Home Blog Page 47

ডিএসইতে লেনদেন কমে সাড়ে ৫ মাসের সর্বনিম্ন

নাজুক অবস্থায় দেশের শেয়ারবাজার। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৪৬৭ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এ লেনদেন গত প্রায় সাড়ে ৫ মাসের সর্বনিম্ন। অথচ দেড় মাস আগে গত ১৪ জুলাই ঢাকার এ বাজারে শুধু শেষ ঘণ্টায় ৫২৮ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টের পর এক দিনে সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল গত ১২ জুলাই।

লেনদেনে এমন পতনের কারণ জানতে চাইলে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিতে নতুন নেতৃত্ব আসার পর অনেকেই বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ছিলেন। মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে পতনের ধারা থেকে বের হয়ে ঊর্ধ্বমুখী হয় শেয়ারবাজার। এ ধারা গত ১৪ জুলাই পর্যন্ত বা টানা প্রায় দুই মাস স্থায়ী হয়। এর পর প্রায় এক মাস অনেকটাই স্থিতিশীল থেকে গত ১১ আগস্ট থেকে ফের দরপতন শুরু হয়েছে। হঠাৎ দরপতনে বিভ্রান্ত তারা। গত তিন সপ্তাহের দরপতনে প্রায় সব শ্রেণির বিনিয়োগকারীর পুঁজি কমেছে, কেউ কেউ লোকসানেও পড়েছেন।
দরপতনের কারণ ব্যাখ্যায় বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, প্রথম দিকে কারসাজি প্রতিরোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং স্টক এক্সচেঞ্জের নানামুখী তৎপরতা বাজারে একটা প্রভাব ফেলে। একটি অংশ নিষ্ক্রিয় হয় বা শেয়ার বিক্রি করে। এতে বাজার খানিকটা থমকে যায়। এর পরই গ্যাস সংকটে একের পর এক কারখানা বন্ধের খবর আসে। এতে অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে পড়তে যাচ্ছে–এমন ধারণায় বিনিয়োগকারীরা আরও সতর্ক হয়ে পড়েন। এর মধ্যে অর্থমন্ত্রীসহ দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে গ্যাস সংকটের আশু সমাধান নেই–এমন স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার পর পরিস্থিতি বেশি নাজুক হয়েছে। বর্তমান দরপতনের এটিই বড় কারণ বলে অনেকের বিশ্বাস।

অন্যতম প্রধান ব্রোকারেজ হাউস শেলটেক-এর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এর কিছুটা আভাস আছে। চলমান দরপতনের জন্য প্রধানত তিনটি কারণকে চিহ্নিত করেছে ব্রোকারেজ হাউসটি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, দেশে চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকট, ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর তদারকি এবং জুনে হিসাব বছর শেষ হওয়া কোম্পানিগুলোর আসন্ন লভ্যাংশ ও বার্ষিক আয় ঘোষণার আগে বিনিয়োগকারীদের মাঝে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাও দরপতনের কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউসের সিইও সমকালকে বলেন, বিনিয়োগকারীরা খবরের কাগজে পড়ছেন বা টিভি নিউজে দেখছেন, গ্যাস সংকটে কারখানা বন্ধ হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা হতাশা প্রকাশ করছেন। আবার সরকারের অর্থমন্ত্রী বলছেন দ্রুত গ্যাস সংকটের সমাধান দিতে পারবেন না। এ অবস্থা বিনিয়োগকারীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এখনকার শেয়ারবাজারে সে ধারা দেখা যাচ্ছে। ফলে শেয়ারদর ও লেনদেন দুটোই কমছে।

বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে বিএসইসি বা স্টক এক্সচেঞ্জের আকস্মিক পরিদর্শনের কোনো প্রভাব আছে কিনা জানতে চাইলে কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, গ্যাস সংকটের আগে এ ইস্যুতে অনেকে কথা বলছিল। গত জুন ও জুলাই মাসে বহু কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। কিছু শেয়ারের দর অযৌক্তিক হারে বাড়ার নেপথ্যে কারসাজি ছিল। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং স্টক এক্সচেঞ্জ এসব কারসাজি প্রতিরোধে তৎপর। ফলে ব্রোকারেজ হাউস পরিদর্শনে যাওয়ায় কারসাজির চক্রগুলো সতর্ক হয়ে শেয়ার বিক্রি করেছে।
কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউস থেকে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনার পর স্টক এক্সচেঞ্জের এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার পর আকস্মিক পরিদর্শন বেড়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি কারসাজির তদন্ত পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসকে চিঠি দিয়ে আইন মেনে সচেতনভাবে শেয়ার কেনাবেচার বার্তা দেওয়া হয়েছে। এ কারণেও অনেকে কারসাজির চক্র সতর্ক হয়।
এদিকে গতকাল লেনদেন বেশ কম হলেও বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। লেনদেন হওয়া ৩৪৯ কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে ১৭২টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৫২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫২টির দর। দুপুর ১২টায় তিন শতাধিক শেয়ারের দর বেড়েছিল। টানা তিন দিনে ১৪৬ পয়েন্ট পতনের পর দুপুর পৌনে ১টায় ডিএসইএক্স সূচক ৫৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫৬৯৩ পয়েন্ট ছাড়ায়। যদিও শেষ পর্যন্ত অনেক শেয়ারের দর কমায় সূচকটি আগের দিনের তুলনায় ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫৬৫৫ পয়েন্টে ‘ক্লোজ’ হয়েছে।

মিরপুরে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ, যুবক গ্রেপ্তার

০

রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলীতে ছয় বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে সুমন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রতিবেশী এই যুবক শিশুটিকে নিজের কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন। আজ শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শাহ আলী থানাধীন রয়েল সিটি পকেট গেটসংলগ্ন এলাকায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শিশুটির প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হলে তার মা তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে ধারণা করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এরপর শিশুটির কাছে তার মা এ বিষয়ে জানতে চাইলে সে পাশের বাসার ভাড়াটিয়া সুমনের কথা জানায়। শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, সুমন তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন।

এ ঘটনায় শিশুটির মা বৃহস্পতিবার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। পরে রাত ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে নিজ বাসা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

রূপগঞ্জে জলসিঁড়ি প্রকল্পের বিরুদ্ধে কৃষিজমি দখলের অভিযোগ

০

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে কৃষিজমি ও বসতভিটায় অবৈধভাবে বালু ভরাট এবং উচ্ছেদের পাঁয়তারা করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক ইচ্ছাখালী খাল ভরাট করে দেওয়ায় আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন রূপগঞ্জ ও কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ভুক্তভোগী জমির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে রূপগঞ্জ ও কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ১৭টি মৌজায় প্রায় ৭ হাজার বিঘা কৃষিজমি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জমি অধিগ্রহণ কিংবা মালিকদের সম্মতি ছাড়াই বিভিন্ন এলাকায় বালু ভরাটের মাধ্যমে কৃষিজমি দখলের চেষ্টা চলছে। এর প্রতিবাদ করায় স্থানীয়দের হামলা ও মামলার শিকার হতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের নামে জমি ক্রয় না করেই বিভিন্ন স্থানে বালু ভরাট ও রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে তিন ফসলি কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্যনির্ভর মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, রূপগঞ্জের ঐতিহাসিক ইচ্ছাখালী খাল বালু দিয়ে ভরাট করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে আশপাশের প্রায় ২৪টি গ্রামের মানুষ জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে পড়েছেন। খালটি থেকে বালু অপসারণ করে পুনঃখনন ও আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জলসিঁড়ি প্রকল্পের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় শতাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জমি ক্রয় ছাড়া বালু ভরাট ও রাস্তা নির্মাণ বন্ধ, ইচ্ছাখালী খাল পুনরুদ্ধার, আবাসন প্রকল্পের সীমানা (ডিমার্কেশন) প্রকাশ, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত না করে উচ্ছেদ বন্ধ এবং বসতবাড়ি থেকে কমপক্ষে ৩০০ মিটার দূরে প্রকল্পের সীমানা নির্ধারণ।

বক্তারা বলেন, আমরা দেশের সম্মানিত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নই, আমরা জলসিঁড়ি প্রকল্পের কথিত বেআইনি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে পৈতৃক সম্পত্তি ও জন্মভূমি রক্ষায় আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে জলসিঁড়ি প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে গোসলে নেমে ৫ শিশুর মৃত্যু

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় পদ্মার শাখা নদীতে (মরা নদী নামে পরিচিত) গোসলে নেমে পাঁচ মেয়ে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সম্পর্কে তারা মামাতো, ফুপাতো ও চাচাতো বোন। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার দেবিনগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর চাকলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই শিশুদের আত্মীয় তৌহিদ আলম।

নিহতরা হলো- চর চাকলা গ্রামের মাসুদ রানার মেয়ে সুমাইয়া (৯) ও আবিদা (৭); একই গ্রামের নেজাম উদ্দিনের মেয়ে সুমাইয়া (১২) ও সুরাইয়া (৯)। অন্যজন হলেন ওই গ্রামের শরীফুল ইসলামের মেয়ে শরীফা (৮)।

বৈঠকে এলজিআরডি মন্ত্রী ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক

০

ঢাকার ক্রমবর্ধমান বিশুদ্ধ পানির চাহিদা ও সংকট মোকাবিলায় ডেনমার্কের সহযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন সহায়তার ক্ষেত্রে ডেনমার্ক বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হতে পারে।

গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলারের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার, পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পে ডেনমার্কের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ডেনমার্ক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ডেনমার্কের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

বৈঠকে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প (ফেজ-৩)-এ ডেনমার্কের অর্থায়ন ও সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রকল্পটিতে ডেনমার্ক সরকার সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন করবে। এর মধ্যে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা অনুদান এবং তিন হাজার কোটি টাকা স্বল্পসুদে ঋণ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ডেনমার্কের সহযোগিতা সরকারের জন্য একটি বড় সাফল্য। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা শহরে ক্রমবর্ধমান বিশুদ্ধ পানির চাহিদার চাপ অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

খাদ্যাভ্যাসের একটি সাধারণ পরিবর্তন কমাতে পারে বিষণ্নতার ঝুঁকি

প্রতিদিনের খাবারে বড় কোনো পরিবর্তন না এনেও মানসিক সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলা সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, একা খাওয়ার বদলে পরিবার, বন্ধু বা পরিচিতদের সঙ্গে বসে খাবার খাওয়ার অভ্যাস বিষণ্নতার ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। একই সঙ্গে এই অভ্যাস মানসিক ভালো থাকা ও জীবনের প্রতি সন্তুষ্টি বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

একসঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস

অন্যদের সঙ্গে বসে খাবার খাওয়াকে ‘কমেনসালিটি’ বলা হয়। খাবারের সময় একসঙ্গে থাকা, কথা বলা এবং পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়। গবেষকেরা মনে করেন, এই সামাজিক যোগাযোগ মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

চীনের ঝেজিয়াং প্রভিন্সিয়াল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের এক গবেষণায় ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী ৯ হাজার ৩৬১ জন নারীকে নিয়ে তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, একসঙ্গে খাবার খাওয়ার মানুষের সংখ্যা এবং বিষণ্নতার ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। অন্যান্য স্বাস্থ্য ও সামাজিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও এই সম্পর্ক পাওয়া যায়।

একা খাওয়ার সঙ্গে বিষণ্নতার সম্পর্ক

জাপানের একটি গবেষণায়ও একই ধরনের ফল পাওয়া গেছে। ৬৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সী যেসব ব্যক্তি পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেও নিয়মিত একা খাবার খেতেন, তাঁদের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ দেখা দেওয়ার ঝুঁকি অন্যদের সঙ্গে নিয়মিত খাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় বেশি ছিল।

মানসিক ভালো থাকায় ভূমিকা

২০২৪ সালের ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট’-এ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, যারা বেশি দিন অন্যদের সঙ্গে দুপুর বা রাতের খাবার খেয়েছেন, তাঁদের মানসিক ভালো থাকার মাত্রাও তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। গবেষকদের মতে, অন্যদের সঙ্গে খাবার খাওয়ার অভ্যাস জীবনের প্রতি সন্তুষ্টির সঙ্গেও সম্পর্কিত। খাবারের টেবিলে নিয়মিত একসঙ্গে সময় কাটানোর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্ত হতে পারে।

খাবারের সময় ভালো লাগার অনুভূতি

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈবিক নৃবিজ্ঞানী রবিন ডানবারের মতে, একসঙ্গে খাবার খাওয়ার সময় শরীরে এন্ডোরফিনের কার্যক্রম বাড়তে পারে। এন্ডোরফিন শরীরে তৈরি হওয়া এমন একটি রাসায়নিক, যা ভালো লাগার অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

পরিবার, বন্ধু বা পরিচিতদের সঙ্গে নিয়মিত বসে খাবার খাওয়ার সুযোগ তাই সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার জন্যও উপকারী হতে পারে।

বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে এসব পণ্যের অনুকূলে দেওয়া বিএসটিআই লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় এসব পণ্য না কেনার জন্য ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই।

আজ বুধবার বিএসটিআই জানিয়েছে, নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এতে বেশ কিছু পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গেলেও কয়েকটি ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলা নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থ হয়।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘিতে মিল্ক ফ্যাট পাওয়া যায়নি। পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে তা ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ছাড়া বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত কারি পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারি মসলা, কালা ভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা ও মাছের মসলা পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান অনুযায়ী অকৃতকার্য হয়েছে। এসব মসলায় মোট অ্যাশ ও লবণের মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েলের তালিকায় রয়েছে বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ও ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল।

পরীক্ষায় এসব ঘি ও বাটার অয়েলে রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পলেন্সকে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।

বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রোধে সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে বিএসটিআইয়ের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছেন মহাপরিচালক।

আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের ড্র, কার সঙ্গে খেলবে পিএসজি-রিয়াল-বার্সা?

নতুন কাঠামোর চ্যাম্পিয়নস লিগে পর্দা উঠছে নতুন মৌসুমের। বাছাইপর্বের প্লে-অফ শেষ হয়েছে গতকাল রাতে। এবার লিগ পর্বের প্রতিপক্ষ নির্ধারণের পালা। আজ মোনাকোর গ্রিমালদি ফোরামে হবে ২০২৬-২৭ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের ড্র। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হবে এই ড্র।

২০২৪-২৫ মৌসুম থেকে ৩৬ দলের নতুন কাঠামোয় অনুষ্ঠিত হচ্ছে চ্যাম্পিয়নস লিগ। নতুন ব্যবস্থায় প্রথম দুই আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফরাসি ক্লাব পিএসজি। এবারও শিরোপা ধরে রেখে হ্যাটট্রিক করার লক্ষ্যে লুইস এনরিকের দল মাঠে নামবে।

নতুন কাঠামোয় আগের মতো আলাদা গ্রুপ থাকছে না। লিগ পর্বে প্রতিটি দল খেলবে আটটি ভিন্ন দলের বিপক্ষে। ড্রয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে প্রতিটি দলের ওই আট প্রতিপক্ষ এবং কোন দলের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ও কার বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে।

যেভাবে হবে ড্র

উয়েফার কো-এফিশিয়েন্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে ৩৬ দলকে চারটি পটে ভাগ করা হবে। প্রতিটি দল চারটি পট থেকেই দুটি করে প্রতিপক্ষ পাবে।

প্রথমে প্রথম পট থেকে ম্যানুয়ালি একটি দলের নাম লেখা বল তোলা হবে। এরপর বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে মুহূর্তেই নির্ধারণ করা হবে ওই দলের আট প্রতিপক্ষ। একই সঙ্গে কোন ম্যাচটি ঘরের মাঠে এবং কোনটি অ্যাওয়ে হবে, সেটিও সফটওয়্যার ঠিক করবে।

এভাবে প্রথম পটের দলগুলোর প্রতিপক্ষ নির্ধারণের পর দ্বিতীয় পটের দলগুলোর ড্র হবে। এরপর তৃতীয় ও সবশেষে চতুর্থ পটের দলগুলোর প্রতিপক্ষ নির্ধারণ করা হবে।

ড্রয়ের ক্ষেত্রে একই দেশের দুটি ক্লাব একে অপরের বিপক্ষে খেলতে পারবে না। এ ছাড়া কোনো দল একই দেশের সর্বোচ্চ দুটি ক্লাবের বিপক্ষে খেলতে পারবে।

সরাসরি লিগ পর্বে ২৯ দল

ঘরোয়া লিগে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ২৯টি দল সরাসরি লিগ পর্বে জায়গা পেয়েছে। বাকি সাতটি দল এসেছে বাছাইপর্ব থেকে।

ইংল্যান্ড থেকে সরাসরি খেলবে আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, অ্যাস্টন ভিলা ও লিভারপুল।

স্পেনের বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ, ভিয়ারিয়াল, আতলেতিকো মাদ্রিদ ও রিয়াল বেতিসও সরাসরি লিগ পর্বে জায়গা পেয়েছে। ইতালি থেকে ইন্টার মিলান, নাপোলি, রোমা ও কোমো এবং জার্মানি থেকে বায়ার্ন মিউনিখ, বরুসিয়া ডর্টমুন্ড, লাইপজিগ ও স্টুটগার্ট খেলবে।

ফ্রান্সের পিএসজি, লাঁস ও লিল; পর্তুগালের পোর্তো ও স্পোর্তিং সিপি; নেদারল্যান্ডসের পিএসভি ও ফেইনুর্ড; বেলজিয়ামের ব্রুগা, তুরস্কের গালাতাসারাই, ইউক্রেনের শাখতার এবং চেক প্রজাতন্ত্রের স্লাভিয়া প্রাগও সরাসরি জায়গা পেয়েছে।

প্লে-অফ থেকে আসা সাত দল

প্লে-অফ থেকে লিগ পর্বে জায়গা পেয়েছে সাবাহ (আজারবাইজান), বোদো/গ্লিমট (নরওয়ে), লাস্ক (অস্ট্রিয়া), এইকে এথেন্স (গ্রিস) অথবা লেভস্কি সোফিয়া (বুলগেরিয়া), ভাইকিং (নরওয়ে) অথবা দিনামো জাগরেব (ক্রোয়েশিয়া), সেলিয়ে (স্লোভেনিয়া) অথবা স্লোভান ব্রাতিস্লাভা (স্লোভাকিয়া) এবং লিওঁ (ফ্রান্স) অথবা ফেনেরবাচে (তুরস্ক)।

কো-এফিশিয়েন্টের ভিত্তিতে কোন দল কোন পটে থাকবে, সেটিও আজ দুপুরে নির্ধারিত হবে। এরপর রাতের ড্রতেই জানা যাবে নতুন মৌসুমে ইউরোপের বড় দলগুলোর আট প্রতিপক্ষ কারা।

জলিল টেক্সটাইলে তৈরি হবে অত্যাধুনিক অস্ত্র

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বিটিএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনুকূলে বিক্রয় অনুমোদনের আলোকে চুক্তি স্বাক্ষর ও মিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ফৌজদারহাটস্থ জলিল টেক্সটাইল মিলসে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।

এতে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির এমপি, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী চুক্তি স্বাক্ষর ও মিল হস্তান্তর উপস্থিত থাকবেন বলে পত্রে উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী একান্ত সচিব (উপসচিব) ফখরুদ্দিন আহমেদ।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, চুক্তি স্বাক্ষর ও মিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন সেনা অফিসার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি ও স্থাপনার এ মিলে একসময় যেখানে সুতা ও কাপড় তৈরি হতো এখন ব্যবহার হবে অত্যাধুনিক অস্ত্র উৎপাদনে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত মিলটির সব সম্পদ প্রতীকী মূল্যে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার (বিওএফ) সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) মিল প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর ও হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন কারখানাটির জমিতে বিওএফের নতুন প্ল্যান্ট ও কৌশলগত সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের প্রতিরক্ষা খাতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানো ও সমরাস্ত্রের ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যেই ফৌজদারহাটের এই জমি ব্যবহার করা হবে।

সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, ফৌজদারহাটের এই জমিতে আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের পরিধি বাড়াতে উচ্চপ্রযুক্তির উৎপাদন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি সামরিক লজিস্টিকস ও সংবেদনশীল সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণের জন্য স্থায়ী অবকাঠামো ও বিশেষায়িত সংরক্ষণাগার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিওএফ সম্প্রসারণের জন্য জলিল টেক্সটাইল মিলের জমি ব্যবহারের উদ্যোগ শুরু হয় ২০২৪ সালে। ওই বছরের জুনে তৎকালীন সেনাপ্রধান একটি বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে মিলটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর জায়গাটিকে বিওএফ সম্প্রসারণের জন্য কৌশলগতভাবে উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর ওই বছরের ৩১ অক্টোবর সেনাসদরের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) শাখা থেকে মিলটি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়।

২০২৪ সালে সরকারের পটপরিবর্তনের পর বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় থেকে সংশোধিত প্রস্তাব দেওয়া হয়। চলতি বছরের ১ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি প্রতীকী মূল্যে বিওএফের কাছে হস্তান্তরের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

এদিকে, এই হস্তান্তর ঘিরে অসন্তোষ রয়েছে জলিল টেক্সটাইলের সাবেক শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে। ২০০৪ সালে মিলটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকে ১ হাজার ৭৩ জন শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তা তাদের বকেয়া পাওনার অপেক্ষায় রয়েছেন। জলিল টেক্সটাইল মিলস শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম শফিক বসাক অ্যান্ড কোংয়ের অডিট অনুযায়ী শ্রমিকদের বেতন, গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ড বাবদ মোট ২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।

জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড সিবিএ সভাপতি মসিউদ্দৌলা বলেন, আমাদের পাওনা টাকা এখনো বুঝে পাইনি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আমরা একাধিক মন্ত্রণালয়ে ও বিটিএমসিতে বৈঠক ও যোগাযোগ করেছি। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের পাওনা টাকার কোনো সমাধান না করেই কারখানাটি হস্তান্তর করা হচ্ছে। অতীতে আমরা পাওনা টাকার জন্য কর্মসূচি পালন করেছি। আগামীকালও আমাদের কর্মসূচি থাকবে। আমরা প্রোগ্রাম স্থল থেকে কিছুটা দূরে থাকব। বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করব।

পাকিস্তান আমলে ব্যক্তি মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত মিলটি ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে জাতীয়করণ করে বিটিএমসির অধীনে নেওয়া হয়। মিলটিতে ১২ হাজার ৪০০ স্পিন্ডলের আধুনিক স্পিনিং ইউনিট ছিল। জাতীয়করণের পর উৎপাদন বাড়াতে উইভিং ও ডাইং ভাগও চালু করা হয়। মানসম্মত সুতা ও কাপড় উৎপাদনের জন্য একসময় দেশীয় বাজারে মিলটির সুনাম ছিল এবং তিনবার জাতীয় স্বর্ণপদকও পেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। লাভজনক এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি লোকসান ও অব্যবস্থাপনায় ২০০৪ সালে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত বিজিবির

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রামদাসপুর সীমান্ত দিয়ে ছয় জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির রামদাসপুর বিওপি এলাকার সীমান্ত পিলার ২১৬/এমপি দিয়ে এ চেষ্টা করা হয়।

বিজিবি সূত্র জানায়, ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের শমসেরনগর ক্যাম্পের সদস্যরা ছয় জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে রামদাসপুর বিওপির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের শনাক্ত করে। এ সময় ওই ছয়জনকে ভারতীয় সীমান্তের শূন্য লাইনের অভ্যন্তরে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিজিবি সদস্যরা তাদের বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশে বাধা দেন। পরে তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়।

১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় বিএসএফের কাছে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সীমান্তে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।