Home Blog Page 470

আগুনে ছাই কনটেন্ট ক্রিয়েটর কাফির বাড়ি

আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফির বাড়িতে আগুন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় এক প্রতিবাদী সমাবেশের ডাক দিয়েছেন কাফি। তিনি জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়কদের একজন ছিলেন।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ অভিযোগ করেন ও সমাবেশের ডাক দেন তিনি।

ফেসবুকে কাফি লেখেন, ‘মধ্য রাতে আমার বাড়ির ঘর, রান্নাঘর সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দিয়েছে। কোন দেশের জন্য, কাদের জন্য কথা বলেছিলাম! যুদ্ধ করেছিলাম এবং করছি। নিরাপত্তা পাইনি।’

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে আরেক স্টাটাসে সাংবাদিকদের আহ্বান জানিয়ে কাফি লেখেন, আজ সকাল ১১টায় আমার পোড়া বাড়িতে কলাপাড়া থানা, পটুয়াখালী জেলার সাংবাদিক ভাইদের থাকার আহ্বান করছি। আমি এই দায়িত্বহীন সরকারকে বিগ মেসেজ দেবো। মেসেজ সম্পূর্ণভাবে মানবে, নতুবা আমিই নিজেই বিকল্প হবো- আমিই বিপ্লবী সরকার হবো।’

সমাবেশের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে কলাপাড়া থানার পায়রা সমুদ্র বন্দর জিরো পয়েন্টে, ৪ লেন ও ৬ লেন সড়কের মাঝামাঝি, হাইওয়ের পাশে।

কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ইলিয়াস হোসাইন বলেন, ‘রাত সোয়া ২টার দিকে আমাদের মোবাইলে কল আসে নুরুজ্জামান কাফির বাসায় আগুন লেগেছে। আমরা দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখি আগুন সিলিংয়ে উঠে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যই আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনতে সক্ষম হই। তবে কেবল পাশের গোয়াল ঘরটাকে নিরাপদ রাখতে পেরেছি। মানুষের কোনো ক্ষতি হয়নি। বাড়ির সবাই নিরাপদে ও অক্ষত আছেন।’

এ বিষয়ে নুরুজ্জামান কাফির বাবা মাওলানা এ বি এম হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ঘরে দুর্বৃত্তরা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। আমাদের পুড়িয়ে মারার জন্যই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা এর বিচার চাই। যে যার মতো করে দরজা ভেঙে বের হয়েছি। বাড়ির কিছুই অবশিষ্ট নেই। সব শেষ হয়ে গেছে।’

প্রতিবেশী ওয়ালি উল্লাহ ইমরান বলেন, ‘আমরা আগুন লাগার সাথে সাথেই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেই। তাদের সাথে আমরাও আগুন নির্বাপণের কাজে নেমে যাই। এটা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। কারণ জানালার বাইরে থেকে ছিটকানি লাগানো ছিল। সবাই খালি কাপড়ে নেমে পড়েছে। কোনো রকমের জানে বাঁচা গেল।’

নূরউজ্জামা কাফির বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার রজপাড়া গ্রামে। তার বাবা রজপাড়া দ্বীন এ এলাহী দাখিল মাদরাসার সুপার।

কাফি ২০১৯ সাল থেকে ভিডিও কনটেন্ট তৈরির কাজ শুরু করেন। তিনি মূলত বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় ভিডিও তৈরি করে থাকেন। ভিডিওগুলোতে হাস্যরসে দেশের সঙ্কটময় পরিস্থিতিসহ নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদও করা হয়ে থাকে।

এছাড়া বইও লিখেছেন তিনি। যা এবারের বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে। মেলায় নিয়মিত থাকছেন জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তবে মেলার প্রথম দিকে নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেন তিনি।

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন হাজারো অভিবাসী মা-বাবা

প্রথম সন্তানকে স্বাগত জানানোর সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন নেহা সতপুতে এবং অক্ষয় পিসে। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার এই ভারতীয় দম্পতি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এইচ-১ বি ভিসাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। দক্ষ বিদেশী কর্মীদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার জন্য এই এইচ-১ বি ভিসা।

আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি তাদের আসন্ন পুত্রসন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার কথা। তাদের আশা ছিল মার্কিন নাগরিক হিসেবে জন্মগ্রহণ করবেন তাদের প্রথম সন্তান।

একটা বড় প্রযুক্তি সংস্থায় কাজ করেন এই দম্পতি। নতুন অভিভাবকদের জন্য ছুটির নীতি রয়েছে ওই প্রযুক্তি সংস্থায়, সেই সমস্ত কিছুকে মাথায় রেখেই ধীরে ধীরে ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসেতে নিজেদের জীবন গড়ে তুলেছিলেন তারা।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নির্বাহী আদেশ তাদের স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত অস্থায়ী বিদেশী কর্মীদের (যুক্তরাষ্ট্রে) জন্মানো সন্তানদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব না দেওয়ার বিষয়ে তিনি আইন করতে চান।

এতদিন মা-বাবার অভিবাসন স্ট্যাটাস যাই থাকুক না কেন, তাদের সন্তানদের জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব দেয়া হতো।

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প যে পরিবর্তন আনতে চান, সেই সংক্রান্ত মামলায় প্রাথমিকভাবে দু’সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দিয়েছিল সিয়াটল আদালত। সেই মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে আপাতত আটকে দিয়েছেন মেরিল্যান্ডের একজন ফেডারেল বিচারক।

এর অর্থ হলো আদালতে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই বিধি কার্যকর করা যাবে না। যদিও উচ্চতর আদালত যে কোনো সিদ্ধান্তকে বদলে দিতে পারে এবং এক্ষেত্রেও সেই আশঙ্কা রয়ে যাচ্ছে।

এই বিষয় সংক্রান্ত একাধিক মামলা এবং আইনি চ্যালেঞ্জ, অক্ষয় পিসা এবং তার স্ত্রী নেহার মতো হাজার হাজার মানুষকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

এই প্রসঙ্গে পিসা বলেন, ‘এর সরাসরি প্রভাব আমাদের ওপর পড়েছে। যদি এই বিধি কার্যকর হয়, তাহলে আমরা জানি না এর পরে কী হবে- এটা সম্পূর্ণ ধোঁয়াশার মতো একটা ব্যাপার।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অভিবাসী যারা খুব শিগগিরই অভিভাবক হতে চলেছেন, তাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, নতুন বিধি চালু হলে তাদের সন্তানের জাতীয়তা কী হবে?

নিউ ইয়র্কভিত্তিক ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি সাইরাস মেহতা জানিয়েছেন, উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। মেহতা বলেছেন, ‘মার্কিন আইনে এই দেশে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিকে অ-অভিবাসী (নন-ইমিগ্রেন্ট) মর্যাদা দেয়ার কিন্তু কোনো রকম বিধান নেই।’

এদিকে, সন্তান জন্মের নির্ধারিত তারিখ যতই এগিয়ে আসছে, ততই উদ্বেগ বাড়ছে হবু মা-বাবাদের। আসন্ন সন্তানকে নির্ধারিত সময়ের আগেই সি-সেকশনের মাধ্যমে প্রসবের বিষয়ে ডাক্তারের সাথেও পরামর্শও করেছেন নেহা এবং অক্ষয় পিসার মতো অনেকেই।

চিকিৎসকদের মতে, যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে তবে গর্ভবতী নারীরা ৪০তম সপ্তাহে সন্তান জন্ম দিতে পারেন।

এই অবস্থায়, নির্ধারিত সময়ের জন্য অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নেহা সতপুতে ও তার স্বামী।

হবু মা নেহা সতপুতে বলেছেন, ‘আমি চাই প্রাকৃতিক নিয়মেই সমস্ত কিছু চলুক।’

অন্যদিকে, অক্ষয় পিসে জানিয়েছেন তার অগ্রাধিকার হলো তার সন্তান এবং স্ত্রীর স্বাস্থ্য। তার কথায়, ‘সন্তানের নির্বিঘ্নে জন্মগ্রহণ করা এবং স্ত্রীর স্বাস্থ্যই আমার কাছে অগ্রাধিকার। তার পরে আসবে সন্তানের নাগরিকত্বের বিষয়টা।’

আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অফ ফিজিশিয়ানস অফ ইন্ডিয়ান অরিজিনের (এএপিআই) সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন ডা. সতীশ কাঠুলা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভারতীয় পরিবারগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের সন্তানের জন্মের কথা ভাবছেন- এরকম প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যমে দেখার পর ডা. কাঠুলা আমেরিকায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রসূতি বিশেষজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ করেন।

তিনি জানিয়েছেন, ‘নিউ জার্সিতে এমন কয়েকটা ঘটনা’ ছাড়া বেশিভাগ চিকিৎসকই এ জাতীয় কোনো বিষয়ের কথা তাকে জানাননি।

ওহাইও-ভিত্তিক ডা. সতীশ কাঠুলা বলেছেন, ‘এমন এক দেশে যেখানে কঠোর চিকিৎসা আইন রয়েছে, সেখানে শুধু নাগরিকত্বের জন্য নির্ধারিত সময়ের আগে সি-সেকশন করার বিরুদ্ধে আমি দৃঢ় পরামর্শ দেই। আমাদের চিকিৎসকরা নীতিবান। চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজন না হলে, তারা কোনোভাবেই তা (সন্তান প্রসবের জন্য অস্ত্রোপচার) করবেন না।’

মার্কিন নাগরিকত্ব ‘অত্যন্ত লোভনীয়’, বিশেষত দক্ষ এইচ-১ এস বি ভিসাধারী ব্যক্তিদের কাছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী দ্বিতীয় বৃহত্তম অভিবাসী গোষ্ঠী হলো ভারতীয়রা।

অভিবাসন নীতি বিশ্লেষক স্নেহা পুরী এই বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, জন্মগত নাগরিকত্বের বিরুদ্ধে বিধি নিষেধ ভারতীয়দের জন্য বেশ সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ লাখেরও বেশি ভারতীয়ের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাতে (অ-অভিবাসী ভিসায়) রয়েছেন।

স্নেহা পুরী বলেন, ‘এটা কার্যকর হলে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মানো তাদের কোনো সন্তানই নাগরিকত্ব পাবে না।’

অনলাইন গ্রুপগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার হবু মা-বাবারা এই নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা ক্রমাগত জানিয়ে চলেছেন। আইন কার্যকর হলে তার প্রভাব এবং সেক্ষেত্রে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে সেই নিয়েও অনলাইনে আলোচনাও করে চলেছেন তারা।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, এটা বৈধ ও স্থায়ী বাসিন্দাদের সন্তানদের মার্কিন নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ডকুমেন্টেশন পাওয়ার ক্ষমতাকে কোনোভাবে প্রভাবিত করবে না।

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় গ্রিন কার্ড পাওয়া সহজ নয়। তার জন্য যে কোনো বিদেশী নাগরিকদের যতদিন অপেক্ষা করতে হয় তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয় ভারতীয়দের।

কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো একটা নির্দিষ্ট দেশের মানুষকে দেয়া গ্রিন কার্ডের সংখ্যা মোট গ্রিন কার্ডের সংখ্যার সাত শতাংশের বেশি হতে পারবে না।

প্রতি বছর, এইচ-১বি ভিসার ৭২ শতাংশ পেয়ে থাকেন ভারতীয়রা। কেটো ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ৬২ শতাংশই ভারতীয়।

বর্তমানে যারা কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড পেয়েছেন, সেই ভারতীয়রা ২০১২ সালে এর জন্য আবেদন করেছিলেন।

কেটোর ইমিগ্রেশন স্টাডিজের পরিচালক ডেভিড বিয়ারওয়ার্ন তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, ‘নতুন ভারতীয় আবেদনকারীদের আজীবন অপেক্ষা করতে হবে। গ্রিন কার্ড পাওয়ার আগেই চার লাখ আবেদনকারীর মৃত্যু হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’

অন্যদিকে, বেশিভাগ অভিবাসী এক বছরের মধ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পান, যা তাদের নাগরিকত্ব লাভের পথকে ত্বরান্বিত করে দেয়।

যদি ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়িত হয় তবে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নথিপত্রহীন অভিবাসীদেরও প্রভাবিত করবে।

এই নথিহীন অভিবাসীদের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব অর্জন করেছিলেন। তাদের ২১ বছর বয়স হলে, তারা তাদের অভিভাবকদের গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার জন্য স্পন্সরনও করতে পারতেন।

তবে পিউ রিসার্চ এর তথ্য বিশ্লেষণ বলছে, ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৭২৫,০০০ কাগজপত্র ছাড়া ভারতীয় অভিবাসী রয়েছে, যা তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা নথিপত্রহীন অভিবাসী গোষ্ঠীর তালিকায় তৃতীয় বৃহত্তম গোষ্ঠীতে পরিণত করেছে। অন্যদিকে, মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের হিসাব আবার ভিন্ন।

এই প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ বলছে, এই সংখ্যা তিন লাখ ৭৫ হাজার এবং কাগজ ছাড়া অভিবাসী গোষ্ঠীর তালিকায় ভারতের স্থান পঞ্চম। মার্কিন জনসংখ্যার তিন শতাংশ নথিপত্রহীন অভিবাসী মানুষ। তারাই ভিন্ন দেশে জন্মগ্রহণ করে যারা যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন এমন জনসংখ্যার ২২ শতাংশ।

এইচ-১বি বা ‘ও’ ভিসায় থাকা ভারতীয়দের প্রধান উদ্বেগের বিষয় তাদের সন্তানদের জীবনযাত্রার মান।

বিদেশে মার্কিন দূতাবাসে ভিসা স্ট্যাম্প লাগানোর জন্য পর্যায়ক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হয় এই ক্যাটাগরির ভিসায় থাকা ব্যক্তিদের। ভিসা স্ট্যাম্পের উদ্দেশে যাদের নির্দিষ্ট সময়ে ভারতে আসতে হয়, তাদের প্রায়শই অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে দেরি হয়।

যারা এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন, সেই অভিবাসীরা চান না যে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্মানো তাদের সন্তানদেরও একই আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতির সম্মুখীন হতে হোক।

বেশ কয়েক বছর ধরে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারী হিসেবে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে অক্ষয় পিসেকে। তিনি জানেন মার্কিন নাগরিকত্ব জীবনকে কতটা সহজ করে দিতে পারে।

তিনি বলেছেন, ‘ “আমরা এখানে ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আছি। আমার মা-বাবার বয়স বাড়ছে, তাই আমার নাগরিকত্ব থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা স্ট্যাম্পিংয়ের জন্য সমস্ত কিছু সামলে যাতায়াত করা আমাদের জন্য কঠিন। এবার আমাদের সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে বিষয়টা আরো কঠিন হয়ে যেতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক চিকিৎসক ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জানিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে দক্ষ বিদেশী কর্মীরা কী ভূমিকা পালন করেন।

ডা. কাঠুলা বলেছেন, ‘উত্তর ও দক্ষিণ ডাকোটার মতো গ্রামীণ অঞ্চলে ভারতীয় চিকিৎসকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা না থাকলে স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়বে। এখন তারাই নিজেদের সংসার শুরু করার ব্যাপারে দ্বিধায় ভুগছেন।’

গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরো ত্বরান্বিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। এইচ-১ বি ভিসায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরতদের সন্তানদের তাদের অভিভাবকদের অবদানের কারণে জন্মগত নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য আর্জি জানিয়েছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে ওয়ার্ক ভিসা এবং স্টুডেন্ট ভিসায় আসা ভারতীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরো বেড়েছে। এরা অবশ্য ইতোমধ্যেই তাদের আইনি অনিশ্চয়তা সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তাদের কাছে একটাই ‘গ্যারান্টি’ ছিল- যুক্তরাষ্ট্রে জন্মানো তাদের সন্তানদের নাগরিকত্ব। কিন্তু সেই বিষয়েও এখন সংশয় দেখা দিয়েছে।

এই নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন সান জোসের বাসিন্দা প্রিয়দর্শিনী জাজুও। আগামী এপ্রিল মাসে মা হতে চলেছেন তিনি।

তার কথায়, ‘পাসপোর্টের জন্য আমাদের কি ইন্ডিয়ান কনস্যুলেটে যোগাযোগ করতে হবে? কোন ভিসা কার্যকর হবে? এই নিয়ে অনলাইনে কোনো তথ্য নেই।’

সন্তানের আগমনের দিন গুনতে গুনতে নেহা সতপুতে বলেন, ‘এই অনিশ্চয়তা বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে।’

তিনি বলেছেন, ‘গর্ভাবস্থা এমনিতেই যথেষ্ট স্ট্রেসের সময়। আমরা ভেবেছিলাম, এক দশক পর এখানে বিষয়টা সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে গিয়ে এটা ঘটল!’

তার স্বামী অক্ষয় পিসে বলেন, ‘বৈধ অভিবাসী এবং করদাতা হিসেবে আমাদের সন্তানেরও মার্কিন নাগরিকত্ব প্রাপ্য- এটাই তো আইন, তাই না?’
সূত্র : বিবিসি

১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ঈদ অগ্রিম ফ‍্যশান মেলা জ্যামাইকায়

ঈদ আগমনে সুখকর উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনায় দেশী গার্লস বাই মিলিয়া লেনিন আয়োজন করেছেন দুদিন ব‍্যাপি ঈদ ফ‍্যশান অগ্রিম মেলা শনিবার এবং রবিবার,১৫ এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫,

ইকরা পার্টি হলে । নিউইর্য়কের কুইন্সের জামাইকার ৮৯-১৬,১৭৫ ষ্টীটে ।

নিউইয়র্কের পোশাক শিল্পে সুপ্রতিষ্ঠিত বুটিক স্বত্বাধিকারীদের নানা রঙের পোশাক উপস্থিত ক্রেতা দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করবে নিশ্চিত।

সাথে থাকবে জনপ্রিয় ফ্যাশন ডিজাইনার রোজিনা আহমেদ রুনি’র দৃষ্টিনন্দন নানা রকম ডিজাইনকৃত পোশাকের নতুনত্ব।

সাদর আমন্ত্রণ রইল সুন্দর মনের বিশালতা নিয়ে কাঙ্খিত এই আয়োজনে।

যুক্তরাষ্ট্রে ২ দিনের ব্যবধানে আবারো বিমান দুর্ঘটনা, ৬ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্ব ফিলাডেলফিয়ার একটি আবাসিক এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় এক শিশু রোগী ও আরো পাঁচজনকে বহনকারী একটি মেডিক্যাল পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে।

পেনসিলভানিয়া শহরের ঘনবসতিপূর্ণ অংশে অবস্থিত শপিং সেন্টার রুজভেল্ট মল থেকে মাত্র কয়েক ব্লক দূরে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

বিমান দুর্ঘটনার ফলে সেখানকার বেশ কয়েকটি ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজনের হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিবহন সচিব শন ডাফির মতে, বিমানটিতে কমপক্ষে ছয়জন ছিলেন।

এদিকে মেডিক্যাল বিমান কোম্পানি জেট রেসকিউ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এক বিবৃতিতে বলে, ‘আমরা জীবিতদের সংখ্যা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।’

প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় জেটটি একটি মেডিক্যাল পরিবহন মিশনে ছিল এবং এতে চারজন ক্রু সদস্য, একজন শিশু রোগী ও রোগীর সহকারী ছিল।

শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় ছোট বিমানটি বেশ কয়েকটি ভবন ও গাড়িতে আঘাত করার পর জরুরি পরিষেবাগুলো উদ্ধারকাজে তৎপর হয়। ওয়াশিংটন ডিসিতে বিমান দুর্ঘটনায় ৬৭ জনের প্রাণহানির ঠিক দু’দিন পর এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সূত্র : বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ান

গ্রেপ্তার আতঙ্কে নিউইয়র্কের ব্যস্ততম এলাকাগুলো অনেকটাই ফাঁকা

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন ক্র্যাকডাউন শুরুর পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে নিউইয়র্কের কর্মব্যস্ত অনেক এলাকা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নথিপত্রহীন অভিবাসীরা গা ঢাকা দিয়েছে। অনেকেই কাজে যাচ্ছেন না। ফলে নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারিতে কাজের লোকের অভাব দেখা দিয়েছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন এবং প্রতিদিন বিকাল হলে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা কুইন্স, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কস বরোর বিভিন্ন এলাকায় ভিড় লেগেই থাকতো। কিন্তু ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প শপথ নেওয়ার পর এসব এলাকায় আড্ডা অনেকাংশে কমে গেছে। এমনকী এসব এলাকার ফুটপাতে বিভিন্ন দোকানপাট ছিল, তা আর দেখা যাচ্ছে না।
নিউইয়র্কের স্প্যানিশ অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস ও রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ এলাকায় সাইডওয়ার্ক দিয়ে হাঁটা যেত না। ফুটপাত ছিল অবৈধ ববসায়ীদের দখলে। পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য থাকতো। কিন্তু গত দুদিন ধরে এসব এলাকা এক প্রকার ফাঁকা। এই এলাকার দোকানপাটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ছে না।
রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ এবং ৮২ স্ট্রিটের একজন ব্যবসায়ী জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে তার দোকানে বেচাকেনা একেবারেই কমে গেছে। সবার ভেতর এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জ্যাকসন হাইটসে একটি রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার জানান, তাদের রেস্টুরেন্টে কর্মীরা গত এক সপ্তাহ ধরে কাজে আসছে না। কেউ ফোনও ধরছে না। তিনি বলেন, এখন লোকের অভাবে রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
নাম না প্রকাশের শর্তে ব্রঙ্কসের বাংলাদেশি মালিকানাধীন একটি রেস্টুরেন্টের কর্ণধার বাপসনিউজকে বলেন, তার রেস্টুরেন্টের অধিকাংশ কর্মী বাংলাদেশি স্টুডেন্ট। কিন্তু ধরপাকড়ের খবরে তারা আতঙ্কিত হয়ে আর কাজে আসছেন না। ফলে তিনি অনেকটা বেকায়দায় পড়েছেন।
জ্যামাইকায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন একটি গ্রোসারি মালিক এ প্রতিবেদককে জানান, তাদের গ্রোসারিতে ভারী কাজের জন্য স্প্যানিশরা ছিল। কিন্তু ধরপাকড়ের ভয়ে তারা অনুপস্থিত। এ কারণে নিজেই কাজ করছেন।
একটি সূত্র জানায়, গত তিন-চার বছরে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন, যাদের বেশিরভাগেরই ছাত্রত্ব নেই। তারা স্বল্প বেতনে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারিতে কাজ করতেন। কিন্তু গ্রেপ্তার আতঙ্কে তারা নিরাপদে থাকার চেষ্টা করছেন।
এদিকে নিউইয়র্ক স্যাঙ্কুয়ারি সিটি হলেও অবৈধ অভিবাসী ধরপাকড় বন্ধ নেই। গত তিন দিনে বিপুলসংখ্যক মানুষকে সিটির বিভিন্ন বরো থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
২৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার সকালে নিউইয়র্ক সিটিতে অভিযান পরিচালনার সময় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম উপস্থিত ছিলেন। শনিবার হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রধান হিসেবে নিশ্চিত হওয়ার পর নোম মঙ্গলবার একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যায় এজেন্টরা নিউইয়র্ক সিটির একটি অজানা স্থানে একজন ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
নোম তার পোস্টে লেখেন, ‘নিউইয়র্ক সিটিতে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ (আইসিই) অভিযান শুরু করেছেন। অপহরণ, হামলা এবং চুরির অভিযোগ থাকা এক অপরাধী বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। ধন্যবাদ আইসিই। এ ধরনের অপরাধীদের রাস্তায় আর থাকতে দেওয়া হবে না।’
ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিস জানিয়েছে, তারা নিউইয়র্কের এফবিআই অফিস এবং অন্যান্য ফেডারেল সংস্থার সাথে একত্রে ‘যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন বাস্তবায়ন এবং অপরাধী বিদেশিদের সম্প্রদায় থেকে সরিয়ে জননিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায়’ উন্নত লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান শুরু করেছে।
ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি (ডিইএ) সামাজিক মাধ্যমে অভিযানের একটি ছবি শেয়ার করেছে এবং জানিয়েছে যে অভিযানের ফলে অপহরণ, হামলা এবং চুরির অভিযোগে একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।আইসিই প্রতিদিন তাদের গ্রেপ্তার সংখ্যার আপডেট শেয়ার করছে। সোমবার আইসিই ১ হাজার ১৭৯টি গ্রেপ্তার করেছে বলে জানানো হয়েছে।
নোমের নিউইয়র্ক সিটিতে উপস্থিতি এজেন্সির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কয়েকদিনের মধ্যেই হলো। এজেন্সিটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং গণপ্রত্যাবাসনের পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
গত সপ্তাহে অফিস গ্রহণের পর থেকে, ট্রাম্প অভিবাসন নিয়ে একাধিক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: শরণার্থী ভর্তি প্রোগ্রাম বন্ধ করা, জন্মগত নাগরিকত্বের সমাপ্তি এবং কিছু কার্টেলকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মনোনীত করা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান চৌধুরী শাহীর প্রয়ানে প্রবাসীদের শোক

হাকিকুল ইসলাম খোকনঃ সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর উকিলপাড়া নিবাসী,সবার পরিচিত ঘনিষ্টজন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি ও নিউইয়র্ক সিটি আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ,আমেরিকায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকদের অন্যতম ভরসাস্থল ও নিবেদিত সমাজসেবী নুরুজ্জামান চৌধুরী শাহী (৭৪)এর পরলোক গমন করেছেন গত শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেল আড়াইটায় আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী,১ পুত্র ও ১ কন্যাসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন। খবরে বাপসনিউজ ।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) বাদ যোহর নিউইয়র্কের জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার প্রাঙ্গনে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নিউইয়র্কের একটি স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয় বলে বাপসনিউজকে নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছোট ভাই যুক্তরাজ্যস্থ প্রবাসী সাংবাদিক ইমানুজ্জামান চৌধুরী মহী।

পারিবারিক সূত্র জানায়,দীর্ঘদিন যাবৎ লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত অবস্থায় গত ৪ জানুয়ারি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডস্থ গুড সামারিটান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি এক সপ্তাহ যাবৎ লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। এর আগে একাধারে দু’বার তার হৃদন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হবার উপক্রম হওয়ার পাশাপাশি তিনি ব্রেইনষ্ট্রোকেও আক্রান্ত হন।

নুরুজ্জামান চৌধূরী শাহী জীবদ্ধশায় মুক্তিযুদ্ধে বালাট সাবসেক্টরের বীর মুক্তিযোদ্ধা,স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সুনামগঞ্জ মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতি,পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও নিউইয়র্ক সিটি আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তবে ১৯৯৬ সাল থেকে ২৪ এর ৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি ও তার পরিবারবর্গ এবং আত্মীয় স্বজনরা স্বদেশে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ন্যূনতম সুযোগ সুবিধা ভোগ করেননি। ভোগবাদের বিরুদ্ধে ত্যাগের রাজনীতিতে দেশে ও বিদেশে তিনি ছিলেন একজন মডেল ব্যক্তিত্ব।

উল্লেখ্য সুনামগঞ্জ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের সুরমা ৪ নং জামান হাউজের স্থায়ী বাসিন্দা নুরুজ্জামান চৌধুরী শাহী ১৯৫১ সালের ৩রা মার্চ জন্মগ্রহন করেন। সুনামগঞ্জের প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ রাজগোবিন্দ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণি পাশ করে সিলেট সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। পরে সুনামগঞ্জের সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। সুনামগঞ্জ কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে বিএ ক্লাসে অধ্যয়নকালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করেন। এ সময় তার সম্পাদনায় ও প্রকাশনায় বুলেটিন নামে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। দেশ স্বাধীনের পর তিনি সুনামগঞ্জ মহকুমা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেন। একাধারে ২ বার মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধবিধবস্ত সুনামগঞ্জ পূণর্গঠনে আপন মামা সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ আবদুল হাইয়ের নেতৃত্বে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন। ৭৫ এর পটপরিবর্তনের সময় ও সামরিক আমলে তিনি দীর্ঘদিন সিলেটে কারাবরন করেন। ১৯৭৮ সালের আগস্ট মাসে তিনি প্রথমে নেদারল্যান্ডে পরে পশ্চিম জার্মানে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। ১৯৮৩ সালে জার্মান থেকে আমেরিকায় পাড়ি জমান। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরেই তাঁর জীবনের বাকী সময় অতিবাহিত হয়। রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকতা ও লেখালেখিতেও তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। তিনি সর্বপ্রথম ঢাকা থেকে রাজনীতিবিদ মাহমুদ আলী সম্পাদিত সাপ্তাহিক নওবেলাল ও দৈনিক পূর্ব পাকিস্তান পত্রিকায় সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরে জাতীয় দৈনিক পূর্বদেশ ও সাপ্তাহিক পদক্ষেপ পত্রিকার সাথে জড়িত ছিলেন। তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সম্পাদিত দৈনিক ইত্তেফাক,শেখ ফজলুল হক মনির সম্পাদিত বাংলার বাণী ও কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরী সম্পাদিত জয়বাংলা পত্রিকায় সাংবাদিকতা পেশায় সক্রিয় অবদান রাখেন। একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে হিসেবে তিনি তাঁর মামার প্রতিষ্ঠিত সুনামগঞ্জ মহকুমা আর্টস কাউন্সিলের প্রতিটি সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে বলিষ্ট সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন।

তাঁর কন্যা ফেরদৌসী জামান সুমী বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটি অফিসের সিনিয়র আইনজীবী ও পুত্র আশফাকুজ্জামান চৌধুরী সোহান আমেরিকার নবম বৃহত্তর লো-ফার্ম “ভি লুইস ব্রিসভয়েস”এ কর্মরত আছেন।

আমেরিকার প্রবাসী সুনামগঞ্জীদের অন্যতম ভরসাস্থল নুরুজ্জামান চৌধুরী শাহীর মৃত্যুতে বিদেশের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ শহরেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সুধীজনের বক্তব্য এ শুন্যতা পূরণ হবার নয়। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনাসহ শোকাহত পরিবার পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন সারা সুনামগঞ্জবাসী।

পৃথক পৃথক বিবৃতিতে সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ,সাধারণ সম্পাদক মাছূম হেলাল, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হাসান চৌধুরী,রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান পীর ও সাধারণ সম্পাদক এমরানুল হক চৌধুরীসহ সুনামগঞ্জের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের কর্মকর্তাবৃন্দ,সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য নুরুজ্জামান চৌধুরী শাহীর মৃত্যুতে সুগভীর শোকপ্রকাশ ও তাঁর শোকাহত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন ।এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের পক্ষ থেকে নুরুজ্জামান চৌধুরী শাহীর প্রয়ানে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন এক যৌথ বিবৃতিতে প্রবাসী নেতৃবৃন্দের মাঝে
ড.নুরান নবী,এম এ সালাম,ড.প্রদীপ রন্ধন কর,হাজী শফিকুল আলম,ড.বামন দাস বসু,সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন,রমেস চন্দ‍্য নাথ,এম ফজলুর রহমান,আখতার হোসেন, সৈয়দ বসারত আলী, মাহবুবুর রহমান, ডা. মোহাম্মদ আলী মানিক ,নিজাম চৌধুরী,আইরিন পারভীন,মাহবুবুর রহমান মিলন,ওসমান গনি,বিশ্বজিত সাহা,সুহাস বড়ুয়া হাসু,সাংবাদিক হেলাল মাহমুদ,দেওয়ান বজলুর রহমান, এ্যাডভোকেট শাহ মো: বখতিয়ার আলী, কৃষিবিদ আশরাফুজ্জামান, জালাল উদ্দিন রুমী, জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, ড. আরেফ চৌধুরী রুবেল, ইসলাম উদ্দিন পংকি,নুরুল ইসলাম বাংগালি,আবদুস শহিদ নান্নু,নূর আলম চৌধুরী, শিরিন আক্তার দীবা, মুজাহিদুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান টুকু,এম এ করিম জাহাঙ্গীর, ফরিদ আলম,শহীদ হাসান, ডা. আব্দুল বাতেন, মহিউদ্দিন দেওয়ান, আব্দুল হাসিব মামুন, আব্দুর রহিম বাদশাহ, চন্দন দত্ত, মিসবাহ আহমমেদ,এ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান মামুন, জাকারিয়া চৌধুরী,কাজী কয়েস আহমেদ, আবুল মনসুর খাঁন, ডেনী চৌধুরী, হিন্দাল কাদির বাপ্পা, ওহিদুর রহমান মুক্তা,শরাফ সরকার, মুজিবুল মাওলা, মোস্তফা কামাল পাশা,আজিজুর রহমান সাবু, আসাফ মাসূক,আতাউল গণি আসাদ, আলী হোসেন গজনবী, সামসূল আবেদীন,আকতার আহমেদ চৌধুরী,কামাল উদ্দিন,আমীনূল ইসলাম কলিন্স, রেজাউল করিম চৌধুরী, নূর নবী চৌধুরী, শাহান চৌধুরী,হারুন আহমেদ, রফিকুল ইসলাম পাটোয়ারী,আলাউদ্দিন জাহাঙ্গীর, মীর নিজামুল হক,মইনুল হোসেন,নূরুল আফসার সেন্টু, নুরুল আমিন কোতোয়াল,নূরে আলম চৌধুরী,শামীমা তরফদার সূইটি, খোরশেদ খন্দকার,গাজী মো: আলী লিটু, আজহারুল ইসলাম লিটন, ইকবাল কবির, আব্দুল হামিদ,মোহাম্মদ মহসিন রিপন, রফিকুল ইসলাম খাঁজা, “
কায়কোবাদ খাঁন, সূজন আহমেদ সাজু,এম আনোয়ার, হোসেন সোহেল রানা, কাজী আজিজুল হক খোকন, জুয়েল আহমেদ, এম এ আলম বিপ্লব,মো: তৌহিদ রুহেল চৌধুরী,আবুল কাশেম, টিটু রহমান, আনোয়ার হোসেন,কবি এবিএম সালেহঊদদীন মো:নাসির, বীর মুক্তিযোধা আব্দুল মুকিত চেীধুরী ,বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ,বীরমুক্তিযোদ্ধা শওকত আকবার রিচি,বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খান আনসারি,বীর মুক্তিযোদ্ধা খুরশিদ আনোয়ার বাবলু , বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসাইন, মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ম মিজানুর রহমান চৌধুরী বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা জুয়েল মোহাম্মদ জামাল , বীর মুক্তিযোদ্ধা মুন্সি বশির উদ্দিন ,আক্তার হোসেন, জামাল হোসেন, শাহিদুল ইসলাম,ইলিয়ার রহমান,সুবল দেবনাথ, বীর মুক্তিযোদ্ধা জালালউদ্দিন জলিল, বীর মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেন হিরু ভূইয়া,আশরাফ উদ্দিন , মোল্লা মাসুদ, ইঞ্জি:মিজানুল হাসান, দেলোয়ার মোল্লা, টি মোল্লা, উৎফত মোল্লা, জেসমিন আক্তার কহিনুর,আয়েশা আক্তার রুবি,আব্দুল মোসাবির,দেওয়ান সাহেদ চৌধুরী,নুরে আলম জিকু,হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন,সিবুল মিয়া, নাদের আলী মাষ্টার,রহিমুজ্জামান সুমন, রিণ্টু লাল দাস, ফরিদা আরভি, আতাউর রহমান তালুকদার, হেলেমউদ্দিন, ইফজাল চৌধূরী, জামাল বস্ক, আলীমউদ্দিন, শারমিন তালুকদার, রাহিমুল হুদা, রুমানা আখতার ,ইঞ্জি: হাসান,মনজুর চৌধূরী,শেখ জামাল হোসেন, মো:মাঈনুদ্দিন, মিজানুর চৌধূর,হুমায়ন আহমেদ চৌধুরী,আরিফুর রহমান আরিফ,ফজলুল কদের চৌধুরী আদর, কামাল হোসেন মিঠু,দেলওয়ার মানিক,জাহাংগীর কবির,গোলাম ফারুক,তারেকুল হায়দার চৌধুরী,মোঃনাজের,নাজিম উদ্দিন,নবী চৌধুরী,শাহজাহান চৌধুরী,এরশাদ ওয়ারেস,মোঃফুরকান.মাসুদ সিরাজী,মহিউদ্দিন খোকন,ইয়াসমিন ফাত্তাহ ঝরনা ও রুমো চৌধুরী প্রমুখ সহসপ্রবাসের বিভিন্ন শ্রেণীপেশার গন মানুষ।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের ফ্যাশন হাউস ‘সিগনেচার কালেকশন’-এর প্রথম শাখা উদ্বোধন

হাকিকুল ইসলাম খোকনঃ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পোশাকের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্য নিয়ে দেশের খ্যাতনামা ফ্যাশন হাউস “সিগনেচার কালেকশন” যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গত রবিবার এই প্রথম শাখা খুলেছে l এটি বাংলাদেশের বাইরে তাদের প্রথম আউটলেট Iখবর বাপসনিউজ ।

বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে একটি জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৯০-০৩,ম‍্যরিক বুলবাড ,জ্যামাইকা-এ অবস্থিত আউটলেটটি সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু করে। “সিগনেচার কালেকশন” এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও মিজ ফারজানা ইসলাম রুমকি কেক কেটে উদযাপনের সূচনা করেন।

উদ্বোধনী দিনে বিপুল সংখ্যক গ্রাহক মনোরমভাবে সজ্জিত এই শাখায় ভিড় জমান এবং আকর্ষণীয় ছাড়ের সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন ধরণের দেশী-বিদেশী পোশাক, মূলত: সালোয়ার-কামিজ এবং শাড়ি, ক্রয় করেন। এই ছাড় আরও ছয় দিন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন “সিগনেচার কালেকশন”-এর সিইও রুমকি।

7e5574ae 6c63 4517 8f19 d3cfa45b2cd6

২০১৭ সালে বাংলাদেশে “সিগনেচার কালেকশন” আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের যাত্রা শুরুর পর দেশে এ পর্যন্ত মোট পাঁচটি আউটলেট খুলেছে l এর চারটি ঢাকায় এবং একটি চট্টগ্রামে অবস্থিত।

সিগনেচার কালেকশনে’র সিইও রুমকি বলেন, বিদেশের মাটিতে প্রথম আউটলেট খুলতে পেরে আমরা খুবই গর্বিত ও আনন্দিত। তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, বিশেষ করে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্কে, এবং বাংলাদেশি পোশাকের ক্রমবর্ধমান চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে তারা এই শাখা খুলেছেন।রুমকি জানান, এর আগে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে তাদের পণ্য নিয়ে মেলার আয়োজন করেন এবং এসব মেলা থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। তিনি তাদের এই উদ্যোগকে সফল করতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিকট আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

রুমকি বলেন বাংলাদেশি অধ্যুষিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরগুলির পাশাপাশি অন্যান্য দেশে তাদের আউটলেট খোলার পরিকল্পনা রয়েছে l তিনি আরও বলেন দেশে এবং বিদেশে তাদের ৮.৫০ লাখ অনলাইন ফলোয়ার রয়েছেন, যারা প্রতিনিয়ত আমাদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন l

বৈষম্যহীন দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত জামায়াত থামবে না : শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মজলুম দল হিসেবে উল্লেখ করে দলটির আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বৈষম্যহীন, মানবিক, দুর্নীতি দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ কায়েম না পর্যন্ত আমরা থামব না।’

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটায় চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের টাউন মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

জামায়াত আমির বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মজলুম দল। সাড়ে ১৫ বছর জামায়াতের নেতাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসি দেয়া হয়েছে, হাজার নেতাকর্মীকে খুন করা হয়েছে। ক্রসফায়ারের নামেও হত্যা করা হয়েছে। হাট-ঘাট, মসজিদ-মাদরাসা, এমনকি মন্দিরেও লুটপাট চালিয়েছে আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা। কিন্তু ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা পালিয়ে গেছে। দুর্নীতিবাজ সবাই পালিয়েছে। তাই বৈষম্যহীন, মানবিক, দুর্নীতি দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ কায়েম না পর্যন্ত আমরা থামবো না। অর্থাৎ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থামবে না।’

আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, ‘ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তারা দেশের জ্ঞানী, শিক্ষিত, মার্জিত ও অভিজ্ঞ মানুষদের হত্যা করেছে। হাজারো মানুষকে নির্যাতন করেছে। তারা শত শত মানুষকে গুম করেছে, খুন করেছে। মানুষের ইজ্জত লুণ্ঠন করেছে। তারা দেশের সম্পদও লুট করেছে। তারা উন্নয়নের বুলি শুনিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘পর পর তিন তিনটি নির্বাচনে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন। জুলাই-আগস্টে আমাদের সন্তানেরা বিপ্লব ঘটিয়ে ২৪-এ স্বাধীনতা এনেছেন। ফলে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। দেশের মানুষের সামনে দাঁড়ানোর মতো সৎসাহস শেখ হাসিনার ছিল না। যে কারণে তিনিসহ তার দোসররা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। যারা আমাদের সন্তানদের ওপর গুলি চালিয়েছে, গণহত্যা চালিয়েছিল জনগণ তাদেরকে একদফা দিয়ে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে।’

ছাত্র-জনতার অবদানকে স্মরণ করে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে এই জাতি দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেবে, ইনশাআল্লাহ। তরুণ-যুব সমাজ চাঁদাবাজমুক্ত, দখলবাজমুক্ত ও পেশীশক্তিমুক্ত নতুন দেশ চায়। আমরাও সাম্যের বাংলাদেশ চাই। এই প্রজন্ম বুকের রক্ত দিয়ে নতুন স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। প্রয়োজনে আমরাও রক্ত দিয়ে হলেও এই স্বাধীনতা ধরে রাখব, ইনশাআল্লাহ।’

এ সময় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা কারো টাকার কাছে নিজেদের ভোট বিক্রি করব না। ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচনকেন্দ্রিক সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে। আগামী নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ। কালোটাকা ও পেশীশক্তির কাছে আমরা মাথানত করব না। যারা কালোটাকা দিয়ে ভোটের মাঠে আসবে, তাদেরকে ‘না’ বলে দিতে হবে।”

আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘বিগত সাড়ে ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা ২৬ লাখ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার করেছে। এসব টাকা জাল ফেলে তন্ন তন্ন করে খুঁজে বের করে দেশে ফেরত আনতে হবে। আওয়ামী লীগ ও তার দোসরদের খুঁজে খুঁজে এনে ওই কাশিমপুর জেলে পাঠাতে হবে। তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াত আমির অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন বলেন, ‘মানুষের মৌলিক চাহিদা কিভাবে পূরণ করা যায় সেটা জাতির সামনে কিভাবে পেশ করা যায় তারই এক মাইলফলক হয়ে থাকবে জেলা জামায়াতের আজকের সম্মেলন। মানবতার কল্যাণে জামায়াত কাজ করবে এবং করে আসছে। মানুষের ভোটাধিকার ও স্বাধীনতা, ভাতের অধিকার, সার্বভৌমত্ব অধিকার ফেরানোর জন্য কাজ করছে।’

চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াত আমির অ্যাডভোকেট রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো: জাহিদুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের অন্যতম সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসেন, যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের টিম সদস্য খন্দকার আলী মোহসিন, যশোর জেলা শাখার আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল, ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমির আলী আজম, কুষ্টিয়া জেলা আমির মাওলানা অধ্যাপক আবুল হাশেম, মেহেরপুর জেলা আমির মাওলানা তাজ উদ্দীন খাঁন, চুয়াডাঙ্গা জেল জামায়াতের সাবেক আমির আনোয়ারুল হক মালিক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আহ্বায়ক আসলাম অর্ক, জেলা জামায়াতের জয়েন্ট সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল প্রমুখ।

কর্মী সম্মেলনটি পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান।

উল্লেখ্য, বিগত ২০ বছরে চুয়াডাঙ্গাতে কর্মী সম্মেলন হয়নি। চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সকল কর্মপরিষদের সদস্যরা, জেলার পাঁচটি থানার অধিনে সাংগঠনিক আটজন জামায়াতের থানা আমির, স্থানীয় জামায়াত নেতারাসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী এ কর্মী সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক দিনে সর্বোচ্চ ২৫০০ জনের সাজা মওকুফ করলেন বাইডেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শুক্রবার অ-হিংসাত্মক মাদক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজা ভোগ করছেন এমন প্রায় ২ হাজার ৫০০ জনের সাজা মওকুফ করেছেন। হোয়াইট হাউস একে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক ক্ষমা প্রদানের ঘটনা বলে উল্লেখ করেছে।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, বাইডেন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যাদের সাজা মওকুফ করা হয়েছে, তারা বর্তমানে যে শাস্তি পেতেন তার তুলনায় ‘অতিরিক্ত দীর্ঘ সাজা’ ভোগ করছিলেন।

তিনি এ পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক ভুল সংশোধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, শাস্তির বৈষম্য সংশোধন এবং যোগ্য ব্যক্তিদের তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ প্রদানের জন্য একটি উদ্যোগ’ বলে উল্লেখ করেছেন।

বাইডেন বলেন, ‘এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আমি এখন পর্যন্ত মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ব্যক্তিগত ক্ষমা ও সাজা মওকুফ প্রদান করেছি।’ এছাড়া তিনি নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে আরো কিছু ক্ষমা বা সাজা মওকুফের ইঙ্গিত দেন।

বাইডেন গত মাসেও প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনের সাজা মওকুফ করেন এবং ৩৯ জনকে ক্ষমা করেন।

ডিসেম্বরে ক্ষমাপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন, যিনি অস্ত্র ও কর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সম্ভাব্য কারাদণ্ডের মুখোমুখি ছিলেন।

বাইডেন একইসাথে কিছু সহযোগী এবং সাবেক কর্মকর্তাদের জন্য সার্বিক ক্ষমা প্রদানের বিষয়ে বিতর্ক করছেন বলে জানা গেছে, কারণ আশঙ্কা করা হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্ভাব্য ‘প্রতিশোধমূলক’ উদ্যোগের কারণে তারা লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন।

ডিসেম্বরে, বাইডেন ফেডারাল ডেথ রো-তে থাকা ৪০ জন বন্দীর মধ্যে ৩৭ জনের মৃত্যুদণ্ডও মওকুফ করেন।

তিনজন এই সিদ্ধান্তের বাইরে ছিলেন : ২০১৩ সালের বোস্টন ম্যারাথন বোমা হামলাকারীদের একজন, ২০১৮ সালে ১১ জন ইহুদি উপাসককে হত্যাকারী বন্দুকধারী ও ২০১৫ সালে ৯ জন কৃষ্ণাঙ্গ চার্চগামীকে হত্যাকারী এক শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী।

ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর ফেডারেল মৃত্যুদণ্ড পুনরায় কার্যকর করবেন, যা বাইডেনের শাসনামলে স্থগিত ছিল।
সূত্র : এএফপি

দুর্নীতির মামলায় ইমরান খানের ১৪ বছরের কারাদণ্ড

পাকিস্তানের একটি আদালত শুক্রবার দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে দেশটির কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী সাবেক তারকা ক্রিকেটার ইমরান খানকে ১৪ বছর দিয়েছে। একইসাথে তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে দিয়েছে সাত বছরের কারাদণ্ড।

যুক্তরাষ্ট্রের বার্তাসংস্থা এপি নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ইমরান খান ক্ষমতায় থাকাকালীন পাচার করা অর্থের বিনিময়ে একজন রিয়েল এস্টেট টাইকুনের কাছ থেকে জমি উপহার হিসেবে গ্রহণ করেন।

প্রসিকিউটররা জানান, ইমরান খান ব্যবসায়ী মালিক রিয়াজকে ১৯০ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড (২৪০ মিলিয়ন ডলার) পাচারকৃত অর্থ থেকে অন্য একটি মামলায় জরিমানা পরিশোধের অনুমতি দিয়েছিলেন, যা ২০২২ সালে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানে ফেরত দিয়ে জাতীয় কোষাগারে জমা দেয়।

তবে ইমরান খান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তিনি ২০২৩ সালে গ্রেফতারের পর থেকে জোর দিয়ে বলে আসছেন যে এসব অভিযোগ তাকে ক্ষমতায় ফিরে আসতে বাধা দেয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের একটি ষড়যন্ত্র।

২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান খান। এর আগে তিনি তিনটি পৃথক রায়ে দুর্নীতি, সরকারি গোপনীয় তথ্য প্রকাশ এবং বিবাহ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং যথাক্রমে ১০, ১৪ এবং সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন।
সূত্র : এপি নিউজ