Home Blog Page 455

এটা যুদ্ধ নয়, মুনাফার খেলা: নচিকেতা

জীবনমুখী গানের শিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর সুরে ফুটে উঠেছে ফুটপাতের বাস্তবতা, মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েন এবং সামাজিক অসঙ্গতির বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ। তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে যুদ্ধবিরোধী বার্তাও। সেই গানেই আশার বাণী শুনিয়েছেন তিনি-‘একদিন ঝড় থেমে যাবে, পৃথিবী আবার শান্ত হবে।’

সম্প্রতি কাশ্মিরে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর জবাবে মঙ্গলবার (৬ মে) দিবাগত রাতে পাকিস্তান ও আজাদ কাশ্মিরের ৯টি স্থানে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ভারত, যাকে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে অভিহিত করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

এই প্রেক্ষাপটে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গায়ক নচিকেতা। ভারতীয় এক পত্রিকায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এ সংগীতশিল্পী। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ নিয়ে আমি আতঙ্কিত একটা কারণেই-সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ মানুষ। আপনি-আমি।’

নচিকেতা বরাবরই স্পষ্টভাষী। তাঁর মতে, ‘‘পৃথিবীতে যত যুদ্ধ হয়েছে, সবকিছুর পেছনেই বাণিজ্যিক স্বার্থ লুকিয়ে থাকে। সব যুদ্ধই ‘স্পনসর’ করা হয়! আমি সেটা প্রমাণ করতেও পারি।”

যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মুনাফাবাজির প্রসঙ্গ টেনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি উদাহরণ তুলে ধরেন নচিকেতা। তিনি বলেন, ‘রকফেলারদের তেল প্রস্তুতকারী সংস্থা সেই সময় জার্মানি ও ইতালি-উভয় দেশকেই পেট্রোল সরবরাহ করেছিল। এ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে-কারও মতে এটি ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, আবার কারও মতে কেবলই ব্যবসা।’

গায়কের উপলব্ধি, ইতিহাস ঘাঁটলেই দেখা যায়, যুদ্ধ আসলে মুনাফার খেলা। আর কারা এই মুনাফা পায়-তা বুদ্ধিমানদের বুঝে নিতে কষ্ট হয় না।

অপারেশন সিঁদুরে বলিউড তারকাদের সমর্থন

পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় পর্যটকসহ ২৬ জন নিহতের ঘটনায় ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব শুরু হয়। দুই দেশ একে অপরকে দোষারোপ করে ভঙ্গ করে বিভিন্ন চুক্তি। জম্মু-কাশ্মীরে এ ঘটনার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার মধ্যরাত পাকিস্তান সীমান্তে সামরিক ঘাঁটি ধ্বংসের পদক্ষেপ নেয় ভারত সেনাবাহিনী।

‘অপারেশেন সিঁদুর’ নামের মিশনে পাকিস্তানের ৯ টি সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তানের আইএসপিআরের মতে ২৬ জন নিহত হয়েছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই হামলায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেছেন বলিউড তারকারা। পরেশ রাওয়াল, রিতেশ দেশমুখ, নিমরত কৌর, সুনীল শেঠি, অনুপম খের সহ আরও কিছু তারকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন।

অপারেশন সিঁদুর-এর হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে রিতেশ লেখেন, ‘হিন্দ সেনাদের জয়, ভারত মায়ের জয়।’ পরিচালক মধুর ভাণ্ডারকর লেখেন, আমাদের বাহিনীর জন্য প্রার্থনা করছি। এক জাতি, আমরা সবাই তোমার পক্ষে। জয় হিন্দ, বন্দে মাতারাম।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ প্রবীণ অভিনেতা অনুপম খের লিখেছেন, ‘ভারত মাতার জয় অপারেশন সিঁদুর।’

নিমরত কৌর লিখেছেন, আমরা সেনাবাহিনীর পাশে আছি। এক দেশ, এক মিশন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন প্রবীণ অভিনেতা পরেশ রাওয়াল। তিনি কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেননি।

ভারতীয় গণমাধ্যমে পাওয়া সূত্রমতে, পেহেলগাম হামলার প্রতিবাদে এটি কেবল ভারতের প্রথম পদক্ষেপ। পরবর্তীতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরছেন খালেদা জিয়া, উজ্জীবিত বিএনপি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন বলে মনে করছেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা। উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফর শেষে দেশে ফেরার পর, তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দলের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (৬ মে) উন্নত চিকিৎসা শেষে লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন খালেদা জিয়া। গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ফেরার সময় তাকে হেঁটে প্রবেশ করতে দেখা যায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, লন্ডনে চার মাস পরিবারের সদস্যদের সান্নিধ্যে থাকায় তিনি শারীরিকভাবে এবং মানসিকভাবে আগের চেয়ে সুস্থ বোধ করছেন।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি ও পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছেন। তারা আশা করছেন, বিএনপি প্রধান এবার রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র সংকটে রয়েছে। গণতন্ত্র ফেরাতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব প্রয়োজন। তিনি গণতন্ত্রের অগ্রদূত। বর্তমান পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব অপরিহার্য।”

দলের নেতারা মনে করেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপিকে পথ দেখাবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “দলের বিভিন্ন দিবস ও অনুষ্ঠানে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে না পারলেও, তার শারীরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে তিনি অবশ্যই আমাদের নেতৃত্ব দেবেন। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, গণতন্ত্র উত্তরণ এবং গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় তিনি সবসময় আমাদের নেতৃত্বে থাকবেন।”

বিএনপির নেতারা মনে করেন, সভা-সমাবেশে খালেদা জিয়ার উপস্থিতি নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করবে। তবে, সবকিছুই নির্ভর করছে তার শারীরিক সুস্থতার ওপর।

হাসপাতাল থেকে মাকে বাসায় নিলেন জোবাইদা রহমান

বাবার কবর জিয়ারত এবং সন্ধ্যায় স্কয়ার হাসপাতাল থেকে মাকে নিয়ে ধানমন্ডির বাসা ‘মাহবুব ভবনে’ গেলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডা. জোবাইদা রহমান।

বুধবার বিকেলে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে বেরিয়ে প্রথমে যান বনানীর সামরিক কবরস্থানে সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল মাহবুব আলী খানের কবরে। সেখানে মহিলাদের জন্য নামাজের নির্ধারিত স্থানে আসরের নামাজ আদায় করে বাবার কবর জিয়ারত করেন জোবাইদা। সঙ্গে ছিলেন আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান।

এরপর তিনি ধানমন্ডিতে স্কয়ার হাসপাতালে যান মা ইকবাল মান্দ বানুর কাছে। সেখানে বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ও তার সহধর্মিণীকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। সন্ধ্যার পর চিকিৎসকদের ছাড়পত্র পেয়ে মাকে নিয়ে ধানমন্ডির বাসায় আসেন জোবাইদা।

এ সময়ে বিএনপির নাসির উদ্দিন অসীম ও তার স্ত্রী মেহনাজ মান্নান, আবদুল লতিফ জনি ও তার স্ত্রী, নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন, বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নেতারা জানান, সন্ধ্যায় চিকিৎসকরা উনার(ইকবাল মান্দ বানু) ছাড়পত্র প্রদান করলে বড় মেয়ে শাহীনা জামান এবং ছোট মেয়ে (জোবাইদা রহমান) সাথে মাহবুব ভবনের বাসায় আসেন তিনি। এই সময়ে সৈয়দা শামিলা রহমানও ছিলেন।

মঙ্গলবার লন্ডন থেকে শাশুড়ি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে ঢাকা আসেন জোবাইদা রহমান এবং আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান। গুলশানে ফিরোজায় শাশুড়ির সাথেই থাকছেন তারা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অসুস্থ মাকে দেখতে স্কয়ার হাসপাতালে যান জোবাইদা। সেখানে মায়ের সাথে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ছিলেন তিনি। পরে মাহবুব ভবনেও কিছু সময় কাটিয়ে আবার ফিরে যান ফিরোজায়।

ভারতের হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানের জবাব

পেহেলগামে হামলা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের ছয়টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার গভীর রাতে এ হামলায় ৩১ জন নিহত ও ৫৭ জন আহত হয়েছে। জবাবে রাতেই স্বল্প পরিসরে পাল্টা হামলা চালায় পাকিস্তান। এতে ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ৪৩ জন আহত হয় বলে জানায় ভারতের সেনাবাহিনী।

ইসলামাবাদের দাবি, তারা হামলায় অংশ নেওয়া ভারতের পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। এ ছাড়া কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি ব্রিগেডের সদরদপ্তর ও তল্লাশিচৌকি গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, ২৫ মিনিট ধরে চলেছে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে অভিযান। পাকিস্তানের ছয় স্থানে সব মিলিয়ে ২৫টি আঘাত হানে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র। এতে প্রাণ গেছে ‘৭০ সন্ত্রাসীর’। এই ছয় স্থান হলো– পাঞ্জাবের শিয়ালকোট, ভাওয়ালপুর ও মুরিদকে, আজাদ কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফফরাবাদ, বাগ ও কোটলি শহর। ভারতের সেনাবাহিনী বলছে, তারা কোনো সামরিক বাহিনীর স্থাপনায় হামলা চালায়নি। পাকিস্তানের জিও নিউজ জানায়, ভারতের হামলায় নিলম-ঝিলাম হাইড্রো পাওয়ার প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে জাতিসংঘের একটি দল।

ইসলামাবাদে ভারতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে পাকিস্তান প্রতিবাদ জানিয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভারত আগ্রাসন চালিয়েছে; পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে। এটি জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন। বিনা উস্কানিতে এ হামলা হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে পাল্টা হামলার অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার সামরিক বাহিনীকে ভারতের হামলার জবাব দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ ও ‘যুদ্ধের কাজ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো উস্কানি ছাড়া ভারতের এ হামলার সুনির্দিষ্ট জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার পাকিস্তানের আছে; উপযুক্ত জবাব দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের প্রতি ফোঁটা রক্তের বদলা নেওয়া হবে।

এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিএনএন জানায়, তিনি ভারতের হামলাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। উত্তেজনা নিরসনে ভারত ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। পাকিস্তানে হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। চীন বলেছে, ভারতের সামরিক পদক্ষেপ হতাশাজনক; চলমান পরিস্থিতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, জাপান, রাশিয়া, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করে উভয় পক্ষকে সংযত থাকতে বলেছে।

বুধবার ভারতজুড়ে বেসামরিক প্রতিরক্ষা মহড়া শুরুর আগে পাকিস্তানে এ হামলা হলো। এ ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কা করে আসছিল ইসলামাবাদ। হামলায় পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে (আজাদ কাশ্মীর) মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাঞ্জাবেও একটি মসজিদে হামলা হয়। দিল্লি বলছে, জঙ্গিদের অবস্থান লক্ষ্য করে আক্রমণ হয়েছে। ভারতে এ হামলার উদযাপন হলেও পাকিস্তানে বিক্ষোভ করে বিপুলসংখ্যক মানুষ। ইসলামাবাদের রাস্তায় গাড়িতে ট্যাঙ্ক বহনের দৃশ্য দেখা গেছে।
গত ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বন্দুকধারীর গুলিতে ২৬ পর্যটক নিহত হন। এ ঘটনায় ইসলামাবাদ জড়িত বলে অভিযোগ করে নয়াদিল্লি। ইসলামাবাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। হামলার জেরে সিন্ধুর পানিচুক্তি স্থগিত, আকাশসীমা বন্ধ রাখাসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয় ভারত। এবার তারা পাকিস্তানে হামলা চালাল। এর আগে ২০১৬ সালে আজাদ কাশ্মীরে সীমিত পরিসরে বিমান হামলা চালিয়েছিল ভারত।

ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই জানায়, ভাওয়ালপুরে পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী জইশ-ই-মুহাম্মদের প্রধান কার্যালয়, মুরিদকে শহরে পাকিস্তানভিত্তিক আরেক সশস্ত্র গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়্যেবার প্রধান কার্যালয়সহ বিভিন্ন আস্তানায় হামলা চালিয়েছে নয়াদিল্লি। এর আগে পেহেলগামে হামলার দায় স্বীকার করে দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট বা টিআরএফ নামের সংগঠন। ধারণা করা হয়, এটি লস্কর-ই-তৈয়্যেবার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

হামলা প্রসঙ্গে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী মঙ্গলবার গভীর রাতে গণমাধ্যমে বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে কাপুরুষ শত্রু ভারত ভাওয়ালপুরের আহমেদ ইস্ট এলাকার সুবহান মসজিদ, কোটলি ও মুজাফফরাবাদের অন্তত তিন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে।’ পরে অন্য এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হওয়ার কথাও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়। তিনি জানান, ভারতের আকাশসীমা থেকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, এর জবাব দিচ্ছে সামরিক বাহিনী। ভারত ‘আগুন নিয়ে খেলছে’ বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানি খার।

হামলায় পাকিস্তানের সশস্ত্র সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদের শীর্ষ নেতা মাসুদ আজহারের পরিবারের ১০ সদস্য নিহত হয়েছেন। প্রাণ গেছে তাঁর বড় বোন, শ্যালক, ভাগিনা-ভাগিনির। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে মাসুদ আজহার জানান, নিরপরাধ শিশু, অবিবাহিত নারী ও বয়স্কদের টার্গেট করা হয়েছে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পিটিভিতে ভারতের পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার কথা জানান। পরে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখায় ধুনদিয়াল সেক্টরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি ব্রিগেডের সদরদপ্তর গুঁড়িয়ে দিয়েছে। রয়টার্স জানায়, ভূপাতিত পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমানের মধ্যে তিনটি রাফায়েল, একটি রাশিয়ান এসইউ-৩০ ও আরেকটি মিগ-২৯। ভারত তিনটি বিমান ভূপাতিত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। এটি কয়েক দশকের মধ্যে ভারতের সামরিক বাহিনীর জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি।

ভারতের হামলা নিয়ে বুধবার ভোরে ব্রিফ করেন পাকিস্তানের আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী। তিনি জানান, পাকিস্তানে হামলায় ভারত বিভিন্ন সমরাস্ত্র ব্যবহার করেছে। আজাদ কাশ্মীরের ভাওয়ালপুরের আহমেদপুর ইস্টের সুবহান মসজিদে হামলা হয়েছে। সেখানে চারটি হামলা করা হয়। এতে পাঁচ পাকিস্তানি নিহত হন। নিহতদের মধ্যে তিন বছরের এক কন্যাশিশু রয়েছে। আহত হন ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক। আজাদ কাশ্মীরের মুজাফফরাবাদের বিলাল মসজিদে হামলা হয়েছে জানিয়ে আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, সেখানে সাত দফায় হামলা হয়। এতে একটি মসজিদ ধ্বংস ও এক কন্যাশিশু আহত হয়।

তিনি জানান, এ অঞ্চলের আরেক শহর কোটলির আব্বাত মসজিদে হামলা হয়েছে। সেখানে পাঁচটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দু’জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১৬ বছরের এক কিশোরী ও ১৮ বছরের এক তরুণ রয়েছে। এক নারী ও তাঁর শিশুকন্যা আহত হয়েছে। পাকিস্তানের আইএসপিআরের মহাপরিচালক জানান, পাঞ্জাবের মুরিদক শহরের উমালকুরা মসজিদে চার দফা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। সেখানে একজন নিহত এবং আরেকজন আহত হন। এ জায়গায় দুই ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

পাঞ্জাব প্রদেশের আরেক জেলা শিয়ালকোটের কোটকি লোহারা গ্রামে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। একটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট ও আরেকটি খোলা মাঠে পড়ে। তাতে কেউ হতাহত হয়নি। এ অঞ্চলের শাখারগড়ে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তবে একটি ওষুধের দোকানে সামান্য ক্ষতি হয়েছে।

আজাদ কাশ্মীরের মুজাফফরাবাদের বিলাল মসজিদে হামলা প্রসঙ্গে স্থানীয় মোহাম্মদ ওয়াহিদ বলেন, ‘প্রথম বিস্ফোরণে আমার বাড়িটা কেঁপে ওঠে। দৌড়ে রাস্তায় বের হই। সেখানে দেখি অন্যরাও জড়ো হয়েছে। আমরা তখনও বুঝে উঠতে পারিনি কী হচ্ছে। এর মধ্যেই আরও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।’ তিনি জানান, ডজনখানেক মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওয়াহিদ জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছিলেন। কিন্তু তিনি বুঝে উঠতে পারছিলেন না, মসজিদকে কেন হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হলো। তিনি বলেন, ‘এটি তো সাধারণ একটা মসজিদ। এখানে আমরা দিনে পাঁচবার নামাজ পড়তাম। আমরা এ মসজিদ ঘিরে কখনও সন্দেহজনক কিছু দেখিনি।’

পাকিস্তানে হামলার প্রেক্ষাপটে গতকাল ভারতের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল অংশ নেন। পরে অমিত শাহ এক এক্স পোস্টে পাকিস্তানে হামলা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘পেহেলগামে আমাদের নিরপরাধ ভাইদের নির্মম হত্যাকাণ্ডে ভারতের জবাব অপারেশন সিঁদুর।’ এদিকে সংঘাতের প্রভাব পড়েছে ভারতের শেয়ারবাজারে। দরপতন হয়েছে রুপির।

বিমানবন্দর বন্ধ

বুধবার ভোর থেকে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বহু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ফ্লাইট-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস, ইন্ডিগো, স্পাইসজেটের মতো সংস্থাগুলো ‘যাত্রীর সুবিধার্থে’ এসব বিবৃতি দিয়েছে।

অপরদিকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ও পাঞ্জাব প্রদেশে সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিবিসি জানায়, দেশটিতে ভারত হামলা চালানোর পর পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এমন ঘোষণা এলো।

বিভেদ সৃষ্টিকারী শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন: মালালা

নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই ভারত-পাকিস্তানের নেতাদের প্রতি চলমান উত্তেজনা কমিয়ে আনার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘উত্তেজনা কমিয়ে আনতে এবং বেসামরিক মানুষজন, বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিন। বিভেদ সৃষ্টিকারী শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন।’

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মালালা এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা একে অপরের শত্রু নই, ঘৃণা ও সহিংসতা আমাদের সাধারণ শত্রু।’

সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয় দেশে প্রিয়জন হারানো বেসামরিক মানুষদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে মালালা আরও লেখেন, এই ‘বিপজ্জনক সময়ে’ তিনি পাকিস্তানে তাঁর বন্ধুবান্ধব, পরিবার এবং তাঁর সঙ্গে কাজ করা সব সমর্থক, শিক্ষাবিদ ও মেয়েদের কথা ভাবছেন।

পোস্টে মালালা আরও লিখেছেন, ‘আমাদের সম্মিলিত নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য শান্তিই একমাত্র পথ।’ তিনি লেখেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই সংলাপ আর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করতে হবে।’

মালালা ১৯৯৭ সালের ১২ জুলাই পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকার মিনগোরায় জন্মগ্রহণ করেন। ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর স্কুল থেকে ফেরার পথে হামলার শিকার হয় কিশোরী মালালা। স্কুলের গাড়িতে মালালা ও তার দুই বান্ধবী তালেবানের গুলিতে জখম হয়।

উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয় মালালাকে। সুস্থ হয়ে সেখানেই পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। মাত্র ১৭ বছরে বয়সে শান্তিতে নোবেল পান মালালা। এত অল্প বয়সে এর আগে কেউ নোবেল পাননি। মালালা এখন সপরিবার যুক্তরাজ্যেই বাস করছেন।

পুলিশের শীর্ষ ১৫ কর্মকর্তা পদে রদবদল

পুলিশের ডিআইজি পদে কর্মরত তিন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত আইজিপির চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), শিল্পাঞ্চল পুলিশ, পুলিশ টেলিকম ও রাজশাহী সারদার প্রধান হিসেবে নতুন কর্মকর্তারা এসেছেন। বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপ-সচিব মো. মাহবুবুর রহমানের সই করা পৃথক দুই প্রজ্ঞাপনে মোট ১৫ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

প্রথম প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শিল্পাঞ্চল পুলিশের মো. ছিবগাত উল্লাহকে অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্বে) সিআইডি প্রধান, সিআইডির গাজী জসীম উদ্দিনকে অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্বে) শিল্পাঞ্চল পুলিশে, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এ কে এম আওলাদ হোসেনকে অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্বে) পুলিশ টেলিকমে এবং পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি মো. তাওফিক মাহবুব চৌধুরীকে রাজশাহীর পুলিশ একাডেমি সারদার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই প্রজ্ঞাপনে আরও দুজন ডিআইজিকে বদলি করা হয়েছে। ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিককে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এবং পুলিশ সদর দপ্তরের ড. শোয়েব রিয়াজ আলমকে এসপিবিএনের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আজ জারি করা দ্বিতীয় প্রজ্ঞাপনে বদলিকৃত কর্মকর্তাদের মধ্যে টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ইকবালকে এবিপিএন ১২-এর অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি), ঢাকা টিডিএসের অতিরিক্ত ডিআইজি একেএম মোশাররফ হোসেন মিয়াজীকে বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত ডিআইজি, ঢাকার পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আব্দুর রাজ্জাককে রংপুর আরআরএফের কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত ডিআইজি), সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদকে এবিপিএন-৫ এর অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি), এসবির অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মিজানুর রহমানকে রংপুর পিটিসির অতিরিক্ত ডিআইজি, সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি সৈয়দা জান্নাত আরাকে রংপুর পিটিসির অতিরিক্ত ডিআইজি, এবিপিএন ৫ এর অধিনায়ক শামীমা আক্তারকে অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি, এসবির অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমানকে খাগড়াছড়ির এবিপিএন বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি, এসবির অতিরিক্ত ডিআইজি এএইচএম আব্দুর রকিবকে নোয়াখালী পিটিসির অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।আগের দিন মঙ্গলবার জারি হওয়া আরেক প্রজ্ঞাপনে আরও পাঁচ কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই আদেশ অনুযায়ী, পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআইজি মো. সরওয়ারকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আতিকুর রহমান এবং সারদা পুলিশ একাডেমির অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ এনামুল হককে ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া পুলিশের বিশেষ শাখার পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানকে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ সুপার আসলাম শাহাজাদার পূর্বের বদলির আদেশ বাতিল করে তাকেও পুনরায় একই পদে বহাল রাখা হয়েছে।

ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ৯ মাস পর দেশ ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। বুধবার শেষরাতে ৩টা ৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তিনি দেশ ছাড়েন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল একটি সূত্র তার দেশ ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্রটি জানায়, রাত ৩টা ৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের টিজি ৩৪০ নম্বর ফ্লাইটে ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন আবদুল হামিদ।

এর আগে, গত রাত ১১টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান আবদুল হামিদ। সেখানে যাওয়ার পর ইমিগ্রেশনে প্রয়োজনীয় যাচাইবাছাই শেষে দেশ ছাড়ার সবুজ সংকেত পান তিনি।

এদিকে অন্তত একটি হত্যা মামলা থাকার তথ্য রয়েছে সাবেক এ রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে। গত ১৪ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ সদর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের হয়। ওই মামলায় আসামি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং ওবায়দুল কাদেরের নামও রয়েছে।

১৪ জানুয়ারি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে ওই মামলা হওয়ার আগে কিশোরগঞ্জ জেলায় আওয়ামী লীগ নেতাদের আসামি করে প্রায় অর্ধশত মামলা হয়। তবে, সেই মামলাগুলোর কোনোটিতে আবদুল হামিদকে আসামি করা হয়নি।

তাণ্ডব সিনেমার শুটিং সেটে স্টান্টম্যানের মৃত্যু

রাজশাহী নগরীর হাই-টেক পার্কে শুটিং সেটে অসুস্থ হয়ে মনির হোসেন নামের এক স্টান্টম্যানের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৩ মে) বিকালে শাকিব খান অভিনীত ‘তাণ্ডব’ রাজশাহী নগরীতে সিনেমার শুটিং চলাকালে অসুস্থ হন মনির। ওই সময় তাকে  রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন পরিচালক রায়হান রাফী।

সিনেমাটির পরিচালক বলেন, মনির শট দিয়েছেন দুপুরের দিকে। এরপর সবার সঙ্গে গল্প করছিলেন। এক-দুই ঘণ্টা পর হঠাৎ করে তার শরীর খারাপ করলে রামেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন।

রায়হান রাফী বলেন, সকালের দিকেই তিনি (মনির) স্ট্রোক করছেন, কিন্তু কাউকে বুঝতে দেননি। অসুস্থতা বা খারাপ লাগার কথাও কাউকে জানাননি।

কলাকুশলীরা জানিয়েছেন, রাজশাহী নগরীর হাই-টেক পার্কে সেট বানিয়ে ‘তাণ্ডব’ সিনেমার শুটিং চলছে। সেখানেই মনির অসুস্থবোধ করেন।

মনির ঢাকার নারায়ণগঞ্জে বসবাস করতেন এবং কয়েক বছর ধরেই চলচ্চিত্রে স্টান্টম্যান হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি সহকারী ফাইট ডিরেক্টর নেপালীর সঙ্গে নিয়মিত কাজ করতেন। নেপালী জানান, সকাল থেকে মনির একদম ঠিকঠাক ছিল। শট শেষ হওয়ার পর হঠাৎ মাথা ঘোরা শুরু হয় এবং বমি করতে থাকে। তখনই হাসপাতালে নিয়ে যাই, কিন্তু ডাক্তার জানান সে মারা গেছে। মনির স্ট্রোক করেছিল।

প্রসঙ্গত, ‘তান্ডব’ সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে কুরবানির ঈদে। এতে শাকিব খানের বিপরীতে বড় পর্দায় পা রাখেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাবিলা নূর। মনিরের মৃত্যুতে পুরো ইউনিটে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহকর্মীদের চোখে মনির ছিলেন দায়িত্বশীল, হাসিখুশি এবং পেশাদার একজন শিল্পী।

বলিউডেও জায়গা করে নিচ্ছেন দক্ষিণী অভিনেত্রী শ্রীলীলা

দক্ষিণ ভারতের সিনেমায় আলোড়ন তোলা অভিনেত্রী শ্রীলীলা এবার বলিউডেও পা রাখতে চলেছেন। ‘পুষ্পা ২’-এর আইটেম গানে নজর কাড়ার পর থেকেই একের পর এক সিনেমার প্রস্তাব পাচ্ছেন এই অভিনেত্রী।

জানা গেছে, বলিউডে তার অভিষেক হতে যাচ্ছে অনুরাগ বসু পরিচালিত একটি রোমান্টিক সিনেমার মাধ্যমে, যেখানে তার বিপরীতে থাকবেন অভিনেতা কার্তিক আরিয়ান।

এদিকে ‘ড্রিম গার্ল’ সিরিজের পরিচালক রাজ শান্ডিল্য তার পরবর্তী সিনেমায় শ্রীলীলাকে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সেখানে অভিনেতা সিদ্ধার্থ মালহোত্রার সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে পারেন এই দক্ষিণী তারকা। যদিও ছবির নাম ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও আসেনি, তবে প্রযোজনা সূত্রে জানা গেছে, এটি হবে একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদনধর্মী ছবি— যেখানে রোমান্স, কমেডি ও ড্রামা থাকবে সমানভাবে।

সম্প্রতি শ্রীলীলাকে দেখা গেছে প্রযোজক মহাবীর জৈনের সঙ্গেও। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আনন্দ এল রাইয়ের জাদুভরা কাহিনিতে শ্রীলীলার সৌন্দর্য ও প্রতিভা দেখার অপেক্ষায়।’ এতে করে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, শিগগিরই আনন্দ এল রাই ক্যাম্পেও দেখা যেতে পারে শ্রীলীলাকে।

বর্তমানে শ্রীলীলার হাতে রয়েছে দক্ষিণের তিনটি ছবি— ‘মাস উতরা’, ‘পরাশক্তি’ ও ‘লেনিন’। অন্যদিকে, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ব্যস্ত রয়েছেন ‘সুন্দরী’ ছবির শুটিংয়ে, যেখানে তার বিপরীতে রয়েছেন জাহ্নবী কাপুর।