কোনোভাবেই রেহাই না পায়।’

সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মিশা আরো বলেন, ‘শুধু কঠোর শাস্তিই যথেষ্ট নয়, সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করাও অপরিহার্য বলে আমরা মনে করি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজকে একসাথে কাজ করতে হবে, যাতে শিশুরা নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে।’

বিএফডিসি’তে অনুষ্ঠিত ধর্ষণবিরোধী প্রতিবাদ সমাবেশে মিশা সওদাগর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রোজিনা, ডিএ তায়েব, রুমানা ইসলাম ও শিপন মিত্র, জয় চৌধুরী, মুক্তি প্রমুখ।

গত বুধবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাতে মাগুরার শহরের বোনের বাড়ি বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছর বয়সী সেই শিশু। শিশুটি এখন ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বিশ্বের ২০ দূষিত শহরের মধ্যে ১৩টিই ভারতে

বিশ্বের শীর্ষ ২০টি দূষিত শহরের মধ্যে ১৩টিই ভারতে অবস্থিত। এর মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের বাইরনিহাট তালিকাটির শীর্ষে রয়েছে। এছাড়াও বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত রাজধানীর তালিকায় ভারদের রাজধানী নয়াদিল্লির নাম সবার উপরে রয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা আইকিউএয়ারের একটি নতুন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সুইস বায়ুমানের প্রযুক্তি সংস্থা আইকিউএয়ারের ২০২৪ সালের বিশ্ব বায়ুমানের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লি বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে দূষিত রাজধানী হিসেবে রয়ে গেছে। এছাড়াও ভারত ২০২৪ সালে বিশ্বের পঞ্চম সর্বাধিক দূষিত দেশ হিসেবে স্থান পেয়েছে। যদিও ২০২৩ সালে তালিকায় ভারতের অবস্থান ছিল তৃতীয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ভারতে বায়ুবাহিত কণা পিএম ২.৫-এর ঘনত্ব সাত শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ঘনমিটারে ৫০.৬ মাইক্রোগ্রাম হ্রাস পেয়েছে, যেখানে ২০২৩ সালে প্রতি ঘনমিটারে ৫৪.৪ মাইক্রোগ্রাম ছিল। তবুও বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দূষিত শহরের মধ্যে ছয়টিই ভারতের।

তালিকায় ভারতের ওই ১৩টি দূষিত শহরের মধ্যে রয়েছে বাইরনিহাট, দিল্লি, মুল্লানপুর (পাঞ্জাব), ফরিদাবাদ, লোনি, নয়াদিল্লি, গুরুগ্রাম, গঙ্গানগর, গ্রেটার নয়ডা, ভিওয়াদি, মুজাফফরনগর, হনুমানগড় ও নয়ডা।

ভারতে বায়ু দূষণকে এখনো একটি গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি হিসেবে মনে করা হয়। এর কারণে ভারতীয়দের গড় আয়ু আনুমানিক ৫.২ বছর কমে যাচ্ছে।

গত বছর প্রকাশিত ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথের এক গবেষণা অনুসারে, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ভারতে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ মৃত্যুর ঘটনা পিএম ২.৫ দূষণের দীর্ঘমেয়াদী সংস্পর্শের সাথে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।

পিএম ২.৫ বলতে ২.৫ মাইক্রনের চেয়ে ছোট ক্ষুদ্র বায়ু দূষণকারী কণাকে বোঝায়, যা ফুসফুস ও রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে। এর উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে যানবাহনের কালো ধোঁয়া নির্গমন, বর্জ্য শিল্প নির্গমন ও কাঠ বা ফসলের বর্জ্য পোড়ানো।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক প্রধান বিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৌম্য স্বামীনাথন জানান, ভারত বায়ু মানের তথ্য সংগ্রহে অগ্রগতি করেছে কিন্তু পর্যাপ্ত পদক্ষেপের অভাব রয়েছে।

তিনি ভারতীয় বার্তাংস্থা পিটিআইকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। এখন আমাদের পদক্ষেপ নেয়া দরকার। কিছু সমাধান সহজ, যেমন জৈবিকভরকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস দিয়ে প্রতিস্থাপন করা। ভারত ইতোমধ্যেই এর জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। তবে আমাদের অতিরিক্ত সিলিন্ডারে আরো ভর্তুকি দিতে হবে। প্রথম সিলিন্ডারটি বিনামূল্যে দেয়া হবে। তবে দরিদ্র পরিবারগুলো, বিশেষ করে মহিলাদের, আরো বেশি ভর্তুকি পাওয়া উচিত। এটি তাদের স্বাস্থ্যের উন্নতি করবে ও বাইরের বায়ু দূষণ কমাবে।’

শহরগুলোতে গণপরিবহন সম্প্রসারণ ও নির্দিষ্ট গাড়ির ওপর জরিমানা আরোপ সাহায্য করতে পারে। তিনি বলেন, ‘প্রণোদনা ও জরিমানার মিশ্রণ প্রয়োজন।’

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের এই সাবেক মহাপরিচালক বলেন, ‘নির্গমন আইনের কঠোর প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প ও নির্মাণ স্থানগুলোকে শর্টকাট না নিয়ে নির্গমন কমাতে নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং সরঞ্জাম স্থাপন করতে হবে।

সূত্র : এনডিটিভি

পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা

পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত কেকে এহসান ওয়াগানকে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। জিও টিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ওয়াগান তুর্কমেনিস্তানে নিযুক্ত পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত। এর আগে তিনি পাকিস্তানের ফরেন সার্ভিসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে পাকিস্তান কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেলও ছিলেন। সম্প্রতি অবসর যাপনের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। তখন এই ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াগানের বৈধ ভিসাসহ প্রয়োজনীয় সব আইনি কাগজপত্র সাথে ছিল। তথাপি মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তারা তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেননি।

এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়া হয়নি।

সূত্র : গালফ নিউজ

রাশিয়ায় ড্রোন হামলা পুতিনকে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে প্রভাবিত করবে : কিয়েভ

ইউক্রেন মঙ্গলবার বলেছে, রাতের বেলা মস্কোতে তাদের ড্রোন হামলা, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে কিয়েভের প্রস্তাবিত আকাশপথে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে প্রভাবিত করবে।

কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অধীনস্থ সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিসইনফরমেশনের প্রধান আন্দ্রি কোভালেঙ্কো বলেন, ‘মস্কো ও এর আশপাশের অঞ্চলে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এটি পুতিনের জন্য একটি বাড়তি সঙ্কেত যে তার আকাশপথে যুদ্ধবিরতিতেও আগ্রহী হওয়া উচিত।’

সূত্র : এএফপি/বাসস

জনগণের সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে : তারেক রহমান

জনগণের সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমরা জনগণকে ঘিরে রাজনীতি করি। সুতরাং আজকে দেশের মানুষ দ্রবমূল্য নিয়ে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে। তো রাজনীতিকরা কেন এসব বিষয়ে বেশি বেশি ডিবেট করছে না। যে কিভাবে বাজার ব্যবস্থাপনা সাজাবো? উৎপাদন কিভাবে বাড়ানো হবে? কেন এসব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। জাতির সামনে এসব নিয়েও কথা বলা উচিৎ।

মঙ্গলবার ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনপডিএম) -এর ইফতার মাহফিলে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে। কিন্তু আমরা গণতন্ত্র ও একটি মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সবাই ঐকমত্য। যেখানে মানুষের কথা বলার অধিকার থাকবে।

তিনি বলেন, দেশের বহুল আলোচিত বিষয় হচ্ছে সংস্কার। বিশেষ করে আমরা ছোট, বড়, মাঝারি সব রাজনৈতিক দল মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও একটি সুন্দর পরিবেশের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। প্রায় সকল দল মিলে জাতির সামনে আড়াই বছর আগে ৩১ দফা প্রণয়ন করেছি। যখন অনেকেই সংস্কারের কথা বলেননি। আমরা স্বৈরাচারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে সংস্কারের কথা বলেছি। আজকে অনেকেই অনেক কথা বলছেন সংস্কার নিয়ে। আমরা স্বাগত জানাই। তবে রাজনীতির মূল লক্ষ্য হলো জনগণ ও দেশ। অবশ্যই সংস্কারের প্রয়োজন আছে। এসব নিয়ে আলোচনা থাকবেই। বাংলাদেশে এক কক্ষ বিশিষ্ট সংসদের পরিবর্তে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট হলে কী কী হবে এসব নিয়ে আলোচনা আছে। একজন ব্যক্তি দু’বারের বেশি প্রধানমন্ত্রী নিয়ে কথা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়ে কথা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আজকে দ্রবমূল্য নিয়ে দেশের অধিকাংশ মানুষ কষ্ট-যন্ত্রণায় রয়েছে। শুধু সংস্কার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসব নিয়ে আলোচনা হলেই চলবে না।

তারেক রহমান বলেন, প্রায় ২০ কোটি মানুষের দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থা কী হবে? বাজার ব্যবস্থা কী হবে? এসব নিয়ে কথা বলার নামও তো সংস্কার। শুধু নির্বাচনের সময় জাতীয় বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কথা বললেই কী সংস্কার? যাতে মানুষ মিনিমাম চিকিৎসা সুবিধা পায় সেটিও ভাবতে হবে। ভবিষ্যত প্রজন্মকে সঠিক শিক্ষা দিতে হলে একটি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে। এ বিষয়েও ডিবেট বা কর্মপরিকল্পনা থাকা উচিৎ প্রত্যেকটি দলের। শিক্ষা ব্যবস্থাকে কিভাবে দেখতে চাই। সেটিও সংস্কারের অংশ।

তারেক রহমান বলেন, আমি বহু বছর ধরে দেশের বাইরে। ঢাকা শহরসহ সারাদেশে পরিবেশ দূষণ তীব্রতর হচ্ছে। পরিবেশ হুমকির সম্মুখীন। আমরা কী রাজনৈতিক দলগুলো এসব নিয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারি না? কিভাবে উন্নতি ঘটাতে পারি? দূষণ কমাতে পারি। আমি তো মনে এই দূষণ কমানোও সংস্কারের অংশ। কারণ লাখ লাখ মানুষ দূষণের কারণে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। দেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষা করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারে।

এনডিএম’র চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো অংশ নেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ, বিভিন্ন রাজনৈদিক দলের নেতা, কূটনীতিক এবং পেশাজীবী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

একই সাথে আইনসভা ও গণপরিষদ নির্বাচন সম্ভব

জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ বিলোপের পাশাপাশি নতুন সংবিধান প্রণয়নে আগামী নির্বাচনে একই সাথে আইনসভা ও গণপরিষদ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনীতিবিদ, ছাত্র-শ্রমিক, পেশাজীবী, অ্যাক্টিভিস্ট, ওলামায়ে কেরাম ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সম্মানে মঙ্গলবার (১১ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ইফতার পার্টিতে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ বলেন, ‘আমাদের মধ্যে নানা বিষয়ে মতপার্থক্য হতে পারে, তর্কবিতর্ক হতে পারে, নীতিগত বিরোধ হতে পারে, কিন্তু গণতান্ত্রিক সম্পর্ক, সংলাপ ও পারস্পারিক মিথস্ক্রিয়ায় এসব কারণে যেন কোনো ছেদ না পড়ে।’

বাংলাদেশবিরোধী শক্তিরা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের বিপদ এখনো কাটেনি উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘নীতিগত বিরোধ থাকলেও ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবেলায় ঐক্য ধরে রাখতে হবে। এনসিপি বাংলাদেশের শাসন-কাঠামোর গুণগত ও মৌলিক পরিবর্তন চায়। তাই আমরা একটি নতুন সংবিধানের মাধ্যমে একটি নতুন রিপাবলিকের কথা বলছি।’

বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ বলেন, ‘সামনের নির্বাচনে একই সাথে আইনসভা ও গণপরিষদ নির্বাচন সম্ভব। এতে করে একদিকে নতুন সংবিধান কায়েম হবে, অন্যদিকে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় নতুন পথের উত্তরণ ঘটবে।’

সরকার সংস্কার ও নির্বাচনের জন্য যে সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে, সেই সময়ের মধ্যেই এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব বলে জানান তিনি। বলেন, ‘সংবিধান সংস্কারের পাশাপাশি জনপ্রশাসন ও পুলিশ সংস্কারের প্রস্তাবগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ জারি করে সম্পন্ন করা উচিত।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনের আগে অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হতে হবে। সরকারের একার পক্ষে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সবার সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন।’

এছাড়া নির্বাচনের সময়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও গণমাধ্যমের নিরপেক্ষ আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে প্রত্যাখ্যান করে রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনার ওপর জোর দেন এনসিপির আহ্বায়ক। বলেন, ‘জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত করতে হবে এবং বিচারের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের ব্যাপারে রাজনৈতিক ফয়সালার পথে হাঁটতে হবে।’

সূত্র : ইউএনবি

হাসিনার সম্মেলনে কোন কোন ব্যবসায়ী ছিলেন তা প্রকাশের দাবি, মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, গত ১৭ বছরে অবৈধভাবে যেসব ব্যবসায়ীরা টাকা কামিয়েছেন তারা দেশ ধ্বংস করতেই সেই টাকা খরচ করছেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সফলতার শেষ মুহূর্তে গত বছরের ৩ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সাথে ব্যবসায়ী সম্মেলনে কোন কোন ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করার আহ্বান জানান তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে একটি রেস্টুরেন্টে গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত ইফতার পার্টিতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, এসব ব্যবসায়ীদের অনেকের নামে হত্যামামলা থাকলেও কেন তারা গ্রেফতার হচ্ছেন না। শুধু ব্যবসায়ী নয়, সচিবালয়ে খবর নেন। সেখানে আওয়ামী লীগের দোসররা এখনো অবস্থান নিয়ে আছেন। তাদের অনেকেই এখনো আওয়ামী লীগের পক্ষেই কাজ করার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের অবদানকে খাটো করে দেখার সুযোগ নাই। সংবাদিকবিহীন কোনো জাতি-রাষ্ট্র আছে বলে আমি মনে করি না। সাংবাদিকবিহীন কোনো রাষ্ট্র যদি থাকে অবশ্যই সেটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অবশ্যই স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য একটি প্লাটফর্ম থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, আমরা যেন নতুন বাংলাদেশ গড়তে গিয়ে নতুন করে কোনো ভুল না করি। ছাত্র এবং পাশাপাশি জনতার যে অভ্যুত্থান সেটির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ঠিক রেখেই আমাদের চলতে হবে।

তিনি বলেন, এখনো কেন সাংবাদিকতার বিকাশে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল করা হয়নি। সাবেক একজন তথ্যমন্ত্রী হিসেবেও আমি আপনাদের মাধ্যমে সরকারকে জিজ্ঞাসা করতে চাই এ আইন কার স্বার্থে এখনো বলবৎ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, দলের কঠিন দুঃসময়ে সাংবাদিকরা ছিলেন আমাদের অন্যতম ভরসা। সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জাতি জানতে পেরেছে। আগামীতেও সবসময় সাংবাদিকদের সহযোগিতা বিএনপি পাবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

‘আমরা বিএনপি পরিবার’র আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে ইফতার পার্টিতে আরো উপস্থিত ছিলেন মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব ও দলের যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, মিডিয়ার সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ আলমগীর পাভেল ও বিএনপি নেত্রী শাম্মী আক্তার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম রনি।