Home Blog Page 468

‘সহিংস রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসেছে ছাত্রদল’

বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। এর আগে কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি দেশের ছাত্ররাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন সময়ের আলোর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি রফিক রাফি
সময়ের আলো : জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদল না শিবিরের ভূমিকা বেশি ছিল?
রাকিবুল ইসলাম রাকিব : এখন শিবির দাবি করতেই পারে, কারণ তারা তো গুপ্ত সংগঠন। তারা যদি বলে ছাত্রলীগের সব (নেতা) তাদের ছিল, সেটি তারা দাবি করতে পারে। ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি পদে থেকে ভূমিকা রেখেছে। ছাত্রদলের ভূমিকার ধারেকাছেও শিবির নেই। জুলাই-আগস্টে যে মামলাগুলো হয়েছে সেটি এনালাইসিস করলে বোঝা যাবে কারা ভূমিকা রেখেছে এবং কারা ভুক্তভোগী। সারা দেশে ছাত্রদলের কয়েক হাজার নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে, গ্রেফতার হয়েছে। তারা মাঠে নামার কারণেই মামলা খেয়েছে, গ্রেফতার হয়েছে। এখন জুলাই-আগস্ট সফল না হলে শিবিরের কার নামে মামলা হতো? কে ভুক্তভোগী হতো? কিন্তু ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জেলখানা থেকে বের হতে পারত কি না সন্দেহ। কারণ সবার পদ রয়েছে। তারা পদে থেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়েছে। সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে।
আগামী দিনে ছাত্রদলের রাজনীতি কী রকম হবে? সবকিছু কি পুরোনো ধাঁচেই চলবে? এ নিয়ে তারেক রহমানের নির্দেশনা কী?
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাত্রদলের সরাসরি অভিভাবক। তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা আলোচনা করে অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ভিন্ন ধারার রাজনীতি উপহার দিয়ে যাচ্ছি। ক্যাম্পাসে ব্যক্তিগত শোডাউন নেই। প্রভাব-প্রতিপত্তিমূলক শোডাউন নেই। সাধারণ ছাত্রদের জন্য যে রাজনীতি সেটি করার চেষ্টা আমরা করছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে একটি কর্মসূচিও ছাত্রদলের লাভের জন্য পালন করা হয়নি। ছাত্রলীগ ইস্যু, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে শিক্ষাবান্ধব কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে। এখন বাইক শোডাউন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। হলগুলোতে রাজনৈতিক চর্চা করছি না, মধুর ক্যান্টিনে গেছি কি না, একদম দৃশ্যমান ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি ইতিমধ্যে ছাত্রদল উপহার দিয়েছে। সহিংস রাজনীতি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে। তার প্রমাণ আমরা গত ৯ মাসে দিয়েছি। এটি বজায় রাখতে পারলে সাধারণ ছাত্ররা ছাত্ররাজনীতিকে আরও ইতিবাচকভাবে নেবে। যেই সংগঠন পছন্দ হবে, সেই সংগঠন করবে। দুয়েকটা ঘটনা দিয়ে পুরো বাংলাদেশের রাজনীতিকে বিতর্কিত করা সম্ভব না। আগামীতে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু সেটি আমরা ওন করি কি না এটি হলো ফ্যাক্ট। ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে ছাত্রদল রাজনীতি করে যাচ্ছে।
ছাত্রদল কেন করেন?
আমি ক্লাস এইটে পড়ার সময় আমার উপজেলার যারা ছাত্রদল করতেন এবং আমার বড় ভাই যিনি আমার অভিভাবক ও শিক্ষক তার বন্ধু সার্কেলের অনেকেই ছাত্রদল করতেন। ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলায় তারা স্মার্টলি রাজনীতি ডিল করতেন। তারা সে সময় খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। তাদের দেখে আমার রাজনীতিতে আসা। ছোট থেকেই পত্রিকা পড়ার অভ্যাস ছিল। সেখানে ঢাবি, মধুর ক্যান্টিন ও ছাত্ররাজনীতি, নব্বইয়ের ইতিহাস নিয়ে লেখাগুলো পড়তাম। এগুলোতে অনুপ্রাণিত হয়েই আমি ছাত্ররাজনীতিতে আসি। পরবর্তীতে এইচএসসি মুক্তাগাছার শহিদ স্মৃতি কলেজে ভর্তি হই। সেখানে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের রাজনীতির মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিল। সেখানে বিজ্ঞান বিভাগে আমি নির্বাচিত সভাপতি ছিলাম।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছাত্রদের ভূমিকা অপরিসীম। ছাত্র নেতৃত্ব থেকে জাতীয় নেতৃত্বের দিকে যায়। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
আমি অনেক ধাপ পাড়ি দিয়ে এখানে এসেছি। আমার এখন পূর্ণ মনোযোগ ছাত্ররাজনীতি নিয়ে। আমি যখন ঢাবির আহ্বায়ক ছিলাম তখন এক ধরনের বাস্তবতা ছিল। বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ছাত্রলীগের হামলা, পুলিশের হামলা-মামলা, নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। বাসায় রেইড দিয়েছে, আড্ডা দিতে পারতাম না। আমার বাসা থেকে আমাকে গ্রেফতার করেছে। পরবর্তীতে যখন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দায়িত্ব পাই, তখনও খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনটাই সবসময় মাথায় ছিল। জুলাই-আগস্টের পরের বাস্তবতায় এখন আমার মূল দায়িত্ব সারা দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রপাগান্ডা মোকাবিলা করা। ছাত্রদল যে সততা-নীতি নিয়ে ছাত্ররাজনীতি করে সভাপতি হিসেবে সেটি প্রমাণের দায় আমার রয়েছে। ছাত্রদলকে একটি শক্তিশালী অবস্থায় রেখে আমি বিদায় নিতে চাই। এই পদে থেকে এখনও জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভাবছি না। এটি সম্পূর্ণ দলের ওপর নির্ভর করবে। দল যে সিদ্ধান্ত দেবে তা আমি মেনে নেব।
আওয়ামী আমলে আপনার ওপর নির্যাতনের মাত্রা কেমন ছিল? মামলা কতগুলো ছিল?
আমার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৫৬টি মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে। অধিকাংশেরই চার্জশিট হয়ে গেছে। জেলে গেছি পাঁচবার। এই পাঁচবারে এক বছরের মতো জেল খাটতে হয়েছে।
শিবিরের সঙ্গে আপনাদের পলিটিক্যাল লিয়াজোঁ ছিল ১২ বছর। কিন্তু সম্প্রতি ছাত্রদল-শিবির মুখোমুখি অবস্থানে। দূরত্বও বেড়েছে। এর পেছনের কারণ কী?
শিবিরের সঙ্গে আমাদের কখনো জোট বা আদর্শিক জোট ছিল না। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির একটি নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক জোট ছিল। শিবিরের সঙ্গে সবসময় আমাদের একটা দূরত্ব ছিল। এখানে মূল সমস্যাটা হলো, তারা প্রকাশ্য রাজনীতি করতে চায় না। সাধারণ ছাত্রদের মাঝে থেকে ছোট ছোট ইস্যুকে তারা বড় করে। এটি করে ছাত্ররাজনীতিকে বিভ্রান্ত করা হয়। তারা জুলাই-আগস্টের পর থেকে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে একটা অবস্থা দাঁড় করাতে চায়। যতদিন তাদের এই ধারণা বজায় থাকবে ততদিন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তাদের দূরত্ব থাকবে।
প্রাইমএশিয়ার ছাত্র পারভেজ মারা গেছে প্রেম-ভালোবাসাকেন্দ্রিক ব্যক্তিগত ইস্যুতে। তা হলে এটিকে পলিটিক্যাল ইস্যু করা হচ্ছে কেন?
এটি নারীঘটিত বিষয় এমন না। দুজন শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে ইঙ্গিতপূর্ণ হাসিকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি হয়েছে, তারা এটি বলেছে। এ রকম একটি তুচ্ছ বিষয়ে একা পেয়ে হুমকি দিয়ে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তারা আগেই বলেছে ১০ থেকে ১৫টি লাশ ফেলে দেবে। এই জোরটা তারা কোথায় পেয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ব্যানার থেকে পেয়েছে। ঢাকা শহরে অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে কি এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে? তাদের (বৈষম্যবিরোধী) এটি স্বীকার করতে হবে যে, আমাদের অপরাধ রয়েছে। সে (বৈষম্যবিরোধী নেতা) উপস্থিত ছিল। তারা এটিকে যেভাবে ডিফেন্ড করছে, তাতে অপরাধকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ছাত্রদলের কেউ অপরাধ করলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিই, নিচ্ছি। ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের কেউ অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী তার ব্যবস্থা হবে। কিন্তু নাটোরে ছাত্রলীগের একজনকে রিকশায় ঘোরানোর কারণে ছাত্রদলের কমিটি ভেঙে দিয়েছি। আমরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। কিন্তু অন্য সংগঠন তাদের কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।
ঢাবি ছাত্রদল সভাপতি সাহস বলেছে, ‘তথাকথিত জুলাই আন্দোলন’। এ ব্যাপারে আপনাদের সাংগঠনিক অবস্থান কী?
তার পুরো বক্তব্য শুনলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। সে জানিয়েছে, অনাকাক্সিক্ষতভাবে এটি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বক্তব্য সে পরিষ্কার করেছে যে, অসাবধানতাবশত, অসতর্কতাবশত এটি হয়েছে। তার জন্য সে দুঃখ প্রকাশ করেছে। এটি সংগঠনের বক্তব্য না, তার ব্যক্তিগত বক্তব্য।
যে ছাত্রদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করেছেন, তাদের সঙ্গে আপনাদের দূরত্ব বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে। এমনটা কেন হচ্ছে?
আমি বিশ্বাস করি, সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে কখনোই দূরত্ব ছিল না। আমি যতদিন রয়েছি এবং আগামীতেও ছাত্রদের সঙ্গে দূরত্ব হবে না। কারণ ছাত্রদলের ইতিহাসে বাংলাদেশ ও রাষ্ট্রবিরোধী ফ্যাসিস্টের মতো করে ছাত্রদল ক্যাম্পাসে কখনো অবস্থান নেয়নি। হয়তো ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ছিল, এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। সেগুলো করতে গিয়ে নানা বিষয় উঠে এসেছে। সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন করতে পারবেন, কিন্তু বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য, বিতর্কিত করার জন্য ফ্যাসিবাদ কায়েম করার জন্য, ভোট চুরি করার জন্য কখনো ছাত্রদল ভূমিকা পালন করেনি।
ছাত্রদলের অভ্যন্তরে মাঝেমধ্যেই মতপার্থক্য, গ্রুপিং ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের অভিযোগ শোনা যায়। তৃণমূলে ঐক্যের এই সংকট কীভাবে সমাধান করবেন?
অতীতে যখন ছাত্রলীগের সাদ্দাম-ইনান ছিল, তারা কোনো ঘটনা ঘটলেই বলে দিত এটি ছাত্রদলের গ্রুপিং। গত ৯ মাসে আমরা প্রমাণ করেছি আমাদের কোনো গ্রুপিং নেই। প্রতিযোগিতা রয়েছে। সেটিও দৃশ্যমান নয়।
আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ রাজপথে নেমে মিছিল করছে। এ ব্যাপারে ছাত্রদলের অবস্থান কী?
এর জন্য পুরোপুরি দায় নিতে হবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে এবং অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা দুই উপদেষ্টাসহ জুলাই আন্দোলন পরবর্তীতে রাজনৈতিক দল হিসেবে সরকারে থেকে অথবা বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োগ পেয়ে যারা সুফল ভোগ করছে, তাদের দায় বহন করতে হবে। তাদের এদিকে এখন আর মনোযোগ নেই। একটি জায়গায় রয়েছে, ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে পারলে সেই নেতাকর্মীগুলো তাদের দলে যোগ দেবে। এ চিন্তায় তারা রয়েছে। এই চিন্তা থাকলে কখনোই আওয়ামী লীগের মিছিল বন্ধ করতে পারবেন না।
আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে?
জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ব্যানারে যারা অগ্রভাগে ছিল, তাদের আমরা সহযোগিতা করেছি। আমার মনে হয় বর্তমান সরকার যদি কোনো ভুল না করে এবং বৈষম্যবিরোধী ব্যানারে যে দল গঠন করেছে ক্ষমতায় নিয়ে আসার জন্য বা ক্ষমতার কাছে রাখার জন্য যদি তারা কোনো ঐতিহাসিক ভুল না করে তা হলে এ দেশে আওয়ামী লীগের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।

মেরাদিয়ায় এবার বসবে না গরুর হাট’

রাজধানীর বনশ্রীর মেরাদিয়ায় এবার গরুর হাট বসানো যাবে না বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) কাজী জিনাত হক ও আইনুন নাহার সিদ্দিকার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এলপিজির দাম ১২ কেজিতে বাড়ল ১১ টাকা

দেশে ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ১২ কেজিতে এবার ১১ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

রোববার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে নতুন দর কার্যকর হবে।

এর আগে টানা তিন মাস এলপিজির দাম কমেছিল। তবে গত মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারে ৩ টাকা বেড়েছিল।

বিইআরসি থেকে পাঠানো  সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়, আগস্টের জন্য প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দর নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩৭৭ টাকা। গত জুলাইয়ে দাম ছিল ১ হাজার ৩৬৬ টাকা।

বিইআরসি প্রতি মাসেই এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। বিইআরসির নতুন দর অনুযায়ী, বেসরকারি এলপিজির মূল্য সংযোজন করসহ (মূসক/ভ্যাটসহ) দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ১১৪ টাকা ৭৯ পয়সা, যা গত মাসে ছিল ১১৩ টাকা ৮৬ পয়সা। এই হিসাবে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে।

ড. ইউনূসের সঙ্গে হলিউড অভিনেতার সাক্ষাৎ

০
আর্থনা শীর্ষ সম্মেলন ২০২৫-এ অংশ নিতে কাতারের দোহায় গেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন হলিউডের নামী অভিনেতা ইদ্রিস এলবার।
মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে শেয়ার করা দুটি ছবিতে দেখা যায়, ড. ইউনূসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কুশলাদি করছেন ইদ্রিস এলবার। এ সময় অভিনেতাকে বেশ হাস্যজ্বল দেখা যায়, চেহারায় ফুটে ওঠে অভিনেতার অকৃত্রিম আন্তরিকতা।
সেই পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস অভিনেতা ইদ্রিস এলবারের সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত মুহূর্ত ভাগ করে নিয়েছেন।’
গত সোমবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে নয়টার দিকে কাতারের দোহায় পৌঁছান ড. ইউনূস। মঙ্গলবার ও বুধবার- দুইদিনব্যাপী চলছে সেই সম্মেলন। এরই মধ্যে এক ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে নিলেন ইদ্রিস। তবে দোহায় কেন অবস্থান করছিলেন এই ব্রিটিশ অভিনেতা, তা জানা যায়নি।
জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘দ্য অয়্যার’-এ স্ট্রিঙ্গার বেল চরিত্রে এবং বিবিসির ‘লুথার’-এ জন লুথার চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হন ইদ্রিস এলবার। এছাড়া ২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ম্যান্ডেলা: লং ওয়াক টু ফ্রিডম’ সিনেমায় দক্ষিণ আফ্রিকার মহান নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার চরিত্রে অভিনয় করে বেশ সাড়া ফেলেন ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত এই অভিনেতা।
সেরা মিনি ধারাবাহিক বা টেলিচলচ্চিত্র অভিনেতা বিভাগে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের জন্য চারবার মনোনয়ন লাভ করেন এবং একটি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার অর্জন করেন এই অভিনেতা।

মা পদক পাচ্ছেন ডলি জহুর

০
দেশের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ডলি জহুর এক জীবনে নানা রকম স্বীকৃতি ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এবার তিনি পেতে যাচ্ছেন মা পদক। আগামী ১১ মে বিশ্ব মা দিবসে তার হাতে মা পদক তুলে দেয়া হবে।
২০২২ সাল থেকে নিয়মিতভাবে প্রতিবছর মা পদক প্রদান করা হচ্ছে। এই পদকের প্রধান উদ্যোক্তা সাংবাদিক অভি মঈনুদ্দীন। আলী-রূপা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মাদিহা মার্সিহা অ্যাডভারটাইজিং-এর আয়োজনে এটি দেয়া হয়।

এবার পুরস্কারটি পেতে যাচ্ছেন জেনে আনন্দিত ডলি জহুর। তিনি বলেন, ‘এর আগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননাসহ বাংলাদেশের বহু সংগঠন থেকে আমি বহুবার পুরস্কৃত হয়েছি। কিন্তু চলচ্চিত্রে কিংবা নাটকে মায়ের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য কখনো এমন পুরস্কারে ভূষিত হইনি। যে কারণে এই পুরস্কারটি আমার কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। আয়োজকদের ধন্যবাদ।’

আগের মতো আর অভিনয়ে পাওয়া যায় না এই অভিনেত্রীকে। জানালেন, ‘আমার শরীরটা এই মুহুর্তে ভালো নেই খুব একটা। তারপরও আমি ভালো কাজ পেলে করতে চাই। আজীবন অভিনয়ই করে যেতে চাই। সবার দোয়া চাই যেন আরো কিছু ভালো ভালো গল্পের নাটকে, সিনেমায় কাজ করে যেতে পারি।’
প্রসঙ্গত, এর আগে শুধু মা চরিত্রে অভিনয়ের জন্যই মা পদক ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪-এ ভূষিত হয়েছিলেন শবনম, দিলারা জামান ও আনোয়ারা।

‘আপনারা আইছইন দেখবার লাগি, ভালা লাগছে’

০
লাল সবুজের জার্সিতে খেলতে সোমবার নিজ দেশে এসেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ইংলিশ ফুটবলার হামজা চৌধুরী। সিলেট থেকে নিজ গ্রাম হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার স্নানঘাটে পৌঁছার পর সেখানে তাকে দেওয়া হয়েছে সংবর্ধনা।
সোমবার বিকাল ৩টা ৩৫ মিনিটে নিজের পিত্রালয়ে পৌঁছান হামজা চৌধুরী। পরে বাড়ির পার্শ্ববর্তী মাঠেই আনুষ্ঠানিকতা সারেন স্নানঘাট গ্রামবাসী।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরী ও হবিগঞ্জ-১ আসনের সাবেক এমপি, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য শেখ সুজাত মিয়া।
এ সময় হামজা চৌধুরী সিলেটি ভাষায় বলেন, ‘আপনারা সব যে আইছইন আমারে দেখবার লাগি, আমার ভালা লাগছে।’ পরে তিনি ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে শ্লোগানও দেন।
সোমবার যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার থেকে হামজা চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি বোয়িং বেলা পৌনে ১২টার দিকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। হামজার অবতরণের পর তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। হামজার আগমনকে কেন্দ্র করে বিমান বন্দরের আশেপাশে বিরাজ করছিল উৎসব মুখর পরিবেশ।
হামজা চৌধুরী তার স্ত্রী, সন্তান, মা ও ভাইদের নিয়ে বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে পিত্রালয় হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার স্নানঘাট গ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। যাত্রাপথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে ইংলিশ ফুটবলারকে ফুলেল শুভেচছা জানান ভক্ত-অনুসারীরা। তার আগমনকে ঘিরে নিজ এলাকায় পথে পথে মানুষের ঢল ছিল চোখে পড়ার মতো।
এদিকে, হামজা চৌধুরী ও তার পরিবারের নিরাপত্তাসহ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করছে বাফুফে।
আগামী ২০ মার্চ ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে খেলতে জাতীয় দলের সঙ্গে দেশ ছাড়বেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৫ মার্চ ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হবে তার।

রাতের ফ্লাইটে ইংল্যান্ডে যাচ্ছেন তাসকিন

০
গোড়ালির পুরানো ইনজুরিতে ভুগছেন তাসকিন আহমেদ। এই কারণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে ডানহাতি এই পেসারকে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পাঠানো হচ্ছে ইংল্যান্ডে। আজ রবিবার রাত আটটার ফ্লাইটে ইংল্যান্ডে যাচ্ছেন এই পেস সেনসেশন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী।
আগামী ২৯ এপ্রিল তাসকিনের জন্য যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রফেসর জেমস ক্যাল্ডারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া হয়েছে। পা ও গোড়ালির চিকিৎসার জন্য বিখ্যাত ক্যাল্ডার একজন অর্থোপেডিক সার্জন। তাসকিনকে ইংল্যান্ডে সঙ্গ দেবেন দেবাশীষ, তবে তিনি যাবেন সোমবার রাতে। তাসকিনের এই ইনজুরি থেকে শতভাগ মুক্তি পেতে আরও উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যেই তাকে বাইরে পাঠানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ জানিয়েছেন, ‘আগামী ২৯ এপ্রিল তাসকিনের জন্য ইংল্যান্ডের অর্থোপেডিক সার্জন জেমস ক্যাল্ডারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া আছে। তার পরামর্শ অনুযায়ী পরের ধাপ অনুসরণ করা হবে। তাসকিনের সঙ্গে আমিও থাকবো।’
যদিও বেশ কয়েক সপ্তাহ পুরো বিশ্রাম শেষ হওয়ার পর তাসকিন চোট পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যাচ্ছিলেন। গত তিনদিন মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ছোট রানআপে অনুশীলন করেছেন। বোলিংয়েও খুব একটা গতি ছিল না।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে ফেরার পর চলমান ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডানের জার্সিত তিনটি ম্যাচ খেলেছেন বাংলাদেশের এই তারকা পেসার। রূপগঞ্জ ও গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে তিনটি করে উইকেট নিয়েছিলেন এই পেসার। আর ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবের বিপক্ষে নিয়েছিলেন দুটি উইকেট। তবে এরপর থেকেই মাঠের বাইরে আছেন তিনি।

বোতলজাত সয়াবিন তেলের চূড়ান্ত দাম নির্ধারণ

প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম খোলা বাজারে লিটারপ্রতি ১৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন।
আজ মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) ভোজ্যতেলের আমদানি ও সরবরাহসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
এর আগে, গত ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছিল, প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৪ টাকা বাড়িয়েছে ভোজ্যতেল মিলমালিকেরা। এর ফলে বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম এখন ১৮৯ টাকা, যা আগে ১৭৫ টাকা ছিল।
নতুন ঘোষণা অনুসারে পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের বোতলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯২২ টাকা, যা আগে ছিল ৮৫২ টাকা।
অপরদিকে, বোতলজাত তেলের পাশাপাশি খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১৬৯ টাকা, যা আগে ছিল ১৫৭ টাকা।
এর আগে, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর সর্বশেষ বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন লিটারপ্রতি দাম নির্ধারণ করা হয় ১৭৫ টাকা।

চালের দাম নিয়ে এবার নতুন দুঃসংবাদ

অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কেজিতে চার টাকা বেশি দামে ধান-চাল ক্রয় করছে সরকার। সরকারের বেশি দামে কেনার কারণে বাজারে চালের দাম কিছুটা বাড়বে বলে জানিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।
আজ বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে ধান সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে খাদ্য উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, ধান-চাল ক্রয় নিয়ে কোনো সিন্ডিকেট আর হবে না, হতে দেবে না সরকার। কৃষকের স্বার্থে বিগত বছরের চেয়ে বেশি দামে ধান ও চাল কিনছে সরকার।
তিনি বলেন, বিগত আমন ধান সংগ্রহ অভিযানে কোনো সিন্ডিকেট ছিল না, বোরো সংগ্রহেও কোনো সিন্ডিকেট থাকবে না। বিগত সরকারের আমলে কী হয়েছে, না হয়েছে তা আমার জানা নেই। তবে এখন কোনো সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব থাকবে না।
সরকারি সভার মাধ্যমে অনেক বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করে ধান-চালের মূল্য নির্ধারণ করা হয় বলে জানান উপদেষ্টা।
সরকার প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা ও চাল ৪৯ টাকা কেজি দরে কিনবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বাজারে চালের মূল্য কিছুটা বাড়তে পারে। কৃষক পরিশ্রম করে ধান উৎপাদন করে তাদের উপযুক্ত মূল্য দিতে না পারলে কৃষক ধান চাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। এতে কৃষক লাভবান হবেন বলেও জানান তিনি।
জানা গেছে, এবার সুনামগঞ্জে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৬৪৫ মেট্রিক টন। ৩৬ টাকা কেজি দরে ১ হাজার ৪৪০ টাকা মণ ধান সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কিনবে সরকার।

৭৬ বছরের আওয়ামী লীগের হাল ধরতে এগিয়ে আসছে না কেউ!

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ঢাকায় তাদের দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য লোক খুঁজছে। দলটি এখন দেশের ভেতরে রাজনীতিতে সক্রিয় অবস্থান তৈরির বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানাচ্ছেন এর নেতারা।

কিন্তু বিপর্যস্ত দলটি এখন আকস্মিক ঝটিকা মিছিল এবং সামাজিক মাধ্যমের ওপর ভর করে এগোচ্ছে; এর বাইরে বড় কোনো কর্মসূচি নিয়ে রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার মতো তাদের সাংগঠনিক অবস্থা এখনও হয়নি।

অন্যদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ও ফ্যাসিবাদের তকমা এড়িয়ে দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের সহসাই ফেরত আসা সম্ভব কি না, এই প্রশ্নও রয়েছে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগ প্রায় ৭৬ বছর বয়সে আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় এবার বেশি সংকটে পড়েছে।

গত বছরের পাঁচই অাগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের পতনে শেখ হাসিনাসহ সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য বা দলটির নেতৃত্বের একটা বড় অংশ দেশ ছেড়ে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন।

আর দেশের ভেতরে নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েন বিপর্যস্ত দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

তাদের কাছে কোনো দিকনির্দেশনা ছিল না। তাদের অনেকেই বলেছেন, সে সময় প্রথমে তাদের কাছে জীবন বাঁচানোই প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাদের অনেকে দেশের ভেতরেই পালিয়ে বেরাচ্ছেন। অনেকে গ্রেফতার হয়েছেন।

এখন দলটির সরকারের পতনের আট মাস পার হলেও দেশে থাকা তাদের কোনো নেতা হাল ধরতে বা ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি।

ভারত এবং পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন, আওয়ামী লীগের এমন কয়েকজন নেতা বলেছেন, তাদের শীর্ষ নেতা শেখ হাসিনাসহ তারা এখন মনে করছেন, দেশের ভেতরে দলের মুখপাত্র বা নেতা প্রয়োজন, যিনি আত্মগোপনে না থেকে প্রকাশ্যে এসে বিপর্যস্ত নেতাকর্মীদের সংগঠিত করবেন।

তাদের এমন চিন্তায় সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর নাম রয়েছে।

কিন্তু গ্রেফতার, মামলার ভয়ে এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাদের কেউ এখনও সাহস করে এগিয়ে আসেননি। সেভাবে বিতর্কিত নন, দলটির এমন অন্য কোনো নেতা এগিয়ে আসবেন, সে ধরনের ইঙ্গিতও নেই।

যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপে রয়েছেন, এমন একাধিক নেতার বক্তব্য হচ্ছে, তাদের দল ঢাকায় মুখপাত্র বা কোনো পদ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নেতার নাম ঘোষণা করতে চাইছে না। কারণ কারও নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলেই তাকে মামলা, গ্রেফতারের মুখে পড়তে হতে পারে। এটি তাদের বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ নেতারা অভিযোগ করছেন, ঢাকা থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার বাড়ানো হয়েছে।

সেজন্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনাও সম্প্রতি বলেছেন, দেশের ভেতরে যারা সাহস নিয়ে এগিয়ে এসে দলকে সংগঠিত করার কাজে নেতৃত্ব দেবেন, তারাই নেতা। তবে কেউ এখনও সেই সাহস দেখাননি।

‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ বিষয়ে দলটির চিন্তা কী?

রাজনীতিতে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ বিষয়ে একটা আলোচনা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের কেউ কেউ বিভিন্ন সময় এমন ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যও দিয়েছেন।

তবে আওয়ামী লীগের ভেতরে এ ধরনের কোনো চিন্তা নেই বলে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে বোঝা যাচ্ছে। বরং দলটি এ ধরনের আলোচনাকে তাদের দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে।

দলটির শীর্ষ নেতাসহ বিদেশে অবস্থান করা কয়েকজন নেতা বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তারা এমনও বলেছেন যে, রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের কথা বলে তাদের দল ভাঙার ‘ষড়যন্ত্র’ করা হচ্ছে।

যদিও রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ নিয়ে যে আলোচনা রয়েছে, তাতে সাবের হোসেন চৌধুরী এবং সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর নাম এসেছে। এখন আওয়ামী লীগ যে নেতা খুঁজছে, তাতেও সাবের হোসেন চৌধুরীর নাম বলছেন বর্তমানে বিদেশে থাকা দলটির নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ।

তবে অন্তর্বর্তী সরকার বা তাদের ঘনিষ্ঠ কোনো পক্ষ থেকে যখন কারও নাম বলা হচ্ছে বা দলটির রাজনীতি নিয়ে কোনো বক্তব্য মাঠে ছাড়া হচ্ছে, তখন সেটাকে ভিন্নভাবে দেখছে আওয়ামী লীগ।

‘শেখ হাসিনার বিকল্প ভাবছে না আওয়ামী লীগ’

দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় অবস্থানে ফিরতে আওয়ামী লীগ তাদের নেতৃত্ব তৈরির চেষ্টা করছে, কিন্তু তা বিকল্প নেতৃত্ব নয়।

দলটি তাদের নেতা শেখ হাসিনার বিকল্প অন্য কাউকে চিন্তা করছে না, এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। বিদেশে অবস্থান করা অন্তত পাঁচজন এবং দেশে আত্মগোপনে থাকা চারটি জেলার নেতাদের সঙ্গে কথা বললে তারা ওই অবস্থান তুলে ধরেন।

সেখানে দেশের ভেতরে নেতা খোঁজার বিষয়টি এসেছে প্রয়োজনের তাগিদে। কারণ আওয়ামী লীগ দাবি করছে, বিদেশে অবস্থান করা নেতাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরছেন।

এমনকি দেশের ভেতরে আত্মগোপনে বা পালিয়ে থাকা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও এখন যোগাযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। আর এই যোগাযোগের ভিত্তিতে দিবসভিত্তিক ঝটিকা মিছিলের কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হচ্ছে।

এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা বেশ সক্রিয় হয়েছেন।

তবে শেখ হাসিনাসহ বিদেশ অবস্থান করা দলটির অনেক নেতার বক্তব্য বিভিন্ন সময় বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের জন্যও অনেক ক্ষেত্রে বিপদ বাড়িয়েছে। এমন আলোচনা রয়েছে রাজনীতিতে।

এছাড়া বিদেশে থেকে দলের নেতৃত্ব হয়ত তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে মাঝেমধ্যে ঢাকায় বা ঢাকার বাইরে কোনো কোনো জেলায় ঝটিকা মিছিল করাতে সক্ষম হচ্ছেন।

দলটির নেতারা দাবি করছেন, তাদের এসব মিছিল ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। কিন্তু সেটা রাজনীতিতে কতটা প্রভাব তৈরি করছে, সেই প্রশ্ন রয়েছে।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দেশের ভেতরে দলকে সংগঠিত করার নেতৃত্ব তৈরির তাগিদ অনুভব করছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু তা শীর্ষ নেতৃত্বের বিকল্প নয়।

দেশে দলের কর্মকাণ্ডে কোনো নেতা এগিয়ে এলে তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বা নির্দেশনা মেনে চলবেন, এটাই দলটির অবস্থান।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম বিবিসি বাংলাকে বলেন, বিপর্যস্ত দলের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে শেখ হাসিনাই নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে তাদের দলের কোনো পর্যায়ে ভিন্ন কোনো চিন্তা নেই।

ক্ষমা, অনুশোচনার প্রশ্নে এখনও ‘না’

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দমননীতি ও হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমা চায় বা অনুশোচনা করে, তাহলে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরতে পারে, এমন একটা আলোচনা রয়েছে রাজনীতিতে। সরকারেরও কেউ কেউ এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

তবে ক্ষমা চাওয়ার কোনো চিন্তা দলটিতে এখনো নেই। তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা আছে, এমন ইঙ্গিতও পাওয়া যায় না। বরং তারা এখনও ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ নিয়েই আছেন।

বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। সেটা আমলে নিচ্ছে না আওয়ামী লীগ।

দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এখন বিদেশে অবস্থান করছেন। তিনি বিবিসিকে বলেন, তাদের সরকারের পতনের আগে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সব হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার তারা চান।

কিন্তু অনুশোচনার প্রশ্নে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে। এজন্য অন্য কোনো পক্ষের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার বিষয় নেই বলে উল্লেখ করেন মি. আরাফাত।

বিদেশে অবস্থান করা দলটির আরেকজন নেতা জানান, পরিস্থিতি সামলাতে তাদের কিছু ভুল ছিল, এমন আলোচনাও তাদের মধ্যে আছে। দলগতভাবে অবশ্য তারা এখনও কিছু বলেননি।

এই নেতা উল্লেখ করেন, তাদের দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ এখনও হয়নি। তারা এখন পরিকল্পনার মাধ্যমে এগোতে চাইছেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তুলে ধরার বিষয় নিয়েও তারা আলোচনা করছেন।

বিশ্লেষকেরা বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন ভিন্নভাবে। তারা বলছেন, বাংলাদেশে ভুলের জন্য দলীয়ভাবে ক্ষমা চাওয়া বা অনুশোচনা করার সংস্কৃতি নেই। এর আগে কোনো দল তা করেনি।

আমেরিকান পাবলিক ইউনিভার্সিটি সিস্টেম- এর শিক্ষক সাঈদ ইফতেখার আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘এখন আওয়ামী লীগও সে পথে হাঁটবে না।’

দলটি তাদের ন্যারেটিভ এবং অবস্থান নিয়েই রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে মনে করেন তিনি।

নির্বাচনে অবস্থান কী হবে?

এখন বিএনপিসহ সক্রিয় বেশিরভাগ দল নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে কি না?

কারণ গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের নতুন দল এনসিপিসহ কয়েকটি দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি করছে।

আর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলে দলটির অবস্থান কী হবে, এ নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ভেতরে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে অবস্থান দেখা যাচ্ছে।

দলটির একাধিক নেতা বলছেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া তাদের দলের জন্য আত্মঘাতী হবে, এই আলোচনা তাদের মধ্যে রয়েছে।

তারা অবশ্য রাজনীতিতে ফিরতে নির্বাচনের সময়কে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে চান। তারা মনে করেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়লে সরকারকে সব দলের জন্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আর তা হলে আওয়ামী লীগের জন্য সুযোগ আসতে পারে।

কিন্তু দল নিষিদ্ধ করার বিষয় এলে আওয়ামী লীগ তখন ঝুঁকি নিয়েই কর্মসূচিতে মাঠে থাকার চেষ্টা করবে।

কেন আত্মঘাতী মনে করছে আওয়ামী লীগ

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত দলটির নেতাকর্মীরা এলাকা ছাড়া হয়েছেন।

নির্বাচনের সময় যদি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ তৈরি হয়, হয়ত ঢাকায় দলের কর্মসূচি পালন করা যেতে পারে।

কিন্তু দলের নেতাকর্মীরা এলাকায় ফিরতে পারবেন, সেই নিশ্চয়তা নেই বলে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন।

তারা বলছেন, যে সব দল এখন রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে, এগুলোর মধ্যে বিএনপিসহ বেশিরভাগ দলই তাদের প্রতিপক্ষ।

ফলে সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করবে। গত কয়েক মাসের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনায় তাদের এমন ধারণা হয়েছে।

এছাড়াও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে বিচার নির্বাচনের আগে শেষ করার একটা চেষ্টা রয়েছে।

এমন বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকে নির্বাচনে তাদের দলের অংশগ্রহণকে আত্মঘাতী হিসেবে দেখছেন।

সহসাই রাজনীতিতে ফেরা কি সম্ভব?

গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতৃত্ব, অন্তর্বর্তী সরকার, এখনকার সক্রিয় প্রায় সব দল আওয়ামী লীগ বিরোধী অবস্থানে রয়েছে। দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবিও আছে।

দলটির নেতাদেরই অনেকে মনে করছেন, তারা এখন একা হয়ে পড়েছেন। কারণ তাদের মিত্র ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোরও শীর্ষ কয়েকজন নেতা জেলে রয়েছেন; অন্যরা পালিয়ে আছেন।

ওই দলগুলো নিজেরাই অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। আরেক মিত্র জাতীয় পার্টিও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছে।

আর প্রতিপক্ষ বিএনপিসহ অন্য দলগুলোর অনেক ক্ষোভ রয়েছে আওয়ামী লীগের ওপর। দলটির নেতাদেরই কেউ কেউ মনে করেন, তাদের দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের শাসনে বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের মামলা ও গ্রেফতারের মুখে রাখা হয়েছিল।

ফলে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দিক থেকে কোনো সমর্থন পাচ্ছে না।

এ বিষয়টি যেমন রয়েছে, একইসঙ্গে দলটির সাংগঠনিক অবস্থাও শক্তিশালী নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাঈদ ইফতেখার আহমেদ মনে করেন, আওয়ামী লীগের শাসনে দলটি রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। দলে সুবিধাবাদীদের ভিড় বেড়েছিল। তারা এখন সরে পড়েছেন।

অন্যদিকে দুর্নীতির অভিযোগ এতটাই প্রকটভাবে এসেছে যে, তা দলটির ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলেছে।

এরপরও যদিও আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, তারা পরিকল্পনার মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে রাজনীতির মাঠে নিজেরাই নিজেদের জায়গা করে নেবেন।

কিন্তু বিশ্লেষক মি. আহমেদ মনে করেন, পুরো পরিস্থিতিই যখন বিপক্ষে, তখন মানুষের আস্থা অর্জন করে সহসাই রাজনীতিতে ফেরা বা ভাল অবস্থান তৈরি করা আওয়ামী লীগের জন্য বেশ কঠিন।