Home Blog Page 489

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা : হাইকোর্টের রায় রোববার

বহুল আলোচিত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় আগামীকাল রোববার ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন।

আজ শনিবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, আলোচিত আবরার হত্যা মামলাটি রোববার রায় ঘোষণার জন্য সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় ১ নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে।

এর আগে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান ও ডেপুটি অ‍্যাটর্নি জেনারেল কে বি রুমি। তাদের সাথে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার সুমাইয়া আজিজ ও জামিউল হক ফয়সাল। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও আইনজীবী শিশির মনির।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি বহুল আলোচিত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয়।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরের দিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা বরকত উল্লাহ। মাত্র ৩৭ দিনে তদন্ত শেষ করে একই বছরের ১৩ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মো: ওয়াহিদুজ্জামান।

পরে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবনের আদেশ দেন আদালত। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো: কামরুজ্জামানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার অপু (মেকানিক্যাল ইঞ্জনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ), সদস্য মোজাহিদুর রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাজেদুর রহমান মাজেদ (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), খন্দকার তাবাক্কারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ), মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), এস এম নাজমুস সাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোসের্স, ১৬ ব্যাচ), শামছুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল) এবং এসএম মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল)।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলো বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪ তম ব্যাচ, সিই বিভাগ), গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ), আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং), সদস্য আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ) ও মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭ ব্যাচ)।

এরপর ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স ও মামলার নথি হাইকোর্টে আসে। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে ছয় হাজার ৬২৭ পৃষ্ঠার ডেথ রেফারেন্স ও মামলার যাবতীয় নথি হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয়।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি কারা

০

শিরোপার লড়াইয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর লড়াই শেষ হয়েছে। সম্প্রতি রিয়াল মাদ্রিদ টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে।

এর আগে আর্সেনাল, অ্যাস্টন ভিলা বড় ব্যবধানে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। এই রেসে টিকে থাকতে সহজেই পার পেয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ কিংবা বার্সেলোনা। জার্মান ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ৩-২ গোলে জিতে জায়গা করে নিয়েছে শেষ আটে।

কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার সূচি

শিরোপার লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদ বনাম আর্সেনালের খেলার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমিরা। এই ম্যাচটি ইউরোপীয় ফুটবলের দুই জায়ান্টের মধ্যে দারুণ মহারণ। আর্সেনাল তরুণদের নিয়ে রিয়ালের সামনে নামবে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে। মাঠের পারফম্যান্সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে রিয়াল।

অন্যদিকে বার্সেলোনা বনাম বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের খেলাও দারুণ জমে উঠবে। বার্সেলোনা তাদের চেনা রূপে খেলবে। শিরোপার হাতে পেতে ছাড় দিবে না ডর্টমুন্ডের উদীয়মান দল।

এদিকে বায়ার্ন মিউনিখ বনাম ইন্টার মিলান দুই দলের লড়াইয়ে নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমিদের। শক্তিশালী এই দুই দলের মুখোমুখি লড়াইটা দারুণ জমে উঠবে। বায়ার্নের ও মিলান দুই দলেরই রক্ষণভাগ দুর্দান্ত।

পিএসজি বনাম অ্যাস্টন ভিলা কেউ কাউকে ছাড় দিবে না। দুই দলই নিজেদের শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে চেষ্টা করবে। অ্যাস্টন ভিলা খেলেও দারুণ। ফলে খেলা জমে উঠবে জম্পেশ।

আইপিএলে ২ বছর নিষিদ্ধ ব্রুক

০

নিলামে দল পাওয়ার পরও নাম প্রত্যাহার করে নেয়ায় ইংল্যান্ড ব্যাটার হ্যারি ব্রুককে দুই বছরের জন্য ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) নিষিদ্ধ করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।

ব্রুকের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে (ইসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে বিসিসিআই।

২০২৪ সালে আইপিএলের নিলামে ব্রুককে ৪ কোটি রুপিতে কিনেছিল দিল্লি। দাদির মৃত্যুর কারণে আইপিএলে খেলেননি ব্রুক।

আসন্ন আসরের জন্য অনুষ্ঠিত নিলাম থেকে ব্রুককে সোয়া ৬ কোটি রুপিতে দলে ভেড়ায় দিল্লি। এবার জাতীয় দলের ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে আইপিএলে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রুক।

নিলামে দল পেয়েও অংশ না নেয়া বিদেশী ক্রিকেটারদের জন্য আইপিএল কর্তৃপক্ষ নতুন নিয়ম করে। নিয়মটি হলো- উপযুক্ত কারণ ছাড়া বা শুধু ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে কোনো বিদেশি না খেলার সিদ্ধান্ত নিলে দুই মৌসুমের জন্য নিষিদ্ধ করা হবে তাকে। তাই নিষিদ্ধ হলেন ব্রুক।

বোর্ডের এক কর্তা ‘ইন্ডিয়া টুডে’কে বলেন, ‘এবারের আইপিএল থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ব্রুক। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ক্রিকেটার নিলামে দল পাওয়ার পর নিজেকে প্রত্যাহার করে নিলে দুই মৌসুমের জন্য নিষিদ্ধ হবেন।’

আইপিএলে এখন পর্যন্ত এক মৌসুম খেলেছেন ব্রুক। ২০২৩ সালে সানরাইজার্স হায়দারাবাদের হয়ে খেলেন তিনি। আসরে কোলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ৫৫ বলে সেঞ্চুরি চমক দেখিয়েছিলেন ব্রুক।

আগামী ২২ মার্চ থেকে শুরু হবে আইপিএলের ১৮তম আসর।

হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচার হবেই, কোনো সন্দেহ নেই

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, শেখ হাসিনার বিচার হবেই, এতে কোনো সন্দেহ নেই। শুধু হাসিনাই নয়, তার সহযোগীদেরও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। বুধবার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্কাই নিউজের এশিয়া অঞ্চলের সংবাদদাতা কর্ডেলিয়া লিঞ্চ।

ড. ইউনূস বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসিনা ও তার সহযোগীদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। কারণ সব তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। যদিও সে এখন বাংলাদেশে নেই, প্রশ্ন হচ্ছে আমরা তাকে বাংলাদেশে আনতে পারব কি না। সেটি নির্ভর করছে ভারত ও আন্তর্জাতিক আইনের ওপর। আমরা ইতোমধ্যে ভারতকে বলেছি তাকে ফেরত দিতে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সশরীরে উপস্থিত থাকুক বা ভারতে লুকিয়ে থাকুক তার বিচার হবেই।

‘আউসটেড পিএম শেখ হাসিনা উইল স্ট্যান্ড ট্রায়াল ফর ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি, বাংলাদেশ’স ইন্টেরিম লিডার সেইজ’- শিরোনামে স্কাই নিউজের প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। কেননা হাসিনার বিরুদ্ধে তার শাসনামলে জোরপূর্বক গুমে জড়িত থাকার এবং জুলাই-আগস্টে বিক্ষোভকারীদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, তার বিচার হবে কি না এমন প্রশ্নের অবকাশই নেই। তার বিচার হবেই, সেটি তার উপস্থিতিতেই হোক কিংবা অনুপস্থিতিতে। শুধু হাসিনাই নয়, তার সাথে জড়িত সবারই বিচার হবে। তার পরিবারের সদস্য, ক্লায়েন্ট, তার সহযোগী, অলিগার্ক যারা তাকে সহায়তা করেছে তাদের সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

হাসিনাকে প্রত্যপর্ণের বিষয়ে বাংলাদেশ ভারতের জবাবের অপেক্ষায় আছে। বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে দু’টি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে নয়াদিল্লির কাছে হাসিনাকে ফেরত দেয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে তাতে এখনো সাড়া দেয়নি ভারত। প্রধান উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেছেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে সশরীরে উপস্থিত থাকুক বা ভারতে লুকিয়ে থাকুক, তাকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবেই।

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে জানানো হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আশা করব তাকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। এটা একটি আইনি বিষয়। আইনগতভাবে তাকে যদি ফিরিয়ে দেয়ার প্রয়োজন হয়, আন্তর্জাতিক আইন তাদের (ভারত) নির্দেশনা দেবে। আমরা এ ব্যাপারে আশাবাদী। ভারতের কাছে আমরা হাসিনাকে ফেরত পাঠিয়ে দিতে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছি।

ড. ইউনূস বলেন, শেখ হাসিনাকে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই শেখ হাসিনার বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব কি না এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দেননি তিনি। বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া বেশ দীর্ঘ হওয়ায় সময় লাগছে।

ইউনূস জানান, হাসিনার ১৫ বছরের শাসনে বিরোধী কণ্ঠ দমনে বন্দিশালা আয়নাঘরে চলে অমানবিক নির্যাতন। এর বীভৎসতা সবাইকে শুধু হতবাকই করেনি নৃশংসতার চরম পর্যায়কে তুলে ধরেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। কোনো মানুষ আরেকজন মানুষের ওপর এমন নির্যাতন করতে পারে তা কল্পনার বাইরে। এসব বিষয় দেখে হতবাক বললে তা বলতে হয় খুবই নরম শব্দ। যাদের নির্যাতন করা হয়েছে তাদের কাছে আমি তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শুনেছি। এগুলো হচ্ছে সবচয়ে নোংরাতম জঘন্য কাজ, যা আপনি সেখানে দেখতে পাবেন তা সবচেয়ে বীভৎস কোনো বিষয়।

যারা এসব নির্যাতনের সাথে জড়িত তাদের অনেকে দেশ থেকে পালিয়েছে; কিন্তু নির্যাতনের সাথে জড়িতদের অনেকে এখনো তৎপর, তাদের সবাইকে কেন এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে ইউনূস বলেন, প্রত্যেকে এ ধরনের কাজের সাথে জড়িত ছিল। পুরো সরকার এ ধরনের গুম, হত্যা, নির্যাতনের সাথে জড়িত ছিল। ক্যান্টনমেন্টের মতো একটি রেস্ট্রিকটেড এলাকায় এসব আয়নাঘরে নির্যাতন চলত। পুলিশ, সেনাবাহিনী এতে জড়িত ছিল। কেউ ভয়ে এসব বলতে চাইত না। আপনি চাইলেও পার্থক্য করতে পারবেন না কে অতি উৎসাহী হয়ে ওই কাজ করেছে বা কে আদেশ পালন করেছে। জুলাই-আগস্ট মাসের বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতার জন্য শেখ হাসিনার সাথে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরাও অভিযুক্ত। জাতিসঙ্ঘের অনুমান হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার আগের দিন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৪০০ বিক্ষোভকারীকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এসব আয়নাঘর উন্মোচন করেছি এবং জাদুঘরে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারা নির্যাতনের সাথে জড়িত তাদের পার্থক্য করে বিচারের মুখোমুখি করতে সময় লাগছে।

যারা জুলাই আন্দোলনে জীবন দিয়েছে তাদের স্বজনরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনের কাছ থেকে এ হত্যাকাণ্ড, নির্যাতনের বিচার পাবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ইউনূস বলেন, আমরা চেষ্টা করছি। আমরা গ্যারান্টি দিতে পারছি না। কারণ আমরা স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্বে এসেছি। বিচারে আইনগত প্রক্রিয়া খুবই ধীরগতির। আমরা খুব দ্রুত এটা করতে পারছি না; কিন্তু আমরা কারা জড়িত তা চিহ্নিত করছি। তাদের বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করছি। যারা গুম, খুন ও নির্যাতনের সাথে জড়িত তাদের অনেককে এখনো চিহ্নিত করা যায়নি। আমরা আমাদের চেষ্টার সর্বোচ্চটাই করার চেষ্টা করছি। আমাদের মেয়াদের সময় যতটা সম্ভব আমরা করব, বাকিটা একটা প্রক্রিয়ার ভেতরে রেখে যাওয়ার চেষ্টা করছি যাদের পরবর্তী সময়ে যাতে বিচার করা সম্ভব হয় এবং এভাবে তাদের বিচারের কাজ এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। অভিযুক্তদের সংখ্যা এবং পরিসর বিবেচনায় নিয়ে বিচারে সময় নেয়া হচ্ছে বলে জানান ইউনূস। তিনি বলেন, হাসিনার পুরো সরকারই এই অপরাধের সাথে জড়িত ছিল।

অধ্যাপক ইউনূস ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, দোষীদের বিচারের প্রক্রিয়া তার আমলে শেষ হবে কি না তা স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া স্কাই নিউজকে ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন হতে পারে বলে জানান ড. ইউনূস। তিনি বলেন, কোনো কোনো অপরাধীকে শাস্তি দেয়া হবে, কারও বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকবে, কিছু থাকবে পলাতক।

প্রশ্ন করা হয়- শেখ হাসিনার ভাগ্নি ও যুক্তরাজ্যের সাবেক অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করা উচিত কি না? জবাবে ইউনূস বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণিত হলে তাকে বিচারের জন্য দেশে ফিরিয়ে আনা যাবে কি না আমি এ বিষয়ে নিশ্চিত নই। বিষয়টি আইনগত। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত হওয়ার পাশাপাশি সে ব্রিটিশ নাগরিক।

টিউলিপের দুর্নীতির অভিযোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রাখা উচিত কি না এ প্রশ্নের জবাবে ইউনূস বলেন, হ্যাঁ অবশ্যই তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে। দুর্নীতি দমন কমিশন যথেষ্ট গুরুত্বের সাথেই কাজটি করছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার বিষয়টি তদন্তে ধরা পড়ছে। তার বিরুদ্ধে যে মামলাটি রয়েছে তা গুরুতর। দেশে তার নামে প্রচুর সম্পদের হদিস পাওয়া গেছে। যার সবকিছুই ক্ষতিয়ে দেখা হবে।

রোহিঙ্গা সঙ্কট প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও সীমান্ত সেনাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এখনো প্রচুর রোহিঙ্গা বাংলাদেশে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্যে ঢুকে পড়ছে। সীমান্তে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা ও নির্যাতন অব্যাহত থাকায় তারা বাধ্য হয়ে অনেকটা পদ্ধতিগতভাবেই বাংলাদেশে ছুটে আসছে। তাদের সংখ্যা নির্ধারণের জন্যে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটছে, মাদক চোরাচালান ছাড়াও প্যারামিলিটারি ধরনের তৎপরতা বাড়ছে। এগুলো সহজ বিষয় নয়। এ জন্য আমরা চাই একটা সেফজোন নিশ্চিত করতে। মানবিক একটা করিডোরের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা যাতে তাদের দেশে ফিরে যেতে পারে আমরা তা চাই। আমাদের ভূখণ্ডে যেমন আমরা তাদের নিরাপদে রাখার চেষ্টা করছি, তারা যাতে তাদের দেশে ফিরে যেতে পারে সে জন্য সেখানেও তাদের জন্য একটা সেফজোন তৈরি করা প্রয়োজন।

ইউনূস বলেন, মিয়ানমারের বিদ্রেহী গোষ্ঠীগুলোর সাথে একটি নিরাপদ অঞ্চল তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। যেন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে দেয়া যায়। রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশের কক্সবাজার অঞ্চল যে বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছে তা স্বীকার করে ইউনূস বলেন, কক্সবাজার বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থীশিবিরের একটি। যেখানে আনুমানিক ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণাথী আশ্রয় নিয়েছেন।

ইউক্রেনীয় সেনাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান পুতিনের

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে অবরুদ্ধ ইউক্রেনীয় সেনাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুতিনকে ইউক্রেনীয় সেনাদের জীবন বাঁচানোর অনুরোধের পর তিনি এ আহ্বান করেছেন।

রাশিয়ান টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে পুতিন বলেন, ‘আমরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিবৃতি পর্যালোচনা করেছি। আমরা তার আহ্বানের প্রতি সহানুভূতিশীল।’

তিনি বলেন, যারা অস্ত্র ফেলে আত্মসমর্পণ করবেন, তাদের জীবনের নিশ্চয়তা দেয়া হবে এবং তাদের সাথে মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করা হবে। একইসাথে তিনি ইউক্রেনের নেতৃত্বকেও তাদের সেনাদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে, ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘হাজার হাজার ইউক্রেনীয় সেনাদের রুশ সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণরূপে বেষ্টিত করে রেখেছে এবং তারা খুবই খারাপ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।’

তিনি বলেছিলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছে জোরালোভাবে অনুরোধ করেছি, তাদের জীবন রক্ষা করা হোক। এটি হবে একটি ভয়াবহ গণহত্যা, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেখা যায়নি।’

বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও পুতিনের মধ্যে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির জন্য মার্কিন-ইউক্রেনীয় প্রস্তাবের বিষয়ে একটি বৈঠকের আপডেট দেয়ার সময় ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।

তবে ইউক্রেনের সামরিক নেতৃত্ব এই দাবি অস্বীকার করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ বলেন, ‘আমাদের ইউনিটগুলোকে ঘিরে ফেলার কোনো হুমকি নেই।’

সূত্র : এএফপি/বাসস

মুসলিম সেনাদের সাথে ইফতারে জেলেনস্কি

ইউক্রেনে রাশিয়ার সাথে চলমান যুদ্ধের মাঝে প্রেসিডেন্ট ভোলদেমির জেলেনস্কি নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) কিয়েভে দেশের সামরিক বাহিনীর মুসলিম সদস্যদের আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে অংশ নেন তিনি।

ইফতার অনুষ্ঠানে জেলেনস্কি মুসলিম সেনাদের সাথে একসাথে বসে ইফতার করেন। এর আগে তিনি সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। ইফতার শুরুর আগে তিনি মুসলিম সেনাদের সাথে এক কাতারে বসে মোনাজাতেও অংশ নেন।

এ সময় জেলেনস্কি দেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের গুরুত্ব এবং তাদের দেশপ্রেমের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বর্তমানে ইউক্রেনে মুসলিম জনগণের সংখ্যা আনুমানিক ৭ থেকে ২০ লাখ, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ০.৯ শতাংশের কাছাকাছি। মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় অংশের বাস পূর্বাঞ্চলীয় ক্রাইমিয়ায়।

এই ঘটনা ইউক্রেনে মুসলিম কমিউনিটির প্রতি প্রেসিডেন্টের সহানুভূতির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে তিনি তাদের সাথে সশস্ত্র বাহিনীর একযোগ কার্যক্রমে অংশ নেয়ার পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন।

সূত্র : সিএনএন

এক লাখ রোহিঙ্গার সাথে ইফতার করলেন প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর সাথে ইফতার করেছেন।

শুক্রবার (১৪ মার্চ) উখিয়ায় শরণার্থী শিবিরে প্রধান উপদেষ্টার উদ্যোগে এ ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়।

এর আগে, জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছেই সরাসরি উখিয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে চলে যান। সেখানে তিনি রোহিঙ্গা লার্নিং সেন্টার, রোহিঙ্গাদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

ইফতার শেষে প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব একসাথে ঢাকায় ফিরবেন।

সূত্র : বাসস

পাকিস্তানে হামলার অভিযোগ ভারতের বিরুদ্ধে, যা বলল দিল্লি

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে ট্রেনে উগ্রবাদী হামলার পরেই এ ঘটনাসহ দেশটিতে বিভিন্ন সহিংসতার পেছনে নয়াদিল্লির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করে ইসলামাবাদ। সেই দাবি খারিজ করেছে ভারত।

শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘পাকিস্তানের দাবি ভিত্তিহীন। সারা দুনিয়া জানে, আতঙ্কবাদের আঁতুড়ঘর কোথায়। অন্যদের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজেদের দিকে তাকাক পাকিস্তান।’

এর আগে সম্প্রতি পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবেশী দেশকে অস্থিতিশীল করতে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন করছে ভারত। বেলুচিস্তানের বোলান জেলার কাছে জাফর এক্সপ্রেস নামে ট্রেনে উগ্রবাদী হামলার ঘটনার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।

এদিকে একই অভিযোগ আনা হয় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধেও। এ বিষয়ে আফগানিস্তান জানিয়েছে, পাকিস্তান ভিত্তিহীন কথা বলছে।

আফগানিস্তানে তালেবান শাসকরা জানিয়েছেন, তাদের সাথে পাকিস্তানের ট্রেনে হামলার কোনো সম্পর্ক নেই। আফগানিস্তান কোনোভাবে এর সাথে জড়িত নয়।

আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল কাহার বালখি বলেছেন, ‘পাকিস্তান ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। আমরা এই অভিযোগ খারিজ করছি। আমরা পাকিস্তানকে বলছি, তারা যেন নিজেদের নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে এরকম দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য না করে।’

সূত্র : আনন্দবাজার

এতদিন ধরে অসীম দুর্নীতি চলেছে : প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেছেন, ‘এতদিন ধরে অসীম দুর্নীতি চলেছে। যাদের সুবিধা পাওয়ার কথা তাদের না দিয়ে নিজেদের পছন্দের লোকজনকে দিয়ে দিয়েছে, টাকা-পয়সারও লেনদেন হয়েছে। কিন্তু যাদের নায্য পাওনা ছিল তারা পায়নি।’

শুক্রবার (১৪ মার্চ) খুরুশকুল জলবায়ু উদ্বাস্তু পুর্নবাসন প্রকল্প পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় খুরুশকুল জলবায়ু উদ্বাস্তু পুর্নবাসন প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চান প্রধান উপদেষ্টা। প্রকল্পের ঘর কাদের দেয়া হয়েছে, কী প্রক্রিয়ায় দেয়া হয়েছে- এ বিষয়েও জানতে চেয়েছেন তিনি।

পাশাপাশি ঘর পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকা করার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং দায়িত্ব বণ্টন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতেও জোর দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৪ মার্চ) খুরুশকুল জলবায়ু উদ্বাস্তু পুর্নবাসন প্রকল্প পরিদর্শনকালে তিনি এসব বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘যাদের পুর্নবাসন করার কথা তারাই বাড়িঘরগুলোতে উঠতে পারছে কি না, অন্য কেউ এসে নিয়ম না মেনে অসাধু উপায়ে উঠে পড়ছে কি না- এগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। ভবন তো টাকা দিলেই নির্মাণ হচ্ছে, কিন্তু যে লক্ষ্যে ভবন নির্মাণ করতে চাচ্ছি, সেটা পূরণ না হলে তো এসবের কোনো অর্থ নেই।’

প্রকল্পের একটি জমি ২০১৭ সাল থেকে বেক্সিমকো গ্রুপ দখলে রেখেছে বলে এ সময় প্রধান উপদেষ্টাকে জানান সংশ্লিষ্টরা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এটি নিয়ে আদালতের রায় হওয়ার কথা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এ ভুল আর করা যাবে না। প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হতে হবে, যেন কোনো ধরনের দুর্নীতি হতে না পারে। তত্ত্বাবধায়ন ঠিকমতো হতে হবে। কার কী দায়িত্ব- পরিষ্কার হতে হবে।’

সূত্র : ইউএনবি

রোহিঙ্গাদের পাশে থাকবে জাতিসঙ্ঘ

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণসহায়তা কমানো ঠেকাতে জাতিসঙ্ঘ যথাসাধ্য সবকিছু করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। গতকাল শুক্রবার কক্সবাজারের উখিয়ায় বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থীশিবির ঘুরে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিজ চোখে দেখে তিনি এই আশ্বাস দেন। তিনি কক্সবাজারে বসবাসরত ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া সফররত জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে নেয়া সংস্কার কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

উখিয়ার ক্যাম্পে ব্রিফিংয়ে গুতেরেস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের মানবিক সহায়তার বরাদ্দ ‘নাটকীয়ভাবে’ কমিয়ে দিয়েছে, আর সে কারণেই রোহিঙ্গাদের রেশন বরাদ্দ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, তহবিলের অভাবে মানুষের যেন আরো বেশি কষ্ট পেতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে আমি বিশ্বের সব দেশকে আহ্বান জানাব, যারা আমাদের সহায়তা করতে পারে। গুতেরেস বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আমি জোর গলায় বলব, আমাদের জরুরি ভিত্তিতে আরো সহায়তা প্রয়োজন, কারণ এই জনগোষ্ঠীর মর্যাদার সাথে বাঁচার জন্য এই সহায়তা খুবই জরুরি।

প্রসঙ্গত, এমন এক সময়ে গুতেরেস কক্সবাজারের আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করলেন যখন জাতিসঙ্ঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি তহবিল সঙ্কটের কারণে রোহিঙ্গাদের খাবারের রেশন কমে অর্ধেক হতে পারে বলে সতর্ক করেছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বলেছে, অর্থায়নের অভাবে এপ্রিল থেকে রোহিঙ্গাদের মাসিক খাদ্য রেশন সাড়ে ১২ ডলার থেকে কমিয়ে ৬ ডলার করা হতে পারে, যা আশ্রয় শিবিরের খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেবে।

আমাদের কক্সবাজার অফিস জানায়, ব্রিফিংয়ে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব রোহিঙ্গাদের টেকসই এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠাতে হলে মিয়ানমারের রাখাইনেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন রয়েছে। এর আগে শরণার্থীশিবিরে মতবিনিময়কালে রোহিঙ্গারা রাখাইনে গণহত্যার বিচার এবং স্বদেশে ফেরত যেতে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিবের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস গতকাল বেলা ১টায় ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সে কক্সবাজারে পৌঁছান। তাদের স্বাগত জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক।

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছেই সরাসরি উখিয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে চলে যান। সেখানে তিনি রোহিঙ্গা লার্নিং সেন্টার, রোহিঙ্গাদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাশন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব শুক্রবার দুপুরে শরণার্থীশিবিরে পৌঁছে বেশ কিছু কর্মসূচিতে অংশ নেন। তিনি শরণার্থীশিবিরে জাতিসঙ্ঘের বিভিন্ন সংস্থা পরিচালিত কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করেন। পরে রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা এবং রোহিঙ্গা যুবকদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং শিবিরের লার্নিং সেন্টার এবং রোহিঙ্গাদের পাটজাত পণ্যের উৎপাদন সেন্টার পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া তিনি রোহিঙ্গা মেমোরিয়াল কালচারাল সেন্টার পরিদর্শন করেন।

তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার সাথে বৈঠক

বাসস জানায়, সফররত জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে নেয়া সংস্কার কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। এ ছাড়া কক্সবাজারে বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব গতকাল ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে এক বৈঠকে সংস্কার এজেন্ডার প্রতি জাতিসঙ্ঘের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বিশ্বব্যাপী ‘সবচেয়ে বৈষম্যের শিকার জনগোষ্ঠী’ রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি চার দিনের সফরে বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকায় আসেন।

ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অধ্যাপক ইউনূসকে বলেন, ‘আমি সংস্কার কর্মসূচির প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করতে চাই। আমরা আপনাদের সংস্কার প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিতে এখানে এসেছি। আমরা আপনাদের সর্বোত্তম সফলতা কামনা করি। যেকোনো সহযোগিতা লাগলে আমাদের জানান।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে এই সংস্কার প্রক্রিয়া একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং দেশের একটি ‘বাস্তব রূপান্তর’ নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি যে সংস্কার প্রক্রিয়াটি জটিল হতে পারে’।

গুতেরেস বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে তিনি রমজান মাসে বাংলাদেশে এসেছেন। কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য মানবিক সহায়তা হ্রাস নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বলেন, ‘পৃথিবীতে এতটা বৈষম্যের শিকার অন্য কোনো জনগোষ্ঠী আমি দেখিনি’। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের ভুলতে বসেছে’।

‘মানবিক সহায়তা হ্রাস করা একটি অপরাধ’ উল্লেখ করে অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো এখন প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় দ্বিগুণ করছে, কিন্তু তখন আবার বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা সঙ্কুচিত হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি জাতিসঙ্ঘের ‘অপরিসীম কৃতজ্ঞতা’ প্রকাশ করেন গুতেরেস। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের প্রতি অত্যন্ত উদারতা দেখিয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আমার জন্য একটি বিশেষ বিষয়।

অধ্যাপক ইউনূস জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবকে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘আপনার আসার জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর হতে পারত না। আপনার সফর কেবল রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের জন্যও সময়োপযোগী।’

প্রধান উপদেষ্টা গুতেরেসকে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত ছয়টি সংস্কার কমিশনের রিপোর্টের বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রায় ১০টি রাজনৈতিক দল তাদের মতামত জমা দিয়েছে। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দলগুলো ছয়টি কমিশনের সুপারিশগুলোর সাথে একবার একমত হলে তারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পাশাপাশি রাজনৈতিক, বিচারিক, নির্বাচনসংক্রান্ত, প্রশাসনিক, দুর্নীতি দমন ও পুলিশ সংস্কারের একটি রূপরেখা হবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি ‘সংক্ষিপ্ত সংস্কার প্যাকেজ’ নিয়ে একমত হয়, তা হলে নির্বাচন ডিসেম্বরেই হতে পারে। তবে তারা যদি ‘বৃহৎ সংস্কার প্যাকেজ’ গ্রহণ করে, তাহলে নির্বাচন আগামী বছরের জুনে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান উপদেষ্টা ‘সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন’ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

অধ্যাপক ইউনূস জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের সহযোগিতা চান, যাতে রোহিঙ্গারা সম্মানের সাথে তাদের জন্মভূমি মিয়ানমারের পশ্চিম রাখাইন রাজ্যে ফিরে যেতে পারে। তিনি বলেন, যত দিন তারা বাংলাদেশে অবস্থান করছে তত দিন পর্যন্ত তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য ও মানবিক সহায়তা যেন নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের দুর্দশার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছি। বিশ্বকে জানতে হবে তারা কতটা কষ্ট পাচ্ছে। তাদের মধ্যে একটা হতাশার অনুভূতি রয়েছে।

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বলেন, তিনি রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন এবং তাদের জন্য সহায়তা সংগ্রহকে অগ্রাধিকার দেবেন। গুতেরেস বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর কার্যক্রম ‘অসাধারণ’ এবং বাংলাদেশ ন্যায়সঙ্গত বিশ্ব প্রতিষ্ঠার অগ্রভাগে রয়েছে উল্লেখ করে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠকে ভূরাজনীতি, সার্কের বর্তমান অবস্থা এবং বাংলাদেশের সাথে প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্কের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক ফোরামকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য তার প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্য হতে চায়। প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চলে একাধিক বন্দর নির্মাণ প্রকল্প সম্পর্কেও কথা বলেন, যা নেপাল ও ভুটানসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে দেশকে ‘একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও জাপানসহ প্রায় প্রতিটি দেশের সমর্থন পেয়েছে। অর্থনীতি প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তার সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে ধ্বংসপ্রাপ্ত ও ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাত, সঙ্কুচিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে পড়া অবস্থায় পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি এখন সুসংহত হয়েছে। রফতানি কয়েক মাস ধরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও ভালো অবস্থানে রয়েছে।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অর্থনীতি এমনভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী বছর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বেরিয়ে আসবে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, আমরা এলডিসি উত্তরণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের শাসনামলে লুটপাট হওয়া কয়েক শ’ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরত আনার জন্য সরকার চেষ্টা করছে।

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বলেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনীতির ভঙ্গুর পরিস্থিতি তাকে ১৯৭৪ সালের পর্তুগালের বিপ্লবী দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়।

বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলিসংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেনটেটিভ ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজিবিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

জাতিসঙ্ঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমা ও বাংলাদেশে জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গুইন লুইসও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশ জাতিসঙ্ঘের ওপর নির্ভর করতে পারে-এক্সে আন্তোনিও গুতেরেস : টেকসই এবং ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশ জাতিসঙ্ঘের ওপর নির্ভর করতে পারে বলে জানিয়েছেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে তার কার্যালয়ে এক বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের এক পোস্টে এই মন্তব্য করেন তিনি। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য বাংলাদেশের জনগণ এবং অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যেহেতু দেশ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এবং পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাই আপনারা টেকসই এবং ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য জাতিসঙ্ঘের ওপর নির্ভর করতে পারেন।’