Home Blog Page 494

ডিজিটাল বাংলা ট্রাভেলসের ঢাকা অফিস চালু,২৪ ঘন্টা সেবার অঙ্গীকার

নিউইয়র্ক (ইউএনএ): নিউইয়র্কের সুপরিচিত ‘বাংলা ট্রাভেলস’-এর ঢাকা অফিসের উদ্বোধন করা হয়েছে। দিনরাত ২৪ ঘন্টা সেবার অঙ্গীকারে ‘ডিজিটাল বাংলা ট্রাভেলস’ নামে ঢাকার বনানীস্থ বাড়ি-৯, রোড ১৭, বøক ই ঠিকানায় গত ৭ নভেম্বর ‘ডিজিটাল বাংলা ট্রাভেলস’ নামে এই নতুন শাখার উদ্বোধন করা হয়েছে। ঢাকার অফিস উদ্বোধন উপলক্ষ্যে সোমবার (২৫ নভেম্বর) জ্যাকসন হাইটসের একটি পার্টি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলা ট্রাভেলসের কর্ণধার বেলায়েত হোসেন বেলাল ঢাকায় নতুন শাখার কার্যক্রম ও সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। খবর ইউএনএ’র।

Bangla Travels Dhaka Office Open 25 NOV 2024 Pic 02

সংবাদ সম্মেলনে জেবিবিএ’র সভাপতি গিয়াস আহমেদ সহ বাংলাদেশের জনপ্রিয় তিন তারকা মামুন হোসেন ইমন, সজল নূর ও নীরব হোসেন অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে অতিথিরা বাংলা ট্রাভেলসের ২৪ ঘণ্টা সেবার ভূয়সী প্রশংসা করেন। পরে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে কেক কাটেন বেলায়েত হোসেন বেলাল। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন খলিল বিরিয়ানীর কর্ণধার শেফ খলিলুর রহমান, শো টাইম মিউজিক এর কর্ণধার আলমগীর খান, রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর নূরুল আজীম, আহসান হাবীব প্রমুখ। এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে বেলায়েত হোসেন বেলালকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। উপস্থাপনায় ছিলেন শারমীন সিরাজ।
সংবাদ সম্মেলনে বেলায়েত হোসেন বেলাল লিখিত বক্তব্যে বলেন, নানা ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলা করে বাংলা ট্রাভেলস তার ২৫ বছরের যাত্রা পথে নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটি-কে সেবার দেয়ার পাশাপাশি এখন থেকে মাতৃভূমি বাংলাদেশের গ্রাহকদের সেবা করতে চায়। আর ঢাকা অফিসের মাধ্যমে দেশের কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে।

Bangla Travels Dhaka Office Open 25 NOV 2024 Pic 03

বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, প্রতিযোগিতামূলক ট্রাভেলস ব্যবসার বাজারে সব রাঘব বোয়ারদের টক্কর দিয়ে বাংলাদেশী কমিউনিটির একমাত্র ট্রাভেলস এজেন্ট হিসেবে ‘বাংলা ট্রাভেলস’ সেবা দিয়ে আসছে। প্রতিনিয়ত লড়তে হচ্ছে ন্যাশনাল টেরিটরি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। ‘বাংলা ট্রাভেলস’ সারা পৃথিবীর প্রায় সবগুলো এয়ারলাইন্স-এর সরাসরি স্টক হোল্ডার এবং প্রায় সবগুলো এয়ারলাইন্স-এর সাথে আছে ডিসট্রিবিউশন পার্টনাশীপ। এটি যেমন বাংলা ট্রাভেলসের জন্য গবূ, তেমনী বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্যও গর্বের বিষয় বটে। ‘বাংলা ট্রাভেলস’ এয়ারলাইন্সগুলোকে বছরে প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশী ব্যবসা দিয়ে থাকে।
বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, পাক-ভারত উপমাহাদেশের ট্রাভেল এজেন্ট ব্যবসার শতকরা ৯৯ ভাগই বাংলাদেশের প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্রের সিন্ডিকেটের হাতে। তিনি এই সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে বাংলাদেশী সকল ট্রাভেল এজেন্টদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি সকল মহলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। পরে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

চিন্ময়ের গ্রেফতার ইস্যুতে যে বার্তা দিলো ভারতের কংগ্রেস

বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দল কংগ্রেস। সেই সাথে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ‘নিরাপত্তাহীনতা’ নিয়েও দলটির পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

বুধবার ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কংগ্রেসের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিসিটি বিভাগের চেয়ারম্যান পবন খেরা এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবে বলে প্রত্যাশা করছে দলটি।

এর আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ইস্যুতে ঢাকাকে উদ্দেশ্য করে একটি বার্তা পাঠায়। পরে ঢাকা জানায়, দেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে ভারতের এই মন্তব্য হস্তক্ষেপের শামিল।

উল্লেখ্য, সোমবার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানী ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার সময় শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার করেন। পরে সড়কপথে আন্তর্জাতিক শ্রীকৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) আলোচিত সাবেক এই সংগঠককে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। সোমবার রাতে তাকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা কার্যালয়ে রাখা হয়।

পরদিন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবিতে আন্দোলনকারীদের হামলায় সাইফুল ইসলাম আলিফ নামে চট্টগ্রামে এক আইনজীবী নিহত হন। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চিকিৎসকরা আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলায় আহত হন আরও ৭-৮ জন।

একই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মহানগর-ষষ্ঠ কাজী শরীফুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয় চিন্ময় কৃষ্ণকে। এদিকে, আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

অন্তর্বর্তী সরকারকে শক্ত হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আহ্বান তারেক রহমানের

অন্তর্বর্তী সরকারকে শক্ত হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, আমি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, শক্ত হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করুন। সরকার পরিচালনায় দক্ষতার পরিচয় দিতে না পারলে জনগণ অসহিষ্ণু হয়ে উঠতে পারে। পলাতক স্বৈরাচারের দোসররা জনগণের অসহিষ্ণু হয়ে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আমি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিন। জনগণকে আস্থায় রাখুন। জনগণের আস্থায় থাকুন। হাজারো ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর স্বৈরাচার বিরোধী জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে। সরকারের কোনো কাজ কিংবা কথা যেন ছাত্র-জনতার ঐক্যে ফাটল ধরার কারণ না হয়, সেই বিষয়ে সরকারকে বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে আমি একটি বিষয়ে দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে কয়েকটি কথা বলতে চাই। বিতাড়িত স্বৈরাচারের পলায়নের পর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে একদিকে, দীর্ঘ দেড় দশক ধরে অধিকার বঞ্চিত মানুষের চাওয়া পাওয়ার হিসেব, অপরদিকে পলাতক স্বৈরাচারের প্রতিশোধের আগুন সবমিলিয়ে দেশে ঘোলাটে পরিস্থিতি বিরাজমান। পলাতক স্বৈরাচার গত ১৫ বছরে দেশের বিভিন্ন সেক্টরে অনিয়মের পাহাড় তৈরি করেছিল। কেড়ে নিয়েছিল জনগণের সকল অধিকার। সেই হারানো অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা আর অনিয়মের পাহাড় ভাঙতে স্বৈরাচারমুক্ত পরিবেশে বর্তমানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দাবি দাওয়া নিয়ে রাজপথে নেমে আসছে।

তিনি আরো বলেন, অবৈধ ক্ষমতা আর অবৈধ সুবিধা হারানো পলাতক স্বৈরাচারের দোসররা সরকারকে অস্থিতিশীল করতে জনগণের দাবি আদায়ের এই আন্দোলনকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের সাথে মিশে গিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। জনগণের অধিকারের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু কাজে লাগিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা দেশে চক্রান্তের জাল বিছিয়েছে। সারা দেশে একটি পরিকল্পিত নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। জনগণের মনে অসহিষ্ণুতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, গত কয়েকদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব ঘটনা ঘটেছে এসব ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারীদের অপতৎপরতা উদ্বেগজনক হয়ে দেখা দিয়েছে।

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, মাফিয়া সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে জনতার আন্দোলনে যেই শিক্ষার্থীরা সামনের কাতারে থেকে সাহসী ভূমিকা রেখেছিল, হঠাৎ করেই এখন তারা কেন একে অপরের বিরুদ্ধে এতটা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠল ? জনমনে এই প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। ছাত্র-জনতার এমন একটি সফল গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা কেন শিক্ষাঙ্গনে ভাংচুর চালাবে ? কেন আগুন ধরিয়ে দেবে? এসব ঘটনা স্বাভাবিকভাবে দেখার সুযোগ নেই। জনগণের যৌক্তিক আন্দোলন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ ‘সাবোটাজ’ করছে কিনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করতে হবে। পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, বিতাড়িত স্বৈরাচার দেশে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে কি-না সরকারকে এ বিষয়টিও গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, শক্ত হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করুন। সরকার পরিচালনায় দক্ষতার পরিচয় দিতে না পারলে জনগণ অসহিষ্ণু হয়ে উঠতে পারে। পলাতক স্বৈরাচারের দোসররা জনগণের অসহিষ্ণু হয়ে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আমি বারবার বলেছি, জনগণের নিত্যদিনের দুর্দশা লাঘবে ‘করণীয় নির্ধারণই হোক সরকারের প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার। অন্তর্বর্তী সরকারকে মনে রাখা দরকার, বর্তমান বাজার পরিস্থিতির কারণে দেশের কোটি কোটি পরিবারকে প্রতিদিন সাধ এবং সাধ্যের সাথে আপস করতে হচ্ছে। পারিবারিক খরচ মেটাতে এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে অনেকের কাছেই ‘সংস্কারের চেয়ে সংসার’ অগ্রাধিকার হয়ে ওঠা অস্বাভাবিক নয়। বাজার নিয়ন্ত্রণ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে না পারলে ষড়যন্ত্রকারীরা সরকারকে অস্থিতিশীল করতে এই স্পর্শকাতর ইস্যু ব্যবহার করার সুযোগ নিতে পারে। পলাতক স্বৈরাচারের দোসররা সেই সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি দেশবাসীর প্রতি বিনীত আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, দাবি আদায়ে আন্দোলন করা জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। সুতরাং অবশ্যই জনগণের আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে। তবে এই আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী অপশক্তি এবং পলাতক স্বৈরাচার যাতে গণঅভ্যুত্থানের উদ্দেশ্যকে লক্ষ্যচ্যুত করতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা দরকার।

তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের সুবিধাভোগীরা যাতে জনগণের ন্যায্য দাবি দাওয়া আদায়ের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে না পারে সেদিকে তীক্ষ্ম নজর রাখা জরুরী। দেশে-বিদেশে পালিয়ে কিংবা লুকিয়ে থাকা দুর্বৃত্তরা যাতে জনগণের যৌক্তিক আন্দোলনের মধ্যে ঢুকে নাশকতা করতে না পারে সেই ব্যাপারে সরকার ও জনগণকে সর্বদা সজাগ থাকতে হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছে। দায়িত্ব নিয়েই এ সরকার পলাতক স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় জনগণের যেকোনো অভাব অভিযোগ যথা নিয়মে সরকারের কাছে উপস্থাপন করলে ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের পরিস্থিতি ঘোলাটে করার সুযোগ পাবে না। হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত মাফিয়ামুক্ত বাংলাদেশে সাম্য-মানবিক মর্যাদা-সামাজিক সুবিচার কায়েম করতে হলে দেশের গণতন্ত্রপ্রিয় স্বাধীনতাপ্রিয় প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতি দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতি আমার আহ্বান, সরকারকে আরেকটু সময় দিন। আরেকটু ধৈর্যের পরিচয় দিন। শান্ত থাকুন। পরিস্থিতির ওপর সতর্ক এবং সজাগ দৃষ্টি রাখুন। দলমত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের প্রত্যেককে মনে রাখতে হবে-গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যাত্রাপথে ষড়যন্ত্রকারীদের বাধা বিচক্ষণতার সাথে অতিক্রম করতে ব্যর্থ হলে স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণকে চরম মূল্য দিতে হবে।

হাসনাত-সারজিসকে ট্রাকচাপায় হত্যার চেষ্টা

চট্টগ্রামের লোহাগড়া থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের গাড়িবহরের সাথে থাকা একটি প্রাইভেট কার।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চট্রগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি ইউনিয়নের হাজী রাস্তার মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জনা যায়, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফের গ্রামের বাড়ি চুনতি ফারেঙা থেকে কবর জিয়ারত শেষে শহরে ফিরছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম।

এ সময় তাদের সাথে আরো অনেকে আলাদা গাড়ি করে ফিরছিলেন। ওই বহরের একটি গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে গাড়িটির সামনের অংশ ভেঙে যায়। তবে এই ঘটনায় দুই সমন্বয়ক অক্ষত রয়েছেন।

লোহাগাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: কালাল উদ্দিন জানান, এই ঘটনায় একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। ট্রাকচালক ও হেলপারকে আটক করা হয়েছে। আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আইনজীবীর হত্যাকারী ‘বঙ্গবন্ধু সৈনিক’ শুভ কান্তি দাস কে?

‘যে ব্যক্তি রামের না, সে বক্তি কোনো কাজের না। জয় শ্রীরাম’ ফেসবুক আইডিতে ঢুকতেই ‘বায়ো’তে এই লেখা দেখে চোখ আটকে যায়। আবার নিকনেমে (ডাকনাম) লেখা ‘বঙ্গবন্ধু সৈনিক’। ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতারের পর লিখেছে, ‘হনুমানের লেজে আগুন দিতে নেই। জয় শ্রীরাম।’ সোশ্যাল মিডিয়ায় এভাবে উসকানি ও হুমকি দিয়ে আইনজীবী হত্যায় সশস্ত্র অংশ নেয়া কে এই শুভ কান্তি দাস?

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম আদালতে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে জবাই করে খুনে অংশ নেয়া শুভ কান্তি দাসের বাড়ি পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের আলামপুর পূর্ব পাড়া কালীবাড়ি এলাকায়। বর্তমানে তার পরিবার চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার বাদুরতলা বড় গ্যারেজের মোড়ে তালেব ভবনের ৪র্থ তলায় বাস করেন। বাবার নাম সাগর কান্তি দাস, পেশায় ব্যবসায়ী।

শুভ কান্তি দাস চট্টগ্রাম নগরের কাজেম আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০১৯ সালে এসএসসি ও সরকারি সিটি কলেজ থেকে ২০২১ সালে এইচএসসি পাস করেন। বর্তমানে চন্দনাইশের বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের ৩৬তম ব্যাচের ৪র্থ সেমিস্টারে (আইডি নাম্বার-২৩০৫৩৬০৩২) পড়ছে। বুধবার নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে বহিষ্কার করে। ডেপুটি রেজিস্ট্রার সালাউদ্দিন শাহরিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত শুভ কান্তি দাস কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত কি না জানতে চাইলে আইন বিভাগের সিআর (ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ) তারেকুল ইসলাম ফাহিম বলেন, শুভ ও তার ফ্যামিলি ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত বলে জানি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার অ্যাক্টিভিটিস দেখেও সেটা অনুমান করা যায়। সে নিয়মিত ক্লাসে না আসায় আমাদের সাথে তার সখ্য নেই। ফলে তার বিষয়ে বিস্তারিত জানি না।

এদিকে সরকারি কৌঁসুলি সাইফুল ইসলাম আলিফ খুনে জড়িত সাতজনকে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই আইনজীবীকে ১০-১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল আক্রমণ চালিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। তাদের মধ্যে সনাতন জাগরণ মঞ্চের নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারী, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী, ইসকন সমর্থক আইনজীবী ও ক্লার্কও রয়েছেন।
একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২৬ নভেম্বর বিকেলে সাইফুল ইসলাম আলিফসহ আরো ১০-১২ জন আইনজীবীকে ধাওয়া দেয় সশস্ত্র দলটি। এ সময় সাইফুল পা পিছলে পড়ে গেলে তাকে ধারালো অস্ত্রধারী ১০-১৫ জন যুবক রঙ্গম কমিউনিটি সেন্টারের সামনে প্রথমে পিটায়। এরপর মাথা থেঁতলে দেয়া হয়। পরে আরেক দল কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে হত্যার সাথে জড়িত সাতজনের পরিচয় বের করেছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। এর মধ্যে বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির এলএলবি পড়ুয়া ছাত্র শুভ কান্তি দাসকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া চট্টগ্রামের মেথরপট্টি এলাকার একজন, কোতোয়ালির হাজারীগলি এলাকার একজন, কোতোয়ালির জলসা মার্কেট এলাকার একজন এবং বন্দরের নিমতলা এলাকার একজনকে চিহ্নিত করেছে গোয়েন্দা সংস্থা। তাদের প্রত্যেকর পরিচয় শনাক্ত করেছে গোয়েন্দা সংস্থাটি। তাদের আসামি করে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
এ ঘটনায় সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার কাজী মো: তারেক আজিজ বলেন, এখন পর্যন্ত ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যা ও সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

উল্লেখ্য, ইসকন সমর্থিত সন্ত্রাসীরা চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করলে হামলাকারীদের সাথে শ্রী শুভ কান্তি দাসের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

আইপিএলে দল পেলেন না কোনো বাংলাদেশী, নেপথ্যে রাজনীতি?

এবারের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ তথা আইপিএলে দল পেলেন না একজন বাংলাদেশীও। এবারের নিলামে মোট ১২ জন বাংলাদেশী নাম লিখিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো দল বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটারের জন্য বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখায়নি। এর নেপথ্যে কি কোনো অক্রিকেটিয় কারণ রয়েছে? সেই নিয়েও শুরু হয়েছে গুঞ্জন। এ নিয়ে কলকাতাভিত্তিক সংবাদ প্রতিদিন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এমনিতে আইপিএলের সাথে বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের সম্পর্ক অম্লমধুর। যেমন মাশরাফি মুর্তাজা, মোহম্মদ আশরাফুলের কেরিয়ার এক ম্যাচেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। আবার মুস্তাফিজুর রহমান, সাকিব আল হাসানের মতো তারকারা যথেষ্ট সফল। তারা এর আগে আইপিএল জিতেছেন। তবে আইপিএলে একজন-দুজন করে হলেও বাংলাদেশী ক্রিকেটার সুযোগ পান। এবারের আইপিএলের নিলামে বাংলাদেশীদের মধ্যে ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান (বেস প্রাইস ২ কোটি), সাকিব আল হাসান (বেস প্রাইস ১ কোটি), তাসকিন আহমেদরা (বেস প্রাইস ১ কোটি)। এছাড়াও লিটন দাস, তৌহিদ হৃদয়, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান শাকিব, মেহেদি হাসান, হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানারা নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষা করেছেন। প্রত্যেকেরই মূল্য ৭৫ লাখ রুপি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউ দল পাননি। কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি বিন্দুমাত্র আগ্রহ না দেখানোয় একমাত্র মুস্তাফিজুর রহমান ছাড়া বাকি কারো নামও নিলাম পর্বে ওঠেনি।

সংবাদ প্রতিদিন জানায় যে সহজ ক্রিকেটীয় বুদ্ধি বলে, বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের দল না পাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আসলে এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ক্রিকেটে যারা প্রথম সারির তারকা, তাদের চেয়ে বেশি প্রতিভাধর ক্রিকেটার ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেন। তাছাড়া যে দুজন বাংলাদেশী ক্রিকেটার বরাবর আইপিএলে দল পেয়ে থাকেন সেই মুস্তাফিজুর এবং সাকিব আল হাসানও জীবনের সেরা সময় পেরিয়ে এসেছেন। এর বাইরে যে দু-একজনের নাম ভেসে আসছিল তারা হলেন নাহিদ রানা এবং রিশাদ হোসেন। এরাও দল পাননি। এদের দুজনের কারওরই আইপিএলের মতো মেগা টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। তাছাড়া আরো একটা কারণ আছে বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের না থাকার। বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের পুরো টুর্নামেন্টে পাওয়া যাবে কিনা, সেটা নিয়েও সংশয় রয়েছে। সুতরাং কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি আর ঝুঁকি নিতে চায়নি।

সংবাদ প্রতিদিন জানায়, তবে এর বাইরে একটা অক্রিকেটীয় কারণও থাকতে পারে। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে তারপর সে দেশে ভারত বিদ্বেষ মাথাচাড়া দিচ্ছে। সমানে এ দেশেও বাংলাদেশের প্রতি বিরূপ মনোভাব তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশী ক্রিকেটার নিলে ফ্র্যাঞ্চাইজির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থাকত। তাছাড়া, কোনো ক্রিকেটারকে দলে না নেয়াটা ঘুরিয়ে বাংলাদেশকে প্রচ্ছন্ন বার্তাও হতে পারে। তবে সবটাই গুঞ্জন। আপাতত সাদা চোখে দেখে মনে হচ্ছে, ক্রিকেটীয় কারণটাই প্রাধান্য পেয়েছে।

রাশিয়া রাতে ‘রেকর্ড’ সংখ্যক ড্রোন হামলা চালিয়েছে : ইউক্রেন

রাশিয়া রাতে ইউক্রেনে ‘রেকর্ড’ সংখ্যক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি অঞ্চলে ভবন ও ‘গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার বিমান বাহিনীর উদ্ধিৃতি দিয়ে কিয়েভ থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ কথা জানায়।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী ইরানের তৈরি ড্রোনের কথাও উল্লেখ করেছে। রাতের অভিযানে রাশিয়া রেকর্ড সংখ্যক ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

ইউক্রেন বিমান বাহিনী ড্রোনের সংখ্যা ১৮৮টি বলে উল্লেখ করেছে।
সূত্র : বাসস

মানুষ কেন তাদের ওপর বিক্ষুব্ধ, গণমাধ্যমের তা স্পষ্ট করা উচিত : নাহিদ ইসলাম

পত্রিকা অফিসে ভাঙচুর হলে সরকার সেটি আইনগতভাবে দেখবে, কিন্তু ‘এটি কেবল আইনি বিষয় না’ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। নানান কারণে মানুষের অনেক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কেন মানুষ তাদের ওপর বিক্ষুব্ধ, এটি স্পষ্ট করা সাংবাদিকদের ও ওই গণমাধ্যমের দায়িত্ব।’

মঙ্গলবার সচিবালয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতাদের সাথে এ কথা বলে তিনি।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতাদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

সম্প্রতি দ্যা ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর অফিসের সামনে হামলা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, গতকাল বলেছি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সে জায়গা থেকে সরকার ভূমিকা পালন করবে। পত্রিকা অফিসে ভাঙচুর হলে, সেটা অবশ্যই আমরা আইনগতভাবে দেখব।

তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে হামলা হলে আমরা মেনে নেব না, অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। পাশাপাশি জনগণ সভা-সমাবেশ করলে শান্তিপূর্ণভাবে করবে, সে আহ্বান জানিয়েছি। একইসাথে পুলিশ যাতে দায়িত্বশীল আচরণ করে, শান্তিপূর্ণভাবে জনগণকে সমাবেশ করতে দেয়, আমরা সেই নির্দেশনা দিয়েছি।’

গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যারা আন্দোলন করছে, তারাই ভালো বলতে পারবে। তাদের কাছে জিজ্ঞেস করেন। তারা কেন বিক্ষোভ করছে, এটা চিহ্নিত করা উচিত। এজন্য লাঠি পেটা করে সরিয়ে দেয়া উচিত নয়। তাদের সাথে কথা বললেই স্পষ্ট হয়ে যায়।’

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘একটা গুজব অনেক বড় ঘটনার জন্ম দিতে পারে। সেই জায়গায় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করছি। এই সরকার কোনো দলীয় সরকার নয়, তাদের নিজস্ব কোনো প্রচার মাধ্যম নেই। ফলে আমরা গণমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল। আমাদের নিজস্ব কোনো কর্মী বাহিনী নেই বা গণমাধ্যম নেই, যারা বর্তমান সরকারের কার্যক্রম প্রচার করবে। সেজন্য আমরা গণমাধ্যমের কাছে সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।’

তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছিল, তা রাতারাতি বদল করে স্থিতিশীল জায়গায় নিয়ে আসা কঠিন। তবে আমরা মেট্রোপলিটন পুলিশকে গ্রামে ট্রান্সফার করেছি, মফস্বলের পুলিশ ঢাকায় আনা হয়েছে। তাদের একটু সময় লাগবে গুছিয়ে উঠতে। আর তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা আমাদের অনেক তথ্য নিয়ে সহায়তা করে সে জায়গা থেকে আমরা সহায়তা কামনা করছি এবং সরকারের পক্ষ থেকেও সব ধরনের সহায়তা করা হবে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘পরিস্থিতি তো পরিবর্তন হবে। আমরা পুলিশ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে চাচ্ছি। পুলিশ সংস্কার কমিশন আছে, তারা সুপারিশ করছে। সবাইকে বুঝতে হবে আমরা বিপ্লব পরবর্তী অবস্থার মধ্যে আছি।’

তিনি বলেন, ‘যেকোনো দেশে বিপ্লব পরবর্তী ও গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে জনগণের ভেতরে যে নানা ধরনের শক্তির অংশ থাকে, তাদের অনেক ভূমিকা রাখতে হয়। পুলিশ অবশ্যই কঠোর হবে। তবে নিপীড়কের ভূমিকায় যেন না যায় বা আমরা একটা পুলিশি রাষ্ট্র যেভাবে দেখেছি সেটা আমরা প্রত্যাশা করি না। আমরা উভয় সঙ্কটের মধ্যে আছি। আমরা আশা করছি সে জায়গা থেকে আমরা উত্তরণ ঘটাতে পারব। আমরা কখনোই চাই না পুলিশ জনগণের বিপক্ষে, ছাত্রদের বিপক্ষে দাঁড়াক, আন্দোলনে গুলি চালাক।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সোহরাওয়ার্দী কলেজের ছাত্র নিহতের বিষয়ে বিগত সরকারের দলীয় কর্মীরা ব্যাপকভাবে প্রচার করেছে। বিগত ফেসিস্ট সরকারের লুটপাট করা টাকা এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে। দেশে ও দেশের বাইরে এই সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের গুজব ছাড়াচ্ছে।

সূত্র : ইউএনবি

চট্টগ্রামে ইসকন সমর্থক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ

বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে চট্টগ্রাম আদালত থেকে কারাগারে নেয়ার সময় ইসকন সমর্থকদের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় আশপাশের যানবাহন ও স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়। এতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় পর পরে তাকে কারাগারে নেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে বহিষ্কার করে ইসকন (আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সঙ্ঘ) বাংলাদেশ।

এর আগে মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম ষষ্ঠ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কাজী শরীফুল ইসলাম তার জামিন নামঞ্জুর করেন। তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

তবে জামিন নামঞ্জুরের পর তাকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হলেও কয়েকশ ইসকন সমর্থক ঘিরে রাখেন প্রিজন ভ্যানটি। তারা প্রিজন ভ্যান ঘিরে নানা ধরনের স্লোগানও দেন। প্রিজন ভ্যাট আটকে রাখা ইসকন সমর্থকদের সরাতে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে পরে তাকে কারাগারে নেয়া হয়।

তার আগে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) রেজাউল করিম মল্লিক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে সিএমপি কোতোয়ালি থানায় রাখা হয়। চট্টগ্রামে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলা রয়েছে। সেই মামলায় তাকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে তোলা হয়।

সোমবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

গত ৩১ অক্টোবর বিএনপি নেতা ফিরোজ খান (পরে বহিষ্কৃত) চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

এ মামলায় চিন্ময় দাসসহ ১৯ জনকে আসামি করা হয়। মামলার আসামিরা হলেন পুণ্ডরীক ধাম মন্দিরের অধ্যক্ষ চন্দন কুমার ধর প্রকাশ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী, চট্টগ্রামের হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সমন্বয়ক অজয় দত্ত (৩৪), নগরীর প্রবর্তক ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ লীলা রাজ দাশ ব্রহ্মচারী (৪৮), গোপাল দাশ টিপু (৩৮), ডা. কথক দাশ (৪০), প্রকৌশলী অমিত ধর (৩৮), রনি দাশ (৩৮), রাজীব দাশ (৩২), কৃষ্ণ কুমার দত্ত (৫২), জিকু চৌধুরী (৪০), নিউটন দে ববি (৩৮), তুষার চক্রবর্তী রাজীব (২৮), মিথুন দে (৩৫), রুপন ধর (৩৫), রিমন দত্ত (২৮), সুকান্ত দাশ (২৮), বিশ্বজিৎ গুপ্ত (৪২), রাজেশ চৌধুরী (২৮) এবং হৃদয় দাস (২৫)।

একই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পরই দু’জনকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারা হলেন রাজেশ চৌধুরী ও হৃদয় দাশ।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার পর নগরের নিউমার্কেট মোড়ের জিরো পয়েন্টে স্তম্ভের ওপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা একটি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে, যা এখনো সেখানে রয়েছে।

গত ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে লালদীঘির মাঠে একটি মহাসমাবেশ হয়। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ ওই সমাবেশে যোগ দেন।

ওইদিন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ নয়জন আসামির ইন্ধনে বাকি আসামিরা নিউমার্কেট মোড়ের জিরো পয়েন্ট স্তম্ভ ও আশপাশে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ওপর ধর্মীয় গোষ্ঠী ইসকনের গেরুয়া রঙের ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন করে সেখানে স্থাপন করে দেয়। এ নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ ও বাংলাদেশ সম্মিলিত সংখ্যালঘু জোট নামে দু’টি সংগঠন ‘বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের’ ব্যানারে কর্মসূচি পালন শুরু করে। নতুন এই জোটের মুখপাত্র করা হয় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে। কয়েক দিন এই জোট আট দফা দাবিতে রংপুরে সমাবেশ করেছে।

সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপের কারণে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরো কয়েকজনকে গত জুলাই মাসে ইসকন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

চট্টগ্রামের হাজারি গলির ঘটনা প্রসঙ্গে গত ৯ নভেম্বর রাজধানীর স্বামীবাগ ইসকন আশ্রমে ‘ইসকন বাংলাদেশ’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক চারু চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী এ কথা জানান।

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ইসকনের যাবতীয় কার্যক্রম থেকে চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ লীলারাজ গৌরদাস ও সদস্য স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাসকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

বহিষ্কৃতদের মাধ্যমে সংঘটিত কোনো কার্যক্রম ইসকন জড়িত নয় বলে উল্লেখ করে সেদিন তিনি বলেছিলেন, রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা সহিংসতার মতো বেআইনি কাজের সাথে ইসকনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

রাষ্ট্রদ্রোহের ঘটনায় যুক্ত থাকলে ছাড় দেয়া হবে না : আসিফ মাহমুদ

অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘রাষ্ট্রদ্রোহের মতো ঘটনায় যুক্ত থাকলে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।’

আজ মঙ্গলবার রংপুরে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার ওপর যদি কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ও আঘাত আসে এবং রাষ্ট্রের প্রতি অবমাননা হয়, রাষ্ট্রদ্রোহের মতো ঘটনা ঘটে, সেক্ষেত্রে সরকার অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নিবে।’

এরপর তিনি বলেন যে ‘একটি গ্রেফতারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।’ তবে ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, কেউ যদি রাষ্ট্রদ্রোহের মতো ঘটনায় যুক্ত থাকে, সে যে-ই হোক, যত বড় নেতাই হোক, তাকে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।’

এক্ষেত্রে, ‘সম্প্রদায় বিবেচনায় নয়, রাষ্ট্রের বিবেচনায় আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে’ বলেও তিনি জানান।

কার গ্রেফতারের ঘটনায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে, সেটি সরাসরি বলেনি ক্রীড়া উপদেষ্টা। তবে সম্প্রতি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। তাকে গতকাল সোমবার ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার তাকে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক কাজী শরীফুল ইসলাম তার জামিন নাকচ করার আদেশ দেন।

এই ঘটনাকে ঘিরে গতকাল দেশজুড়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনেকে বিক্ষোভ করেছেনই। আজও তার অনুসারীরা আদালত চত্বরেই বিক্ষোভ করেছেন।

এদিকে জামিন নামঞ্জুরের আদেশের পর প্রিজন ভ্যান থেকেই চিন্ময় দাস হ্যান্ডমাইকে তার অনুসারীদের শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার আহ্বান জানান।

সূত্র : বিবিসি