Home Blog Page 475

উদ্ধার তৎপরতার মধ্যেই আবার ভূমিকম্প মিয়ানমারে

চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার মধ্যেই মিয়ানমারে আবারো ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার সকালে রিখটার স্কেলে ৪.১ মাত্রার এই কম্পনটি আফটারশক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে জনগণের মাঝে।

ভারতের ভূমিকম্প গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১১ এপ্রিল ২০২৫ ভারতীয় সময় সকাল ৮টা ২ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল মিয়ানমারে, অক্ষাংশ ১৮.৩৪° উত্তর এবং দ্রাঘিমাংশ ৯৫.৮৯° পূর্বে। এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার, যা ভূতলের কাছাকাছি হওয়ায় আফটারশকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

উল্লেখ্য, ২৮ মার্চ মিয়ানমারে সংঘটিত ৭.৭ মাত্রার বিধ্বংসী ভূমিকম্পে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়। সরকারি হিসাবে, ওই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৩,৬৪৫ জন নিহত, ৫,০১৭ জন আহত এবং ১৪৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ধসে পড়েছে অসংখ্য ভবন ও অবকাঠামো, বাস্তুচ্যুত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ।

নতুন করে আফটারশক অনুভূত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর মানুষ আরো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ভূমিকম্প-পরবর্তী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্গঠন কাজ এর ফলে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধান ভূমিকম্পের পর কয়েক সপ্তাহ বা মাসব্যাপী আফটারশক অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষত, ভূতলের কাছাকাছি গভীরতায় সংঘটিত কম্পনগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হয় এবং ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনাও বেশি থাকে।

ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কাজ করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের প্রতি সহানুভূতি ও সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।

সূত্র : এনডিটিভি

মার্চ ফর গাজার সমাবেশপূর্ব ঘোষণাপত্র

আগামীকাল ১২ মার্চ দল-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ‘মার্চ ফর গাজা’ সমাবেশ।

আজ শুক্রবার (১১ মার্চ) এ উপলক্ষে গণমাধ্যমে বিশেষ ঘোষণাপত্র পাঠিয়েছে সমাবেশটির আয়োজনকারী ব্যানার প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট।

ঘোষণাপত্রে তারা জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় অবৈধ দখলদার ইসরাইলের পক্ষ থেকে চলমান গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের বিরুদ্ধে আজ বিশ্বের বিবেকবান মানুষ সোচ্চার। ছয় শত কোটি মানুষের চোখের সামনে একটি ভূখণ্ডে প্রতিনিয়ত বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চালানো হচ্ছে অবর্ণনীয় সহিংসতা- যেখানে নারী ও শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না। বিমান হামলায় ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ মৌলিক অবকাঠামো। অথচ ৫৭টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র, ওআইসি এবং তাদের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক শক্তিও এ মানবিক সঙ্কট মোকাবেলায় এখনো সক্রিয় কোনো উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ।

এই প্রেক্ষাপটে, ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বজুড়ে শান্তিপ্রিয় মানুষেরা রাজপথে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। বাংলাদেশেও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের উদ্যোগে গাজায় চলমান নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে ‘প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে আগামীকাল শনিবার (১২ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অভিমুখে ‘মার্চ ফর গাজা’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম সকল রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সর্বস্তরের মানুষ এক কাতারে এসে ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে সংহতি প্রকাশ করবেন।

এই কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমের খতীব মুফতি আব্দুল মালেক।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অভিমুখে মার্চ ফর গাজায় আগতদের জন্য গেট ও রাস্তা ব্যবহারের নির্দেশনা : দুপুর ২টায় পাঁচটি পয়েন্ট থেকে মার্চ শুরু করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণোজমায়েতের সময় বিকেল ৩টা।

পথ নির্দেশনা :

স্টার্টিং পয়েন্ট ১ : বাংলামোটর। প্রবেশপথ : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রমনা গেইট (শাহবাগ হয়ে)

স্টার্টিং পয়েন্ট ২ : কাকরাইল মোড়। প্রবেশপথ: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট গেইট (মৎস ভবন হয়ে)।

স্টার্টিং পয়েন্ট ৩ : জিরো পয়েন্ট। প্রবেশপথ : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের টিএসসি গেইট (দোয়েল চত্বর হয়ে)।

স্টার্টিং পয়েন্ট ৪ : বকশীবাজার মোড়। প্রবেশপথ : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের টিএসসি গেইট (শহীদ মিনার হয়ে)।

স্টার্টিং পয়েন্ট ৫ : নীলক্ষেত মোড়। প্রবেশ পথ : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের টিএসসি গেইট (ভিসি চত্বর হয়ে)।

বিশেষ নির্দেশনাসমূহ

-টিএসসি মেট্রো স্টেশন এদিন বন্ধ থাকবে।

-সকল পরীক্ষার্থীর জন্য সকল রাস্তা বিশেষভাবে উন্মুক্ত থাকবে। পরীক্ষার্থীদেরকে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়া এবং যেকোনো প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতা নেয়ার অনুরোধ রইলো।

সাধারণ দিক নির্দেশনা

১. অংশগ্রহণকারীরা নিজ দায়িত্বে ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় সামগ্রী যেমন পানি, ছাতা, মাস্ক সাথে রাখবেন এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখবেন।

২. যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।

৩. রাজনৈতিক প্রতীকবিহীন, সৃজনশীল ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করুন। শুধুমাত্র বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের পতাকা বহনের মাধ্যমে সংহতি প্রকাশ করতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

৪. দুষ্কৃতিকারীদের অপতৎপরতা প্রতিহত করতে সক্রিয় থাকুন। প্রতিরোধ গঠনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা গ্রহণ করুন।

আসুন, আমরা সবাই একত্রিত হই- মানবতার পক্ষে, মজলুমের পাশে। পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের সাথে নিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করুন। আগামী প্রজন্মকে জানান ফিলিস্তিনের মানুষের যন্ত্রণার কথা, যাতে তারা শিখে কিভাবে মানবতা ও ন্যায়ের পক্ষে দাড়াতে হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

আম্পারদের এলিট প্যানেলে পরিবর্তন, জায়গা ধরে রেখেছেন সৈকত

০

পরিবর্তন এসেছে আম্পায়ারদের এলিট প্যানেলে। আইসিসির সেরা আম্পায়ারদের এই মিলনমেলায় এসেছে নতুন মুখ। তবে জায়গা ধরে রেখেছেন শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত।

২০২৫-২৬ মৌসুমের এলিট আম্পায়ারের তালিকা প্রকাশ করেছে আইসিসি। এই তালিকায় একমাত্র বাংলাদেশী শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। টানা দ্বিতীয়বারের মতো মর্যাদার এই তালিকায় আছেন তিনি।

তবে এলিট প্যানেলের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন দুই অভিজ্ঞ আম্পায়ার- ইংল্যান্ডের মাইকেল গফ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জোয়েল উইলসন। তরুণদের জায়গা করে দেয়ার লক্ষ্যে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

এই সুযোগে প্যানেলে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন দু’জন। তারা হলেন দক্ষিণ আফ্রিকার আলাহুদ্দিন পালেকার এবং ইংল্যান্ডের অ্যালেক্স ওয়র্ফ। প্রথমবারের মতো এই প্যানেলে এসেছেন তারা।

পালেকার এখন পর্যন্ত ৪টি টেস্ট, ২৩ ওয়ানডে ও ৬৭টি টি-টোয়েন্টিতে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ওয়ার্ফ ৭ টেস্ট, ৩৩ ওয়ানডে ও ৪৫টি টি-টোয়েন্টিতে অন-ফিল্ড আম্পায়ার ছিলেন।

তাছাড়া ইংল্যান্ডের হয়ে ১৩টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডেও খেলেছেন ওয়ার্ফ। পালেকার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে না খেললেও খেলেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট।

এলিট প্যানেলের আম্পায়ার তালিকা

কুমারা ধর্মসেনা (শ্রীলঙ্কা), ক্রিস গ্যাফানি (নিউজিল্যান্ড), অ্যাড্রিয়ান হোল্ডস্টোক (দক্ষিণ আফ্রিকা), রিচার্ড ইলিংওর্থ (ইংল্যান্ড), রিচার্ড কেটেলব্রো (ইংল্যান্ড), নিতিন মেনন (ভারত), আলাহুদ্দিন পালেকার (দক্ষিণ আফ্রিকা), আহসান রাজা (পাকিস্তান), পল রেইফেল (অস্ট্রেলিয়া), শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ (বাংলাদেশ), রড টাকার (অস্ট্রেলিয়া) এবং অ্যালেক্স ওয়র্ফ (ইংল্যান্ড)।

ড. ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ভালো করবে : বান কি-মুন

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন জাতিসঙ্ঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন। তিনি বলেছেন, ‘ড. ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরো ভালো করবে। বাংলাদেশ এখন এমন একজন নেতাকে পেয়েছে, যিনি বিশ্বব্যাপী সম্মানিত।’

আজ বৃহস্পতিবার চীনের বোয়াও ফোরামে দু’জনের বৈঠকের সময় বান কি-মুন এসব কথা বলেন।

ড. ইউনূস বাংলাদেশে নির্বিঘ্ন গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য বান কি-মুনের সমর্থন ও পরামর্শ কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা নতুনভাবে শুরু করতে চাই। এখন আমাদের জন্য এটি একটি দুর্দান্ত সুযোগ।’

বাংলাদেশ-কোরিয়া কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের স্মৃতিচারণ করে জাতিসঙ্ঘের সাবেক এ মহাসচিব বলেন, ‘যখন তিনি দিল্লিতে কূটনীতিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তখন বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে ভূমিকা রাখেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি যে কলম দিয়ে স্বাক্ষর করেছিলাম, সেটির মাধ্যমেই কোরিয়ার সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।’

বান কি-মুন বলেন, ‘বাংলাদেশ অনেক অগ্রগতি করেছে, তবে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিকভাবে আরো এগিয়ে যেতে পারতো।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘এক সময় কোরিয়া ও বাংলাদেশ একই অবস্থানে ছিল, কিন্তু এখন কোরিয়া অনেক এগিয়ে গেছে।’

ড. ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ চমৎকার, কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাদের ধ্বংস করেছে।’

বান কি-মুন জানান, ‘তিনি বাংলাদেশকে কোরিয়ান ব্যবসায়ী কিহাক সুং-এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন, যিনি ইয়াংওয়ান করপোরেশনের চেয়ারম্যান এবং কোরিয়ার অন্যতম সম্মানিত ব্যবসায়ী নেতা। পরে তিনি বাংলাদেশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন।’

প্রধান উপদেষ্টা জানান, ‘বাংলাদেশ সম্প্রতি কোরিয়ান ইপিজেডের দীর্ঘদিনের জমি সমস্যার সমাধান করেছে, যা ভবিষ্যতে আরো কোরিয়ান বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে।’

বাংলাদেশ বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ বৈঠকে জানান, কিহাক সুং নেতৃত্বাধীন ২৬ সদস্যের একটি কোরিয়ান ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল আসন্ন ঢাকা বিজনেস সামিটে অংশ নেবে।

প্রধান উপদেষ্টা বান কি-মুনের সমর্থন কামনা করেন রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের ক্ষেত্রে এবং তাকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

সংখ্যালঘুদের জন্য ‘বিশেষ উদ্বেগজনক’ দেশ ভারত

ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগজনক’ দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন। একই সাথে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র) ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিকাশ যাদবের ওপর যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর এসব সুপারিশের কথা সামনে এসেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিদেশের মাটিতে ভারতের শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হত্যাকাণ্ডের পেছনে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা র’য়ের হাত রয়েছে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে এই পরামর্শ দিয়েছে কমিশন।

ভারতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ভারতের পাশাপাশি ভিয়েতনামকেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, দেশটিতে ধর্মীয় ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ বাড়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

অবশ্য এই সুপারিশের বাস্তবায়ন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবে কমিশন যে দুটি দেশের বিষয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতিতে দেশ দুটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

চীন বিষয়ে যৌথ উদ্বেগের কারণে ‍যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছে ভারত ও ভিয়েতনাম। তাই এই পরামর্শের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন যুক্তরাষ্ট্রের একটি দ্বিদলীয় সরকারি উপদেষ্টা সংস্থা। বৈদেশিক ধর্মীয় স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণ করে নানা নীতিগত সুপারিশ দিয়ে থাকে সংস্থাটি।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি চীনের প্রভাব মোকাবেলায় ভারতকে পাল্টা শক্তি হিসেবে গণ্য করে ওয়াশিংটন। তাই দেশটির মানবাধিকার বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেয় না যুক্তরাষ্ট্র।

কমিশনের সুপারিশ বাধ্যতামূলক না হওয়ায় র’কে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন তারা।

২০২৩ সালে থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাতে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কার্যক্রমে ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ওয়াশিংটন-দিল্লি সম্পর্কে চিড় ধরে।

যুক্তরাষ্ট্রে এক শিখ নেতাকে হত্যার ব্যর্থ চেষ্টায় ভারতের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিকাশ যাদবের জড়িত থাকার অভিযোগ আনে ওয়াশিংটন, যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে ভারত। এ নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য, শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি মনে করে ভারত।

মার্কিন ওই কমিশনের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গত বছরজুড়ে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এই সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও বৈষম্য বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত নির্বাচনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠীসহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও অপতথ্য ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কমিশন।

সবশেষ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির পক্ষে প্রচারকালেও মোদি মুসলিমদের ভারতে ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে অ্যাখ্যা দেন। শুধু তাই নয়, ‘মুসলিমরা বেশি সন্তান জন্ম দেয়’- এমন মন্তব্যও করেন গত প্রায় ১১ বছর ধরে দেশটির প্রধানমন্ত্রীত্ব সামলানো এই নেতা।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা-বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভারতে সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের তথ্য উঠে এসেছে।

তবে এসব প্রতিবেদনকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মোদি বলেন, তার সরকার দেশে বিদ্যুতায়ন ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভতুর্কি দেয়াসহ যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, তাতে সব সম্প্রদায়ের মানুষই উপকৃত হয়েছেন।

ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপকভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘন হচ্ছে বলে অভিযোগ করে দেশটিকে ‘বিশেষ উদ্বেগজনক’ দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে এবং র ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে সুপারিশ করেছে মার্কিন ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন।

ভারতে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্বে ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল, মুসলিমদের সম্পদ ধ্বংসের মতো মানবাধিকারবিরুদ্ধ কার্যকলাপের পরিপ্রেক্ষিতে এই সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান মানবাধিকারকর্মীরা।

এই সুপারিশের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি যুক্তরাষ্ট্রের ভারতীয় দূতাবাস।

অপরদিকে, সম্প্রতি একটি ডিক্রি জারি করে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থের হিসাব চেয়েছে ভিয়েতনাম প্রশাসন। একে ধর্মীয় স্বাধীনতার ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেছে মার্কিন ওই কমিশন।

তাছাড়া ধর্মীয় কার্যক্রম বা ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করার দায়ে প্রায় ৮০ জন বন্দীর তথ্য তুলে ধরেছে কমিশন, ভিয়েতনাম সরকার যাদের সাজা দিয়েছে। এসব কারণে ভিয়েতনামকেও ‘বিশেষ উদ্বেগজনক’ দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

ভিয়েতনাম দূতাবাসও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

সূত্র : ইউএনবি

ইসরাইলি বিমান হামলায় হামাস মুখপাত্র নিহত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় হামাসের মুখপাত্র আবদেল-লতিফ আল-কানৌয়া নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) ভোরে উত্তরাঞ্চলীয় শহর জাবালিয়ায় ইসরাইলি যুদ্ধবিমানের হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হামাস পরিচালিত আল-আকসা টেলিভিশন।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, জাবালিয়ায় আল-কানৌয়ার তাঁবু লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে তিনি নিহত হন। একই হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন।

অন্যদিকে গাজা সিটিতে পৃথক হামলায় কমপক্ষে ছয়জন এবং দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে একজন নিহত হন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।

এই সপ্তাহের শুরুতে ইসরাইল হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সদস্য ইসমাইল বারহুম ও আরেকজন সিনিয়র নেতা সালাহ আল-বারদাউইলকে হত্যা করেছে।

হামাস সূত্র অনুসারে, বারদাউইল ও বারহুম উভয়ই ২০ সদস্যবিশিষ্ট হামাসের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা ও রাজনৈতিক কার্যালয়ের সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে ১১ জন ২০২৩ সালের শেষের দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিহত হয়েছেন।

গত সপ্তাহ থেকে ইসরাইল দুই মাস ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে গাজায় বোমাবর্ষণ ও স্থল অভিযান পুনরায় শুরু করেছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাস যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তিনি হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার তিনি আবারো হুমকি দিয়েছেন, হামাস যদি তাদের দখলে থাকা অবশিষ্ট পণন্দীদের মুক্তি না দেয় তবে গাজার অঞ্চল দখল করা হবে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ মার্চ থেকে গাজায় ইসরাইলের বড় ধরনের সামরিক হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে কমপক্ষে ৮৩০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু।

সূত্র : রয়টার্স

প্রধান উপদেষ্টাকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তারেক রহমান

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা কার্ড পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এই কার্ড পৌঁছে দেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শুভেচ্ছা কার্ড গ্রহণ করেন প্রধান উপদেষ্টার সচিব সাইফুল্লাহ পান্না।

সূত্র : বাসস

বাংলাদেশ ও ড. ইউনূসকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ট্রাম্পের চিঠি

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণ ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মার্কিন যুত্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্টের শুভেচ্ছা বার্তাটি প্রকাশ করা হয়েছে।

শুভেচ্ছা বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পক্ষ থেকে আমি আপনাকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এই পরিবর্তনের সময় বাংলাদেশের জনগণের জন্য গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বর্ধিত নিরাপত্তার জন্য সক্ষমতা তৈরির একটি সুযোগ এনে দিয়েছে। আসন্ন এই গুরুত্বপূর্ণ বছরে আমাদের অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উন্মুখ।

ট্রাম্প বলেন, আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমরা আমাদের সম্পর্ক জোরদার করার সাথে সাথে আমাদের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে পারব এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা উন্নয়নে একসাথে কাজ করতে পারব। এই স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আপনার এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন।

এশীয় দেশগুলোর ভাগ্য পরস্পরের সাথে জড়িত : ড. ইউনূস

এশিয়ার দেশগুলোকে অভিন্ন ভবিষ্যৎ ও সমৃদ্ধির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘এই পরিবর্তনশীল বিশ্বে এশীয় দেশগুলোর ভাগ্য একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িত। আমাদের অবশ্যই একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে যা অভিন্ন ভবিষ্যৎ ও অভিন্ন সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাবে।’

আজ বৃহস্পতিবার চীনের হাইনান প্রদেশের বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া (বিএফএ) সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ চীনে গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী ‘দ্য বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া (বিএফএ) বার্ষিক সম্মেলন-২০২৫’ এর পর্দা উঠছে শুক্রবার। গত বুধবার বিকেলে চীন সরকারের পাঠানো বিশেষ ফ্লাইটে হাইনান প্রদেশের বোয়াও পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা। বৃহস্পতিবার তিনি বোয়াও সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। শুক্রবার বেইজিংয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সাথে বৈঠক করবেন তিনি। এছাড়া তিনি দেশটির মর্যাদাপূর্ণ পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য দেবেন। সেখানে তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেয়া হবে বলে জানা গেছে। শনিবার প্রধান উপদেষ্টা দেশে ফিরবেন।

বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এশিয়াকে অবশ্যই একটি টেকসই অর্থায়ন প্রক্রিয়া তৈরি করতে হবে এবং এই প্রচেষ্টায় আঞ্চলিক বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক (মাল্টিলেটরাল ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক) এবং অনুরূপ প্রতিষ্ঠানগুলোকে নেতৃত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্ভরযোগ্য তহবিল প্রয়োজন যা আমাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।’

বাণিজ্য সহযোগিতার বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এশিয়া বিশ্বের অন্যতম কম সংযুক্ত অঞ্চল। এই দুর্বল সংযোগ বিনিয়োগ ও বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে। আমাদের অবশ্যই বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য অবিলম্বে কাজ করতে হবে।

খাদ্য ও কৃষি সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, এশীয় দেশগুলোকে সম্পদ-সাশ্রয়ী কৃষিকে উৎসাহিত করতে হবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে এবং স্বনির্ভরতা অর্জন করতে হবে। প্রযুক্তিভিত্তিক টেকসই কৃষি সমাধান সম্প্রসারণ এবং পুনর্জীবনশীল ও জলবায়ু-স্মার্ট কৃষিতে উদ্ভাবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এশিয়াকে অবশ্যই একটি শক্তিশালী প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে, যা হবে পুনরুদ্ধারমূলক, সমবন্টিত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক।

ড. ইউনূস বলেন, ‘আমাদের জ্ঞান ও তথ্য ভাগাভাগি করতে হবে এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ইনকিউবেশনে বিনিয়োগ করতে হবে। ডিজিটাল সমাধানের ওপর সহযোগিতা উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের যৌথ উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ ও যুবশক্তিকে একত্রিত করতে হবে। আমাদের অবশ্যই একটি নতুন সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করতে হবে- একটি আত্মরক্ষা ও আত্মস্থায়ী সমাজ। আমাদের এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে যা শূন্য-বর্জ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ভোগবাদের সীমাবদ্ধতা থাকা উচিত শুধু অপরিহার্য চাহিদার মধ্যে। আমাদের অর্থনীতি সামাজিক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে হবে, যেখানে উদ্ভাবন, উদ্দেশ্য ও দায়িত্ব একত্রিত হয়।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বোয়াও ফোরাম এবং এশিয়ার অন্যান্য অনুরূপ উদ্যোগগুলোকে যুবসমাজ ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এশিয়াকে আরো উন্নত স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শূন্য কার্বন নিঃসরণ, শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ এবং সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে শূন্য বেকারত্ব- প্রতিটি তরুণকে এই ‘তিন-শূন্য’ নীতির অনুসারী হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। এটাই সেই অভিন্ন ভবিষ্যৎ, যা আমাদের এশিয়াতে একসাথে গড়ে তুলতে হবে।

বিশ্বব্যাপী আর্থিক বাজারের অস্থিরতা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্য বাধা অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, সুদের হার বৃদ্ধি এবং ঋণ পরিশোধের ব্যয় এশিয়ার ঋণ সঙ্কটকে আরো গভীর করছে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও অগ্রগতি ধীর। এখন পর্যন্ত মাত্র ২৪ শতাংশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জিত হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, উন্নয়নশীল এশীয় দেশগুলোর বার্ষিক এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য ২.৫ থেকে ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক ঘাটতি রয়েছে। এসডিজি অর্থায়নের পাশাপাশি, এশিয়ার অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যের জন্য দায়িত্বশীল বিনিয়োগের প্রয়োজন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ দুর্নীতি ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের শিকার হয়েছে, যেখানে এসব দুর্নীতির কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো প্রতি বছর আনুমানিক ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার হারায়, যা তারা মোট উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে যা পায় তার অনেকগুণ বেশি। এশিয়াকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সম্পদ পুনরুদ্ধার ও ফিরিয়ে দেয়ার জন্য একটি বহুপক্ষীয় মধ্যস্থতা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা ক্রমাগত চাপে রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন-আয়ের পরিবারের বাজেটে চাপ সৃষ্টি করছে।’

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ এই সঙ্কটকে আরো গভীর করছে এবং খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলা শক্তিশালী করা অপরিহার্য।

তিনি আরো বলেন, শক্তি নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যেসব উন্নয়নশীল দেশ জ্বালানির জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে মুদ্রাস্ফীতি, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং ঋণের চাপ বাড়ে। আমাদের টেকসই জ্বালানি সমাধান খুঁজে বের করতে হবে এবং নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘যেসব দেশ সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ করে, তারা অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতায় ভালো ফলাফল পায়।’

তিনি বলেন, ভবিষ্যতের চাকরির জন্য আমাদের যুবসমাজকে প্রস্তুত করতে ডিজিটাল শিক্ষা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করতে হবে।

বিশ্বব্যাপী সঙ্কট সম্পর্কে বক্তব্য দিতে গিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে, জলবায়ু পরিবর্তন তীব্র হচ্ছে, ঋণের বোঝা অসহনীয় হয়ে উঠছে এবং মানবিক সংকট বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি বলেন, উন্নয়ন সহযোগিতার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা দুর্বল হচ্ছে এবং বিশ্ব সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতার ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ব জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক জিডিপির ৫৫ শতাংশের আবাসস্থল এশিয়া এখন এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

তিনি বলেন, উদীয়মান নীতিমালা, নিয়মকানুন এবং প্রযুক্তি প্রশাসন ও অর্থনৈতিক নীতিকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। এক দশক আগে নীতিগুলো যে অনুমানগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল, সেগুলো এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রয়োজন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এশীয় নেতাদের সামনে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অধ্যাপক ইউনূস উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ গত সাত বছর ধরে ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে, যারা মিয়ানমারের নাগরিক। তিনি বলেন, ‘আমরা বিপুল সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ব্যয় বহন করে চলেছি।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সম্প্রতি সংহতির নিদর্শনস্বরূপ রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, ‘যদিও বৈশ্বিক প্রচেষ্টা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পাচ্ছে, তবে তা চলমান রয়েছে। এশিয়ার নেতাদের অবশ্যই একসাথে এগিয়ে আসতে হবে এবং তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে হবে।’

বিশ্ব সঙ্কটের ওপর আলোকপাত করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বর্তমান বিশ্ব বহুমুখী সঙ্কটে ভুগছে, যেখানে যুদ্ধ ও সংঘাত মানবাধিকারের ক্ষতি এবং অর্থনীতিকে ধ্বংস করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী নিন্দা চলমান থাকলেও গাজায় গণহত্যা এখনো চলছে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘ফিলিস্তিন সঙ্কট শুধু আরব বা মুসলিমদের বিষয় নয়, এটি একটি মানবিক সমস্যা।’

প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, ইউক্রেন সঙ্কটের দীর্ঘায়িত উত্তেজনা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং মিয়ানমারের দীর্ঘস্থায়ী সঙ্কট আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এশিয়ার সম্ভাবনা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এশিয়ার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, উদ্ভাবন ও উৎপাদনশীলতার চালিকা শক্তি হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই তরুণদের উদ্যোক্তা কার্যক্রম ও টেকসই সমাধানের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘মানবসম্পদে বিনিয়োগ এবং বিশ্ববাজারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এশিয়ার ভবিষ্যত প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা নির্ধারণ করবে।’

তিনি বলেন, এশিয়ায় নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ এখনো কম এবং নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য বিদ্যমান রয়েছে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর এবং তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এশিয়ার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য- যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ভাষা, ঐতিহ্য, দর্শন ও রীতিনীতি- মানব সভ্যতার স্থিতিশীলতা যা সৃজনশীলতার সাক্ষ্য বহন করে।

তিনি বলেন, ‘ইসলাম, কনফুসিয়ানবাদ, বৌদ্ধধর্ম এবং হিন্দুধর্মের দর্শন বিশ্ব চিন্তাধারাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে, যা নৈতিকতা, শাসন ও মানবিক চেতনার ওপর অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে।’

অধ্যাপক ইউনূস আরো বলেন, ‘বহু শতাব্দী ধরে এশিয়ার সভ্যতা বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করে সমৃদ্ধ হয়েছে। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এই গতিশীল বিনিময় শুধু এই অঞ্চলকেই নয়, পুরো বিশ্বকে প্রভাবিত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আজ এশিয়ার সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি তার বৈশ্বিক প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করছে। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সংমিশ্রণ, প্রাচীন জ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা এবং আধুনিক উদ্ভাবনের সংযুক্তি একসাথে এক শক্তিশালী গতি তৈরি করেছে, যা অঞ্চলটিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং তার গভীর ঐতিহাসিক শিকড়কে সম্মান জানাচ্ছে।’

সম্মেলনে তিনি বিশ্ব নেতাদের বাংলাদেশ পরিস্থিতিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশে জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে। আমাদের যুব সমাজ এবং নাগরিকরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনে অসাধারণ দৃঢ়তা ও শক্তি প্রদর্শন করেছে। জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।’

নির্বাচনী ব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, বেসামরিক প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংস্কারের জন্য স্বাধীন কমিশন গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘এই সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে আমাদের জাতির মৌলিক রূপান্তর ঘটবে। আমরা যখন নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলছি, তখন আমাদের একাধিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে, যা অন্যান্য এশীয় দেশগুলোর সাথে সম্পর্কিত।’

সম্মেলনে জাতিসঙ্ঘের সাবেক মহাসচিব ও বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার চেয়ারম্যান বান কি-মুন, চীনের স্টেট কাউন্সিলের নির্বাহী উপ-প্রধানমন্ত্রী ডিং শুয়েশিয়াং এবং বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার মহাসচিব ঝাং জুন বক্তব্য দেন।

ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ঘোষণা

২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্বাচনের ফল বাতিল করে সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো: নুরুল ইসলাম এ রায় দেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ইশরাক হোসেন।