Home Blog Page 457

গণতন্ত্র ধ্বংসকারী আ’লীগকে গণতন্ত্রের সুবিধা দেয়ার কথা চিন্তা করতে পারি না

৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত বাকশালের ঘটনা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের বার বার বলতে হবে, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র বিশ্বাস করতো না। আওয়ামী লীগ বার বার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। সুতরাং, আওয়ামী লীগকে আর কোনো গণতন্ত্রের সুবিধা দেয়ার কথা চিন্তা করতে পারি না।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২৫ মার্চের এই কালো দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এই দেশের মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। হত্যা করেছে লাখো নিরীহ মানুষকে। কিন্তু পাকিস্থান এখনো ক্ষমা চায়নি। এ কথা বলছি এ কারণে, একটি গোষ্ঠী এই বিষয়ে আমলে নিচ্ছে না, তারা বলেছ, ৭১ কোনো ঘটনা না। তারা বরং পাকিস্তান সেনা বাহিনীকে সহায়তা করেছে। তাদের নাম বলতে চাই না। এখন তারা আবার গলা ফুলিয়ে কথা বলার চেষ্টা করছে। ইতিহাস তো ইতিহাস। এটা যেন আমরা ভুলে না যাই।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেছে। এটাই এদের চরিত্র। ওরা দেখে, জনগণ যখন ক্ষেপে উঠে, তখন ওরা এভাবে কর্মীদের অরক্ষিত রেখে পালিয়ে যায়। এবার তাই করেছে, জনতার ক্ষোভে ভারতে পালিয়ে গেছে।

‘বাংলাদেশের মহিয়সী নারী বেগম খালেদা প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে নয় মাস জেলে ছিলেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, সংস্কার প্রথম শুরু হয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত দিয়ে, পরে করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। দেশের মৌলিক সংস্কার কিন্তু বিএনপির হাতে দিয়েই। এখন ৩১ দফা রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের প্রস্তাব দিয়েছে তো বিএনপি, ১৬ সালে বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০৩০ ভিসন দিয়েছেন। সংস্কার কোনো নতুন বিষয় নয়। অথচ অন্তর্বতী সরকার সংস্কারের পাহাড় এনেছে। আমরা সংস্কারের প্রস্তাবনায় মতামত দিয়েছি, পক্ষে-বিপক্ষে। আমরা বলেছি, নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। আজ সোশাল মিডিয়া কিছু কুতুবের আবির্ভাব হয়েছে। তারা যে বাংলাদেশকে কোথায় নিতে চায়, আমাদের জানা নেই। দেশের সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। যেটা আমরা মেনে নেব না। কারণ সেনাবাহিনী দুঃসময়ে আমাদের পাশে দাঁড়ায়।

তিনি বলেন, আন্দোলনের ভিত্তি তো বিএনপি করেছে। হঠাৎ করেই একটা বিপ্লব হয়নি, বিএনপির নেতাকর্মীদের আন্দোলনের মধ্যে উঠে এসেছে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি খারাপ কাজ করে এমন কথা যেন না শুনতে হয়। এতে সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যাবে। আগামী বাংলাদেশ আপনাদের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বাস করি, ওরা গাড়ি বহর নিয়ে যা করুক, সমস্যা নেই। আমরা জানি ওরা কী করতে পারবে। আগামীতে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবে, ইনশা আল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্যকে আমরা সফল করতে পারিনি। দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বার বার হোঁচট খেয়েছি। শুধু কী তাই, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে অস্বীকার করেছিল স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ। জিয়ার অবদানকে অস্বীকার করতে গিয়ে বার বার আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। অথচ জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাতা করেছিলেন। দেশের মানুষ প্রমাণ করছে, ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে সরকার পরিবর্তন করতে পারে, যেটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে দেখিয়েছে। ভোট দিতে বাধা সৃষ্টি করে তাদের বিতাড়িত করে পারে।

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষিত ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টির পাঁয়তারা করা হচ্ছে, উছিলা সামনে আনার চেষ্টা করেছে। জনগণ সন্দেহ পোষণ করছে, আমরা কিন্তু বুঝি। কেউ বলছে, সংস্কার আবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এগুলো বলে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিলম্ব করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। দেশ নির্বাচনমুখী হলে যত ষড়যন্ত্র আসুক না কেন, জনগণ তা মোকাবেলা করবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা মনে করেছিলাম, স্বৈরাচার পতনের মধ্যে দিয়ে দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ফিরে পাব, ‘না’। এখন গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে প্রশ্নের সম্মুখীন করা হচ্ছে। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা হীন চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন দেখি, বিএনপি যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে, বিএনপিকে আটকে দেয়া চেষ্টা করা হচ্ছে। বিরাজনীতিকরণের চেষ্টা চলছে, একটি প্রকল্পের মাধ্যমে। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা করেছিল তাকে জনগণ ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে।

আলোচনা সভায় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা বহুমত ও পথের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সমুন্নত রাখতে হবে

জাতির সম্মিলিত ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ‘৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা বহুমত ও পথের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সমুন্নত রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত তারেক রহমান।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যক্রমে গণতন্ত্রবিনাশী শক্তির চক্রান্ত এখনো থেমে নেই। বার বার ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচারী ও অবৈধ শক্তি আমাদের সে লক্ষ্য পূরণ করতে দেয়নি। দেশি-বিদেশি চক্রান্তের ফলে আমাদের গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি হোঁচট খেয়েছে এবং স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা দিবসে আনন্দোজ্জ্বল মুহূর্তের মধ্যে প্রথমেই যে কথা মনে পড়ে, তা হলো এ দেশের অগণিত দেশপ্রেমিক শহীদের আত্মদান; আমি এ মহান দিনে তাদের গভীর শ্রদ্ধা জানাই। যাদের অবিস্মরণীয় আত্মদানে অর্জিত হয়েছে দেশমাতৃকার মুক্তি। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমসহ সব জাতীয় নেতার স্মৃতির প্রতি আমি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। যাদের জীবন মরণ লড়াইয়ে ৯ মাসে আমরা বিজয় লাভ করেছি সেইসব অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা জাতি কখনোই বিস্মৃত হবে না। আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেসব মা-বোনদের কথা, যারা মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, স্বাধিকার আর স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে রক্তস্নাত পথে বিশ্ব মানচিত্রে উদ্ভাসিত হয় আমাদের মানচিত্র। এ দিনে দেশমাতৃকার শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। তার ঐতিহাসিক ঘোষণায় সেই মুহূর্তে দিশেহারা জাতি পেয়েছিল মুক্তিযদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার অভয়মন্ত্র। একটি শোষণ, বঞ্চনাহীন, মানবিক সাম্যের উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে এদেশের মানুষ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার হীন লক্ষ্যে পলাতক অবৈধ সরকার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে ফেলেছে। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরে আজও তাই এদেশের মানুষ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারেনি। ফ্যাসিবাদের পতনের পর এখন সুযোগ এসেছে বাংলাদেশের সকল দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল, সংগঠন, ব্যক্তি এবং জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথচলা নিশ্চিত করা এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে সংহত করা। এটিই হচ্ছে স্বাধীনতার মূল চেতনা।

এছাড়াও মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাণীতে তিনি বলেছেন, মহান স্বাধীনতা দিবসে আমি সশ্রদ্ধচিত্ত্বে স্মরণ করি স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে, যার ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে এদিনে গোটা জাতি মরণপন মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

‘এদেশের জাতীয় জীবনে স্বাধীনতা দিবস সবচাইতে গৌরবময় ও পবিত্রতম দিন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে রক্তস্নাত স্বাধীনতা বিশ্বের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জল দিন। কোনো জাতিকেই জন্মভূমির জন্য এমনভাবে আত্মত্যাগ করতে হয়। তবে ১৯৭১ সালে যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশের মানুষ স্বাধীনতাযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল, তা আজও পূরণ হয়নি।’

তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার জন্য আজও দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আজও বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করার এক গভীর চক্রান্ত চলছে। লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতার সুরক্ষা ও গণতন্ত্রের পতাকাকে সমুন্নত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এজন্য গড়ে তুলতে হবে সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য।

ভালো আছেন তামিম, তবে ‘মুভ করা খুবই রিস্কি’

স্থিতিশীল আছেন তামিম ইকবাল। উন্নতি হয়েছে তার শারিরীক অবস্থার। অনেকটা শঙ্কামুক্ত বলা চলে। তবে এই মুহূর্তে তাকে অন্য কোথাও ‘মুভ করা খুবই রিস্কি’ বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

গাজীপুরের কেপিজে স্পেশালাইডজ হাসপাতালে আছেন তামিম।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এই মুহূর্তে মুভ করা তার জন্য খুব-ই রিস্কি, সে বিষয়টা নিয়ে তামিম ইকবালের সাথেও তাদের আলাপ হয়েছে।

হাসপাতালের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে তামিম ইকবালের হার্টে যে পিসিআই হয়েছে (হার্টের ব্লক খোলার চিকিৎসা পদ্ধতি), তাতে কখনো কখনো একটু রিয়্যাকশন হতে পারে। যে রিংটা লাগানো হয়েছে তা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, ডাক্তারি ভাষায় যাকে থ্রম্বোসিস বলা হয়। যদিও পরিসংখ্যানে এটি হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে সেই আশঙ্কা বা ঝুঁকি রয়েছে।

ওই ঝুঁকি নিয়ে তামিম ইকবালের পরিবারের সদস্যদের সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কথা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার সকালে বিকেএসপিতে শাইনপুকুরের বিপক্ষে মোহামেডানের হয়ে ম্যাচ খেলতে এসে বুকে ব্যথা অনুভব করেন তামিম। পরে তাকে পাশেই কেপিজে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখান থেকে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় নিয়ে আসার চেষ্টা করলে অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। এরপর আবার কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে আনার পর তার বুকে ব্লক ধরা পড়ে। জরুরি ভিত্তিতে এরপর দু’টি রিং পরানো হয় হার্টে।

সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

স্বাধীনতা দিবস ও পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে তার ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে।

গণআন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটার তিন দিনের মাথায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন অধ্যাপক ইউনূস।

এরপর বেশ কয়েকবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে দেখা গেছে তাকে।

সূত্র : বিবিসি

শৈলশহরে হামজা-সুনীল টক্করের ম্যাচ ঘিরে আকর্ষণ তুঙ্গে

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ ঘিরে মাতামাতি, উত্তেজনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দু’দেশের সমর্থকদের তর্কবিতর্ক বহুদিন হলো একটা আলাদা উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। ফুটবল এত দিন তার ধারেকাছেও ছিল না, কিন্তু মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় ভারতের মেঘালয়ের রাজধানী, শৈলশহর শিলংয়ে দু’দেশের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেও নতুন একটা ধারা যে তৈরি হতে যাচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই!

এদিন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ার পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল, যে ম্যাচটিকে ঘিরে উন্মাদনার পারদ দু’দেশেই ঊর্ধ্বমুখী।

এমনিতে ফিফার আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে দু’টি দলই ‘লাস্ট বেঞ্চের ছাত্র’। ২১০টি দেশের মধ্যে ভারতের বর্তমান র‍্যাঙ্কিং ১২৬, আর বাংলাদেশের ১৮৫।

কাজেই বিশ্ব ফুটবলে নিচের সারির দু’টি জাতীয় দলের ম্যাচকে ঘিরে আপাতদৃষ্টিতে তেমন কোনো হইচই হওয়ার কারণই ছিল না, অথচ হচ্ছে। যার কিছু কারণ ফুটবল-সংক্রান্ত, কিছুটা আবার ফুটবলের বাইরেরও।

প্রথমত, এই ম্যাচের মধ্যে দিয়েই প্রথম বাংলাদেশের জার্সি পরে মাঠে নামছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ তারকা হামজা চৌধুরী। যেরকম আন্তর্জাতিক মাপের ফুটবলার এর আগে কখনো দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দলের হয়ে কখনো খেলেননি।

সুতরাং হামজা চৌধুরীর যোগদান পুরো বাংলাদেশ টিমটার কাছে সমর্থকদের প্রত্যাশা এক লাফে অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।

দ্বিতীয়ত, এই ম্যাচের ঠিক আগেই অবসর ভেঙে আবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তুলে নিয়েছেন ভারতের সফলতম ফুটবল অধিনায়ক ও সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক গোল স্কোরার সুনীল ছেত্রী।

৪০ পেরোনো সুনীল ছেত্রী গত বুধবার (১৯ মার্চ) ওই শিলংয়ের মাঠেই মালদ্বীপের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ‘কামব্যাক’ করেছেন, নিজে গোল করেছেন এবং দলকে ৩-০ জেতানোর পেছনেও তার বড় ভূমিকা ছিল।

ফুটবল টিমগেম হতে পারে, তবে মঙ্গলবারের ম্যাচটাকে দু’দেশের অনেক সমর্থকই হামজা চৌধুরী বনাম সুনীল ছেত্রীর মোকাবিলা হিসেবেই দেখছেন।

তবে এসবের বাইরেও গত সাত-আট মাস ধরে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে যে তীব্র উত্তেজনা চলছে, সেই রাজনীতিরও অবধারিত প্রভাব পড়েছে এই ফুটবল ম্যাচের ওপর। দু’দলের সমর্থকরাই রীতিমতো ‘চার্জড’ হয়ে আছেন।

তাছাড়া মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এই জোড়া ম্যাচ দিয়ে ভারতের আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাপে অভিষেক হচ্ছে শিলং-এর, ফলে সে কারণেও মেঘালয়ের স্থানীয় দর্শক ও ফুটবল অনুরাগীদের মধ্যেও আগ্রহ তুঙ্গে। বাংলাদেশ ম্যাচের টিকিটও বিক্রি হচ্ছে হু হু করে।

ফলে সব মিলিয়ে খুব অন্য রকমের এবং ব্যতিক্রমী একটা ভারত-বাংলাদেশ ফুটবল ম্যাচ মাঠে গড়াতে যাচ্ছে আগামীকাল সন্ধ্যায়।

কতটা কাজ করবে ‘হামজা ফ্যাক্টর’?

২৭ বছর বয়সী হামজা চৌধুরী চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব লেস্টার সিটির হয়ে মোট ৫৭টি ম্যাচ খেলেছেন।

জানুয়ারিতে ‘লোনে’ শেফিল্ড ইউনাইটেডে যাওয়ার আগে পর্যন্ত ফক্সেস অ্যাকাডেমির এই গ্র্যাজুয়েটই ছিলেন বিগত দু’দশকের মধ্যে প্রিমিয়ার লিগে খেলা একমাত্র ব্রিটিশ এশিয়ান।

এখন বাংলাদেশী মায়ের সূত্রে তার বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলার সিদ্ধান্ত দলটার প্রোফাইল যে এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বাংলাদেশে এসে নামার পর থেকেই তাকে ঘিরে চলছে প্রবল মাতামাতি।

গত ২০ মার্চ ভারতের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন জামাল ভূঁইয়া এই কারণেই সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘মনে হচ্ছে যেন আমাদের মেসি এসে গেছে!’

জামাল ভূঁইয়া নিজে বাংলাদেশে এসেছেন ডেনমার্ক থেকে, কিন্তু তার বলতে কোনো দ্বিধা নেই, ‘আমি যখন প্রথম এসেছিলাম, তার চেয়ে উৎসাহটা এখন পাঁচ গুণ বেশি! হাজার হোক হামজা প্রিমিয়ার লিগ প্লেয়ার, এটা আমাদের মনোবল অনেক বাড়িয়ে দেবে।’

তবে একজন ফুটবলার পুরো দলের খেলার মান কতটা উন্নত করতে পারবেন, তা নিয়ে তর্ক আছে যথারীতি।

বাংলাদেশ ফুটবলকে হাতের তালুর মতোন চেনেন অস্কার ব্রুজন, যিনি এখন কলকাতার ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে কোচিং করান। ব্রুজন আগে বাংলাদেশের জাতীয় দলের কোচ ছিলেন, বসুন্ধরা কিংস ক্লাবেও কোচিং করিয়েছেন বহুদিন।

তিনি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, ‘প্রিমিয়ার লিগের একজন তারকা যখন আপনার দলে খেলে, দলের বাকিরাও কিন্তু নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে উদ্বুদ্ধ হয়। তাই আমি বলব, এখানে বাংলাদেশের অ্যাডভান্টেজটা হলো মনস্তাত্ত্বিক।’

হামজা চৌধুরী সেন্টার ব্যাক বা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড পোজিশনে খেলতে পারেন। তবে অস্কার ব্রুজনের ধারণা, বাংলাদেশ তাকে বেশি করে সামনে এগিয়ে (ফরোয়ার্ড) খেলাতে চাইবে।

ব্রুজন জানান, ‘বাংলাদেশ দলে কিন্তু শারীরিকভাবে শক্তসমর্থ বেশ কয়েকজন ফুটবলার আছে। তবে ওদের মাঝমাঠে কিছুটা সৃষ্টিশীলতার অভাব লক্ষ্য করা যায়। এখন হামজা খেলাতে ওকে ঘিরে খেলার প্যাটার্নটা বদলানোর চেষ্টা হবে ধারণা করছি।’

হামজা চৌধুরী নিজে অবশ্য এর আগে বাংলাদেশে থাকতেই ভারতকে হারানোর হুমকি দিয়েছেন।

তিনি সিলেটে ভক্তদের কাছে কথা দিয়েছেন, ‘টু উইনস, টু ডার্বিজ। ইনশাল্লাহ্ উই উইল উইন, অ্যান্ড উই উইল প্রোগ্রেস!’

চল্লিশোর্ধ্ব সুনীল ছেত্রী কী করতে পারেন?

আধুনিক ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা ও লেজেন্ড হলেন সুনীল ছেত্রী, যিনি গত বছরের জুন মাসেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছিলেন। অনেকেই মানেন, তার মাপের এত বড় গোল স্কোরার ভারতীয় ফুটবলে আর আসেনি।

ভারতের হয়ে ও দেশের বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে তার ২৬৮টি গোল আছে, যা একটি রেকর্ড। ১৫২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে তিনি গোল দিয়েছেন মোট ৯৫টি, যা সারাবিশ্বে চতুর্থ।

পর্তুগালের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, ইরানের আলি দাইয়ি আর আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ছাড়া নিজের দেশের হয়ে এত গোল আর কেউ করেননি।

গত জুন মাসে বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে কুয়েতের বিরুদ্ধে ম্যাচের পরই তিনি অবসরের কথা ঘোষণা করেছিলেন, তার ঠিক দু’মাস পরেই ৪০ পূর্ণ করেন সুনীল ছেত্রী।

কিন্তু ভারতের বর্তমান কোচ মানোলো মার্কোয়েজ তাকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে আবার জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য রাজি করিয়েছেন।

মার্কোয়েজ বলেন, ‘এশিয়ান কাপ আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই টুর্নামেন্ট ও সামনের ম্যাচগুলোতে আমাদের ভালো করাটা খুব জরুরি, তাই আমি সুনীলের সাথে কথা বলি। ও এলে আমাদের দল অনেক শক্তিশালী হবে, এটা বুঝেই ও ফিরতে রাজি হয়েছে।’

মালদ্বীপের বিরুদ্ধে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে নিজে গোল করে সুনীলও বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি এখনো ফুরিয়ে যাননি। ৭৬ মিনিটে দলের হয়ে তৃতীয় গোলটা করে রীতিমতো আবেগপ্রবণও হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

তবে যতই অভিজ্ঞতা থাক, ৪০ পেরিয়ে যাওয়া একজন ফুটবলার শেষ পর্যন্ত মাঠে কতটা কী করতে পারবেন তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।

ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচের আগে যে হামজা চৌধুরীকে নিয়ে এত আলোচনা, তিনি নিজেও কিন্তু সুনীল ছেত্রীকে বেশি সমীহ করতে চাননি।

হামজা বলেছেন, ‘ছেত্রীকে আমি খুব একটা বেশি দেখিনি। হ্যাঁ, ভারতের হয়ে ও প্রচুর খেলেছে, অনেক অভিজ্ঞতা। ও ভালো প্লেয়ার ঠিকই, কিন্তু আমি নিশ্চিত ওর চেয়েও ভালো অনেক প্লেয়ারের বিরুদ্ধেই খেলেছি।’

‘আর হ্যাঁ, এটা কিন্তু হামজা বনাম ছেত্রী নয়। মনে রাখতে হবে এটা ভারত বনাম বাংলাদেশ!’

শিলংজুড়ে ফুটবল জ্বর

মঙ্গলবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচটা অনুষ্ঠিত হবে পাহাড়ি শহর শিলংয়ের জহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে, যে মাঠটা ‘পোলো গ্রাউন্ড’ নামেই বেশি পরিচিত।

প্রায় ৩০ হাজার দর্শক আসনের এই মাঠে ন্যূনতম টিকিটের দাম রাখা হয়েছিল মাত্র ১০০ রুপি, ফলে হু হু করে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। রোববার বিকেলে ফোন করে জানা গেল, আর অল্প কিছু টিকিটই বাকি আছে।

সাত দিনের ব্যবধানে এই স্টেডিয়ামে দু’টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ হচ্ছে, অথচ শিলংয়ে এর আগে কখনো ভারতের জাতীয় দল খেলেইনি।

ভারতে ফুটবল সাংবাদিকতার পরিচিত মুখ রূপায়ন ভট্টাচার্যর কথায়, ‘শিলং আসলে এটা ডিজার্ভ করে। কারণ বাইচুং ভুটিয়া-পরবর্তী যুগে ভারতীয় ফুটবলে যে বিপ্লব ঘটে গেছে, তাতে সবচেয়ে বড় অবদান মণিপুরের, তার পরেই আসবে মেঘালয়ের নাম।’

তিনি বলেন, ‘ওই রাজ্যের ফুটবল অবকাঠামোও বেশ ভালো। শিলংয়ের স্টেডিয়ামটা যেমন শহরের একদম মাঝখানে, লোকজন খুব সহজে মাঠে আসতে পারেন। রাজ্যের কর্মকর্তারাও বেশ দক্ষ ও সৎ।’

মেঘালয়ের একটা সমৃদ্ধ ফুটবল সংস্কৃতি আছে বলেই ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ ঘিরে পরিবেশ এত জমজমাট হয়ে উঠেছে, এটা অনেকেই মানছেন।

ডাউকি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশী নাগরিকদের স্থলপথে শিলং যাওয়া বেশ সহজ, ফলে ভারত ভিসার কড়াকাড়ি শিথিল করলে হয়তো আরো বহু বাংলাদেশী সমর্থক এ ম্যাচ দেখতে শিলংয়ে যেত পারতেন।

তবে গত ৫ আগস্টের পর থেকে ভারত ও বাংলাদেশের গণমাধ্যমে সীমান্ত সংঘাত, সংখ্যালঘু নির্যাতন বা শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেয়াসহ নানা ইস্যুতে যে ধরনের পাল্টাপাল্টি ‘প্রচারযুদ্ধ’ চলছে, তারও একটা প্রভাব অবধারিতভাবে এই ম্যাচের ওপর পড়েছে।

রূপায়ণ ভট্টাচার্য বলেন, ‘হামজা চৌধুরী বা সুনীল ছেত্রী ছেড়েই দিলাম, ম্যাচটাকে ঘিরে এত আকর্ষণের প্রধান কারণ যে এই মুহূর্তের রাজনৈতিক পরিবেশ, তা তো বোঝাই যাচ্ছে!’

সূত্র : বিবিসি

গুরুতর অসুস্থ হয়ে লাইফ সাপোর্টে তামিম

মোহামেডানের হয়ে ডিপিএলের ম্যাচ খেলতে সাভারের বিকেএসপি মাঠে হাজির হয়েছিলেন তামিম ইকবাল। সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট থেকে সদ্যই সাবেক হয়ে যাওয়া এই তারকা ক্রিকেটার। প্রাথমিক অবস্থায় তাকে ঢাকায় আনার জন্য হেলিকপ্টার নেয়া হলেও পরিস্থিতি মোটেই অনুকূলে ছিল না।

শেষ পর্যন্ত সাভারেই জরুরিভিত্তিতে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। বিকেএসপির পাশেই ফজিলাতুননেসা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে তাকে। ধারণা করা হচ্ছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন তামিম ইকবাল।

এদিকে, তামিম ইকবালের সবশেষ অবস্থা নিয়ে যোগাযোগ করা হয় ডিপিএল সমন্বয়কারী সাব্বির আহমেদ রুবেলের সঙ্গে। জবাবে ঢাকা পোস্টকে জানালেন, বর্তমানে সাভারের ফজিলাতুননেসা হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন।

ঢাকা থেকে ইতোমধ্যে তার ভাই নাফিস ইকবাল এবং স্ত্রী পৌছেছেন। মিরপুর থেকে গিয়েছেন বিসিবির পরিচালকরা। এদিকে আজ হওয়ার কথা ছিল বিসিবির বোর্ড মিটিং। তবে সেটি শেষ পর্যন্ত স্থগিত হয়ে গিয়েছে। 

ভারতে গ্রোক ঝড়ে বিপাকে বিজেপি-আরএসএস

এমন একটা পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, তা হয়তো কল্পনাও করেনি ভারতের ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদি সরকার। প্রশ্ন করলেই মিলছে এমন জবাব, যা দেশটির ক্ষমতাসীন কট্টরপন্থি বিজেপি-আরএসএস সরকারের মুখ বন্ধ করতে যথেষ্ট। এর প্রতিকারও বের করতে পারছে না। কারণ, এর পেছনে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে মার্কিন ধনকুবের ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজন ইলন মাস্কের। সূত্র: দ্য ওয়্যার

কথা হচ্ছিল উন্নতমানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) চ্যাটবট ‘গ্রোক-৩’ নিয়ে। ইলন মাস্কের সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’ ব্যবহারকারীরা এর মাধ্যমে নানা প্রশ্নের উত্তর জানতে পারছেন। যে কোনো বিষয়ের সত্যতা যাচাই করতে পারছেন। গ্রোকের দাবি, এসব জবাব পুরোপুরি তথ্যনির্ভর। তবে এ নিয়ে বিপাকে পড়েছে কট্টরপন্থি সংগঠনগুলো। এতদিন এসব সংগঠন যা দাবি করছিল, গ্রোক তার উল্টো উত্তর দিচ্ছে। কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ‘বার ডান্সার’ ছিলেন কিনা– প্রশ্নে বলছে, তিনি বার অ্যাটেন্ডেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন; ডান্সার ছিলেন না। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে মোদির ‘অনুপ্রবেশকারী’ মন্তব্যের জবাবে গ্রোক বলছে, এটা তিনি করেছেন ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদ’ জাগাতে।

ব্রিটিশদের কাছে সবচেয়ে বেশিবার কে ক্ষমা চেয়েছেন এবং কে তাদের কাছ থেকে মাসে ৬০ টাকা পেনশন নিতেন– এমন প্রশ্নে গ্রোক বলছে ভারতের হিন্দুত্ববাদী নেতা বিনায়ক দামোদর সাভারকরের কথা। একজন জানতে চান, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে আরএসএসের ভূমিকা কী ছিল। উত্তরে বলা হয়, ‘গবেষণালব্ধ তথ্য অনুসারে আরএসএসের ভূমিকা ন্যূনতম অথবা শূন্য ছিল। কারও কারও দাবি– ভূমিকা ছিল, কিন্তু প্রমাণ দেখাচ্ছে তা অতি নগণ্য। কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিয়ে থাকতে পারেন, তবে সংগঠন হিসেবে নয়।

বিজেপির অন্দর মহলে দাবি উঠছে, অবিলম্বে ‘গ্রোক-৩’ নিয়ন্ত্রণ করা হোক। কিন্তু সে দাবি মেনে সরকারের সক্রিয় হওয়াও সহজ নয়। কারণ এটি মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের।

হামজাকে নিয়ে ভারতেও মাতামাতি

২০১৩ সালের সাফে পাকিস্তান দলে খেলেছিলেন ইংলিশ লিগের ক্লাব ফুলহ্যামে খেলা জেশ রহমান। তাকে নিয়ে যতোটা মাতামাতি হয়েছিল এর চেয়ে অনেক বেশি মাতামাতি এখন বাংলাদেশী হামজা দেওয়ান চৌধুরীকে নিয়ে।

লেস্টারসিটির গন্ডী পেরিয়ে হাজমা এখন প্রিমিয়ার লিগের পরের স্তর চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের ফুটবলার। এরপরও তাকে ঘিরে উন্মদনার কমতি নেই। তা বাংলাদেশে যেমন, লাল-সবুজদের প্রতিপক্ষ ভারতেও তাই। ২৫ মার্চ ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বের।

এই ম্যাচের জন্য গতকাল ভারত গেছে হাভিয়ার কাবরেরা বাহিনী। সকালে ঢাকা থেকে কলকাতা হয়ে ম্যাচের ভেন্যু মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে পৌঁছা। কলকাতা বিমানবন্দরে এক ঘণ্টার উপরে ট্রানজিট ছিল বাংলাদেশ দলের। এই অল্প সময়ে জামাল ভূঁইয়ারা বিমানবন্দরের ভেতরেই ছিলেন। তবে এই সুযোগে হামজার সাথে ছবি তুলতে ভুল করেনি বিমানবন্দরে থাকা লোকজন। সেখানেই তারা ইংল্যান্ড প্রবাসী ফুটবলারটির সাথে নিজেদের মোবাইলে ক্যামেরাবন্দী করেছেন। ট্রানজিট শেষে হাভিয়ার কাবরেরা বাহিনী ভারতীয় অভ্যন্তরীণ বিমানে চড়ে শিলংয়ে যায়।

ভারতের সেভেন সিস্টার্সের এই শহরে বাংলাদেশ দল পৌঁছার পর থেকেই চলেছে হামজাকে নিয়ে মাতামাতি। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে হোটেল লবিতে থাকা পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের নতুন প্রবাসী ফুটবলারটির পিছু নেয় ভারতীয়রা। হোটেল লবিতে এক ঘণ্টরও বেশি ছিল বাংলাদেশ দল। তখন লবিতে হামজার সাথে ছবি তুলেছেন হোটেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সাথে বিভিন্ন কর্মকর্তার ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ছিল। জানান বাফুফের মিডিয়া ম্যানেজার সাদমান সাকিব। হোটেল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দলের সদস্যদের সবাইকে সম্মানসূচক বস্ত্র উত্তরীয় গলায় পরিয়ে দেয়।

গতকাল অবশ্য বাংলাদেশ দলের কোনো অনুশীলন ছিল না। আজ মাঠে নামবে জামাল-হামজারা।

এদিকে গতকাল বাংলাদেশ দল ২৩ ফুটবলারের বদলে ২৪ জনকে নিয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

সাধারণত ২৩ ফুটবলার নেয়ার নিয়ম। কেন এক খেলোয়াড় বেশি নিয়েছে দলের সাথে সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায়নি। দলের সাথে ভারত যাওয়া হয়নি মিডফিল্ডারম আরিফ হোসেন, স্ট্রাইকার পিয়াস আহমেদ নোভা ও ডিফেন্ডার তাজউদ্দিন। নোভাকে যথেষ্ট সম্ভাবনাময় স্ট্রাইকার ভাবা হচ্ছে। মালদ্বীপের বিপক্ষে সর্বশেষ ফিফা প্রীতি ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে দারুণ খেলেছিলেন তিনি।

এদিকে বাংলাদেশকে মোকাবেলার আগে গত পরশু প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল মালদ্বীপের বিপক্ষে। ওই ম্যাচে তাদের ৩-০ গোলে জয়। এর একটি গোল অবসর ভেঙ্গে ফেরা সুনীল ছেত্রীর। ম্যাচ শেষে ভারতের কোচ মানোলো মার্কুয়েজ বেশ সতর্ক উত্তর দিলেন বাংলাদেশ দল ও হামজা চৌধুরীকে নিয়ে।

তার মতে, ‘হামজা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ছেড়ে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের দল শেফিল্ড ইউনাইটেডে গেলেও সেখানে সে নিয়মিতই খেলছে। সে অসাধারণ এক খেলোয়াড়।’

এরপর বাংলাদেশ দলকে নিয়ে তার বক্তব্য, বাংলাদেশ দল গত কয়েক বছর ধরে একই কোচের অধীনে বেশ ভালো খেলছে। আমার মনে হয় ম্যাচটি করোর জন্যই সহজ হবে না। দুই দলের জন্যই ম্যাচটি কঠিন হবে।

ভারতে যাওয়া বাংলাদেশ দল : হামাজ চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়া, মিতুল মারমা, সুজন হোসেন, মেহেদী হাসান শ্রাবণ, শাকিল আহাদ তপু, রহমত মিয়া, শাকিল হোসেন, ঈসা ফয়সাল, তারিক রায়হান কাজী, তপু বর্মন, সাদউদ্দিন, মোহাম্মদ হৃদয়, সৈয়দ শাহ কাজেম কিরমানী, মো: সোহেল রানা, সোহেল রানা, চন্দন রায়, মজিবুর রহমান জনি, শেখ মোরসালিন, রাকিব হোসেন, শাহরিয়ার ইমন, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, আল আমিন।

আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তানের রেকর্ড গড়া জয়

ক্রিকেট মানেই যেখানে অনিশ্চয়তার খেলা, পাকিস্তান যেন সেখানে একটু বেশিই রহস্যে ঘেরা। আনপ্রেডিক্টেবল শব্দটা তো এমনি এমনিই জুটেনি। অকল্যান্ডেও তার ব্যক্তিক্রম কিছু ঘটেনি।

অকল্যান্ডে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের করা ২০৪ রান ২৪ বল ও ৯ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে গেছে পাকিস্তান। ১৬ ওভারেই দুই শতাধিক রান তাড়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটিই প্রথম।

এমন দাপুটে জয় দেখে কে বলবে, এই দলটাই আগের দুই ম্যাচে ব্যাটিংয়ে ধুঁকেছে। প্রথম ম্যাচে ৯১ রানে গুটিয়ে যাবার পর দ্বিতীয় ম্যাচে তুলে ১৩৫ রান। হেরে যায় সেই দুটো ম্যাচেই। আর এবার যখন লক্ষ্য ২০৫ রানের। দেখা দেয় দুই ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ হারের শঙ্কা।

সেই শঙ্কা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেন হাসান-নাওয়াজ। সিরিজের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে রানের খাতা খুলতে না পারা এই তরুণ ক্যারিয়ারের তৃতীয় ম্যাচেই পৌঁছে যান তিন অংকের ঘরে! খেলেন ৪৫ বলে ১০৫ রানের ইনিংস।

হার না মানা এই ইনিংস খেলার পথে হাসান ভাঙেন পাকিস্তানের হয়ে বাবর আজমের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। মাত্র ৪৪ বলে পৌঁছান তিন অংকের ঘরে। বাবরের দ্রুততম সেঞ্চুরিটি ছিল ৪৯ বলে।

ওপেনার হারিসের সাথে তুলেন ৭৪ রান। ২০ বলে ৪১ রান করে ৫.৫ ওভারে আউট হন হারিস। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে সালমান আগার সাথে গড়েন অবিচ্ছিন্ন ১৩৩ রানের জুটি। যেখানে ৩০ বলে ৭৫ রানই তোলেন হাসান।

৩১ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন আগা সালমান। তাতে মাত্র ১৬ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছায় পাকিস্তান। দুই শতাধিক রান তাড়ায় যা সবচেয়ে দ্রুততম জয়ের রেকর্ড।

এর আগে আগে ব্যাট করে ১৯.৫ ওভারে ২০৪ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। দলের হয়ে ৪৪ বলে সর্বোচ্চ ৯৪ রান করেন মার্ক চাপম্যান। ১৮ বলে ৩১ রান আসে ব্রেসওয়েলের ব্যাটে।

পাকিস্তানের হয়ে হারিস রউফ ৩, শাহিন আফ্রিদি, আব্বাস আফ্রিদি ও আবরার আহমেদ নেন দুটো করে উইকেট।

২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসীর মৃত্যু

২০২৪ সালে সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড ৮,৯৩৮ জন অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার জাতিসঙ্ঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। কারণ অনেক মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয় না বা নিখোঁজ ব্যক্তিদের কোনো সন্ধান মেলে না। এ তথ্য প্রকাশ করেছে সংবাদ সংস্থা এপি।

আইওএম-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত বছর অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক অঞ্চল ছিল এশিয়া, যেখানে ২,৭৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভূমধ্যসাগর, যেখানে ২,৪৫২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে আফ্রিকা, যেখানে ২,২৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া ক্যারিবীয় অঞ্চলে ৩৪১ জন, ইউরোপে ২৩৩ জন এবং কলম্বিয়া ও পানামার মধ্যবর্তী দারিয়েন গিরিখাতে ১৭৪ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

আইওএম-এর মিসিং মাইগ্রেন্টস প্রকল্পের সমন্বয়ক জুলিয়া ব্ল্যাক জানিয়েছেন, বাস্তবে মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। কারণ অনেক মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয় না এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজ মেলাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অর্থসহায়তা সঙ্কটের কারণে আইওএম তাদের গুরুত্বপূর্ণ ‘জীবন রক্ষাকারী’ কর্মসূচির অনেকগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের লাখো অভিবাসী নতুন করে সংকটে পড়বেন। বিশেষজ্ঞরা এই গুরুতর অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।