Home Blog Page 482

উপদেষ্টা হাসান আরিফের জানাজা-দাফন সম্পর্কে যা জানা গেল

অন্তর্বর্তী সরকারের বিমান ও পর্যটন এবং ভূমি উপদেষ্টা এ এফ এম হাসান আরিফ মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

জানা গেছে, শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) এশার নামাজের পর রাজধানীর ধানমণ্ডি ৭ নম্বরের বায়তুল আমান জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামীকাল শনিবার হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে বেলা ১১টায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

এর আগে তিনি আজ শুক্রবার বেলা ৩টায় রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। এফ হাসান আরিফের বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফের মৃত্যু সংবাদ শুনে ল্যাব এইড হাসপাতালে ছুটে যান।

উল্লেখ্য, গত ৮ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে প্রথমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছিলেন হাসান আরিফ। পরে তাকে ভূমি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়।

হাসান আরিফ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। তিনি ১৯৭০ সাল থেকে আইন পেশার সাথে জড়িত ছিলেন। ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২০০৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ভূমি এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন।

এ এফ হাসান আরিফ ১৯৪১ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর স্নাতক এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

হাসান আরিফ তার কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৬৭ সালে ভারতের পশ্চিম বাংলার কলকাতা হাইকোর্ট থেকে। এরপর ১৯৭০ সালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন।

এর আগে হাসান আরিফ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে আছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং গ্রামীণফোন বাংলাদেশ। তিনি বর্তমানে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির কমপ্লেক্সের উপদেষ্টা।

গণহত্যা ধামাচাপা দিতে শেখ হাসিনার নির্দেশে বন্ধ ছিল ইন্টারনেট, পলকের স্বীকারোক্তি

জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ইন্টারনেট বন্ধ কোনো দুর্ঘটনা ছিল না, বরং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয় বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

গতকাল বুধবার ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, ইন্টারনেট বন্ধ করে গত জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। ইন্টারনেট বন্ধের এই নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

আজ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, গত জুলাই মাসে শেখ হাসিনার নির্দেশেই ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়া হয় বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।

তাজুল ইসলাম বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ করে গত জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। ইন্টারনেট বন্ধের এই নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালের বিচারের এখতিয়ার নিয়ে আবেদন করে জিয়াউল আহসান ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচারে যারাই বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

এদিন জুলাই গণহত্যায় বিভিন্ন মামলায় সাবেক এসপি আব্দুল্লাহেল কাফি ২৬ ডিসেম্বর, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: শহিদুল ইসলামকে ২৫ ডিসেম্বর ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ৩০ ডিসেম্বর জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানসহ আট কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অন্য পাঁচজন হলেন ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো: আব্দুল্লাহ আল কাফি, মিরপুর ডিএমপির সাবেক ডিসি মো: জসিম উদ্দিন মোল্লা, ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো: শাহিদুর ইসলাম, গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল হক, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং ঢাকা উত্তর ডিবির সাবেক পরিদর্শক মো: আরাফাত হোসেন।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ স্থগিত

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে সুস্থ না হওয়ায় ২১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ স্থগিত করেছে মুক্তিযোদ্ধা দল। ওই সমাবেশে অংশ নেয়ার কথা ছিল বিএনপি চেয়ারপারসনের।

আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য জানিয়েছেন।

সম্প্রতি জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত সাংবাদিকদের জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২১ ডিসেম্বর জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ সাত বছর পর এই প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন তিনি।

ইশতিয়াক আজিজ উলফাত ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেন। তারা বিএনপি নেত্রীকে মুক্তিযোদ্ধা দলের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানান।

এদিকে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চলতি মাসের শেষের দিকে উন্নত চিকিৎসার জন‍্য লন্ডন যাবেন। লন্ডন থেকে ফিরে এলে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

টিউলিপের বিরুদ্ধে ৪ বিলিয়ন পাউন্ড ঘুষ নেয়ার অভিযোগে ব্রিটেনের তদন্ত

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে চার বিলিয়ন পাউন্ড ঘুষ নেয়ার অভিযোগের তদন্ত শুরু করবে ব্রিটেন।

যুক্তরাজ্যের আর্থিক খাতে দুর্নীতিরোধের দায়িত্ব রয়েছে সিটি মিনিস্টার টিউলিপ সিদ্দিকের কাঁধে। বাংলাদেশে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তির সাথে জড়িত কথিত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) টিউলিপ সিদ্দিক, তার যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী মা শেখ রেহানা সিদ্দিক এবং তার খালা বাংলাদেশে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে শাসন করা ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক গণমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহের সহিংস বিক্ষোভের পর বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী শত শত বেসামরিক লোককে হত্যা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসিনা তার বোন রেহানাকে নিয়ে আগস্টে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যান। বাংলাদেশের হাইকোর্টের আদেশের পরে তদন্ত শুরু করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, টিউলিপ সিদ্দিক মোট ১০ বিলিয়ন ডলারের পারমাণবিক চুক্তির ‘দালালি’ করতে সহায়তা করেছিলেন।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে রোসাটম নামে একটি রাশিয়ান রাষ্ট্র-সমর্থিত কোম্পানি কাজ করছে। ২০১৩ সালে শেখ হাসিনা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন টিউলিপ সিদ্দিকের উপস্থিতিতে ক্রেমলিনের অভ্যন্তরে চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন। টিউলিপ তখন একজন লেবার কাউন্সিলর ছিলেন।

দুদক টিউলিট সিদ্দিকের পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করছে। যার মধ্যে তার খালাতো ভাই সজীব ওয়াজেদ জয়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন এবং তার চাচা তারিক সিদ্দিক, যিনি বাংলাদেশে লুকিয়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালতের কাগজপত্রে তাদের নাম ছিল।

দুদকের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘কমিশন জড়িতদের অবস্থান নির্বিশেষে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

তবে টিউলিপ সিদ্দিক এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলছে, মার্কিন ওয়েবসাইটে প্রথম প্রকাশিত হওয়া অভিযোগগুলো ‘ভুয়া’।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্যের সাধারণ সম্পাদক এবং টিউলিপ সিদ্দিকের পারিবারিক বন্ধু সৈয়দ ফারুক বলেন, ‘এই গল্পগুলো বানোয়াট।’

তিনি বলেন, ‘এগুলো বর্তমান সরকারের শতভাগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হাসিনা পরিবারের বিরুদ্ধে হামলা। তারা টিউলিপকে আক্রমণ করছে কারণ সে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি।’

জুলাই মাসে সিটি মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে টিউলিপ সিদ্দিককে ঘিরে ঘুষের তদন্ত হলো বিতর্কিত একটি বিষয়। তিনি প্রায় ১৪ মাস ধরে লন্ডনের একটি সম্পত্তির ভাড়ার আয় ঘোষণা করেননি বলে সংসদীয় মানদণ্ড মেনে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছিল। সংসদীয় নিয়ম অনুসারে সদস্যদের ২৮ দিনের মধ্যে এই জাতীয় আয় ঘোষণা করতে হবে।

ঢাকা থেকে ১২৮ মাইল উত্তর-পশ্চিমে ঈশ্বরদী উপজেলায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তিটি ২০১৩ সালে ক্রেমলিনে একটি জমকালো অনুষ্ঠানে হাসিনা ও পুতিনের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেখানে টিউলিপ সিদ্দিক, তার মা রেহানা ও ছোট বোন আজমিনা উপস্থিত ছিলেন। টিউলিপ সিদ্দিক ও তার পরিবার এমনকি পরে রাশিয়ান রাষ্ট্রনেতার সাথে ছবিও তোলেন।

গ্লোবাল ডিফেন্স কর্প নামে মার্কিন-ভিত্তিক নিউজ ওয়েবসাইটের রূপপুরবিষয়ক নিবন্ধের প্রকাশের পর বাংলাদেশী গণমাধ্যমগুলোও সেটি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে। যেখানে টিউলিপ সিদ্দিক এবং তার পরিবারের সদস্যদের চার বিলিয়ন পাউন্ড কিভাবে চুরি করা হয়েছিল তা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

নথিতে বলা হয়েছে, সিদ্দিক, হাসিনা ও তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা মধ্যস্থতার বিনিময়ে আত্মসাৎকৃত তহবিলের ৩০ শতাংশ পেয়েছেন। এমনকি দাবি করা হয়েছে, প্রচ্ছয়া লিমিটেড নামের একটি ‘ভুয়া’ কোম্পানির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ৭০৯ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত পাচার করা হয়েছে ‘যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে’।

হাসিনার শাসনের বৈশিষ্ট্য ছিল মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের গুম করা। অ্যামনেস্টির মতো গ্রুপ তাদের প্রতিবেদনে হাসিনা সরকারের অপব্যবহারের কথা তুলে ধরেছে।

হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি অন্যান্য দুর্নীতির বিষয়ে আদালতে বিভিন্ন কাগজপত্র দাখিল করা হয়েছে। টিউলিপ অতীতে তার খালা হাসিনাকে একজন ‘রোল মডেল’ হিসেবে প্রশংসা করেছেন, কিন্তু আগস্টে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি টিউলিপ। তার খালার কট্টরপন্থী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাথে অর্থমন্ত্রী টিউলিপের সম্পৃক্ততা এক দশকেরও বেশি পুরোনো, কারণ এরপর তিনি বৃটিশ মুখপাত্র হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন।

উইট ইস্টের টোরি এমপি জো রবার্টসন বলেছেন, ‘এটি স্পষ্ট যে অভিযোগ গুরুতর, এখানে মন্ত্রী টিউলিপের সম্পৃক্ততা কতখানি ছিল তা জানা প্রয়োজন। গুরুতর তদন্তের অধীনে থেকেও সিদ্দিক কি তার মন্ত্রী পদে বহাল থাকবেন?’

ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে অস্ত্র চুক্তি এবং একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে স্বাক্ষর করার সময় একটি সরকারি প্রতিনিধি দলের ভিডিও প্রকাশের পরে নগর মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক নতুন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন। ভিডিওতে টিউলিপ সিদ্দিককে ক্রেমলিনে তার খালা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি দলের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ২০১৩ সালের অনুষ্ঠানে পুতিন এবং তার খালার সাথে টিউলিপ উপস্থিত ছিলেন।

ওই সময়ে লেবার জোর দিয়ে বলেছিল, টিউলিপ সিদ্দিক কোনো সরকারি প্রতিনিধিদলের অংশ ছিলেন না, তার পরিবারের সাথে একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন।

ভিডিওতে দেখা গেছে, টিউলিপ সিদ্দিক ও তার বোন আজমিনা বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তাদের খালার পেছনে হাঁটছেন। একজন লেবার মুখপাত্র এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘এটি টিউলিপ এমপি হওয়ার ১১ বছর আগের ঘটনা। টিউলিপ শুধুমাত্র তার খালাকে দেখতে এবং তার পরিবারের সাথে সময় কাটাতে রাশিয়া গিয়েছিলেন। পারিবারিক সদস্য হওয়ায় তিনি যেকোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন, তাতে তার কোনো ভূমিকা ছিল না।’

তবে টোরি দলের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘এটি টিউলিপ সিদ্দিকের তথাকথিত পারিবারিক মস্কো সফরের পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছু গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে। এক দশকেরও বেশি সময় পরে অবশেষে সিদ্দিকের রাশিয়া সফর এবং এই ছবির পেছনের সত্য উদ্ঘাটনের সময় এসেছে।’

সিরিয়া বিশ্বের জন্য হুমকি নয় : বিবিসিকে জোলানি

সিরিয়ার নতুন নেতা আহমেদ আল-শারা বলেছেন, দীর্ঘ যুদ্ধে সিরিয়া ক্লান্ত হয়ে পড়েছে ঠিক, কিন্তু প্রতিবেশী বা পাশ্চাত্যের দেশগুলোর জন্য দেশটি হুমকিস্বরূপ নয়।

দু’সপ্তাহেরও কম সময়ের আগে বাশার আল-আসাদের সুদীর্ঘ শাসনামলের পতন ঘটানোর আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন আহমেদ আল-শারা। তিনি সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) নেতা। আগে তিনি ‘আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি’ নামে পরিচিত ছিলেন।

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘এতকিছুর পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া উচিত। কারণ এগুলো পুরনো শাসনের বিরুদ্ধে দেয়া হয়েছিল। অত্যাচারিত ও অত্যাচারীকে একই দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়।’

তিনি এইচটিএসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত না করার আহ্বান জানান। জাতিসঙ্ঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশ একে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে বিবেচনা করে।

কারণ আল-কায়েদার একটি শাখা হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল, তবে ২০১৬ সালে এটি আলাদা হয়ে যায়।

আহমেদ আল-শারা দাবি করেন, এইচটিএস কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন নয়।

তিনি বলেন, তারা কখনোই বেসামরিক মানুষ বা এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করেননি। প্রকৃতপক্ষে, তিনি তাদেরকে আসাদ শাসনের অপরাধের শিকার বলে মনে করেন।

সিরিয়াকে আফগানিস্তানের মতো বানাতে চান, এমন কথাও তিনি অস্বীকার করেন।

আহমেদ আল-শারা বলেন, সিরিয়া ও আফগানিস্তান- এই দু’দেশের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে।

আফগানিস্তানের সমাজব্যবস্থা হলো গোত্রভিত্তিক। আর সিরিয়ায় মানুষের মানসিকতা ভিন্ন।

তিনি আরো জানান, নারী শিক্ষার মতো বিষয়ে তারা বিশ্বাস করেন।

তিনি বলেন, ‘ ইদলিবে প্রায় আট বছর ধরে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় আছে।’

ইদলিব শহরের অবস্থান দেশটির উত্তর-পশ্চিম দিকে, ২০১১ সাল থেকে যার শাসন ভার বিদ্রোহীদের হাতে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের অংশগ্রহণের হার ৬০ শতাংশের বেশি।’

তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে মদ্যপানের অনুমোদন দেয়া হবে কি না। কিন্তু এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘এরকম অনেক বিষয়ে আমার কথা বলার অধিকার নেই। কারণ এগুলো আইনগত বিষয়। আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি আইন প্রণয়ন ও সংবিধান রচনার দায়িত্বে থাকবে। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। যেকোনো শাসক বা প্রেসিডেন্ট সেই আইন মেনে চলবে।’

বিবিসির সাথে দেয়া সাক্ষাৎকারের পুরোটা সময় আহমেদ আল-শারা স্বাভাবিক ও শান্ত ছিলেন। পোশাক-আশাকেও তিনি খুব সাধারণ ছিলেন। যারা এখনো বিশ্বাস করেন যে এই গোষ্ঠীটি তাদের অতীতের চরমপন্থী কাজকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারেনি, তাদেরকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন তিনি।

যদিও সিরিয়ার অনেক মানুষই এই কথা বিশ্বাস করেন না এখনো।

এখন আগামী কয়েক মাসের মাঝেই বোঝা যাবে যে সিরিয়ার নতুন শাসকরা কেমন দেশ গড়তে চান এবং ভবিষ্যতে তারা কিভাবে দেশ শাসন করবেন।

হায়াত তাহরির আল-শাম কারা
২০১১ সালে প্রতিষ্ঠার সময় এ গোষ্ঠীটির নাম ছিল জাবাত আল নুসরা, যা ছিল সরাসরি আল-কায়েদা গোষ্ঠীর সাথে সংযুক্ত। এর গঠন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ছিলেন কথিত আইএস গ্রুপের নেতা আবু বকর আল বাগদাদি।

এই গোষ্ঠীটিই প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী ও প্রাণঘাতী ছিল বলে অনেকে মনে করেন। তবে এটি বিপ্লবের চেয়ে জিহাদি আদর্শকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বলে মনে করা হয়।

‘ফ্রি সিরিয়া’ নামে বিদ্রোহীদের যে জোট হয়েছিল সেখানে তাদের মধ্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছিল।

২০১৬ সালে এই গোষ্ঠীর নেতা আবু মোহাম্মেদ আল জোলানি প্রকাশ্যেই আল-কায়েদার সাথে সম্পর্ক ছেদ করেন এবং জাবাত আল নুসরাকে বিলুপ্ত করে নতুন সংগঠন তৈরি করেন। এর নামই রাখা হয় হায়াত তাহরির আল-শাম এবং পরে এর সাথে আরো কিছু ছোট গোষ্ঠী যোগ হয়।

কিছু সময়ের জন্য এইচটিএস সিরিয়ার উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশকে ক্ষমতার কেন্দ্র বানিয়েছিল। তারা সেখানে স্থানীয় প্রশাসন চালু করেছিল। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এসেছিল, যা তাদের বৈধতা পাওয়ার চেষ্টাকে ম্লান করে দিয়েছে।

এছাড়া অন্য আরো কিছু গোষ্ঠীর সাথে তিক্ত লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছিল তারা।

ইদলিবের বাইরে তাদের উচ্চাভিলাষ সম্পর্কে তখনো পরিষ্কার কিছু জানা যায়নি। এমনকি আল-কায়েদার সাথে সম্পর্ক নষ্টের পর তারা খিলাফতের চেয়ে সিরিয়ায় ইসলামী শাসনের চেষ্টা করেছে।

অন্য যেকোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তুলনায় আসাদকে চ্যালেঞ্জ করা কিংবা সিরিয়ায় বড় ধরনের কোনো সংঘাতের লক্ষণ তাদের দিক থেকে কমই প্রকাশ পেয়েছিল।

বিদ্রোহীদের আক্রমণ যেভাবে হলো
গত চার বছরে মনে হচ্ছিল সিরিয়া যুদ্ধ শেষ হতে যাচ্ছে। দেশটির বড় শহরগুলোতে বাশার আল-আসাদের শাসন ছিল। তবে কিছু অংশ তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।

এর মধ্যে ছিল পূর্ব দিকে কুর্দি সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো। এগুলো সংঘাতের শুরু থেকেই সিরিয়া রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল না।

বিশাল সিরীয় মরুভূমি এলাকায় থাকা দলগুলো নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করছিল। আর উত্তর পশ্চিমের ইদলিব প্রদেশ উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণেই ছিল।

এইচটিএস ছিল ইদলিবের নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায়। তারাই এবার আলেপ্পোতে হামলা করে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।

কয়েক বছর ধরে ইদলিব ছিল যুদ্ধক্ষেত্র, কারণ সরকারি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছিল।

২০২০ সালে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে আসাদ সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। আর তুরস্ক বিদ্রোহীদের সমর্থন যুগিয়েছে।

প্রায় ৪০ লাখ লোক সেখানে বাস করতো, যার বেশিভাগই বিভিন্ন শহর থেকে বাস্তুহারা হয়েছে। আসাদ বাহিনী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করে।

আলেপ্পো ছিল আরেকটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধক্ষেত্র। সেখানেই বিদ্রোহীদের বড় পরাজয় হয়েছিল।

নিজের জয় নিশ্চিত করতে বাশার আল-আসাদ শুধু তার দুর্বল সামরিক বাহিনীর ওপর নির্ভর করেননি। বরং তিনি আস্থা রেখেছিলেন রাশিয়ার বিমানশক্তি আর ইরানের সামরিক সহায়তার ওপর। এর মধ্যে হিজবুল্লাহও ছিল।

লেবাননে ইসরাইলের আক্রমণে হিজবুল্লাহর পরিণতি এবং সিরিয়ায় ইরানের সামরিক কমান্ডারদের ওপর ইসরিইলি হামলাও বিদ্রোহীদের আলেপ্পোর দিকে হঠাৎ যাত্রা শুরু করতে উৎসাহ যুগিয়ে থাকতে পারে।

গত কয়েক মাসে ইসরাইল ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করেছে। এর ফলে সিরিয়ায় থাকা হিজবুল্লাহ নেটওয়ার্কের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এরা না থাকলে আসাদের বাহিনী হয়তো আরো আগেই পরাজিত হতো।
সূত্র : বিবিসি

ইসরাইল ও হাউছিদের পাল্টাপাল্টি হামলা

ইসরাইলের সামরিক বাহিনী ও ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হাউছিদের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে জেরুসালেম পোস্ট।

ইসরাইলি বাহিনীর সূত্রে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হাউছি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে আক্রমণ করেছে ইসরাইলি বিমান বাহিনীর (আইডিএফ) যুদ্ধবিমান। আইডিএফের ১৪টি বিমান আকাশে থাকা অবস্থায়ই সেগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে হাউছিরা।

এর আগে মধ্য ইসরাইলে হামলা চালিয়েছিল হাউছি সম্প্রদায়। সেখানে হাউছিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘণ্টাখানেকেরও কম সময়ে বিমান হামলা চালায় ইসরাইল।

আইডিএফ জানিয়েছে, ইসরাইল হাউছিদের যে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, সেগুলো সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে তারা। সেখানে ইরান থেকে আনা তাদের সমরাস্ত্রও ছিল। আক্রমণে সানার বন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র দ্য জেরুজালেম পোস্টকে জানিয়েছে, ইয়েমেনে আঘাত হানার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছিল ইসরাইল। তাদের বলেছিল যে এ হামলার উদ্দেশ্য হাউছিদের তিনটি বন্দর নিষ্ক্রিয় করা।

তারা আরো জানিয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রও সম্প্রতি ইয়েমেনে আক্রমণ করেছে, তবে আমরা হাউছিদের চলমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা হামলার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

ইসরাইলি বাহিনীর মতে, হাউছিরা ইসরাইলে ২০০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৭০টির বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করে। তবে এর বেশিভাগই ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করেছে। তবে ২২টি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলে আঘাত হানে।

সূত্র : দ্য জেরুসালেম পোস্ট

রাহাত ফতেহ আলীর কনসার্ট : শনিবার দুপুর-রাত টোল ফ্রি এক্সপ্রেসওয়েতে

জুলাই বিপ্লবে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য চ্যারিটি কনসার্ট মাতাতে ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রাহাত ফতেহ আলী খান। আগামী শনিবার (২১ ডিসেম্বর) ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে পারফর্ম করবেন তিনি।

কনসার্টের জন্য সেদিন দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত যান চলাচলের ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোল ফ্রি রাখা।

মঙ্গলবার এক গণবিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো: সাজ্জাত আলী সবাইকে নির্দেশনাগুলো মেনে চলা অনুরোধ করেন।

নির্দেশনাগুলো হলো:
১। স্টাফরোড রেলগেট থেকে নেভি হেডকোয়ার্টার ক্রসিং পর্যন্ত টঙ্গী-উত্তরা থেকে গুলশান-বনানী-মহাখালীগামী যান চলাচল বিঘ্নিত হতে পারে। এ কারণে শনিবার দুপুর ২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার জন্য পরামর্শ দেয়া হলো।

২। দুপুর ২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এয়ারপোর্ট, কুড়িল ও বনানী র‍্যাম্প ব্যবহারকারীরা টোল ছাড়াই এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে পারবেন।

৩। উত্তরা-এয়ারপোর্ট থেকে গুলশান-বনানী-মহাখালীগামী যানবাহন রেডিসন হোটেলের আগের ইউটার্ন বা বনানী ওভারপাসের নিচের ইউলুপ দিয়ে এক্সপ্রেসওয়েতে উঠতে পারবে।

৪। গুলশান-বনানী-মহাখালীগামী যানবাহন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিমানবন্দর ও কুড়িল র‍্যাম্প ব্যবহার করতে পারবে।

৫। এয়ারপোর্ট, উত্তরা ও টঙ্গীগামী যানবাহন বনানী র‍্যাম্প ব্যবহার করে চলাচল করতে পারবে।

৬। ইসিবি চত্বর থেকে বনানীগামী ফ্লাইওভারের লুপ বন্ধ থাকবে।

৭। ইসিবি চত্বর থেকে বনানীগামী যানবাহন কুর্মিটোলা হাসপাতালের সামনের র‍্যাম্প ব্যবহার করে বনানীর দিকে যাতায়াত করতে পারবে।

৮। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও বাইসাইকেল র‍্যাম্প ব্যবহার করতে পারবে না।

কনসার্ট চলাকালে ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও যানজট এড়ানোর লক্ষ্যে গণবিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জনসাধারণের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছে।

কনসার্টটির আয়োজন করছে ‘স্পিরিটস অব জুলাই’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, কনসার্টে রাহাত ফতেহ আলী খান ছাড়াও দেশের ব্যান্ডদল আর্টসেল, চিরকুট, আফটারম্যাথ, র‍্যাপার সেজান, র‍্যাপার হান্নান ও সিলসিলার পরিবেশনা থাকবে। কনসার্টের টিকেটে শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড় দেয়া হচ্ছে।

টিকেট বিক্রির প্ল্যাটফর্ম গেট সেট রকে কনসার্টের তিন ক্যাটাগরির টিকেট পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও কনসার্টের প্রচারণা ও টিকেট বিক্রির জন্য রাজধানীর পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে বুথ বসানো হয়েছে।

উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী নুসরাত ফতেহ আলী খানের ভাতিজা রাহাত ফতেহ আলী খান পাকিস্তানের পাশাপাশি, বলিউডের সিনেমায় গান গেয়ে ভারতেও তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন।

ইউক্রেন-রাশিয়ায় লড়াই করছে উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা

পেন্টাগন তাদের সর্বশেষ পর্যালোচনায় জানিয়েছে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রুশ বাহিনীর সাথে উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরাও লড়াই করছে এবং নিহত হচ্ছে।

পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি মেজর জেনারেল প্যাট রাইডার সোমবার সাংবাদিকদের বলেছন, উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা রুশ বাহিনীর সাথে থেকে কুরস্কে যুদ্ধ করছে। আমাদের কাছে তথ্য প্রমাণ রয়েছে যে তারা যুদ্ধে নিহত এবং আহত হচ্ছে। যুদ্ধে রাশিয়ার কুরস্কেই কেবল উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা আপাতত সীমাবদ্ধ রয়েছে বলেও আমরা জেনেছি।

তবে উত্তর কোরিয়ার কী পরিমাণ সৈন্য হতাহতের শিকার সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পেন্টাগন। ভিওএ ওয়াশিংটনে অবস্থিত রুশ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করলেও তারা এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে এখনো সাড়া দেয়নি।

ক্রেমলিনের একজন মুখপাত্রের মাধ্যমে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এই মূল্যায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে কোনো উত্তর আসেনি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, উত্তর কোরিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রশিক্ষণের জন্য তাদের প্রায় ১২ হাজার সেনা রাশিয়ায় পাঠিয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, উত্তর কোরিয়ার বাহিনী গত সপ্তাহেই কেবল রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ অভিযানে যোগ দিয়েছে।

ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, কুরস্ক অঞ্চলের কয়েকটি গ্রামে লড়াইয়ে উত্তর কোরিয়ার অন্তত ৩০ সৈন্য নিহত বা আহত হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর তাদের অংশগ্রহণের সত্যতা নিশিচত করে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার অভিযোগ করেন, রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সৈন্য ব্যবহার করেছে। তিনি উত্তর কোরিয়ার ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্য বলে বর্ণনা করেছেন।

সোমবার তিনি অভিযোগ করেন, মস্কো উত্তর কোরিয়ার সৈন্যদের হতাহতের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে।
সূত্র : ভিওএ

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সিরিজ জয় টাইগারদের

নিজেদের প্রিয় ফরম্যাট ওয়ানডেতে খাবি খাওয়ার পর ভাবা হচ্ছিল, টি-টোয়েন্টিতে উড়ে যাবে টাইগাররা। তবে অবিশ্বাস্যভাবে সংক্ষিপ্ত এই ফরম্যাটে ঘুরে দাঁড়িয়েছে লিটন দাসের দল। দু’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের চোখে চোখ রেখে নিশ্চিত করেছে সিরিজ। টেস্ট সিরিজে সমতার পর ওয়ানডেতে ধবলধোলাই- সব ভুলে টি-টোয়েন্টি সিরিজটা টাইগাররা করে নিয়েছে নিজেদের।

বুধবার সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৭ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ১৩০ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৮.৩ ওভারে মাত্র ১০২ রানেই গুটিয়ে গেছে স্বাগতিকেরা। বল হাতে দলকে অবিশ্বাস্য এই জয় এনে দিয়েছেন তাসকিন-তানজিম-রিশাদরা।

বুধবার সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৭ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ১৩০ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৮.৩ ওভারে মাত্র ১০২ রানেই গুটিয়ে গেছে স্বাগতিকেরা। তাসকিন-তানজিম-রিশাদরা বল হাতে রেখেছেন বড় ভূমিকা।

তিন ম্যাচ সিরিজে টানা দুই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। একইসাথে আরো একটা বিব্রতকর রেকর্ড থেকেও মুক্তি পেল টাইগাররা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখন সবচেয়ে বেশি হার ক্যারিবীয়দের (১০৮)।

এদিন ম্যাচ শুরুর আগে এ রেকর্ড ছিল বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঝে যৌথভাবে। দু’দল হেরেছিল সমান ১০৭ ম্যাচে। তবে এবার সেই রেকর্ড একার হলো স্বাগতিকদের।

সেন্ট ভিনসেন্টে দিনটা ছিল বোলারদের। শুরুতে বাজিমাত করেন আকিল হোসেন-গোদাকেশ মুতিরা। যার ফলে আগে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ নিয়মিত হারাতে থাকে উইকেট। ১৬.১ ওভারে ৮৮ রানে হারায় ৭ উইকেট।

ফলে মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ এক শ’ রানই পার করতে পারবে না। তবে সেই ভাবনাটা উড়িয়ে দেন শামীম পাটওয়ারী। শেষ মুহূর্তে খেলেন দারুণ এক ইনিংস। তার অপরাজিত ১৭ বলে ৩৫ রানের ওপর ভর করে ১২৯ রান পর্যন্ত পৌঁছায় দল।

বাকিদের মাঝে কেবল বলার মতো স্কোর মেহেদী মিরাজের ২৫ বলে ২৬ ও জাকের আলির ২০ বলে ২১ রান। বাকিরা কেউ থিতু হতে পারেননি। অধিনায়ক লিটন দাস ফেরেন ১০ বলে মাত্র ৩ রানে। সৌম্য সরকার করেন ১১ রান।

ছোট এই পুঁজি নিয়েও হাল ছাড়েনি বাংলাদেশ। শুরু থেকেই চেপে ধরে ক্যারিবীয়দের। ৮.৩ ওভারে মাত্র ৪২ রানে তুলে নেয় ক্যারিবীয়দের ৬ উইকেট। তাসকিন-তানজিমের সাথে রিশাদ ও শেখ মেহেদীও বল হাতে ক্যারিবীয় দূর্গ কাঁপান।

প্রথম ১০ ওভার শেষে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৪৪ রান। কিন্তু সপ্তম উইকেটে রোস্ট চেজ এবং আকিল হোসেনের জুটিতে বাংলাদেশের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ বাড়ছিল। ৪৭ রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

আর তখনই ত্রাতা হয়ে হাজির হন রিশাদ হোসেন। ৩৪ বলে ৩২ রান করা রোস্টন চেজকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন রিশাদ। পরের বলে গুদাকেশ মোতিকেও আউট করেন এই লেগ স্পিনার।

সেই ধারায় আলজারি জোসেফকে (০) ফেরান তানজিম সাকিব। শেষ পর্যন্ত একাই লড়েন আকিল হোসেন। তার ৩১ বলে ৩১ রানের ইনিংসে শুধু হারের ব্যবধানই কমেছে। তাকে ফিরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস গুটিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ।

বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ ৩.৩ ওভারে ১৬ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন। ২টি করে উইকেট শিকার করেন মেহেদী হাসান, তানজিম সাকিব ও রিশাদ আহমেদ। বাকি উইকেটটি যায় হাসান মাহমুদের দখলে।

হঠাৎ ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন অশ্বিন

ব্রিসবেনের ড্র হওয়া টেস্টের একাদশে ছিলেন না রবীচন্দ্রন অশ্বিন। তবে ম্যাচ শেষে তিনিই কেড়ে নিলেন সব আলো। আকস্মিকভাবে সিরিজের মাঝপথেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন টেস্টে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী।

বুধবার হঠাৎ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ব্রিসবেন টেস্ট শেষে সংবাদ সম্মেলনে ১৪ বছরের বর্ণিল ক্যারিয়ার সমাপ্তির কথা জানালেন। আর কখনো তাকে জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যাবে না।

আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার বলা হয় ভারতীয় রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে। দারুণ ক্রিকেটীয় দক্ষতার কারণে অনেক আগেই পেয়েছেন ‘ক্রিকেট বিজ্ঞানী’ উপাধি। ক্রিকেটার হিসেবেও অর্জনের পাল্লা নেহাৎ কম নয়।

অশ্বিন ভারতের হয়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ২৮৭ ম্যাচে ৭৬৫ উইকেট নিয়েছেন। অবসর নেয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনিই ছিলেন বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে টেস্টে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী (৫৩৭)। ব্যাট হাতেও অবদান একেবারে কম নয়, করেছেন ৪৩৯৪ রান।

এর মধ্যে ১০৬ টেস্ট খেলে অশ্বিনের ঝুলিতে ভরেন ৫৩৭ উইকেট। অনিল কুম্বলের (৬১৯) পর তিনিই সাদা পোশাকে ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন। ১১৬ ওয়ানডেতে ১৫৬ ও ৬৫ টি-টোয়েন্টিতে ৭২ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

টেস্টে ৩৭ বার পাঁচ উইকেট নিয়েছেন অশ্বিন। মুত্তিয়া মুরালিধরনের পর শেন ওয়ার্নের সাথে যা যৌথ সর্বোচ্চ। টেস্টে সবচেয়ে বেশি ২৬৮ বার বাঁহাতি ব্যাটারদের আউট করার রেকর্ডও আছে তার।

ব্যাটিংয়েও স্মরণীয় অনেক মুহূর্ত আছে তার। টেস্টে ১৪ ফিফটি ও ৬ সেঞ্চুরিতে সাড়ে তিন হাজারের ওপর রান আছে অশ্বিনের। একই টেস্টে পাঁচ উইকেট ও সেঞ্চুরি করার নজির চারবার রেখেছেন তিনি। যা ইয়ান বোথামের (৫ বার) পর ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

তবে এবার নামের পাশে যোগ হবে না আর কোনো আন্তর্জাতিক রান ও উইকেট।

ব্রিসবেনের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সব সংস্করণে আমার শেষ দিন এটিই। ক্রিকেটার হিসেবে যদিও কিছুটা তাড়না আমার ভেতর এখনো আছে, তবে সেটা দেখাতে চাইব আমি ক্লাব পর্যায়ের ক্রিকেটে। অনেককে ধন্যবাদ জানানোর আছে আমার। দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করতে পারব না যদি বিসিসিআই ও সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা না জানাই।’