Home Blog Page 483

রোহিঙ্গাদের পাশে থাকবে জাতিসঙ্ঘ

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণসহায়তা কমানো ঠেকাতে জাতিসঙ্ঘ যথাসাধ্য সবকিছু করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। গতকাল শুক্রবার কক্সবাজারের উখিয়ায় বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থীশিবির ঘুরে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিজ চোখে দেখে তিনি এই আশ্বাস দেন। তিনি কক্সবাজারে বসবাসরত ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া সফররত জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে নেয়া সংস্কার কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

উখিয়ার ক্যাম্পে ব্রিফিংয়ে গুতেরেস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের মানবিক সহায়তার বরাদ্দ ‘নাটকীয়ভাবে’ কমিয়ে দিয়েছে, আর সে কারণেই রোহিঙ্গাদের রেশন বরাদ্দ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, তহবিলের অভাবে মানুষের যেন আরো বেশি কষ্ট পেতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে আমি বিশ্বের সব দেশকে আহ্বান জানাব, যারা আমাদের সহায়তা করতে পারে। গুতেরেস বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আমি জোর গলায় বলব, আমাদের জরুরি ভিত্তিতে আরো সহায়তা প্রয়োজন, কারণ এই জনগোষ্ঠীর মর্যাদার সাথে বাঁচার জন্য এই সহায়তা খুবই জরুরি।

প্রসঙ্গত, এমন এক সময়ে গুতেরেস কক্সবাজারের আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করলেন যখন জাতিসঙ্ঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি তহবিল সঙ্কটের কারণে রোহিঙ্গাদের খাবারের রেশন কমে অর্ধেক হতে পারে বলে সতর্ক করেছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বলেছে, অর্থায়নের অভাবে এপ্রিল থেকে রোহিঙ্গাদের মাসিক খাদ্য রেশন সাড়ে ১২ ডলার থেকে কমিয়ে ৬ ডলার করা হতে পারে, যা আশ্রয় শিবিরের খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেবে।

আমাদের কক্সবাজার অফিস জানায়, ব্রিফিংয়ে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব রোহিঙ্গাদের টেকসই এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠাতে হলে মিয়ানমারের রাখাইনেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন রয়েছে। এর আগে শরণার্থীশিবিরে মতবিনিময়কালে রোহিঙ্গারা রাখাইনে গণহত্যার বিচার এবং স্বদেশে ফেরত যেতে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিবের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস গতকাল বেলা ১টায় ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সে কক্সবাজারে পৌঁছান। তাদের স্বাগত জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক।

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছেই সরাসরি উখিয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে চলে যান। সেখানে তিনি রোহিঙ্গা লার্নিং সেন্টার, রোহিঙ্গাদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাশন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব শুক্রবার দুপুরে শরণার্থীশিবিরে পৌঁছে বেশ কিছু কর্মসূচিতে অংশ নেন। তিনি শরণার্থীশিবিরে জাতিসঙ্ঘের বিভিন্ন সংস্থা পরিচালিত কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করেন। পরে রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা এবং রোহিঙ্গা যুবকদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং শিবিরের লার্নিং সেন্টার এবং রোহিঙ্গাদের পাটজাত পণ্যের উৎপাদন সেন্টার পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া তিনি রোহিঙ্গা মেমোরিয়াল কালচারাল সেন্টার পরিদর্শন করেন।

তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার সাথে বৈঠক

বাসস জানায়, সফররত জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে নেয়া সংস্কার কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। এ ছাড়া কক্সবাজারে বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব গতকাল ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে এক বৈঠকে সংস্কার এজেন্ডার প্রতি জাতিসঙ্ঘের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বিশ্বব্যাপী ‘সবচেয়ে বৈষম্যের শিকার জনগোষ্ঠী’ রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি চার দিনের সফরে বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকায় আসেন।

ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অধ্যাপক ইউনূসকে বলেন, ‘আমি সংস্কার কর্মসূচির প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করতে চাই। আমরা আপনাদের সংস্কার প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিতে এখানে এসেছি। আমরা আপনাদের সর্বোত্তম সফলতা কামনা করি। যেকোনো সহযোগিতা লাগলে আমাদের জানান।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে এই সংস্কার প্রক্রিয়া একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং দেশের একটি ‘বাস্তব রূপান্তর’ নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি যে সংস্কার প্রক্রিয়াটি জটিল হতে পারে’।

গুতেরেস বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে তিনি রমজান মাসে বাংলাদেশে এসেছেন। কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য মানবিক সহায়তা হ্রাস নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বলেন, ‘পৃথিবীতে এতটা বৈষম্যের শিকার অন্য কোনো জনগোষ্ঠী আমি দেখিনি’। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের ভুলতে বসেছে’।

‘মানবিক সহায়তা হ্রাস করা একটি অপরাধ’ উল্লেখ করে অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো এখন প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় দ্বিগুণ করছে, কিন্তু তখন আবার বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা সঙ্কুচিত হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি জাতিসঙ্ঘের ‘অপরিসীম কৃতজ্ঞতা’ প্রকাশ করেন গুতেরেস। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের প্রতি অত্যন্ত উদারতা দেখিয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আমার জন্য একটি বিশেষ বিষয়।

অধ্যাপক ইউনূস জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবকে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘আপনার আসার জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর হতে পারত না। আপনার সফর কেবল রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের জন্যও সময়োপযোগী।’

প্রধান উপদেষ্টা গুতেরেসকে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত ছয়টি সংস্কার কমিশনের রিপোর্টের বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রায় ১০টি রাজনৈতিক দল তাদের মতামত জমা দিয়েছে। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দলগুলো ছয়টি কমিশনের সুপারিশগুলোর সাথে একবার একমত হলে তারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পাশাপাশি রাজনৈতিক, বিচারিক, নির্বাচনসংক্রান্ত, প্রশাসনিক, দুর্নীতি দমন ও পুলিশ সংস্কারের একটি রূপরেখা হবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি ‘সংক্ষিপ্ত সংস্কার প্যাকেজ’ নিয়ে একমত হয়, তা হলে নির্বাচন ডিসেম্বরেই হতে পারে। তবে তারা যদি ‘বৃহৎ সংস্কার প্যাকেজ’ গ্রহণ করে, তাহলে নির্বাচন আগামী বছরের জুনে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান উপদেষ্টা ‘সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন’ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

অধ্যাপক ইউনূস জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের সহযোগিতা চান, যাতে রোহিঙ্গারা সম্মানের সাথে তাদের জন্মভূমি মিয়ানমারের পশ্চিম রাখাইন রাজ্যে ফিরে যেতে পারে। তিনি বলেন, যত দিন তারা বাংলাদেশে অবস্থান করছে তত দিন পর্যন্ত তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য ও মানবিক সহায়তা যেন নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের দুর্দশার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছি। বিশ্বকে জানতে হবে তারা কতটা কষ্ট পাচ্ছে। তাদের মধ্যে একটা হতাশার অনুভূতি রয়েছে।

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বলেন, তিনি রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন এবং তাদের জন্য সহায়তা সংগ্রহকে অগ্রাধিকার দেবেন। গুতেরেস বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর কার্যক্রম ‘অসাধারণ’ এবং বাংলাদেশ ন্যায়সঙ্গত বিশ্ব প্রতিষ্ঠার অগ্রভাগে রয়েছে উল্লেখ করে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠকে ভূরাজনীতি, সার্কের বর্তমান অবস্থা এবং বাংলাদেশের সাথে প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্কের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক ফোরামকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য তার প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্য হতে চায়। প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চলে একাধিক বন্দর নির্মাণ প্রকল্প সম্পর্কেও কথা বলেন, যা নেপাল ও ভুটানসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে দেশকে ‘একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও জাপানসহ প্রায় প্রতিটি দেশের সমর্থন পেয়েছে। অর্থনীতি প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তার সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে ধ্বংসপ্রাপ্ত ও ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাত, সঙ্কুচিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে পড়া অবস্থায় পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি এখন সুসংহত হয়েছে। রফতানি কয়েক মাস ধরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও ভালো অবস্থানে রয়েছে।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অর্থনীতি এমনভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী বছর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বেরিয়ে আসবে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, আমরা এলডিসি উত্তরণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের শাসনামলে লুটপাট হওয়া কয়েক শ’ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরত আনার জন্য সরকার চেষ্টা করছে।

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বলেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনীতির ভঙ্গুর পরিস্থিতি তাকে ১৯৭৪ সালের পর্তুগালের বিপ্লবী দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়।

বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলিসংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেনটেটিভ ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজিবিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

জাতিসঙ্ঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমা ও বাংলাদেশে জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গুইন লুইসও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশ জাতিসঙ্ঘের ওপর নির্ভর করতে পারে-এক্সে আন্তোনিও গুতেরেস : টেকসই এবং ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশ জাতিসঙ্ঘের ওপর নির্ভর করতে পারে বলে জানিয়েছেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে তার কার্যালয়ে এক বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের এক পোস্টে এই মন্তব্য করেন তিনি। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য বাংলাদেশের জনগণ এবং অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যেহেতু দেশ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এবং পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাই আপনারা টেকসই এবং ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য জাতিসঙ্ঘের ওপর নির্ভর করতে পারেন।’

কানাডা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হবে না : মার্ক কার্নি

কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, কানাডা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হবে না। শুক্রবার (১৪ মার্চ) দেশটির ২৪তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর তিনি এ কথা বলেছেন।

কার্নি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংযুক্তির হুমকি প্রত্যাখ্যান করে অটোয়ার রিডো হলের বাইরে জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা কখনোই, কোনো আকারে বা আকৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হব না। আমরা মৌলিকভাবে ভিন্ন একটি দেশ।’

ব্যাংক অফ কানাডা ও ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের সাবেক এই গভর্নর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কানাডা সম্মান আশা করে। একইসাথে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তার সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে ‘একসাথে কাজ করার’ উপায় খুঁজে পাবে।

এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে কার্নি সাবেক অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড, সাবেক সরকারি হাউস নেতা কারিনা গোল্ড ও সাবেক সংসদ সদস্য ফ্রাঙ্ক বেলিসকে ৮৫.৯ শতাংশ ভোটে পরাজিত করেছিলেন। এর আগে কোনো নির্বাচনে জেতার অভিজ্ঞতা নেই তার এবং হাউস অফ কমন্সে তার কোনো আসন নেই, যা একজন প্রখানমন্ত্রী হিসেবে তাকে কানাডার ইতিহাসে বিরল করে তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কানাডার বাণিজ্য যুদ্ধ এবং পার্লামেন্টে আসন ছাড়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি হাউস অফ কমন্সের অধিবেশনে যোগ দিতে পারছেন না এমন অদ্ভুত বাস্তবতার মধ্য দিয়ে কার্নি আগামী দিনে একটি নির্বাচন ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কানাডার ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক আক্রমণের প্রভাব এতটাই বিস্তৃত ও ক্ষতিকর যে আগামী মাসগুলোতে অন্যান্য সব বিষয়কে তা ছাপিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য শুল্ক যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য বহাল থাকে, তাহলে কানাডার ভঙ্গুর অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে এবং একের পর এক অস্থিরতার সূচনা করতে পারে।

শুক্রবার সকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘কানাডা অর্থনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য হলে দেশটির জন্য আরো ভালো হবে।’ তার এ মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে কার্নি বলেন, ‘এটা পাগলামি। আপনি শুধু এটুকুই বলতে পারেন।’

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

ভারতের লোকসভায় অবৈধ অভিবাসনবিরোধী বিল উত্থাপন

ভারতের লোকসভায় অভিবাসন ও বিদেশি বিল-২০২৫ উত্থাপন করল কেন্দ্রীয় সরকার। মঙ্গলবার উত্থাপিত এই বিলে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টির জন্য কঠোর শাস্তি আরোপ করার কথা বলা হয়েছে। অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করলে পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫ লাখ রুপি অর্থদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।

বিলে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ভারতের অখণ্ডতার জন্য হুমকিস্বরূপ কোনো বিদেশিকে প্রবেশ বা থাকার অনুমতি দেওয়া হবে না। অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা ইমিগ্রেশন অফিসারদের থাকবে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও নার্সিং হোমের মতো প্রতিষ্ঠানে থাকা বিদেশি নাগরিকদের তথ্য অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

প্রস্তাবিত এই বিল লঙ্ঘনে কঠোর শাস্তির সুপারিশ করে বলা হয়েছে, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশ করলে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ রুপি অর্থদণ্ড করা হবে। জাল কাগজপত্র ব্যবহার করলে দুই থেকে সাত বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে এক থেকে ১০ লাখ রুপি অর্থদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া, ভারতীয় ভিসার শর্ত লঙ্ঘন বা অতিরিক্ত সময় ধরে অবস্থান করলে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৩ লাখ রুপি জরিমানা করা হবে।

বাংলাদেশীদের জন্য চিকিৎসা সেবা উন্মুক্ত করল চীন

চীন-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় চিকিৎসা সহযোগিতার আওতায় চীনের কুনমিংয়ে বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য চিকিৎসাসেবা উন্মুক্ত করেছে চীন সরকার।

সোমবার (১০ মার্চ) চীনের কুনমিং-এ চীন-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় চিকিৎসা সহযোগিতা কার্যক্রমের অধীনে বাংলাদেশ থেকে আসা দলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

চায়না ইস্টার্নের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে প্রথম দলটি চিকিৎসার উদ্দেশে কুনমিং চাংশুই আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছালে চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাজমুল ইসলাম, কুনমিংয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ খালেদ, ইউনান প্রাদেশিক পররাষ্ট্র দফতরের মহাপরিচালক ইয়াং শাওচেং, ইউনান স্বাস্থ্য কমিশনের উপ মহাপরিচালক ওয়াং জিয়াঙ্কুন ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের এ অভ্যর্থনা জানান।

এ সময় তাদের সাথে চিকিৎসক, সাংবাদিক এবং ট্যুর অপারেটরদের একটি দলও কুনমিং সফর করছেন।

চীন সরকারের উদ্যোগে চিকিৎসা এবং চিকিৎসা পর্যটনবিষয়ক তথ্য বিনিময় ও প্রচারের উদ্দেশ্যে আসা এই দলটিকে স্বাগত জানাতে বিমান বন্দরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত নাজমুল ইসলাম বলেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশীদের জন্য যৌক্তিক খরচে এবং স্বল্প সময়ে উন্নত চিকিৎসার নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো।

এছাড়া এর ফলে দু’দেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়বে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন এবং অচিরেই কুনমিং বাংলাদেশীদের জন্য আধুনিক চিকিৎসার একটি অন্যতম গন্তব্য হিসাবে গণ্য হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইউনান প্রাদেশিক পররাষ্ট্র দফতরের মহাপরিচালক ইয়াং শাওচেং চিকিৎসা পর্যটক এই দলটিকে চির বসন্তের নগরী কুনমিংয়ে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এবং ইউনানের জনগণের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো মজবুত করতে চিকিৎসা সহযোগিতার এই অনন্য উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পর দিন ১১ মার্চ সকালে রাষ্ট্রদূত নাজমুল ইসলাম চিকিৎসক, সাংবাদিক এবং ট্যুর অপারেটর প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে ইউনান ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতাল এবং ফু-ওয়াই কার্ডিওভাস্কুলার হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং বাংলাদেশ থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।

এ সময় তিনি দায়িত্বরত চিকিৎসকদের কাছে তাদের চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য অনুসন্ধান করেন এবং বাংলাদেশের রোগীদের ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন। রাষ্ট্রদূত নাজমুল ইসলাম ফু-ওয়াই কার্ডিওভাস্কুলার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বাংলাদেশী তিন শিশুকে উপহার প্রদান করেন এবং তাদের সাথে কিছু সময় অতিবাহিত করেন।

গত জানুয়ারি মাসে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের চীন সফরকালে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রত্যাশী বাংলাদেশীদের জন্য তুলনামূলক কম খরচে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কুনমিং-এ বাংলাদেশীদের জন্য চিকিৎসা সেবা উন্মুক্ত করণের প্রস্তাব চীন সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে চীন সরকার কুনমিংয়ের তিনটি প্রধান হাসপাতাল এবং পরে বেইজিংস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের অনুরোধে কুনমিং বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতালসহ চারটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল বাংলাদেশী নাগরিকদের চিকিৎসার জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করে।

এর মধ্যে কুনমিং মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতাল এবং ইউনান ফার্স্ট পিপল’স হাসপাতাল দু’টি সাধারণ হাসপাতাল যেখানে সাধারণত সকল রোগের উন্নত চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া যাবে।

অন্যদিকে ফু-ওয়াই কার্ডিওভাস্কুলার হাসপাতাল ও ইউনান ক্যান্সার হাসপাতাল দু’টি বিশেষায়িত হাসপাতাল যেখানে হৃদ্‌রোগ এবং ক্যান্সারের চিকিৎসা পাওয়া যাবে। এখন থেকে বাংলাদেশ হতে চিকিৎসা সেবা প্রত্যাশীরা সরাসরি এই সকল হাসপাতালের আন্তর্জাতিক ওয়ার্ডে যোগাযোগ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামত নিতে পারবেন এবং রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন। এই সকল হাসপাতালের আন্তর্জাতিক ওয়ার্ডে বাংলাদেশী নাগরিকরা চীনা নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত ফি দিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন বলে হাসপাতালগুলোর কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

এর মধ্য দিয়ে কুনমিংয়ে বাংলাদেশিদের উন্নত চিকিৎসার সুযোগ অবারিত হওয়ায় প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী চীনের কুনমিং সফর করবেন এবং বাংলাদেশ ও ইউনানের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ এবং ইউনানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতাসহ চিকিৎসা পর্যটন সহজীকরণের লক্ষ্যে কুনমিং ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং ঢাকা ও কুনমিং-এর মধ্যে একাধিক ফ্লাইট চালুর জন্য সরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

টেস্ট ক্রিকেটের দেড় শ’ বছর পূর্তিতে ২০২৭ সালে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে দিবারাত্রির টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড।

০

১৮৭৭ সালের ১৫ মার্চ থেকে মেলবোর্নে টেস্ট ইতিহাসের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ওই টেস্টে মুখোমুখি হয়েছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। টেস্টের দেড় শ’ বছর পূর্তিতে ২০২৭ সালের ১১-১৫ মার্চ দিবারাত্রির টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড।

গত মাসের শুরুতে নারীদের অ্যাশেজ দিবারাত্রির টেস্টের পর মেলবোর্নের ভেন্যুতে প্রথমবারের মতো দিবারাত্রির টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে।

সিএ-এর নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ বলেন, ‘এমসিজিতে ১৫০তম বার্ষিকীর টেস্টটি ক্রিকেটের অন্যতম বড় ইভেন্টগুলোর মধ্যে একটি হতে যাচ্ছে। ফ্লাডলাইটের নিচে আমাদের খেলাটার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও টেস্ট ক্রিকেটের আধুনিক রূপে উদযাপনের একটি দুর্দান্ত উপায় হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই মৌসুমে শুরু হতে যাওয়া অ্যাশেজ সিরিজের দু’বছরের মধ্যে ঐতিহাসিক টেস্টের আকর্ষণ অনেকখানি বেড়ে যাবে। ঐতিহাসিক উপলক্ষটি যত এগিয়ে আসছে আমরা সেটি উদযাপনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

এই বছরের নভেম্বরে অ্যাশেজ সিরিজে পাঁচ টেস্টের জন্য ইংল্যান্ডকে আতিথয়েতা দেবে অস্ট্রেলিয়া।

২০২৭ সালে ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ ম্যাচের সিরিজের পর দেড়শ বছর পূর্তির টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে।

১৯৭৭ সালে টেস্ট ক্রিকেটের ১০০ বছর পূর্তিতে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বিশেষ ম্যাচ আয়োজন করা হয়। গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া ৪৫ রানে হারায় টনি গ্রেগের ইংল্যান্ডকে।

সূত্র : বাসস

৫০ দিনে যেভাবে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিলেন ট্রাম্প

মাত্র ৫০ দিন সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর আগের যে কোনো উত্তরসূরির চেয়ে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নিয়মের ভিতে বেশি নাড়া দিয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয় লাভের পর ৮০ বছরে এ ভিত অনেক কষ্টে গড়ে তোলে যুক্তরাষ্ট্র।

দিক পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিয়ে বা কোনো নৈতিক কৌশল তুলে না ধরেই তিনি ইউক্রেন যুদ্ধে পক্ষাবলম্বন করেন এবং আগ্রাসনকারীকে সমর্থন করেন। তিনি মস্কোকে আগ্রাসনকারী আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘের আনা প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত মিত্রের বিরুদ্ধে গিয়ে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার পক্ষে ভোট দিতে দ্বিধা করেননি।

মঙ্গলবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পানামা খাল, গ্রিনল্যান্ড, গাজা ও সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যেটি– কানাডার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরের মিত্রের (কানাডা) সঙ্গে সীমান্ত মূলত একটি ‘বিভেদের কৃত্রিম রেখা’। ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডার পর তিনি ইউক্রেনে অস্ত্র, এমনকি মার্কিন বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্র পাঠানোও বন্ধ করে দেন।

ট্রাম্প মার্কিন অর্থনীতির জন্য ‘জোঁক’ আখ্যা দিয়ে মিত্রদের ওপর করারোপ করেছেন। সেই সঙ্গে ন্যাটোর আস্থা অত্যন্ত গভীরভাবে নষ্ট করেছেন। এ প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স তাদের পারমাণবিক ছাতা পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে। পোল্যান্ড নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কথা ভাবছে। এ দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্রকে আর চূড়ান্ত সুরক্ষাদাতা মনে করছে না। যখন ন্যাটো চুক্তি হয়, তখন কেন্দ্রে ছিল এ সুরক্ষার বিষয়টি।

বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাবিষয়ক দপ্তর তাদের প্রায় অর্ধেক জনবল ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে। কেন্দ্রীয় সরকারের আকার কমাতে ট্রাম্প প্রশাসন এ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। এ পরিকল্পনার আওতায় শিক্ষা দপ্তরের প্রায় ২ হাজার ১০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের মধ্যে পড়তে পারেন। ট্রাম্প অনেক দিন থেকেই শিক্ষা দপ্তরকে বিলুপ্ত করতে চাইছেন। তবে শিক্ষা দপ্তরকে বিলুপ্ত করতে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে।

বুধবার এনডিটিভি জানায়, শুল্ক নিয়ে আবারও ভারতের সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সম্প্রতি তিনি জানান, মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর কথা দিয়েছে ভারত। এরই মধ্যেই শুল্ক নিয়ে আরেকবার দিল্লিকে নিশানা করেছে ওয়াশিংটন।

কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা প্রত্যাহার

রয়টার্স জানায়, কানাডার ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপ নিয়ে পরস্পরবিরোধী ঘোষণায় আর্থিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার এক ঘোষণায় কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার কথা জানান তিনি। তবে কয়েক ঘণ্টা পরই এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউএসএআইডির নথি ধ্বংসের নির্দেশ

মার্কিন উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির বিপুল নথিপত্র ধ্বংসের আদেশ দিয়েছেন সংস্থাটির এক কর্মকর্তা। মঙ্গলবার আদালতে দায়েরকৃত অভিযোগে এ দাবি তোলা হয়। মার্কিন সরকারি কর্মীদের ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল আদালতে এ অভিযোগ দায়ের করা হয়।

নাসার প্রধান বিজ্ঞানী বরখাস্ত, ছাঁটাইয়ের ইঙ্গিত

বুধবার এএফপি জানায়, নাসা মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে, সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানীসহ আরও কয়েকজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

এ‘সেলফ ডিপোর্টেশন’ অ্যাপ চালু

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে থাকা অভিবাসীদের সম্ভাব্য গ্রেপ্তার ও আটকের মুখোমুখি হওয়ার পরিবর্তে নিজ থেকে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ দিতে একটি অ্যাপ চালু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

টেস্ট ক্রিকেটের দেড় শ’ বছর পূর্তির ঐতিহাসিক ম্যাচ হবে দিবারাত্রির

০

টেস্ট ক্রিকেটের দেড় শ’ বছর পূর্তিতে ২০২৭ সালে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে দিবারাত্রির টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড।

আজ মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)।

১৮৭৭ সালের ১৫ মার্চ থেকে মেলবোর্নে টেস্ট ইতিহাসের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ওই টেস্টে মুখোমুখি হয়েছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। টেস্টের দেড় শ’ বছর পূর্তিতে ২০২৭ সালের ১১-১৫ মার্চ দিবারাত্রির টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড।

গত মাসের শুরুতে নারীদের অ্যাশেজ দিবারাত্রির টেস্টের পর মেলবোর্নের ভেন্যুতে প্রথমবারের মতো দিবারাত্রির টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে।

সিএ-এর নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ বলেন, ‘এমসিজিতে ১৫০তম বার্ষিকীর টেস্টটি ক্রিকেটের অন্যতম বড় ইভেন্টগুলোর মধ্যে একটি হতে যাচ্ছে। ফ্লাডলাইটের নিচে আমাদের খেলাটার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও টেস্ট ক্রিকেটের আধুনিক রূপে উদযাপনের একটি দুর্দান্ত উপায় হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই মৌসুমে শুরু হতে যাওয়া অ্যাশেজ সিরিজের দু’বছরের মধ্যে ঐতিহাসিক টেস্টের আকর্ষণ অনেকখানি বেড়ে যাবে। ঐতিহাসিক উপলক্ষটি যত এগিয়ে আসছে আমরা সেটি উদযাপনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

এই বছরের নভেম্বরে অ্যাশেজ সিরিজে পাঁচ টেস্টের জন্য ইংল্যান্ডকে আতিথয়েতা দেবে অস্ট্রেলিয়া।

২০২৭ সালে ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ ম্যাচের সিরিজের পর দেড়শ বছর পূর্তির টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে।

১৯৭৭ সালে টেস্ট ক্রিকেটের ১০০ বছর পূর্তিতে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বিশেষ ম্যাচ আয়োজন করা হয়। গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া ৪৫ রানে হারায় টনি গ্রেগের ইংল্যান্ডকে।

সূত্র : বাসস

অপু-বুবলীর ভার্চুয়াল যুদ্ধ

ভার্চ্যুয়াল যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন দুই সতীন আপু ও বুবলী। নায়ক শাকিব খানের সাথে বিয়ের পর ইতোমধ্যে দু’জনই শাকিব বিহীন জীবন যাপন করলেও কয়েকদিন পর পরই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে একে অন্যকে ইঙ্গিত করে খোচা মেরে হানাহানিতে জড়িয়ে পড়েন।

ঢালিউডের আলোচিত-সমালোচিত দুই নায়িকা অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীর এই দ্বন্দ্ব মূলত, শাকিব খানকে কেন্দ্র করে। এই দুই নায়িকার দ্বন্দ্ব চলছে কয়েক বছর ধরে। যদিও শাকিব খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন অপু-বুবলী দুজনেই তাঁর অতীত। দুজনের কারো সাথে তাঁর সম্পর্ক নেই। তবে সন্তানদের কারণে তাদের মায়েদের সাথে মাঝেমধ্যে দেখা–সাক্ষাৎ হয় বাবা শাকিব খানের।

এবারো তাই হয়েছে রোববার সন্ধ্যার পর অপু বিশ্বাসের দেয়া একটি ফেসবুক পোস্ট তেমনই এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এই পোস্টের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিতে চিত্রনায়িকা বুবলীকে খোঁচা দিয়েছেন।

এর আগে শবনম বুবলী ফেসবুকে একটি রিলস ভিডিও পোস্ট করেন। তাতে দেখা যায়, শাকিব-বুবলীর ছেলে শেহজাদ পেনসিল দিয়ে খাতায় মা-বাবার নাম লিখছে। ক্যাপশনে বুবলী লেখেন, ‘বাপজানের প্রথম হাতের লেখা। সবাই দোয়া করবেন আমাদের শেহজাদ বাবার জন্য।’ ছোট্ট শেহজাদের হাতের লেখা দেখে নেটিজেনদের অনেকে প্রশংসাও করছেন।

বুবলীর এমন পোস্টের কয়েক ঘণ্টা পর অপু বিশ্বাস ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন, যাতে লেখা ছিল, ‘এক মা তাঁর মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়া সন্তানের জন্য হাহাকার করে মরছে। আরেক মায়ের আদিখ্যেতা উপচে পড়ছে।’ অপু বিশ্বাসের এমন পোস্টে বক্তব্য তাঁর ভক্তদের কেউ কেউ সমর্থন করে মন্তব্য করেছেন। অনেকে এটিকে ইঙ্গিতপূর্ণ বলছেন।

নেটিজেনদের ভাষ্য, অপু বিশ্বাস তাঁর দেয়া ফেসবুক পোস্টে দুজন মায়ের কথা বলেছেন। একজন মাগুরায় ধর্ষণের শিকার শিশুকন্যাটির মা, অন্যজন শেহজাদের মা (বুবলী)। ধর্ষণের শিকার শিশুটি এখনো লাইফ সাপোর্টে, এ নিয়ে প্রতিবাদে সোচ্চার সারা দেশ। আর এই পরিস্থিতিতে বুবলী তাঁর ছেলের ভিডিও পোস্ট করেছেন—এটিকে অপু বিশ্বাস ‘আদিখ্যেতা’ বলেছেন।’

দুই নায়িকার ঘনিষ্ঠজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হঠাৎ করে বুবলীর এমন রিলস ভিডিও পোস্ট করার পেছনেও একটি কারণ আছে। কারণ হিসেবে জানা গেছে, অপু বিশ্বাসের একটি সংবাদ রোববার সকালে প্রকাশিত হয়, যেখানে তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে শাকিবই হচ্ছে শাহরুখ খান। অপুর ঘনিষ্ঠজনদের মতে, শাকিব খানও যে বুবলীর অনেক বেশি আপন, তা কৌশলে বোঝাতে সন্তানকে নিয়ে তেমন একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন।

ঈদে মুক্তি পাচ্ছে শাকিব খানের ‘বরবাদ’। এই ছবির টিজার প্রকাশিত হয়েছে। ছবির টিজার দেখার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে অপু বলেছেন, ‘ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে দেখার ইচ্ছা আছে। সিনেমাটির টিজার দুর্দান্ত লেগেছে। দেখার পর ফেসবুক পেজ থেকে আমিই প্রথম শেয়ার করেছি।’

ধর্ষণের প্রতিবাদে রাস্তায় শিল্পীরা

দেশে পর পর কয়েকটি স্থানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তবে মাগুরা জেলায় ৮ বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় পুরো দেশের মানুষ নির্বাক হয়ে গেছে। সবাই ন্যক্কারজনক এ ঘটনায় প্রতিবাদ মুখর। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অপরাধীদের শাস্তি চেয়ে আজ (১০ মার্চ) বিকেলে এফডিসি’তে মানববন্ধন করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্যরা।

শিল্পী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে দেশের ঘটে যাওয়া সব ধর্ষণ ও নারীদের প্রতি সহিংসতার মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানিয়েছেন শিল্পীরা।

মানববন্ধনে সবার প্রতি একটি বার্তা তুলে ধরেছেন সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই অবগত যে কী হয়েছে? কী ঘটেছে? এবং আমরা সবাই এই ব্যাপারে সোচ্চার যে আমরা কী করতে চাই, কী বলতে চাই। ওই চাওয়া-পাওয়ার মাঝখান থেকে আজ আবেগের বহিঃপ্রকাশ। আমরা কী চাই? আমরা চাই শিশু ধর্ষণসহ সকল ধর্ষণ ও নারীদের প্রতি সহিংসতার মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হোক।’

মিশা সওদাগর আরো বলেন, ‘অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক; যাতে অন্যরা এই ধরনের অপরাধ করার আগে একবার না, দশবার ভাবে। একইসাথে প্রমাণ সংগ্রহ ও তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরো শক্তিশালী করতে হবে, যাতে অপরাধীরা কোনোভাবেই রেহাই না পায়।’

সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মিশা আরো বলেন, ‘শুধু কঠোর শাস্তিই যথেষ্ট নয়, সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করাও অপরিহার্য বলে আমরা মনে করি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজকে একসাথে কাজ করতে হবে, যাতে শিশুরা নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে।’

বিএফডিসি’তে অনুষ্ঠিত ধর্ষণবিরোধী প্রতিবাদ সমাবেশে মিশা সওদাগর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রোজিনা, ডিএ তায়েব, রুমানা ইসলাম ও শিপন মিত্র, জয় চৌধুরী, মুক্তি প্রমুখ।

গত বুধবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাতে মাগুরার শহরের বোনের বাড়ি বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছর বয়সী সেই শিশু। শিশুটি এখন ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বিশ্বের ২০ দূষিত শহরের মধ্যে ১৩টিই ভারতে

বিশ্বের শীর্ষ ২০টি দূষিত শহরের মধ্যে ১৩টিই ভারতে অবস্থিত। এর মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের বাইরনিহাট তালিকাটির শীর্ষে রয়েছে। এছাড়াও বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত রাজধানীর তালিকায় ভারদের রাজধানী নয়াদিল্লির নাম সবার উপরে রয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা আইকিউএয়ারের একটি নতুন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সুইস বায়ুমানের প্রযুক্তি সংস্থা আইকিউএয়ারের ২০২৪ সালের বিশ্ব বায়ুমানের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লি বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে দূষিত রাজধানী হিসেবে রয়ে গেছে। এছাড়াও ভারত ২০২৪ সালে বিশ্বের পঞ্চম সর্বাধিক দূষিত দেশ হিসেবে স্থান পেয়েছে। যদিও ২০২৩ সালে তালিকায় ভারতের অবস্থান ছিল তৃতীয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ভারতে বায়ুবাহিত কণা পিএম ২.৫-এর ঘনত্ব সাত শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ঘনমিটারে ৫০.৬ মাইক্রোগ্রাম হ্রাস পেয়েছে, যেখানে ২০২৩ সালে প্রতি ঘনমিটারে ৫৪.৪ মাইক্রোগ্রাম ছিল। তবুও বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দূষিত শহরের মধ্যে ছয়টিই ভারতের।

তালিকায় ভারতের ওই ১৩টি দূষিত শহরের মধ্যে রয়েছে বাইরনিহাট, দিল্লি, মুল্লানপুর (পাঞ্জাব), ফরিদাবাদ, লোনি, নয়াদিল্লি, গুরুগ্রাম, গঙ্গানগর, গ্রেটার নয়ডা, ভিওয়াদি, মুজাফফরনগর, হনুমানগড় ও নয়ডা।

ভারতে বায়ু দূষণকে এখনো একটি গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি হিসেবে মনে করা হয়। এর কারণে ভারতীয়দের গড় আয়ু আনুমানিক ৫.২ বছর কমে যাচ্ছে।

গত বছর প্রকাশিত ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথের এক গবেষণা অনুসারে, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ভারতে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ মৃত্যুর ঘটনা পিএম ২.৫ দূষণের দীর্ঘমেয়াদী সংস্পর্শের সাথে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।

পিএম ২.৫ বলতে ২.৫ মাইক্রনের চেয়ে ছোট ক্ষুদ্র বায়ু দূষণকারী কণাকে বোঝায়, যা ফুসফুস ও রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে। এর উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে যানবাহনের কালো ধোঁয়া নির্গমন, বর্জ্য শিল্প নির্গমন ও কাঠ বা ফসলের বর্জ্য পোড়ানো।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক প্রধান বিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৌম্য স্বামীনাথন জানান, ভারত বায়ু মানের তথ্য সংগ্রহে অগ্রগতি করেছে কিন্তু পর্যাপ্ত পদক্ষেপের অভাব রয়েছে।

তিনি ভারতীয় বার্তাংস্থা পিটিআইকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। এখন আমাদের পদক্ষেপ নেয়া দরকার। কিছু সমাধান সহজ, যেমন জৈবিকভরকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস দিয়ে প্রতিস্থাপন করা। ভারত ইতোমধ্যেই এর জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। তবে আমাদের অতিরিক্ত সিলিন্ডারে আরো ভর্তুকি দিতে হবে। প্রথম সিলিন্ডারটি বিনামূল্যে দেয়া হবে। তবে দরিদ্র পরিবারগুলো, বিশেষ করে মহিলাদের, আরো বেশি ভর্তুকি পাওয়া উচিত। এটি তাদের স্বাস্থ্যের উন্নতি করবে ও বাইরের বায়ু দূষণ কমাবে।’

শহরগুলোতে গণপরিবহন সম্প্রসারণ ও নির্দিষ্ট গাড়ির ওপর জরিমানা আরোপ সাহায্য করতে পারে। তিনি বলেন, ‘প্রণোদনা ও জরিমানার মিশ্রণ প্রয়োজন।’

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের এই সাবেক মহাপরিচালক বলেন, ‘নির্গমন আইনের কঠোর প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প ও নির্মাণ স্থানগুলোকে শর্টকাট না নিয়ে নির্গমন কমাতে নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং সরঞ্জাম স্থাপন করতে হবে।

সূত্র : এনডিটিভি