Home Blog Page 461

একটা পলাতক দল সর্বাত্মক চেষ্টা করছে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য: ড. ইউনূস

একটা পলাতক দল (আওয়ামী লীগ) দেশ ছেড়ে চলে গেছে বা তাদের নেতৃত্ব চলে গেছে। তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করছে দেশটাকে আনসেটেল (অস্থিতিশীল) করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রায় সাত মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংস্কার ও নির্বচন, ছাত্র নেতৃত্বের নতুন দল গঠনসহ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে কথা বলেছেন বিবিসি বাংলার সাথে। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতির প্রশ্নেও।

পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি এখানে তুলে ধরা হলো-

বিবিসি বাংলা : সর্বশেষ যখন আপনার (প্রধান উপদেষ্টা) সাথে আমার কথা হচ্ছিল ঠিক এক বছর আগে, এর মধ্যে একটা বিশাল পরিবর্তন হয়ে গেছে বাংলাদেশে। আপনি তখন একটা গ্রেফতার আতঙ্কে ছিলেন। আপনি বলছিলেন গ্রেফতার আতঙ্কের কথা। সেখান থেকে আপনি প্রধান উপদেষ্টা হয়েছেন, যার ছয় মাস পার হয়ে গেছে। এই ছয় মাসকে আপনি কিভাবে দেখেন? আপনি যা করতে চেয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তাতে কতটা সফল হয়েছেন?

প্রধান উপদেষ্টা : প্রথমেই একটা সংশোধনী বলি, গ্রেফতার আতঙ্ক আমার কাছে কোনো আতঙ্ক ছিল না। একটা সম্ভাবনা ছিল যে আমাকে নিয়ে যাবে। আই ওয়াজ টেকিং ইট ইজি যে নিলে নেবে, আমার তো করার কিছু নাই। যেহেতু আইন-কানুন নাই দেশে, কাজেই তারা যা ইচ্ছা তা করতে পারে। ওর মধ্যে দিয়ে জীবন চলছিল আমার। সরকার যখন গঠন হলো, আমার কোনো চিন্তা ছিল না, ভাবনা ছিল না যে আমি হঠাৎ করে একটা সরকারের প্রধান হব, দায়িত্ব পাব। এবং সেই দেশ এমন দেশ, যেখানে সব তছনছ হয়ে গেছে। কোনো জিনিস আর ঠিকমতো কাজ করছে না। যা কিছু আছে ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে কাজ করতে হবে।

কাজেই আমার প্রথম চেষ্টা ছিল সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে আসল চেহারাটা বের করে আনা। মানুষের দৈনন্দিন জীবন সহজ করে আনা। সেই চেষ্টাটার মধ্যে ছিলাম। তারপর আস্তে আস্তে ভবিষ্যতটা কী হবে, সেটার জন্য চিন্তা করা– কোনদিকে আমরা অগ্রসর হব।

প্রথম চিন্তা এলো যে একটা সংস্কার দরকার আমাদের। যে কারণে এসব ঘটনা ঘটেছে, ফ্যাসিবাদী সরকার চলতে পেরেছে। ১৬ বছর ধরে চলতে পেরেছে, আমরা কিছুই করতে পারি নাই। তিন-তিনটা নির্বাচন হয়ে গেল, ভোটারের কোনো দেখা নাই। এই যে অসংখ্য রকমের দুর্নীতি এবং ব্যর্থতা, মিসরুল ইত্যাদি– সেখান থেকে আমরা কিভাবে টেনে বের করে আনব। টেনে বের করে আনতে গেলে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারগুলো করতে হবে। সেজন্য প্রথমে আমরা ঠিক করলাম…।

বিবিসি বাংলা : কতটা টেনে বের করে আনতে পেরেছেন বলে মনে হয় আপনার কাছে?

প্রধান উপদেষ্টা : সংস্কারের বিষয়ে? সংস্কার তো এখনো শুরু করিনি…।

বিবিসি বাংলা : না, যে বিষয়ে আপনি বলছিলেন যে যখন প্রধান উপদেষ্টা হলাম তখন এক ধরনের পরিস্থিতি ছিল…।

প্রধান উপদেষ্টা : অনেক পরিবর্তন…।

বিবিসি বাংলা : কতটা পরিবর্তন? আপনার চোখে কী মনে হয়?

প্রধান উপদেষ্টা : বহু পরিবর্তন। এটা আমি বলব, যে ধ্বংসাবশেষ থেকে এসেছিলাম, তার নতুন চেহারা আসছে। ভেসে উঠছে যে আমরা অর্থনীতি সহজ করেছি। দেশ-বিদেশের আস্থা অর্জন করেছি। এটা তো পরিষ্কার যে সারা দুনিয়ায় আমরা আস্থা স্থাপন করতে পেরেছি। এটা কেউ প্রশ্ন করতে পারবে না যে আমি অমুক দেশের আস্থা অর্জন করতে পারিনি। যে দেশেই বলুন, তারা আমাদের ওপর আস্থা স্থাপন করেছে। শুধু আস্থা স্থাপন করেছে না, বিপুলভাবে করেছে। তারা বলছে আমরা অতীতে যা করি নাই, তার চেয়ে বেশি করব এখন, যেহেতু আমরা দেখছি যে সুন্দরভাবে সরকার চলছে এখন। সেইজন্য তারা বলছে। কাজেই এটা তো একটা বড় প্রমাণ। যখনই আপনি দেশের সারিগুলা দেখবেন প্রত্যেকটা দেশ নিজে এসে বলেছে, আমরা তোমাদের সমর্থন করছি। তোমাদের যা দরকার আমরা দেবো। অবিশ্বাস্য রকমের সহায়তা দিয়েছে তারা।

বিবিসি বাংলা : বিদেশে আপনি আস্থা এবং সমর্থনের কথা বলছেন, আমি যদি দেশের প্রসঙ্গে আসি, আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে আসি। আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে কিন্তু অনেক সমালোচনা হচ্ছে। এবং আমি যদি পুলিশের এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যান দেখি, অপরাধ কিন্তু বেশ কিছুটা বেড়েছে। তো এটা আপনারা কেন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না?

প্রধান উপদেষ্টা : আস্থার কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম, আস্থার কথাতেই ফিরে যাই, দেশ-বিদেশের আস্থা। দেশের মানুষের আস্থা আছে কি না আমদের ওপর এটাইতো বড় কথা।

আমার মনে হয়, দেশের মানুষের আস্থা আমাদের ওপর আছে। বিপুল পরিমাণে আছে। কাজেই সেটা হলো বড় প্রমাণ। আমরা কী করছি না করছি- এগুলো খুচরো বিষয় আছে। আমাদের খুচরো বিষয় এটাতে ভালো, ওটাতে মন্দ, কিছু ভালো, কিছু মন্দ, হতে থাকবে। এটা একটা অপরিচিত জগৎ, আমরা এসেছি। আমরা কোনো এক্সপার্ট এখানে এসে বসি নাই। আমরা এসেছি যার যার জগৎ থেকে এসেছি, নিজের মতো করে চেষ্টা করছি কিভাবে করতে পারি। এর মধ্যে ভুলভ্রান্তি হতে পারে। কিছু ভালো করেছে, কিছু ভালো করতে পারেনি। এটা হতে পারে। এটা আমি তো অস্বীকার করছি না।

বিবিসি বাংলা : ভালো হয়নি কোনটা আপনার চোখে?

প্রধান উপদেষ্টা : কোনোটাই ভালো হয়নি সে অর্থে। যত ইচ্ছা আমাদের, ইচ্ছাতো অনেক। রাতারাতি দেশ পরিবর্তন করতে চাই। সেটা তো আমরা পারি নাই। সময় লাগবে।

চেয়েছিলাম যে এখনই আমরা সংলাপটা শুরু করব। এটাও পারি নাই। সংলাপ শুরু হতে হতেও দেরি হয়ে যাচ্ছে। এগুলা আর কী। যেগুলো সময়মতো আমরা করতে চেয়েছি, ওই সময়ে করতে পারিনি।

আমরা অনেকগুলো সংস্কার কমিশন করেছি। আমাদের ৯০ দিনের মধ্যে কমিশনের রিপোর্ট দেয়ার কথা। তারা দিতে পারে নাই। আমি অভিযোগ করছি না। কারণ বিশাল একটা কাজ। আরেকটু সময় চেয়েছে- এক মাস, দুই মাস। ওইটুকু একটু পিছিয়ে গেছে। এগুলো আর কী। কাজ করতে গেলে যা হয়।

‘অপরাধের পরিমাণ মোটেই বাড়েনি’

বিবিসি বাংলা : সংস্কারের কথা বলছিলেন, আমরা যদি আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে ফিরে আসি, পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে, অনেকেই বলছেন যে তারা নানা রকম ভয়ে আছেন, আতঙ্কে আছেন, যেহেতু অপরাধটা তারা দেখছেন, রাস্তাঘাটে যেটা হচ্ছে। এটা আপনারা কেন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না?

প্রধান উপদেষ্টা : অবনতিটা কোন পয়েন্ট থেকে হয়েছে? এটা বলতে হবে তো আমাকে। আপনি বলছেন অবনতি হয়েছে। কোন রেফারেন্স পয়েন্ট থেকে অবনতিটা হয়েছে? সেটা না দিলে তো আমরা বুঝতে পারব না।

বিবিসি বাংলা : আমি যদি সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের কথা বলি, গত বছর এই সময় থেকে অপরাধের পরিমাণ রাস্তাঘাটে যেমন।

প্রধান উপদেষ্টা : আমিতো হিসাব নিচ্ছি। অপরাধের পরিমাণ মোটেই বাড়েনি। আগের মতোই হয়েছে।

বিবিসি বাংলা : আমি যদি একটা পরিসংখ্যান আপনাকে দেই, গত ছয় মাসে…।

প্রধান উপদেষ্টা : একটা দিয়ে তো আর বিচার হবে না; সমস্ত কিছু নিয়ে আসতে হবে।

বিবিসি বাংলা : ছয় মাসে ডাকাতির সংখ্যা ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এটা পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী। সেটা আমি বলছি। হয়তো পরিসংখ্যান বিভিন্ন হতে পারে, কিন্তু এটা আছে এবং হচ্ছে সেটা আমরা দেখতে পাচ্ছি। এটা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সমস্যাটা কোথায় হচ্ছে?

প্রধান উপদেষ্টা : চেষ্টা করছি আমরা। সমস্যা আপনিও জানেন, আমিও জানি। প্রথম দিকে সমস্যা ছিল যে পুলিশ বাহিনী যাকে দিয়ে আমরা কাজ করাচ্ছিলাম, তারা ভয়ে রাস্তায় নামছিল না। দুই দিন আগে তারা এদের গুলি করেছে। কাজেই মানুষ দেখলেই সে ভয় পায়। কাজেই তাকে ঠিক করতে করতেই আমাদের কয়েক মাস চলে গেছে। এখন মোটামুটি ঠিক হয়ে গেছে। এখন আবার নিয়মশৃঙ্খলার দিকে আমরা রওনা হয়েছি। কাজ করতে থাকব।

বিবিসি বাংলা : সেই অপরাধের পাশাপাশি আরেকটা বিষয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে, যেটাকে মব বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা বলা হচ্ছে। যেমন গণপিটুনির একটা বিষয় দেখা গেছে। কিছুদিন আগের কথা যদি বলি, ধানমন্ডি-৩২সহ সারাদেশে অনেক ভবনে ভাঙচুর হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘসময় ধরে এগুলো চললেও সরকারের কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তেমন ভূমিকা দেখা যায়নি। তখন কেন তেমন ভূমিকা দেখা গেল না? আপনি পরে এটা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তখন কেন কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি?

প্রধান উপদেষ্টা : সময় নিচ্ছে। তারা তাদের মানসিকতা থেকে এখনো মুক্ত হতে পারেনি। এটা একটা জিনিস হতে পারে। আরেকটা হলো যে আমরা তাদের বলেছি, যেকোনো পুলিশ স্টেশনে তারা যেকোনো রিপোর্ট করতে পারে। আইনের আশ্রয় নিতে পারে এবং সেটাকে আমরা সহজ করেছি এখন। বলছি তোমরা ইন্টারনেটে দিয়ে দিতে পারো, অনলাইন পেইজ করতে পারো। যাতে মামলা করতে গিয়ে, হয়রানি হয়– বরাবরই বাংলাদেশের যে ঐতিহ্য, থানাতে গেলে যে সমস্ত হয়রানি হয়, সেটা থেকে বাঁচার জন্য যেন অনলাইনে করে। সেই অনলাইনের ব্যবস্থা করছে। যা যা আমাদের মনে হয়েছে যে মানুষকে সহজ করা যাবে, তাদের তথ্য আদানপ্রদান সহজ করা যাবে এবং মামলা করা সহজ করা যাবে, ইত্যাদি।

বিবিসি বাংলা : অনলাইনে তারা করতে পারছেন, সেটা আপনারা সহজ করেছেন। কিন্তু আসল কাজটা তো পুলিশকে করতে হবে। আপনি যে বলছেন পুলিশ সেই পর্যায়ে যেতে পারেনি, তারা নিজেরা আস্থা পাচ্ছে না বা তারা সেভাবে সক্রিয় হচ্ছে না। প্রায় সাত মাস হয়ে গেছে, এখনো তাদের আস্থার সঙ্কটটা দূর করা গেল না?

প্রধান উপদেষ্টা : এখনো সম্ভব হয়নি। বাট চেষ্টা করছি। অনেক ইম্প্রুভ হয়েছে। কিন্তু সমাধান হয় নাই।

ঐক্যের মধ্যে ফাটল?

বিবিসি বাংলা: আপনার দায়িত্ব গ্রহণর প্রসঙ্গে আসি। আপনি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তার আগে যে আলোচনা হয়েছে, সেখানে তিনটি পক্ষকে সক্রিয় দেখা গিয়েছিল। একটি হচ্ছে সেই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেয়া ছাত্ররা, রাজনৈতিক দলগুলো এবং তৃতীয় হচ্ছে সেনাবাহিনী। এই তিন পক্ষের সবাই আপনাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেয়ার কথা বলেছিলেন। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে তখন আপনাদের অন্তর্বর্তী সরকারের যে সম্পর্কটা ছিল, এখনো কি সেটা আছে? না কি এখন সেই অবস্থা আর নেই?

প্রধান উপদেষ্টা : আমার তো অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয় না। কেউ আমাকে অসমর্থন করছে, এরকম কোনো খবর তো আমি পাই নাই এখনো। সবাই সমর্থন করছে, সবাই চাচ্ছে যে সুন্দরভাবে দেশ চলুক, তাদের সবার মধ্যে ঐক্য আছে।

রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে অনেক তফাৎ আছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরেছে। এরকম কোনো ঘটনা ঘটে নাই।

বিবিসি বাংলা : আমি যদি একজনের কথা বলি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি বক্তব্যে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা : জনমনে… ওনার মনে সন্দেহ হয়েছে কি না এটা হলো কথা।

বিবিসি বাংলা : তাদের মনে কেন সন্দেহ তৈরি হবে?

প্রধান উপদেষ্টা : সে করেনি তো। সে কথাই বলছি। আমরা যখন বসি, কেউ তো বলে নাই যে সন্দেহ হচ্ছে। সে বলছে আমরা আপনাদের সাথে আছি।

বিবিসি বাংলা : মানে আপনাদের সামনে ভিন্ন কথা বলছে। কিন্তু বক্তব্যে ভিন্ন কথা বলছে। তাই কি হচ্ছে?

প্রধান উপদেষ্টা : ভিন্ন বলছে কি না সেটা আপনারা বোঝেন। কিন্তু আমাদের সাথে সম্পর্কের কোনো ঘাটতি হয়নি।

বিবিসি বাংলা : ছাত্রদের প্রসঙ্গে… ছাত্ররা একটা রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। বা এরইমধ্যে করে ফেলেছে। সে বিষয়ে কয়েকটি রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে সরকার তাদের সহায়তা করছে। সরকার কি সহায়তা করছে তাদের বা করেছে?

প্রধান উপদেষ্টা : না, সরকার কোনো সহায়তা করে না। যে রাজনীতি করতে চায়, সে নিজেই ইস্তফা দিয়ে চলে গেছে। তিনজন ছাত্র প্রতিনিধি ছিল সরকারের ভেতরে। যিনি রাজনীতি করতে মন স্থির করেছেন, তিনি ইস্তফা দিয়ে সরকার থেকে চলে গেছেন। তিনি প্রাইভেট সিটিজেনশিপে রাজনীতি করবেন, কার বাধা দেয়ার কী আছে?

বিবিসি বাংলা : কিন্তু আপনি দায়িত্ব নেয়ার আগে এবং পরে বিভিন্ন সময় বলেছেন যে ছাত্ররাই আপনার বা আপনাদের নিয়োগকর্তা। সে কারণেই কি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি একটা সমর্থন আছে সরকারের?

প্রধান উপদেষ্টা : দেখিনি তো এখনো। দেখলে না ঠিক করব যে ওদের কাজকর্ম ভালো হচ্ছে কি না। প্রত্যকের তো মনোভাব থাকবে যে ওই রাজনৈতিক দলটা সুন্দর কাজ করছে, ওই রাজনৈতিক দলটা ঠিক কাজ করছে না। এটা মনোভাব হতে পারে ব্যক্তিগতভাবে। সরকার হিসেবে আমাদের কোনো পজিশন নাই।

বিবিসি বাংলা : তাহলে আপনি কি বলবেন যে অভিযোগটা করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সেটা সঠিক নয়?

প্রধান উপদেষ্টা : সঠিক নয় মোটেই।

সেনাবাহিনী কি সহযোগিতা করছে?

বিবিসি বাংলা : সেনাবাহিনী থেকে কি আপনি সহযোগিতা পাচ্ছেন?

প্রধান উপদেষ্টা : সর্বাত্মকভাবে।

বিবিসি বাংলা : প্রথম থেকে যা ছিল, এখনো তাই?

প্রধান উপদেষ্টা : অ্যাবসুলেটলি।

বিবিসি বাংলা : আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে সম্প্রতি সেনাপ্রধান একটি বক্তব্য দিয়েছেন, যেখানে তিনি বলেছেন, অনেক বিষয়ে তিনি এবং আপনি একমত। এরমধ্যে তার একটি বক্তব্য ছিল যে সবাই একসাথে কাজ করতে না পারলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে বা বিপন্ন হতে পারে। আপনি কি এই বক্তব্যের সাথে একমত?

প্রধান উপদেষ্টা : এটা ওনার বক্তব্য উনি বলবেন। আমার ওনাকে এনডোর্স করা না করার তো বিষয় না।

বিবিসি বাংলা : যেহেতু উনি বলেছেন অনেক বিষয়ে কথা হয়। আপনি অনেক বিষয়ে একমত। অথবা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না? সরকার প্রধান হিসেবে আপনি কী মনে করেন?

প্রধান উপদেষ্টা : এটা তো সবসময় থাকে। একটা পলাতক দল দেশ ছেড়ে চলে গেছে বা তাদের নেতৃত্ব চলে গেছে। তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করছে এটাকে আনসেটেল করার জন্য। এটা তো সবসময় থ্রেট আছেই। প্রতিক্ষণেই আছে, প্রতি জায়গাতেই আছে। কাজেই এটা তো সবসময় থাকবে।

বিবিসি বাংলা : হুমকিটা কি আপনি বলছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ থেকে?

প্রধান উপদেষ্টা : অবশ্যই। এটা তো অবভিয়াস। তারা মাঝে মাঝেই ঘোষণা করছে। বক্তৃতা দিচ্ছে। এড্রেস করছে। আপনি-আমরা সবাই শুনছি। মানুষ উত্তেজিত হচ্ছে।

বিবিসি বাংলা : আওয়ামী লীগের বিষয়ে আপনারা বলেছেন বা আপনি এখন যেটা বললেন, তাদের দিক থেকে নানা কর্মকাণ্ড আছে। হুমকিটা কোথায়?

প্রধান উপদেষ্টা : এই যে এড্রেস করছে। জাগো, কাজে নামো ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক আহ্বান জানাচ্ছে না- কর্মসূচি দিচ্ছে, হরতাল করো, অমুক করো। মানুষ কিভাবে নেবে এটাকে বলেন? এটা কি মিষ্টি মুখে চলে যাবে সব?

বিবিসি বাংলা : অন্তর্বর্তী সরকারের একটা বড় লক্ষ্য হিসেবে আপনি সংস্কারের কথা বলেছেন। এটি নিয়ে আপনি অনেকগুলো কমিশনও গঠন করেছেন। কিন্তু এখন যেহেতু আপনারাই বলছেন যে বছরের শেষে নির্বাচন হবে। তো এই অল্প সময়ের মধ্যে আপনারা সংস্কার কতটা করতে পারবেন বলে মনে করেন?

প্রধান উপদেষ্টা : সেটা আমরা প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আমরা একেবারে প্রত্যেকটা সুপারিশ দেবো। সুপারিশের সাথে কথা থাকবে যে আপনার রাজনৈতিক দল এটা কি সমর্থন করে? এটাতে রাজী আছেন? রাজী থাকলে বলেন, রাজী না থাকলে বলেন। বা এই যে সুপারিশটা আছে, সেটার মধ্যে যদি কোনো একটা সংশোধনী এনে রাজী হবেন, সেটা বলেন। এটা কি নির্বাচনের আগে সংশোধন করা ঠিক হবে না কি নির্বাচনের পরে- সব প্রশ্নের এখানেই সমাবেশ আছে।

রাজনৈতিক দলকে শুধু বলতে হবে কোনটা? সবকিছু মিলালে আমরা এটা ঠিক করব, কোন সুপারিশে সবাই একমত হয়েছে। সেটা আলাদা করব যে এটাতে সবাই একমত হয়েছে। এরকম যে সমস্ত সুপারিশে তারা একমত হয়েছে, সেগুলো আমরা আলাদা একটা কাগজে নিয়ে আসব যে এইসব বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে। তবে এটাকে আমরা বলব একটা চার্টার- জুলাই চার্টার।

এবং সবাইকে আহ্বান জানাব, আপনারা সবাই যেহেতু একমত হয়েছেন এটাতে সই করে দেন। জুলাই চার্টারের মতোই আমরা চলব। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচনটা হবে। নির্বাচনের আগে যেটা বলেছেন সেটা নির্বাচনের আগে হবে, যেটা নির্বাচনের পরে বলেছেন সেটা নির্বাচনের পরে হবে। এটা আপনাদের বিষয়। কিন্তু আপনারা একমত হয়েছেন। সেই ঐকমত্যই আমরা গঠন করার চেষ্টা করছি।

বিবিসি বাংলা : তবে কি বলা যায় যে নির্বাচনটা এবছরের মধ্যেই হচ্ছে?

প্রধান উপদেষ্টা : আমরা তো সেটা ঘোষণা করে দিয়েছি। আবার নতুন করে বলার তো কিছু নাই।

বিবিসি বাংলা : সর্বশেষ যখন আপনার সাথে কথা হচ্ছিল, তখন আপনি একটা বিষয় বলেছিলেন যে আপনার ওপরে যে মামলা, হয়রানি- এসব কারণে আপনি ব্যক্তিগত জীবনে নানাভাবে প্রভাবিত হচ্ছেন। এখন সরকারের সাত মাস হচ্ছে, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে থাকার পর আপনার ব্যক্তিগত জীবন কিভাবে প্রভাবিত হয়েছে?

প্রধান উপদেষ্টা: আমিতো এখন ব্যক্তিগত জীবন থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছি। এখন তো আমার জীবন অন্য রকমের। বদ্ধ ঘরে কাজ করার মতো জীবন। আমার এদিকে ওদিকে কাজ করার সুযোগ নাই। যেটুকু করার খুবই সীমাবদ্ধভাবে আমাকে ফোকাসড ওয়েতে সেগুলোর কাজ চলছে। কাজেই ওটার সাথে এটার কোনো তুলনা করতে পারছি না আমি। ওটা ফ্রি জীবন। যা ইচ্ছা তাই করছিলাম। এখন তো আর সেটা করা যাচ্ছে না।

‘ভারতের সাথে মাঝখানে কিছু কিছু দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে’

বিবিসি বাংলা : গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি দেখা গেছে। দুই দেশের সম্পর্ক এখন কোন পর্যায়ে আছে?

প্রধান উপদেষ্টা : খুবই ভালো। আমাদের সম্পর্কের কোনো অবনতি হয় নাই। আমি যেভাবে ব্যাখ্যা করে এসেছি, আমাদের সম্পর্ক সবসময় ভালো থাকবে। এখনো ভালো আছে, ভবিষ্যতেও ভালো থাকবে।

বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক ভালো না থেকে উপায় নেই। আমাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ, আমাদের পরস্পরের ওপর নির্ভরশীলতা এত বেশি এবং ঐতিহাসিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে আমাদের এত ক্লোজ সম্পর্ক, সেটা থেকে আমরা বিচ্যুত হতে পারব না। তবে মাঝখানে কিছু কিছু দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে, আমি বলেছি মেঘ দেখা দিয়েছে। এই মেঘগুলো মোটামুটি এসেছে অপপ্রচার থেকে। অপপ্রচারের সূত্র কারা, সেটা অন্যরা বিচার করবে। কিন্তু এই অপপ্রচারের ফলে আমাদের সাথে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়ে গেছে। সেই ভুল বোঝাবুঝি থেকে আমরা উত্তরণের চেষ্টা করছি।

বিবিসি বাংলা : ভারত সরকারের সাথে আপনার সরাসরি যোগাযোগ হচ্ছে?

প্রধান উপদেষ্টা : সবসময় যোগাযোগ হচ্ছে। তারা এখানে আসছে, আমাদের লোকজন সেখানে যাচ্ছে। প্রাইম মিনিস্টার নরেন্দ্র মোদির সাথে আমার প্রথম সপ্তাহেই কথাবার্তা হয়ে গেছে।

বিবিসি বাংলা : ইলন মাস্কের সাথে সম্প্রতি আপনার কথা হয়েছে এবং তাকে আপনি বাংলাদেশে আমন্ত্রণও জানিয়েছেন। এটা কি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের সাথে একটা সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা?

প্রধান উপদেষ্টা : এটা মূলত ছিল স্টারলিংক নিয়ে। এটা ব্যবসায়িক একটা সম্পর্কের বিষয় ছিল। সেবিষয়ে আমরা আলাপ করছি যে স্টারলিংকের কানেকশনটা আমরা নিতে চাই।

আওয়ামী লীগ কি নিষিদ্ধ হবে বা নির্বাচনে অংশ নেবে কি না?

বিবিসি বাংলা: আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ দেখা গেছে, বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলছেন। এটা নিয়ে আপনার অবস্থানটা কী?

প্রধান উপদেষ্টা : ওই যে ঐকমত্য। আমরা বরাবরই ফিরে যাচ্ছি ঐকমত্যে। সবাই মিলে যা ঠিক করবে, আমরা তাই করব।

বিবিসি বাংলা : এবিষয়ে আপনার সরাসরি অবস্থান নেই বা আওয়ামী লীগ কি নিষিদ্ধ হবে বা রাজনীতি করবে কি না নির্বাচনে অংশ নেবে কি না?

প্রধান উপদেষ্টা : আমি অত ডিটেইলসে যাচ্ছি না। আমার বরাবরই পজিশন হলো যে আমরা সবাই এই দেশের নাগরিক। আমাদের এই দেশের ওপরে সমান অধিকার। আমরা সব ভাই ভাই। আমাদের এই দেশেই বাঁচতে হবে। এ দেশকেই বড় করতে হবে। কাজেই যে মত-দল করবে, তার মতো করে, সবকিছু করবে। এই দেশ থেকে কারো অধিকার কেড়ে নেয়ার কোনো উপায় নাই। কিন্তু যে অন্যায় করেছে, যার বিচার হওয়া উচিৎ, তার বিচার হতে হবে। এটুকুই শুধু।

বিবিসি বাংলা : বাংলাদেশের যে রাষ্ট্রীয় কাঠামো, তাতে সরকার প্রধানের সাথে রাষ্ট্রপতির একটা নিয়মিত যোগাযোগ থাকার কথা। বর্তমান রাষ্ট্রপতির সাথে কি আপনার যোগাযোগ হয়?

প্রধান উপদেষ্টা : যখনই প্রয়োজন হয়। শুধু শুধু তো গিয়ে ওনার সময় নষ্ট করার দরকার নাই। যখনই দরকার হয়, আমি তো তার কাছে যাই।

বিবিসি বাংলা : এর আগে সাক্ষাৎকারে আপনি একটা কথা বলেছিলেন যে এক-এগারোর সময় আপনি যে একটা রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন, সেটা নিয়ে কথা হচ্ছিল এবং আপনি বলেছিলেন যে আপনার রাজনীতিতে আসাটা ভুল হয়েছে। এখন আপনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পদে রয়েছেন। এখন আপনার কী মূল্যায়ন? এখানে আসা কি আপনার সঠিক হয়েছে না কি এখনই বিচার করতে চান না?

প্রধান উপদেষ্টা : না, বিচার করব। প্রথম কথা, আমি রাজনৈতিক দল গঠন করি নাই। গঠন করার কথা বলেছিলাম এবং ১০ সপ্তাহ যাবৎ এই কথা জারি ছিল। ১০ সপ্তাহ পর আমি বলেছি- না, আমি রাজনীতিতে যাব না। আমি বলেছি যে পলিটিক্স ইজ নট মাই কাপ অফ টি এবং ওটা ওখানেই সমাপ্ত। এরপর আমাকে রাজনীতির কাছে কেউ টানতে পারেনি। সবাই চেষ্টা করেছে দেশের নেতৃত্ব নেন, আপনি প্রধানমন্ত্রী হন। সবাই চেষ্টা করেছে। আমি ওটা চাই নাই। আমি বলেছি, ওই চ্যাপ্টার শেষ। এই ১০ সপ্তাহ- দ্যাটস এনাফ। কাজেই ওইভাবেই আছি এখন। এখানে আমি রাজনীতিতে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাই। রাজনীতি করিও না।

বিবিসি বাংলা : কিন্তু এটা একটা রাজনৈতিক পদ, সরকার প্রধান…।

প্রধান উপদেষ্টা : এটা টেকনিক্যালি হলে হবে। আমি তো এই পদে আসতেও চাই নাই। আমাকে অনুরোধ করেছে, বহুবারই করেছে। তারপর আমি শেষ পর্যন্ত সম্মত হয়েছি। সেটার দায়িত্ব নিয়েছি। রাজনৈতিক পদ যদি হয়ে থাকে, এটা বাই ডেফিনেশন। আমি রাজনীতি করি না।

বিবিসি বাংলা : প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনূস আপনাকে অনেক ধন্যবাদ বিবিসি বাংলাকে সময় দেয়ার জন্য।

প্রধান উপদেষ্টা : ধন্যবাদ আপনাকেও।

সূত্র : বিবিসি

ইউক্রেনের সাথে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র

ইউক্রেনের সাথে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাধীন বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে ওয়াশিংটন সংঘাতের দ্রুত অবসানের জন্য দেশ দুটিকে শান্তি আলোচনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

জন র‍্যাটক্লিফ বুধবার জানান, যুক্তরাষ্ট্র এ মুহূর্তে কিয়েভের সাথে তাদের গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে।

এর আগে, গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে বিতর্কিত বৈঠকের পর কিয়েভের যোদ্ধাদের সামরিক সহায়তা স্থগিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দেশ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবে সম্প্রতি ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সাথে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়কে জেলেনস্কি ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেন। রাশিয়ার সাথে শান্তি আলোচনার জন্য ইউক্রেন প্রস্তুত- জেলেনস্কির এমন বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বোক্ত পদক্ষেপের মেয়াদ সংক্ষিপ্ত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইউক্রেনকে রুশ বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসহ উল্লেখযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে আসছে।

ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ বুধবার সংবাদদাতাদের জানান, যুক্তরাষ্ট্র এক ধাপ পিছু হটেছে এবং প্রশাসন ইউক্রেনের সাথে তাদের গোয়েন্দা সম্পর্কের সকল দিক পর্যালোচনা করে দেখছে।

ওয়াল্টজ সিবিএস নিউজকে বলেন, যুদ্ধ শেষ করতে ও কিয়েভের সাথে খনিজ অধিকার চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য শান্তি আলোচনা শুরু করতে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, রাশিয়ার সাথে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্পের কর্মকর্তারা ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করবেন।

এদিকে, মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, তিনি জেলেনস্কির কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন। চিঠিতে ইউক্রেনের নেতা রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ সমাপ্ত করার আলোচনা শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সূত্র : ভয়েস অফ আমেরিকা

ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড

শিরোপার লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ পেল ভারত। ইতিহাস গড়ে স্বপ্ন পূরণের খুব কাছে নিউজিল্যান্ড। দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিদায় করে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে তারা। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে প্রোটিয়াদের জয় ৫০ রানে।

ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে বুধবার (৫ মার্চ) লাহোরে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয় নিউজিল্যান্ড। যেখানে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ৩৬২ রানের পুঁজি পায় কিউইরা। যা চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংগ্রহের রেকর্ড।

রেকর্ড রান তাড়া করতে রেকর্ড গড়তে হতো দক্ষিণ আফ্রিকাকে। শুরুর দিকে বেশ চেষ্টাও করল তারা। তবে শেষ পর্যন্ত বিশাল এই রান পাহাড় তাড়া করা সম্ভব হয়নি। ৯ উইকেটে ৩১২ রান পর্যন্ত তুলেছে প্রোটিয়ারা।

রান পাহাড় গড়ার মূল কারিগর কেন উইলিয়ামসন ও রাচিন রাবিন্দ্র। তাদের আসর সর্বোচ্চ ১৬৪ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত পায় দল। উইলিয়ামসন ৯৪ বলে ১০২ ও ১০১ বলে ১০৮ রান করেন রাচিন।

বিপরীতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুততম শতক হাঁকান ডেভিড মিলার। মাত্র ৬৭ বলে তিন অংকের ঘরে পৌঁছান তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত বৃথা যায় তার ইনিংস, যা কেবল হারের ব্যবধান কমায়।

রায়ান রিকেল্টন শুরুতে ১৭ রানে ফিরলেও টেম্বা বাভুমা ও ভেন ডার ডাসেন মিলে হাল ধরেন দলের৷ জুটিতে পাড় করেন তিন অংকের ঘর। ২২.২ ওভারে ১২৫ রানে ভাঙে জুটি। ৭১ বলে ৫৬ করে ফেরেন বাভুমা।

এরপর এইডেন মার্করামকে সাথে নিয়ে এগোতে থাকেন ডাসেন। তবে বেশিদূর আগায়নি তাদের দৌঁড়, ডাসেন থামেন ৬৬ বলে ৬৯ করে। দু’জনকেই ফেরান সান্টনার। দ্রুত ক্লাসেনকেও (৩) ফেরান তিনি। তাদের বিদায়ের পর ভাঙণ ধরে ইনিংসে।

মার্করাম ২৯ বলে ৩১ রানে ফেরার পর মিলার ছাড়া আর কেউ পারেননি বলার মতো কিছু করতে৷ তবে লোয়ার অর্ডারদের নিয়ে একাই ঝড় তুলেন মিলার। নবম উইকেটে রাবাদার সাথে ৩৮ রান নেয়ার পর ঝড় তোলেন তিনি।

শেষ উইকেট জুটিতে এনিগিডির সাথে ২৭ বলে ৫৬ রান যোগ করেন স্কোরবোর্ডে। যেখানে এনগিডির রান সাকুল্যে ২ বলে ১! তাতেই শেবাগ ও বাটলারের করা ৭৭ বলে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ভেঙে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির নতুন রেকর্ড গড়েন মিলার।

অধিনায়ক মিচেল সান্টনার ৪৩ রানে ৩, গ্লেন ফিলিপস ও ম্যাট হেনরি নেন দু’টি করে উইকেট।

এর আগে শুরু থেকেই দেখেশুনে খেলতে শুরু করেন নিউজিল্যান্ডের দু’ ওপেনার উইল ইয়ং ও রাচিন। উদ্বোধনী জুটি ভাঙে লুঙ্গি এনগিডির শিকার হয়ে ইয়ং ২১ রানে বিদায় নিলে।

এরপরই এবারের আসরের সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়েন রাচিন ও উইলিয়ামসন। আসরের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে রাচিন রাবাদার শিকার হলে থামে যুগলবন্দী। এরপর বেশিক্ষণ টেকেননি উইলিয়ামসনও। টম লাথামও ফেরেন দ্রুত (৪)।

৪১.১ ওভারে ২৫৭ রানে ৪ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ডে। এরপর ড্যারিয়েল মিচেল ও গ্লেন ফিলিপস মিলে পরের ৩০ বলে যোগ করেন ৫৭ রান। মিচেল ৩৭ বলে ৪৯ করে ফিরলেও ২৭ বলে সমান ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন ফিলিপস।

মিচেল ব্রেসওয়েল শেষ দিকে করেন ১২ বলে ১৬ রান। তাতে এই আসরেই অজিদের গড়া ৩৫৬ রানের সর্বোচ্চ স্কোর ইতিহাসের পাতায় স্থান নেয় কিইউরা। প্রোটিয়াদের হয়ে এনগিডি ৩ ও রাবাদা ২ উইকেট নেন।

শেখ হাসিনার জন্য ভারত ঠিক কতদূর যেতে রাজি

গত বছরের ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা যখন দিল্লির উপকণ্ঠে হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে এসে নামেন, ভারতের ধারণা ছিল এটা একটা ‘স্টপওভার’ আর তার মেয়াদ বড়জোর ৬ থেকে ৭ ঘণ্টার জন্যই। সেই ভুল ভাঙতে অবশ্য দিল্লির সময় লাগেনি। ৬ মাস পেরিয়ে আজ ৭ মাসে ঠেকলেও তাকে এখনো পাঠানো সম্ভব হয়নি তৃতীয় কোনো দেশে- এবং রাষ্ট্রের অতিথি হিসেবে তিনি আজও ভারতেই অবস্থান করছেন।

তবে একটা প্রবল অনিশ্চয়তার মধ্যে এতদিন কেটে গেলেও তাকে নিয়ে ভারত কী করতে চাইছে আনুষ্ঠানিকভাবে তার বিন্দুমাত্র কোনো আভাস দিল্লি কিন্তু দেয়নি। ‘অতিথি’ হিসেবে থাকলেও তিনি এখনো কিন্তু ভারতের ‘রাজনৈতিক আশ্রয়’ পাননি।

তাকে সোশ্যাল মিডিয়াতে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে অনুমতি দেয়া হচ্ছে এটা যেমন ঠিক, তেমনি গত মাসেই ভারত কিন্তু শেখ হাসিনার বক্তব্য থেকে নিজেদের দূরত্বও বাড়িয়েছে।

রীতিমতো বিবৃতি দিয়ে ভারত জানিয়েছে, শেখ হাসিনা যা বলছেন তা পুরোপুরি ‘ইন্ডিভিজুয়াল ক্যাপাসিটি’তে বা তার ব্যক্তিগত পরিসর থেকে বলছেন, এর সাথে ভারতের অবস্থানের কোনো সম্পর্ক নেই।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর কিংবা তার মন্ত্রণালয়ও ইদানীং একাধিকবার বলছেন, বাংলাদেশের সাথে ভারতও সুসম্পর্ক চায়- তবে তাতে কিছু ‘যদি’ আর ‘কিন্তু’ আছে।

এদিকে শেখ হাসিনাকে বিচারের জন্য প্রত্যর্পণ করার অনুরোধ আসার আড়াই মাস পরও কোনো জবাব বাংলাদেশ সরকারকে দেয়া হয়নি।

শেখ হাসিনা নিজে যদিও তার সমর্থকদের উদ্দেশে বাংলাদেশে ফেরার কথাও বলছেন- তবে ভারত বাংলাদেশে তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পুনর্বাসনে সহায়তা করবে এমন কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।

তাহলে শেখ হাসিনাকে নিয়ে এই মুহূর্তে ভারতের ভাবনা বা পরিকল্পনাটা কী? বা অন্যভাবে বললে, শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়ানোর জন্য ভারত ঠিক কতটা যেতে প্রস্তুত?

‘জোর করে কোথাও পাঠানো হবে না’

ঢাকায় ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু শেখ হাসিনাকে ভারত কিছুতেই কোনো বিপদের মুখে ঠেলে দেবে না।

সাবেক এই শীর্ষস্থানীয় কূটরীতিবিদ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, ‘যদি বলেন, এখন ফিউচার কী? হাসিনার ফিউচার… শি অবভিয়াসলি ইজ নট গোয়িং এনিহোয়্যার (তিনি স্পষ্টতই অন্য কোথাও যাচ্ছেন না), আমার ধারণা।’

‘কারণ অন্য জায়গায় হয়তো (পাঠানোর বিষয়ে) অতটা সুবিধা করতে পারছে না বা ওরকম কিছু। আর ভারতে আছে, ঠিক আছে থাকবে। সে আগেও থেকেছে। ‘৭৫ থেকে ’৮১ সাল পর্যন্ত তো এখানেই ছিল।’

বিদেশের রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা যদি কোনো কারণে ভারতে চলে আসেন, তাদের জোর করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোটা যে কখনোই ভারতের নীতি নয়, সেটাও তিনি মনে করিয়ে দিচ্ছেন।

চক্রবর্তীর কথায়, ‘আমাদের কোনোদিন এরকম পলিসি নেই যে একজন পলিটিক্যাল পারসনকে জোর করে ফেরত দেয়া। দালাই লামাও তো যেমন এখনও ইন্ডিয়াতেই আছেন।’

‘তাই আমরা মনে করি আমাদের এখানে যারা আশ্রয় নিয়ে আসেন, তাদের প্রতি আমাদের একটা…বলতে পারেন সাংস্কৃতিক ব্যাপার বা একটা নীতিগত ব্যাপারও আছে…যে তাদের আমরা জোরজবরদস্তি করে কোথাও পাঠাব না। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও এটাই আমার মনে হয়।’

শেখ হাসিনাকে বিচারের জন্য বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে সে দেশের সরকার ভারতকে যে অনুরোধ জানিয়েছে সেটারও কোনো ভবিষ্যৎ দেখছেন না তিনি।

পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তীর মতে, যে মামলায় বিচারের জন্য তাকে ফেরত চাওয়া হচ্ছে সেটা যদি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মনে হয় তাহলে সেই অনুরোধ খারিজ করার বিধান প্রত্যর্পণ চুক্তিতেই আছে এবং সেই যুক্তি প্রয়োগ করেই ভারত এই অনুরোধ নাকচ করে দিতে পারে।

দেখা হচ্ছে শুধু মোদি, ডোভালের সাথেই’

এই দিল্লি শহরেই আবার শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদের কার্যালয়- যেখানে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার রিজিওনাল ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত।

তবে মা-মেয়ের ইচ্ছে যা-ই হোক, দু’জনের নিয়মিত দেখা হলেও একই সাথে বা একই ছাদের নিচে থাকা কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না।

এর কারণটাও সহজ। সায়মা ওয়াজেদ রয়েছেন জাতিসঙ্ঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে, আর শেখ হাসিনা এদেশের অতিথি ভারতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে।

ভারত তার রাজনৈতিক অতিথিকে দেশে জাতিসঙ্ঘের একজন প্রতিনিধির সাথে একসাথে রাখতে পারে না সহজবোধ্য কারণেই।

তবে দিল্লিতে সিনিয়র কূটনৈতিক সাংবাদিক নয়নিমা বসু জানাচ্ছেন, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে রাখা হলেও শেখ হাসিনার সাথে কিন্তু ভারতের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাঝেসাঝে দেখা-সাক্ষাৎ হচ্ছে।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছিলেন, ‘এই সাত মাসে আমরা দেখেছি যে- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনেকবার সোশ্যাল মিডিয়াতে স্পিচ দেয়ার একটা অ্যালাওয়েন্স (অনুমতি) দেয়া হয়েছে। এমন নয় যে উনি এখানে চুপ করে বসে আছেন।’

‘ভারত সরকার এটা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। কিন্তু আমরা এটাও দেখেছি যে তারা শেখ হাসিনাকে অ্যালাও করেছে যাতে উনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মস ব্যবহার করতে পারেন…সেটা এক্স হোক, বা ফেসবুক হোক…ওনার নিজের যা বলার আছে তা বাংলাদেশীদের বা বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সাপোর্টারদের উদ্দেশে বলতে!’

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারলেও শেখ হাসিনা কিন্তু পরিচিতজনদের সাথে স্বাভাবিক যে সামাজিক মেলামেশা- সেটা একেবারেই করতে পারছেন না।

নয়নিমা বসুর কথায়, ‘আমরা এটাও জানি যে ওনাকে এখানে একটা সাঙ্ঘাতিক প্রোটেকশনের মধ্যে রাখা হয়েছে এবং খুবই কম সংখ্যক লোক ওনার সাথে দেখা করতে পারেন।’

‘এটাও শোনা গেছে এবং আমরা সোর্সেসের মাধ্যমে জানি যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর ন্যাশনাল সিকিওরিটি অ্যাডভাইসর অজিত ডোভাল- এরা দু’জনই শুধু দেখা করেন ওনার সাথে। তাও সেটা খুব কমই ঘটে, যখন খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনো পার্টিকুলার ইস্যু থাকে।’

‘আনলকিং শুরু হলে অবাক হবো না’

এর মাঝে দেশে-বিদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে লেখা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে না কি রাখা হয়েছে ল্যুটিয়েন্স দিল্লির কোনো বাংলোতেই। এমনকী তিনি মাঝেমাঝে হাঁটাহাঁটিও করছেন দিল্লিতে মর্নিং ওয়াকারদের স্বর্গ লোদি গার্ডেনে!

যদিও লোদি গার্ডেনে রোজকার ভিড় দেখলে যে কেউ বুঝতে পারবেন, যাকে ঘিরে প্রতিটি পদক্ষেপ কঠোর গোপনীয়তায় মোড়া– তার পক্ষে সেখানে হাঁটাহাঁটি করতে যাওয়া কোনোমতে সম্ভবই নয়!

লন্ডনভিত্তিক লেখক ও বাংলাদেশ গবেষক প্রিয়জিৎ দেবসরকার আবার মনে করেন, শেখ হাসিনাকে ঘিরে এই গোপনীয়তা আগামী দিনে ধীরে ধীরে উন্মোচন বা ‘আনলকিং’ করা হতে পারে– যদি ভারত সেটার প্রয়োজন অনুভব করে।

তার কথায়, ‘দেখুন, ভারত শেখ হাসিনার সবরকম দায়িত্বই– মানে ওনার সুরক্ষা থেকে শুরু করে যাবতীয় আর যা যা দরকার– তার সবই নিয়েছে।’

‘আর ভারতের গণতন্ত্রের যে পীঠস্থান সংসদ, সেখানে যারা ক্ষমতায় আছেন ও যারা বিপক্ষে, দুটো দলই এক কণ্ঠে স্বীকার করেছে যে শেখ হাসিনা আমাদের অতিথি, উনি যতদিন ইচ্ছে ততদিন ভারতে থাকতে পারেন।’

‘কিন্তু একটা জিনিস আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে উগ্রবাদীদের কাছে শেখ হাসিনা একজন চরম টার্গেট। তো ওনার সুরক্ষার দায়িত্ব যখন ভারত নিয়েছে তখন ভারতকে খুব গুরুত্বের সাথে এটা দেখতে হবে যাতে কোনোরকম কোনো আঁচ ওনার ওপর না আসে।’

ঠিক এই কারণেই শেখ হাসিনাকে ঘিরে এই নজিরবিহীন সুরক্ষা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে মনে করছেন প্রিয়জিৎ দেবসরকার, যদিও পরে এটা পর্যালোচনা করে হতেও পারে বলে তার ধারণা।

‘আমি এখানে আর একটা উদাহরণ দিতে চাই। যেমন কোভিড মহামারীর সময় আমরা লকডাউনের পরে দেখেছিলাম ‘আনলক’– মানে বিধিনিষেধগুলো আস্তে আস্তে ও পর্যায়ক্রমিকভাবে শিথিল করা হয়েছিল।’

‘তো শেখ হাসিনা এখন যেমন তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অডিও ভাষণ দিচ্ছেন দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে, ভবিষ্যতে এটা হয়তো আর একটু ‘আনলক’ হয়ে ওনাকে আমরা অন্য অন্য রূপে বা ভিডিও মাধ্যমেও দেখতে পারি, কে বলতে পারে?’, মন্তব্য প্রিয়জিৎ দেবসরকারের।

এটাও ঘটনা, আজ দীর্ঘ সাত মাস পরেও এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর আমাদের জানা নেই– শেখ হাসিনা তাহলে আছেন কোথায়?

হয়তো মীরাট সেনানিবাসের ভেতরে কোনো সেফ হাউসে, হয়তো নয়। হয়তো মানেসরে কোনো আধাসামরিক বাহিনীর গেস্ট হাউসে, কিংবা সেটাও নয়!

বস্তুত শেখ হাসিনার সঠিক লোকেশন যে এত লম্বা সময় ধরে গোপন রাখা সম্ভব হয়েছে, এটাও কিন্তু ভারতের জন্য কম সাফল্য নয়!

আওয়ামী লীগ নেত্রী হিসেবে মানুষ কি মেনে নেবে?

শেখ হাসিনা আর কখনও বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে ভাঙাচোরা আওয়ামী লীগের হাল ধরতে পারবেন কি না, এই প্রশ্নটা এখনো কিন্তু খুবই প্রাসঙ্গিক।

তবে ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক শ্রীরাধা দত্ত মনে করেন কাজটা অসম্ভব কঠিন তো বটেই– ভারতের পক্ষেও তাকে এক্ষেত্রে সাহায্য করাটা খুব মুশকিল।

ড. দত্ত বিবিসিকে বলছিলেন, ‘ইন্ডিয়া ওনাকে রাখবে। উনি যতদিন এখানে থাকতে চান এবং আমরা যতদিন ফিল করি যে উনি ওখানে ফেরত গেলে নিরাপদ নন, ততদিন ওনাকে রাখা হবে।’

‘কিন্তু রিহ্যাবিলিটেশনের যে একটা কথা উঠছে…আমরা জানি না ভারত সরকার কী ভাবছে, কিন্তু আওয়ামী লীগের সেরকম একটা চেষ্টা তো অবশ্যই আছে। তবে আমার মনে হয় না সেরকম পরিস্থিতি বাংলাদেশে এখন আর পসিবল!’

শ্রীরাধা দত্ত অবশ্য এটাও মানেন, আওয়ামী লীগ কিছুটা ‘সহানুভূতির হাওয়া’ পেয়েছে ৩২ ধানমন্ডি ভাঙার পরে এবং তার ভাষায় আরো যেসব ‘অকারণ মাইন্ডলেস ডেসট্রাকশন’ বা অর্থহীন ভাঙচুরগুলো হলো তার পরে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে তাতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পুনর্বাসনের পথ প্রশস্ত হবে।

তার কথায়, ‘আসলে শেখ হাসিনার ওপরে যে রাগ, যে বিতৃষ্ণা মানুষের– স্বাভাবিকভাবেই এত বছরের একটা ব্যাপার, আমার মনে হয় না এত তাড়াতাড়ি তারা ভুলে যাবে।’

‘আওয়ামী লীগ অবশ্যই একটা ঐতিহাসিক দল, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপে তারা নিশ্চয়ই একটা বিশেষ জায়গা দখল করে– কিন্তু তাই বলে শেখ হাসিনাকে যে এরপরও সবাই আওয়ামী লীগের নেত্রী বলে মেনে নেবে, সেটা নিয়ে ঘোরতর প্রশ্ন আছে বলেই আমার মনে হচ্ছে,’ মন্তব্য করেন শ্রীরাধা দত্ত।

দিল্লিতে পর্যবেক্ষকদের মন্তব্য থেকে একটা জিনিস খুব পরিষ্কার– দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনাকে হয়তো ভাষণ দিতে দেয়া হচ্ছে, কিন্তু তার মানে এই নয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক চালচিত্রে তাকে ভারত আবার হাতে করে বসিয়ে দিতে চাইবে।

বাস্তবতা হলো, পরিস্থিতি অনুধাবন করেছে বলেই ভারতের এখন সে ইচ্ছাও হয়তো নেই, হয়তো ক্ষমতাও নেই!

সূত্র : বিবিসি

নিউইয়র্কে গ্রেসি ম্যানসনে বাংলাদেশ হ্যারিটেজ ডে উদযাপনে বাংলাদেশ সোসাইটি হোস্ট কমিটি হিসেবে মনোনীত

নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যকরী কমিটির মাসিক সভা গত ২ মার্চ রোববার দুপুরে বাংলাদেশ সোসাইটির নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর পরিচলনায় সভায় অন‍্যান‍্যের মধ্য উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ সভাপতি- মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ সভাপতি- কামরুজ্জামান কামরুল, সহ সাধারণ সম্পাদক- আবুল কালাম ভুইয়া, কোষাধ্যক্ষ- মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া (রুমি), সাংগঠনিক সম্পাদক- ডিউক খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক- অনিক রাজ, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক- জামিল আনসারী, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক- আশ্রাব আলী খান লিটন, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক- মোহাম্মদ হাসান (জিলানী), কার্যকরি সদস্য- হারুন অর রশিদ, জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মোহাম্মদ সিদ্দিক পাটোয়ারী, আবুল কাশেম চৌধুরী, মুনসুর আহমদ ও হাছান খান।

সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও বিশেষ দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন সমাজকল্যাণ সম্পাদক জামিল আনসারী। সভাপতির স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সাধারণ সম্পাদক বিগত দিনের বিভিন্ন কর্মকান্ডের তথ্য ও বিবরণ তুলে ধরেন।
সভায় সকলকে অবহিত করা হয় গত দুই বছরের নেয়ায় এবারও নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামের বাসভবন গ্রেসি ম্যানসনে বাংলাদেশ হেরিটেজ ডে উদযাপন করা হবে। এবারের অনুষ্ঠানে হোস্ট কমিটি হিসেবে বাংলাদেশ সোসাইটি কে মেয়র অফিস থেকে মনোনীত করা হয়েছে। পেস্টিজিয়াস এই অনুষ্ঠানটি হোস্ট করতে সকলের মতামত জানতে চাইলে উপস্থিত সকলে আয়োজনে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে মতামত দেন।
এদিকে আগামী ১৩ এপ্রিল, রোববার প্রথমবারের মত বাংলাদেশ সোসাইটির ব্যানারে বাংলাদেশ ডে প্যারেড আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বাংলাদেশ ডে প্যারেডের প্রধান সহযোগী সংগঠন হিউম্যানিটি ইমপ্লয়ারমেন্ট রাইটস ফাউন্ডেশন। বাংলাদেশে ডে প্যারেড সফল করতে প্রবাসের সকল আঞ্চলিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, পেশাজীবী ও অন্যান্য সংগঠনদের নিয়ে বৃহৎ পরিসরে প্যারেড আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সভায় অন্যান্য আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সদ্য সমাপ্ত একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আয়োজনটি সফল হওয়ায় আয়োজক কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিবসহ সকল কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়। আগামী ৯ এপ্রিল পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা এবং ইফতার ও দোয়া মাহফিল এবং ব্রষ্কস বরোতে ১৮ই মার্চ ও ব্রুকলেন বরোতে ২০/২১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য ইফতার মাহফিলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয়োজক কমিটি সবাইকে অবহিত করেন । অনুষ্ঠানগুলো সফল করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সাথে প্রবাসের সবাইকে অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিত হতে অনুরোধ জানানো হয়।
আরো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যার মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ সোসাইটি একটি অলাভজনক এবং অরাজনৈতিক, “সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন” তাই আগামী দিনে সোসাইটির কোন অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বক্তব্য বা রাজনৈতিক ব্যানারে কোন সংগঠন অংশ নিতে পারবে না। এছাড়া গত কয়েকদিন আগে একটি সংবাদ সম্মেলনে সোসাইটির বর্তমান বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ সোসাইটির বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিমের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। সোসাইটির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে এধরনের আচরণ কাম্য নয় বলে সবাই মতামত দেন, একই সাথে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এসময় ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কে সোসাইটির সভাপতির কাছে নিঃস্বার্থ ক্ষমা চাইতে সবাই অনুরোধ জানান। একই সাথে এই অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে নিন্দা প্রস্তাবও গৃহীত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ‘বিজনেস এলিট ফোরটি আন্ডার ফোরটি’ অ্যাওয়ার্ড পেলেন তরুণ উদ্যোক্তা কাদের

নিউইয়র্ক :যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ‘বিজনেস এলিট ফোরটি আন্ডার ফোরটি’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা মুহাম্মদ কাদের। তিনি একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান এবং অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান। বিজনেস এলিট অ্যাওয়ার্ডস বিশ্বব্যাপী প্রতিভাবান এবং উত্সাহী নেতৃত্বের উদযাপন করে এবং তাদের প্রভাব বাড়ানোর জন্য একটি পেশাদারী উদ্বোধন প্রদান করে। এর মর্যাদাপূর্ণ এবং উত্তম পুরস্কার কর্মসূচি সবচেয়ে সফল ব্যবসায়িক নেতাদের প্রতিভা এবং সম্ভাবনা চিহ্নিত করে এবং তাদের নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করে। এই ইভেন্টগুলি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ব্যবসাগুলির সম্প্রসারণ এবং বৃদ্ধির জন্য সুযোগ প্রদান করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়।

এই বছর ২০২৫, বিজনেস এলিট অ্যাওয়ার্ডস তাদের ৪০টি অনারারি ঘোষণা করেছে, যাদের বয়স ৪০ এর নিচে, তবে তাদের অর্জন, ব্যবসায়িক ধারণা, চিন্তাধারা, উদ্ভাবন এবং ব্যবসার বৃদ্ধি এমনভাবে এগিয়ে, যা দেশব্যাপী অন্যান্য ৪০ বছর বয়সী ব্যক্তিদের চেয়ে অনেক বেশি। তাদের মধ্যে একজন হলেন মুহাম্মদ কাদের। তাকে ২০২৫ সালের বিজনেস এলিট ৪০ আন্ডার ৪০ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। মুহাম্মদ কাদেরের নাম বিজনেস এলিট অর্গানাইজেশন তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম পেজে ঘোষণা করেছে। তাঁর নির্বাচনের ফলে প্রমাণিত হয়েছে যে তার নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং ব্যবসায়িক কৌশল স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে, কাদের তার নেতৃত্বে কোম্পানিটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার উদ্ভাবনী চিন্তা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার কোম্পানিটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে কার্যকরভাবে উন্নত করেছে এবং রোগীদের সেবা আরও উন্নত করেছে।

বিজনেস এলিট অ্যাওয়ার্ডসের এই পুরস্কারটি কেবলমাত্র প্রতিভাবান নেতাদের সম্মাননা জানানোই নয়, বরং তাদের জন্য একমাত্র প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে যা ব্যবসায়ের সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যত বৃদ্ধির জন্য সংযোগ স্থাপন করতে সহায়ক। বিজনেস এলিট ৪০ আন্ডার ৪০ পুরস্কার বিজয়ীরা একে অপরের সঙ্গে নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে সহযোগিতার সুযোগ লাভ করে এবং তাদের ব্যবসায়িক যাত্রার জন্য নতুন দিকনির্দেশনা পেতে পারেন। ২০২৫ সালের মে মাসে, বিজনেস এলিট অর্গানাইজেশন একটি বড় অনুষ্ঠান আয়োজন করবে, যেখানে তারা ৪০ জন নির্বাচিত বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবে। এই অনুষ্ঠানে বিজয়ীরা তাদের সফলতার গল্প শেয়ার করবেন এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করার সুযোগ পাবেন। মুহাম্মদ কাদেরের বিজনেস এলিট ৪০ আন্ডার ৪০ পুরস্কারে নির্বাচিত হওয়া শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত। তিনি একটি চমৎকার উদাহরণ হিসেবে প্রমাণ করেছেন যে কঠোর পরিশ্রম, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং নিরলস প্রচেষ্টা দিয়ে যে কেউ পৃথিবীকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এবং সফল হতে পারে। এটি শুধু কাদেরের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের জন্যও একটি বড় অর্জন, যারা এখন বিশ্বের ব্যবসায়িক দুনিয়ায় নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হচ্ছেন।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির উদ্যোগ বাংলাদেশ ডে প্যারেড ১৩ এপ্রিল : গ্র্যান্ড মার্শাল শাহ নেওয়াজ

নিউইয়র্ক : বাংলাদেশ সোসাইটি এবার নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড’ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ ডে প্যারেড ১৩ এপ্রিল রোববার এই প্যারেড অনুষ্টিত হবে। এতে ১৫/২০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশীর সমাবেশ এবং প্রবাসের অর্ধ শতাধিক সংগঠন অংশ নেবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা। প্যারেডে গ্র্যান্ড মার্শাল থাকবেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহ নেওয়াজ গ্রুপের কর্ণধার লায়ন শাহ নেওয়াজ আর প্রধান উপদেষ্টা মনোনীত হয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক গিয়াস আহমেদ। প্যারেড উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘মিট দ্যা প্রেস’ অনুষ্ঠানে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। খবর ইউএনএ’র।
জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে গত ২৬ ফেব্রুয়ারী বুধবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানিয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট ফাহাদ সোলায়মান। সংবাদ সম্মেলনে সোসাইটির ট্রাষ্টি বোর্ড চেয়ারম্যান ও সাবেক সভাপতি এম আজীজ, সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সহ সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, ব্রঙ্কসের কমিউনিটি বোর্ড চেয়ার এডভোকেট এন মজুমদার, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট কাজী আজম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম, বাংলাদেশী পুলিশ এসোসিয়েশন (বাপা)-এর সবঅপতি এরশাদুল সিদ্দিক, নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ইউএসএ’র (একাংশ) সভাপতি আতাউল আলম ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আহমেদম রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর নূরুল আজীম প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন ফাহাদ সোলায়মান ও সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা জে মোল্লা সানি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, প্যরেড কমিটির চেয়ারম্যান হচ্ছেন সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, আহ্বায়ক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী এবং সদস্য সচিব ফাহাদ সোলায়মান। সোসাইটির আয়োজনে প্রবাসের অর্ধ শতাধিক সংগঠন প্যারেডে অংশ নেবে। সংগঠনগুলোর সাথে মতবিনিময় হয়েছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে প্যারেডে গ্র্যান্ড মার্শাল থাকবেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহ নেওয়াজ গ্রুপের কর্ণধার লায়ন শাহ নেওয়াজ আর প্রধান উপদেষ্টা থাকবেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক গিয়াস আহমেদ।
সংবাদ সম্মেলনে আতাউর রহমান সেলিম বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সকল বাংলাদেশীর প্রাণের সংগঠন, মর্যাদার সংগঠন। প্রবাসী বাংলাদেশী সহ প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের মান-মর্যাদা রক্ষা করা সোসাইটির দায়িত্ব। তাই আমরা সবাইকে নিয়ে ব্যাপক আয়োজনে বাংলদেশ ডে প্যারেড করতে চাই, কমিউনিটিকে সুসংহত করতে চাই এবং সবার সহযোগিতা চাই। তিনি বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে তুলে ধরার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশী কমিউনিটিকে বৃহৎ আকারে তুলে ধরার পাশপাশি দেশীয় শিল্প সংস্কৃতিকে মূলধারার সামনে তুলে ধরাই সোসাইটির প্যারেড আয়োজনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। প্যারেড সফল কতে তিনি সকল সংগঠন ও প্রবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
ফাহাদ সোলায়মান বলেন, প্যারেডের জন্য ইতিমধ্যেই সিটি প্রশাাসনের অনুমতি নেয়া হয়েছে। প্যারেডে অংশ নেয়ার জন্য এ পর্যন্ত ১০টি প্রতিষ্ঠান রেজিষ্ট্রেশন করেছে। সকাল ৮টা থেকে ২টা পর্যন্ত প্যারেডের কর্মসূচী চলবে। মূল প্যারেড শুরু হবে বেলা ১১টায়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও নেতৃবৃন্দর তাদের মতামত তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সোসাইটির ট্রাষ্টি বোর্ড চেয়ারম্যান এম আজীজ শেষ পর্যায়ে ফ্লোর নিয়ে অভিযোগ তুলে বলেন, সোসাাইটির আজকের অবস্থানে অনেক প্রবাসীর অবদান রয়েছে। সোসাইটির ট্রাষ্টি বোর্ড রয়েছে। এই বোর্ডের সাথে আলোচনা না করেই প্যারেড অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে এবং কিভাবে প্যারেডের গ্র্যান্ড মার্শাল ও প্রধান উপদেষ্টা মনোনীত হয়েছে তা জানতে চান। তিনি বলেন, সোসাইটি ভবন আমি রক্ষা করেছি। সোসাইটির অনেক অভিভাবক রয়েছে। প্রশ্ন তুলেন তারা কোথায়।
এম আজীজের প্রতিত্তুরে সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম বলেন, এম আজীজের প্রশ্ন সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্ন নয়, এটা সোসাইটির অফিসে আলোচনার বিষয় উল্লেখ করে বলেন, আমরা সবার সহযোগিতা চাই, সবাইকে আমরা সম্মান-মর্যাদা দিতে চাই। এসময় এম আজীজের সাথে সেলিমের একটু বাগ-বিতন্ডাও হয়।

নিউইয়র্কের টাইমস্ স্কয়ারে বাংলা বর্ষবরণ ১২ এপ্রিল, জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় ১৩ এপ্রিল

নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ১৪৩২ বাংলা বর্ষবরণের ঘোষণা দিয়েছে এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড। ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে এবারের আয়োজনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রথিতযশা শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়। ২০২৫-এর ১২ এপ্রিল টাইমস স্কয়ার এবং ১৩ এপ্রিল জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় দুদিনের আয়োজনে বাংলা নতুন বছরকে বরণ করা হবে। এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড-এর প্রধান বিশ্বজিত সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাংলা বর্ষবরণ ঘোষণা অনুষ্ঠানে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়কে আহ্বায়ক এবং অভিনেত্রী লুৎফুন্নাহার লতা এবং নৃত্য শিল্পী লায়লা হাসান শুভেচ্ছা দূত করা হয়। এরপর রথীন্দ্রনাথ রায়ের নেতৃত্বে তিনটি দেশাত্মবোধক গান পারিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

এর আগে ২২ জানুয়ারি নিউ ইয়র্ক স্টেটের সর্বোচ্চ আইনপ্রনয়নকারী সংস্থা স্টেট সিনেট সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পহেলা বৈশাখকে এই অঙ্গরাজ্যের বাংলা নববর্ষ হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে। নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাংস্কৃতিক বৈচিত্রের স্বীকৃতি হিসাবে ও এই রাজ্যে বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি দৃঢ় করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হল। পহেলা বৈশাখ বাঙ্গালির জীবনে অতি গুরুত্বপূর্ণ সেকথা উল্লেখ করে সিদ্ধান্তটিতে বলা হয়, প্রতি বছরই বিপুল সমারোহে এই দিনটি উদযাপিত হয়ে থাকে। ২০২২ সাল থেকে দিবসটি নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হয়ে আসছে। এতে উল্লেখ করা হয়, প্রবাসে বাংলা নববর্ষ উদযাপনে ও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসারে নিউ ইয়র্কের মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
সিদ্ধান্তে বলা হয়, নিউ ইয়র্ক স্টেট বিশ্বব্যাপী বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের গৌরবময় সাফল্যের, বিশেষত এই রাজ্যে বসবাসরত বাঙ্গালিদের অব্যাহত অবদানের স্বীকৃতি জানিয়ে ১৪ এপিল পহেলাকে এই রাজ্যে বাংলা নববর্ষ হিসাবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তে নিউ ইয়র্ক স্টেট সিনেটর আমেরিকায় বিশেষ অবদানের জন্য শিকাগো টাওয়ার খ্যাত প্রকৌশলী এফ আর খান, Leaving the world behind খ্যাত রুমানা আনম, লেখক ঝুম্পা লাহিড়ী , অমিতাভ ঘোষ, ইকবাল কাদির, ইউটিউবের কো ফাউন্ডার জাওয়েদ করিম, খান একাডেমীর ফাউন্ডার সালমান খান, ওমর ইশরাকসহ কৃতি বাঙালিদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার ও সিইও বিশ্বজিত সাহার উদ্দোগে সিনেটর Luis Sepulveda সিনেটে প্রস্তাবনাটি তুলে ধরেন। গতকাল ২২ জানুয়ারী এটি গৃহীত হয়। বিশ্বজিত সাহার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাইরে যে বিশ্ববাঙালি রয়েছে এই স্বাীকৃতি সকলকে উজ্জীবিত ও গৌরবান্বিত করবে। উল্লেখ্য এন আর বি ওয়াল্ড ওয়াইডের উদ্যেগে গত ২০২৩ সাল থেকে টাইমস স্কয়ারে বিশ্ববাঙালিরা বাংলা বর্ষবরণ করে আসছে।
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্তে বলা হয়, ভারতের মুঘল সাম্রাজ্যে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সূচনা। বর্তমানে বাংলাদেশ ছাড়াও এশিয়ার বিভিন্না দেশে, যেমন লাওস, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড সহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে একই সময়ে নববর্ষ উদযাপিত হয়ে থাকে। বাংলা ভাষায় কথা বলেন এমন অভিবাসীর কথা উল্লেখ করে এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলা থেকে আগত বিপুল সংখ্যক অভিবাসী এই রাজ্যে নানাভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছেন। বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ১০,০০০ বাংলাদেশি স্থায়ীভাবে বসসবাসের জন্য যুক্ত্ররাষ্ট্রে আসছেন। এদের অর্ধেকই নিউইয়র্কের বাসিন্দা।

নিউইয়র্কে বাহারি পিঠার স্বাদ-গন্ধ নিয়ে জালালাবাদ’র শীতকালীন পিঠা উৎসব

নিউইয়র্ক : ঐতিহ্যপ্রিয় বাঙালির ঘরে শীত এলেই হাজির হয় পিঠার আমোদ। তবে প্রবাসে সেই পরিচিত দৃশ্য নেই বললেই চলে। তাইতো শীত এলে প্রবাসীদের প্রধান আনুষ্ঠানিকতায় রূপ নেয় পিঠা উৎসবে গ্রামে-গঞ্জে সেই কৃষাণী আর গৃহস্থবাড়িতে টাটকা চালে তৈরি হয় বাহারি পিঠা-পুলি। পিঠার মৌ মৌ গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে ব্রংসের গোল্ডেন প্যালেস পার্টি হলে।
বাহারি রঙের সঙ্গে বৈচিত্র্যময় ডিজাইন ও নকশায় অনন্য হয়ে উঠেছে এক একটি পিঠা। কনকনে শীতের সন্ধ্যায় গ্রামে চুলার পাশে বসে যেমন পিঠা খাওয়া হতো, তেমনি এখানেও যেন একই দৃশ্য। আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য পিঠাপুলির সঙ্গে সেলফি তুলে পিঠা খাওয়ার দৃশ্যকে স্মৃতিময় করে রাখার চেষ্টাও লক্ষণীয়।

রবিবার ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক’র উদ্যোগে শীতকালীন পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামীম আহমেদের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিমের পরিচালনায় পিঠা উৎসব উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক এর সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। এ সময় সোসাইটি সভাপতি বলেন, পিঠা বাঙালির চিরায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। শীত আর পিঠা একে অপরের পরিপূরক। বাংলার গ্রামের মা, চাচি, খালা, বোন, ভাবিদের চিরায়ত সেই ঐতিহ্য আমাদের প্রবাস জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়ার পথে। আবহমান বাংলার এ ঐতিহ্যকে তুলে ধরার লক্ষ্যে পিঠা উৎসবকে জালালাবাদ এসোসিয়েশন এই উদ্যোগ স্বাগত জানান ও এরকম অনুষ্টান আরো আয়োজন উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশি অনুরোধ জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটি সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলী, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক এর বোর্ড অব ট্রাস্টি বদরুন নাহার খান মিতা, ছদরুন নুর, সৈয়দ নাজমুল হাসান কুবাদ, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক এর সাবেক বোর্ড অব ট্রাস্টি আব্দুস সহিদ, তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহমেদ জিল্লু, বাংলাদেশ সোসাইটি সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন সুহাগ, মৌলভীবাজার ডিস্টিক সোসাইটির সভাপতি সোহান আহমেদ টুটুল সাবেক সভাপতি তজুমুল হোসেন, হবিগঞ্জ সদর সমিতির সভাপতি মিয়া মোঃ আছকির সুনামগঞ্জ জেলা সমিতি সাধারণ সম্পাদক মোতাহের রুবেল, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার ইনক এর সাবেক নির্বাচন কমিশনার একে এম কামাল, সাবেক সহ সভাপতি সাব্বির হোসেন ও কমিউনিটি এক্টিভিস্ট সাইকুল ইসলাম প্রমুখ।
সভায় শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার ইনক সাবেক সহ সভাপতি জোসেফ চৌধুরী, গীতা পাঠ করেন কবি সুধাংশু মন্ডল। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ও আমেরিকার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিঠা উৎসব এর আহ্বায়ক মোঃ জাবেদ উদ্দিন, সদস্য সচিব হুমায়ূন কবির সোহেল, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার ইনক-এর সহ সভাপতি শফিউদ্দিন তালুকদার শফি, বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ সোসাইটি সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলী প্রমুখ।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পিঠা উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের নাম এবং পরিচয় ঘোষণা করেন এদের মধ্যে যারা ছিলেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামীম আহমেদের সহধর্মিনী আতিকা মহসিন সুমি, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিমের সহধর্মিনী সাজনা হাকিম, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহমেদ জিল্লু সহধর্মিনী লুৎফা জিল্লু, সাবেক সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেনের সহধর্মিনী সাহিদা হোসেন মুক্তা, কমিউনিটি মহিলা উদ্যোক্তা মাকসুদা আহমেদ, ফারজানা লতিফা, সুরাইয়া আলম লাকি, মনজুরা আহমেদ অলি, তাসলিম আরা লিমা, সুলতানা আহমদ, রাহিমা বিনতে উদ্দিন, আয়েশা খাতুন, সামিয়া আক্তার, রুজি আপা, সপসি দেবনাথ, সুস্মিতা দেব, জুলি বেগম, শাকিলা রিতা, নাছরিন চৌধুরী, মাছুদ আহাদ প্রমুখ।
জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার ইনক এর পিঠা উৎসবে সিলেট সহ গ্রামবাংলার হরেক রকম প্রায় ৩০টি পিঠা সাজানো হয়েছে এ উৎসব। এসব পিঠার মধ্যে মালাই পিঠা, মুঠি পিঠা, কলা পিঠা, খেজুর পিঠা, ক্ষীর কুলি, গোলাপ ফুল পিঠা, পুলি পিঠা, পাতা পিঠা, পাটিসাপটা, নারকেলের সেদ্ধ পুলি, তেলের পিঠা, দুধ চিতই, ভাঁপা পিঠা, চিতই পিঠা, ঝাল পিঠা, মালপোয়া, নকশি পিঠা, দুধ চিতই পিঠা, সেমাই পিঠা, নোন পিঠা, পিঁয়াজু, চানা মুড়ি, বরপি পিঠা, গোলাপ পিঠা, চট্টগ্রাম ঐতিহ্যবাহী বিন্নি পিঠা উল্লেখযোগ্য।
বাঙালি ঐতিহ্যে কী সুন্দর করেই মা-বোনেরা তাদের কাছের মানুষগুলোকে পিঠা পরিবেশন করেন। এটাই যেন তাদের সৌন্দর্য। ঠিক তেমনি ঘরের আপ্যায়নের মতোই আপ্যায়ন মিলে এই পিঠা উৎসবে। পিঠা খাওয়া পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় গান, আবৃত্তি, অ্যাক্রোবেটিকসহ ও পথনাটকসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা।
এসময় উপস্থিত জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার ইনক এর সহ-সভাপতি মোঃ শফিউদ্দিন তালুকদার, সহ সভাপতি মোঃ জাবেদ উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ মোঃ আলিম, প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক ফয়সাল আলম, ক্রিয়া সম্পাদক মান্না মুনতাসির, আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন, কার্যকারি সদস্য মোঃ আব্দুল আজিজ, হুমায়ূন কবির সোহেল ও মোঃ ফজল খান প্রমুখ।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক অনিক রাজ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক জামিল আনসারী, ক্যাপ্টেন মোতাসির মিয়া, ফেঁচুগঞ্জ উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন, ফেঁচুগঞ্জ অর্গানিজেশন সভাপতি মাহবুব আলম ও সাবেক সভাপতি জুনায়েদ আহমেদ চৌধুরী, মরহুম কামাল আহমেদের কন্যা সেবা এইড এর সাধারণ সম্পাদক রুমানা আহমেদ, ব্রংস বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি সামাদ মিয়া জাকের, কমিউনিটি একটিভেস্ট আব্দুর রহিম বাদশা, কুমিল্লা সোসাইটির সাবেক সভাপতি কোভিদ আহমেদ ভূঁইয়া, বাকার এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর ফারিদা ইয়াসমিন, হবিগঞ্জ জেলা কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন সর্পন, হবিগঞ্জ বৃন্দাবন এলামনাই এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, হবিগঞ্জ জেলা কল্যাণ সমিতির সাবেক সহ সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী, কমিউনিটি এক্টিভেষ্ট হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, কুলাউড় এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আহমেদ, মৌলভীবাজার ডিস্টিক সোসাইটির সাবেক সভাপতি তজুমুল হোসেন, বর্তমান সহ-সভাপতি সৈয়দ কাসেম, সহ-সাধারণ সম্পাদক এমদাদ রহমান তরফদার, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন আহমেদ, উপদেষ্টা মিয়া মোঃ আলতাফ হোসেন, আব্দুল গফুর, সৈয়দ মোস্তাক, আল আমিন জামে মসজিদ সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ কয়েছ আহমদ, কমিটির এক্টিভেষ্ট সামছুল ইসলাম, মোঃ আব্দুল কাউয়ুম পারভেজ, কবি মোঃ আবু তাহের চৌধুরী, শামীম আহমেদ, সৈয়দ শাহান, সৈয়দ কামরুল হাসান, পারভেজ ফয়সল ও ইতালি প্রবাসী বাবুল প্রমুখ।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামীম আহমেদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য আমন্ত্রিত অতিথি সহ সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিম সকল জালালাবাদবাসী এবং উপস্থিত অতিথিবৃন্দকে উপস্থিত হওয়ার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং অনুষ্ঠানে কোন ধরনের ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য সকলের প্রতি আবেদন করেন।
এবং আগামী ২ মার্চ জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার ইনক-এর আমন্ত্রণ জানিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্তি ঘোষণা করেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামীম আহমদ।

স্বৈরাচারী শাসনামলের নৃশংসতা নথিভুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ প্রধান উপদেষ্টার

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত সকল নৃশংসতার সঠিক নথিভুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

এর মধ্যে শাপলা চত্বরে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন, দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের নিষ্ঠুরতা এবং বছরের পর বছর ধরে ঘটে যাওয়া বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই দেশে জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত সকল নৃশংসতার যথাযথ নথিভুক্তির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যদি এসব ঘটনার যথাযথ নথিভুক্তি না করা হয়, তাহলে সঠিক তথ্য জানা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হবে।’

আজ রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গুইন লুইস এবং জাতিসঙ্ঘ আবাসিক সমন্বয়কারীর দফতরের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকার উপদেষ্টা হুমা খান প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ বলেন।

আবাসিক সমন্বয়কারী লুইস বলেন, ‘জনগণের ওপর ঘটে যাওয়া নৃশংসতার ঘটনাসমূহ যথাযথ অধিভুক্ত করতে জাতিসঙ্ঘ প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। এটি এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ এবং সত্য প্রতিষ্ঠার একটি প্রক্রিয়া।’

২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে আন্দোলনের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের বিষয়ে অনুসন্ধানীমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করায় প্রধান উপদেষ্টা জাতিসঙ্ঘকে ধন্যবাদ জানায়।

তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত খুশি যে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এটি প্রকাশ করা সহজ কাজ ছিল না। তবে যথা সময়ে এটি তারা প্রকাশ করেছে।

আবাসিক সমন্বয়কারী লুইস প্রধান উপদেষ্টাকে জানান, জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফোলকার তুর্ক আগামী ৫ মার্চ জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ৫৫তম অধিবেশনে এই প্রতিবেদনের বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ব্রিফ করবেন।

আবাসিক সমন্বয়কারী আশা প্রকাশ করেন, জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আসন্ন বাংলাদেশ সফরকালে রোহিঙ্গা সঙ্কটকে পুনরায় বৈশ্বিক মনোযোগে আনবেন, বিশেষ করে যখন এক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা হ্রাস পাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আর্থিক সহায়তা হ্রাস পাওয়ার বিষয়ে খুবই উদ্বিগ্ন।’

তিনি বলেন, প্রতি মাসে শুধুমাত্র রোহিঙ্গাদের খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হয়, যা অন্যান্য মৌলিক চাহিদার সাথে যুক্ত।

জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব গুতেরেস আগামী ১৩ থেকে ১৬ মার্চ বাংলাদেশ সফর করবেন।

সূত্র : বাসস