Home Blog Page 463

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সামনে অবস্থান নিয়েছেন জুলাই আন্দোলনে আহতরা

জুলাই আন্দোলনে আহতরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মিছিল নিয়ে গিয়ে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনের সড়কে বসে পড়েন তারা।

এ সময় তারা উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পর্যাপ্ত সহায়তার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

এর আগে, বিভিন্ন সময় আন্দোলনে আহতরা স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের দাবিতে রাজধানীর শ্যামলী, শাহবাগ, উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অবরোধ করেছিলেন।

জানা গেছে, আহতরা উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রবেশের গেটের সামনের সড়কে বসে আছেন। তাদের পুলিশ, কার্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এপিবিএনসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন।

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আহত এবং নিহত হয়েছে এমন ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্যরা সেখানে গেছেন। তাদের সবার দাবি, আহতদের ক্যাটাগরি বিন্যাসে যে বৈষম্য করা হয়েছে সেটি সংশোধন করতে হবে। একইসাথে শহীদ পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে।

এ বিষয়ে যতক্ষণ পর্যন্ত সুস্পষ্ট নির্দেশনা না আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে বলে জানান তারা।

ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতরা তাদের কিছু দাবি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। তারা রাস্তা অবরোধ করেনি, কার্যালযয়ের সামনে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।’

উত্তেজনার মধ্যেই নতুন ছাত্র সংগঠনের নাম ঘোষণা

গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষার্থীদের নতুন ছাত্র সংগঠনের নাম ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে হাতাহাতি ঘটেছে। বুধবার বেলা ৩টায় সংবাদ সম্মেলনে নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশের কথা ছিল। কিন্তু ধাক্কাধাক্কি ও বিক্ষোভের মুখে নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা পরও সংবাদ সম্মেলন শুরু করা যায়নি।

পরে সোয়া ৫টার দিকে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রদের অন্যতম আবু বাকের মজুমদার নতুন দলের নাম ঘোষণা করেন। তখনো বিক্ষুব্ধ কিছু তরুণকে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

নতুন ছাত্র সংগঠনের নাম রাখা হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’।

পদ বঞ্চিত হয়েছেন দাবি করে এ আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বিক্ষোভ করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ সময় উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের ধাক্কাধাক্কি করতে দেখা যায়।

নতুন ছাত্র সংগঠনের আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার। সদস্য সচিব জাহিদ আহসান। মুখ্য সংগঠক তাহমিদ আল মুদাসসির এবং মুখপাত্র আশরেফা খাতুন।

দলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে আব্দুল কাদের এবং সদস্য সচিব মাহির আলমের নাম ঘোষণা করা হয়।

সংগঠনটির প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে, ‘স্টুডেন্টস ফার্স্ট, বাংলাদেশ ফার্স্ট’।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠনের সাথে এর সাংগঠনিক কাঠামোর কোনো সম্পর্ক থাকবে না। এমনকি গঠিত হতে যাওয়া নতুন রাজনৈতিক দলের সাথেও কোনো সম্পর্ক থাকবে না।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক একটি ছাত্র সংগঠন হিসেবে এই সংগঠন কাজ করবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি

উপদেষ্টা মাহফুজ পেলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে মো: নাহিদ ইসলামের পদত্যাগের এক দিন পর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন মো: মাহফুজ আলম।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের রুটিন দায়িত্বে নিয়োজিত সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) জাহেদা পারভীন সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগ দেয়া হয়।

এর আগে মঙ্গলবার মো: নাহিদ ইসলাম প্রধান উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়া এই পদত্যাগপত্রে তিনি লেখেন, ‘রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের পরে ছাত্র-জনতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে পরিবর্তিত নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য আপনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।’

এই উপদেষ্টা পরিষদে তাকে সুযোগ দেয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম লেখেন, ‘উপদেষ্টা পরিষদে আমি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাই। নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আপনার নেতৃত্বে দায়িত্ব পালনে সদা সচেষ্ট থেকেছি। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমার ছাত্র-জনতার কাতারে উপস্থিত থাকা উচিত মর্মে আমি মনে করি। ফলে আমি আমার দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেওয়া সমীচীন মনে করছি।’

এফডিসির এমডিকে অপসারণে আলটিমেটাম

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অপসারণ চেয়ে আলটিমেটাম দিয়েছেন চলচ্চিত্র শিল্পি ও কলাকুশলীরা। সম্মিলিত বৈষম্যহীন চলচ্চিত্র স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির ব্যানারে আজ রোববার সকাল থেকেই এফডিসির গেটের সামনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে তারা এ দাবি জানান।

শিল্পিদের অভিযোগ, সম্প্রতি এমডি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মাসুমা রহমান তানি পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর। তাই তাকে সরাতে আন্দোলনে নেমেছেন তারা। এজন্য রোববার থেকে সরকারকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে মাসুমা রহমান তানিকে এমডির পদ থেকে না সরালে কঠোর কর্মসূচির হুমকি দেয়া হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার জন্য প্রতীকী ‘এফডিসি ব্লকড’ পালন করা হয়।

এ উপলক্ষে গতকাল এফডিসি প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন করে বৈষম্যহীন চলচ্চিত্র স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি। এতে বক্তব্য রাখেন কমিটির উপদেষ্টা এবং চিত্রনায়ক, পরিচালক ও প্রযোজক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল।

বৈষম্যহীন চলচ্চিত্র স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক ও চলচ্চিত্র পরিচালক বদিউল আলমের সভাপতিত্বে এফডিসি ফটকে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, চিত্রনায়ক হেলাল খান, শিল্পী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আরমান, অভিনয়শিল্পী এ বি এম সোহেল রশিদ, কেয়া চৌধুরী, শারমিন, চলচ্চিত্র পরিচালক নাসির উদ্দিন, জয়নাল আবেদিন, শাওন আশরাফ, শফিকুল ইসলাম, কাহিনিকার ও চিত্রনাট্যকার কাসেম আলী, ফিল্ম ক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

এতে চিত্রনায়ক, পরিচালক ও প্রযোজক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল বলেন, ‘এফডিসিতে প্রশাসনিক কাজে যদি কোনো প্রশাসক আসে, আমাদের তো কোনো আপত্তি নেই। কারণ এটা সরকারি জায়গা। একটা লোক চাকরি করতে আসবে, সে আসতেই পারে। এখানে চাকরি করতেই পারে। কিন্তু আপনি এমন একজনকে পাঠাচ্ছেন যিনি অজ্ঞাতনামা আসামি আমাদের চোখে। আমরা তাকে চিনি না, জানি না। তাহলে কেন জোর করে আমাদের ওপর আপনারা তাকে চাপিয়ে দেবেন। এমনটা হবে না। আমরা সেটা প্রতিহত করব।’

পরিচালক ও বৈষম্যহীন চলচ্চিত্র স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক বদিউল আলম বলেন, ‘আমরা বলছি না, আমাদের পছন্দের কাউকে এফডিসির এমডি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হোক। কিন্তু যাকে এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব দেয়া হবে, তাকে অবশ্যই যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে। চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় দক্ষতা থাকতে হবে, চলচ্চিত্র সম্পর্কে জানতে হবে। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানে আমরা দেখছি এখন ফ্যাসিস্ট ও আওয়ামী দোসরকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এটা মেনে নেয়া যায় না। তাই আমরা সবাই এক হয়েছি।’

বিয়ে করলেন অভিনেত্রী মেহজাবীন

বিয়ে করেছেন জনপ্রিয় বাংলাদেশী অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। দীর্ঘদিনের প্রেমিক পরিচালক আদনান আল রাজীবের সাথে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আকদের পর ঢাকার অদূরে একটি রিসোর্টে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হবে আজ।

সোমবার (২৪ ফেব্রয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে দেড় সপ্তাহ পর তিনি ভক্তদের এই সুখবর জানান।

ওই পোস্টে স্মৃতিচারণ করে মেহজাবীন লিখেছেন, ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল প্রথমবার রাজীবের সাথে তার দেখা হয়েছিল। সেদিন তাদের ১৫ মিনিটের সংক্ষিপ্ত কথোপকথন তাদের পরস্পরের মনে জায়গা করে নিয়েছিল। বছরের পর বছর তাদের বন্ধন আরো দৃঢ় হয়েছে। অবশেষে ১৩ বছর পরে বিয়ের মাধ্যমে পরিণতি পেয়েছে তাদের সম্পর্ক।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘১৩ বছর পর আমরা একসাথে, উপভোগ করছি আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করেছি।’

অভিনেত্রী সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনের জন্য সবার কাছে আশীর্বাদ ও দোয়া চেয়েছেন।

জানা গেছে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে মেহজাবীন ও আদনানের আকদ সম্পন্ন হয়।

গতকাল রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার অদূরে একটি রিসোর্টে তাদের গায়ে-হলুদ অনুষ্ঠান হয়েছে। একই রিসোর্টে আজ হচ্ছে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। তবে অভিনেত্রী বিয়ের অনুষ্ঠানে গোপনীয়তা বজায় রাখতে চেয়েছেন। তিনি নিজেই ছবি পোস্ট করবেন বলেও জানান।

দীর্ঘদিন ধরেই রাজীবের সাথে মেহজাবীনের প্রেমের গুঞ্জন চলছিল। তারা বিয়ে সেরেছেন এমন কথাও ভাসছিল শোবিজ অঙ্গনে। তবে এটি নিয়ে কখনো প্রকাশ্যে কিছু বলেননি এই দম্পতি। অবশেষে গুঞ্জন সত্যি হলো তাদের আনুষ্ঠানিক বিয়ের মধ্য দিয়ে।

বিনোদন জগতের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ মেহজাবিন। টেলিভিশন নাটক ও ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয় জয় করেছেন এই অভিনেত্রী। মেহজাবিনের স্বামী আদনান আল রাজীব একজন পরিচালক।

এই দম্পতির বিয়ের খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সহকর্মী ও ভক্তরা তাদের সুখী ও প্রেমময় দাম্পত্য জীবনের জন্য শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়েছেন।
সূত্র : ইউএনবি

ব্যাটিং ব্যর্থ মেনে নিলেন শান্ত, শেষ ম্যাচ জিততে চান

এক ম্যাচ বাকি থাকতেই চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শেষ বাংলাদেশের। নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে আসর থেকে। ছিটকে গেছে সেমিফাইনালের দৌঁড় থেকে।

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে সোমবার নিউজিল্যান্ডের কাছে ৫ উইকেটে হেরে যায় বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে টাইগাররা হেরেছিল ৬ উইকেটে। তবে হারের চেয়েও বড় দুশ্চিন্তার কারণ হারের ধরন।

ব্যাট হাতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারছে না বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের একটাতেও পারেনি আড়াই শ’ পেরোতে। এমনকি রানপ্রসবা রাওয়ালপিন্ডিতেও ব্যর্থ টাইগাররা। যেখানে গড় রানই তিন শ’র বেশি!

ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ ডট বল দিয়েছে ১৮১টি। অর্থাৎ ৫০ ওভারের মধ্যে ৩০.১ ওভারেই বাংলাদেশ কোনো রান করেনি! ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটিং ব্যর্থতা মেনে নিলেও ডট বল প্রসঙ্গে ব্যাখাও দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

তিনি বলেন, ‘বড় দু’টি জুটি হলে হয়ত এমন হতো না। আজকে ডট বলের কারণ মাঝের ওভারে কিছুক্ষণ পরপর উইকেট দিয়েছি।’

নিয়মিত বড় রান করায় অভ্যস্ত হতে হবে দাবি করে তিনি বলেন, ‘অভ্যাসটা গুরুত্বপূর্ণ যে নিয়মিত কিভাবে ৩০০ রান করতে পারি। ১-২ দিন হঠাৎ ৩০০ করি। এই জিনিস থেকে বের হওয়ার জন্য আমাদের প্র্যাকটিসে বলেন নিয়মিত কিভাবে ভালো উইকেটে খেলা যায় কিভাবে বড় দলের সাথে নিয়মিত এই ধরনের স্কোর করা যায় এটা গুরুত্বপূর্ণ।’

এদিকে দলের এলোমেলো অবস্থাও মেনে নিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ব্যাটিং-বোলিং বা ফিল্ডিং কোনোটাই যে ধারাবাহিক ভালো হচ্ছে না, তা চোখে পড়েছে তারও। একইসাথে ঘরের বাহিরে জেতার অভ্যাস করতে চান শান্ত।

তিনি বলেন, ‘আমরা সিরিজ জিতলেও বেশিভাগ সময় ঘরের মাঠে জিতি। দেশের বাইরে সিরিজ কমই জেতা হয়। আইসিসি ইভেন্টেও একই অবস্থা। এক দিন বোলিং ভালো হয় না, আরেক দিন ব্যাটিং খারাপ হয়, আরেক দিন ফিল্ডিং খারাপ হয়। কেমন যেন এলোমেলো ক্রিকেট হয়। আমাদের এটা থেকে বের হয়ে আসার পথ খুঁজতে হবে। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিংয়ে সম্মিলিতভাবে ভালো করার উপায় বের করতে হবে।’

২৭ ফেব্রুয়ারি রাওয়ালপিন্ডিতেই পাকিস্তানের বিপক্ষে আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে গেলেও শেষটা রাঙাতে চায় টাইগাররা।

এই প্রসঙ্গে শান্ত বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব ম্যাচটা জিততে। শতভাগ চেষ্টা করব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে। কারণ দেশের হয়ে খেলাটা সব সময়ই গর্বের।’

মুশফিক-মাহমুদউল্লাহকে থামতে বললেন কার্তিক

এবার মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে প্রশ্ন তুললেন দীনেশ কার্তিক। এই বয়সেও তাদের জাতীয় দলে খেলা নিয়ে কথা বলেছেন ভারতীয় সাবেক এই ক্রিকেটার। ভারত বিশ্বকাপের পর তারা অবসর না নেয়ায় বিস্মিত তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেড়যুগ পাড় করে ফেলেছেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তাদের সময়কার অনেকেই এখন ব্যাট-প্যাড গুছিয়ে ফেলেছেন, অনেকেই আবার বিদায় বলে দিয়েছেন জাতীয় দলকে।

অথচ মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ এখনো অটো চয়েস হয়ে খেলে যাচ্ছেন জাতীয় দলে। যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দলেও। আগের মতো যেমন দায়িত্ব নিতে পারছেন না তারা, তেমনি পেছনে ফেলে এসেছেন নিজেদের সেরা সময়।

মুশফিকের ব্যাটে রান নেই বিশ্বকাপের পর থেকেই। এই সময়ে ১৭ ইনিংসে মাত্র ২৭.৭৮ গড় ও ৮১.২১ স্ট্রাইক রেটে ৩২৯ রান করেছেন তিনি। যেখানে দুই অঙ্কের ঘরেই যেতে পারেননি আটবার। বিপিএলেও ছিলেন ব্যর্থ।

বিপিএলে ১৪ ম্যাচে মুশফিক রান করেছিলেন মাত্র ১৮৪। এরপর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দুই ম্যাচেও আউট হয়েছেন ০ ও ২ রানে। অন্যদিকে মাহমুদউল্লাহও ছিলেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিস্প্রভ। ব্যাট হাতে মাত্র ৪ রান করেন তিনি, একইসাথে ফিল্ডিংয়েও মিস করেন সহজ ক্যাচ।

তাদের এমন দৃষ্টিকটু পারফরম্যান্সে বিরক্ত ভারতের সাবেক ক্রিকেটার দীনেশ কার্তিক। ক্রিকবাজের সাথে আলাপকালে এই দুই ক্রিকেটারের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘তারা একসাথে ১৬-১৭ বছর ধরে খেলছে কিন্তু দেশের জন্য কিছুই জিততে পারেনি। তাহলে এত লম্বা সময় ধরে তাদের খেলানোর কারণটা কী?’

কার্তিক আরো বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম ২০২৩ বিশ্বকাপ শেষেই মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ অবসর নেবে। তবে তারা খেলা চালিয়ে যাওয়াটাকেই বেছে নিয়েছে। জানি না আর কত দিন খেলবে! তারা আমাকে অনেক বিস্মিত করেছে।’

এই প্রসঙ্গে আরো তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় কোনো না কোনো সময়ে তরুণদের জন্য জায়গাটা ছাড়তে হবে। কারণ এটা দলকে স্থিতিশীল করবে। প্রথমদিকে তারা হয়তো স্ট্রাগল করবে, তবে শেষে গিয়ে এটাই তাদের সাফল্য দেবে।’

এরপর বাংলাদেশকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘২০২৬ সালে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ভালো করতে চাইলে এমনটাই হওয়া উচিত। বড় পরিসরে ভাবতে হবে, সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে হবে।’

ইউক্রেন নিয়ে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা বুঝতে পারছে না রাশিয়া

রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, ইউক্রেন সঙ্ঘাত নিয়ে গত সপ্তাহে সৌদি আরবে রাশিয়া এবং মার্কিন প্রতিনিধি দলের মধ্যে বৈঠক হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের পরিকল্পনা নিয়ে পরিষ্কার হতে পারেনি মস্কো।

তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সঙ্কটের দ্রুত সমাধান বের করার বিষয়ে তারা ওয়াশিংটনের ইচ্ছা লক্ষ্য করেছেন।

গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বৈঠক করেন এবং ইউক্রেনে শান্তি আলোচনা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। পরে রিয়াদ বৈঠককে মস্কো এবং ওয়াশিংটন খুবই ফলপ্রসু বলে উল্লেখ করেছে।

রিয়া নভোস্তি পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রিয়াবকভ বলেন, ভারসাম্যপূর্ণ স্বার্থের ভিত্তিতে ইউক্রেন সঙ্ঘাতের সমাধান করার ক্ষেত্রে রাশিয়ার দরজা উন্মুক্ত। কিন্তু এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনা কী তা এখনো রাশিয়া পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেনি।

তিনি বলেন, রাশিয়া এখন পর্যন্ত পরিষ্কারভাবে মার্কিন পরিকল্পনা বুঝতে পারছে না তবে আমরা গুরুত্ব সহকারে লক্ষ্য করেছি যে- মার্কিন পক্ষ দ্রুত যুদ্ধবিরতি চায়।

কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী মীমাংসা ছাড়া যুদ্ধবিরতি শুধুমাত্র দ্রুতগতির শত্রুতা সৃষ্টি করবে এবং আরো ভয়াবহ সঙ্ঘাতের জন্ম দেবে। এ ধরনের দৃশ্যপট এড়াতে চায় রাশিয়া।

রিয়াবকভ জোর দিয়ে বলেন, চলমান সঙ্ঘাতের আসল কারণ খুঁজে সেভাবেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটে ইউক্রেনের যুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন।

একই সাথে তিনি বলেন, রুশ ভাষাভাষী অঞ্চল দোনবাস নিয়ে যে সঙ্কট রয়েছে তারো সমাধান করতে হবে।
সূত্র : পার্সটুডে

গণঅভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে মাঠে থেকে কাজ করতেই পদত্যাগ করেছি : নাহিদ

জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাপূরণে সরকারে থাকার চেয়ে রাজপথে বেশি ভূমিকা পালনে উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে জানিয়েছেন সদ্য পদত্যাগ করা তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।

আজ মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন দাবি করেন।

নাহিদ বলেন, “আমি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। গত ছয় মাসে আমি আমার জায়গা থেকে কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। দু’টি মন্ত্রণালয়ের বাইরেও অনেক অতিরিক্ত দায়িত্ব আমাকে পালন করতে হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি। মন্ত্রণালয়গুলোতেও আমরা কিছু কাজ করেছি, সেই কাজের ফলাফল হয়ত জনগণ পাবে।”

‘ছয়মাস খুবই কম সময়, তবুও আমি চেষ্টা করেছি, আমার কাজ ও তার ফল জনগণ মূল্যায়ন করবে। আজ থেকে মূলত আমি সরকারের কোনো দায়িত্বে নেই,’ যোগ করেন তিনি।

এই ছাত্রনেতা আরো বলেন, “নিজের জায়গা থেকে মনে করেছি, আমার বাইরে থাকা দরকার। এখনো গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হয়নি। বিচার ও সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে এ সরকার গঠন করা হয়েছিল, সেটা পূরণে এখনো দু’জন ছাত্র উপদেষ্টা রয়েছেন। তারা মনে করছেন, এখনো সরকারে তাদের দায়িত্ব রয়েছে। তারা সরকারে থেকেই জনগণকে সেবা দেবে। রাজনীতিতে প্রয়োজনবোধ করলে তারা সরকার ছেড়ে দেবে।”

‘নতুন যে রাজনৈতিক শক্তি ও দল গঠিত হচ্ছে, তাতে অংশগ্রহণের অভিপ্রায় আমার আছে। জনগণের সাথে মিশে জনগণকে আবারো ঐক্যবদ্ধ করা, আমাদের যে গণঅভ্যুত্থানের প্রতিশ্রতি বাস্তবায়নে মাঠে থাকার লক্ষ্যেই আমি পদত্যাগ করেছি।’

সরকারে থেকে যতদিন দায়িত্ব পালন করেছেন, তাতে কোনো ব্যর্থতা ছিল কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিলই, সেগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছি সবসময়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছিল।’

‘আমরা এসে আমলাতন্ত্রকে যেভাবে পেয়েছি, পুলিশের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ছিল, জুলাই গণহত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের বিষয়ে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল, তবে আমরা কাজ করেছি। জনপ্রশাসনের একটি কমিটিতে দুই সপ্তাহ ছিলাম। তাতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ২০১৮ সালে যারা ডিসি ছিলেন, দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন, তাদের সরানোর উদ্যোগ নিয়েছি,’ বলেন নাহিদ ইসলাম।

সূত্র : ইউএনবি

যেকোনো মূল্যে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবো : মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা যেকোনো মূল্যে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবো, স্থিতিশীলতা রক্ষা করবো, দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরে আনবো।’

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘শহীদ সেনা দিবসের’ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর দেশকে সমৃদ্ধভাবে বিনির্মাণের সুযোগ এসেছে। কিন্তু আজকে আবার সেই সুযোগকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পতিত শেখ হাসিনা অবস্থান নিয়েছে দিল্লিতে, সেখান থেকে চক্রান্ত করছে- কী করে এই বিজয়কে নস্যাৎ করে দেয়া যায়, কিভাবে বাংলাদেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা যায়।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা না করলে স্থিতিশীলতা আসবে না। কোনোমতেই আমরা স্থিতিশীলতা পাবো না। তাই, প্রকৃতপক্ষে নিরপেক্ষ বস্তুনিষ্ঠ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকুন।’ জনগণকেও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যাতে আমরা একটা গণতান্ত্রিক পর্যায়ে পৌঁছতে পারি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, অনেকে সমালোচনা করে বলেছেন আমরা নাকি শুধু নির্বাচন নির্বাচন করি। আমরা সংস্কার করতে নাকি চাই না! এত বড় মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে তারা স্যোশাল মিডিয়ায়। কতিপয় মানুষ বিএনপিকে টার্গেট করে এই মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। এরা অপপ্রচার করে বিএনপিকে হেয় করতে চায়।’

‘আমরা যেকোনোমূল্যে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবো, স্থিতিশীলতা রক্ষা করবো, দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরে আনবো,’ বলেন তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনি শক্ত হাতে আপনার সরকারকে পরিচালনা করবেন, কেউ যেন না বলে, আপনি কারো পক্ষপাতিত্ব করছেন। আর আমি এ কথা শুনতেও চাই না। কারণ আপনি একজন বিখ্যাত দক্ষ প্রতিষ্ঠিত মানুষ। নিরপেক্ষতা বজায় রেখে যত দ্রুত, ন্যূনতম সংস্কার করে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যান।’

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।