Home Blog Page 464

দিনের প্রথম বলেই অলআউট জিম্বাবুয়ে

০
প্রথম দিনের দুই সেশনে দাপট দেখালেও শেষ সেশনে ব্যাটিং ধসে পড়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ। ২ উইকেটেই ১৭৭ রান থেকে জিম্বাবুয়ে দিনশেষ করে ৯ উইকেটে ২২৭ রানে। তাইজুল ইসলাম ৫ উইকেট নিয়ে সোমবার তাদের এলোমেলো করে দিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) দ্বিতীয় দিন বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল যত দ্রুত সফরকারীদের অলআউট করা যায়। এই লক্ষ্যে দিনের প্রথম বলেই মুজারাবানিকে ফেরায় তাইজুল। এতে প্রথম ইনিংসে ২২৭ রানেই অলআউট জিম্বাবুয়ে। ৬০ রানে ৬ উইকেট নিলেন তাইজুল।

এর আগে ইনিংসের শুরুটা ভালোই করেছিল জিম্বাবুয়ে। দুই ওপেনার বেনেট ও বেন কারেন মিলে গড়ে তোলেন আশাব্যঞ্জক জুটি। অভিষিক্ত তানজিম সাকিবের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেট হন বেনেট। এরপর বেন কারেনকে ফেরান তাইজুল।

তবে ব্যাট হাতে নিক ওয়েলচ ও শন উইলিয়ামসের রেকর্ড গড়া জুটিতে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেই চাপ থেকে বের করে আনেন নাইম ইসলাম। ৪ বলের ব্যবধানে তুলে নেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।

শেষ দিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা জিম্বাবুয়েকে ২৩০ রানে গুটিয়ে দিতে মূল ভূমিকা রাখেন তাইজুল (৬/৫২) ও নাইম ইসলাম (৩/৪৮)। বল হাতে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে টাইগারদের ম্যাচে এগিয়ে দিয়েছেন তারা।

 

ব্রাজিলের কোচ হচ্ছেন আনচেলত্তি!

০
বেশ কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল কার্লো আনচেলত্তি দায়িত্ব ছাড়ছেন রিয়াল মাদ্রিদের।

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিষয়ক গণমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিকের রিপোর্ট অনুযায়ী, কোচ কার্লো আনচেলত্তি রিয়াল মাদ্রিদের ম্যানেজারের পদ ছাড়ছেন এবং আগামী জুনে ব্রাজিল জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

দ্য অ্যাথলেটিকের সেই রিপোর্ট থেকে আরও জানা যায়, প্রথম ধাপে ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত এক বছরের চুক্তিতে আনচেলত্তি ব্রাজিলের কোচ হবেন। যদিও ৬৫ বছর বয়সী আনচেলত্তি ডিসেম্বর ২০২৩-এ রিয়াল মাদ্রিদের সাথে তার চুক্তি ২০২৬ সাল পর্যন্ত নবায়ন করেছিলেন, তবুও ইতোমধ্যেই ড্রেসিং রুমে খেলোয়াড়দের জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, রিয়াল কোচ কার্লো আনচেলত্তি চলতি লা লিগা মৌসুম শেষ করেই জুনে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেবেন। এর ফলে, তিনি এই গ্রীষ্মের ক্লাব বিশ্বকাপে মাদ্রিদের কোচ থাকছেন না। আনচেলত্তির ছেড়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষের সাথে আগামী কয়েক ঘণ্টা ও দিনে আলোচনা চলবে বলে জানা গেছে। রিয়াল মাদ্রিদ এখন নতুন কোচ খুঁজতে ব্যস্ত। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে ফুটবল ডিরেক্টর সান্তি সোলারি এগিয়ে আছেন, তবে নতুন কোচ হিসেবে বায়ার লেভারকুজেনের কোচ জাবি আলোনসোকেই সবচেয়ে সম্ভাবনাময় মনে করা হচ্ছে।

ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (CBF) অনেকদিন ধরেই আনচেলত্তির প্রতি আগ্রহী ছিল এবং CBF প্রেসিডেন্ট এডনালদো রড্রিগেস তাকে ‘স্বপ্নের কোচ’ বলেও অভিহিত করেছিলেন। আনচেলত্তির সাথে সাক্ষাতের জন্য গত ১৬ এপ্রিল আর্সেনালের বিপক্ষে মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার-ফাইনাল ম্যাচে CBF-এর প্রতিনিধি দিয়েগো ফার্নান্দেস উপস্থিত ছিলেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও কনফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কিছু স্বীকার করেনি, জানা গেছে আলোচনাগুলি সম্মানের সাথেই এগোচ্ছে।

‘জংলি’র রেকর্ডের দিনে সিয়ামের উচ্ছ্বাস

০
ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া সিয়াম আহমেদের ‘জংলি’ মুক্তির ২৬তম দিনে এসে সিনেমাটি গড়েছে রেকর্ড। এখন পর্যন্ত দিন হিসেবে ‘জংলি’র সর্বোচ্চ গ্রস আয়ের রেকর্ড হয়েছে এ দিনে। এদিন বিশ্বব্যাপী জংলি আয় করে ৩৫ লাখ ১১ হাজার টাকা; যা এখন পর্যন্ত এক দিনে সিনেমাটির সর্বোচ্চ গ্রস আয়। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই ছবিটির বেশিরভাগ শো হাউসফুল ছিল। অনেকে সিনেপ্লেক্সে এসে টিকেট না পেয়ে ফিরেও গেছেন। দর্শক চাপে সিনেপ্লেক্সে শো বাড়তে থাকে।
বিষয়টি জানিয়ে এক ফেসবুক পোস্টে অভিনেতা সিয়াম আহমেদ লিখেছেন, ‘আট বছরের শিশু থেকে আশি বছরের বৃদ্ধা, সবাই যখন একটা সিনেমাকে আপন করে নেয়, তখন এ রকম ম্যাজিক্যাল কিছুই ঘটতে বাধ্য। মুক্তির ২৬তম দিনে সবমিলিয়ে জংলির গ্রস কালেকশন প্রায় ৩৫ দশমিক ১১ লাখ টাকা! একদিনে এটিই জংলির সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড। দর্শকের এ ভালোবাসায় জংলি সিনেমা ফ্যামিলি ব্লকবাস্টারের তকমা পেতে চলেছে।’
এম রহিম পৃিরচালিত জংলি সিনেমায় সিয়াম ছাড়াও অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন- বুবলী, দীঘি, দিলারা জামান, শহীদুজ্জামান সেলিম, রাশেদ মামুন অপু, সোহেল খান, এরফান মৃধা শিবলু প্রমুখ। টাইগার মিডিয়া প্রযোজিত জংলি সিনেমার গল্প লিখেছেন আজাদ খান, চিত্রনাট্য করেছেন যৌথভাবে- মেহেদী হাসান ও কলকাতার সুকৃতি সাহা।

সম্পর্ক নিয়ে নতুন বক্তব্য মাহির

০
ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি। সম্প্রতি মাহির এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টের জেরে তার সম্পর্ক ভেঙে গেছে এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে মাহি জানালেন ব্যাপারটি সঠিক নয়।
এ বিষয়ে সামিরা খান মাহি বলেন, ‘আমার আর সাদাত সাফি নাবিলের সম্পর্ক ঠিক আছে। সব সম্পর্কেই ঝামেলা হয়, সেগুলো আবার ঠিকও হয়ে যায়। আমি কিন্তু কোথাও বলিনি, আমাদের ব্রেকআপ হয়ে গেছে। চার বছরের প্রেমের সম্পর্ক আমাদের। একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম শুধু যে, বেশ কয়েক দিন ধরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। এটিকেই মানুষ ভিন্নভাবে নিয়েছে।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ইনস্টাগ্রামে মাহি লেখেন, ‘গত কয়েকটা দিন ভীষণ কষ্টের কেটেছে। ট্রলড হওয়ার কষ্ট, বোনের বিয়ের দায়িত্বের চাপ, আর নিজের সম্পর্কের টানাপড়েন- সব মিলিয়ে ভেতরটা একেবারে খালি খালি লাগছে। সত্যি বলতে, খুব ক্লান্ত, খুবই এলোমেলো লাগছে নিজেকে। আমি ভুল করেছি, যা অনেককেই কষ্ট দিয়েছে, এটিও আমি বহন করে গেছি। আমি জানি আমি হৃদয় ভেঙেছি, এর জন্য আমি দুঃখিত। সত্যিই আমি ভেঙে পড়েছি- আর এটি বলতে ভয় পাই না আমি।’
ইনস্টাগ্রামে ছবি পোস্ট করে তিনি আরও লিখেছিলেন, ‘আমার এই দুর্বলতম সময়েও আমি জানি, উঠে দাঁড়ানোর শক্তি আমাকে ছেড়ে যায়নি। আমি এখন শুধুই ক্লান্ত, তবে পরাজিত নই। যদি সবার সঙ্গে হাসি শেয়ার করা যায়, তা হলে আমি বলব চোখের জলও শেয়ার করা যায়। জীবন খুব ভালো করেই দেখেছেন অভিনেত্রী। হয়তো সে কারণেই লিখেছেন, জীবন সবসময় সাজানো-গোছানো আর নিখুঁত হয় না।’

ইসরায়েলি গোয়েন্দা প্রধানের পদত্যাগের ঘোষণা

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেটের প্রধান নির্বাহী রোনেন বার তার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ১৫ জুন পদত্যাগ করবেন তিনি।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে রোনেন এ কথা জানিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
গাজায় সামরিক অভিযান নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে মতপার্থক্য ও টানাপোড়েনের পর পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন তিনি।
সোমবার ওই বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমি আমার ৩৫ বছরের চাকরিজীবনের ইতি টানছি। আগামী ১৫ জুন আমি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই সময়সীমার মধ্যে একজন যোগ্য ও পেশাদার উত্তরসূরীকে বেছে নেওয়া এবং তার হাতে দায়িত্ব অর্পণ করা হবে।
শিন বেট ইসরায়েলের সবচেয়ে প্রভাবশালী নিরাপত্তা সংস্থা। এই সংস্থাটি সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী হামলার তদন্তের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস যে নজিরবিহীন সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছিল, সেটির প্রধান তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকায় ছিল শিন বেট।

পাকিস্তানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে নশকি এলাকায় সোমবার (২৮ এপ্রিল) একটি জ্বালানি ট্রাক বিস্ফোরণে একজন চালক নিহত এবং প্রায় ৬০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২০ জন অবস্থা গুরুতর, যার মধ্যে পুলিশ কর্মী এবং বেশ কয়েকজন শিশুও রয়েছে।
পাকিস্তানের দ্য ডন মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) জানায়, স্থানীয় দোকানগুলোতে সরবারহ করতে ইরান থেকে আনা পেট্রোলে ভরা জ্বালানি ছিল ওই ট্রাকটিতে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাকটি মূল বাস ও ট্রাক স্ট্যান্ডে পার্ক করা ছিল, যখন চালক জ্বালানি ট্যাঙ্কে লিকেজ দেখতে পান। লিকেজ বন্ধ করার ব্যর্থ চেষ্টার পর, চালক ট্রাকটিকে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে একটি খোলা জায়গায় নিয়ে যান। ট্রাকের জ্বালানি ট্যাঙ্কে ঢালাই করার সময় এতে আগুন লেগে যায় এবং বড় বিস্ফোরণ ঘটে।
ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে নশকির ডেপুটি কমিশনার আমজাদ সোমরু বলেন, বিশাল অগ্নিকাণ্ডের ফলে চালক ঘটনাস্থলেই দগ্ধ হয়ে মারা যান এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ৬০ জনেরও বেশি লোক দগ্ধ হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. জাফর আলী মেনগাল ডনকে বলেন, পুলিশ কর্মী এবং শিশুসহ ৪৫ জনেরও বেশি লোককে আমরা হাসপাতালে ভর্তি করেছি, যারা দগ্ধ হয়েছিলেন।
তিনি বলেন, কমপক্ষে ২০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক কারণ তাদের শরীরের ৪০ শতাংশেরও বেশি পুড়ে গেছে।
গুরুতর আহতদের কোয়েটার সিভিল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে, অন্যদিকে জেলা হাসপাতালে বার্ন ওয়ার্ড না থাকায় আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে নশকির বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
ডা. আব্দুল হাদী কাকার বলেন, আমরা ২৩ জন আহতকে পেয়েছি যারা গুরুতরভাবে পুড়ে গেছে, তাদের মধ্যে ২০ জনকে চিকিৎসার জন্য বোলান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

 

সবার উদ্দেশ্যে উমামার ছোট ঘোষণা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) মুখপাত্র উমামা ফাতেমা সবার উদ্দেশ্যে একটি ছোট ঘোষনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নাই।
সোমবার (২৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টা ২ মিনিটের দিকে নিজের ফেসবুক একাউন্টে এক পোস্টে তিনি এই ঘোষণা দেন।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘সবার উদ্দেশ্যে একটা ছোট ঘোষণা, আমি নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আমার অনেক পরিচিত ব্যক্তিবর্গ এই দলটির সঙ্গে আছেন।’
sa 1745869330
তবে, ব্যক্তিগতভাবে এনসিপির সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই বলে জানান উমামা। তাই এনসিপি সংক্রান্ত পরামর্শ, সাংগঠনিক আলাপ বা প্রস্তাবনা তার কাছে উপস্থাপন না করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
পোস্টে হাতজোড়া করা তিনটা ইমোজি জুড়ে দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘এতে আপনার, আমার দুইজনেরই সময় বাঁচবে।’

‘সহিংস রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসেছে ছাত্রদল’

বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। এর আগে কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি দেশের ছাত্ররাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন সময়ের আলোর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি রফিক রাফি
সময়ের আলো : জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদল না শিবিরের ভূমিকা বেশি ছিল?
রাকিবুল ইসলাম রাকিব : এখন শিবির দাবি করতেই পারে, কারণ তারা তো গুপ্ত সংগঠন। তারা যদি বলে ছাত্রলীগের সব (নেতা) তাদের ছিল, সেটি তারা দাবি করতে পারে। ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি পদে থেকে ভূমিকা রেখেছে। ছাত্রদলের ভূমিকার ধারেকাছেও শিবির নেই। জুলাই-আগস্টে যে মামলাগুলো হয়েছে সেটি এনালাইসিস করলে বোঝা যাবে কারা ভূমিকা রেখেছে এবং কারা ভুক্তভোগী। সারা দেশে ছাত্রদলের কয়েক হাজার নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে, গ্রেফতার হয়েছে। তারা মাঠে নামার কারণেই মামলা খেয়েছে, গ্রেফতার হয়েছে। এখন জুলাই-আগস্ট সফল না হলে শিবিরের কার নামে মামলা হতো? কে ভুক্তভোগী হতো? কিন্তু ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জেলখানা থেকে বের হতে পারত কি না সন্দেহ। কারণ সবার পদ রয়েছে। তারা পদে থেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়েছে। সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে।
আগামী দিনে ছাত্রদলের রাজনীতি কী রকম হবে? সবকিছু কি পুরোনো ধাঁচেই চলবে? এ নিয়ে তারেক রহমানের নির্দেশনা কী?
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাত্রদলের সরাসরি অভিভাবক। তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা আলোচনা করে অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ভিন্ন ধারার রাজনীতি উপহার দিয়ে যাচ্ছি। ক্যাম্পাসে ব্যক্তিগত শোডাউন নেই। প্রভাব-প্রতিপত্তিমূলক শোডাউন নেই। সাধারণ ছাত্রদের জন্য যে রাজনীতি সেটি করার চেষ্টা আমরা করছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে একটি কর্মসূচিও ছাত্রদলের লাভের জন্য পালন করা হয়নি। ছাত্রলীগ ইস্যু, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে শিক্ষাবান্ধব কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে। এখন বাইক শোডাউন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। হলগুলোতে রাজনৈতিক চর্চা করছি না, মধুর ক্যান্টিনে গেছি কি না, একদম দৃশ্যমান ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি ইতিমধ্যে ছাত্রদল উপহার দিয়েছে। সহিংস রাজনীতি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে। তার প্রমাণ আমরা গত ৯ মাসে দিয়েছি। এটি বজায় রাখতে পারলে সাধারণ ছাত্ররা ছাত্ররাজনীতিকে আরও ইতিবাচকভাবে নেবে। যেই সংগঠন পছন্দ হবে, সেই সংগঠন করবে। দুয়েকটা ঘটনা দিয়ে পুরো বাংলাদেশের রাজনীতিকে বিতর্কিত করা সম্ভব না। আগামীতে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু সেটি আমরা ওন করি কি না এটি হলো ফ্যাক্ট। ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে ছাত্রদল রাজনীতি করে যাচ্ছে।
ছাত্রদল কেন করেন?
আমি ক্লাস এইটে পড়ার সময় আমার উপজেলার যারা ছাত্রদল করতেন এবং আমার বড় ভাই যিনি আমার অভিভাবক ও শিক্ষক তার বন্ধু সার্কেলের অনেকেই ছাত্রদল করতেন। ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলায় তারা স্মার্টলি রাজনীতি ডিল করতেন। তারা সে সময় খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। তাদের দেখে আমার রাজনীতিতে আসা। ছোট থেকেই পত্রিকা পড়ার অভ্যাস ছিল। সেখানে ঢাবি, মধুর ক্যান্টিন ও ছাত্ররাজনীতি, নব্বইয়ের ইতিহাস নিয়ে লেখাগুলো পড়তাম। এগুলোতে অনুপ্রাণিত হয়েই আমি ছাত্ররাজনীতিতে আসি। পরবর্তীতে এইচএসসি মুক্তাগাছার শহিদ স্মৃতি কলেজে ভর্তি হই। সেখানে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের রাজনীতির মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিল। সেখানে বিজ্ঞান বিভাগে আমি নির্বাচিত সভাপতি ছিলাম।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছাত্রদের ভূমিকা অপরিসীম। ছাত্র নেতৃত্ব থেকে জাতীয় নেতৃত্বের দিকে যায়। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
আমি অনেক ধাপ পাড়ি দিয়ে এখানে এসেছি। আমার এখন পূর্ণ মনোযোগ ছাত্ররাজনীতি নিয়ে। আমি যখন ঢাবির আহ্বায়ক ছিলাম তখন এক ধরনের বাস্তবতা ছিল। বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ছাত্রলীগের হামলা, পুলিশের হামলা-মামলা, নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। বাসায় রেইড দিয়েছে, আড্ডা দিতে পারতাম না। আমার বাসা থেকে আমাকে গ্রেফতার করেছে। পরবর্তীতে যখন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দায়িত্ব পাই, তখনও খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনটাই সবসময় মাথায় ছিল। জুলাই-আগস্টের পরের বাস্তবতায় এখন আমার মূল দায়িত্ব সারা দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রপাগান্ডা মোকাবিলা করা। ছাত্রদল যে সততা-নীতি নিয়ে ছাত্ররাজনীতি করে সভাপতি হিসেবে সেটি প্রমাণের দায় আমার রয়েছে। ছাত্রদলকে একটি শক্তিশালী অবস্থায় রেখে আমি বিদায় নিতে চাই। এই পদে থেকে এখনও জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভাবছি না। এটি সম্পূর্ণ দলের ওপর নির্ভর করবে। দল যে সিদ্ধান্ত দেবে তা আমি মেনে নেব।
আওয়ামী আমলে আপনার ওপর নির্যাতনের মাত্রা কেমন ছিল? মামলা কতগুলো ছিল?
আমার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৫৬টি মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে। অধিকাংশেরই চার্জশিট হয়ে গেছে। জেলে গেছি পাঁচবার। এই পাঁচবারে এক বছরের মতো জেল খাটতে হয়েছে।
শিবিরের সঙ্গে আপনাদের পলিটিক্যাল লিয়াজোঁ ছিল ১২ বছর। কিন্তু সম্প্রতি ছাত্রদল-শিবির মুখোমুখি অবস্থানে। দূরত্বও বেড়েছে। এর পেছনের কারণ কী?
শিবিরের সঙ্গে আমাদের কখনো জোট বা আদর্শিক জোট ছিল না। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির একটি নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক জোট ছিল। শিবিরের সঙ্গে সবসময় আমাদের একটা দূরত্ব ছিল। এখানে মূল সমস্যাটা হলো, তারা প্রকাশ্য রাজনীতি করতে চায় না। সাধারণ ছাত্রদের মাঝে থেকে ছোট ছোট ইস্যুকে তারা বড় করে। এটি করে ছাত্ররাজনীতিকে বিভ্রান্ত করা হয়। তারা জুলাই-আগস্টের পর থেকে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে একটা অবস্থা দাঁড় করাতে চায়। যতদিন তাদের এই ধারণা বজায় থাকবে ততদিন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তাদের দূরত্ব থাকবে।
প্রাইমএশিয়ার ছাত্র পারভেজ মারা গেছে প্রেম-ভালোবাসাকেন্দ্রিক ব্যক্তিগত ইস্যুতে। তা হলে এটিকে পলিটিক্যাল ইস্যু করা হচ্ছে কেন?
এটি নারীঘটিত বিষয় এমন না। দুজন শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে ইঙ্গিতপূর্ণ হাসিকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি হয়েছে, তারা এটি বলেছে। এ রকম একটি তুচ্ছ বিষয়ে একা পেয়ে হুমকি দিয়ে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তারা আগেই বলেছে ১০ থেকে ১৫টি লাশ ফেলে দেবে। এই জোরটা তারা কোথায় পেয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ব্যানার থেকে পেয়েছে। ঢাকা শহরে অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে কি এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে? তাদের (বৈষম্যবিরোধী) এটি স্বীকার করতে হবে যে, আমাদের অপরাধ রয়েছে। সে (বৈষম্যবিরোধী নেতা) উপস্থিত ছিল। তারা এটিকে যেভাবে ডিফেন্ড করছে, তাতে অপরাধকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ছাত্রদলের কেউ অপরাধ করলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিই, নিচ্ছি। ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের কেউ অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী তার ব্যবস্থা হবে। কিন্তু নাটোরে ছাত্রলীগের একজনকে রিকশায় ঘোরানোর কারণে ছাত্রদলের কমিটি ভেঙে দিয়েছি। আমরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। কিন্তু অন্য সংগঠন তাদের কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।
ঢাবি ছাত্রদল সভাপতি সাহস বলেছে, ‘তথাকথিত জুলাই আন্দোলন’। এ ব্যাপারে আপনাদের সাংগঠনিক অবস্থান কী?
তার পুরো বক্তব্য শুনলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। সে জানিয়েছে, অনাকাক্সিক্ষতভাবে এটি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বক্তব্য সে পরিষ্কার করেছে যে, অসাবধানতাবশত, অসতর্কতাবশত এটি হয়েছে। তার জন্য সে দুঃখ প্রকাশ করেছে। এটি সংগঠনের বক্তব্য না, তার ব্যক্তিগত বক্তব্য।
যে ছাত্রদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করেছেন, তাদের সঙ্গে আপনাদের দূরত্ব বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে। এমনটা কেন হচ্ছে?
আমি বিশ্বাস করি, সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে কখনোই দূরত্ব ছিল না। আমি যতদিন রয়েছি এবং আগামীতেও ছাত্রদের সঙ্গে দূরত্ব হবে না। কারণ ছাত্রদলের ইতিহাসে বাংলাদেশ ও রাষ্ট্রবিরোধী ফ্যাসিস্টের মতো করে ছাত্রদল ক্যাম্পাসে কখনো অবস্থান নেয়নি। হয়তো ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ছিল, এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। সেগুলো করতে গিয়ে নানা বিষয় উঠে এসেছে। সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন করতে পারবেন, কিন্তু বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য, বিতর্কিত করার জন্য ফ্যাসিবাদ কায়েম করার জন্য, ভোট চুরি করার জন্য কখনো ছাত্রদল ভূমিকা পালন করেনি।
ছাত্রদলের অভ্যন্তরে মাঝেমধ্যেই মতপার্থক্য, গ্রুপিং ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের অভিযোগ শোনা যায়। তৃণমূলে ঐক্যের এই সংকট কীভাবে সমাধান করবেন?
অতীতে যখন ছাত্রলীগের সাদ্দাম-ইনান ছিল, তারা কোনো ঘটনা ঘটলেই বলে দিত এটি ছাত্রদলের গ্রুপিং। গত ৯ মাসে আমরা প্রমাণ করেছি আমাদের কোনো গ্রুপিং নেই। প্রতিযোগিতা রয়েছে। সেটিও দৃশ্যমান নয়।
আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ রাজপথে নেমে মিছিল করছে। এ ব্যাপারে ছাত্রদলের অবস্থান কী?
এর জন্য পুরোপুরি দায় নিতে হবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে এবং অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা দুই উপদেষ্টাসহ জুলাই আন্দোলন পরবর্তীতে রাজনৈতিক দল হিসেবে সরকারে থেকে অথবা বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োগ পেয়ে যারা সুফল ভোগ করছে, তাদের দায় বহন করতে হবে। তাদের এদিকে এখন আর মনোযোগ নেই। একটি জায়গায় রয়েছে, ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে পারলে সেই নেতাকর্মীগুলো তাদের দলে যোগ দেবে। এ চিন্তায় তারা রয়েছে। এই চিন্তা থাকলে কখনোই আওয়ামী লীগের মিছিল বন্ধ করতে পারবেন না।
আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে?
জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ব্যানারে যারা অগ্রভাগে ছিল, তাদের আমরা সহযোগিতা করেছি। আমার মনে হয় বর্তমান সরকার যদি কোনো ভুল না করে এবং বৈষম্যবিরোধী ব্যানারে যে দল গঠন করেছে ক্ষমতায় নিয়ে আসার জন্য বা ক্ষমতার কাছে রাখার জন্য যদি তারা কোনো ঐতিহাসিক ভুল না করে তা হলে এ দেশে আওয়ামী লীগের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।

মেরাদিয়ায় এবার বসবে না গরুর হাট’

রাজধানীর বনশ্রীর মেরাদিয়ায় এবার গরুর হাট বসানো যাবে না বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) কাজী জিনাত হক ও আইনুন নাহার সিদ্দিকার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এলপিজির দাম ১২ কেজিতে বাড়ল ১১ টাকা

দেশে ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ১২ কেজিতে এবার ১১ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

রোববার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে নতুন দর কার্যকর হবে।

এর আগে টানা তিন মাস এলপিজির দাম কমেছিল। তবে গত মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারে ৩ টাকা বেড়েছিল।

বিইআরসি থেকে পাঠানো  সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়, আগস্টের জন্য প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দর নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩৭৭ টাকা। গত জুলাইয়ে দাম ছিল ১ হাজার ৩৬৬ টাকা।

বিইআরসি প্রতি মাসেই এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। বিইআরসির নতুন দর অনুযায়ী, বেসরকারি এলপিজির মূল্য সংযোজন করসহ (মূসক/ভ্যাটসহ) দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ১১৪ টাকা ৭৯ পয়সা, যা গত মাসে ছিল ১১৩ টাকা ৮৬ পয়সা। এই হিসাবে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে।