Home Blog Page 496

পর্ণো তারকাকে অর্থ দেয়ার মামলা খারিজের আবেদনের অনুমতি পেলেন ট্রাম্প

গত ৫ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ প্রেক্ষাপটে অতীতে এক পর্নো তারকাকে চুপ থাকার জন্য গোপনে অর্থ প্রদান-সংক্রান্ত ৩৪টি গুরুতর অভিযোগে ফৌজদারি মামলা খারিজ করার আবেদনের জন্য নিউইয়র্কের একজন বিচারক অনুমতি দিয়েছেন তাকে। মে মাসে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি হুয়ান মারচান ট্রাম্পের সাজা ঘোষণার আনুষ্ঠানিক বিলম্ব করেছেন। ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অ্যালভিন ব্র্যাগের কার্যালয়ের প্রসিকিউটররা এই সপ্তাহে মারচানকে ৭৮ বছর বয়সী ট্রাম্পের চার বছরের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার সমস্ত কার্যক্রম মুলতবি করার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছিলেন।

রিপাবলিকান ট্রাম্পের আইনজীবীরা যুক্তি দেখিয়েছেন, মামলাটি অবশ্যই খারিজ করা উচিত। কারণ তিনি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন এটি তার ওপর চাপিয়ে দেয়া তার শাসন ক্ষমতার ক্ষেত্রে ‘অসাংবিধানিক বাধা’ সৃষ্টি করবে।

ব্র্যাগের কার্যালয় বলেছে, তারা খারিজের বিরুদ্ধে তর্ক করবে, তবে তিনি সম্মত হন যে লিখিত প্রস্তাবের মাধ্যমে যুক্তি দেয়ার জন্য ট্রাম্পের সময় প্রাপ্য।

শুক্রবার মারচেন ট্রাম্পকে আবেদন দাখিলের জন্য ২ ডিসেম্বরের সময়সীমা বেঁধে দেন এবং প্রসিকিউটরদের জবাব দেয়ার জন্য ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেন। বিচারক সাজা ঘোষণার জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেননি বা কতক্ষণ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে তা নির্দেশ করেননি। ট্রাম্পের আবেদনের বিষয়ে তিনি কখন রায় দেবেন সে বিষয়েও মারচান কোনো ইঙ্গিত দেননি।

ট্রাম্পের প্রচারণা শিবির এবং ব্র্যাগের কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।

২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে চুপ থাকার জন্য পর্ণো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলকে এক লাখ ৩০ হাজার ডলার ঘুষ দিয়েছিলেন ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবী মাইকেল কোহেন। ঘুষ প্রদানের কারণ এই তারকার দাবি ছিল ট্রাম্পের সাথে এক দশক আগে তার যৌন মিলন হয়, যা ট্রাম্প অস্বীকার করে আসছেন।
সূত্র : ভিওএ

এক-তৃতীয়াংশ ইহুদি-আমেরিকান কিশোর হামাসের প্রতি ‘সহানুভূতিসম্পন্ন’

এক-তৃতীয়াংশের বেশি আমেরিকান-ইহুদি কিশোর (১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী) ‌’আমি হামাসের সাথে সহানুভূতিসম্পন্ন’- এমন বক্তব্যের সাথে একমত। ইসরাইলের একটি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরিচালিত জরিপে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

এক বছরের বেশি সময় ধরে গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের ডিয়াসপোরা অ্যাফেয়ার্স এবং কমব্যাটিং অ্যান্টিসেমিটিজম এই জরিপ পরিচালনা করে। এতে দেখা যায়, আমেরিকান-ইহুদিদের ৩৬.৭ শতাংশ কিশোর ওই বক্তব্যের (‘আমি হামাসের সাথে সহানুভূতিসম্পন্ন’) সাথে হয় ‌’একমত’ কিংবা ‘প্রবলভাবে একমত’ বলে জানিয়েছে। ইসরাইলি মিডিয়া বৃহস্পতিবার এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাসকারী ইহুদিদের মাত্র ৭ শতাংশ ওই বক্তব্যের সাথে একমত প্রকাশ করেছে।

আরো তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হলো, আরো বেশি সংখ্যক তথা আমেরিকান-ইহুদি কিশোরদের ৪১.৩ ভাগ একমত যে গাজায় ইসরাইল ‘গণহত্যা চালাচ্ছে’ বলে প্রচারিত বক্তব্যের সাথে একমত। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাসকারী মাত্র ১০ শতাংশ ইহুদি কিশোর এই বক্তব্যের সাথে একমত।

আর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ, তথা ৬৬ শতাংশ জানিয়েছে, তারা সার্বিকভাবে ফিলিস্তিনি জনসাধারণের সাথে সহানুভূতিসম্পন্ন।

আরো তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, জরিপে দেখা গেছে, তাদের বিপুল সংখ্যক ইসরাইলপন্থী বক্তব্যের সাথেও একমত। ৬২ শতাংশ আমেরিকান-ইহুদি কিশোর জানিয়েছে, তারা নিজেদেরকে জায়নবাদী মনে করে। আর ৮৪ শতাংশ জানিয়েছে, তারা বিশ্বাস করে যে ইসরাইলের ‘ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে অস্তিত্বশীল থাকার অধিকার রয়েছে।’

সূত্র : মিডল ইস্ট আই

৬ ইসরাইলি সৈন্যের আত্মহত্যা : আরো হাজারো সেনা সদস্য মানসিক যন্ত্রণায়

গাজা থেকে ফিরে সম্প্রতি অন্তত ছয় ইসরাইলি সেনা সদস্য আত্মহত্যা করেছেন। ইসরাইলি দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা আনাদোলু অ্যাজেন্সি শুক্রবার এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, গাজা উপত্যকা ও দক্ষিণ লেবাননে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট গুরুতর মানসিক যন্ত্রণাই তাদের আত্মহত্যার প্রাথমিক কারণ।

প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, আত্মহত্যাকারী সৈন্যের প্রকৃতি সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। কেননা বছরের শেষ নাগাদ প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এখনো সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।

প্রতিবেদনে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মধ্যে বৃহত্তর মানসিক স্বাস্থ্য সঙ্কটের কথা তুলে ধরা হয়েছে। হাজার হাজার সৈন্য সামরিক মানসিক স্বাস্থ্য ক্লিনিক বা ফিল্ড সাইকোলজিস্টদের কাছ থেকে সাহায্য চেয়েছে, আক্রান্তদের প্রায় এক তৃতীয়াংশ পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের (পিটিএসডি) লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে, মানসিক আঘাতে ভুগছেন এমন সৈন্যের সংখ্যা যুদ্ধে শারীরিক আঘাতপ্রাপ্তদের ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ইসরাইলি দৈনিকটি বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সামরিক অভিযান শেষ হয়ে গেলে এবং সেনা সদস্যরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পরে এই মানসিক স্বাস্থ্য সঙ্কটের সম্পূর্ণ মাত্রা স্পষ্ট হবে।

গত মার্চে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান লুসিয়ান তাতসা-লর গণমাধ্যম হারেটজকে জানান, প্রায় এক হাজার ৭০০ সৈন্য মানসিক চিকিৎসা পেয়েছে।

গাজা এবং দক্ষিণ লেবাননে বর্ধিত মোতায়েনের কারণে হাজার হাজার সৈন্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন বলে ইঙ্গিত করে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর

আগে স্থানীয় পরে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পরামর্শ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন সংস্কার কমিশন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে হলে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বাড়বে বলে জানান স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. তোফায়েল আহমেদ।

আজ শনিবার ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সিনিয়র সাংবাদিকদের সাথে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, নাগরিক সমাজের অভিমত হচ্ছে যে স্থানীয় নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের আগে হওয়া উচিত। কারণ স্থানীয় নির্বাচন করার কারণে আমাদের কমিশনের সক্ষমতা বাড়বে। টেস্ট হয়ে যাবে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে যে সাপোর্ট দরকার হবে, তা নিশ্চিত হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন একটা। আর স্থানীয় নির্বাচন পাঁচটা। এর মধ্যে তিনটা নির্বাচন ইউনিয়ন, পৌরসভা এবং উপজেলা জাতীয় নির্বাচন ন্যাশওয়াইড হয়। আর সিটি হয়ত লোকালাইজড। জেলা পরিষদে আসলে কোনো নির্বাচনই হয় না। এখন নির্বাচনের পূর্বে যদি নির্বাচনে যাই, তাহলে যে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে তা ঝুলে যাবে। কারণ এখন আমাদের যে চিন্তা-ভাবনা স্থানীয় নির্বাচন যেটা আছে সেটা কোনো সিস্টেম না। আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠান, আলাদা আলাদা আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। কোনো কমপ্রিহেন্সিভ সিস্টেম নাই। এই সংস্কারের বড় কাজ হবে একটা সিস্টেম ডেভেলপ করে দেয়া। এখন সিস্টেম কী হবে, যে সিস্টেম আছে সেটা আইয়ুব খানের ভাবনায় রেখে করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের ১০ বছর পরে উপজেলা, এর ১০ বছর পর উপজেলা পরিষদ হয়েছে। এতে করে কম্প্রিজেন্সিভ কিছু হয় নাই। এই সিস্টেম করার জন্য এখন মোক্ষম সময়। কেননা, বেশিরভাগ স্থানীয় সরকার কিন্তু নাই। কেবল ইউপি আছে। কাজেই ছবি আঁকার এটাই সময়। আমরা যদি সিস্টেম করতে পারি যে একটা কম্প্রিহেন্সিভ আইন হবে। সেই আইনের মধ্যে সব প্রতিষ্ঠান চলে আসবে। এতে একটা তফসিল দিয়ে সবগুলো নির্বাচন করতে পারব।

ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, আগে যেমন মেয়র নির্বাচন করেছি, সিটি নির্বাচন বলছি না। সব আলো পড়ছে মেয়রের ওপর। অন্য স্থানীয় সরকারেও একই অবস্থা। স্থানীয় সরকার যেখানে সফল, ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও সরাসরি মেয়র, চেয়ারম্যান নির্বাচন হয় না। কাউন্সিলর ও মেম্বার নির্বাচন হয়। তারা পরিষদে গিয়ে নির্বাহী কমিটি তৈরি করে। আমরা তেমন সিস্টেম তৈরি করতে চাই। তাহলে নির্বাচনটা অনেক লেস এক্সপেন্সিভ হবে। অনেক ব্যয় ও সময় সাশ্রয়ী হবে। এত লোকবল লাগবে না।

তিনি বলেন, একটা হিসাব করে দেখেছি, গত কমিশন যে স্থানীয় নির্বাচন করেছে এতে ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ১৯ থেকে ২০ লাখ লোক লেগেছে। ২২৫ দিনের মতো সময় লেগেছে। তাই স্থানীয় নির্বাচনে যদি পার্লামেন্টারি সিস্টেম নিয়ে আসি। তাহলে ইউনিয়ন, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনে একই সিস্টেম করতে পারব। তাহলে খরচ চলে আসবে ছয় শ’ কোটি টাকার মধ্যে। লোক লাগবে আট লাখ। সময় লাগবে ৪৫ দিন। এই সিস্টেমে যাওয়ার জন্য অধ্যাদেশ করে যদি যান, তাহলে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনে যাওয়া সম্ভব। অথবা বর্তমানে যা আছে, তা দিয়ে যদি স্থানীয় নির্বাচন করতে চান, তাহলে পাঁচটা আইন দিয়ে পাঁচটা নির্বাচন করতে হবে।

নির্বাচনের কোনো বিকল্প দেখছেন না তারেক রহমান

অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘নির্বাচন, নির্বাচন, নির্বাচন দিন। দেশকে রক্ষা ও ভবিষ্যৎকে নিয়ে ভাবতে হলে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।

আজ শনিবার চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির কাউন্সিল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভার্চুয়ালি তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, সব রাজনৈতিক দল মিলে আমরা এই অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দিচ্ছি। দেশের মানুষের হাতে ক্ষমতা ফিরে যেতে নির্বাচন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য সংস্কারের প্রস্তাব ৩১ দফা দিয়েছি আমরা। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। একজন শুরু করবে, আরেকজন টেনে নিয়ে যাবে। অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ ও সত্যিকারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে পারলে, জনগণ তবেই জনপ্রতিনিধি বাছাই করতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।

‘অনেকের মনে প্রশ্ন আমরা কেন বার বার নির্বাচনের কথা বলছি’ জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, অন্তর্বর্তী সরকার একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে পারবে। এর ফলে সংসদের যারা জনপ্রতিনিধি বাছাই হয়ে আসবে, তারা সংসদে বসে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, কিভাবে দেশের প্রত্যেকটি সেক্টরের সমস্যা সমাধান করা যায়।

‘সকল সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব প্রকৃত ও সত্যিকারের একটি নির্বাচনের মাধ্যমে।’

নির্বাচন যত দেরিতে হবে, ততই ষড়যন্ত্র বাড়বে। কারণ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে হটিয়েছি। কিন্তু হটিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার তো থেমে নেই। দেশী ও বিদেশী দোসরদের নিয়ে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। শুধুমাত্র একটি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। দেশের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধি আর দরকার নির্বাচন। সেটি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তুলে ধরতে হবে বলে জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, দেশের রাজনীতির রুগ্ন বা অসুস্থ হলে, দেশের সবকিছু অসুস্থ হয়ে যায়। তাকিয়ে দেখুন, স্বৈরাচার সরকার সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে এই রাজনৈতিক রুগ্নতার মাধ্যমে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দায়িত্ব নিতে হলে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে আশপাশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। যদি এই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারা যায়, তবেই মানুষ আপনাদের দায়িত্ব দিবে, অন্যথায় দ্বিতীয়বার ভাববে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, খুলনা বিএনপি ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলালসহ চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃবৃন্দ।

নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের ঘোষণা যুক্তরাজ্যের

মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে শুক্রবার এমন ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

আইসিসির মোট সদস্য ১২৪টি দেশ। যুক্তরাজ্যও এর অন্যতম সদস্য। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, ‘ওয়ান্টেড ম্যান’ নেতানিয়াহু যদি যুক্তরাজ্যে আসে তাহলে তাকে গ্রেফতার করা হবে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের মুখপাত্র বলেন, ‘আমি নির্দিষ্ট কোনো মামলা নিয়ে কথা বলব না। ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাই সবসময় তা মেনে চলবে।’

এর আগে অপর এক ব্রিটিশ মুখপাত্র আরো কঠোর ভাষায় এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক আদালতের স্বাধীনতাকে সম্মান করি। কারণ, এই আদালত পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি নিয়ে তদন্ত ও বিচার করার আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান।’

বৃহস্পতিবার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত।

নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে জারি করা পরোয়ানা নিয়ে আইসিসি বলেছে, ‘ক্ষুধাকে ব্যবহার করে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য এই দু’জনকে দায়ী করার যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে।’

আইসিসি আরো বলেছে, দু’জনের প্রত্যেকের অন্যদের সাথে মিলে যৌথভাবে সহ-অপরাধী হিসেবে নিম্ন উল্লেখিত অপরাধের জন্য ফৌজদারি দায়বদ্ধতা রয়েছে: যুদ্ধের পদ্ধতি হিসেবে ক্ষুধার ব্যবহার এবং হত্যা, নিপীড়ন এবং অন্যান্য অমানবিক কাজের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন।
সূত্র : বাসস

২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভালো সপ্তাহ পার করল স্বর্ণের বাজার

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম গত দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল গত সপ্তাহে। শুক্রবার তা পৌঁছে ২ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলারে।

স্পট মার্কেটে ১.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম হয়েছে ২ হাজার ৭০৯ দশমিক ২৪ ডলার। গত ৬ নভেম্বরের পর এটাই সর্বোচ্চ দাম।

বুলিয়ন স্বর্ণের দাম এই সপ্তাহে ৫.৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত বছরের মার্চের পর থেকে এটি সেরা সাপ্তাহিক রেট। ওই সময় ব্যাংক খাতে একটি বড় ধরনের সঙ্কটের সৃষ্টি হয় এবং মানুষ নিরাপদ সম্পদের ধিকে ঝুঁকে।

এদিকে, বিশ্ববাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ায় বাংলাদেশে ২০, ২৩ ও ৩১ অক্টোবর টানা তিন দফা স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ৩১ অক্টোবর সব থেকে ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয় ১ হাজার ৫৭৫ টাকা। এতে ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৬ টাকা। দেশের বাজারে এটিই স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম।

বিশ্ববাজারে রেকর্ড দাম হওয়ার পরদিন থেকেই অর্থাৎ ৩১ অক্টোবর থেকে পতনের মধ্যে পড়ে স্বর্ণ। কয়েক দফায় দাম কমে ১৪ নভেম্বর প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৫৪৭ দশমিক ১০ ডলারে নেমে যায়।

বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বাজারে যেমন স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে, তেমনই বিশ্ববাজারে দরপতন দেখা দিলে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমানো হয়। ৫ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে চার দফায় দেশের বাজারে ভালো মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম কমানো হয় ৯ হাজার ১৭ টাকা।

সূত্র : রয়টার্স ও অন্যান্য

ঢালিউডে যেসব অভিনেতার ফেরার পথ কাঁটায় ঘেরা

ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ধুঁকে ধুঁকে চলছে-এটা পুরোনো খবর। অনেক বছর ধরেই সিনেমার হাল ধরার মতো যোগ্য কাউকে যেন খুঁজে পাচ্ছে না সংশ্লিষ্টরা। যদিও ইন্ডাস্ট্রিতে সুদর্শন নায়কের অভাব নেই। কিন্তু হালআমলে অনেকে ‘রাজনীতি’ নামক এক ‘লোভনীয় ব্যবসা’র চর্চা করতে গিয়ে নিজের ক্যারিয়ার হুমকির মুখে ফেলেছেন।
অভিনয় থেকে বেশি মনোযোগী হয়ে পড়েছেন রাজনীতিতে। কোনো চিত্রনায়ক যখন রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন বা নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকাশ্য সমর্থক হয়ে যান, তখন তার দর্শক কিন্তু দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। ফলে ওই অভিনেতার ক্যারিয়ার পড়ে হুমকির মুখে।
এ তালিকায় রয়েছেন অনেকে। যারা স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সব অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে ক্যারিয়ার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন-ফেরদৌস আহমেদ, রিয়াজ, আরিফিন শুভ, জায়েদ খান, চঞ্চল চৌধুরী, জয় চৌধুরীসহ অনেকেই। দেশের পটপরিবর্তনে এখন কাজ পাচ্ছেন না তারা। অনেকেই রয়েছেন আত্মগোপনে বা আড়ালে। তাদের ফেরার পথ কাঁটায় ভরা।
‘বুকের ভিতর আগুন’ সিনেমা দিয়ে ১৯৯৭ সালে সিনেমায় আসেন ফেরদৌস আহমেদ। ক্যারিয়ারে অনেক ব্যবসাসফল সিনেমাও উপহার দিয়েছেন তিনি। অভিনয়ের জন্য চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেন। এ অভিনেতা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচন করেন। ঢাকা-১০ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য তিনি। স্বৈরাচার হাসিনা ও জুলাই-আগস্ট গণহত্যাকে প্রকাশ্য সমর্থন দেওয়ায় ৫ আগস্টের পর থেকেই আত্মগোপনে এ অভিনেতা। স্বভাবতই তার অভিনয় ক্যারিয়ারের চাকা সহসাই সচল হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
রাজনীতির কারণে এখন পলাতক চিত্রনায়ক রিয়াজ। তিনি বেশ কিছু হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। তবে বেশ কয়েক বছর ধরেই সিনেমায় নিয়মিত নন। চেষ্টা করেও হতে পারেননি। বরং মনোযোগী হয়েছিলেন রাজনীতির মাঠে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন তিনি। দলীয় কোনো পদ-পদবি না থাকলেও হাসিনার সমর্থনে রাজপথে বেশ সরব ছিলেন।
শুধু তাই নয়- ছাত্র-আন্দোলন ঠেকাতে বেশ সক্রিয় ভূমিকা ছিল তার। ৫ আগস্টের পর থেকেই তিনি পলাতক। অভিনয় ক্যারিয়ার তো অনেক আগেই শেষ হয়েছে বলা যায়, বাকিটুকু যা ছিল সে পথেও এখন কাঁটা। শিল্পী ইমেজের শেষটুকুও রাজনীতির দাবায় বিলীন।
নাটক থেকে সিনেমায় এসে বড়পর্দায় প্রতিষ্ঠা পাওয়ার খুব চেষ্টা করছিলেন আরিফিন শুভ। প্রায় দুই ডজন সিনেমা করলেও কোনো অবস্থান তৈরি করতে পারেননি এ নায়ক। সর্বশেষ তিনি ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ সিনেমায় শেখ মুজিবের চরিত্রে রূপদান করেন। আওয়ামী ঘনিষ্ঠ শিল্পী হওয়ায় এর জন্য পারিশ্রমিক নেন মাত্র এক টাকা। শেখ হাসিনা তার আস্থাভাজন স্নেহের শুভর প্রতি খুশি হয়ে তাকে পূর্বাচলে দশ কাটা প্লটও দেন। অবশ্য সেই প্লট বাতিল করেছে রাজউক।
শুভর ক্যারিয়ার ধ্বংসের সূচনা এখান থেকেই। ৫ আগস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেই কাঁটা ছড়িয়ে পড়ে শুভর অভিনয়ের পথে। কাজ পাচ্ছেন না আর। অবশেষে গোপনে চলে যান ভারত। এখন সেখানেই কাজের খোঁজ করছেন। কবে নাগাদ দেশে আসবেন বা আদৌ আসবেন কি না এ ব্যাপারে বেশ সন্দেহ রয়েছে।
নাটক ও সিনেমা মিলিয়ে বেশ ভালোই দিন কাটছিল অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর। ঢাকা-কলকাতা, দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই জমিয়ে কাজ করছিলেন। তার দুর্বলতা একটাই, শেখ হাসিনা। এ স্বৈরাচার শাসকের প্রেমে এতটাই মত্ত ছিলেন চঞ্চল, দেখা হলেই তার পদধূলি মাথায় নিতেন। আবেগে, আয়েশে হাসিনাকে গান শুনিয়ে নিতেন বাহবা। তাই শেখ হাসিনার পতনের পর চঞ্চলের ক্যারিয়ারেরও পতন শুরু হয়েছে। চলার পথে ছড়িয়ে পড়েছে কাঁটা। সেগুলো কীভাবে সরাবেন, কিংবা সরিয়ে কাজে নিয়মিত হতে পারবেন কী তা সময়ই বলে দেবে।
ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে জায়েদ খানই একমাত্র নায়ক, যার কোনো হিট সিনেমা না থাকলেও সবসময়ই তুমুল আলোচনায় থাকতেন। আর সেটা সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে। গত দুই বছরে সমালোচিত কর্মকাণ্ডে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ চর্চায় ছিলেন তিনি। ২০০৬ সালে ক্যারিয়ার শুরু করা এ অভিনেতার সর্বশেষ সিনেমা ‘সোনার চর’ও প্রেক্ষাগৃহে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। অবশ্য অভিনয় নিয়ে এ নায়কের নিজেরও তেমন মাথাব্যথা নেই। তিনি ব্যস্ত ছিলেন সিনেমার রাজনীতি নিয়ে। শিল্পী সমিতির দুবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
এ ছাড়াও আওয়ামী রাজনীতি সমর্থন করতেন। রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সখ্য ছিল বেশ। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মুজিব কোট পরে অংশ নিতেও দেখা যায় তাকে। ৫ আগস্টের পর তার বিরুদ্ধে হয়েছে মামলা। তাই ক্যারিয়ারে তার আর ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বর্তমানে আমেরিকায় অবস্থান করছেন তিনি।
ক্যারিয়ারে ফ্লপ নায়কের তকমা পাওয়া অভিনেতা হচ্ছেন জয় চৌধুরী। ২০১২ সালে ‘এক জবান’ সিনেমা দিয়ে অভিষেক হয়। ক্যারিয়ারে নয়টি সিনেমা করলেও সবগুলোই ফ্লপ। সবশেষ মুক্তি পায় তার অভিনীত ‘প্রেম প্রীতির বন্ধন’ নামে একটি সিনেমা। এটিতে তার বিপরীতে ছিলেন অপু বিশ্বাস। সিনেমাটি ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি বেশ সমালোচিতও হয়। অভিনয় নিয়ে তেমন সুবিধা করতে না পারলেও তিনি বনে যান শিল্পীদের নেতা।
বর্তমান চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। সক্রিয়ভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত না থাকলেও তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগের একজন সমর্থক বলেই দাবি করতেন। আওয়ামী শাসনামলে দলীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মুজিব কোট পরে অংশ নিতেও দেখা গেছে তাকে। এদিকে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভোল পালটে ফেলেন জয়। এখন নিজেকে বিএনপির সমর্থক বলে দাবি করছেন।
স¤প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে একটি ফেসবুক পোস্ট করেও নেটিজেনদের রোষানলে পড়েন এ নায়ক। রাজনীতির ভোলবদলে এ অভিনেতার ক্যারিয়ারে এখন কাঁটা বিছানো। চলার পথ খুবই সংকীর্ণ।
ঢাকাই সিনেমায় আরও এক নায়ক সাইমন সাদিক প্রায় এক যুগ কাজ করছেন। তিনিও আওয়ামীঘনিষ্ঠ অভিনেতা। গত এক দশক ধরে সেটাই দেখা গেছে। কিছু ভালো সিনেমা উপহার দিলেও বর্তমানে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় সাইমনের পথচলাও বলা যায় থমকে গেছে। দেশের পটপরিবর্তনে এখন পাচ্ছেন না কাজ।
এ ছাড়াও নাটক-সিনেমার এমন অনেকেই আছেন যারা শিল্পী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হলেও, বর্তমানে রাজনীতির কারণে দর্শকপ্রিয়তা হারিয়েছেন। ক্যারিয়ার নিয়ে বিপাকে রয়েছেন। আওয়ামীঘনিষ্ঠ অনেক শিল্পী এখন পলাতক। অনেকেই নেটিজেনদের রোষানলে পড়ে হচ্ছেন হেনস্তার শিকার।

‘সুন্দর বেডরুম বানিয়ে লাভ কী, যদি টয়লেট নোংরা থাকে’

দেশের প্রখ্যাত অভিনেত্রী অপি করিম। দেশের স্বনামধন্য একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন এই অভিনেত্রী। অপি করিম বুয়েট থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর থেকেই শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি দ্যুতি ছড়িয়েছেন অভিনয়েও।
অপি করিম বলেছেন- শিক্ষক তো তাই বেশি কথা বলি। বিশ্ব টয়লেট দিবসে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এখানে আমি এক মিনিটের বেশি কথা বলতে পারব না। যেহেতু আমার অনেক ডিসিপ্লিন তাই আমি একেকটা ডিসিপ্লিন নিয়ে এক মিনিট করে তিন মিনিট কথা বলব।
স¤প্রতি বিশ্ব টয়লেট দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আ প্লেস ফর পিস’-কে সামনে রেখে ‘দুস্থ মানুষের টয়লেট নির্মাণে পাশে থাকুন টাইলক্স কিনে’-স্লোগান নিয়ে এই ক্যাম্পেইনটি ঘোষণা করা হয়। বিশ্ব টয়লেট দিবসে হাইজেনিক টয়লেট নির্মাণের লক্ষ্যে এ ঘোষণা দিয়েছেন রিমার্ক-হারল্যানের ডিরেক্টর ও মেগাস্টার শাকিব খান।
এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অপি করিম। সেখানে তিনি শুটিং হাউজগুলোর খারাপ অবস্থা তুলে ধরেন।
অপি বলেন, প্রথমে আসি যে এখানে আমার সব কলিগ আছেন। আর্টিস্ট হিসেবে বলতে চাই, সবাই তো দূর-দূরান্তের কথা বলেছে, বান্দরবানের মাথার চূড়ার উপরের কথা বলছে।
তিনি বলেন, আমরা যখন কাজ করেছি, সকাল বেলায় বাসা থেকে ওয়াশরুমে যেতাম এবং রাতের বেলায় বাসায় ফিরে এসে ওয়াশরুম ব্যবহার করতাম। শুটিং হাউজগুলোর অবস্থা খুব খারাপ, আমি অনুরোধ করব টাইলক্সকে এ বিষয়টা দেখবেন।
অপি করিম বলেন, বিশ্ব টয়লেট দিবসে এখানের প্রতিপাদ্য বিষয়টা খুব ভালো। আমি যেহেতু শিক্ষকতা করি- বিল্ডিং ডিজাইন হোক আর যা কিছুই হোক না কেন আমরা প্রথমে যেটা শিখাতে চাই- কিচেন এবং টয়লেটের বিষয়। বিশেষভাবে টয়লেট, কারণ একটা সুন্দর বেডরুম বানালাম সুইচ টিপলে লাইট জ্বলে, গান হচ্ছে পর্দা নামছে কিন্তু সুস্থতা বা হাইজেনিকের বিষয়টা আসে টয়লেট থেকে।

ক্রিকেটার মঈন আলী এখন ডক্টর

স্পোর্টস ডেস্ক: ইংল্যান্ডের হয়ে দুটি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে অবদান আছে মঈন আলীর। ইংল্যান্ডের হয়ে ঐতিহাসিক অ্যাশেজ টেস্ট জয়েও আছে মঈনের অবদান। এবার সেই অবদানের স্বীকৃতি পেলেন মঈন। ক্রিকেটে অসামান্য অবদান রাখায় মঈনকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে ইংল্যান্ডের কভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয়।
গত সোমবার কভেন্ট্রি ক্যাথেড্রালে এক অনুষ্ঠানে মঈনকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। মঈনের জন্ম শহর ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস অঞ্চলের বার্মিংহামে অবস্থিত কভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যায় তাকে এই সম্মাননা দিয়েছে।
৩৭ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারকে ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, ‘ক্রিকেট খেলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আমরা মঈন আলীকে সম্মানসূচক ডক্টরেট অব আর্টসে ভূষিত করছি। তাকে এই সম্মাননা জানাতে পেরে আমরা গর্বিত।’
ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়ে মঈন বলেছেন, ‘কভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে এই চমকপ্রদ সম্মানে ভূষিত করায় আমি রোমাঞ্চিত। এর অংশ হতে পারা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দিনটি ভাগ করে নেওয়া দারুণ ব্যাপার। আমি সব সময় আমার সাধ্যমতো সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখন আমি আর ইংল্যান্ডের হয়ে খেলি না। তবে এখনো মানুষ আমার কাছে এসে বলে “তুমি খেলেছ বা তুমি যেভাবে খেলেছ, সেটা দেখেই আমি খেলি বা আমার সন্তানেরা খেলে।” এই কথাগুলোই আমার কাছে খেলাধুলায় সত্যিকারের সাফল্য।’
মঈন গত সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন। তার আগে, ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ১৩ ম্যাচে। তিন সংস্করণ মিলিয়ে খেলেছেন ২৯৮ ম্যাচ। করেছেন ৬৬৭৮ রান, নিয়েছেন ৩৬৬ উইকেট।