Home Blog Page 484

আত্মপ্রকাশ করলো জাতীয় নাগরিক পার্টি

নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি আত্মপ্রকাশ করেছে। শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসে।

অনুষ্ঠানস্থলেই দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতাদের নাম ঘোষণা করা হয়।

বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ধর্মগ্রন্থ কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়।

জুলাই আন্দোলনে নিহতদের কয়েকজনের পরিবারের সদস্যরা, আহদের কয়েকজন, বিএনপি-জামায়াতে ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বেশ কয়েকজন নেতা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, এলডিপির একাংশের চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম উপস্থিত ছিলেন।

মিছিল নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দলের সমর্থকরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

সূত্র : বিবিসি

ভারত বা পাকিস্তানপন্থী রাজনীতির ঠাঁই হবে না : নাহিদ ইসলাম

‘বাংলাদেশে ভারতপন্থী বা পাকিস্তানপন্থী রাজনীতির কোনো ঠাঁই হবে না’ বলে উল্লেখ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণার অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে এসে বক্তব্য রাখার সময় এ কথা বলেন তিনি।

তার বক্তব্যে বার বার উঠে এসছে বাংলাদেশে একটি ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ বা ‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার বিষয়।

গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান

২০২৪ সালের অভ্যুত্থান সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার লড়াই সূচনা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক নতুন সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে আমাদের সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সকল সম্ভাবনার অবসান ঘটাতে হবে।’

‘সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন আমাদের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষ্য।’

কেমন হবে সেকেন্ড রিপাবলিক

সেকেন্ড রিপাবলিক কেমন হবে তার একটি উদ্দেশ্যের রূপরেখাও তুলে ধরেছেন তিনি।

সেক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং সব নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এমন দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

‘শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন স্বাধীনতা একটি সরকার পতন করে আরেকটি সরকার বসানোর জন্যই ঘটেনি। জনগণ বরং রাষ্ট্রের আষ্টেপৃষ্ঠে জেঁকে বসা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপের মাধ্যমে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আকাঙ্ক্ষা থেকে এই অভ্যুত্থানে সাড়া দিয়েছিল, যাতে করে জনগণের অধিকারভিত্তিক একটি রাষ্ট্র পুনর্গঠিত হয়,’ বলছেন তিনি।

সেই উদ্দেশে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন তিনি।

বক্তব্য শেষ করার সময়ও সবাইকে সেকেন্ড রিপাবলিক গঠনের প্রতিজ্ঞা করছেন কিনা সে প্রশ্ন রাখেন নাহিদ ইসলাম।

এরপর ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘ক্ষমতা না জনতা, জনতা জনতা’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’ এমন নানা স্লোগান দেন দলের শীর্ষ নেতারা।

সূত্র : বিবিসি

জুলাইয়ে বাংলাদেশ আসছে পাকিস্তান

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষে জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশ সফরে আসছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। এ সময় তিন ওয়ানডে ও তিন টি-টোয়েন্টির সিরিজ খেলতে আসবে পাকিস্তান।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

চলতি ট্রফি খেলতে বাংলাদেশ দল এখন পাকিস্তানে অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে বিসিবি প্রধান এবং পিসিবি প্রধান একটি বৈঠক করেছেন।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসরে দু’দলের অবস্থা তেমনটা ভালো না। টানা দুই হারে তাদের বিদায় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গেছে। গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আগামী বৃহস্পতিবার স্বাগতিকদের বিপক্ষে লড়বে টাইগাররা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি খেলেই পর দিনই দেশে ফিরবে মুশফিকরা। নিজেদের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দু’টি টেস্ট খেলার সম্ভাবনা আছে টাইগারদের।

জুন-জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কায় একটি সিরিজ খেলার কথা রয়েছে। ওই সিরিজে দুটি টেস্ট ও তিনটি করে ওয়ানডে এবং টি-২০ খেলবে বাংলাদেশ। এরপর ভারত আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। ওই সফরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-২০ খেলবে ভারত।

চলতি বছর ভালোই ব্যস্ততায় কাটবে জাতীয় দলের। সেপ্টেম্বরে অনুষ্টিত হবে ভারতের মাটিতে এশিয়া কাপ। এরপর অক্টোবরে দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট ও তিনটি টি-২০ খেলার কথা আছে টাইগারদের। এর মধ্য দিয়ে বিপিএলের প্রস্তুতি সারবে দলটি।

নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ‘শত্রুতার লক্ষণ’ : ইরান

ইরানের তেল বাণিজ্যের সাথে যুক্ত ৩০ জনেরও বেশি ব্যক্তি এবং জাহাজকে ওয়াশিংটন কালো তালিকাভুক্ত করার পর বুধবার এই নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ‘শত্রুতার স্পষ্ট লক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করে এর নিন্দা জানিয়েছে ইরান। তেহরান থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

জাতীয় তেল কোম্পানির প্রধান এবং তেল বিক্রিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োজিত অভিযুক্তদের লক্ষ্য করে সোমবার ওয়াশিংটন নতুন এই পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের ওপর তার ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি পুনর্বহাল করার পর এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি ছিল নিষেধাজ্ঞার দ্বিতীয় ধাপ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, নিষেধাজ্ঞাগুলো ‘ইরানের মহান জনগণের কল্যাণ, উন্নয়ন এবং সুখের প্রতি আমেরিকান নীতিনির্ধারকদের শত্রুতার সুস্পষ্ট লক্ষণ।’

এক বিবৃতিতে তিনি এই পদক্ষেপগুলোকে ‘ইরানি জনগণের মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী একটি ভুল, অযৌক্তিক, অবৈধ কাজ’ বলে অভিহিত করেছেন।

জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ট্রাম্প ইরানের সাথে সংলাপের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইরানকে তিনি একটি ‘মহান ও সফল দেশ’ হিসেবে দেখতে চান।

তবে সোমবার, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ‘চাপ, হুমকি বা নিষেধাজ্ঞার’ অধীনে তার দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে, ওয়াশিংটন ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক চুক্তি থেকে সরে আসে, যেখানে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর, তেহরান ধীরে ধীরে তার পারমাণবিক প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহার করে নেয়।

নভেম্বরে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতা গ্রহনের পর ইরান সোমবার ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির সাথে নতুন করে পারমাণবিক আলোচনা করেছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাদি মঙ্গলবার বলেছেন, তিন সপ্তাহের মধ্যে ইউরোপীয়দের সাথে আরও এক দফা আলোচনার আশা করা হচ্ছে।

সূত্র : এএফপি/বাসস

দেশে সংখ্যালঘু আর সংখ্যাগুরু বলে পার্থক্য করা যাবে না : জামায়াত আমির

দেশে সংখ্যালঘু আর সংখ্যাগুরু বলে পার্থক্য করা যাবে না মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘এ দেশে যারাই জন্ম নিয়েছে, তারা এ দেশের গর্বিত নাগরিক। আমরা নাগরিকদের ধর্ম কিংবা কোনো দলে বিভক্ত করতে চাই না।’

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক ইকবাল হোসাইনের সভাপতিত্বে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে ইউনিটি। একটাই জাতি আমরা, আমাদের পরিচয় হবে আমরা বাংলাদেশী।’

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘যে দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে না, সে দেশের মানুষ মাথা সোজা করে সম্মানের সাথে বিশ্বের সামনে দাঁড়াতে পারে না। স্বাধীনতার ৫৪ বছর গেল, আর কত বছর আমাদের বিভক্ত করে রাখা হবে?’

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে চলার পক্ষে। কেউ যেন কারো ধর্ম নিয়ে খোঁচাখুঁচি না করেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভারত আমাদের কাছের প্রতিবেশী, তারা যেন আমাদের উপর এমন কিছু চাপিয়ে না দেন যা বাংলাদেশের মানুষের জন্য অপমানজনক।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘পঞ্চগড়ের সাথে আমার ২০২২ সাল থেকে আলাদা একটা সম্পর্ক আছে। এর আগে আমার কাছে অন্য জেলার মতোই একটা জেলা ছিল। ২০২২ সালে নৌকা ডুবিতে যখন এলাম আমরা চেষ্টা করেছি, অসহায় পরিবারগুলোর কাছে যাওয়ার। ওই সময় একটা ছোট শিশুকে কোলে নেয়ার সুযোগ হয়েছিল। সেই শিশুটি আজকে এখানে এসেছে। শিশুটির নাম বিপু। ওই সময় তার বয়স সম্ভবত দু’বছর হবে। একেবারেই ছোট ছিল। নৌকা ডুবিতে মা-বাবা হারিয়েছে। আমরা সেই শিশুটির লেখাপড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার আর্থিক দায়িত্ব নিয়েছিলাম।’

পরে ডা: শফিকুর রহমান পঞ্চগড় সার্কিট হাউজে স্থানীয় জামাতের নারী সদস্য এবং বিশিষ্ট জনদের সাথে পৃথক মতবিনিময় করেন।

এ সময় জনসভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী, ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দীন প্রধান, ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা আব্দুল হাকিম, নীলফামারী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার, জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার মাহমুদ আল মামুন হিমু, তোফায়েল প্রধান, পঞ্চগড় জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী, পঞ্চগড় জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মীর মোর্শেদ তুহিন, বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টির সভাপতি মাসুদুর রহমান বক্তব্য দেন।

রাশিয়ার সাথে শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি সম্প্রসারণে আগ্রহী বাংলাদেশ : ড. ইউনূস

শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তির বিকাশ ও অভিন্ন স্বার্থের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘বাংলাদেশ রাশিয়ার সাথে পরমাণু শক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহী।’

বুধবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রায়ত্ত পরমাণু শক্তি করপোরেশন রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ অধ্যাপক ইউনূসের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

বৈঠকে মূলত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের (আরএনপিপি) চলমান সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রকল্পটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে পরমাণু শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস রসাটমের অব্যাহত সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে প্রকল্পটি সময়মতো সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা রসাটমের মহাপরিচালকের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা আপনার সহায়তা প্রত্যাশা করছি, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

মহাপরিচালক লিখাচেভ রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতির সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অধ্যাপক ইউনূসকে অবহিত করেন এবং জানান নির্মাণ কাজ পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে চলছে এবং ইতোমধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হয়েছে।

লিখাচেভ বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের যেকোনো সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য গ্রহণীয়।’

তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে জানান, প্রকল্পটির টেস্ট রান (পরীক্ষামূলক চালনা) চলছে এবং শিগগিরই পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হবে। তিনি আরো আশ্বস্ত করেন যে- সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে রসাটম প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বৈঠকে দুই পক্ষ আন্তঃসরকারি ঋণ চুক্তি (আইজিসিএ) সংশোধনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন, সেখানে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত ঋণের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়।

এই বিষয়ে উভয় পক্ষ শিগগিরই আইজিসিএ-এর প্রটোকল নম্বর ২ স্বাক্ষর করতে সম্মত হয়, যা প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করবে। এছাড়া কর্মী প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা প্রটোকল এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরসহ দীর্ঘমেয়াদী সফলতার জন্য অব্যাহত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রধান উপদেষ্টার মূখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মোকাব্বির হোসেন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো: শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন, রাশিয়ার ফেডারেল এনভায়রনমেন্টাল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড নিউক্লিয়ার সুপারভিশন সার্ভিস-এর ডেপুটি চেয়ারম্যান আলেক্সি ফেরোপোন্তভ, রসাটমের প্রথম ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল আন্দ্রেই পেত্রভ এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ও এএসই জেএসই-এর সহ-সভাপতি আলেক্সি ডেরি উপস্থিত ছিলেন।

মহাপরিচালক লিখাচেভ বর্তমানে এক দিনের সফরে বাংলাদেশ রয়েছেন। এর আগে তিনি সর্বশেষ ২০২৪ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ সফর করেন।
সূত্র : বাসস

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সামনে অবস্থান নিয়েছেন জুলাই আন্দোলনে আহতরা

জুলাই আন্দোলনে আহতরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মিছিল নিয়ে গিয়ে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনের সড়কে বসে পড়েন তারা।

এ সময় তারা উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পর্যাপ্ত সহায়তার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

এর আগে, বিভিন্ন সময় আন্দোলনে আহতরা স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের দাবিতে রাজধানীর শ্যামলী, শাহবাগ, উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অবরোধ করেছিলেন।

জানা গেছে, আহতরা উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রবেশের গেটের সামনের সড়কে বসে আছেন। তাদের পুলিশ, কার্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এপিবিএনসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন।

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আহত এবং নিহত হয়েছে এমন ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্যরা সেখানে গেছেন। তাদের সবার দাবি, আহতদের ক্যাটাগরি বিন্যাসে যে বৈষম্য করা হয়েছে সেটি সংশোধন করতে হবে। একইসাথে শহীদ পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে।

এ বিষয়ে যতক্ষণ পর্যন্ত সুস্পষ্ট নির্দেশনা না আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে বলে জানান তারা।

ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতরা তাদের কিছু দাবি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। তারা রাস্তা অবরোধ করেনি, কার্যালযয়ের সামনে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।’

উত্তেজনার মধ্যেই নতুন ছাত্র সংগঠনের নাম ঘোষণা

গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষার্থীদের নতুন ছাত্র সংগঠনের নাম ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে হাতাহাতি ঘটেছে। বুধবার বেলা ৩টায় সংবাদ সম্মেলনে নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশের কথা ছিল। কিন্তু ধাক্কাধাক্কি ও বিক্ষোভের মুখে নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা পরও সংবাদ সম্মেলন শুরু করা যায়নি।

পরে সোয়া ৫টার দিকে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রদের অন্যতম আবু বাকের মজুমদার নতুন দলের নাম ঘোষণা করেন। তখনো বিক্ষুব্ধ কিছু তরুণকে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

নতুন ছাত্র সংগঠনের নাম রাখা হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’।

পদ বঞ্চিত হয়েছেন দাবি করে এ আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বিক্ষোভ করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ সময় উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের ধাক্কাধাক্কি করতে দেখা যায়।

নতুন ছাত্র সংগঠনের আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার। সদস্য সচিব জাহিদ আহসান। মুখ্য সংগঠক তাহমিদ আল মুদাসসির এবং মুখপাত্র আশরেফা খাতুন।

দলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে আব্দুল কাদের এবং সদস্য সচিব মাহির আলমের নাম ঘোষণা করা হয়।

সংগঠনটির প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে, ‘স্টুডেন্টস ফার্স্ট, বাংলাদেশ ফার্স্ট’।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠনের সাথে এর সাংগঠনিক কাঠামোর কোনো সম্পর্ক থাকবে না। এমনকি গঠিত হতে যাওয়া নতুন রাজনৈতিক দলের সাথেও কোনো সম্পর্ক থাকবে না।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক একটি ছাত্র সংগঠন হিসেবে এই সংগঠন কাজ করবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি

উপদেষ্টা মাহফুজ পেলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে মো: নাহিদ ইসলামের পদত্যাগের এক দিন পর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন মো: মাহফুজ আলম।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের রুটিন দায়িত্বে নিয়োজিত সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) জাহেদা পারভীন সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগ দেয়া হয়।

এর আগে মঙ্গলবার মো: নাহিদ ইসলাম প্রধান উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়া এই পদত্যাগপত্রে তিনি লেখেন, ‘রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের পরে ছাত্র-জনতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে পরিবর্তিত নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য আপনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।’

এই উপদেষ্টা পরিষদে তাকে সুযোগ দেয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম লেখেন, ‘উপদেষ্টা পরিষদে আমি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাই। নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আপনার নেতৃত্বে দায়িত্ব পালনে সদা সচেষ্ট থেকেছি। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমার ছাত্র-জনতার কাতারে উপস্থিত থাকা উচিত মর্মে আমি মনে করি। ফলে আমি আমার দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেওয়া সমীচীন মনে করছি।’

এফডিসির এমডিকে অপসারণে আলটিমেটাম

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অপসারণ চেয়ে আলটিমেটাম দিয়েছেন চলচ্চিত্র শিল্পি ও কলাকুশলীরা। সম্মিলিত বৈষম্যহীন চলচ্চিত্র স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির ব্যানারে আজ রোববার সকাল থেকেই এফডিসির গেটের সামনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে তারা এ দাবি জানান।

শিল্পিদের অভিযোগ, সম্প্রতি এমডি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মাসুমা রহমান তানি পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর। তাই তাকে সরাতে আন্দোলনে নেমেছেন তারা। এজন্য রোববার থেকে সরকারকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে মাসুমা রহমান তানিকে এমডির পদ থেকে না সরালে কঠোর কর্মসূচির হুমকি দেয়া হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার জন্য প্রতীকী ‘এফডিসি ব্লকড’ পালন করা হয়।

এ উপলক্ষে গতকাল এফডিসি প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন করে বৈষম্যহীন চলচ্চিত্র স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি। এতে বক্তব্য রাখেন কমিটির উপদেষ্টা এবং চিত্রনায়ক, পরিচালক ও প্রযোজক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল।

বৈষম্যহীন চলচ্চিত্র স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক ও চলচ্চিত্র পরিচালক বদিউল আলমের সভাপতিত্বে এফডিসি ফটকে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, চিত্রনায়ক হেলাল খান, শিল্পী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আরমান, অভিনয়শিল্পী এ বি এম সোহেল রশিদ, কেয়া চৌধুরী, শারমিন, চলচ্চিত্র পরিচালক নাসির উদ্দিন, জয়নাল আবেদিন, শাওন আশরাফ, শফিকুল ইসলাম, কাহিনিকার ও চিত্রনাট্যকার কাসেম আলী, ফিল্ম ক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

এতে চিত্রনায়ক, পরিচালক ও প্রযোজক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল বলেন, ‘এফডিসিতে প্রশাসনিক কাজে যদি কোনো প্রশাসক আসে, আমাদের তো কোনো আপত্তি নেই। কারণ এটা সরকারি জায়গা। একটা লোক চাকরি করতে আসবে, সে আসতেই পারে। এখানে চাকরি করতেই পারে। কিন্তু আপনি এমন একজনকে পাঠাচ্ছেন যিনি অজ্ঞাতনামা আসামি আমাদের চোখে। আমরা তাকে চিনি না, জানি না। তাহলে কেন জোর করে আমাদের ওপর আপনারা তাকে চাপিয়ে দেবেন। এমনটা হবে না। আমরা সেটা প্রতিহত করব।’

পরিচালক ও বৈষম্যহীন চলচ্চিত্র স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক বদিউল আলম বলেন, ‘আমরা বলছি না, আমাদের পছন্দের কাউকে এফডিসির এমডি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হোক। কিন্তু যাকে এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব দেয়া হবে, তাকে অবশ্যই যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে। চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় দক্ষতা থাকতে হবে, চলচ্চিত্র সম্পর্কে জানতে হবে। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানে আমরা দেখছি এখন ফ্যাসিস্ট ও আওয়ামী দোসরকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এটা মেনে নেয়া যায় না। তাই আমরা সবাই এক হয়েছি।’