Home Blog Page 460

বিওয়াইডি বাংলাদেশের আয়োজনে ‘সিলায়ন সিক্স’ হস্তান্তর অনুষ্ঠান

বৈদ্যুতিক যানবাহনের বাজারে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে সম্প্রতি বিওয়াইডি বাংলাদেশ আয়োজন করেছে ‘বিওয়াইডি সিলায়ন সিক্স’ হস্তান্তর অনুষ্ঠান।

সম্প্রতি রাজধানীর বিওয়াইডি সার্ভিস সেন্টারে আয়োজিত এই আয়োজনে ৬ জন নতুন গ্রাহকের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয় তাদের নতুন বিওয়াইডি সিলায়ন সিক্স গাড়ি।

অনুষ্ঠানটি ছিল এক উষ্ণ, উৎসবমুখর পরিবেশে সাজানো একটি মিলনমেলা। গ্রাহক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিওয়াইডি শোরুমে স্বাগত জানানো হয়। সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিওয়াইডি সিলায়ন সিক্স-এর আধুনিক ফিচার, উন্নত প্রযুক্তি ও পারফরম্যান্স তুলে ধরা হয়। পরে সার্ভিস সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে চাবি হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিজি রানার বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান জনাব হাফিজুর রহমান খান এবং বিওয়াইডি এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জনাব ঝ্যাং জি। তারা নতুন গ্রাহকদের অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের বৈদ্যুতিক যানবাহন খাতে বিওয়াইডি’র অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিওয়াইডি সিলায়ন সিক্স বাজারে আসে। ১০০০ কিলোমিটারেরও বেশি রেঞ্জের মাধ্যমে প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে। বাজারে আসার পর থেকে এটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং বাংলাদেশের পিএইচইভি ক্রেতাদের প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে।

কেকে/এএম

হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিতে আপনিও বুঝবেন যেভাবে

অতিরিক্ত গরমে হিট স্ট্রোক বা সান স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। হিট স্ট্রোকের কিছু লক্ষণ রয়েছে। সেগুলো জানা থাকলে নিজে যেমন সচেতন থাকা যায়, অন্যদের দিকেও খেয়াল রাখা যায়। এক নজরে দেখে নিন লক্ষণগুলো।

প্রচণ্ড মাথাব্যথা : হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকলে প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। এ ছাড়া গরমে মানুষের মাইগ্রেন ট্রিগার করতে পারে। এটি হিট স্ট্রোকের অন্যতম একটি লক্ষণ হতে পারে।

বেশি তৃষ্ণা অনুভব ও অতিরিক্ত ঘামানো :  হিট স্ট্রোকের আগে অনেক বেশি তৃষ্ণা অনুভব হবে, সেইসঙ্গে ডিহাইড্রেটেড এবং আড়ষ্টতা অনুভব হতে পারে। শরীর নিজেকে ঠান্ডা করার জন্য অতিরিক্ত ঘাম তৈরি করতে পারে।

হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পাওয়া : হিট স্ট্রোকের আগে হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেতে পারে।

শ্বাসকষ্ট : হিট স্ট্রোকের অন্যতম লক্ষণ হলো শ্বাসকষ্ট এবং দ্রুত ও ভারী শ্বাস-প্রশ্বাসও

দুর্বলতা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া : তীব্র গরমের কারণে শরীর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কাজ করে। এতে শরীরে ক্লান্তি ও দুর্বলতা তৈরি হয়। ব্যক্তি অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে। এগুলো হিট স্ট্রোকের লক্ষণ।

পেশিতে ব্যথা : হিট স্ট্রোকের আগ মুহূর্তে পেশিতে ব্যথা অনুভব হতে পারে। যদিও সাধারণ ব্যথা ভেবে অনেকে এটাকে তেমন গুরুত্ব দেয় না।

বমি বমি ভাব : মাথাব্যথা, দ্রুত হৃদস্পন্দন ও হাইপারভেন্টিলেশন থেকে অক্সিজেনের অভাব ইত্যাদির কারণে হিট স্ট্রোকের আগে বমি বমি ভাব হতে পারে।

কথা জড়িয়ে যাওয়া : হিট স্ট্রোকের আগে যেসব লক্ষণ দেখা যায়, তারমধ্যে একটি হলো কথা জড়িয়ে যাওয়া। ব্যক্তি অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করতে পারে।

বিরক্তি-বিভ্রান্তি : মাত্রাতিরিক্ত গরমের কারণে হিটস্ট্রোকের আগে মানুষ বিরক্ত বোধ করতে পারে, রাগান্বিত হতে পারে, অযৌক্তিক কথা বলতে পারে এবং এমনকি প্রলাপ বকতে করতে পারে।

ঘাম না হওয়া : হিট স্ট্রোকের আরেকটি লক্ষণ হলো প্রচণ্ড গরমেও ঘাম না হওয়া। সাধারণত এর মানে  হচ্ছে, শরীরে ঘাম হওয়ার মতো পানি আর নেই বা শরীরের প্রাকৃতিক শীতল প্রক্রিয়াটি কাজ করছে না।

চিকিৎসকদের মতে, হিট স্ট্রোক এড়াতে শরীর হাইড্রেট রাখার কোনো বিকল্প নেই। তাপমাত্রা বেশি হলে ঢিলেঢালা এবং হালকা রঙের পোশাক পরে ঘরের বাইরে যেতে হবে। সূর্যের আলো থেকে চোখকে রক্ষা করতে সানগ্লাস ব্যবহার করা। প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। তবে কৃত্রিম চিনিযুক্ত পানীয় থেকে দূরে থাকতে হবে।

কেকে/এআর

পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিন শেষ করলো বাংলাদেশ

প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ওপেনার সাদমান ইসলাম আউট হয়েছিলেন ১২ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যর্থ বাঁহাতি ব্যাটার। এই ইনিংসে করেছেন মাত্র ৪ রান। দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকালে নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের অস্বস্তির কারণ হয়েছেন তিনি।

মাহমুদুল হাসান জয় ও মুমিনুল হক কিছুটা দেখেশুনে খেলায় দ্বিতীয় দিনের শেষটা খুব বেশি খারাপ হয়নি বাংলাদেশের। তবে প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ৮২ রানের লিড টপকে যেতে পারেনি স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩ ওভারে ১ উইকেটে ৫৭ রান করে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর দল এখনো ২৫ রানে পিছিয়ে। জয় ২৮ ও মুমিনুল অপরাজিত আছেন ১৫ রানে।

আজ সোমবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিনা উইকেটে ৬৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে জিম্বাবুয়ে। সকাল সকাল বাংলাদেশকে আশা দেখান নাহিদ রানা-হাসান মাহমুদরা। দিনের শুরুতেই তৃতীয় ওভারে নাহিদ রানার বাউন্সে পরাস্ত হয়ে শর্ট লেগে মুমিনুল হকের হাতে ক্যাচ তুলে দেন বেন কারেন (১৮)। তার তিন ওভার পর নাহিদের দ্বিতীয় শিকার হাফসেঞ্চুরিয়ান ব্রায়ান বেনেট।

নাহিদের পঞ্চম স্টাম্পে করা শর্ট অব গুড লেহ্নের বলে কাট করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক জাকের আলীর গ্লাভসে ধরা পড়েন বেনেট। ৬৪ বলে ১০ বাউন্ডারিতে তিনি করেন ৫৭।

পরের ওভারেই হাসান মাহমুদের চোখ ধাঁধানো এক ডেলিভারি। অফস্টাম্প উড়ে যায় নিক ওয়েলচের (২)। ৮৮ রানে ৩ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। সেখান থেকে শন উইলিয়ামস আর ক্রেইগ আরভিনের অনেকটা সময় প্রতিরোধ।

চতুর্থ উইকেটে ৪১ রানের জুটি করেন উইলিয়ামস ও আরবিন। এই জুটিও ভাঙেন নাহিদ রানা। দুর্দান্ত এক ডেলিবারিতে আরবিনকে উইকেটরক্ষক জাকের আলী অনিকের ক্যাচ বানান তিনি। ৩৯ বলে মাত্র ৮ রান করে সাজঘরে ফেরত যান আরবিন।

পঞ্চম উইকেটে আবারও জুটি করেন উইলিয়ামস ও ওয়েসলি ম্যাধেভেরে। এই জুটিতে আসে ৪৮ রান। ম্যাধেভেরেকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন পেসার খালেদ আহমেদ। ৩৩ বলে ২৪ রান করে বিদায় নেন ম্যাধেভেরে।

আঠার মতো উইকেটে লেগে থাকা উইলিয়ামসকে আউট করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ডানহাতি টাইগার স্পিনারকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অফে ক্যাচ হন তিনি। আউট হওয়ার আগে বাঁহাতি ব্যাটার অবশ্য ফিফটি করে ফেলেছেন। ১০৮ বলে করেছেন ৫৯ রান।

লোওয়ার মিডলঅর্ডারে রান করে জিম্বাবুয়েকে এগিয়ে দিয়েছেন নায়াশা মায়াভো। ৫৪ বলে ৩৫ রান করেন তিনি। নিচের দিকে ৪৪ বলে ২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন রিচার্ড এনগারাভা। ব্লেসিং মুজারাবানির অবদান ১৬ বলে ১৭ রান। এতে জিম্বাবুয়ের পুঁজি দাঁড়ায় ২৭৩ রানের। সঙ্গে লিড যোগ হয় ৮২ রানের।

দিনের তৃতীয় সেশনে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ। দলীয় ১৩ রানের মাথায় উইকেট বিলিয়ে দেন সাদমান। ১০ বলে ৪ রান করে ব্লেসিং মুজারাবানির বলে সেকেন্ড স্লিপে শন উইলিয়ামসের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।

জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংনে বাংলাদেশের হয়ে ৫২ বলে রানে ৫ উইকেট শিকার করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। নাহিদ রানা ৩ এবং খালেদ আহমেদ ও হাসান মাহমুদ নেন একটি করে উইকেট।

কেকে/এজে

প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় মেঘনা আলম গ্রেফতার

সুন্দরী মেয়েদের দিয়ে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের প্রেমের ফাঁদে ফেলার অভিযোগে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় মডেল মেঘনা আলমকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সকালে তাকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর শুনানিতে বলেন, ‘এই আসামিরা অভিনব কৌশল অবলম্বন করে বিদেশি রাষ্ট্রদূতসহ অ্যাম্বাসিগুলোতে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের হানি ট্র্যাপে ফেলে বিপুল অর্থ বাগিয়ে নেওয়ার জন্য চক্র দাঁড় করিয়েছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতারণা করে আসছেন। সবশেষ সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন এবং তার কাছ থেকে ৫ মিলিয়ন ডলার দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।’

এরপর বিচারক আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আছেন কিনা জানতে চান। মেঘনা আলম আদালতকে বলেন, ‘আমাদের কোনো আইনজীবী নেই। এরপর তিনি কথা বলতে অনুমতি চান।

আদালত অনুমতি দিলে তিনি বলেন, আমার নাম মেঘনা, মেঘলা নয়। সৌদি রাষ্ট্রদূতের কথা বলা হচ্ছে। আমার প্রশ্ন যে কেউ চাইলে কি সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করতে পারে? আপনারা কি তার কাছে যেতে পারবেন?

এ পর্যায়ে বিচারক তাকে থামিয়ে মামলা সম্পর্কে কিছু বলার আছে কিনা জানতে চান। এরপর মেঘনা বলেন, আমাকে বিনা বিচারে জেলে পাঠানো হয়েছে। আমাকে বলা হয়েছে কোনো আইনজীবী পাবেন না। বিষয়টি হলো রাষ্ট্রদূত ঈসার সঙ্গে আমার একমাত্র সম্পর্ক, আর কারও সঙ্গে না। সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। ঈসা অভিযোগ করেন আমি নাকি তার বাচ্চা নষ্ট করে ফেলেছি। এটা মোটেও সত্য না। এ বিষয়ে আমি ঈসার সঙ্গে কথা বলি। তাকে এসব তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে বলি। এসব বিষয় নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি শফিকুরের সঙ্গে কথা বলি। এরপরেই পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করে।’

এদিকে মেঘনার সহযোগী দেওয়ান সমির আদালতকে বলেন, ‘আমাকে মেঘনা আলমের বয়ফ্রেন্ড বলা হচ্ছে। এটা ভুল তথ্য, তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি সাধারণ একজন মানুষ। দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলাম। আমি একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা। আমি মামলার এসব ঘটনার কিছুই জানি না।’

এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম মিয়া তাদের দুইজনকে গ্রেফতার দেখান। একইসঙ্গে দেওয়ান সমিরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এজলাস থেকে হাজতখানায় যাওয়ার পথে মেঘনা আলম বলেন, ‘একমাত্র ঈসার সঙ্গে আমার সম্পর্ক, আর কারো সঙ্গে সম্পর্ক নেই। আমি ন্যায়বিচার পাচ্ছি না।’ এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘিরে ধরেন।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ ও বিডার আশ্বাস

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন যৌথভাবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য পূর্ণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। পুলিশ বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি বিশেষ জরুরি যোগাযোগ নম্বর চালুর ঘোষণা দেয়, যাতে কোনো ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা পাওয়া যায়। এই উদ্যোগ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিনিয়োগবান্ধব, নিরাপদ ও টেকসই অর্থনৈতিক পরিবেশ গঠনের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ।

সম্প্রতি গাজা ইস্যুতে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে বেশ কয়েকটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের প্রেক্ষাপটে সোমবার (২১ এপ্রিল) এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ৭ ও ৮ এপ্রিল দেশের বিভিন্ন শহরে এসব সহিংস ঘটনায় অন্তত ১৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ডজনখানেক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে নেসলে বাংলাদেশ, কোকা-কোলা বাংলাদেশ বেভারেজস, ইউনিলিভার বাংলাদেশ, বাটা সু কোম্পানি বাংলাদেশ, রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ, পেপসিকো এবং জুবিল্যান্ট ফুড ওয়ার্কস বাংলাদেশের কর্মকর্তারা অংশ নেন। তারা তাদের প্রতিষ্ঠানে সরাসরি হামলা, ক্ষয়ক্ষতি ও কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে প্রথম-যধহফ তথ্য উপস্থাপন করেন।

বিডা চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, ‘আইজিপি, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা এবং বিডার নেতৃত্ব একসঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বসেছেন—এটি ছিল সময়োচিত ও নজিরবিহীন উদ্যোগ। এটি কেবল একটি প্রতীকী বার্তা নয়, বরং সরকারের পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদের প্রতি প্রতিশ্রুতি ও দায়বদ্ধতার একটি শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেসব কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা হাজার হাজার কর্মী ও তাদের পরিবারের জীবিকার যোগানদাতা। প্রতিবাদ করার অধিকার আমাদের আছে, কিন্তু কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পেছনে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা কোনো সমাধান হতে পারে না।’

আইজিপি বাহারুল আলম বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা শুধু প্রতিক্রিয়া দেখাতে নয়, আত্মবিশ্বাস তৈরি করতেও এখানে এসেছি। যাতে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আর না ঘটে।’ তিনি বিনিয়োগকারীদের জন্য পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বৈঠক শেষে বিডা, পুলিশ ও ব্যবসায়িক নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত হয় একটি প্রতিরোধ পরিকল্পনা। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে নতুন নিরাপত্তা প্রটোকল, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ইউনিট এবং উন্নত সংকট-যোগাযোগ ব্যবস্থা।

বিডা চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই সংলাপ প্রতিক্রিয়া নয়, প্রতিরোধের ভিত্তিতে গড়ে তোলা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এটি সরকারের সেই অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন—সমৃদ্ধির সময় যেমন বিনিয়োগকারীদের পাশে আছে সরকার, তেমনি সঙ্কটের সময়ও একসাথে পথচলার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি বহন করে।’

বৈঠকে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা বিডা ও বাংলাদেশ পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস মারা গেছেন

বিশ্বের ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস মারা গেছেন।

সোমবার  (২১ এপ্রিল) তিনি মারা যান বলে জানিয়েছে ভ্যাটিকান। ভ্যাটিকানের কাসা সান্তা মার্তায় নিজ বাসভবনে তার মৃত্যু হয়। এর আগে পোপ ফ্রান্সিসের স্বাস্থ্যের অবস্থা সংকটজনক বলে জানানো হয়েছিল।

এক বিবৃতিতে জানানো হয়, কিছুক্ষণ আগে কার্ডিনাল ফারেল, দুঃখের সাথে পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যু ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, “প্রিয় ভাই ও বোনেরা, গভীর দুঃখের সাথে আমাদের পবিত্র পিতা ফ্রান্সিসের মৃত্যু ঘোষণা করছি।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “তিনি আমাদেরকে আনুগত্য, সাহস এবং সর্বজনীন প্রেমের সাথে গসপেলের মূল্যবোধের সাথে বাঁচতে শিখিয়েছেন, বিশেষত দরিদ্রতম এবং সবচেয়ে প্রান্তিকদের পক্ষে।”

ফারেল যোগ করেছেন: “প্রভু যীশুর একজন সত্যিকারের শিষ্য হিসেবে তার উদাহরণের জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতার সাথে, আমরা পোপ ফ্রান্সিসের আত্মাকে এক এবং ত্রিমূর্তি ঈশ্বরের অসীম করুণাময় ভালবাসার জন্য প্রশংসা করি।”

সূত্র : বিবিসি

পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব ঢাকা গড়তে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন

রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী (বাস্তবায়ন) মো. নুরুল ইসলাম বলেছেন, যানজট ও জলাবদ্ধতা রাজধানী ঢাকার দুইটি প্রধান সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে নাগরিক সচেতনতা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সুস্থ, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব।

সোমবার (২১ এপ্রিল) ঢাকার নাগরিক জীবনের নানা সংকট এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম-বাংলাদেশ আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী (বাস্তবায়ন) মো. নুরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে রাউকের চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে নগর উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

মো. নুরুল ইসলাম বলেন, রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা যানজট, যা প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই যানজটে নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ কর্মঘণ্টা, বেড়ে চলেছে শব্দ ও বায়ু দূষণ, সৃষ্টি হচ্ছে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা। ঢাকার জনসংখ্যার তুলনায় রাস্তাঘাট ও গণপরিবহন অত্যন্ত অপ্রতুল। অপরিকল্পিত নগরায়ন, দ্রুত বাড়তে থাকা জনসংখ্যা, দুর্বল গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল সমস্যাকে দিন দিন আরও জটিল করে তুলছে।

এছাড়াও তিনি বলেন, ফুটপাত দখল, রিকশা ও বাসের এলোমেলো চলাচল, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির অভাব, বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা এবং মেট্রোরেল বা উড়ালসড়ক নির্মাণকাজের কারণে অস্থায়ী সংকোচন ঢাকার যানজটকে অস্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে।

ঢাকার আরেকটি বড় সমস্যা হিসেবে উঠে আসে জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর অনেক এলাকা পানিতে ডুবে যায়। তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকার খালগুলো ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে অবকাঠামো, বন্ধ হয়ে গেছে প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নালা-নর্দমায় ময়লার স্তূপ এবং বক্স কালভার্টে জমে থাকা অপচনশীল বর্জ্যের কারণে নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা আজ নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।

সমাধানের উপায় তুলে ধরে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, গণপরিবহন ব্যবস্থাকে উন্নত ও আধুনিক করতে হবে, ব্যক্তি যানবাহনের ব্যবহার সীমিত করতে হবে। বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি ট্রানজিট-ভিত্তিক উন্নয়ন (টিওডি) বাস্তবায়নের ওপর জোর দিতে হবে। এছাড়া কম দূরত্বে কমিউটার রেল চালু করা, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও এলোমেলো পার্কিং নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দেন তিনি।

জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৫ সালের ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানে উল্লেখিত ৪৭টি খাল উদ্ধার ও সীমারেখা নির্ধারণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধকরণ, নদী ও খালগুলোর নাব্যতা রক্ষা এবং স্কুল পর্যায় থেকে জনসচেতনতা গড়ার কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজউকের চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান।

অন্যানের মধ্যে বক্তব্য দেন বিআইপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ফজলে রেজা সুমন, বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যায়ন কেন্দ্র-ক্যাপসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. নুরুল্লাহ, স্থপতি সুজাউল ইসলাম খান প্রমুখ। সংগঠনের সিনিয়র সদস্য খালেদ সাইফুল্লাহ’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সভাপতি মতিন আব্দুল্লাহ।

২৮ এপ্রিল মুক্তি পাচ্ছে ইয়ংহেলের

‘ইয়ংহেল’ নামে পরিচিত বাংলাদেশি আমেরিকান র‌্যাপার, গায়ক ও গীতিকার মিনহাজুল আবেদীন ছাহেলের এপিসোড ‘THOUGHTS OF A LONER’ আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পাচ্ছে আগামী ২৮ এপ্রিল।
ওই দিন একযোগে  Spotify, Apple Music, YouTube সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে এটি প্রিমিয়ার করা হবে।
জানা গেছে, সঙ্গীত ও কথার মাধ্যমে তার এই এপিসোডে একাকীত্বে ডুবে থাকা মানুষের ভেতরের অনুভূতি, হতাশা, ক্লান্তি এবং মানসিক লড়াইয়ের নানা দিক উঠে এসেছে। এছাড়া তার প্রকাশিত ‘All of us’ গানটি এই এপিসোডে যুক্ত করা হয়েছে।
এপিসোডের অডিও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন DSTYLER। তিনি যৌথভাবে ইয়ংহেলের সঙ্গে কাজ করেছেন এই প্রজেক্টে।

২০২৬ বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে যে সিদ্ধান্ত মেসির

আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—লিওনেল মেসিকে কি আমরা ২০২৬ বিশ্বকাপে দেখতে পাব? এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অনিশ্চিত। যদিও মেসি নিজেই বলেছেন, তিনি প্রতিদিন ধরে ধরে এগোতে চান, সিদ্ধান্ত নেবেন সময় বুঝে।
গত বছর ইতালিয়ান সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেছিলেন, এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে চান না। ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত যেতে হলে সময়কে গুরুত্ব দিয়ে, ধাপে ধাপে এগোতে হবে।
আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিও মার্চে এক বক্তব্যে বলেন, দেখা যাক কী হয়, এখনও সময় আছে। সিদ্ধান্তটা মেসিকেই নিতে হবে।
সম্প্রতি কিকে উলফের ইউটিউব টকশোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি আরও খোলামেলা কথা বলেন। তিনি জানান, ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে সিদ্ধান্তটা অনেকটাই নির্ভর করছে এ বছরের পারফরম্যান্স, ফর্ম ও শারীরিক অবস্থার ওপর। অবশ্যই বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবছি, কিন্তু আমাকে নিজের সঙ্গে সৎ থাকতে হবে। আমি জানি না সেদিন আমি সেই জায়গায় থাকব কি না।
মেসি বলেন, এখন আর নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য স্থির করতে চান না, বরং ফিটনেস ও খেলার প্রতি আগ্রহই তার মূল মাপকাঠি। ২০২২ বিশ্বকাপ জয় ছিল স্বপ্নপূরণ। এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার কিছু ছিল না। সব অর্জন করেছি আমি,—বলেছেন মেসি।
২০১৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠেও জার্মানির কাছে হারে। সে প্রসঙ্গে মেসি বলেন, “হারটা যন্ত্রণাদায়ক ছিল, তবে পরে বিশ্বকাপ জেতায় সেই বেদনা অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে।”
সাক্ষাৎকারে আরও একটি বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন মেসি—টাইব্রেকারে পেনাল্টির সময় সবসময় তিনি কেন প্রথম শট নেন। মেসির কথায়, দায়িত্ব নিতে আমি ভয় পাই না। শুরুতেই নিজের কাঁধে দায়িত্ব নিতে পছন্দ করি।
বার্সেলোনায় ২১ বছর কাটিয়ে ২০২১ সালে পিএসজিতে যোগ দেন মেসি। এরপর ২০২3 সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিতে পাড়ি জমান। পিএসজি অধ্যায় নিয়ে মেসির মন্তব্য, “চেয়েছিলাম বার্সায় ফিরতে, কিন্তু সম্ভব হয়নি। এরপর এমএলএসে খেলার সিদ্ধান্তটা ছিল পারিবারিক। ইউরোপে অন্য কোনো ক্লাবে খেলার কথা মাথায়ই আসেনি।
মেসি বলেন, প্যারিসে থাকাটা পরিবারের জন্য ভালো ছিল, কিন্তু আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হচ্ছে, প্রতিদিনের অনুশীলন, জীবনযাপনে সেটা উপভোগ করতে পারিনি। মায়ামিতে আমি আবার ফুটবলটা উপভোগ করতে পারছি।

 

বিএনপির সঙ্গে থাকবে বাম জোট

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে থাকবে বাম গণতান্ত্রিক জোট। এমনকি নির্বাচনের দাবিতে যুগপৎ কর্মসূচি নিয়েও তারা মাঠে নামতে পারে। একই সঙ্গে সংস্কারের নামে নির্বাচনের জন্য কালক্ষেপণও সহ্য করবে না তারা। রোববার বিকাল ৪টা ৫ মিনিটে রাজধানীর বনানীতে একটি হোটেলে বিএনপি ও বাম জোটের নেতাদের মধ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে সিপিবি ও বাসদের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে দলটি। যদিও বৈঠকটিকে অনানুষ্ঠানিক বলে দাবি করেছেন বিএনপি ও বাম নেতারা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সিপিবির উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সভাপতি শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সহ-সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন।
সূত্র জানায়, ডিসেম্বরের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায়ের লক্ষে বিএনপি বাম ও প্রগতিশীল দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। এই বৈঠক তারই অংশ। নির্বাচনের দাবিতে শিগগিরই আলোচনার মাধ্যমে মাঠে নামার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তারা বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রস্তাব উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তবে জনমতের অভাবে এটি টিকবে না। সংস্কারের জন্য সংসদের প্রয়োজন, তাই দ্রুত কিছু সংস্কার করে নির্বাচন দিতে হবে। বাকি সংস্কার পরবর্তী সংসদে সম্পন্ন হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যে নিরপেক্ষতা হারিয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। নির্বাচনের দিকে না গেলে এই সরকারের পরিণতিও খারাপ হতে পারে। প্রয়োজনে বিএনপি ও বাম দলগুলো যুগপৎ কর্মসূচিতে যাবে।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা সময়ের আলোকে জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ডিসেম্বর বা জুনের মধ্যে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে তারা ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চায়। এর ব্যত্যয় হলে যুগপৎ কর্মসূচির পথে হাঁটতে পারে তারা। নেতারা বলেন, ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। এরশাদের পতনের তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব হলে এই সরকারের সমস্যা কোথায়? তারা মনে করেন, একটি অনির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকার দেশটাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। আরেকটি অনির্বাচিত সরকার দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তাদের দাবি, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দিতে হবে। এমনকি সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যেও নির্বাচন সম্ভব বলেও তারা মনে করেন।
তারা আরও বলেন, সংস্কারের নামে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিলম্ব করার সঠিক হবে না। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা তার সুযোগ নেবে। সংস্কার ও নির্বাচনকে প্রতিপক্ষ ভাবার সুযোগ নেই। এ জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো দ্রুত শেষ করে নির্বাচন আয়োজন করা দরকার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, এটি প্রথম অনানুষ্ঠানিক বৈঠক। আপাতত আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে আছে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি ও উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম বৈঠকের বিষয়ে সময়ের আলোকে বলেন, বিএনপির সঙ্গে আমাদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনায় আমরা ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন যাতে হয় সে বিষয়ে কথা বলেছি। তিনি বলেন, কেউ কেউ বলছেন সংস্কার করে নির্বাচন। আমরাও সংস্কারের পক্ষে। কিন্তু সংস্কার করতে হলে জনমতের বিষয় আছে। সেটি পার্লামেন্ট ছাড়া হয় না। ফলে কিছু কিছু সংস্কার করে ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন দিতে হবে। এ বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে আমরা একমত হয়েছি। বিএনপি নির্বাচনের দাবিতে মাঠে থাকবে। আমরাও নির্বাচনের দাবিতে মাঠে আছি। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের বিকল্প নেই। মানুষের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। প্রকারান্তরে জনমতকে তোয়াক্কা না করলে তার পরিণতি খারাপ হবে। শিগগিরই বিএনপির সঙ্গে আবারও বসব। সেখানে গণতান্ত্রিক বাম জোটের নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি শাহ আলম বলেন, ১৫ বছরের ক্ষোভ ৫ আগস্টে মানুষ প্রকাশ করেছে। সেখানে মানুষের মূল আকাক্সক্ষা ছিল ভোট দিতে পারেনি। ১৪, ১৮ এবং ২৪ সালে। মানুষ চায় গণতন্ত্র এবং ভোটাধিকার। এখন যারা সংস্কারের নামে নির্বাচন দেরি করিয়ে গণপরিষদ নির্বাচন বা অন্য যেগুলো আনছে, তারা এন্টি ডেমোক্রেটিক ফোর্স।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ সময়ের আলোকে বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন জরুরি। তাই আমরা সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা চাই। আমরা ডিসেম্বর অক্টোবর বুঝি না। শিগগিরই নির্বাচন দিতে হবে। অবশ্যই ডিসেম্বরের মধ্যে হতে হবে। সরকার ইতিমধ্যে ডিসেম্বরে নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করছে। এই টালবাহানা মেনে নেব না। শিগগিরই বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতাদের নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করব। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে, নির্বাচনের দাবিতে কী কর্মসূচি দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে সরকার তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে আগামী নির্বাচনে আমরা যাব কি যাব না সেই সিদ্ধান্ত সময় অনুযায়ী আসবে। পরিস্থিতির ওপরে সবকিছু নির্ভর করবে। সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, রাজনীতিতে আমরা একটা নতুন সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই।