Home Blog Page 478

৮ বছর আইনি লড়াই : অ্যাঞ্জেলিনা- ব্র্যাড পিট’র বিবাহ বিচ্ছেদ

হলিউডের তারকা দম্পতি ব্র্যাড পিট এবং অ্যাঞ্জেলিনা জোলি সোমবার বিবাহ বিচ্ছেদের মীমাংসাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

পিপল ম্যাগাজিনের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, আট বছরের আইনি লড়াইয়ের পর এই বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পন্ন হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

জোলির আইনজীবী জেমস সাইমন মীমাংসার বিষয়টি নিশ্চিত করে এক বিবৃতিতে বলেছেন, জোলি তাদের পরিবারের শান্তি ও স্বস্তির দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন।

তিনি বলেন, এটি দীর্ঘ চলমান প্রক্রিয়ার একটি অংশ, যা আট বছর আগে শুরু হয়েছিল। সত্যি বলতে, অ্যাঞ্জেলিনা ক্লান্ত, কিন্তু এই অধ্যায়টি শেষ হওয়ায় তিনি স্বস্তি পেয়েছেন।

জোলি (৪৯) এবং ব্র্যাড পিট (৬১) ছিলেন হলিউডের খুবই জনপ্রিয় তারকা দম্পতি।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জোলি তাদের বিয়ে ভেঙে দেয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন এবং তখন থেকেই আদালতে লড়াইয়ে এই জুটির বিষয়টি আটকে ছিল।

২০০৫ সালে ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস স্মিথ’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করার পর পিট এবং জোলি একসাথে জুটিবদ্ধ হন।

তিনটি দত্তকসহ তাদের ছয়টি সন্তান রয়েছে।

সূত্র : এএফপি

চিত্রনায়িকা অঞ্জনা রহমান মারা গেছেন

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী অঞ্জনা রহমান মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শিল্পী সমিতির সভপতি শহীদ হাসান মিশা (মিশা সওদাগর) তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডিসেম্বরের শুরুতে জ্বরে আক্রান্ত হন অঞ্জনা। জ্বর না কমায় গত ২২ ডিসেম্বর তাকে বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েক দিন করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রেখে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এরপর তাকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।

কয়েকটি পরীক্ষার পর রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়ে।

দুপুরে এফডিসিতে শেষ শ্রদ্ধা
শনিবার (৪ জানুয়ারি) বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে৷ এর আগে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার লাশ নেয়া হবে এফডিসিতে। এমনটাই জানিয়েছেন মিশা সওদাগর।

তিনি জানান, অঞ্জনাকে শনিবার বাদ যোহর এফডিসিতে নেয়া হবে। সেখানে তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাবেন চলচ্চিত্রের সহকর্মী থেকে সাধারণ ভক্ত অনুরাগীরা। পরে সেখানেই হবে প্রথম নামাজে জানাজা।

এফডিসি থেকে অঞ্জনার লাশ নিয়ে যাওয়া হবে বনানী কবরস্থানে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে দাফন করা হবে। এ বিষয়ে মিশা জানান, পরিবারের সাথে কথা বলে জেনেছি, তাদের প্রথম চয়েস বনানী কবরস্থান, সেখানে কোনো কারণে দাফন করা না গেলে জুরাইন কবরস্থান বিকল্প হিসেবে ভেবে রাখা হয়েছে।

৩ শতাধিক চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী অঞ্জনা। ১৯৮১ সালে ‘গাংচিল’ এবং ১৯৮৬ সালে ‘পরিণীতা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য দুইবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি৷ এছাড়া তিনি মোহনা (১৯৮৩), পরিণীতা (১৯৮৬) এবং রাম রহিম জন (১৯৮৯) চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে তিনবার বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন।

চলচ্চিত্র জগতে আসার আগে তিনি একজন নামী নৃত্যশিল্পী ছিলেন। অঞ্জনার অভিনয় জীবন শুরু হয় ১৯৭৬ সালে বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘সেতু’ চলচ্চিত্র দিয়ে। তবে তার মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র শামসুদ্দিন টগর পরিচালিত দস্যু বনহুর (১৯৭৬)। রহস্য ভিত্তিক এই ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন সোহেল রানা।

১৯৭৮ সালে তিনি আজিজুর রহমান পরিচালিত ‘অশিক্ষিত’ চলচ্চিত্রে নায়ক রাজ রাজ্জাকের বিপরীতে লাইলি চরিত্রে অভিনয় করেন। রাজ্জাকের বিপরীতে তিনি ৩০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়া আলমগীর, জসিম, বুলবুল আহমেদ, জাফর ইকবাল, ওয়াসিম, উজ্জ্বল, ফারুক, ইলিয়াস জাভেদ , মিঠুন চক্রবর্তী, (ভারত) ইলিয়াস কাঞ্চন, সোহেল চৌধুরী, রুবেল, সুব্রত বড়ুয়া, মান্নার মতো তারকা নায়কদের সাথে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক প্রশংসিত হন।

টিকটক করতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় টিকটিক করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক তরুণী। পরে ওই তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ছয় যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকছেদুর রহমান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলা গ্রামে শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, এ ঘটনায় ওই তরুণীর মা ধর্ষণের অভিযোগে একটি এবং পর্নগ্রাফি আইনে আরো একটি মামলা করেন।

গ্রেফতার আসামিরা হলেন ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী গ্রামের আমজাদ খাঁনের ছেলে আকরাম খাঁন (২৫), মধুখালি উপজেলার কাঠালবাড়ি গ্রামের সাগর মোল্লার ছেলে জুয়েল মোল্লা (৩০), সাইদুল মোল্লা (৩০), মামুন শরীফ (৩২), বাবু মোল্লা (৩০) ও মো: জুয়েল মোল্লাকে (২৪)।

জানা যায়, চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলা গ্রামের আকরাম খাঁন নামে এক যুবক টিকটক ভিডিও করার জন্য ওই তরুণীকে বোয়ালমারী উপজেলা থেকে ভাঙ্গায় তার গ্রামে নিয়ে যায় আকরাম ও তার সহযোগী জুয়েল। এরপর নির্জন এক বাড়িতে নিয়ে ওই তরুণীকে প্রথম দফায় ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপর সেখান থেকে ওই তরুণীকে বাবলাতলা বাজারের কাছে একটি বিউটি পার্লারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে চুমুরদী ইউনিয়নের স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আনারুদ্দিন মোল্লার ছেলে ছাইদুল মোল্লাসহ পাঁচ থেকে ছয়জন যুবক সন্দেহভাজন আচরণ দেখে তাদের আটকে রাখে।

ভুক্তভোগী তরুণী ও পরিবারের অভিযোগ, গভীর রাতে ছাইদুল ও তার সহযোগীরা ওই তরুণী ও আকরামকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারপিট করে বিভিন্ন আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে। এরপর ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে। পরে ভুক্তভোগী ভাঙ্গা থানায় গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানায়। রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোকছেদুর রহমান জানান, ‘আটকদের মোবাইলে ধারণ করা আপত্তিকর ভিডিওর ফুটেজ জব্দ করেছে পুলিশ। রোববার গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে।’

কাশ্মিরে ভারতীয় ৪ সেনা সদস্য নিহত

ভারতশাসিত কাশ্মিরে সড়ক দুর্ঘটনায় চার সেনা সদস্য নিহত হয়েছে। এছাড়া আরো তিনজন আহত হয়েছে। শনিবার (৪ জানুয়ারি) ভূস্বর্গের বান্দিপোরা জেলায় এ ঘটনা ঘটে।

সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়েছে, ভূস্বর্গের বান্দিপোরা জেলায় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে গড়িয়ে গেল ভারতীয় সেনা বাহিনীর একটি ট্রাক। এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে চারজনের। আহত হয়েছেন আরো তিনজন। এ ঘটনায় উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে।

সেনা সূত্রে জানিয়েছে, সদর কুট পায়েনের কাছে পাহাড়ি পথে বাঁক নিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান চালক। এর পরেই ট্রাকটি রাস্তা লাগোয়া খাদে গড়িয়ে যায়। তাতেই গুরুতর জখম হন বেশ কয়েকজন জওয়ান। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আরো তিনজনের চিকিৎসা চলছে। তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানা গেছে। ঘটনাস্থলে সেনার পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, খাদে সেনার গাড়ি পড়ে দুর্ঘটনা এই প্রথম নয়। গত ২৪ ডিসেম্বর পুঞ্চে ৩৫০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায় সেনার আরেকটি গাড়ি। ওই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল পাঁচজনের। আরো পাঁচজন আহত হয়েছিলেন। তার আগে গত নভেম্বরে রাজৌরি জেলায় খাদে সেনার গাড়ি পড়ে মৃত্যু হয়েছিল একজনের, আহত হন আরো একজন।

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন

চক্রান্তের কাছে মাথানত করবো না : মির্জা ফখরুল

বিএনপিকে নিয়ে অনেক ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে মন্তব্য করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আজকে অনেক ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, চক্রান্ত শুরু হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তের কাছে আমরা মাথানত করব না।’

শনিবার সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রদলের আয়োজনে শহরের সাধারণ পাঠাগার চত্বরে এক ছাত্র সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যারা যুদ্ধ করেছিল জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে, তারা সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক একটা দেশ দেখতে চেয়েছিল। তারা বৈষম্যে বিশ্বাস করেনি, তারা বৈষম্যহীন একটা রাষ্ট্র চেয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘আজকে সবখানে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে, দুর্নীতি হয়েছে। সবখানে দুর্নীতিতে ভরে গেছে। সেই বৈষম্য ও দুর্নীতি দূর করে জনগণের একটা সরকার, পার্লামেন্ট করতে পারি; জনগণ যাতে ভোট দিতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে পারি। সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’

এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে নতুন একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ১৫ বছর আমরা আন্দোলন করেছি শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে। এই ফ্যাসিস্ট সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। পাশাপাশি দেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। অসংখ্য ছাত্রকে হত্যা করেছিল।’

তিনি বলেন, ‘এই আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই তারা জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায় এবং তারা দেশের সবকিছুকে ধ্বংস করে দেয়। আজকে আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে। আমাদের সামনে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজকে আমাদের বিশেষ করে যেটা প্রয়োজন- সেটা হলো ঐক্য, জনগণের ঐক্য, তার সাথে ছাত্রদের ঐক্য।’

ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো: কায়েসের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর করিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ।

আগামী নির্বাচন সম্পূর্ণ অবাধ-সুষ্ঠু হবে : ড. ইউনূস

বাংলাদেশের আগামী সাধারণ নির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি ড. রূপা হককে আশ্বাস দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাজ্যের এমপি রূপা হক সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘গত তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। সেখানে ছিল ভুয়া সংসদ, ভুয়া এমপি ও ভুয়া স্পিকার। দেশের জনগণ এখন তাদের কণ্ঠ ফিরে পেয়েছে। তাদের কণ্ঠ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল।’

এ সময় রূপা হকের এক প্রশ্নের জবাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের জন্য দুটি সম্ভাব্য সময়সূচি রয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৫ বা ২০২৬ সালের মাঝামাঝি। তবে নির্বাচনের তারিখ নির্ভর করছে মানুষ কতটা সংস্কার চায় তার ওপর।

রূপা হক আগামী সাধারণ নির্বাচনের অস্থায়ী তারিখ, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দেখে সত্যিই আমি উৎসাহিত।’ আগামী সাধারণ নির্বাচন দেখতে বাংলাদেশে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা তাকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জনগণের ওপর চালানো হাসিনা সরকারের নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ হাইকমিশন ঢাকার ডেপুটি হাইকমিশনার ও ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেমস গোল্ডম্যান।

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ৮টি এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করল রাশিয়া

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহকৃত আটটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এটিএসিএমএস গুলি করে ভূপাতিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত নভেম্বরে ইউক্রেনকে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেন। এগুলো ব্যবহার করে রাশিয়ায় হামলা হলে কিয়েভের মধ্যাঞ্চলে হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল মস্কো।

লকহিড মার্টিনের তৈরি করা এটিএসিএমএস একটি স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এর মডেলের ওপর ভিত্তি করে এটি ৩০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে এবং এতে প্রায় ৩৭৫ পাউন্ড বিস্ফোরক থাকে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আজ (শনিবার) জানিয়েছে, ‘আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আটটি এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র ও ৭২টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে।’

এছাড়া, রাশিয়া পূর্ব লুহানস্ক অঞ্চলে কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে থাকা নাদিয়া গ্রামটি দখল করেছে বলেও মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ২০২৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় চার হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে বলে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আজ সকালে রাশিয়ার ভূখণ্ডে ১০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে। যার মধ্যে তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে উত্তর লেনিনগ্রাদ অঞ্চলে।

সূত্র : মস্কো টাইমস ও অন্যান্য

এবার প্রেসিডেন্সিয়াল পদক পাচ্ছেন বিশ্বজয়ী মেসি

দুনিয়া দেখা কাতার বিশ্বকাপের আসরেই নিজের শ্রেষ্ঠত্বের জানান দিয়েছেন লিওনেল মেসি। বিশ্ব ফুটবলকে তাক লাগিয়ে জিতে নিয়েছেন বিশ্ব জয়ের শিরোপা। দলের হয়ে ফুটবল দুনিয়ার শিরোপা খরার আক্ষেপ গুছিয়েছেন এ আর্জেন্টাইন।

তবে এবার মাঠের বাইরে অন্য এক পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন লিও মেসি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব অনার পাচ্ছেন ফুটবল বিশ্বের এই মহাতারকা।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) এক দাফতরিক ঘোষণায় চলতি বছরের প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব অনারের জন্য ১৯ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। আগামী ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব অনারের মর্যাদা তুলে দিবেন ফুটবলের এই যাদুকরের হাতে। দুনিয়া দেখবে আরো একটি স্মরণীয় মুহূর্ত।

রাজনীতি, মানবাধিকার, ক্রীড়াঙ্গন, বিজ্ঞান, বিনোদন নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের এই পুরস্কার দেয়া হয়। এবার বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় রাষ্ট্রপতি পদক পাচ্ছেন ১৯ জন। এর মধ্যে ক্রীড়া বিভাগ ও শিশুদের নিয়ে কাজ করায় তালিকায় ওঠে এসেছেন বিশ্বজয়ী ও পর পর দু’বার কোপা জয় করা লিওনেল মেসি।

ফুটবলের এই তারকা খেলোয়াড় ২০২৩ সালের জুনে পিএসজি থেকে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে এনেছেন দুর্দান্ত পরিবর্তন। মেসির মায়ামিতে যোগ দেয়ার পর থেকে পাল্টে গেছে যুক্তরাষ্ট ফুটবলের গতি।

ব্রহ্মপুত্রের ওপর বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের ঘোষণা চীনের, প্রতিবাদ ভারতের

চীনের তিব্বতে ইয়ারলুং জাংবো নদে (ব্রহ্মপুত্র) বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প ঘোষণা করেছে চীন। এই খবরে ভাটির দেশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত।

ব্রহ্মপুত্র নদটি বিশাল বাঁক নিয়ে ভারতের অরুণাচল রাজ্যে প্রবেশ করে তারপর বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়।

এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, এ বিষয়ে ভারতের মতামত ও উদ্বেগের কথা চীনকে জানানো হয়েছে।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, অভিন্ন নদীর ক্ষেত্রে ভাটির দেশেরও কিছু অধিকার আছে। রাজনৈতিক ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে ওই অধিকারের কথা বারবার জানানো হয়েছে। ওই অধিকার ও স্বার্থের বিষয়ে ভারতের পর্যবেক্ষণ জারি আছে। সরকার সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করবে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণের আগে ভাটির দেশের সাথে আলোচনা করা জরুরি। পরিস্থিতির ওপর ভারত নজর রাখছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।

চীন কয়েক দিন আগেই ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপর ভারত সীমান্তের কাছাকাছি তিব্বতে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণের জন্য ১৩৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এই বাঁধ হিমালয়ের এমন এক গভীর গিরিখাতে নির্মাণ করা হবে যেখানে ব্রহ্মপুত্র নদ বিশাল বাঁক নিয়ে ভারতের অরুণাচল রাজ্যে প্রবেশ করে এবং তারপর বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়। দেশটির ‘থ্রি গর্জেস’ বাঁধের চেয়ে বড় প্রস্তাবিত এই বাঁধ। এটি নির্মিত হলে তা হবে পৃথিবীর বৃহত্তম বাঁধ।

এই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তবর্তী তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের নিংট্রি (নিয়ংচি) প্রাদেশিক এলাকার মেদোগ (চীনা ভাষায় মোতুও) বিভাগে নির্মিত হবে।

বাঁধ নির্মাণ ছাড়াও লাদাখের কিছু এলাকা নিয়ে হোটন প্রদেশে চীন দুটি নতুন প্রশাসনিক অঞ্চল বা কাউন্টি গড়ে তুলেছে। সম্প্রতি সেই ঘোষণা দিয়েছে তারা। ওই সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত।

জয়সওয়াল বলেন, ওই তল্লাটে চীনের দখলদারি ভারত কখনো মেনে নেয়নি, নেবেও না। তাদের ওই ঘোষণা ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। ওই এলাকা ভারতের ছিল, ভারতেরই থাকবে। কূটনৈতিক পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হবে।

সূত্র : এনটিভি ও অন্যান্য

সরকারের মেয়াদ ও প্রধানমন্ত্রী বিষয়ে নাগরিক কমিটির প্রস্তাব

সরকারের মেয়াদ হবে চার বছর। দেশে কোনো ব্যক্তি দু’বারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। নির্বাহী বিভাগ প্রধানমন্ত্রী পরিচালনা করলেও সাংবিধানিক পদে নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকবে না। সংবিধান প্রস্তাবনায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার বিষয়ে এমন প্রস্তাব এনেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) জাতীয় নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাবনার কথা জানানো হয়।

প্রস্তাবনায় বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি একইসাথে নিজ দলের প্রধান এবং সংসদ নেতা হতে পারবেন না। জীবনে দু’বারের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর রাষ্ট্রের আর কোনো পদেই তিনি থাকতে পারবেন না। কোম্পানি বা ব্যবসায়ী উদ্যোগের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে। প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় সব সম্পদ এবং সম্পত্তি স্টেট ব্যাংকের অধীনে চলে যাবে।

এতে বলা হয়, কোনো সাংবিধানিক পদের নিয়োগে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারবেন। তবে তা পালন করা রাষ্ট্রপতির জন্য আবশ্যকীয় হবে না। সাংবিধানিক পদে নিয়োগ ও অপসারণ আইন দ্বারা নির্ধারিত হবে। সাংবিধানিক পদে আসীন কাউকে অপসারণ করার ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর থাকবে না।

প্রস্তাবনায় বলা হয়, ৭০ অনুচ্ছেদের কঠোরতা খর্ব করতে হবে। সংসদ সদস্যরা দল বদল করলে তথা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিলে বা দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করলে বা অব্যাহতি দেয়া হলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে। আস্থা ভোটে দলের বিপরীতে ভোট দেয়া যাবে না। তবে অন্য যেকোনো বিষয়ে তিনি স্বাধীন থাকবেন, দলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারবেন। সরকারের মেয়াদ হবে চার বছর।

প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীসভার যাবতীয় সিদ্ধান্ত রদ করা বা চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা সংসদীয় দলের থাকবে। প্রধানমন্ত্রী হবেন সম ব্যক্তিদের মধ্যে প্রথম, অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী ক্রমবিচারে প্রথম হবেন, ক্ষমতা বিচারে নয়। মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রধানমন্ত্রী চয়ন করবেন। তবে সংসদের তাতে অনুমোদন নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন করবেন এবং রদবদল করতে পারবেন। তবে অপসারণ করতে হলে সংসদের অনুমোদন নিতে হবে। সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা বাড়াতে হবে। মন্ত্রিসভার যাবতীয় সিদ্ধান্ত সংসদীয় কমিটি চ্যালেঞ্জ করতে পারবে। শুনানি এবং সুপারিশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত আইনসভায় পাঠাবে মন্ত্রিসভা। এরপর সুপারিশ আইনসভায় ভোটাভুটির মুখোমুখি হবে।

এতে আরো বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেয়ার অধিকারী হবেন। তবে তা পালন করা রাষ্ট্রপতির জন্য আবশ্যকীয় হবে না। আইনসভাই কেবল সিদ্ধান্ত নেবে। তবে জরুরি আইন/আদেশ সর্বোচ্চ আদালতের কাছে পাঠাতে হবে। আদালত আইনের সাংবিধানিকতা/ অসাংবিধানিকতা সম্পর্কে রায় দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত বাহিনীগুলার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান হবেন। কোনো বাহিনীই সরাসরি তার অধীন থাকবে না।

প্রতিরক্ষা বা স্বরাষ্ট্র কোনো মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজে প্রধান হিসেবে থাকতে পারবেন না। বাহিনীর চেইন অব কমান্ড আইন ও বিধি দ্বারা সঙ্গত থাকবে। চেইন অব কমান্ডে হস্তক্ষেপ হবে অবৈধ। তবে যেকোনো কাজের সঠিকতা সম্পর্কে জবাবদিহি থাকবে।

প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়, কোনো আদালতই প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণে রায় ঘোষণা করতে পারবেন না। কেবল সংসদ কর্তৃক আস্থাভোটই হবে তাকে অপসারণের বৈধ উপায়। সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী যেন একক কর্তৃত্ব ভোগ না করেন, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন করতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী নিম্নকক্ষের প্রধান থাকবেন এবং যেকোনো পলিসি তৈরির মাধ্যমে জনগণের কল্যাণে রাষ্ট্রের কাজ করবেন।

নির্বাহী বিভাগ পরিচালনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। তবে নিয়োগের ক্ষমতা থাকবে না প্রধানমন্ত্রীর হাতে। যেকোনো নিয়োগ দেবে উচ্চকক্ষ। এক্ষেত্রে নিম্নকক্ষ বা প্রধানমন্ত্রীর কোনো অনুমতি লাগবে না বলেও প্রস্তাবনায় বলা হয়।