Home Blog Page 46

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে সংসদে হট্টগোল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শুরুর দিনই উত্তপ্ত হয়ে উঠল সংসদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা। তাদের হট্টগোলে সংসদে ১০ মিনিটের মতো অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করার জন্য আহ্বান জানান। আপত্তিকর শব্দ এক্সপাঞ্জ না করলে সংসদ বর্জনেরও হুমকি দেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। প্রশ্নোত্তরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অভিযোগ তুলে প্রথমে এনসিপি এবং পরে জামায়াতের একজন সদস্যের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পল্টন বা শাহবাগ স্কয়ার আর সংসদ এক জিনিস নয়। ঢালাও অভিযোগের জবাব দেওয়া সম্ভব নয়, সুনির্দিষ্ট ঘটনা তুলে ধরতে হবে।

প্রথমে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রশ্ন করেন। এই প্রশ্নে তিনি বর্তমান সরকারের ছয় মাসে খুন-ধর্ষণের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ কিনা, জানতে চান।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটা প্রশ্ন হলো না পল্টনের বক্তৃতা হলো– বুঝতে পারিনি।’
পরে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ এ-সংক্রান্ত আরেকটি প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, দিনদুপুরে অস্ত্র ব্যবহার করে ছিনতাই হচ্ছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ওপর হামলা হচ্ছে। এমনকি সরকারি দলের সদস্য আয়নুল হক ও এসএম জাহাঙ্গীরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ-সংক্রান্ত মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। বরং এর পরিপ্রেক্ষিতে যে মিথ্যা ভুয়া মামলা দেওয়া হয়েছে, সেই মামলায় বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদক্ষেপ জানতে চান।

এক পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শাহবাগ স্কয়ারে বক্তব্য দেওয়া আর পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়া এক কথা না। তাঁর এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে সংসদে হইচই শুরু হয়। বিরোধী পক্ষের একাধিক সদস্য দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। বিরূপ পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি কাউকে উদ্দেশ করে বলেননি। তিনি তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করছেন বলে জানান। এক পর্যায়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আমি আপনার শেল্টার চাচ্ছি।’ এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিরোধী সদস্যদের নিবৃত্ত হওয়ার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ করতে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাতে থাকেন। বিরোধী সদস্যরা হইচই অব্যাহত রাখলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনরায় বক্তব্য শুরু করেন। বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে হইচই করেন। স্পিকার বলেন, ‘আপনারা কি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে রাজি না?’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিরোধী দলের নেতাকে সুযোগ দেওয়া হবে।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কোথায় ছিনতাই হয়েছে, আসামি গ্রেপ্তার হয়নি– সেটার সুনির্দিষ্ট বর্ণনা দরকার। ঢালাও অভিযোগ করলে জবাব দেওয়া যায় না। সেজন্য বলছি, এটা মহান জাতীয় সংসদ।’

এর পর বিরোধীদলীয় নেতাকে সুযোগ দেন স্পিকার। এ পর্যায়ে সরকারি দলের একাধিক সদস্য হইচই শুরু করেন। এর মধ্যেই বক্তব্যের শুরুতে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটা অশুভ। আমার বক্তব্যের সময় যদি এইভাবে কমেন্টস করা হয়, তাহলে আমার এখানে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজকে নতুন করে এই শব্দগুলো উচ্চারণ করেননি। তিনি বলেন, আজকে একই বক্তব্যে দুবার তিনি আক্রমণ করেন। তাঁর এই আচরণ বিরোধী দলের সদস্যরা মনে করে যে, এটা কালচারাল না, এটা পার্লামেন্টারিয়ান ফ্যাসিজম। এটা হওয়া উচিত না।

সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত স্পিকার
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি গভীর দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, ক্রমেই কিছু কিছু সদস্যের মধ্যে অসহিষ্ণুতা লক্ষ্য করছি। জাতীয় সংসদ পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এখানে প্রত্যেকেরই কথা বলার স্বাধীনতা আছে।’

স্পিকার বলেন, তিনি বক্তব্য পরীক্ষা করে দেখবেন, অসংসদীয় কিছু থাকলে এক্সপাঞ্জ করবেন। সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি কিন্তু সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। আজকে যেইভাবে একে অন্যকে কথা বলার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করেছি, এটি সংসদের জন্য কোনো ভালো লক্ষণ নয়।

দুষ্টুলোকে বলে– ‘টুকু আসে, টুকু যায়’
জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং নিয়ে সংসদে সমালোচনা করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুতের বিষয়ে দুষ্টুলোকে বলে, ভালো লোকে বলে না– টুকু আসে, টুকু যায়। এই আসে, এই যায়। কতক্ষণ থাকে তারা নাকি বুঝতে পারে না।’

জ্বালানি সংকট নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, যখন তেলের দাম বাড়ছে, যখন বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, যখন গ্যাস পাওয়া যায় না; তখন এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার প্রতিশ্রুতি যে সরকার দিয়েছিল, নির্বাচনে সে সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যে ৬২ হাজার লোক চাকরি হারিয়েছে। ৯শর ওপরে কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুশকিল হয়, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন– তিনি হয় ব্যঙ্গ করেন, না হলে বাকচাতুর্য দিয়ে পুরো বিষয়টি ঢেকে দিতে চান। কিন্তু সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, বাংলাদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যেমন তিনজন মন্ত্রী আছেন, ৬৪ জেলায় ৬৪ জন আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলে কেবল মন্দ হতো না।’

দুর্নীতি বন্ধ হলেই শিক্ষকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা হবে: চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইর পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। তখন শিক্ষকদের অধিকার, মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয়করণ করাও সহজ হবে গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম এ কথা বলেন।

জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক নাসির উদ্দীন খানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে সারাদেশ থেকে আসা শিক্ষক প্রতিনিধিরা বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে বক্তব্য দেন।

সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য জাতীয় শিক্ষক ফোরামের সভাপতি হিসেবে এবিএম জাকারিয়া, সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে মাওলানা মোহাম্মদ নেছার উদ্দীন এবং সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে আব্দুস সবুরের নাম ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আ খ ম ইউনুস, জাতীয়করণ প্রত্যাশি জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান প্রমুখ।

কপ সম্মেলনে যোগ দিতে নভেম্বরে তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ-৩১-এ অংশ নিতে আগামী নভেম্বরে তুরস্ক সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গতকাল বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের জেদ্দায় ২৩তম ওআইসি কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টার্সের (সিএফএম) বৈঠকের সাইডলাইনে তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ারের সঙ্গে বৈঠকে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানান তারা।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে উভয় পক্ষ বিদ্যমান সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করে। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কূটনীতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে অভিন্ন আগ্রহের কথা তুলে ধরা হয়। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বৈঠকে হুমায়ুন কবির তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, কপ-৩১-এ অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফর করবেন।

জ্বালানি পরিস্থিতি গ্যাস সরবরাহ কমেছে বেড়েছে লোডশেডিং পাঁচ দিনে এলএনজি সরবরাহ কমেছে ৭ কোটি ঘনফুট

এলএনজি কার্গো নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই দেশে গ্যাস সরবরাহ আবার কমতে শুরু করেছে। গত পাঁচ দিনে আমদানি করা এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ কমেছে প্রায় সাত কোটি ঘনফুট। এতে আগে থেকেই চলা গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়েছে। শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি।

শিল্পের সংকট সামলাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ কমানো হয়েছে। এর সঙ্গে জ্বালানি তেল ও কয়লার ঘাটতি যুক্ত হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ তৈরি হয়েছে। বেড়েছে গরম। ফল হিসেবে গত কয়েক দিনে লোডশেডিং বেড়েই চলছে।

মূলত এক মাসের বেশি সময় ধরে গ্যাস সংকটের পাশাপাশি লোডশেডিংও চলছে। বৃষ্টিতে বিদ্যুতের চাহিদা কমলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়, আবার গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিংও বেড়ে যায়। এতদিন মূলত ঢাকার বাইরের গ্রাহকদের ওপরই এর চাপ ছিল। তবে ১২ আগস্ট রাত থেকে সরকারি নির্দেশনায় ঢাকায়ও লোডশেডিং শুরু হয়েছে। রাজধানীর কোনো এলাকায় দিনে একবার, সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা লোডশেডিং করার পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে অনেক এলাকায় একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট দুপুর ২টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৩৮ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ১৬১ কোটি ৬০ লাখ এবং এলএনজি ৭৬ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট। পরদিন ২৬ আগস্ট দুপুর ১২টায় সরবরাহ কিছুটা বেড়ে মোট ২৪১ কোটি এবং এলএনজি ৭৯ কোটি ঘনফুটে ওঠে। এর পর থেকেই আবার কমতে থাকে সরবরাহ। ২৭ আগস্ট বিকেল ৪টায় মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে ২৩৫ কোটি ৪০ লাখ এবং এলএনজি ৭৩ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুটে।

২৮ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টায় মোট গ্যাস সরবরাহ আরও কমে দাঁড়ায় ২৩৩ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। দেশীয় উৎস থেকে সরবরাহ ছিল ১৬১ কোটি ৬০ লাখ এবং এলএনজি ৭২ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট। অর্থাৎ, ২৬ আগস্টের চেয়ে দুই দিনে মোট সরবরাহ কমেছে সাত কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। এলএনজি সরবরাহ কমেছে ছয় কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা সরকারি হিসাবে ৩৮০ কোটি ঘনফুট। খাত-সংশ্লিষ্টদের হিসাবে প্রকৃত চাহিদা ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ কোটি ঘনফুট।

গ্যাস সরবরাহ আরও কমতে পারে
গ্যাস সরবরাহ কমার মধ্যেই সামনে প্রয়োজনীয় এলএনজি কার্গো পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উচ্চমূল্য ও সরবরাহকারীদের কম সাড়ায় চাহিদা অনুযায়ী কার্গো সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে আগামী কয়েক দিনের দুটি কার্গোর সরবরাহ নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। ফলে বর্তমান সরবরাহ ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এসব কার্গো সময়মতো না এলে গ্যাস সরবরাহ আরও কমে সংকট তীব্র হতে পারে।

মহেশখালীর সামিট ও এক্সিলারেটের দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ করা হয়। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে। ঠিক হওয়ার পর কার্গো সংকটে টার্মিনালটি কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর ২২ আগস্ট একটি কার্গো আসায় পুনরায় সরবরাহ শুরু হয়।
আগস্টে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) কেনার উদ্যোগ নেওয়া কয়েকটি কার্গো সময়মতো না আসায় গ্যাস সরবরাহে বড় চাপ তৈরি হয়। গতকাল শুক্রবার এবং আগামী সোমবার দুটি কার্গো আসার শিডিউল ছিল; কিন্তু সেগুলো আসছে না। দরপত্রের মাধ্যমে কার্গো কেনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও উচ্চমূল্য এবং সরবরাহকারীদের কম সাড়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানি বাড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে গ্যাস সরবরাহ আরও কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিল্পে উৎপাদন কমছে
গ্যাসের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে শিল্পে। জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ কমে যায়। কোথাও দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যে নেমে যাচ্ছে, আবার কোথাও কয়েক ঘণ্টার বেশি কারখানা চালানো যাচ্ছে না।

গাজীপুরের মোশাররফ কম্পোজিট টেক্সটাইলে স্বাভাবিক সময়ে দিনে ১৭০ টন সুতা উৎপাদন হলেও গ্যাস-সংকটে তা নেমে এসেছে প্রায় ৩০ শতাংশে। এক মাসে কারখানাটির ক্ষতি হয়েছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। নরসিংদীর একটি বস্ত্রকল গ্যাসের অভাবে টানা ২২ দিন বন্ধ ছিল। নারায়ণগঞ্জের একটি ডাইং কারখানায় গত ১৮ আগস্ট থেকে গ্যাস না থাকায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ৬৬০টি বস্ত্রকল জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে তীব্র গ্যাস-সংকটে ভুগছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৩০০ পোশাক কারখানায় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
শিল্পমালিকদের শঙ্কা, দীর্ঘদিন গ্যাসের চাপ কম থাকলে উৎপাদন ও রপ্তানি দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতা হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হবে।

সিএনজিতে ভোগান্তি
গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশনেও স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় স্টেশনের সামনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। কোথাও গ্যাস নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন খাতে সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়ছে। গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক না হলে এই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

বাড়ছে লোডশেডিং
শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের বরাদ্দ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রে দৈনিক প্রায় ৯৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হলেও তা কমিয়ে ৭৫ কোটি ঘনফুট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাশ্রয় হওয়া প্রায় ২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস শিল্পে দেওয়ার কথা। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। গ্যাস কম পাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুরো সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের পাশাপাশি তেল ও কয়লার সংকটও চাপ বাড়াচ্ছে। ঘাটতি সামাল দিতে তেলচালিত কেন্দ্রের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা হলেও জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বল্পতায় সব কেন্দ্র চালানো যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার ২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি তেলের সরবরাহে ঘাটতি ছিল।
কয়লাভিত্তিক আট কেন্দ্রের সক্ষমতা প্রায় সাত হাজার মেগাওয়াট হলেও বৃহস্পতিবার উৎপাদন হয়েছে পাঁচ হাজার মেগাওয়াটের কম। পায়রার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটিতে, মাতারবাড়ীর একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণে এবং বড়পুকুরিয়ার দুটি ইউনিট ত্রুটির কারণে বন্ধ। কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় আদানির কেন্দ্রও ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমিয়েছে। দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট সরবরাহ করছে।

বৃহস্পতিবার গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলের সংকটে ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে লোডশেডিংয়ের ধারাবাহিকতাও ঊর্ধ্বমুখী। ২৪ আগস্ট দিনের বেলায় সর্বোচ্চ ঘাটতি ছিল এক হাজার ১৯৩ মেগাওয়াট। ২৫ আগস্ট বিকেল ৩টায় তা বেড়ে দুই হাজার ২৫৯ মেগাওয়াট হয়। ২৬ আগস্ট রাত ১২টায় ঘাটতি ছিল দুই হাজার ৮২৮ মেগাওয়াট। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াটে। রাতেও ঘাটতি ছিল তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি। রাত ১টায় চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ১৭১ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১৩ হাজার ৯২৭ মেগাওয়াট; ঘাটতি ছিল তিন হাজার ২৪৪ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় তিন হাজার ৯০ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল। গতকাল ভোর ৪টায় দুই হাজার ৯১৫ মেগাওয়াট এবং সকাল ৬টায়ও লোডশেডিং ছিল দুই হাজার ৬৩৬ মেগাওয়াট। গতকাল বিকেল ৩টায় লোডশেডিং ছিল এক হাজার ৪৮৩ মেগাওয়াট।

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলি, এক শিশু নিহত

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলিতে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা ও তিন নারীসহ আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উখিয়ায় দায়িত্বরত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) উপ-অধিনায়ক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুতুপালং ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি-৪০ ও বি-৪১ ব্লক এলাকায় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ক্যাম্পের বাসিন্দাদের ভাষ্য, সন্ধ্যার দিকে শতাধিক গুলির শব্দ শোনা যায়। এতে পুরো ক্যাম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অনেকে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন।

গোলাগুলির মধ্যে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয় পাঁচ বছর বয়সী মোজাহেদ। সে ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা নূর আলমের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় মোজাহেদের মা তাহেরা বেগমসহ আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন। তাঁদের কয়েকজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ) ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) সদস্যদের মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ধাওয়ায় পুকুরে মাইক্রোবাস, মিলল ৯ বস্তা গাঁজা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পুলিশের ধাওয়ার মুখে একটি গাঁজাবাহী মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে গেছে। পরে ওই মাইক্রোবাস থেকে ৯ বস্তা গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় মাইক্রোবাসে থাকা চালক ও মাদক কারবারিরা পালিয়ে গেছেন।

শুক্রবার সকালে উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের খিদিরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে মাইক্রোবাস ও গাঁজা জব্দ করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গাঁজা পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে সৈয়দাবাদ-নয়নপুর সড়কে অভিযান চালায় কসবা থানা-পুলিশ। এ সময় একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস পুলিশের নজরে আসে। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ গাড়িটিকে থামার সংকেত দেয়। কিন্তু চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ তখন মাইক্রোবাসটিকে ধাওয়া করে। গাড়িটি কসবা-সৈয়দাবাদ সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত আন্দিরপাড়-মনকাশাইর সড়ক দিয়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করছিল। একপর্যায়ে খিদিরপুর গ্রাম পার হওয়ার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে মাইক্রোবাসটি সড়কের পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়।

পুলিশ জানায়, মাইক্রোবাসটি পুকুরে পড়ে যাওয়ার পর গাড়িতে থাকা গাঁজার বস্তাগুলো পানিতে ভেসে ওঠে। এ সময় চালক ও মাদক পাচারকারীরা সাঁতরে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ পুকুর থেকে মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করে। একই সঙ্গে ৯ বস্তা গাঁজা জব্দ করা হয়।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, গাঁজা পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়েছিল। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মাইক্রোবাসটি পুকুরে পড়ে যায়। পরে মাইক্রোবাস ও ৯ বস্তা গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। প্রতিটি বস্তায় কী পরিমাণ গাঁজা রয়েছে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

দেশে ফেরার একদিন আগে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু, ১৯ দিন পর ফিরল শ্যামলের লাশ

‘বাবা, আমাদের যত কষ্টই হোক, তুমি চলে এসো। আট বছর তোমাকে দেখিনি।’ মেয়ের সেই আকুতি রেখেই দেশে ফেরার টিকিট কেটেছিলেন রাজশাহীর বাগমারার শ্যামল উদ্দিন মাঝি (৪৬)। কথা ছিল, ১০ আগস্ট দেশে ফিরবেন। কিন্তু তার এক দিন আগে সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান তিনি। জীবিত অবস্থায় আর ফেরা হলো না। ১৯ দিন পর শুক্রবার লাশ হয়ে ফিরেছেন তিন মেয়ের বাবা শ্যামল।

তিন মেয়ের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় আট বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন শ্যামল। আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশে গেলেও দালালের প্রতারণায় কাজের বৈধতা পাননি। ফলে দীর্ঘ প্রবাসজীবনে একবারও দেশে ফিরতে পারেননি। পরিবারের জন্যও তেমন কিছু করতে পারেননি। সম্প্রতি মেয়ের জামাইয়ের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন। এরপর পরিবারের অনুরোধে দেশে স্থায়ীভাবে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। কেটে ফেলেন বিমানের টিকিটও।

গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি নিহত হন। তাঁদের একজন শ্যামল উদ্দিন। তিনি বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

শুক্রবার শ্যামলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে আছে পরিবেশ। প্রতিবেশীরা এসে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। স্বামীকে হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন রশিদা খাতুন (৪২)। একপর্যায়ে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেললে স্বজনেরা পানি ছিটিয়ে তাঁকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন।

সংজ্ঞা ফিরতেই বিলাপ করে রশিদা বলেন, ‘তুমার সঙ্গে হামার কথা হলো। তুমি বাড়িত আসবে বললে, আর রাতে তুমার মরার খবর পানু।’

তিনি জানান, মৃত্যুর দিন ৯ আগস্ট সকালে স্বামীর সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়। পরদিনই শ্যামলের দেশে ফেরার কথা ছিল।

বাবার ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন বড় মেয়ে শামিমা (২৪)। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘বাবাকে বলেছিলাম, আমাদের যত কষ্টই হোক, তুমি চলে এসো। আট বছর তোমায় দেখিনি। তুমি চলে এসো বাবা। সেই বাবা টিকিট করেও জীবিত আসতে পারল না। আজ বাবা আমার লাশ হয়ে এসেছে।’

শ্যামলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার রাতটির কথা মনে করে তাঁর বড় মেয়ের জামাই মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার দিন রাতে শ্যামলের এক সহকর্মী মুঠোফোনে তাঁর মৃত্যুর খবর দেন।’

তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় শ্যামলসহ অন্য শ্রমিকেরা কারখানায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁদের একজন চুল কাটাতে সেলুনে যাওয়ায় আগুন থেকে বেঁচে যান।

মিজানুর রহমান বলেন, ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে শ্যামল সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে দালালের প্রতারণার শিকার হন। কাজের বৈধতা না পাওয়ায় আট বছরে একবারও দেশে ফিরতে পারেননি। এবারই প্রথম পরিবারের কাছে স্থায়ীভাবে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু দেশে ফেরার মাত্র এক দিন আগে অগ্নিকাণ্ডে তাঁর মৃত্যু হলো।

তিনি আরও বলেন, শ্যামলের মৃত্যুতে পরিবারটি এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। তাঁর মেজো মেয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছে।

প্রতিবেশী ও সাবেক ঝিকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, শ্যামল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর তিন মেয়ে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে, বাকি দুজন এখনো ছোট। শ্যামলের মৃত্যুতে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। সরকারের উচিত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো।

শুক্রবার শ্যামল উদ্দিনের জানাজায় অংশ নেন বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ। তিনি পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

সেলিম আহমেদ বলেন, ‘আমরা অল্প সময়ের মধ্যেই লাশটি দেশে আনার ব্যবস্থা করেছি। পরবর্তীতেও পরিবারটির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

ওজন বাড়ার যত কারণ

খাবার আমাদের শুধু শক্তিই বাড়ায় না,আনন্দও দেয়। কিন্তু খাবারের প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসার কারণে কখনও কখনও আমরা নিজেদের ওজন বাড়ার ঝুঁকিতে ফেলি। এছাড়াও আরও কিছু কারণ ওজন বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

ডায়েট সোডা পানীয় : অনেকেই ডায়েট সোডা পছন্দ করেন। কিন্তু ‘ডায়েট’ শব্দটি থাকলেই যে তা আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে, এমনটা নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনে দুবার এই পানীয়টি পান করেন, তাদের কোমরের মাপ অন্তত ছয় গুণ বেড়ে যেতে পারে।

বেশি বা কম ঘুমানো : আপনি খুব বেশি বা খুব কম ঘুমান? খুব বেশি বা খুব কম ঘুমালে ওজন বেড়ে যেতে পারে। যারা মাত্র পাঁচ ঘণ্টা বা তার কম ঘুমান, তাদের ওজন বাড়ার ঝুঁকি থাকে, কারণ দিনের জন্য শক্তি পেতে তারা খাবারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। আর যারা ৮ ঘণ্টার বেশি ঘুমান, তাদের শরীর নিস্তেজ লাগে। কখনও কখনও ব্যায়াম করার জন্য চেয়ার ছেড়েও উঠতে ইচ্ছে করে না।

বেশি খাওয়া : অনেকেই সারাদিন ধরে খাবারকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নেন। অনেকের ধারনা,এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু আসলে এই প্রক্রিয়ায় ওজন বাড়ার ঝুঁকি বাড়ে। আসল ব্যাপার হলো, আমাদের মস্তিষ্ক খাবারের সময় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং ফ্যাট খাওয়ার জন্য তৈরি থাকে,এ কারণে যখনই আপনি খাওয়ার জন্য বিরতি নেন, তখনই এই জিনিসগুলো খাওয়ার আগ্রহ বাড়ে। এর ফলে ক্যালোরি এবং ফ্যাট জমা হতে পারে, যা ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

খাবার এড়িয়ে চলা : অনেকেই তাড়াহুড়োর কারণে বা ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে খাবার এড়িয়ে যান। দুর্ভাগ্যবশত, এই অভ্যাসটি আসলে ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে, বিশেষ করে যখন আপনি সকালের নাশতা বাদ দেন তখন ওজন বাড়ার ঝুঁকি বাড়ে । এর একটি কারণ হলো আপনার  বিপাক ক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং ক্ষুধা বেড়ে যায়। এর ফলে পরবর্তী বেলায় বেশি খাওয়ার আকাঙ্খা বাড়ে।

অতিরিক্ত মানসিক চাপ: আপনি যদি প্রায়ই মানসিক চাপে থাকেন, তাহলে ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মানসিক চাপে থাকলে আপনার শরীর ইনসুলিন এবং কর্টিসল নিঃসরণ করে, যা আপনার মধ্যে ক্ষুধা জাগিয়ে তুলতে পারে। খাওয়া আপনার মস্তিষ্কে আনন্দের অনুভূতি দেয়, কিন্তু কিছু না খেলে সেই আনন্দ একসময় চলে যায়।

সাক্ষাৎকারে তাসকিন প্রস্তুতি নিয়েও সেরাটা দিতে পারিনি

০

অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলার জন্য মরিয়া ছিলেন তাসকিন আহমেদ। চোট পরিচর্যা করে সেরা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। তবুও কাঙ্ক্ষিত মানে পারফরম্যান্স করতে না পারায় আক্ষেপ আছে ৩২ বছর বয়সী এ বোলারের। তবে হতাশা ভুলে যেতে চান দলের সাফল্যে। টেস্ট সিরিজ ড্র করাকে ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্য মনে করেন তিনি। আশা করেছিলেন, দ্বিতীয় টেস্টেও ভালো হবে। সেটি করতে না পারাকেও অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন তাসকিন আহমেদ। ম্যাকাই থেকে তাসকিনের একান্ত সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সেকান্দার আলী।

সমকাল: ডারউইন টেস্টটা খুব থ্রিলিং ছিল?
তাসকিন:
 প্রথম ম্যাচে নিখুঁত ছিল। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং সবকিছু পরিকল্পনামতো হয়েছে। সবাই সবার রোলটা সঠিকভাবে পালন করতে পেরেছে। স্কিলের প্রয়োগটা ভালো হয়েছে। আসলে প্র্যাকটিস করা, পরিকল্পনা দেওয়া কঠিন কিছু না। কঠিন কাজ হলো মাঠে কাজগুলো সঠিকভাবে করতে পারা। প্রতিটি ইউনিট সমন্বিতভাবে ভালো করায় ইতিহাস গড়া সম্ভব হয়েছে।

সমকাল: অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে টানা চার দিন এগিয়ে থাকা কীভাবে সম্ভব হলো?
তাসকিন: 
অতীত রেকর্ড সামনে এগিয়ে যেতে বা সফল হতে মানসিকভাবে সাহায্য করে। আমরা নিউজিল্যান্ডে টেস্ট ম্যাচ জিতেছিলাম, সেটি একটি এভিডেন্স ভালো করার জন্য। পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছি তাদের মাটিতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট জিতেছি। প্রতিটি অ্যাওয়ে সিরিজের সাফল্য মানসিকভাবে উজ্জীবিত করেছে ভালো করতে। ওই রেকর্ডগুলো আত্মবিশ্বাস দিয়েছে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে। আমরা জানতাম, সেরা ক্রিকেটটা খেলতে পারলে জেতা সম্ভব। বাংলাদেশে সম্প্রতি ভালো উইকেটে খেলছি সব প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। এই বিষয়টি বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। যখনই ভালো উইকেটে ভালো ব্যাটিং করতে পারি, তখনই ফল মেলে। কারণ, বোলিং ইউনিট ধারাবাহিক ভালো করছে। অতীতে রেজাল্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে বোলিং ইউনিটের বড় ভূমিকা ছিল। এবার বোলিংয়ের সঙ্গে ব্যাটিং ক্লিক করায় সফল হতে পেরেছি।

সমকাল: সিরিজ নির্ধারণী দ্বিতীয় টেস্টে বোলিংটা ভালো ছিল। বোলিং ইউনিটই কি অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ তৈরি করেছে?
তাসকিন:
 প্রথম টেস্টের প্রথম দিনের উইকেট কিছুটা ট্রিকি ছিল। ওরা অতি আত্মবিশ্বাস থেকে টসে জিতে ব্যাটিং নিয়েছে (হাসি)। সুযোগ পেয়ে আমরা কাজে লাগিয়েছি। ম্যাকাই টেস্টে ব্যাটিং নেওয়ার সাহস দেখায়নি। আমরা প্রথমে বোলিং করার সুযোগ পেলে ম্যাচ বের করে নিতাম। আসলে দ্বিতীয় টেস্টের কন্ডিশন সম্পর্কে ভালো ধারণা ছিল না। পেসের থেকে এখানে বাউন্স ছিল বেশি। বাউন্সে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। আমরা টসে জিতলে অন্যরকম হতে পারত।

সমকাল: অস্ট্রেলিয়ায় সম্মান পেলেন কেমন?
তাসকিন: 
অনেক সম্মান পেয়েছি। প্রথম ম্যাচ জয়ের পর যেখানেই গিয়েছি, অস্ট্রেলিয়ান থেকে শুরু করে সবাই ক্লাপ করেছে, সাপোর্ট করেছে। অভিনন্দন জানিয়েছে। ওয়ানডে বা টি২০ ক্রিকেটে নির্দিষ্ট দিনে ভালো ক্রিকেট খেললে ফ্লুক হতে পারে। যে কেউ জিততে পারে। টেস্ট ক্রিকেটে সেটি কোনোভাবে সম্ভব নয়। প্রতিটি সেশন জিততে হয় টেস্টে ভালো করতে হলে। আমরা ওই কাজটিই করেছি, যে কারণে সবাই সম্মান করেছে।

সমকাল: আপনি নিজে কেমন উপভোগ করলেন?
তাসকিন: 
সত্যি কথা বলতে, বিদেশের লিগে খেলা ছেড়ে দেওয়া, সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েও আমি আমার সেরাটা দিতে পারিনি। আমি খুবই ভালো প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এক মাস আগের সিরিজেও দারুণ বোলিং করেছি। অথচ এখানে কাঙ্ক্ষিত মানে বোলিং করতে পারিনি। ভালো হোক, খারাপ হোক– প্রক্রিয়ার বাইরে যেতে পারব না। প্রত্যেক খেলোয়াড় একটি পরিকল্পনা নিয়ে সিরিজ বা ম্যাচ খেলতে নামে। কখনও সফল হয়, কখনও হয় না। আমার জন্য একটা শিক্ষা ছিল, সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েও ভালো করতে পারিনি। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কাজ দেবে।

সমকাল: আপনি তো ব্রেক থ্রু দেন?
তাসকিন: 
আমি তো নিগেলস নিয়ে খেলি। ভালো বোলিং করা আমার কাজ। ওই কাজটিই করতে পারিনি। আমি জানি, যে বোলিং করেছি তার থেকে অনেক ভালো করতে পারি। তবে চেষ্টার কমতি ছিল না। আমি ব্যথা নিয়ে খেলি সব সময়। এবার একটু ব্যথা বেশি ছিল। সর্বোচ্চটা দিতে পারিনি, ঠিক আছে। সামনে ভালো করব, ইনশাআল্লাহ। টানা খেলতে থাকলে অনেক সময় মনের অজান্তেও ফ্যাটিগ আসে। একজন খেলোয়াড় হিসেবে আপনি কখনোই অনুমান করতে পারবেন না, কখন ফ্যাটিগ চলে আসবে। সামনে বিরতি আছে, ক্লান্তি ঝেড়ে ফিরে আসব। তবে বড় পাওয়া, অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ ড্র করতে পেরেছি।

সমকাল: এই সিরিজের জন্য উন্মুখ হয়েছিলেন। উপভোগ করেছেন তো?
তাসকিন: 
প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি। আমার ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত। সিরিজ শুরুর আগে সবাই মনে করেছিল, আমরা জঘন্যভাবে হারব সিরিজটি। আল্লাহর রহমতে আমরা জয় দিয়ে শুরু করেছি। আমি সেরা বোলিং করতে পারিনি, এ কারণে কথা ওঠা স্বাভাবিক। তবে কি আমি ১০ বছর আগে যেভাবে বোলিং করেছি, ৩২ বছরে সেটি সম্ভব না। ১২ বছর বয়স বেড়েছে আমার। এখন ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করার স্বপ্ন দেখি না। এটিও তো ঠিক, ১৩২ কিলোমিটার গতিতে সুইংটা ভালো করছি। যেটাই হয়েছে, তার থেকে আমি ভালো বোলিং করতে পারি। আমাদের দলীয় প্রচেষ্টায় প্রথম টেস্ট ম্যাচটি জিতেছি।

সমকাল: নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় রেকর্ড হবে?
তাসকিন:
 আশা করি। আমরা ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ায় আইসিসি ইভেন্ট ছাড়া খেলিনি। এভাবে খেললে রেজাল্ট যেটাই হোক, সুযোগ বাড়বে। আমরা এ রকম বড় দলের বিপক্ষে নিয়মিত খেলতে পারলে উন্নতি হবে। আর দক্ষিণ আফ্রিকায় এ রকম কন্ডিশনে খেলা হলে চার পেসারও খেলাতে হতে পারে। দোয়া করবেন, সব পেস বোলার যেন ফিট থাকে, সুস্থ থাকে এবং সেরা ছন্দে থাকে।

সমকাল: শরিফুলের বোলিংটা কেমন লাগল?
তাসকিন: 
শরিফুল সব সময় ভালো বোলিং করে। হাসানও ভালো করছে। এ দুজনের দুটি বোলিং ইনিংস ব্যতিক্রম ছিল। প্রথম টেস্টে সবারই ভালো বোলিং হয়েছে। বোলিংয়ে জুটি গুরুত্বপূর্ণ। দুই পাশ থেকে চাপ তৈরি করা গেলে একপাশে একজন বড় উইকেট পাবে। এটাই হয়েছে আমাদের। যে-ই বেশি উইকেট পাক, তিনজনের একটা সমন্বয় থাকে। সেটি উভয় টেস্টে।

সমকাল: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা কতটা খুশি?
তাসকিন: 
বিসিবির সবাই খুশি। আমি নিশ্চিত, পুরো দেশ খুশি। হার মেনে নিতে সবারই কষ্ট হয়। আমাদেরও কষ্ট হয়। প্রথম টেস্ট জয়ের পর দ্বিতীয় টেস্টে আরও ভালো ক্রিকেট খেলা সম্ভব ছিল। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, সেটি হয়নি। তবে দিন শেষে আমরা সিরিজ ড্র করেছি।

সমকাল: বাংলাদেশের ক্রিকেটের সেরা প্রজন্মের বেশির ভাগ ক্রিকেটার অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে পারেননি। আপনারা খেললেন। নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে হয়?
তাসকিন:
 অবশ্যই। অনেক কিংবদন্তিতুল্য ক্রিকেটারের অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলার সৌভাগ্য হয়নি। সেই ২৩ বছর আগে খেলেছে। আমরা আবার টেস্ট খেলে ভালো করে অন্যদের জন্য পথ তৈরি করে গেলাম।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক খেলাপি ঋণ আদায়ে ১০ হাজার মামলা

খেলাপি ঋণ আদায়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক প্রায় ১০ হাজার মামলা করেছে। আরও মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে খেলাপি ঋণ আদায়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য প্রচলিত আইনী ব্যবস্থার পাশাপাশি এক্সিট পলিসি ও বিকল্পবিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) মাধ্যমে ঋণ আদায়ের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ঋণ আদায়, পুনর্গঠন ও সার্বিক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টের (বিআরডি) এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বলা হয়, ব্যাংকটির পূর্ববর্তী মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সময়ে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি ও সম্পদ অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পরিচালিত ফরেনসিক অডিট চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সভায় জানানো হয়, গত ছয় মাসে ব্যাংকটির বিষয়ে বেশ কিছু কার্যক্রম গ্রহণ ও ফলোআপ করা হয়েছে। স্বতন্ত্র পরিচালকদের প্রাধান্য দিয়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। গত ১৬ জুলাই চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কাজ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া পাঁচটি ব্যাংকের কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে কোর ব্যাংকিং সিস্টেম, সুইফট, আরএমএসহ আইটি অবকাঠামো একীভূতকরণের কাজ এগিয়ে চলছে। আমানতকারীরা যাতে পাঁচটি ব্যাংকের যে কোনো শাখা থেকে আমানতের অর্থ তুলতে পারেন, সে জন্য একটি কমন ইন্টারফেস চালুর কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।