Home Blog Page 456

২৫ বছর পর বদলা নিয়ে চ্যাম্পিয়ন ভারত

জাদেজার ব্যাটের ছোঁয়ায় বল সীমানা পার হতেই হুড়মুড় করে মাঠে ঢুকে পড়েন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। ক্রিজে থাকা লোকেশ রাহুল ও রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে উদযাপনে মেতে ওঠেন তারা। এর পরই স্মারক হিসেবে স্টাম্প সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এভাবে সংগৃহীত দুটি স্টাম্প চলে যায় রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির হাতে। দুবাই স্টেডিয়ামের সবুজ জমিনে দু’জন স্টাম্প দিয়ে ডান্ডিয়া খেলা শুরু করেন। দুই কিংবদন্তির এমন অভিনব উদযাপন ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পোস্টার হয়ে রইল।

ভারতের এটি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির তৃতীয় শিরোপা। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে ২৫ বছর আগের বদলার পাশাপাশি কিউইদের বিপক্ষে আইসিসি ইভেন্টের ফাইনালে পরাজিত হওয়ার ইতিহাসও পাল্টে দিয়েছে ভারত। দুবাই স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের ২৫১ রান ১ ওভার হাতে রেখে ৬ উইকেটে টপকে যায় তারা। রোহিতের নেতৃত্বে ৯ মাসের ব্যবধানে এটি ভারতের দ্বিতীয় আইসিসি ট্রফি। ৭৬ রানের দারুণ ইনিংস খেলে সামনে থেকে শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক রোহিত; ইনিংসটির জন্য ফাইনালসেরাও হয়েছেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের রাচিন রবীন্দ্র আসরের সর্বোচ্চ ২৬৩ রান ও ৩ উইকেটের জন্য টুর্নামেন্টসেরা হয়েছেন।

কিউইদের ২৫১ রান তাড়া করতে নেমে দুরন্ত গতিতে শুরু করে ভারত। জেমিসনকে ছয় মেরে শুরুটা করেন রোহিত শর্মা। ৪১ বলে তিনি পৌঁছে যান হাফ সেঞ্চুরিতে। অধিনায়কের দাপটে ১৭ ওভারেই ১০০ রান তুলে নেয় ভারত। রোহিত-শুভমান ওপেনিং জুটির ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, হেসে-খেলে ফাইনাল জিততে যাচ্ছে ভারত। এর মধ্যে শুভমানের একটি ক্যাচ ফেলেন ড্যারেল মিচেল। শেষ পর্যন্ত গ্লেন ফিলিপস বাজপাখির মতো উড়ে গিয়ে ক্যাচ ধরে ফেরান শুভমানকে। পরের ওভারেই এলবি হয়ে যান দুরন্ত ছন্দে থাকা বিরাট কোহলি। সেটা ছিল কিউই স্পিনার মিচেল ব্রেসওয়েলের প্রথম ডেলিভারি। এর পর এগিয়ে এসে রাচিন রবীন্দ্রকে খেলতে গিয়ে স্টাম্পড হয়ে যান ৮৩ বলে ৭৬ রান করা রোহিত। মাত্র ১৭ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে আচমকা চাপে পড়ে যায় ভারত। তবে চতুর্থ উইকেটে শ্রেয়াস আয়ার ও অক্ষর প্যাটেল ৬১ রান যোগ করে দলকে ভালো অবস্থানে পৌঁছে দেন। এর মধ্যে ৪৪ রানের সময় শ্রেয়াসের লোপ্পা ক্যাচ ফেলেন জেমিসন। নতুন জীবন অবশ্য কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। মাত্র ৪ রান যোগ করে স্যান্টনারের বলে রাচিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে আসেন শ্রেয়াস। এর পর অক্ষর প্যাটেল ক্যাচ দিলে আবার কিছুটা চাপে পড়ে যায় ভারত। তখনও উইকেটে ছিলেন লোকেশ রাহুল ও হার্দিক পান্ডিয়া। ঠান্ডা মাথায় ব্যাট চালিয়ে দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান তারা। জয় থেকে ১১ রান দূরে থাকা অবস্থায় জেমিসনের হাতে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে আসেন পান্ডিয়া। জাদেজাকে নিয়ে ফিনিশিং দেন রাহুল।

টসে জিতে নিউজিল্যান্ড যেভাবে ব্যাটিং শুরু করেছিল, তাতে মোট রান কমই হয়েছে বলা যায়। উইলি ইয়াং ও রাচিন রবীন্দ্র ৭.৫ ওভারে ৫৭ রান তুলে নিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী পাঁচ ওভারের মধ্যে ইয়াং, রাচিন ও উইলিয়ামসনকে তুলে নিয়ে দারুণভাবে খেলায় ফিরে আসে ভারত। ইয়াংকে এলবির ফাঁদে ফেলে ভারতের মুখে প্রথম হাসি ফোটান তুরুপের তাস হয়ে ওঠা বরুণ চক্রবর্তী। এমনিতে রোহিতের প্রধান স্পিন অস্ত্র হলেও গত কয়েক দিন ধরে বরুণের আলোয় কিছুটা ঢাকা পড়ে গিয়েছিলেন কুলদীপ যাদব। সে ক্ষোভেই কিনা পর পর দুই ওভারে রাচিন ও উইলিয়ামসনের উইকেট তুলে নিয়ে কুলদীপ বুঝিয়ে দিলেন তাঁর ধার। ১৮ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় কিউইরা। টম লাথামও বেশিক্ষণ উইকেটে টিকতে পারেননি, জাদেজার বলে এলবি হয়ে যান। তবে পঞ্চম উইকেটে ড্যারেল মিচেল ও গ্লেন ফিলিপস ৫৭ রান যোগ করে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেন। এর পর ষষ্ঠ উইকেট ড্যারেল মিচেল ও মিচেল ব্রেসওয়েল ৪৬ রান যোগ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতেই ড্যারেল মিচেল বেশ মন্থর ব্যাটিং করেন। ৬৩ রান করতে তিনি ব্যয় করে ফেলেন ১০১ বল। এর মধ্যে ৩৮ রানের সময় রোহিত শর্মার হাতে একটি জীবনও পেয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ব্রেসওয়েলের হাফ সেঞ্চুরিতে আড়াইশ পার করে কিউইরা। ৪০ বলে ৫৩ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। তাঁর জন্যই শেষ ১০ ওভারে ৭৯ রান তোলে কিউইরা।

কিউইদের ২৫১ রানে আটকে দিতে প্রত্যাশামতোই মূল ভূমিকা পালন করেন স্পিনাররা। ভারতের চার স্পিনার ৩৮ ওভারে ১৪৪ রান ব্যয় করে ৫ উইকেট তুলে নেন। আর দুই পেসার ১২ ওভারে ১০৪ রানে উইকেট তোলেন মাত্র একটি। অক্ষর প্যাটেলের দুই ওভার বাকি রাখায় হয়তো আক্ষেপে পুড়বেন ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা। আর নিউজিল্যান্ড আক্ষেপ করবে দলের সেরা বোলার ম্যাট হেনরিকে না পাওয়ায়। সেমিতে পাওয়া কাঁধের চোট থেকে সেরে উঠতে পারেননি ডানহাতি এ পেসার।

ধর্ষণ থেকে রক্ষা পেতে যে পরামর্শ দিলেন রুবেল

সারাদেশে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে ধর্ষণ। বিভিন্ন বয়সের নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। বাদ যাচ্ছে না শিশুরাও। এসব ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে দেশ। নারীর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত সবাই। এমন পরিস্থিতিতে নারীর নিরাপত্তায় ‘কারাতে’ শিক্ষা প্রয়োজন বলে মনে করেন নন্দিত চিত্রনায়ক মাসুম পারভেজ রুবেল।

সম্প্রতি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে রুবেল বলেন, ‘আমি সবসময় বলে এসেছি কারাতে মেয়েদের জন্য খুবই দরকার। এর কোনো বিকল্প নেই। বহু বছর আগে ময়মনসিংহে রূপাকে যখন ড্রাইভাররা ধর্ষণ করেছিল তখনই বলেছিলাম আমাদের কারাতে শেখা উচিত।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কারাতে শিক্ষা দেওয়া উচিত উল্লেখ করে এ নায়ক বলেন, ‘স্কুল-কলেজে কারাতে শিক্ষায় সবার শিক্ষিত হওয়া উচিত। আমি মনে করি, ছেলেদের আগে নারীদের এই শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ায় বেশি দরকার। একজন নারী যখন বাইরে যায় তখন আত্মরক্ষার প্রবণতা অনেক কম কাজ করে। তিনি যখন কারাতে শিক্ষায় শিক্ষিত হবেন, তখন নিজেকে বাঁচানোর পাশাপাশি নিজের পরিবারকেও বাঁচাতে পারবেন। আমরা যদি নারীদের কারাতের শিক্ষাটা দিতে পারি তাহলে ধর্ষণ থেকে ৭০ ভাগ পরিত্রাণ পাব।’

ধর্ষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো

সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষণ, নারীর প্রতি নিপীড়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং মাগুরায় শিশুকে ধর্ষণের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। আজ রোববার সকাল থেকে রাবি, চবি, ইবি, বেরোবি, কুবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

মাগুরায় শিশু ধর্ষণসহ সারাদেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে রোববার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। দুপুর পর্যন্ত গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, ইতিহাস, ইংরেজি, উদ্ভিদবিজ্ঞান, এগ্রিকালচার, হিসাববিজ্ঞান, ম্যানেজমেন্টসহ অন্তত ২০টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন। দুপুর পৌনে ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ধর্ষণের ঘটনায় বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান।

বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা ‘সারা বাংলায় খবর দে, ধর্ষকদের কবর দে’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস, নো মোর র্যা পিস্ট’, ‘আমার বোনের কান্না, আর না আর না’, ‘একটা একটা ধর্ষক ধর, ধরে ধরে বিচার কর’, ‘খুনি কেন বাহিরে, ইন্টেরিয়ম জবাব চাই’ প্রভৃতি স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। কর্মসূচি থেকে সোমবার একইভাবে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বেলা সাড়ে ১১টায় মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’-এই কর্মসূচি আয়োজন করে। সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে নারী নিপীড়নের ঘটনা নতুন নয়। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে শাসকদের দায়িত্বহীন আচরণ। বিপ্লব পরবর্তী সময়ে এমন বিচারহীনতা ও নিরাপত্তাহীনতা কখনোই কাম্য নয়।

নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রোববার সমাবেশ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দাবি এবং ধর্ষণের শাস্তি ফাঁসি কার্যকরের জন্য সন্ধ্যায় মশাল মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন বিভিন্ন হলের ছাত্রীরা।

ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত ও জনপরিসরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। মাগুরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সব ধর্ষণের ঘটনায় দোষীদের বিচার নিশ্চিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন তারা।

ধর্ষণসহ নারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা। রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া চত্বরে জেন্ডার অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে এ মানববন্ধন হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। ধর্ষণের প্রতিবাদ, ধর্ষকদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত এবং মাগুরায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন।

অব্যাহত নারী সহিংসতা, খুন, ধর্ষণ ও নিপীড়নের প্রতিবাদে কুমিল্লায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। নগরীর কেন্দ্রস্থল কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। একই দাবিতে চান্দিনায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। ছিনতাই ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে ফরিদপুরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন হয়েছে।
রোববার দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে ক্লাবের সামনে সাধারণ ছাত্র সমাজের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

ধর্ষক ও নারী নির্যাতনকারীদের বিচার দাবিতে বাগেরহাটের মোংলায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। রোববার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে শহরের পৌর মার্কেটের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি এবং নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ঢাকা-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থী-জনতা। এছাড়া শেরপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

মাগুরায় শিশু ধর্ষণের ঘটনা জাহেলি যুগের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজেদুর রহমান। রোববার এক বিবৃতিতে তারা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ধর্ষকদের প্রকাশ্য শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান।

কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি

কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন মার্ক কার্নি। তিনি বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর স্থলাভিষিক্ত হলেন। স্থানীয় সময় রোববার নতুন দলীয় নেতা হিসেবে কার্নিকে নির্বাচিত করে দেশটির ক্ষমতাসীন দল লিবারেল পার্টি। পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করেন লিবারেল পার্টির প্রেসিডেন্ট সচিত মেহরা। যদিও নিয়ম অনুযায়ী দলীয় প্রধানই নতুন প্রধানমন্ত্রী হন। খবর বিবিসি, রয়টার্স, আল জাজিরার

মার্ক কার্নি চার প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দলীয় প্রধান হন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ট্রুডো কার্নির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। তিনি ব্যাংক অব কানাডার গভর্নর ছিলেন। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডেরও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কার্নি।

রোববার সদস্যদের ভোটে লিবারেল পার্টির নতুন নেতা বাছাই হয়। ৫৯ বছর বয়সী কার্নি ৮৬ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। মার্ক কার্নি ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৭৪ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিনা ফ্রিল্যান্ড পেয়েছেন ১১ হাজার ১৩৪ ভোট।

টানা ৯ বছর ক্ষমতায় থাকার পর গত জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ট্রুডো। এরপর তার উত্তরাধিকার বাছাইয়ের জন্য ৯ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছিল।

চলতি সপ্তাহে কানাডার গভর্নর জেনারেলের কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন মার্ক কার্নি। কানাডার গভর্নর জেনারেল যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতিনিধি। নির্বাচনের আগপর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী কার্নি এপ্রিলের শেষ দিকে কানাডায় নতুন সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিতে পারেন।

শেখ হাসিনা ভারত থাকলে, দু’দেশের সম্পর্ক অবনতি ও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের জীবন বিপন্ন হবে

রতন তালুকদার : জুলাই-আগস্ট ছাত্রদের আন্দোলনে শেখ হাসিনার ঘর ভেঙে যায়। তিনি ভারতে পালিয়ে গিয়ে নিজের জান বাঁচান। তার নিজের আত্মীয়-স্বজনও দেশের বাইরে নিরাপদে। কাউয়া কাদের সহ তার দলের চোর ডাকাতগুলি কেউ পলাতক, কেউ ভারতে রাজার হালে। ওরা লুট করা অর্থের বিনিময়ে দেশে-বিদেশে আত্মগোপন করেছে।

দেশের ভেতর ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জীবন বিপন্ন। দেশের ছবিটি কী? চারদিকে নৈরাজ্য, খুন, ধর্ষণ। বাড়তি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর এই পবিত্র রমজান মাসেও সীমাহীন অত্যাচার, জান-মালের উপর আঘাত। সংখ্যাগুরু মুসলিমরা এসব বিশ্বাস করে না। তারা এখনো দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গীত গায়! বড়জোর বলে হিন্দু যারা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ছিলো তাদের উপর সামান্য আঘাত হয়েছে! রমজান মাসেও গত দু’দিনে উত্তরের গাইবান্ধা থেকে দক্ষিণের ঝালকাঠি পর্যন্ত আধা-ডজন সংখ্যালঘুর বাড়ি-ঘর, মন্দিরে হামলা হয়েছে। ঐসব হতদরিদ্র মানুষগুলির অপরাধ ওরা “নৌকায়” ভোট দিয়েছিলো।

দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাত মাস পেরিয়ে আট মাসের শিশুর মতো হামাগুড়ি দিচ্ছে। কই হালচাল তো “যেই লাউ সেই কদু”, দেশটি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

শেখ হাসিনা প্রতিবেশী ভারতে নজিরবিহীন সুরক্ষায় এবং কঠোর গোপনীয়তায় অতিথির আসনে বসে বসে স্বপ্ন দেখছে “আবার টুপ করে দেশে ডুকে যাবে”! শেখ হাসিনা তার দলবল নিয়ে ভারতে নিরাপদ থাকলেও দেশের নিরীহ ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আতংকে আছে, দিনদুপুরে যেমন তেমন, রাতের আঁধারে তাদের ভয়াল আর্তনাদ কে শোনে!

শেখ হাসিনা যতদিন ভারতে থাকবে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নিপীড়ন অব্যাহত থাকবে। এর আগেও শেখ হাসিনার আমলে গত ষোলো বছর ওদের উপর সীমাহীন বৈষম্য, অত্যাচার ও উপসনালয়ে ভাংচুর হয়েছে। প্রতিকার হয়নি, খোদ শেখ হাসিনাও স্বীকার করেনি বরং তিনিও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঢোল জোরেসোরেই বাজাতেন! হিন্দু সম্পত্তি দখলে আওয়ামীলীগ ছিল চ্যাম্পিয়ন, অপ্রতিরোধ্য।

কোটা বা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর দেশের মানুষ আনন্দে উল্লাস করেছিল। তবে ভারতে হাসিনার আশ্রয় বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠী মেনে নেয়নি। সেই থেকে বরং বাংলাদেশের মানুষের ক্ষোভ ভারতের প্রতি আরও বেড়ে তৃণমূল পর্যন্ত ভারত বিরোধিতা বিস্তার করে। এখন বাংলাদেশের মানুষের মনোভাব যেন শেখ হাসিনা নয়, ভারতেরই সব দোষ! গত ১৬ বছর স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারকে ভারত আগলিয়ে রাখে, শুধু এ কারণেই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভেতর ভারত বিরোধী ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হয় যার বিস্ফোরণ ঘটে জুলাই অভ্যুত্থানের পর।

ভারতের পররাষ্ট্রনীতি তার প্রতিবেশীদের সাথে সুখকর নয়। চিরশত্রু পাকিস্তান ও মহাশক্তিধর চীন বাদ দিলে ভারত তার প্রতিবেশী নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ সহ তার পেটের ভেতর বাংলাদেশের সাথে কূটনৈতিক আচরণ সমঝোতামূলক ছিলো না। এ কারণেই গত কয়েক বছর ধরে এই বিশ্বশক্তি ভারত তার প্রতিবেশীদের নিয়ে ভুগছে!

বাংলাদেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কে ভারতের বিমাতাসুলভ আচরণ, বাণিজ্যের বৈষম্য, মাঝে মাঝে দাদাগিরিসহ শেখ হাসিনা সরকারকে লালন-পালন বাংলাদেশের মুসলমানরা সুনজরে দেখেনি বরং তারা অতিমাত্রায় ক্ষেপে উঠে।

বাংলাদেশের প্রতি ভারতের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ ছিল একতরফা, একগুঁয়েমি ও দৃষ্টিকটূ। টানা ষোলো বছর একটি দলকে অন্ধের মতো সমর্থন, বাংলাদেশের মানুষকে আরও ভারতবিরোধী করে তোলে। ভারতের প্রতি বিদ্বেষ খেলার মাঠ পর্যন্ত গড়ায়, গেলো বছর ভারত-অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে ভারতের হারে বাংলাদেশে নজিরবিহীন উল্লাস দেখা গেছে!

ভারতের কূটনীতি ও বাংলাদেশ সরকারের সাথে সম্পর্ক ছিলো আপত্তিকর। বাংলাদেশের সাথে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক হবে জনগণ-টু-জনগণ, দেশ-টু-দেশ। কোন বিশেষ দল বা নেত্রীর সাথে সম্পর্ক কূটনৈতিক নীতিমালায় চলে না। বাংলাদেশে যখন যে দল ক্ষমতায় আসবে ভারতকে সেই দলের সাথেই সম্পর্ক করতে হবে। সরকারের সাথে সরকারের সম্পর্ক এমনি হয়। একজন নেতার সাথে অন্য দেশের নেতার সম্পর্ক বন্ধুত্ব হতেই পারে। কিন্তু বিষয়টি রাষ্ট্রের উপর, দেশের জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়াও শিষ্টাচার নয়। বাংলাদেশে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগই তো একমাত্র দল ছিল না। সেখানে বৃহৎ বিরোধী দল বিএনপি, যাঁর নেত্রীও তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী। ভারত এই বিষয়টি পাশ কাটায় কোন কূটনৈতিক যুক্তিতে।

তারপরও কথার প্রেক্ষিতে কথা উঠে, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার “র” সুনাম বিশ্বজুড়ে। বাংলাদেশে কথিত “র” খবরদারিও মানুষ মেনে নেয়নি। বাংলাদেশে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা সবসময়ই তৎপর ছিলো। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এবার শেখ হাসিনার পতনের কারণ সমূহ “র” এন্টানায় ধরা পড়েনি কেন? ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি কি জানতো না, শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বাংলাদেশে শূন্যের কোটায়?

শেখ হাসিনার মর্মান্তিক পরাজয় ও লজ্জাজনক পলায়নের পর ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের তিক্ততা শুধু বাড়েনি বরং উদ্বেগজনক। এই সম্পর্ক তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত হলে দু’দেশের জন্যই অশনি সংকেত!

যতদিন শেখ হাসিনা ভারতে থাকবে ততদিনেই বাংলাদেশে মানুষের মনে ক্ষোভের আগুন জ্বলবে। আর এই আগুনে দগ্ধ হবে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়। এবং বাড়বে ভারত বিরোধিতা।

পৃথিবীতে অনেক দেশে ভারতের প্রভাব আছে। শেখ হাসিনাকে তৃতীয় কোন দেশে স্থানান্তর ভারতের জন্য দুরূহ নয়। যত দ্রুত সম্ভব শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বিদায় করলে দুটি দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন হবে, রাজনৈতিক স্থিতিশিীলতা আসবে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদেরও উপর নির্যাতন কিছু হলেও লাঘব হবে। আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও বাস্তবতাকে হিসেবে এনে ভারত দ্রুত সিদ্ধান্ত নিক, শেখ হাসিনা জন্য অন্য কোন দেশে নিরাপদ ডেরা খোঁজে বের করা ভারতের জন্যই মঙ্গলজনক। কারণ একজন পতিত স্বৈরাচারের জন্য দু’দেশের সম্পর্ক উচ্ছন্নে যেতে পারে না।

ভারতের মোদি সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ভেবে দেখুন, বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাঁচান!

লেখকঃ রতন তালুকদার ,নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জন্মভূমির সম্পাদক ।।

গবেষণায় ট্রাম্পের তহবিল বন্ধের প্রতিবাদে বিজ্ঞানীদের বিক্ষোভ

বিভিন্ন সংস্থা থেকে কর্মীছাঁটাই ও জীবন-রক্ষাকারী গবেষণার রাস টানতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর কেন্দ্রীয় সরকারের গবেষণা তহবিল কাটছাঁট করছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

জবাবে শুক্রবার (৭ মার্চ) গবেষক, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, প্রকৌশলী, নির্বাচিত কর্মকর্তারা রাস্তায় নেমে আসেন। নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, বোস্টন, শিকাগো, ম্যাডিসন ও উইসকনসিনে সড়কে নেমে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। এ সময়ে মার্কিন সরকারের এসব সিদ্ধান্তকে ‘নজিরবিহীন’ বলে আখ্যা দেন বিজ্ঞানী ও গবেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে সহস্রাধিক লোক বিক্ষোভ করছিলেন। তাদের সাথে যোগ দেন বোস্টনের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের গবেষক জেসি হেটনার। ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নিজের রাগ ঝাড়তে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আর কখনোই এতো ক্ষুব্ধ হইনি। তারা সবকিছুতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন।’

এ সময় স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের প্রধান হিসেবে রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের নিয়োগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হেটনার। কারণ এর আগে টিকা নিয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন কেনেডি জুনিয়র।

হেটনার বলেন, ‘আপনি যদি এমন একজনকে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার দায়িত্ব দেন, যিনি মনে করেন পৃথিবীটা হচ্ছে সমতল ও গোল। সেটা তো ঠিক না। কাজেই বিজ্ঞানে অর্থ ঢালেন, ধনকুবেরদের না। বিজ্ঞানে ভর করেই গড়ে উঠেছে আমেরিকা।

গ্রোভার নামের এক বিজ্ঞানী বলেন, ‘বর্তমানে যা কিছু ঘটছে, তা নজিরবিহীন।’

কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ট্রুডোর স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির সম্মুখীন হওয়ার পর কানাডার লিবারেল পার্টি রোববার সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকার নবীন রাজনীতিক মার্ক কার্নিকে পরবর্তী নেতা হিসেবে বেছে নিতে প্রস্তুত বলে মনে করা হচ্ছে।

অটোয়া থেকে এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি ইংল্যন্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সফলতার সাথে অর্থনৈতিক নানা সঙ্কট মোকাবিলা করেছেন।

কার্নি রোববার প্রায় চার লাখ দলীয় সদস্যের ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর নতুন লিবারেল নেতা হিসেবে মনোনীত হবেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রুডোর সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড ২০১৫ সালে প্রথম নির্বাচিত লিবারেল সরকারের বেশ কয়েকটি সিনিয়র মন্ত্রিসভা পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

কার্নি ট্রুডোর মন্ত্রিসভার বেশিরভাগ সদস্যের সমর্থনসহ ব্যাপক সমর্থন পেয়েছেন। ট্রুডোর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ায় ক্রিস্টিয়া পিছিয়ে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভোটে যিনি জিতবেন তিনিই ট্রুডোর থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।

তবে সেক্ষেত্রে শিগগির একটি সাধারণ নির্বাচনের সম্মুখীন হতে হবে। নির্বাচনে বর্তমান জরিপগুলোয় প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টি জয়ের জন্য পছন্দের তালিকায় কিছুটা এগিয়ে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার কানাডাকে সংযুক্ত করার কথা বলেছেন এবং কানাডিয়ান অর্থনীতির প্রাণশক্তি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে বিশৃঙ্খলার মধ্যে ফেলে দিয়েছেন।

কার্নি ও ফ্রিল্যান্ড উভয়ই নিজেদেরকে কানাডাকে রক্ষা করার জন্য উপযুক্ত বলে মনে করছেন।

শপিংমলে আগেভাগেই ঈদের কেনাকাটার ধুম

রমজান শুরুর প্রথম ছুটির দিন থেকেই বিপণি বিতান, শপিংমল ও ফুটপাথে ঈদ কেনাকাটার ধুম পড়েছে। গত শুক্রবার থেকে প্রতিটি শপিংমল, রাজধানীর বিভিন্ন ফুটপাথে ভিড় করছেন ক্রেতারা। নিজেদের স্বাধ্যমতো কেনাকাটা করতে পছন্দের পোশাক খুঁজে বেড়াচ্ছেন। ক্রেতারা বলছেন শুরুতে শপিংয়ে পছন্দের ডিজাইন ও সাইজ পাওয়া যায়। কেনা পোশাক পছন্দ না হলে পরিবর্তনের সময়ও বিড়ম্বনা হয় না। পর্যাপ্ত সংগ্রহ থাকায় ইচ্ছেমতো রদবদলও করা যায়। কিন্তু দেরিতে শপিং করলে ডিজাইন, রঙ আর প্রয়োজনীয় সাইজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ভালো সুযোগ হাতছাড়া না করতেই তারা আগেভাগে কেনাকাটা সারছেন।

রমজান শুরুর প্রথম সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবার রাজধানীর একাধিক শপিংমল, বিপণি বিতান ও ফুটপাথ ঘুরে কেনাকাটার এমন চিত্র উঠে আসে।

রাজধানীর নাটকপাড়া বলে খ্যাত বেইলি রোডের নাভানা বেইলি স্টার, সিরাজ শপিং কমপ্লেক্স, ইনফিনিটি, ইয়োলো, সাদাকালো, অঞ্জনস, আর্টিসানসহ অভিজাত বিপণি ও পোশাকের দোকানগুলোতে গিয়ে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়।

ইনফিনিটির এক কর্মী জানান, তাদের এখানে সবধরনের পোশাক ছাড়াও ঘর সংসারের সামগ্রী, বোরকা, কসমেটিকস, জুতা, শোপিস ও শিশুদের নানান সামগ্রী রয়েছে। সকাল থেকে গেট খোলা থেকে বন্ধ হওয়া পর্যন্ত ক্রেতারা আসছেন। নিজেদের পছন্দের পোশাক নিয়েই তারপর ঘরে ফিরছেন। তাতে আশাবাদী যে, গতবারের চেয়ে এবার বিক্রি বাড়বে।

আর্টিসানের এক বিক্রয়কর্মী জানান, মূলত প্রতি বছর রমজানের শুরুতে এমন ক্রেতার দেখা কম মেলে। এবার শুরুতেই বিক্রি জমেছে। সকাল থেকে বন্ধ পর্যন্ত ক্রেতা আসছেন। যারাই আসেন তারা যে একেবারে খালি হাতে ফিরছেন তা নয়। কিছু না কিছু কেনাকাটা করছেন।

ইয়েলোর এক নারী বিক্রয়কর্মী জানান, ঈদ ঘিরে তারা অনেক ডিজাইন নিয়ে এসেছেন। নারী-পুরুষ ও শিশুদের জন্য নিত্যনতুন ডিজাইনের পাঞ্জাবি, পায়জামা, থ্রিপিস-সহ সবই তারা বিক্রি করছেন। ক্রেতারা যাতে তাদের পছন্দের কাপড়টি কিনতে পারেন তা ধারণায় রেখেই এবার ডিজাইনে নতুনত্ব আনা হয়েছে। এতে করে আগতরা স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করছেন। অপর দিকে মগবাজার আড়ংয়ে গিয়েও ক্রেতার ভিড় লক্ষ করা যায়। আড়ংয়ের বিক্রয়কর্মীরা জানান, তাদের মনে হচ্ছে এবার একটু আগেভাগেই বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। তবে এমন ভিড় সাপ্তাহিক বন্ধের কারণ কি না তা অবশ্য পরে বুঝা যাবে। তাদের ভাষ্য, প্রতি বছর শপিং একটু সময় নিয়েই শুরু হয়; কিন্তু এবার একটু এডভান্স মানুষ শপিংয়ে নামছেন ভিড় ও ধাক্কাধাক্কির বিড়ম্বনা এড়াতে।

বসুন্ধরা শপিংমলে শুক্রবার গিয়ে দেখা যায়, সেখানে প্রবেশপথে মানুষের দীর্ঘ লাইন। সারিবদ্ধ মানুষকে চেক করিয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন। এ সময় একজন নিরাপত্তাকর্মী জানান, শুক্রবার থেকে মার্কেটে অনেক ক্রেতা আসছেন। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার মনে হচ্ছে বেশি মানুষ আসছেন।

মার্কেটের ভেতরে গিয়ে দেখা যায় প্রতিটি লিফটের সামনে মানুষের দীর্ঘ লাইন। চলন্ত সিঁড়িতে মানুষর ভিড়। একজন বিক্রেতা বলেন, এবার বসুন্ধরা মার্কেটে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আইটেম অনুযায়ী শপিংমল সাজানো হয়েছে। ক্রেতা যাতে তার পছন্দের সব একসাথে খুজে পান সে জন্য এমন ব্যবস্থা। সে অনুযায়ী সব মোবাইল দোকান গ্রাউন্ড ফ্লোরে, ব্যাগ, জুতাসহ চামড়ার সব সামগ্রী ছয় তলায় আনা হয়েছে। এভাবে করে প্রতিটি ফ্লোরকে পণ্য অনুযায়ী এক করে অনা হয়েছে, যা ক্রেতাদের জন্য বাড়তি সুবিধা যোগ করেছে।

আগেভাগেই কেনাকাটার কারণ সম্পর্কে একাধিক ক্রেতা জানান, আগে শপিং করলে পছন্দের সব আইটেম পাওয়া যায়। সময় যত ঘনিয়ে আসে তাতেই ডিজাইন পর্যাপ্ত থাকে না। আবার অনেকসময় কাপড় কেনার পর বাসায় নিয়ে কোনো কারণে পরিবর্তন করতে হয়। দেরিতে শপিং কারলে সে সুযোগটি নেয়া গেলেও সাইজ বা ডিজাইন পর্যাপ্ত না থাকায় তখন বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সবমিলিয়ে পরবর্তী ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকতেই তারা আগেই শপিং সারছেন বলে জানান।

মার্কিন-ইসরাইল সম্পর্ক কি ভঙ্গুর ভবিষ্যতের দিকে যাচ্ছে

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার তার দেশ সম্পর্কে একটি রূঢ় পর্যবেক্ষণ জানিয়েছিলেন। তা হলো- যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু হওয়া বিপজ্জনক হতে পারে, কিন্তু তার বন্ধু হওয়া প্রাণঘাতী বিষয়। তার এই পর্যবেক্ষণ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক বলে মনে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র যখন তার বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে তার ভূমিকায় অগ্রসর হচ্ছে, তখন তার জোটগুলো, যা একসময় অটল বলে বিবেচিত হতো, ক্রমশ শর্তসাপেক্ষ বলে প্রকাশ পাচ্ছে। এই ভঙ্গুরতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দুই মিত্র দেশ ইসরাইল ও ইউক্রেনের ক্ষেত্রে।

ইসরাইল গত কয়েক দশক ধরে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে বিশেষ আনুগত্য উপভোগ করে এসেছে, যা একটি শক্তিশালী লবির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হতো। অন্যদিকে, ইউক্রেন সহায়তা নিশ্চিত করতে ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের ওপর নির্ভর করেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির পরিবর্তনের সাথে সাথে ইসরাইলের একসময়ের দুর্ভেদ্য অবস্থানও দুর্বল হয়ে পড়ছে। এক নতুন প্রজন্মের মূল্যবোধ, মার্কিন ইহুদিদের মধ্যে নৈতিক হতাশা ও ইউক্রেনের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ‘লেনদেনভিত্তিক পরিত্যাগের’ আশঙ্কা এই ঐতিহাসিক মিত্রতার অবসান ঘটানোর হুমকি দিচ্ছে।

ওয়াশিংটনে ইসরাইলের প্রভাব বহুদিন ধরেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। সেখানে ইসরাইলের প্রভাব আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (এআইপিএসি) ও গভীরভাবে প্রোথিত একটি ইহুদি রাষ্ট্রপন্থী লবির মাধ্যমে শক্তিশালী হয়েছিল। এই শক্তি প্রতিবছর ইসরাইলের জন্য বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সহায়তা ও জাতিসঙ্ঘে কূটনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। সেখানে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনকে নৈতিক দায়িত্ব ও কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এই প্রভাব শুধু লবির ক্ষমতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং এটি মার্কিন ইহুদিদের সাথে একটি পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। তাদের অনেকেই ইসরাইলকে একটি সাংস্কৃতিক আশ্রয়স্থল হিসেবে দেখে, যা ইউরোপে ইহুদি গণহত্যার ফলে সৃষ্ট মানসিক আঘাত এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং তাদের মিত্রদের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির অবস্থার মধ্যে গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে গড়ে উঠেছিল।

এর বিপরীতে, ইউক্রেনের তেমন প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি নেই। ইসরাইলপন্থী লবির তৈরি করা ভিত্তিও এখন ভীষণভাবে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে তরুণ প্রগতিশীল মার্কিনীদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। যেখানে আগের প্রজন্ম ইসরাইলকে গণতান্ত্রিক মিত্র হিসেবে দেখত, সেখানে তরুণরা ক্রমশ এটিকে একটি ‘বর্ণবাদী রাষ্ট্র’ হিসেবে দেখতে শুরু করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই পরিবর্তনকে তীব্রতর করেছে। অবরুদ্ধ গাজার ধ্বংসস্তূপের ছবি, বিধ্বস্ত হাসপাতাল, শোকার্ত পরিবার ও বাড়ির ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা শিশুদের নিথর দেহ- এসব তরুণদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

জিউইশ ভয়েস ফর পিস ও ইফনটনাও-এর মতো সংগঠন হাজার হাজার মানুষকে সংঘবদ্ধ করে দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে, ইসরাইলি পণ্য বর্জন করতে এবং ইসরাইল থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের দাবি জানাতে উদ্বুদ্ধ করছে।

২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জনমত জরিপ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের একটি জরিপে দেখা গেছে, ৪০ বছরের নিচে ৫২ শতাংশ মার্কিন ইহুদি মনে করেন যে ইসরাইলের সরকার ‘বর্ণবাদী অপরাধে’ দোষী। এটি বরাবরই ইসরাইলকে আশ্রয়স্থল হিসেবে দেখে আসা সম্প্রদায়ের জন্য একটি বিশাল পরিবর্তন।

ইসরাইলের নেতৃত্ব যেন এসব বিষয়ে উদাসীন। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অতি-ডানপন্থী জোট, তার বিচার বিভাগীয় সংস্কার যা গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করেছে। এছাড়াও মার্কিন ইহুদিদের সমালোচনাকে তার অবহেলা- ‘তারা আমাদের নিরাপত্তা প্রয়োজনীয়তা বোঝে না’, এসব বিষয় উদারপন্থী মিত্রদের আরো বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। জাতি-রাষ্ট্র আইন ইহুদি আধিপত্যকে সংবিধানে সুরক্ষিত করেছে এবং ক্রমাগত বসতি সম্প্রসারণ শুধু এই ফাটলকে আরো গভীরতর করছে।

মার্কিন ও ইসরাইলি ইহুদিদের মধ্যকার বিভেদ এখন প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে। মার্কিন ইহুদিরা অধিকাংশই ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল, বহুত্ববাদ ও সমতার পক্ষে। অন্যদিকে, বিশেষ করে নেতানিয়াহুর শাসনকালে, ইসরাইলি ইহুদিরা ক্রমশ জাতীয়তাবাদকে গ্রহণ করছে এবং ফিলিস্তিনিদের বৈধ অধিকারকে ইসরাইলের নিরাপত্তার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করছে। এই সংঘাত ২০২১ সালের গাজা যুদ্ধের সময় তীব্র আকার ধারণ করে। যখন ইসরাইলি মিডিয়া তাদের বোমা হামলাকে আত্মরক্ষা বলে উপস্থাপন করেছিল, তখন মার্কিন ইহুদিরা সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের প্রমাণ দিয়েছিল।

এর প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত তীব্র হয়ে ওঠে। ইসরাইলি কর্মকর্তারা মার্কিন ইহুদিদের ‘অবিশ্বস্ত’ বলে অভিযুক্ত করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক কৌশলবিদ স্টিভ ব্যানন প্রগতিশীল ইহুদিদের ‘ইসরাইলের সবচেয়ে বড় শত্রু’ বলে আখ্যা দেন। ইহুদিবিরোধী ভাবধারায় ভরা এমন ভাষা একটি তিক্ত সত্য প্রকাশ করে- ইসরাইলের সরকারের কাছে দ্বিমত মানেই বিশ্বাসঘাতকতা।

একসময় ‘মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র গণতন্ত্র’ বলে প্রশংসিত ইসরাইলের বিরুদ্ধে এখন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও বি’তসেলেমের মতো সংস্থা ‘বর্ণবাদী রাষ্ট্র’ হওয়ার অভিযোগ তোলে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধের তদন্ত করছে। এদিকে বয়কট, বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা (বিডিএস) আন্দোলন বিশ্বব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

মার্কিন ইহুদিদের জন্য এই বিচ্ছিন্নতা বেদনাদায়ক। ইসরাইলকে একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে যে মিথ তৈরি করা হয়েছিল, তা এখন চেকপয়েন্ট, বাড়ি ধ্বংস ও পৃথক সড়কের বাস্তবতার সাথে সংঘর্ষে জর্জরিত। তাদের পূর্বপুরুষদের নিপীড়নের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়া তরুণ ইহুদিরা ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুতির সাথে নিজেদের গণহত্যার বেদনাদায়ক ইতিহাস মিলিয়ে দেখছেন। ২০২২ সালের একটি জরিপে দেখা গেছে, ৩৫ বছরের নিচে ২৫ শতাংশ মার্কিন ইহুদি ইসরাইলকে একটি বিশেষভাবে ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে সমর্থন করতে রাজি নন, যা একসময় অকল্পনীয় ছিল।

নেতানিয়াহুর অতিরক্ষণশীল দলগুলোর ওপর নির্ভরশীলতা অরক্ষণশীল ইহুদিদের আরো প্রান্তিক করে তুলেছে। তারা বিয়ে ও ধর্মান্তর সংক্রান্ত আইনে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। গাজায় বন্দীদের মুক্তির আলোচনার চেয়ে সামরিক হামলাকে অগ্রাধিকার দেয়ায় ইসরাইলের মানবিক ভাবমূর্তি আরো কলঙ্কিত হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অবহেলা একটি ভয়াবহ সতর্কবার্তা বহন করে। শুরুতে মার্কিন অস্ত্র সহায়তায় সমৃদ্ধ হলেও এখন ইউরোপের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছে ইউক্রেন। কারণ রিপাবলিকানদের সমর্থন কমে গেছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একসময় মার্কিন কংগ্রেসে নায়ক ছিলেন। তিনি এখন সেই লেনদেনভিত্তিক মিত্রতার ঝুঁকি তুলে ধরছেন- স্বার্থ পরিবর্তন হলে জোট ভেঙে পড়ে।

ইসরাইলও এর থেকে মুক্ত নয়। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে নেতানিয়াহু জেরুসালেমে দূতাবাস স্থানান্তর ও দখল প্রসারে সহায়তাসহ নানা সুবিধা পেয়েছিলেন। তবে সেই আনুগত্য কেবল কাজে লাগার ওপর নির্ভর করেছিল। দ্বিতীয় দফা ট্রাম্প প্রশাসনে ইসরাইল যদি ’মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ আন্দোলনের অগ্রাধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে, তবে তাকে সহজেই উপেক্ষা করা হতে পারে।

ফলস্বরূপ, এই দখলদার রাষ্ট্র এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। তাদের লবির শক্তি এখনো প্রবল। কিন্তু নৈতিক অবস্থান একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। মার্কিন ইহুদিরা একসময় ইসরাইলের সবচেয়ে দৃঢ় মিত্র ছিল। ক্রমেই তারা জাতিগত সংহতির পরিবর্তে সার্বজনীন ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। দেশকেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদের উত্থান এই সম্পর্ককে আরো দুর্বল করে তুলছে। কারণ তরুণ ইহুদিরা বিদেশী সংঘাতের চেয়ে অসমতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ইস্যুগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

ইউক্রেনের পরিস্থিতির সাথে এই সাদৃশ্য স্পষ্ট। যেমন ইউক্রেনের প্রতি মার্কিন সহায়তা স্বার্থ পরিবর্তনের কারণে ম্লান হয়ে গেল, তেমনি ইসরাইলও মার্কিন ইহুদিদের সমর্থন ও শেষ পর্যন্ত মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতা হারালে একই পরিণতির শিকার হতে পারে। বর্তমান ইসরাইলি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলে কিসিঞ্জারের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হওয়া অসম্ভব নয়। ইসরাইলও সেই পরিত্যক্ত মিত্রদের তালিকায় যুক্ত হতে পারে, যার করুণ উদাহরণ ইউক্রেনের দুর্ভোগ।

নৌ ঘাঁটি ও বিমান ঘাঁটিসহ সশস্ত্র বাহিনীর আট স্থাপনার নাম পরিবর্তন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা তার পরিবারের সদস্য বা তার সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা সশস্ত্র বাহিনীর আটটি সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।

এর মধ্যে নৌবাহিনীর তিনটি, বিমানবাহিনীর তিনটি, সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজের একটি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

রোববার এ বিষয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপন জারি করে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, যিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী দায়িত্বে রয়েছেন তিনি এই নামগুলো বাতিল করে প্রস্তাবিত নতুন নাম অনুমোদন করেছেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

ওই আট সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নতুন নামের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। সেগুলো হলো-

১. চট্টগ্রাম নিউ মুরিংয়ে বানৌজা বঙ্গবন্ধুর নাম হয়েছে বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ

২. ঢাকার খিলক্ষেত নামাপাড়ায় বানৌজা শেখ মুজিবের নাম হয়েছে বানৌজা ঢাকা

৩. কক্সবাজারের পেকুয়ায় বানৌজা শেখ হাসিনার নাম হয়েছে বানৌজা পেকুয়া

৪. কুর্মিটোলায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ঘাঁটি বঙ্গবন্ধুর নাম হয়েছে ঘাঁটি বীর উত্তম একে খন্দকার

৫. কুর্মিটোলায় বিমানবাহিনীর বঙ্গবন্ধু অ্যারোনটিক্যাল সেন্টারের নাম হয়েছে বাংলাদেশ অ্যারোনটিক্যাল সেন্টার

৬. যশোরে বিএএফ একাডেমিতে বিএএফএ বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের নাম হয়েছে বিএএফএ কমপ্লেক্স।

৭. ঢাকার মিরপুর সেনানিবাসে সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজের শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সের নাম হয়েছে ডিএসসিএসসি কমপ্লেক্স

৮. ঢাকার শের-ই-বাংলা নগরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গণভবন কমপ্লেক্সে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের নাম হয়েছে প্রতিরক্ষা জাদুঘর।