Home Blog Page 489

কারো ধমকে কাজ করার প্রয়োজন নেই : প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অন্তর্বর্তী এই সরকারের আমলে কারো রক্তচক্ষু বা ধমকের কারণে কোনো কাজ করার প্রয়োজন নেই। নিজের মতো করে যেটা আইন, যেটা দেশের জন্য করা দরকার, সেটা করতে হবে।

আজ রোববার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের শাপলা হলে তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নিজ নিজ জেলায় সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে এক নম্বর হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

এর আগে, সকাল সাড়ে ১০টায় তিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের নিজ কার্যালয়ের শাপলা হলে উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এবার ডিসি সম্মেলন শেষ হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার)।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার সাথে ডিসিদের মুক্ত আলোচনা হবে। সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সাথে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভা হবে। রাতে হবে প্রধান উপদেষ্টার সাথে নৈশভোজ।

বিদ্রোহ থেকে সরে এসেছেন সাবিনারা, ফিরবেন অনুশীলনে

শেষ পর্যন্ত কোচ পিটার জেমস বাটলারের অধীনে অনুশীলন করতে রাজি হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ১৮ নারী ফুটবলার।

আজ রোববার বাফুফের মহিলা উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজ আক্তার কিরণের সাথে মিটিং শেষে অনুশীলনে ফিরতে রাজি হয়েছেন সাবিনা খাতুনসহ ১৮ জন। তবে এখনই তাদের অনুশীলনে নেয়া হচ্ছে না।

মাহফুজ আক্তার কিরণ বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশ জাতীয় দল দু’টি ম্যাচ খেলতে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাত যাবে। সে উপলক্ষে ক্যাম্প ছুটি হবে। তখন জাতীয় দল যাবে আমিরাতে। আর বিদ্রোহী ফুটবলার চলে যাবেন যার যার বাড়িতে। এরপর আবার যখন ক্যাম্প শুরু হবে তখনই বাটলারের অধীনে যোগ দিবেন সাবিনা, নীলা, সানজিদা, মনিকা, মারিয়ারা।

তবে ওই ক্যাম্পে এই বিদ্রোহীদের সবাই ডাক পাবেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কারণ বাফুফের বিশেষ কমিটি শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য অভিযুক্ত করেছে এই বিদ্রোহীদের। হয়তো তখন কয়েকজন খেলোয়াড়কে ক্যাম্পে আর নাও ডাকা হতে পারে।

আ’লীগ সরকারের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে : তারেক রহমান

আওয়ামী লীগ সরকারের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, গণতন্ত্র, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস করে গেছে। নির্বাচনের নামে দেশের জনগণের সাথে তামাশা ও প্রসহন করেছে। বিরোধী দলের প্রতি দমন পীড়ন, মিথ্যা মামলা ও গুম করেছে। কাউকে ভোট দিতে দেয়নি।’

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘জোরপূর্বক ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে কাউকে ভোট দিতে দেয়নি আওয়ামী লীগ সরকার। দীর্ঘ ১৬ বছর স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা মানুষের কথা বলার অধিকারকে হরণ করে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে একছত্র অপশাসন কায়েম করেছিল। ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার ও খুনি আওয়ামী লীগের পতন ঘটানোর পর বাংলার মাটি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন শেখ হাসিনা।’

তিনি আরো বলেন, ‘মানুষের ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রকাঠামোকে মেরামত করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনে আমরা ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘদিনের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই।’

এর আগে নড়াইল জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন-বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রী আমান উল্লাহ আমান। এ সময় অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির যুগ্মসম্পাদক মাহবুব মুর্শেদ জাপল ও সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুর রহমান পলাশ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান আরো বলেন, ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বিএনপি অতীতে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বেকারদের প্রবাসে কর্মসংস্থানের সুযোগ, এদেশে রফতানি আয়ের প্রধান উৎস গামের্ন্টসের সূচনা ও কৃষি তথা কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। বিএনপি সরকারের আমলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, নারী শিক্ষার উন্নয়ন, কলকারখানা স্থাপনপূর্বক বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুন্ডু। এছাড়া বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি জুলফিকার আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার রিজভী জর্জ, যুগ্মসম্পাদক আলী হাসান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান আলেক, লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহদুজ্জামান বাটু, সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম, কালিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক স ম ওয়াহিদুজ্জামান মিলু, কালিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি এস এম সেলিম হোসেন, নড়াইল পৌর বিএনপির সভাপতি তেলায়েত হোসেন বাবু, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ফসিয়ার রহমানসহ অনেকে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ১৬ বছর পর প্রকাশ্যে নড়াইল জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭০৭ জন কাউন্সিলর তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। এ সম্মেলনে সভাপতি পদে বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম এবং জুলফিকার আলী মন্ডল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে মনিরুল ইসলাম, শাহরিয়ার রিজভী জর্জ এবং কামরুল হাসান প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন টিপু সুলতান, খন্দকার এজাজুল হাসান বাবু, মাহবুব মুর্শেদ জাপল ও এস এম ফেরদৌস রহমান।

রোববার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের কারণে দীর্ঘ ১৬ বছরেও প্রকাশ্যে সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাই মিলে চেষ্টা করব : ড. ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ সার্থক করতে ও তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাই মিলে সবরকম চেষ্টা করব।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ঐকমত্য কমিশনের প্রথম বৈঠকের প্রারম্ভিক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি বলেন, প্রতিজ্ঞা করি আমরা যেন গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান না জানাই। যে কারণে তারা আত্মত্যাগ করেছিল সেটা যেন পরবর্তী সব প্রজন্ম মনে রাখে, তাদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে। তাদের আত্মত্যাগ সার্থক করার জন্য আমরা সবাই মিলে সবরকম চেষ্টা করব যেন সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারি।

‘তারা এ ত্যাগ না করলে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকলেও জবাব খোঁজার আমাদের কোনো সুযোগ থাকত না। প্রশ্ন আমাদের মনে যতটুকু ছিল, বহু বছর ধরে ছিল, সুযোগ পাইনি। অসংখ্য ছাত্র-জনতা আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা সুযোগ পেয়েছি।’

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, আমরা ছোটখাটো একটা হাডুডু খেলার জন্য আইন বানাই। ফুটবল খেলা তো বটেই, এটা আন্তর্জাতিক খেলা। সে আইন আমরা মেনে চলি, মেনে চলি বলেই খেলাটা খেলা হয়, তামাশা হয় না। আইনগুলো এমনভাবে বানানো হয়েছে সবাই যেন উপভোগ করে। কিন্তু আমরা আমাদের দেশকে তামাশায় পরিণত করে ফেলেছি। আইন বলে কিছু নেই, নিয়ম বলে কিছু নেই। যারা আত্মত্যাগ করেছে তারা আমাদের নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছে, আমরা যেন সেসব আইনকানুন পাল্টে ফেলে নতুন বাংলাদেশের জন্য প্রস্তুত হই।

‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানের শিল্পী প্রতুল মুখার্জি আর নেই

‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানের প্রখ্যাত শিল্পী প্রতুল মুখার্জি মারা গেছেন। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

গেল সপ্তাহ থেকেই তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিলেন। গত জানুয়ারিতে হাসপাতালে ভর্তি করানোর সময় তার নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তাই স্নায়ু এবং নাক-কান ও গলার বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা হয় তার।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান, তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। দ্রুত তাকে কার্ডিওলজি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসা চলাকালে শিল্পীর ফুসফুসেও সংক্রমণ দেখা দেয়। দ্রুতই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে।

তার গাওয়া অন্যতম জনপ্রিয় গান হলো- ‘আমি বাংলায় গান গাই’, ‘ডিঙ্গা ভাসাও সাগরে সাথী রে’। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও তার গানের গুণমুগ্ধ ছিলেন। মমতার তত্ত্বাবধানেই হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল তাকে।

বাংলাদেশের বরিশাল জেলায় ১৯৪২ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন প্রতুল মুখার্জি। বাবা ছিলেন সরকারি স্কুলের শিক্ষক। শৈশব থেকেই গান লিখে তাতে সুর দিয়ে গাওয়ার ঝোঁক ছিল তার।

প্রতুল মুখার্জিকে পাদপ্রদীপের আলোয় আনে তার গাওয়া ‘আমি বাংলায় গান গাই’। এছাড়া সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে তৈরি ‘গোঁসাইবাগানের ভূত’ ছবির নেপথ্য শিল্পী ছিলেন তিনি।

তার মতে, সৃষ্টির মুহূর্তে লেখক-শিল্পীকে একা হতে হয়। তারপর সেই সৃষ্টিকে যদি মানুষের সাথে মিলিয়ে দেয়া যায়, কেবল তাহলেই সেই একাকিত্বের সার্থকতা। সেই একক সাধনা তখন সকলের হয়ে ওঠে।’
সূত্র : ইউএনবি

বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের জন্মদিন আজ

অসংখ্য জনপ্রিয় বাউল গান ও গণসংগীতের রচয়িতা বাউল শাহ আব্দুল করিমের জন্মদিন আজ। ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ধল-আশ্রম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ইব্রাহিম আলী ও মা নাইওরজান।

দারিদ্র ও জীবন সংগ্রামের মাঝে বড় হওয়া বাউল শাহ আবদুল করিমের সঙ্গীত সাধনার শুরু ছেলেবেলা থেকেই। শৈশব থেকেই একতারা ছিল তার নিত্যসঙ্গী। জীবন কেটেছে সাদাসিধেভাবে। বাউল ও আধ্যাত্মিক গানের তালিম নেন কমর উদ্দিন, সাধক রসিদ উদ্দিন, শাহ ইব্রাহিম মোস্তান বকসের কাছ থেকে। এই বাউল স্বশরীরে আমাদের মাঝে না থাকলেও তার গান ও সুরধারা কোটি কোটি তরুণসহ সকল স্তরের মানুষের মন ছুঁয়ে যায়।

কিংবদন্তিতুল্য এই শিল্পী ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ৯৩ বছর বয়সে মারা যান। মৃত্যুর পর সর্বস্তরের বিশেষ করে সাধারণের কাছে আরো বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন বাউল শাহ আব্দুল করিম।

শাহ আবদুল করিম বাংলার লোকজ সঙ্গীতের ধারাকে এগিয়ে এনেছেন সামনে। ভাটি অঞ্চলের সুখদুঃখ তুলে এনেছেন গানে। নারী-পুরুষের মনের কথা ছোট ছোট বাক্যে প্রকাশ করেছেন আকর্ষণীয় সুরে। ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি তার গান কথা বলে সকল অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে।

তিনি তার গানের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন প্রখ্যাত বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ, পুঞ্জু শাহ ও দুদ্দু শাহের দর্শন থেকে। জীবিকা নির্বাহ করেছেন কৃষিকাজ করে। কিন্তু কোনোকিছু তাকে গান সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। অসংখ্য গণজাগরণের গানের রচয়িতা বাউল শাহ আব্দুল করিম অত্যন্ত সহজ-সরল জীবন যাপন করতেন।

গানে-গানে অর্ধ শতাব্দীরও বেশী সময় লড়াই করেছেন ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধে। এজন্য মৌলবাদীদের নানা লাঞ্চনারও শিকার হয়েছিলেন তিনি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, কাগমারী সম্মেলন, ভাষার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মানুষকে প্রেরণা যোগায় শাহ আবদুল করিমের গান।

শাহ আবদুল করিম লিখেছেন ও সুর দিয়েছেন ১৬০০’র বেশি গান। যেগুলো সাতটি বইয়ে গ্রন্থিত আছে। বাংলা একাডেমীর উদ্যোগে তার ১০টি গান ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

কিশোর বয়স থেকে গান লিখলেও কয়েক বছর আগেও এসব গান শুধু ভাটি অঞ্চলের মানুষের কাছেই জনপ্রিয় ছিল। তার মৃত্যুর কয়েক বছর আগে বেশ কয়েকজন শিল্পী বাউল শাহ আব্দুল করিমের গানগুলো নতুন করে গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করলে তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। পেয়েছেন একুশে পদক।

শাকুর মজিদ তাকে নিয়ে নির্মাণ করেছেন ‘ভাটির পুরুষ’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র। সুবচন নাট্য সংসদ করিমকে নিয়ে শাকুর মজিদের লেখা ‘মহাজনের নাও’ নাটকের প্রদর্শনী করে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এছাড়াও ২০১৭ শাহ আবদুল করিমের জীবনভিত্তিক প্রথম উপন্যাস লিখেন সাইমন জাকারিয়া। নাম কূলহারা কলঙ্কিনী।

বাউল সম্রাট আব্দুল করিমের গানের মধ্যে দিয়ে তাকে খুঁজতে প্রতিদিন ভক্ত ও স্বজনরা গানের আসর বসান। তার গান গেয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা আর গানের মধ্যে তাকে বাঁচিয়ে রাখতেই সবার মাঝে তার গান ছড়িয়ে দিতে চান ভক্ত আশেকানরা। একইসাথে তার সুরধারাকে বিকৃতভাবে না গাওয়ার দাবিও তুলেছেন বাউলরা।

বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে/আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম, গাড়ি চলে না/আমি কূলহারা কলঙ্কিনী/কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া কোন মেস্তরি নাও বানাইছে/কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু/বসন্ত বাতাসে সইগো/আইলায় না আইলায় নারে বন্ধু/মহাজনে বানাইয়াছে ময়ুরপংখী নাও/আমি বাংলা মায়ের ছেলেসহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা শাহ আব্দুল করিম না থাকলেও গানে আর সুরে তিনি আমাদের মাঝে রয়েছেন, অনন্তকাল থাকবেন।

একটি সাক্ষাৎকারে শাহ আবদুল করিম গাড়ি চলে না গানটি প্রসঙ্গে বলেছিলেন, বন্ধুর বাড়ি এ আত্মায়। গাড়িতে চড়ে আত্মশুদ্ধির সন্ধানে ছুটি। কিন্তু পাই না। রিপু থামিয়ে দেয়। একদিন হয়তো এই গাড়ি পুরোদমে থেমে যাবে। প্রকৃত মালিকের কাছে ধরা দেবে। এই করিমকে তখন মানুষ খুঁজে পাবে শুধুই গানে আর সুরে।

সূত্র : ইউএনবি

ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড

ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড। স্বাগতিক পাকিস্তানকে হতাশ করে শিরোপা ঘরে তুলেছে মিচেল সান্টনারের দল। একই সাথে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে সাড়লো সম্ভাব্য সেরা প্রস্তুতি। যেন হমকি দিয়ে রাখলো অন্যদের।

শুক্রবার করাচিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয় পাকিস্তান। যেখানে ব্যাট করে ৪৯.৩ ওভারে ২৪২ রান করে পাকিস্তান। জবাবে ৪৫.২ ওভারে ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় কিউইরা।

রান তাড়ায় তেমন একটা বেগ পেতে হয়নি কিউইদের। দ্বিতীয় ওভারে উইল ইয়াংয়ের (৫) উইকেট হারালেও তিনে নামা কেন উইলিয়ামসনকে নিয়ে দলকে জয়ের পথে রাখেন ডেভন কনওয়ে। দু’জনের জুটিতে আসে ৭১ রান।

উইলিয়ামসন সালমানের শিকার হয়ে ৪৯ বলে ৩৪ রানে থামলে ভাঙে জুটি। তবে কনওয়ে দলকে পৌঁছে দেন তিন অংকের ঘরে। ৭৪ বলে ৪৮ রান করে যখন ফেরেন কনওয়ে, কিউইদের সংগ্রহ তখন ২৪.২ ওভারে ১০৮।

জয় নিশ্চিতে বাকি কাজ সাড়েন ড্যারিল মিচেল ও টম লাথাম। তাদের ৮৭ রানের জুটি ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন পাকিস্তানকে। যদিও তাদের কেউ পারেননি জয় নিশ্চিত করে ফিরতে।

জয় থেকে ৪৮ রান দূরে থাকতে ৫৭ রানে আউট হন মিচেল। আর ৬৪ বলে ৫৬ রান করে লাথাম আউট হন জয় থেকে ১১ রান দূরে থাকতে। গ্লেন ফিলিপস ১৭ বলে ২০ রান তুলে নিশ্চিত করেন জয়। নাসিম শাহ নেন ২ উইকেট।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের। ফখর জামান ফেরেন মাত্র ১০ রানে, সৌদ শাকিলও পাননি রানের দেখা। তবে অন্যপ্রান্ত থেকে বাবর আজম চেষ্টা করেন হাল ধরার।

তবে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। ৩৪ বলে ২৯ রান করে বাবর ফিরলে ৫৪ রানে ৩ উইকেট হারায় পাকিস্তান। এরপর তারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায় রিজওয়ান ও সালমান আগার ব্যাটে। এই জুটিতে যোগ হয় ৮৮ রান।

৭৬ বলে ৪৬ রান করে দলীয় ১৪২ রানে উইলিয়াম ও রোর্কের বলে রিজওয়ান আউট হলে ভাঙে এই জুটি। সালমানও ইনিংস বড় করতে পারেননি, ৬৫ বলে ৪৫ রান করে থামতে হয় তাকে।

এরপর খুশদিল শাহ ১৮ বলে ৭ রানে ফিরলেও তইয়্যব তাহির রাখেন ভালো ভূমিকা। দলকে দুই শ’ পার করান তিনি। ফেরেন ৩৩ বলে ৩৮ করে। এরপর ফাহিম আশরাফের ২১ বলে ২২ ও নাসিম শাহ ১৯ রানে আড়াই শ’র কাছাকাছি পৌঁছায় পাকিস্তান।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন ও রোর্কে। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন মিচেল ব্রেসওয়েল ও মিচেল স্যান্টনার।

দুবাই পৌঁছেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

আসন্ন আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পৌঁছেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রয়ারি) দিবাগত রাতে ঢাকা ত্যাগ করে টাইগাররা।

এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজক পাকিস্তান। তবে হাইব্রিড মডেলে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হবে টুর্নামেন্টটি।

সরকারের কাছ থেকে পাকিস্তান সফরের অনুমতি না পাওয়া আরব আমিরাতের দুবাইয়ে নিজেদের ম্যাচগুলো খেলবে ভারত। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ ভারত হওয়ায় দুবাই গেছে বাংলাদেশ। ২০ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে যাত্রা শুরু করবে মিরাজ-সৌম্যরা।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ে আইসিসি ক্রিকেট অ্যাকাডেমি মাঠে পাকিস্তান শাহিনসের (পাকিস্তান এ) বিপক্ষে একটি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল।

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পর গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ দু’ ম্যাচ খেলতে পাকিস্তান যাবে টাইগাররা।

রাওয়ালপিন্ডিতে ২৪ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ড এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ দল

নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান, তাওহিদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, জাকের আলী অনিক, মেহেদি হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, পারভেজ হোসেন ইমন, নাসুম আহমেদ, তানজিদ হাসান, নাহিদ রানা।

সূত্র : বাসস

গণহত্যার ‘সত্যতা’ উদ্ঘাটিত হওয়ায় জাতিসঙ্ঘকে অভিনন্দন জামায়াতের

জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন-এর তদন্ত প্রতিবেদনে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ‘সত্যতা’ উদ্ঘাটিত হওয়ায় হাইকমিশনকে আন্তরিক মুবারকবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিনন্দন জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য গত বছরের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে যে অমানবিক ও নির্মম গণহত্যা চালিয়েছে, তারই স্বীকৃতি পাওয়া গেল বিশ্ব সংস্থা জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন-এর তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে। খুনি ও খুনিদের মাস্টারমাইন্ডদের তথ্য ও পরিচয় এই তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেছে জাতিসঙ্ঘ। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে ‘সত্য’ উদ্ঘাটিত হওয়ায় আমরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার নির্দেশেই যে গত জুলাই-আগস্টে গণহত্যা সংঘঠিত হয়েছে তা জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন-এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে উন্মোচিত হলো। এতে গোটা জাতি স্বস্তিবোধ করছে এবং অপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে আশান্বিত হয়েছে। জাতিসঙ্ঘের তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে- খুনি শেখ হাসিনার নির্দেশেই দেশে গণহত্যা সংঘটিত ও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। খুনিদের মাস্টারমাইন্ড ও তার দোসরদের মাধ্যমেই দেশের নাগরিকদের ওপর অকথ্য জুলুম-নির্যাতন, গুম এবং বীভৎস ও লোমহর্ষক গণহত্যা চালানো হয়েছে। লাশ স্তুপ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। আয়নাঘর বানিয়ে দেশের মানুষকে গুম ও পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে।’

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘মজলুমের পক্ষে নয়, বরঞ্চ মজলুম বিষয়ে জাতিসঙ্ঘের এই রিপোর্ট গণহত্যার দলিল হয়ে থাকবে। অন্তর্বর্তী সরকারকে সকল গণহত্যাকারী এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। জনগণ মনে করে, গণহত্যার অপরাধে অপরাধী হিসেবে আওয়ামী লীগের এ দেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। এই জনআকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধের দাবির বিষয়টিও অন্তর্বর্তী সরকারকে বিবেচনায় নেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।’-বিজ্ঞপ্তি

কেরু কোম্পানি চত্বরে আবারো বোমা, চরম আতঙ্ক গোটা এলাকা

আবারো দর্শনায় কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড (চিনিকল) প্রতিষ্ঠানের চত্বরে কালো টেপ মড়ানো বোমা দেখতে পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা এটি ককটেল বোমা হতে পারে।

এক দিনের ব্যবধানে আজ শনিবার বেলা ১২টার দিকে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি চত্বরে আবারো ককটেল বোমা পাওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা যায়, শনিবার সকালে কেরু কোম্পানি চত্বরে ছাগল চড়াচ্ছিলেন এক যুবক। তিনি প্রথমে কালো টেপ মড়ানো বোমা সাদৃশ্য বস্তু দেখতে পেয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের জানায়। তবে প্রায় একইস্থান অর্থাৎ এক শ’ মিটার দূরেই একটি বোম পাওয়া গিয়েছিল। এরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনীর একটি দল পরিদর্শন করেছেন এবং ঘটনাস্থলের আশপাশে সতর্ক অবস্থানে আছেন তারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির জেনারেল অফিস সংলগ্ন ক্লাবের পাশের ঝোড়ের মধ্যে লাল টেপ মড়ানো একটি বস্তু দেখতে পান কোম্পানির কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীরা। বোমা হতে পারে এই সন্দেহজনক হওয়ায় দ্রুত দর্শনা থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ক্যাম্পে খবর দেন তারা। এই নিয়ে দিনব্যাপী আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। বোমা সদৃশ্য বস্তু সন্দেহে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এটিকে ঘিরে রেখেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পরে রাত ৯টার দিকে রাজশাহী থেকে র‍্যাব-৫ এর ছয় সদস্যের একটি বোমা নিস্ক্রিয়দল ঘটনাস্থলে এসে বোমাটি বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটায়।

স্থানীয় ও প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মকরত কয়েকজন না প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিষ্ঠানে সদ্য স্থগিত হয়ে যাওয়া শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কোনো পক্ষ এই ঘটনা ঘটাচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

দর্শনা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মুহম্মদ শহীদ তিতুমীর বলেন, আবারো একই ধরনের কালো টেপ মোড়ানো বোমা সাদৃশ্য বস্তু পাওয়া গেছে। এটাও ককটেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ পূর্বের পাওয়া ককটেলের সাথে এটার হুবহু মিল হয়েছে। তবে আজকেরটা কালো টেপ মড়ানো। রাজশাহী র‍্যাবের বোমা নিস্ক্রিয় টিমকে জানানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, গতবারের ঘটনায় কেরু কোম্পানি কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করেছেন। আমরা এ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি।

সূত্র : ইউএনবি