Home Blog Page 471

হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কে ভারতের উদ্বেগ

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান সম্প্রতি বৈঠক করেছেন।

এটি ছিল লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানের পাকিস্তানের রাজধানী সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এ সময় তিনি পাকিস্তানের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তার সাথেও সাক্ষাৎ করেন।

মঙ্গলবার জেনারেল আসিম মুনির ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানের এই বৈঠক সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া শাখা উভয় দেশকে ‘ভ্রাতৃপ্রতীম জাতি’ হিসেবে বর্ণনা করে।

পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ আলাদা হওয়ার পর গত ৫৪ বছরের বেশিরভাগ সময় ধরে ঢাকা ও ইসলামাবাদ তাদের সম্পর্ককে এভাবে দেখেনি।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে দু’দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরো গভীর হয়। গণবিক্ষোভের পর আগস্ট মাসে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা প্রতিবেশী দেশ ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

কিন্তু হাসিনার বিদায়ের পর থেকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ একে অপরের আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দৃশ্যত তা এমন এক সময়, যখন উভয় দেশের রাজনীতিতে ভারত-বিরোধী মনোভাব বিরাজ করছে, যা ইসলামাবাদ ও ঢাকার মধ্যে ঐতিহাসিক শত্রুতাকে ছাপিয়ে গেছে।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জানায়, আসিম মুনির এবং এস এম কামরুল হাসান সামরিক সম্পর্ক জোরদার করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন এবং এই অংশীদারিত্বকে যেকোনো বহিরাগত বাধা থেকে মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাদের বৈঠকটি ছিল দু’দেশের মধ্যে উচ্চ-স্তরের বিনিময়ের ধারাবাহিকতার একটি।

গত মাসে মিসরের রাজধানী কায়রোতে এক আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে দেখা করেন। সেপ্টেম্বরে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদেও তারা দেখা করেছিলেন।

এদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আগামী মাসে বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১২ সালের পর এটিই প্রথম এ ধরনের সফর। বিশ্লেষকরা বলছেন যে এতে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পটভূমি পরিবর্তন হতে পারে।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান যুদ্ধের পর ১৯৭৪ সালে ভারতের সাথে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় পাকিস্তান বাংলাদেশের স্বাধীনতা গ্রহণ করে। তবে ইসলামাবাদ এবং ঢাকার মধ্যে অমীমাংসিত সমস্যাগুলো রয়েই যায়। এর মধ্যে ছিল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ-পাকিস্তান যুদ্ধে পাকিস্তানের নৃশংসতার জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়া, বাংলাদেশ থেকে উর্দুভাষী মানুষদের প্রত্যাবাসন করা, যারা পাকিস্তানি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয় এবং ১৯৭১ সালের আগের সম্পদের দু’দেশের মধ্যে ভাগাভাগি চায়।

শেহবাজ শরিফের সাথে কায়রোতে সাক্ষাতের সময় মুহাম্মদ ইউনূস পাকিস্তানকে দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা অনুসারে, মুহাম্মদ ইউনূস পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘বিষয়গুলো বারবার উঠে এসেছে। আসুন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এগুলো চিরতরে সমাধান করি।’

শেহবাজ শরিফ উত্তরে বলেন যে তিনি ‘অমীমাংসিত বিষয়গুলো’ খতিয়ে দেখবেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত আশরাফ কুরেশি আল জাজিরাকে জানান, হাসিনার ‘স্বৈরাচারী’ সরকারের প্রতি নয়াদিল্লির দীর্ঘ সমর্থনের কারণে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন ঢাকার নতুন প্রশাসনকে তাদের পদক্ষেপ পুনর্বিবেচনা করতে প্ররোচিত করেছে।

গত মাসে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ‘বিচারিক প্রক্রিয়ার’ জন্য নয়াদিল্লির কাছে হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি জানায়। হাসিনার বিরুদ্ধে তার শাসনামলে একাধিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে তার ক্ষমতাচ্যুতির আগের সপ্তাহগুলোতে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভারত সরকার এখনো এই অনুরোধের কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

অন্যদিকে, ভারত বারবার বাংলাদেশের হিন্দুদের ভাগ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যারা বাংলাদেশের ১৭ কোটি জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ এবং আওয়ামী লীগের শক্তিশালী সমর্থক। নয়াদিল্লি অভিযোগ করেছে যে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।

তবে বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে যে ভারতীয় গণমাধ্যমের মিথ্যা তথ্য দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।

আশরাফ কুরেশি জানান, ভারত হাসিনাকে নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত। তিনি বলেন, ‘ভারত হাসিনাকে সহজে হস্তান্তর করতে পারে না। কারণ এটি এই বার্তা যাবে যে ভারত তাদের সমর্থনকারী যে কাউকে ত্যাগ করতে সম্মত হতে পারে।’

তবে কিংস কলেজ লন্ডনের সিনিয়র লেকচারার ওয়াল্টার ল্যাডভিগ পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও সামরিক বিনিময়ের তাৎপর্যকে অতিরঞ্জিত করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।

উভয়েই একমত যে বাংলাদেশের ভৌগোলিক এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা ভারত-বিরোধী অবস্থানকে অসম্ভব করে তোলে, যদিও আরো স্বাধীন নীতির দিকে পরিবর্তন আসতে পারে। আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি পুনর্গঠনের জন্য উল্লেখযোগ্য নীতিগত পরিবর্তন প্রয়োজন।

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি নতুনভাবে সাজানোর প্রক্রিয়ার মধ্যেই পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আফগানিস্তানের তালেবান শাসকদের সাথে ভারতের উল্লেখযোগ্য যোগাযোগও ঘটেছে।

সম্প্রতি তালেবানের সাথে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক পাকিস্তানকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। পাকিস্তান কয়েক দশক ধরে তালেবানকে পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় এর নেতাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে।

কিন্তু গত বছর পাকিস্তানে হামলার পর তালেবানের ওপর ইসলামাবাদের প্রভাব মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেকেই তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি), যা পাকিস্তানি তালেবান নামেও পরিচিত, এর জন্য দায়ী করে।

লাডউইগ মনে করেন যে গণঅভ্যুত্থানের ফলে সাময়িকভাবে হোঁচট খেলেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে তা ইসলামাবাদকে আরো ভালো সম্পর্কের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের যত বেশি অর্থনৈতিক অংশীদার থাকবে, ততই তাদের জন্য মঙ্গলজনক। এটা ইসলামাবাদের জন্য সম্পর্ক উন্নত করার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।’

ল্যাডউইগ বিশ্বাস করেন যে বাণিজ্য এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে আগামী দিনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় পাকিস্তান সরকার একটি সুযোগ দেখতে পাচ্ছে এবং সম্পর্ক উন্নত করার সম্ভাবনা অনুভব করছে।’

সূত্র : আল-জাজিরা

সানার সঙ্গে বিবাহবার্ষিকী পালন করলেন শোয়েব মালিক

পাকিস্তানি অভিনেত্রী সানা জাভেদের সঙ্গে ২০২৪ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন শোয়েব মালিক। স¤প্রতি দুজন বিবাহবার্ষিকী পালন করেছেন। কাতারের দোহায় দুজন নিভৃতে দিনটি উদযাপন করে প্রকাশ করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
১৬ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে সানা তার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন মুহূর্তগুলো। তিনি খাবারের ছবি পোস্ট করেন, যার পেছনে শোভা পাচ্ছিল সকালের দোহা শহর। তিনি লিখেন, ‘অ্যানিভার্সারি ব্রেকফাস্ট’।
২০২৪ সালের ২০ জানুয়ারি নিজেদের বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আনেন সানা ও শোয়েব মালিক। নিজেদের বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ।’ সঙ্গে জুড়ে দেন কুরআনের একটি বাক্য, ‘এবং আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছি জোড়ায় জোড়ায়।’
শোয়েব মালিকের সানা জাভেদকে বিয়ে করার খবরটা শিরোনামে চলে এসেছিল। কারণ এর ঠিক আগেই নানা গুঞ্জনকে সত্যি প্রমাণ করে সানিয়া মির্জার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেন। গণমাধ্যমে ‘পাওয়ার কাপল’ আখ্যা পেয়ে যাওয়া ক্রিকেটার শোয়েব আর টেনিস তারকা সানিয়ার ঘরে ছিল একটি পুত্রসন্তান, ইজাহান মির্জা মালিক।
শোয়েব সে সম্পর্ক থেকে সরে এলেও সানিয়া তার মাতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছেন ভালোভাবে। ইজাহানের দেখভালের পাশাপাশি পেশাদার দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। যার ফলে নিয়মিতই তাকে ভারত আর দুবাইয়ে যাওয়া আসা করতে হচ্ছে।
ওদিকে শোয়েব তার নতুন সংসার শুরু করেছেন সানার সঙ্গে। সে সম্পর্কের এক বছর হয়েও গেল স¤প্রতি।
শোয়েব তার ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে আছেন এখন। জাতীয় দল থেকে ব্রাত্য হয়ে পড়েছেন। তবে দেশি বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলে বেড়াচ্ছেন এখনও। সবশেষ চ্যাম্পিয়ন্স টি-টোয়েন্টি কাপে তিনি খেলেছেন স্ট্যালিয়ন্সের হয়ে।

রাগটা বুঝি শুধু তামিমেরই হয়

শিরোনাম কেড়ে নেওয়ার ‘রোগ’টা সাকিব আল হাসানের ছিল এতদিন। কখন কি সব উটকো কাজ করে বসতেন, সেটারও কোনো ঠিক ঠিকানা ছিল না। যে কারণে তাকে শাস্তিও পেতে হয়েছে বহুবার।
সাকিব আল হাসান নেই এবারের বিপিএলে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে তিনি আর দেশে ফিরতে পারছেন না। যে কারণে চিটাগং কিংসের হয়েও খেলা হচ্ছে না তার। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সাকিবের সে স্বভাবটা এখন তামিম ইকবালকে পেয়ে বসেছে রীতিমতো। তামিম হরহামেশাই এখন ‘শিরোনাম’ কেড়ে নিচ্ছেন, এবং সেটা নেতিবাচক কারণে।
‘হরহামেশা’ কথাটা কিন্তু এমনিতেই বলা হয়নি এখানে। তামিমের এই নেতিবাচক কারণে শিরোনামে আসাটা গেল এক সপ্তাহে হলো দ্বিতীয় বারের মতো। ৯ জানুয়ারি রংপুরের বিপক্ষে তার দল ফরচুন বরিশাল সিলেট পর্বে সবশেষ বিপিএল ম্যাচটা খেলেছিল। এরপর ১৬ জানুয়ারি নিজেদের পরের ম্যাচে তামিমের দল মাঠে নেমেছিল ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে। এই টানা দুই ম্যাচেই তামিমকে মেজাজ হারাতে দেখা গেছে।
শুরুটা হয়েছিল রংপুর রাইডার্সের অ্যালেক্স হেলসের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে। হেলসের কথায় তামিম রেগে গিয়ে বলেছিলেন, ‘এ রকম করছ কেন? কিছু বলার থাকলে মুখে বলো। বি আ ম্যান।’ এরপর হেলসও কিছু একটা বলেছিলেন তাকে। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টা রূপ নেয় বিবাদে। পরে দুই দলের সদস্যদের মধ্যস্থতায় বিষয়টার সুরাহা হয়।
এরপর হেলস জানিয়েছিলেন, সেখানে তামিম তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছিলেন। একটি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাতকারে ইংলিশ বিশ্বকাপজয়ী বলেন, ‘আমি তাকে কিছুই বলিনি। ২০২১ সালে আমি বিয়ার পানের জন্য (ক্রিকেটে) ২১ দিন নিষিদ্ধ হয়েছিলাম, সেই প্রসঙ্গ নিয়েও সে (তামিম) কথা বলেছে। আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, যা খুবই লজ্জার ব্যাপার।’
সেদিন এই ঘটনার পর তামিম শাস্তির মুখোমুখি হয়েছিলেন। ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশিদ রাহুল তাকে দাঁড় করান কাঠগড়ায়। সেখানে তাকে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট শাস্তি দেওয়া হয়। তামিমও পরে বিষয়টা মাথাপেতে নিয়েছিলেন।
এরপর প্রথমবারের মতো তামিমের দল মাঠে নামে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি)। ঢাকার বিপক্ষে এই ম্যাচে আবারও শিরোনামে চলে আসেন তিনি। এদিক ফিফটি করে বরিশালের হয়ে সর্বোচ্চ ফিফটির রেকর্ডটা নিজের করে নেন। এই ফিফটির পথে তামিম ঢাকার সাব্বির রহমানের সঙ্গে রেগে গিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়ছিলেন আরেকটু হলেই।
গতকাল ম্যাচে বরিশাল ইনিংসের নবম ওভারে ঘটে ঘটনাটা। চতুরঙ্গা ডি সিলভার করা ওই ওভারের দ্বিতীয় বলটা তামিম লং অনে পাঠিয়ে তুলে নিয়েছিলেন একটি রান। তবে সাব্বিরের ফিল্ডিং নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন তামিম। বাউন্ডারি লাইনে সাব্বির বলটা হাতে নিতে পারেননি ঠিকঠাক। তা চলে আসে সামনে।
সেটাই তামিমের কাছে বেখাপ্পা মনে হয়। ক্রিকেটীয় পরিভাষায় যাকে ‘ফেইক ফিল্ডিং’ হিসেবে ধরা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাটার বিভ্রান্ত হয়ে রানের জন্য ক্রিজ ছাড়েন, আর তাতে রান আউটের সুযোগ তৈরি হয়। তামিমেরও তেমন কিছুই মনে হয়েছিল।
আর তাই সাব্বিরকে তিনি বলে বসেন, ‘বেশি লাগতে যায়ো না সাব্বির, বেশি লাগতে যায়ো না!’ এখানেই ক্ষান্ত হননি তামিম। সঙ্গে আরও কিছু বলেছিলেন যা ঠিক স্পষ্ট শোনা যায়নি।
প্রতিক্রিয়ায় ‘ব্যাড বয়’ সাব্বির তেড়ে আসছিলেন তামিম ইকবালের দিকে। বিষয়টা মধ্যস্থতায় এগিয়ে আসেন থিসারা পেরেরা। সাব্বিরকে থামান তিনি। ফিল্ড আম্পায়াররাও এগিয়ে আসেন। ফলে বিষয়টা আর বড় কিছুতে রূপ নেয়নি।
এখানেই শেষ নয়, বরিশালের এই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হন তামিম। তবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি কাণ্ড করে ফেলেছেন আরো একটা, এবং এটাও ওই ‘রাগ’ সম্পর্কিতই।
৪৮ বলে ৬১ রানের ইনিংসের সুবাদে তামিম পান ম্যাচসেরার পুরস্কার। তবে পুরস্কারটা যখন তুলে দেওয়ার সময় হলো হাতে, তখন তামিমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তার পুরস্কারটা নিতে গেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে তার যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি যেতে পারেননি। পরে সঞ্চালক বললেন, ‘তামিম এখানে নেই, তার বদলে আছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।’
পরে বরিশাল সূত্র নিশ্চিত করে, আসলে কারণটা তামিমের বিরক্তি। তিনি যখন ওখানে ছিলেন, তখনও পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে আসেননি বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ। তার আসতে কিছুটা সময় লেগেছে। তামিম তাতেই অধৈর্য হয়ে রেগেমেগে সে জায়গা ছেড়ে চলে যান ড্রেসিং রুমে।
তামিম অবশ্য মাঠের ক্রিকেট দিয়েও শিরোনাম কেড়ে নিচ্ছেন। প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে ৮০০০ টি-টোয়েন্টি রান করেছেন। ৬ ইনিংসে ২২২ রান করে তিনি আছেন শীর্ষ রান সংগ্রাহক হওয়ার দৌড়েও। তবে অক্রিকেটীয় যেসব কারণে তিনি ‘খবর’ হচ্ছেন তা সেসব ঢেকে দিচ্ছে পুরোপুরি। আর একটা বার্তাও দিচ্ছে– রাগটা বুঝি স্রেফ তারই হয়, আর কারো নয়!

পালটা-পালটি দাবির পর এবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিশ্চিত করলেন নেতানিয়াহু

পালটা-পালটি দাবির পর অবশেষে হামাসের সঙ্গে দোহায় যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, এ নিয়ে শুক্রবার নিরাপত্তাসংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকে চুক্তির ওপর ভোটাভুটি হবে।
শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইসরাইল।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) হামাস ও ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির চুক্তির কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার। তবে নেতানিয়াহু দাবি করেন, হামাস চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করতে চাচ্ছে। আলোচনা শেষ মুহূর্তে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র এবং কাতার চুক্তির ঘোষণা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর নেতানিয়াহুর এই বিবৃতি আসে। তিনি অভিযোগ করেন, মন্ত্রিসভা বৈঠক করবে না যতক্ষণ হামাস পিছু না হটে।
তবে নেতানিয়াহুর এই দাবি উড়িয়ে দেয় হামাস। তবে গোষ্ঠীটি নিশ্চিত করে, তারা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং ইসরাইলি প্রত্যাহার না হলে বাকি জিম্মিদের মুক্তি দেবে না।
টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, হামাসের সঙ্গে সাক্ষরিত চুক্তি পাশ করতে আগামীকাল শনিবার রাতে মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। নেতানিয়াহুর মুখপাত্র ব্যাখ্যা করে বলেছেন, চুক্তি বিরোধীতাকারীদের হাইকোর্টে পিটিশন দাখিলের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময় দেওয়া জরুরি। আর শুক্রবার বিকেলে বৈঠক করলে, সাব্বাথ পালনকারী ধর্মীয় সদস্যরা পর্যাপ্ত সময় পাবেন না। তবে নেতানিয়াহু শুক্রবার এই বৈঠক করতে পারলে, শনিবার সরকারিভাবে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি চুক্তি পাশ হবে।
সাব্বাথ ইহুদি ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিবস মনে করা হয়, যা প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পালন করা হয়। এই সময়ে ইহুদিরা কাজকর্ম থেকে বিরত থাকেন এবং বিশেষভাবে প্রার্থনা, বিশ্রাম ও পরিবারের সাথে সময় কাটানোর মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করেন। সাব্বাথ পালন করার সময়, ধর্মীয় নিয়ম অনুসারে কোনও কাজ করা নিষিদ্ধ।
তবে এ ক্ষেত্রে জিম্মিদের জীবন রক্ষার্থে সাব্বাথ লঙ্ঘনের ধর্মীয় নিয়ম কেন প্রযোজ্য নয়, তা স্পষ্ট নয়। দোহা থেকে আলোচক দলের ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকলেও, শুক্রবার সন্ধ্যার আগে কেন নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা এবং পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠক সম্ভব নয়, তা বলা হয়নি।
শনিবার মন্ত্রিসভার বৈঠক হলে পিটিশন দাখিলের ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা রোববার পর্যন্ত বাড়বে। এর ফলে চুক্তি কার্যকর হতে সোমবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। যা মুক্তির জন্য নির্ধারিত প্রথম তিন জিম্মিকে অতিরিক্ত এক দিন অপেক্ষা করতে হবে।
নেতানিয়াহুর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার খবর পেয়ে আলোচক দলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অবশিষ্ট ৯৮ বন্দির পরিবারকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। এছাড়া নেতানিয়াহু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তির প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
এতে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইল রাষ্ট্র যুদ্ধের সমস্ত লক্ষ্য অর্জনে প্রতিশ্রæতিবদ্ধ। একইসঙ্গে আমাদের সকল বন্দির, জীবিত এবং মৃতÑ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করাও অন্তর্ভুক্ত।

কঙ্গনার ‘ইমার্জেন্সি’ ছবি বাংলাদেশের পর কোথায় নিষিদ্ধ

বহু কাঠখড় পুড়িয়ে বাধাবিঘ্ন দূর করে অবশেষে মুক্তি পাচ্ছে বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের ছবি ‘ইমার্জেন্সি’। শুক্রবার ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে। আর ‘ইমার্জেন্সি’ ছবিটি নিজেই পরিচালনা, চিত্রনাট্য ও প্রযোজনা করেছেন অভিনেত্রী। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর চরিত্রেও অভিনয় করেছেন কঙ্গনা রানাউত। এদিকে ‘ইমার্জেন্সি’ মুক্তির আগেই বাংলাদেশে প্রদর্শনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এবার ছবিটি প্রদর্শনের নিষিদ্ধ ঘোষণা এসেছে এসজিপিসির পক্ষ থেকে। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভাগবত মানের কাছে ‘ইমার্জেন্সি’র ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির অনুরোধ জানিয়েছে এসজিপিসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে একটি পোস্টও শেয়ার করে নিয়েছে এসজিপিসি।
এসজিপিসির সভাপতি চিঠি লিখে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ রেখেছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে লেখা হয়েছে অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের ছবি ‘ইমার্জেন্সি’র ওপর শিরোমণি গুরুদ্বার পরবান্ধক কমিটির আপত্তি রয়েছে। ছবিতে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে এবং এই ছবি শিখ সমপ্রদায়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এসজিপিসির পক্ষ থেকে পাঞ্জাবে এ ছবির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার দাবি করা হয়েছে।
সেই পোস্টে আরও লেখা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি মারফত জানানো হয়েছেÑ ছবিটি মুক্তি পেলে শিখ স¤প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ছড়াবে। তাই রাজ্যে এ ছবিকে নিষিদ্ধ করা সরকারের দায়িত্ব। এ ছবি মুক্তি পেলে শিরোমণি সমপ্রদায় তীব্র বিরোধিতা করবে।
এর আগে ‘ইমার্জেন্সি’ নিষিদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশেও। ইন্দিরা গান্ধীর সময় ১৯৭৫ সালে ভারতে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল, যা রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল করে তুলেছিল ভারতকে। এ ছবিটিতে ভারতের রাজনীতি ও সমাজনীতির একটা অন্ধকার দিক ফুটে উঠেছে। এ ছাড়া ছবিতে দেখানো হয়েছে ইন্দিরা গান্ধী কীভাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করেছিল। সেই সময় পাকিস্তান-বাংলাদেশের যুদ্ধে যাতে ভারত না জড়িয়ে পড়ে, তার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ক্রমাগত চাপ আসছিল, কিন্তু ইন্দিরা গান্ধী তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে, লাখ লাখ শরণার্থীকে ভারতে জায়গা দেওয়ার থেকে অর্থনৈতিক স্তরে ভারতের পক্ষে সরাসরি পাকিস্তানের মোকাবিলা করা ভালো।
এদিকে বেশ কিছু দিন ধরে উত্তাল বাংলাদেশ। এখনো যে অবস্থা স্বাভাবিক হয়েছে তা বলা যায় না। তা ছাড়া ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনাও দেখা দিয়েছিল। তাই সব মিলিয়ে বাংলাদেশে ছবিটির মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না।
একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ‘বাংলাদেশে ‘ইমার্জেন্সি’ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গেও জড়িত। তাই ছবিটি নিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি কর হয়েছে। অনেকের মতে, ‘ইমার্জেন্সি’র অনেক বিষয়বস্তু দুই দেশের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক সমস্যার নানা দিককে প্রভাবিত করবে।’ এ সময় দুই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই নাকি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বতীকালীন সরকারের এমন সিদ্ধান্ত।
এর আগে ‘ইমার্জেন্সি’ ছবি মুক্তির আগে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন বলিউড অভিনেত্রী-প্রয়োজক কঙ্গনা রানাউত। আবার সেই প্রদর্শনী দেখানো হয় নাগপুরে। অভিনেত্রী এ ছবিটি দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়কড়িকে। ছবিটি দেখার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে মন্ত্রী লিখেছিলেনÑ ভারতের ইতিহাসের কালো অধ্যায়কে সততার সঙ্গে উৎকৃষ্টভাবে উপস্থাপন করার জন্য মন থেকে পরিচালক এবং ছবির সব অভিনেতাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ভারতের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় তুলে ধরা হয়েছে এ ছবিতে। সবাইকে এ ছবি দেখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।
উল্লেখ্য, অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের ‘ইমার্জেন্সি’ ছবি নিয়ে বেশ কিছু আপত্তি জানিয়েছিল শিরোমণি অকালি দল। যার ফলে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেতে প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হয় তাকে। ছবিটি থেকে বেশ কিছু দৃশ্য বাদও দিতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। সব মিলিয়ে প্রথম পরিচালনা করতে গিয়ে ভালোই বেগ পেতে হয়েছে কঙ্গনাকে। তাই আগামী দিনে আর রাজনৈতিক কোনো ছবি নির্মাণ করবেন না বলে জানিয়েছে অভিনেত্রী।

আইসিইউতে সাইফ, সন্ধ্যায় ছেলেকে দেখতে হাসপাতালে যান শর্মিলা

মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালের আইসিইউতে রয়েছেন বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তিনি বিপদসীমার বাইরে রয়েছেন। কিন্তু মায়ের মনে সন্তানের জন্য দুশ্চিন্তা কখনো কমে না। তাই বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ছেলেকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর।
সকাল থেকেই হাসপাতালের বাইরে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপ ছিল। পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও সাইফকে দেখতে গিয়েছিলেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান, অভিনেতা রণবীর কাপর প্রমুখ। সন্ধ্যায় হাসপাতালের সামনে সাদা গাড়ি থেকে নামতে দেখা যায় সাইফ আলির মা অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরকে। ফটোসাংবাদিকদের ক্যামেরায় সেই মুহূর্ত বন্দি হয়েছে। শর্মিলার পরনে ছিল সাদা সালোয়ার-কামিজ। গায়ে জড়ানো ছিল কালো শাল। তবে গাড়ি থেকে নেমেই সরাসরি হাসপাতালের ভেতরে চলে যান বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।
এর আগে বৃহস্পতিবার লীলাবতী হাসপাতালে সাইফকে নিয়ে যাওয়া হলে জানা যায়, তার শরীরের দুটি জখম গুরুতর। তার মেরুদণ্ডে বিঁধে রয়েছে ভাঙা ছুরির ফলা। প্রায় আড়াই ঘণ্টায় দুটি অস্ত্রোপচারের পর অভিনেতাকে বিপদমুক্ত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সাইফ হাসপাতাল থেকে কবে ছাড়া পাবেন, সে প্রসঙ্গে এখনো কোনো কিছু জানায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সাইফের ওপর হামলার পর প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন কারিনা

বলিউড অভিনেতা নবাব সাইফ আলি খান নিজের বাড়িতে গত বুধবার গভীর রাতে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে স্ত্রী অভিনেত্রী কারিনা কাপুর নীরব। বৃহস্পতিবার সাইফকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তারপর আড়াই ঘণ্টার অস্ত্রোপচার। উৎকণ্ঠায় কেটেছে অভিনেত্রীর। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানালেন কারিনা কাপুর খান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি দীর্ঘ পোস্টে কারিনা লিখেছেনÑ আজকের দিনটা আমাদের পরিবারের জন্য সত্যিই কঠিন একটা দিন এবং এখনো আমরা পরপর একেকটি ঘটনাকে বোঝার চেষ্টা করছি। এই কঠিন সময়ে আমি বিনীতভাবে সংবাদমাধ্যম এবং পাপারাজ্জিদের ভুয়া খবর ও গুজব থেকে দূরে থাকতে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।
এরই সঙ্গে কারিনা তার পোস্টে তাদের নিয়ে মানুষের কৌতূহলকে সম্মান জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেনÑসর্বদা নজরদারি আবার আমাদের নিরাপত্তা শিথিল করতে পারে। তাই আমাদের পরিবারকে এ মুহূর্তে একটু একা ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। সেটি পরিবার হিসাবে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। এই কঠিন ও সংবেদনশীল সময়ে তাদের পাশে থাকার জন্য ভক্ত-অনুরাগীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন কারিনা কাপুর।
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে সাইফ আলি খানের ওপর যখন হামলা হয়, তখন কারিনা বাড়িতে ছিলেন না। তিনি তার দিদি অভিনেত্রী কারিশমা কাপুরের বাড়িতে ছিলেন। কিন্তু স্বামীর আক্রান্ত হওয়ার খবর পেতেই তিনি দ্রæত পরিবারের সঙ্গে মিলিত হন।

চাপের মুখে পদত্যাগ করলেন টিউলিপ সিদ্দিক

অবশেষে অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার সরকারের সিটি মিনিস্টার ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক।

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সাথে আর্থিক যোগসূত্র নিয়ে বারবার প্রশ্ন ওঠায় চাপের মুখে পদত্যাগ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও বিবিসি।

টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনীতিবিষয়ক মিনিস্টার (ইকোনমিক সেক্রেটারি) ছিলেন। দেশটির আর্থিক খাতে দুর্নীতি বন্ধের দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে।

মূলত, টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার মন্ত্রিসভার সদস্য, তিনি ইকনোমিক সেক্রেটারি টু দি ট্রেজারি অ্যান্ড সিটি মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার কাজ যুক্তরাজ্যের অর্থবাজারের ভেতরের দুর্নীতি সামাল দেয়া। কিন্তু বাংলাদেশে এখন তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, যেখানে তিনি এবং পরিবারের চার সদস্যের বিরুদ্ধে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, টিউলিপ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে এতে তিনি উল্লেখ করেছেন, তার বিরুদ্ধে যে তদন্ত হয়েছে সেখানে, মিনিস্ট্রিয়াল ওয়াচডগের উপদেষ্টা লরি ম্যাগনাস মন্ত্রিত্বের নীতি ভঙ্গের কোনো প্রমাণ পাননি। এছাড়া নিজের সকল আর্থিক বিষয়াবলীর ব্যাপারে তদন্তকারীকে তথ্য দিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন টিউলিপ।

মন্ত্রী থাকলে সরকার তার কাজে মনযোগ দিতে পারবে না উল্লেখ করে টিউলিপ বলেছেন, ‘এ কারণে আমি আমার মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, পেনসনমন্ত্রী এমা রেনল্ডস টিউলিপের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

গত সপ্তাহে টিউলিপ সিদ্দিককে বরখাস্ত করতে প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান কেমি ব্যাডেনোচ। যদিও হ্যাম্পস্টেড এবং হাইগেটের ৪২ বছর বয়সী এমপি টিউলিপ দাবি করেছেন, তিনি কোনো ভুল করেননি।

এছাড়া, টিউলিপ সিদ্দিককে দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায় দেশটির দুর্নীতিবিরোধী জোট ইউকে অ্যান্টি-করাপশন কোয়ালিশন।

সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি মুখপাত্র বলেছেন, ‘স্যার কেয়ার স্টারমার তার মন্ত্রীর প্রতি পূর্ণ আস্থা ধরে রেখেছেন। যদিও টিউলিপকে বরখাস্ত করতে নতুন করে চাপের মুখোমুখি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্টারমার। বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে টিউলিপের পারিবারিক সম্পর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ওপর এই চাপ তৈরি হয়েছে।’

উল্লেখ্য, আর্থিক দুর্নীতির এক মামলায় বাংলাদেশে টিউলিপ সিদ্দিক ও তার খালা শেখ হাসিনাসহ পরিবারের আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাজ্যের এই মন্ত্রী ব্যাপক চাপে আছেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।

৪২ বছর বয়সী টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০১৩ সালে বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার সাথে একটি চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেছিলেন, যেখানে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ধরা হয়েছিল।

দুই কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, পাঁচ শতাধিক আসন, নারী আসনেও ভোট

বাংলাদেশের সংবিধান সংস্কারে গঠিত কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে যাচ্ছে আজ বুধবার। এতে ক্ষমতা কাঠামো, সংসদের ধরনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাবনা থাকছে।

গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি ক্রমশ জোরালো হয়ে ওঠে দেশটিতে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রাথমিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সংস্কারে ছয় বিশিষ্ট নাগরিককে দায়িত্ব দেয়ার ঘোষণা দেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

পরবর্তীতে ৭ অক্টোবর ‘বিদ্যমান সংবিধান পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করে সংস্কারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে’ অধ্যাপক আলী রীয়াজকে প্রধান করে নয় সদস্যের সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়।

তিন মাস ধরে সাধারণ নাগরিক, রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য অংশীজনদের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহ করে কমিশন। প্রায় এক লাখ লোকের মতামত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। সেই সাথে তারা বিভিন্ন দেশের সংবিধানও পর্যালোচনা করেন।

এসবের ভিত্তিতে পাঁচ খণ্ডের প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

প্রথম খণ্ডে রাখা হয়েছে সুপারিশ এবং সুপারিশগুলোর যৌক্তিকতা। বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রাপ্ত মতামত রাখা হয়েছে বাকি চার খণ্ডে।

সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, সংস্কারের প্রস্তাবনা তৈরি করার ক্ষেত্রে ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণ রোধ, ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন, জবাবদিহিতা, রাষ্ট্র পরিচালনায় সবার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার মত বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, ‘কিছু মতভেদ থাকলেও সংস্কারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ব্যাপারেও আমি আশাবাদী।’

কমিশনের সংস্কার প্রস্তাবের পাঁচটি মূল দিক তুলে ধরা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।

ক্ষমতার ভারসাম্য: শুধু দুই ব্যক্তি বা অফিসের নয়
বাংলাদেশের সংবিধান এ পর্যন্ত ১৭ বার সংশোধন করা হয়েছে। দ্বাদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা বদলে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পুনরায় প্রবর্তন করা হয়।

কিন্তু, সংসদীয় ব্যবস্থার বদলে ধীরে ধীরে ব্যবস্থাটি নিছক প্রধানমন্ত্রী শাসিত ব্যবস্থায় রূপ নেয় বলে মনে করেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

“প্রধানমন্ত্রী দলের প্রধান হিসেবে দল চালান, সংসদের নেতা হিসেবে তিনি সংসদের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখেন এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী হন এবং এমন প্রধানমন্ত্রী, তিনি যা বলবেন রাষ্ট্রপতিকে তা শুনতেই হবে, এর অন্যথার কোনো জায়গা নেই,” বলেন আলী রীয়াজ।

সংবিধানের মধ্যেই ‘ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্রের পথ’ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

সংবিধান প্রধানমন্ত্রীকে যে ‘একচ্ছত্র আধিপত্য ও ক্ষমতা’ দিয়েছে, সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার কথা বিভিন্ন পক্ষ থেকে বেশ কিছুদিন ধরেই বলা হচ্ছিল।

অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতায় ভারসাম্য আনার কথা বলে আসছে।

অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, ‘তবে, সংস্কার কমিশন ভারসাম্য আনতে চাইছে ‘প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর’ মধ্য দিয়ে। শুধু দুইজন ব্যক্তি বা দু’টি অফিসের মধ্যে ক্ষমতা বাড়িয়ে কমিয়ে নয়। আমাদেরকে বিবেচনা করতে হবে যে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে পারি কি না। জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে নিয়োগ দেয়ার পদ্ধতি কি তৈরি করা যায়?’

দেশ পরিচালনায় রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের (আইন সভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ) মধ্যে সমন্বয় সাধনের কথাও বলেন তিনি।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে ধরনের কাঠামো দাঁড় করানোর কথা প্রস্তাবনায় থাকছে বলে জানা গেছে, তাতে অন্য দুই বিভাগের সাথে আইনসভার সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষকে সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

এতে নির্বাহী প্রধান তথা সরকার প্রধানের এককভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা হ্রাস পেয়ে সেটা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে।

সংসদ: দুই কক্ষ, পাঁচ শতাধিক আসন, নারী আসনেও ভোট
বর্তমানে বাংলাদেশের এক কক্ষ বিশিষ্ট সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসনসহ মোট ৩৫০টি আসন রয়েছে।

দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাবনা আসতে যাচ্ছে তা একরকম অনুমান করা যাচ্ছিল। কেননা, বর্তমানে ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রায় সবাই দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদের পক্ষে।

সংসদের নিম্নকক্ষের আসন সংখ্যা বেড়ে চারশো হওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে। এর সঙ্গে উচ্চকক্ষে আরো ১০৫টি আসন যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

নিম্নকক্ষের ৪০০ আসনের ১০০টি নারী আসন। তবে, কেবল দলের মনোনয়নে নয়, তাদেরও সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হতে হবে। আসন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হয় তখন সাড়ে সাত কোটি মানুষ ছিল। এখন আঠারো কোটি মানুষ, তাদের প্রতিনিধিত্বের জায়গা করতে হবে। আরো ছোট ছোট কনস্টিটুয়েন্সি (নির্বাচনি এলাকা) তৈরি করতে পারলে মানুষ সরাসরি ইন্টারঅ্যাক্ট করতে পারবে।’

উচ্চকক্ষে আনুপাতিক পদ্ধতিতে সদস্য নির্ধারণ করা হবে। সাধারণ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত ভোটের হার অনুযায়ী উচ্চকক্ষে আসন পাবে দলটি। সবার প্রতিনিধিত্বের একটা পথ তৈরি হবে। কত শতাংশ মানুষ তাদের ভোট দিয়েছে, সেই বিবেচনা থেকে যদি প্রতিনিধিত্ব থাকে তাহলে সকলের ভয়েসটা থাকবে,’ বলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

‘সংখ্যালঘু ও বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব যেন থাকে, সে ব্যাপারেও একটা ধারণা দেয়া হবে। উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের মধ্যে ক্ষমতার এক ধরনের ব্যালান্স (ভারসাম্য) থাকবে। তারা নিঃসন্দেহে একটা ভূমিকা পালন করবে।’

এতে খরচ বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে কথিত নির্বাচনে কত হাজার কোটি টাকা খরচ করা হলো। আজ যদি আগামীর জন্য দেশের প্রয়োজনে কিছু অর্থ ব্যয় করি, সেটা ভবিষ্যতের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য ব্যয় করা হবে।’

৭০ অনুচ্ছেদ
বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম আলোচিত অংশ ৭০ অনুচ্ছেদ।

এতে বলা হয়েছে – ‘কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি যদি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, তিনি যদি নিজ দল থেকে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহলে সংসদে তার আসনটি আসন শূন্য বলে বিবেচিত হবে।’

নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেয়ার সুযোগ না থাকায় সংসদ সদস্যের মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হয় বলে মনে করেন অনেকে। অনুচ্ছেদটি থাকা না থাকার প্রশ্ন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়ে সুস্পষ্ট সুপারিশ থাকছে সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে।

তবে, সুপারিশে কী থাকছে সে ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে সরাসরি উত্তর দেননি কমিশন প্রধান আলী রীয়াজ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামগ্রিক চিত্রটা বোঝার চেষ্টা করুন, আমরা একটা জবাবদিহিতার অবস্থা তৈরির প্রচেষ্টা করছি, সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলেই সত্তর অনুচ্ছেদের ভূমিকা কী হবে, সেটা বুঝতে পারবেন।’

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের বিচার বিভাগ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক হয়েছিল ২০০৭ সালে। লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রভাব মুক্ত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

কিন্তু, বিগত দিনে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে, বিচার বিভাগ আদতে স্বাধীন নয়, সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ীই পরিচালিত হয়। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে’ সংবিধান সংস্কার কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সেক্রেটারিয়েট বা সচিবালয় তৈরির সুপারিশ করতে যাচ্ছে। সরকার তথা নির্বাহী বিভাগের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে প্রস্তাবনা রাখা হচ্ছে।

‘বিচার বিভাগে আর্থিক বরাদ্দ সরাসরি কনসোলিডেটেড ফান্ড (স্বতন্ত্র তহবিল) থেকে নিয়ে আসার প্রস্তাব থাকছে। যাতে করে এখন যেমন আইন মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হতে হয়, সেটা স্বাধীনতার জন্য বড় ধরনের হুমকি, তা আর করতে না হয়,’ বলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

স্থানীয় সরকার
বাংলাদেশে প্রায় এক দশক ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও দলীয় প্রতীকে হয়ে আসছিল।

স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়নের সংসদ সদস্যদের তহবিল বরাদ্দসহ তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো হয়েছিল।

এসব কারণে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় সরকার নির্ভর হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান আলী রীয়াজ।

‘তাদের বাজেট পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে নির্বাহী বিভাগ এতটাই নিয়ন্ত্রণ করে যে স্থানীয় সরকারের পক্ষে কিছু করা সম্ভব হয় না। তদুপরি সংসদ সদস্যরা সমস্ত উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছিল। এটা তো তাদের (সংসদ সদস্য) দায়িত্ব নয়,’ বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় সরকারগুলো শক্তিশালী করা ছাড়া আপনি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারবেন না। এ কারণে, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার প্রস্তাবনা থাকছে।

অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, ‘উল্টো তাদের জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের একটা পথ তৈরি করতে হবে।’

সূত্র: বিবিসি।

খালেদা জিয়া এখন ‘অনেকটা বেটার’ : মির্জা ফখরুল

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বেসরকারি খাতের স্বাস্থ্য-সেবায় ঐতিহ্যবাহী ও সর্ববৃহৎ হাসপাতাল ‘দ্য লন্ডন ক্লিনিকে’ চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সেখানে চিকিৎসা-সেবা শুরুর সাত দিনের-মাথায় তার শারীরিক অবস্থা ‘অনেকটা বেটার’ বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে দলীয় শীর্ষ নেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা লন্ডনে চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লন্ডন ক্লিনিকে’ চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়া ‘অনেকটা বেটার’ আছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারাও পত্র-পত্রিকায় খবর দিচ্ছেন, আমরাও খবর নিয়েছি, উনি (বেগম খালেদা জিয়া) মানসিক এবং শারীরিক উভয় দিক থেকেই আলহামদুলিল্লাহ আগের চাইতে অনেকটা বেটার (ভালো)।’

বিএনপি চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গত ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনের সেন্ট্রাল-ওয়েস্টস্থ বিশেষায়িত হাসপাতাল লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডির তত্ত্বাবধানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।

বেগম খালেদা জিয়া কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির পাঠানো একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডন যান। অত্যাধুনিক স্বাস্থ্য-সেবা সম্বলিত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি গত ৭ জানুয়ারি রাত পৌনে ১২টায় বিএনপি চেয়ারপারসন এবং তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করে। কাতারের দোহায় যাত্রা-বিরতিসহ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি পরের দিন ৮ জানুয়ারি লন্ডনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৫৫ মিনিট) হিথ্রো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে পৌঁছায়। সেখান থেকে তাকে সরাসরি লন্ডন ক্লিনিকে নেয়া হয়। তার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে গাড়ি চালিয়ে মাকে হাসপাতালে নেন। বেগম খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ অর্থাৎ তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমানও এ সময় সাথে ছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার বড় ছেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বড় ছেলের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান, নাতনী ব্যারিস্টার জাইমা রহমান (তারেক রহমানের মেয়ে) এবং জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানের (দু’জনেই আরাফাত রহমান কোকোর মেয়ে) সার্বক্ষণিক সান্নিধ্যে মানসিকভাবেও প্রশান্তিতে রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও তিনি ছেলের বাসায় রান্না করা খাবার খাচ্ছেন। সকাল ও বিকেলের নাস্তাও বাসা থেকে দেয়া হচ্ছে। ছেলে তারেক রহমান নিজেই খাবার নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের সফরসঙ্গী, ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী চিকিৎসক দলের সদস্য ডা. এনামুল হক চ্যেধুরী এবং যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতারা লন্ডনে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এবং বিভিন্ন সময়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের মাধ্যমে ঢাকার সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো ভিডিও বার্তায় এসব তথ্য তুলে ধরেন।

৭৯ বছর বয়সী বেগম সখালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। ২০১৮ সালে একটি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর তার অসুস্থতা আরো বেড়ে যায়। তিনি জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণেও পড়েন কয়েকবার। এ জন্য রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে দীর্ঘ সময় তাকে চিকিৎসাধীনও থাকতে হয়েছে।
সূত্র : বাসস