সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) পদক পেলেন ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স অডিটরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৫ অনুষ্ঠানে তাকে এ পদক তুলে দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
একই দিনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আরো ৬১ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের এ পদক দেয়া হয়েছে। মোট চার ক্যাটাগরিতে পুলিশ পদক দেওয়া হয়। এগুলো হলো বিপিএম-সাহসিকতা, বিপিএম-সেবা, পিপিএম-সাহসিকতা ও পিপিএম-সেবা।
মো. জুয়েল রানা ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদপুর জোনে যোগদানের পর থেকেই মোহাম্মদপুর জোনে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সময়োপযোগী বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। জনমনে পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা এবং পুলিশের হারিয়ে যাওয়া সম্মান পুনরুদ্ধার করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মোহাম্মদপুর জোনের কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তার এই জনকল্যাণমুখী পুলিশিং সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।
বিপিএম পদক পেলেন ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জুয়েল রানা
বিমানের ইকোনমি ক্লাসে চড়ে প্রশংসায় ভাসছেন রজনীকান্ত
দক্ষিণের সুপারস্টার রজনীকান্তকে বলা হয় মহাতারকা। ভারতের কোনো কোনো স্থানে তাকে দেবতার মতো সম্বোধনও করা হয় বলে শোনা যায়। এছাড়াও তার সিনেমা হিটের অসংখ্য নজির তো রয়েছেই। এত বড় অভিনেতা হয়েও বিমানের ইকোনমি ক্লাসে তাকে ভ্রমণ করতে দেখা গেছে। বিমানে তাকে এমন অবস্থায় দেখে অন্যান্য যাত্রীরা এসে ভিড় করলেন।
দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক মুহূর্তে বিমান সিনেমা হলে রূপ নিল। অনুরাগীদের হাততালি, উচ্ছ্বাস অনায়াসে সামলাতে হাসিমুখে হাত নাড়লেন রজনীকান্ত। এরপরেই বসে পড়লেন নিজের আসনে। এমন এক মহাতারকাকে কাছ থেকে দেখে অভিভূত সবাই। মুহূর্তে সেই দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে।
রজনীকান্তের আসল নাম শিবাজি রাও গায়কোয়াড়। তবে তিনি রজনীকান্ত নামে পরিচিতি লাভ করেছে। অনেক বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে তিনি আজকের অবস্থানে এসেছেন। তার এমনও দিন গেছে, একসময়ে দুবেলা দুমুঠো খাবারের জন্য তাকে দিন-রাত কাজ করতে হয়েছে। কখনো কুলি হয়ে জিনিসপত্র বয়ে দিয়েছেন, কখনো বাসের টিকিট কেটেছেন কন্ডাক্টর হয়ে। আজ সেই তিনি ৪০০ কোটি রুপির মালিক। তারপরও তিনি বিলাসী জীবনযাপন করেন না। বিমানে চড়েন ইকোনমি ক্লাসে।
গত বছরও রজনীকে এভাবেই বিমানের ইকোনমি ক্লাসে চড়তে দেখা যায়। সামান্য ধনী কিংবা খ্যাতির আলোয় সামান্য ভেসে থাকা মানুষও যেখানে বিজনেস ক্লাস ছাড়া বিমানে চড়েন না। সেখানে রজনীর এ অভ্যাস বলে দেয় এ বিনয়ই তাকে মহাতারকা করেছে। পাশাপাশি বিমানে উঠে সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথাবার্তা চালিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিতে পেরেছিলেন মানুষের মাঝে থেকেই তিনি তারকা হয়ে উঠতে জানেন।
রজনীকান্তকে ২০২৪ সালের ‘ভেট্টিয়ান’ সিনেমায় শেষবার দেখা যায়। এবার অপেক্ষা ‘কুলি’ ও ‘জেলার ২’-র। ভক্তরা মুখিয়ে রয়েছেন ‘থালাইভা’র নতুন সিনেমার জন্য। এরই ফাঁকে বিমানে হাস্যোজ্জ্বল মুখে তারকাকে নিয়ে মজেছে নেটিজেনরা।
সারা বিশ্বে এই নায়কের অনুসারীও অসংখ্য, রয়েছে ব্যাপক খ্যাতি। এমন সময়েও নিজের সেই শুরুর দিনগুলো ভোলেননি তিনি। তাই আকাশে উড়েও পা তার মাটিতেই- এমনই বলছেন নেটিজেনরা।
‘পাত্রপক্ষ চায়, বিয়ের পর অভিনয় ছেড়ে দেই’
বলিউড অভিনেত্রী নুসরাত ভারুচা। পরিবার থেকে বহুদিন ধরে বিয়ে নিয়ে চাপ দেওয়া হলেও, অভিনয় ছাড়ার শর্তে কোনও সম্পর্কেই রাজি নন অভিনেত্রী। নিজের ক্যারিয়ারকে যেভাবে গড়ে তুলেছেন, তার সঙ্গে আপস করার প্রশ্নই ওঠে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বলিউড বাবলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নুসরাত জানিয়েছেন, তিনি এখনও সঠিক জীবনসঙ্গীর খোঁজে আছেন। এর মধ্যে বহু পাত্রপক্ষের সঙ্গে দেখা হয়েছে, যাদের অনেকেই চেয়েছেন- বিয়ের পর অভিনয় ছেড়ে দেই।
এমন প্রস্তাব পেয়ে প্রত্যেকবারই বিনয়ের সঙ্গে ‘না’ বলে দিয়েছেন অভিনেত্রী।
নুসরাত বলেন, ‘আমি এমন কাউকে বিয়ে করতে চাই না, যে আমার ক্যারিয়ার নিয়ে আপত্তি জানাবে। আমি জানি, কাকে বিয়ে করব, তা তখনই ঠিক হবে যখন এমন কাউকে পাব, যিনি আমাকে এবং আমার পেশাকে মেনে নেবেন।’
সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানান, কিছুদিন আগে ঠাকুমার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময়েও ঠাকুমা বিয়ে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘বয়স হচ্ছে, মা-বাবারও বয়স বাড়ছে- এখনই উপযুক্ত সময় কাউকে জীবনে নিয়ে আসার।’ এমনকী অভিনেত্রীর বাবা নাকি রীতিমতো হাল ছেড়ে দিয়েছেন! বলছেন, ‘আর বুঝিয়ে কাজ নেই।’
তবে নুসরাতের বক্তব্য, তিনি বাড়িতে এই নিয়ে ঝগড়া করেন না। বরং সবার কথা মন দিয়ে শুনলেও, সিদ্ধান্তটা নিজের মতোই নিতে চান।
তার কথায়, ‘বিয়ে তখনই করব, যখন মনে হবে এই মানুষটাই ঠিক।’
নুসরাত জানিয়েছেন, তিনি অ্যারেঞ্জড ম্যারেজের ব্যাপারে খোলা মনেই ভাবেন এবং পাত্রপক্ষের সঙ্গে দেখা করতেও রাজি থাকেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মিল হয় না, কারণ অনেকেই চান তিনি অভিনয় ছেড়ে দেন।
একইসঙ্গে রসিকতা করে বলেন, ‘এই মিটিংগুলোর খাবারের মেনু কিন্তু আমি ঠিক করি। ফলে পাত্র পছন্দ না হলেও, খাওয়াটা অন্তত ভালো হয়!’
এদিকে সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে নুসরাতের হরর ছবি ‘ছোড়ি ২’, যা ১১ এপ্রিল প্রেক্ষাগৃহে এসেছে। ক্যারিয়ারে ফোকাস করছেন অভিনেত্রী এবং আপাতত বিয়ে নয়, পেশাই তার প্রথম অগ্রাধিকার।
‘সন্দেহজনক’ আউট নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বিসিবি
ম্যাচে চলছে তখন ৪৪ তম ওভার। শেষ উইকেটে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের জয় পেতে প্রয়োজন ছিল ৭ রান। স্ট্রাইকে থাকা মিনহাজুল আবেদিন সাব্বির এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে বসেন। এতটুকু পর্যন্ত ঠিক আছে। তবে এর পর সাব্বির যেটা করেছেন তা নিয়েই আলোড়ন তৈরি হয়েছে গোটা ক্রিকেট মহলে।
বল মিস করার পর আউট থেকে বাঁচতে ব্যাটটি পপিং ক্রিজে ঢুকিয়েও রহস্যজনকভাবে বাইরে এনে রাখেন সাব্বির। আর তাতেই শাইনপুকুরকে হারতে হয়েছে ৫ রানে। সাব্বিরের এমন সন্দেহজনক আউট নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল গোটা ক্রিকেট পাড়ায়। আজ ১০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সেই আউটকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ( বিসিবি)।
বিবৃতিতে বিসিবি জানিয়েছে, ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ ২০২৪-২৫-এর গুলশান ক্রিকেট ক্লাব এবং শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ঘিরে উদ্বেগের বিষয়টি অবগত আছে বোর্ড। বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিট এবং লীগের টেকনিক্যাল কমিটি ইতোমধ্যেই ম্যাচের সঙ্গে জড়িত অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে।
বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, বিসিবি খেলার অখণ্ডতা বজায় রাখার এবং ক্রিকেটে সর্বোচ্চ নৈতিক মান বজায় রাখার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। খেলার চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন যেকোনো ধরণের দুর্নীতি বা অসদাচরণের প্রতি বোর্ডের শূন্য-সহনশীলতা নীতি রয়েছে বলেও জানানো হয়।
তদন্ত শেষে দোষী প্রমাণিত হলে জড়িত ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
ইনজুরি কাটিয়ে মেসির জোড়া গোল, ভক্তদের ভাষায় ‘দ্য কিং ইজ ব্যাক’
ক্রমাগত দীর্ঘ হচ্ছিল ইনজুরির সময়টা। বাড়ছিল ভক্তদের অপেক্ষাও। সবুজ ঘাসের গোল বলটাও যেনো মিস করতে শুরু করেছিল আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসিকে। অবশেষে মাঠে ফেরার গানে শুধু সাড়াই দেননি এলএমটেন। ৩৭ বছর বয়সে ইনজুরি থেকে দুই মাস দুই দিন পর ফিরে জোড়া গোলে রিতিমত মাতালেন মঞ্চ, মেজর লিগে রেকর্ড গড়ে পেলেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। ভক্তদের ভাষায়, ‘দ্য কিং ইজ ব্যাক’।
ম্যাচের শুরুতেই অ্যারন লং যখন গোল করলেন, ইন্টার মায়ামি তখন খাদের কিনারায়। প্রথম লেগে ১-০ গোলে হেরে যাওয়া দলের সামনে তখন দুই গোল ফিরিয়ে দেওয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জ। লিওনেল মেসি নামের জাদুকর আছে যে দলে, তাদের জন্য অসম্ভব বলে তো কিছু নেই! ৩৭ বছর বয়সেও সেরা সময়ের ছবি মেলে ধরে সেই চ্যালেঞ্জ জিতেই ইন্টার মায়ামিকে সেমি-ফাইনালে তুললেনে আর্জেন্টাইন মহানায়ক।
কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার-ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে লস অ্যাঞ্জেলস এফসিকে ৩-১ গোলে হারাল ইন্টার মায়ামি। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলের অগ্রগামিতায় মেসির দল পৌঁছে গেল শেষ চারে।
জোড়া গোল করে সেই জয়ের নায়ক মেসি। পিছিয়ে থাকা দলের আশা ফেরে তার গোলে, পরে জয়সূচক গোলও আসে তার পা থেকে।
প্রথম লেগে লস অ্যাঞ্জেলসের মাঠে ১-০ গোলে হেরে আসা মায়ামি দ্বিতীয় লেগে ঘরের মাঠে আরও পিছিয়ে পড়ে ম্যাচের নবম মিনিটেই। জটলার মধ্য থেকে মায়ামির রক্ষণের ভুলে নবম মিনিটে গোল করেন অ্যারন লং।
৩১তম মিনিটে চকিতে ফ্রি-কিক নিয়ে সরাসরি বল জালে পাঠান মেসি। মায়ামি মেতে ওঠে উল্লাসে। তবে লস অ্যাঞ্জেলসের গোলকিপার উগো লরিস ও অন্যরা কেউ তখনও প্রস্তুতই ছিলেন না। তাদের দাবির মুখে ভিএআর দেখে গোল দেননি রেফারি।
তবে মিনিট চারেক পরই সমতায় ফেরে মায়ামি। লুইস সুয়ারেসের টোকায় বক্সের একটু বাইরে বল পেয়ে প্রতিপক্ষের একজনকে কাটিয়ে বক্সের ভেতরে ঢুকেই আচমকা শট নেন মেসি। তার বাঁ পায়ের দুর্দান্ত কোনাকুনি শট আশ্রয় নেয় জালে।
মায়ামির দ্বিতীয় গোলটি ছিল অদ্ভুত। ৬১তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে গোলমুকে আলতো করে চিপ করেন নোয়াহ অ্যালেন। তার সতীর্থ ফেদেরিকো রেদোন্দো ছুটে গিয়েও বলে মাথা ছোঁয়াতে পারেননি, তবে উড়ন্ত বল ধরতে এগিয়ে এসে ফ্লাইট বুঝতে পারেননি লস অ্যাঞ্জেলসের গোলকিপার লরিসও। বল মাটিতে পড়ে ঢুকে যায় জালে।
৮২তম মিনিটে মায়ামির কর্নার থেকে লস অ্যাঞ্জেলসের গোলমুখে জটলার মধ্যে হ্যান্ডবলের আবেদন তোলেন মেসিরা। ভিএআর দেখে রেফারি নিশ্চিত হন, মার্ক দেলগাদোর হাতে লেগেছে বল। থেকে ঠাণ্ডা মাথায় নেওয়া পেনাল্টিতে গোল করেন মেসি।
ম্যাচের শেষ দিকে দুই দফায় বড় বিপদ থেকে মায়ামিকে রক্ষা করেন গোলকিপার অস্কার উস্তারি। শেষ বাঁশি বাজতেই খ্যাপাটে উদযাপনে মেতে ওঠেন মায়ামির কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো।
মাগুরায় ছাত্রদলের আহবায়ক চাঁদা দাবির অভিযোগে বহিষ্কার
মাগুরা শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক ইয়াসিন আলী সোহেল মুন্সি কে চাঁদা দাবির অভিযোগে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
দপ্তর সম্পাদক স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মাগুরা জেলা শাখার অধীনস্থ শ্রীপুর উপজেলা ছাত্র দলের আহবায়ক মুন্সি ইয়াসিন আলী সোহেলকে কে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো এবং ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতা কর্মীদের তার ৎেকে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার ও নির্দেশ দেন।
মাগুরা শ্রীপুর উপজেলার আহবায়ক সোহেল মুন্সির বিরুদ্ধে থানায় চাঁদা দাবির অভিযোগ দিয়ে বিপাকে পড়েছেন ফয়জুর রহমান নামে এক স্কুলশিক্ষক হুমকির মুখে ওই শিক্ষকের এখন স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।
এমন সংবাদ মিডিয়াতে প্রকাশিত হলে উর্ধতন নেতৃবৃন্দের নজরে আসে এবং জেলা ছাত্রদল সোহেল মুন্সি কে একটি কারন দর্শানো নোটিশ প্রদান করেন এবং নোটিশে বলা হয় আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষ জনক জবাব দিতে বলা হয়।
নোটিশের সঠিক জবাব না পাওয়ায় এবং চাঁদা,সরকারি জমি দখল,সরকারী গাছ কাটা সহ সকল ধরনের অপরাদ প্রাথমিক প্রমানিত হওয়ায় জেলা কমিটি শ্রীপুর উপজেলা আহ্বায়ক ইয়াসিন আলী সোহেল মুন্সিকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করে। তারই প্রেক্ষিতে ২৭/০৪/২৫ তারিখের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইয়াসিন আলী সোহেল মুন্সিকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করেন।
দলের সাথে গড়ে তুলছে সুসম্পর্ক জাকির খান
বিএনপির বাঘ বলতেই নারায়ণগঞ্জবাসির প্রথমেই মাথায় আসে জাকির খান,জেল থেকে মুক্তি পেয়ে ধীরে ধীরে দলের দিকে ঝুকে পড়ছে তিনি।
এরই মাঝে কেন্দ্রীয় নেতাদের অন্তরে জায়গা করে নিচ্ছে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত জাকির খান।
এর ধারাবাহিকতায় বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খান।
ইরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ২৫, আহত ৮০০
ইরানের বন্দর আব্বাসের শহিদ রাজি বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে আহতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে। শনিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে দেশটির সবচেয়ে বড় ও আধুনিক বন্দরে বিশাল এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
হরমুজগান প্রদেশের বিচার বিভাগের প্রধান মোজতবা গাহরেমানির বরাত দিয়ে তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলেছে, বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা ২৫। সংবাদসংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আহতদের শিরাজসহ বিভিন্ন শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহিদ রাজি বন্দরে এখনও ঘন ধোঁয়া উড়ছে। গতকাল বিস্ফোরণের পরপরই অনেকে ধারণা করতে থাকেন সেখানে নাশকতার ঘটনা ঘটতে পারে।
তবে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখপাত্র হোসেন জাফারি জানিয়েছেন, নাশকতার আলামত পাওয়া যায়নি।
তিনি বার্তাসংস্থা আইএলএনএ-কে জানিয়েছেন, কনটেইনারের ভেতর থাকা রাসায়নিক বস্তুর কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। জাফারি জানান, বিস্ফোরণ নিয়ে অনেক গুজব ছড়ানো হচ্ছে। সেগুলোতে বিশ্বাস না করে সরকারি তথ্যের জন্য সবাইকে অপেক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে সেখানে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর প্রকৃত হতাহতের তথ্য জানা যাবে। তিনি জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, এটি প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূর থেকেও তা অনুভূত হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণে আশেপাশের ভবনের ছাদ, জানালা উড়ে গেছে। পুড়ে গেছে গাড়ি। ঘটনাস্থল থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরের বাসিন্দারাও এই বিস্ফোরণের আঁচ পেয়েছেন।
দেশটির সরকারি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, ছোট একটি আগুন থেকে সবকিছুর সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনটি দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। যেটির প্রভাবে বিশাল বিস্ফোরণ হয়। সেখানকার আবহাওয়া অত্যাধিক গরম এবং দাহ্য প্রদার্থ থাকায় বিস্ফোরণের তীব্রতা বেশি ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যেসব কনটেইনারে বিস্ফোরণ হয়েছে সেগুলোর ভেতর কী ছিল তা এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে সেখানে সালফার জাতীয় পদার্থের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। প্রথম বিস্ফোরণের পর সেখানে আরও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ইরানি বার্তাসংস্থা ইরনা দেশটির সরকারি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, এটি ইরানের সবচেয়ে আধুনিক সামুদ্রিক বন্দর, যা হরমুজগানের প্রাদেশিক রাজধানী বন্দর আব্বাস থেকে ২৩ কিলোমিটার পূর্বে এবং হরমুজ প্রণালির উত্তর দিকে অবস্থিত। যেখান দিয়ে পৃথিবীর মোট উত্পাদিত তেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবহন করা হয়।
সামরিক ঘাটতির মুখে ইসরাইল: পালিয়ে বাঁচছে কি অর্থোডক্স ইহুদিরা?
ইসরাইলে সামরিক ঘাটতির গভীর সংকট দেখা দিয়েছে। সামরিক বাহিনী প্রশিক্ষণ ছাড়াই নতুন সৈন্যদের সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইসরাইলি রাজনীতিতে অর্থোডক্স ইহুদি সম্প্রদায়, বিশেষ করে হারেদিদের সামরিক দায়িত্ব এড়িয়ে চলার ইস্যু আবারো তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ইসরাইলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ অর্থোডক্স ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে সেবা না দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “কেউ যদি দেশের জন্য কাজ করতে না চায়, তবে তার এক শেকেলও পাবার অধিকার নেই।” ইরানের বার্তা সংস্থা ইরনার সূত্রে জানা গেছে, লাপিদ আরও জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের নীতিই রিজার্ভ বাহিনীর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং সামরিক কাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই হারেদি ইহুদিদের সামরিক সেবায় বাধ্য না করা নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলে আসছে। ডানপন্থী দলগুলো সাধারণত হারেদিদের ছাড় দেয়, যেখানে ধর্মনিরপেক্ষ ও বামপন্থীরা তাদেরও বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আওতায় আনতে চায়।
হারেদিরা ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রে (ইশিভা) জীবন অতিবাহিত করে এবং সেনাবাহিনীতে যোগ না দিয়ে বিশেষ সুবিধা ভোগ করে। তবে গাজায় চলমান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এবং সৈন্য সংকটের মুখে এই সুবিধা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বামপন্থী দলগুলো একটি আইন পাসের চেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে হারেদিদের এই ছাড় বাতিল করা হয়। যদিও এতে হারেদি সম্প্রদায়ের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ছে সরকার।
সাবেক ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট স্বীকার করেছেন, বর্তমানে ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বেনেট বলেন, “ইসরাইলের ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি কখনো আসেনি, যখন আমাদের এত বিশাল সংখ্যক সেনার প্রয়োজন ছিল।”
ইসরাইলের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ইয়েদিয়ত আহারোনত-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরাইলের সেনাবাহিনীতে অন্তত ২০,০০০ সৈন্যের অভাব রয়েছে। গাজায় যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতা এবং রিজার্ভ বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সেনাবাহিনীকে তাদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির সময়সীমা পর্যন্ত বাড়িয়ে নিতে বাধ্য করেছে।
হিব্রু ভাষার টিভি চ্যানেল “কান” এক অনুসন্ধানে দেখিয়েছে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী এখন গোলানি এবং গুয়াতি ব্রিগেডের নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সৈন্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়াই সরাসরি গাজার যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করছে। বিষয়টি সামরিক দক্ষতা ও নৈতিকতার প্রশ্নে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
গাজায় চলমান সংঘর্ষ, সৈন্য ঘাটতি এবং অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক দায়িত্ব এড়িয়ে চলা ইসরাইলের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে গভীর বিভাজন সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সেনাবাহিনী যদি হারেদিদের বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ দিতে না পারে, তবে ভবিষ্যতে ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতা এবং সামাজিক সংহতি উভয়ই বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে।
‘তিন সাংবাদিকের কথাগুলো, জুলাই দেখেছে এমন যেকোনো মানুষকেই আহত করে’
ম্যাস মার্ডার ডিনায়ালের একটা সুক্ষ্ম চেষ্টা থেকে কালকের প্রেস কনফারেন্সে যে কথাগুলা বলেছেন তিনজন সাংবাদিক, সেই কথাগুলা জুলাই দেখেছে এমন যেকোনো সেনসেটিভ মানুষকেই আহত করতে পারে। যে মা তার সম্তান হারিয়েছে মাত্র আট মাস আগে, যে সম্তান খুনীর গুলিতে আহত হয়েছে, যে বোন-যে ভাই শহীদ হওয়ার হাত থেকে বেঁচে এসেছে, তাদের বুকে শেলের মতো বিঁধেছে সাংবাদিক তিনজনের কথা।’
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ঘটনা থেকে মাত্র আট মাস দুরে দাঁড়িয়ে আমরা, খুনীর বিচার হয় নাই এখনো। পশ্চিমে বিচার হওয়ার পরেও এখনো হলোকাস্ট ডিনায়াল মানুষের বুকে লাগে। আর কালকে যখন প্রশ্ন করা হলো, একজন খুনীকে খুনী বলা যাবে কিনা- এই প্রশ্ন জনতার জুলাইকেই বেমালুম নাই করে দেয়ার একটা চেষ্টা হিসাবেই দেখেছে সবাই। প্রেস কনফারেন্সে তাদের কথাগুলা আমাকে বিস্মিত করলেও ধৈর্য নিয়ে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছি। তারপর মানুষ তাদের ক্ষোভ জানিয়েছে। এবং আজকে সন্ধ্যায় জানলাম চ্যানেলগুলা তাদের চাকরীচ্যুত করেছে। প্রত্যেক চ্যানেলেরই নিজস্ব এডিটোরিয়াল পলিসি থাকে। তারা সেই পলিসির আলোকে কি সিদ্ধান্ত নেবে সেটা তাদের ব্যাপার। তারপরও অনলাইনে কাউকে কাউকে একটা কথা বলার চেষ্টা করতে দেখছি যে আমাকে প্রশ্ন করায় চাকরী গেছে তাদের।হাস্যকর কথা। বিষয়টা যে আমি না, বিষয়টা যে জুলাই এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পলিসির ব্যাপার- এটাও তারা বুঝতে পারছে না।’
সংস্কৃতি উপদেষ্টা বলেন, ‘সবার উদ্দেশ্যে ফর দ্য রেকর্ড বলে রাখছি, তাদের চাকরীর ব্যাপারে আমাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো রকম সংশ্লিষ্টতা নাই। এই বিষয়ে সংশয় থাকলে ঐ চ্যানেলগুলার সাথে যোগাযোগ করলেই সবাই সত্য জানতে পারবেন। অনুমানে দুইয়ে দুইয়ে চার না মেলানোই ভালো।’


