Home Blog Page 502

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খালাস পাওয়ায় নিউইয়র্কে দোয়া ও আনন্দ উৎসব

ডেস্ক, নিউইয়র্ক :ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ কর্তৃক দায়েরকৃত ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আদালতে নিরপেক্ষ বিচারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সকলে খালাস পাওয়ায় ১ ডিসেম্বর রবিবার রাতে নিউইয়র্কের জ‍্যাকসন হাইটসে নবান্ন রেস্টুরেন্টের পার্টি হলে বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কর্মীরা শোকরানা দোয়া ও মিষ্টিমুখ করে আনন্দ উৎসব করেন।

তাৎক্ষনিকভাবে আয়োজিত এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক আবু সাইদ আহমদ এবং সন্চালনা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাইফুর খান হারুন। শোকরানা দোয়া পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র যুবদল নেতা হাফেজ শাহবাজ আহমেদ।

Screenshot 1

উপস্হিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাকসুদ চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ আন্তর্জাতিক সম্পাদক খোরশেদ আলম, নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপি (উত্তর)-এর সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ চৌধুরী, নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপি( উত্তর)-এর সিনিয়র সহ সভাপতি কাজী আমিনুল ইসলাম স্বপন, নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আরিফুর রহমান , নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রইস উদ্দিন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন, এবাদ চৌধুরী, তরিকুল ইসলাম দিপু, জাহাঙ্গীর হাসাইন, যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আমানত হোসেন আমান, বিলাল আহমেদ চৌধুরী, শরীফুল খালিশদার, সোয়েব আহমেদ, আসাদ মুরাদ তালুকদার, রিপন মিয়া, রিয়াজ মাহমুদ, ইন্জিনিয়ার এম এ খালেক, এডভোকেট রেজওয়ানা রাজ্জাক সেতু, আব্দুস সামাদ টিটু, সিদ্দিক পাটোয়ারী, শাহাদত হোসেন রাজু, মনিরুল ইসলাম মনির, সেলিম আহমেদ, আব্দুর রব কাওসার, মাহবুবুল হক চৌধুরী, আলী মিলন, লাল মিয়া, রাহিমুল ইসলাম প্রিন্স, শাহবাজ আহমেদ, তোফায়েল আহমেদ, খালেদ আফসার (সোহাগ), আক্তার হোসেন বিপ্লব, রাহাত আহমেদ, বেলাল হোসেন, সুমন আহমেদ, শাহ স্বপন, আফসার আহমেদ, মোঃ শুভ্র প্রমুখ। প্রেস রিলিজ

নিউইয়র্কে চুরাশিয়ানদের আনন্দময় আয়োজন

বন্ধু হলো আত্মার চিরসঙ্গী। “মিলি আত্মার টানে”—এই হৃদয়ছোঁয়া স্লোগানে উজ্জীবিত হয়ে চুরাশিয়ানরা একত্রিত হয়েছিল নিউইয়র্কের কুইন্সে, যেখানে বন্ধুত্ব আর সম্প্রীতির বাঁধন আরও দৃঢ় হয়েছে। থ্যাংকসগিভিংকে উপলক্ষ করে এসএসসি ১৯৮৪ ব্যাচ, নিউইয়র্ক ‘চুরাশিয়ান ফ্যামিলি ফান-টাইম’-এর বর্ণাঢ্য আয়োজন করে।

নিউইয়র্কের কুইন্সে হিলসাইডের একটি পার্টি হলে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন চুরাশিয়ানদের জন্য এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। বিকেল থেকেই বন্ধু-স্বজনরা উৎসবের আমেজে সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন, যেখানে উষ্ণতা, হাসি-আনন্দ আর স্মৃতিচারণে ভরপুর ছিল প্রতিটি মুহূর্ত।

কোরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। কোরআন তিলাওয়াত করেন নাসিরুল হক, আর গীতা পাঠ করেন দিপ্তী সেন। এর পরপরই বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ও আমেরিকার ন্যাশনাল অ্যান্থেম পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে এ পর্যন্ত পরলোকগত সকল চুরাশিয়ানদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সাঈদ মাহবুবুর রহমান লিপু।

Pic 2 চুরাশিয়ান

এরপর সবার আন্তরিক অংশগ্রহণে নর্থ আমেরিকা চুরাশিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা শামস চৌধুরী রুশোর রচিত ‘চুরাশিয়ান থিম সং’ পরিবেশিত হয়, যা সকলকে একত্রিত হওয়ার অনুভূতিকে আরও গভীরভাবে স্পর্শ করে।

থ্যাংকসগিভিংকে রাঙিয়ে তুলতে একটি বিশাল আকারের টার্কি কাটা হয়। স্মৃতিচারণ, আবৃত্তি ও কৌতুক পরিবেশনের পর, জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী হাসান মাহমুদ ও ঝুলন সেনের প্রাণবন্ত গানে, উপস্থিত সবাই উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন। নাচ-গানের উল্লাসে মেতে ওঠা এই আনন্দঘন পরিবেশে পঞ্চাশোর্ধদেরও টগবগে তরুণ-তরুণী বলে মনে হচ্ছিল, যেন বয়স ছিল শুধু একটি সংখ্যা!

 শেখ ইয়াসমিনের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায়, এই আয়োজনে আরো সঙ্গীত পরিবেশন করেন দিপ্তী সেন ও রাব্বী সাঈদ, যা অনুষ্ঠানের পরিবেশকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তোলে। উপাদেয় ডিনারের পর, আগত সকলের হাতে থ্যাংকসগিভিং উপহার তুলে দেওয়া হয়।

১৫ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট জয় বাংলাদেশের

দীর্ঘ ১৫ বছরের অপেক্ষা ঘোচাল বাংলাদেশ। ২০০৯ সালের পর ফের ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট জিতল টাইগাররা। আর দেশ কিংবা বিদেশ, সব মিলিয়ে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে বাংলাদেশ টেস্ট জিতলো ছয় বছর পর।

মঙ্গলবার কিংস্টনের স্যাবাইনা পার্কে ম্যাচের চতুর্থ দিনেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। ১০১ রানে জিতেছে টাইগাররা। তাতে সিরিজে ফিরেছে ১-১ সমতা।

জয় অনেকটা অবধারিত হয়ে যায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের পরই। ইতিহাস গড়েই জিততে হতো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। জ্যামাইকায় সর্বোচ্চ রান তাড়া করতে হতো তাদের, করতে হতো ২৮৭ রান। কিংস্টনে এর আগে কখনো এত রান তাড়া করে জেতেনি কেউ।

পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজও। তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে যেন চোখে সর্ষেফুল দেখলেন গ্রিভস-জোসেফরা। ক্যারিয়ারে ১৫তম বার ৫ উইকেট নেন তাইজুল। সুবাদে স্বাগতিকেরা গুটিয়ে যায় ৫০ ওভারে মাত্র ১৮৫ রানে।

বাংলাদেশকে বড় পুঁজি এনে দিয়েছেন মূলত জাকের আলি। ৫ উইকেটে ১৯৩ রান নিয়ে দিন শুরুর পর দারুণ ফিনিশিং দিয়েছেন তিনি। শেষ দিকের কেউ সঙ্গ দিতে না পারলেও একাই সামলে নিয়েছেন সব, খেলেছেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস।

জাকের আলির ব্যাটে আসে ১০৬ বলে ৯১ রান। শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হবার আগে ৮ চার আর ৫ ছক্কায় ইনিংস সাজান। শতক হাতছাড়ার আক্ষেপ নিয়ে ফিরলে ৫৯.৫ ওভারে ২৬৮ রানে থামে বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংস থেকে ১৮ রানের লিড থাকায় বাংলাদেশের পুঁজি দাঁড়ায় ২৮৬ রানে। আলজারি জোসেফ ও কেমার রোচ নেন ৩টি করে উইকেট। জোড়া উইকেট নেন শামার জোসেফ।

জবাব দিতে নেমে পাল্টা আক্রমণের পথ খুঁজলেও তা আর পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুরু থেকেই তাদের চোখ রাঙান তাইজুল। প্রথম উইকেটটাও আসে তার হাত ধরেই, ফেরান মিকাইল লুইসকে (৮)। এরপর কেসি কার্থি ফেরেন ১৪ রানে, তাসকিনের বলে।

ব্রাথওয়েট ও কাভেম হজ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও সফল হননি, ৩৫ রানেই ভেঙেছে জুটি। ব্রাথওয়েটকে (৪৩) ফেরান তাইজুল। আথানেজও দ্রুত ফেরান তাইজুল। ১০৬ রানে ৪ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

থিতু হয়ে যাওয়া কাভেম হজকেও ফেরান তাইজুল। ৭৫ বলে ৫৫ করে আউট হোন এই ক্যারিবীয় ব্যাটার। এরপর আর কেউ বলার মতো স্কোর করতে পারেননি, পারেনি লড়াই করে। সর্বোচ্চ ২০ রান আসে জাস্টিন গ্রিভসের ব্যাটে।

১৪৩/৪ থেকে ১৮৫ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাইজুলের ৫ উইকেটের পাশাপাশি জোড়া উইকেট নিয়েছেন হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদ। অন্যটা নাহিদ রানার।

উল্লেখ্য, দু’ম্যাচ টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে শনিবার জ্যামাইকায় মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যেখানে টসে জিতে আগে ব্যাট করে প্রথম ইনিংসে ১৬৪ রান করে বাংলাদেশ।

তবে টাইগারদের এই পুঁজিই যথেষ্ট করে তুলেন নাহিদ রানা। ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৫ উইকেট নেয়ার পথে ক্যারিবীয়দের গুটিয়ে দেন ১৪৬ রানে। ১৮ রানের অবিশ্বাস্য লিড নেয় টাইগাররা৷

‘শেখ হাসিনা সরকার সবকিছু ধ্বংস করে গেছে’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকার সবকিছু ধ্বংস করে গেছে’ উল্লেখ করে বলেছেন, নির্বাচনের আগে আমাদের অর্থনীতি, শাসনব্যবস্থা, আমলাতন্ত্র ও বিচারব্যবস্থায় সর্বাত্মক সংস্কার করতে হবে।

গত শনিবার (৩০ নভেম্বর) নিক্কেই এশিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। সোমবার (২ ডিসেম্বর) সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনী ব্যবস্থা, সংবিধান এবং বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য বেশ কয়েকটি কমিশন গঠন করেছে। জানুয়ারির মধ্যে ওই কমিশনগুলোর সুপারিশ হাতে পাওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ সংস্কার বাস্তবায়ন করার কথা জানান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তবে এই সংস্কার বাস্তবায়নে সময় লাগবে বলে জানান তিনি। বলেন, “এই সংস্কার বাস্তবায়নে সময় লাগবে, কেননা ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে আমরা একদম শূন্য থেকে শুরু করেছি।”

নির্বাচন ঠিক কখন হবে সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনের সময় নির্ভর করছে সংস্কার প্রক্রিয়ার ওপর। এর ফলাফলই সময় নির্ধারণ করে দেবে।’

সাধারণ নির্বাচনে ড. ইউনূস প্রার্থী হবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘না, আমি রাজনীতিবিদ নই। আমি সবসময়ই রাজনীতি থেকে দূরে থেকেছি।’ রাষ্ট্রের যেসব ব্যক্তি নীতি-নৈতিকতা সমুন্নত রাখেন, নিয়ম-কানুন মেনে চলেন এবং নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত রাখেন তাদের নির্বাচনে দাঁড়ানো উচিত বলে মনে করেন ড. ইউনূস।

তিনি বলেন, ‘হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে দেশের শাসনকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, আর গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করে তা পুনর্গঠনের সুবিশাল কর্মযজ্ঞ আমাদের ঘাড়ে এসে পড়েছে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘হাসিনার শাসনামলে গণতন্ত্রের রীতি-নীতি একদম ধ্বংস হয়ে গেছে। টানা তিন মেয়াদে ভোটারবিহীন ভুয়া নির্বাচন মঞ্চস্থ করেছেন হাসিনা। আর তাতে তিনি নিজেকে এবং তার দলকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করেছেন। একজন ফ্যাসিবাদী শাসক হিসেবে এসব করেছেন হাসিনা।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “এ বছরের আগস্টে ছাত্রনেতৃত্বাধীন সরকারি চাকরিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে কয়েক শ’ শিক্ষার্থী নিহত হন। এরপরই শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন হাসিনার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। তিনি হেলিকপ্টারে চড়ে ভারতে পালিয়ে যান। অক্টোবরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা এবং তার বেশ কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।”

এই বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় হলে হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে ভারতকে অবহিত করা হবে বলে জানান ড. ইউনূস। তিনি বলেন, ‘বিচার শেষে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় এলে আমরা ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসিনাকে হস্তান্তরের অনুরোধ জানাব। এক্ষেত্রে উভয় দেশের স্বাক্ষরিত একটি আন্তর্জাতিক আইনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত এ আইন মেনে কাজ করতে বাধ্য হবে।’

কূটনৈতিক ফ্রন্টে বাংলাদেশের ভারতের সাথে শক্তিশালী ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত। এক্ষেত্রে ড. ইউনূস দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জবনের প্রস্তাব করেছেন। ভারত ও পাকিস্তানের বৈরী সম্পর্কের ফলে সার্ক কার্যত নিষ্ক্রিয় রয়েছে। সার্কের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মতো নিজেদের মধ্যে চলাফেরার স্বাধীনতা, আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য উৎসাহিত করা। সার্কের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ভারতেকে পাকিস্তানের সাথে উত্তেজনা নিরসনের আহ্বান জানান ড. ইউনূস।

এদিকে হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ভারত। তাদের দাবি বাংলাদেশে হিন্দুদের ঘরবাড়ি, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে ‘হামলা’ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকাকে অবশ্যই হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে বলে জোর দিয়েছে দিল্লি। তবে ভারত সরকারের এসব ঢালাও বক্তব্য নাকচ করে দেন ড. ইউনূস।

তিনি বলেন, ‘সংখ্যালঘু ইস্যুতে যা বলা হচ্ছে, তার বেশিরভাগই প্রোপাগান্ডা।’ এগুলো সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বলা হচ্ছে না বলে পাল্টা অভিযোগ করেন ড. ইউনূস। তিনি ভারতীয় সাংবাদিকদের বাংলাদেশে এসে তদন্তসাপেক্ষে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা এসব অপ-তথ্যের বিরুদ্ধে ভারত সরকারকে ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য কাজ করছি।

অন্য আঞ্চলিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইউনূস চীনকে ‘আমাদের বন্ধু’ বলে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, সড়ক ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ থেকে শুরু করে সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত তারা আমাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ বেইজিংয়ের সাথে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংস্থা- আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগ দেয়ার বিষয়ে জোর দেন ড. ইউনূস। বাংলাদেশ আসিয়ানে যোগ দেয়াকে একটি প্রতিশ্রুতিশীল সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে চায়। কারণ বাংলাদেশ বিশেষ করে ২০২৬ সালে জাতিসঙ্ঘের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে, এরপর বাংলাদেশ আর অগ্রাধিকারভিত্তিক শুল্ক সুবিধা পাবে না।

মালয়েশিয়া আগামী জানুয়ারি থেকে আসিয়ানের সভাপতি হতে যাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ড. ইউনূস বলেন, তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে বাংলাদেশের সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বাংলাদেশকে আসিয়ানে স্বাগত জানাতে তার সদিচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছেন। তবে এক্ষেত্রে বেশ কিছু ধাপ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আসিয়ানে যেগ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রথম ধাপটি হবে আসিয়ানের সংজ্ঞা সংশোধনে একটি সর্বসম্মত রেজোল্যুশন নিশ্চিত করা। এর আগে আমরা আসিয়ানের একটি সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনের আশা করছি। আসিয়ানের সদস্য দেশগুলো বাংলাদেশের এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ড. ইউনূস।

মিয়ানমারের সামরিক জান্তার দমন-পীড়ন থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বিপুল সংখ্যক রাষ্ট্রবিহীন ও নাগরিকত্বের প্রাধিকার-বঞ্চিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই দায় (রোহিঙ্গা) বাংলাদেশ কতদিন বহন করবে? রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে আমাদের একটি সুস্পষ্ট গন্তব্য ও একটি অভিন্ন লক্ষ্য ঠিক করা দরকার।’

বাংলাদেশ মিয়ানমারে জাতিসঙ্ঘ-শাসিত একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এতে করে এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা তাদের দেশেই আশ্রয়-শিবিরে থাকতে পারবে। সেখানকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে তাদের অন্য কোনো দেশে স্থানাস্তর করার প্রয়োজন হবে না, তারা তাদের নিজেদের বাড়িঘরে ফিরে যেতে পারবে বলে উল্লেখ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সূত্র : বাসস

পুলিশের ওপর হামলার মামলায় ১২ আসামির রিমান্ড মঞ্জুর

চট্টগ্রামে পুলিশের ওপর হামলা ও কাজে বাধাদানের মামলায় গ্রেফতার ১২ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ছয় দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত চিফ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরকার হাসান শাহরিয়ার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আসামিরা হলেন জয় নাথ, রুমিত দাস, নয়ন দাস, গগন দাস, সুমিত দাস, আমান দাস, বিশাল দাস, সনু মেথর, সুমন দাস, রাজেশ দাস, দুর্লভ দাস ও অজয় সূত্রধর চৌধুরী।

এর আগে গত সোমবার পুলিশের ওপর হামলার আরেক মামলায় আট আসামির সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) মফিজুর রহমান বলেন, পুলিশের ওপর হামলার দুই মামলায় ১২ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে কোতোয়ালি থানা পুলিশ সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত ছয় দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মফিজুর রহমান আরো বলেন, এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেফতার সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুর হওয়াকে কেন্দ্র করে ২৬ নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।

এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধাদান এবং আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরো চারটি মামলা হয়। পাঁচ মামলায় গ্রেফতার হন ৩৯ জন। তাদের মধ্যে হত্যায় জড়িত অভিযোগে নয়জন গ্রেফতার রয়েছেন। গত সোমবার পুলিশের ওপর হামলা ও কাজে বাধাদানের মামলায় গ্রেফতার দুই আসামির জন্য ওকালতনামা দিলে আইনজীবীদের বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেন অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর সরকারি কৌঁসুলি নেজাম উদ্দিন।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের সংগ্রহ করা ৫২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানায়, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আইনজীবী সাইফুলকে কোপান ওম দাশ, চন্দন ও রণব। তাকে পেটাতে থাকেন অন্যরা। সেখানে আরো ২৫ থেকে ৩০ জন ছিলেন। তাদের বেশিভাগই পরিচ্ছন্নতাকর্মী।

জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়া ও আমেরিকার বাকবিতণ্ডা

জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে আমেরিকা এবং রাশিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যে সিরিয়া প্রশ্নে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে। মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়া ইস্যুতে ডাকা জরুরি বৈঠকে এই বাকবিতণ্ডা হয়।

সম্প্রতি সিরিয়ার মুজাহিদ বাহিনী আবার বেশ কয়েকটি এলাকা দখলে নিতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকা তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েও নিয়েছে। এ নিয়ে সিরিয়ার অনুরোধে গতকাল জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক ডাকার প্রতি রাশিয়া, চীন এবং আলজেরিয়া সমর্থন দিয়েছিল।

বৈঠকে কয়েকটি স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্য এবং সিরিয়া ও ইরানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। বৈঠকের শুরুতেই সিরিয়াবিষয়ক জাতিসঙ্ঘের বিশেষ প্রতিনিধি গেইর অটো পেডারসন বলেন, মুজাহিদদের তৎপরতা সিরিয়ার সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তিনি জাতিসঙ্ঘে পাস হওয়া ২২৫৪ নম্বর প্রস্তাব অনুসারে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সিরিয়ায় রক্তপাত বন্ধের আহ্বান জানান।

বৈঠকে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া সিরিয়ায় মুজাহিদদের পুনর্গঠন এবং মদদ দেয়ার জন্য সরাসরি আমেরিকা ও তার মিত্রদের দায়ী করেন। বৈঠকে চীনা রাষ্ট্রদূতও পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থানের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মুজাহিদদের হামলার কারণে সিরিয়ার স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বৈঠকের সভাপতি এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট উড সিরিয়া পরিস্থিতির জন্য আগের মতোই রাশিয়া, ইরান এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ প্রতিরোধ আন্দোলনকে দায়ী করেন। একইভাবে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সিরিয়া সঙ্কটের জন্য রাশিয়া ও ইরানকে অভিযুক্ত করেন।

নিরাপত্তা পরিষদের এ বৈঠকে আরব দেশগুলো সিরিয়ার জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য আহ্বান জানান।

সূত্র : পার্সটুডে

রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক বিকেলে

দেশের বাইরে, বিশেষ করে ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশকে নিয়ে যে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে তার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য তৈরির লক্ষ্যে দেশের সব রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের নিয়ে বৈঠক শুরু করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এর ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার বিকেলে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বৈঠক করবেন তিনি।

মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। এদিন সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠকের মধ্য দিয়ে এ সংলাপ শুরু হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, নিহতদের রাষ্ট্রীয় খেতাব দেয়া, আহতদের সুচিকিৎসায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের জন্য জোর দিতে বলেন। এছাড়া গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।

প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষার্থীদের বলেছেন, ‘খুচরাভাবে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে আগে দেখা হয়েছে। আজকে অনেকের সাথে দেখা হলো। ভালো হলো। তোমাদের কথা শুনতেই মূলত আজকে বসা। তোমরা সরকারের কাছে কী চাচ্ছো, আশাগুলো কী, পরামর্শ আছে কি না কোনো এটি জানতে চাওয়া।’

অধ্যাপক ইউনূস আরো বলেন, ‘তোমরা রাষ্ট্রের অভিভাবক, তোমাদের কারণেই রাষ্ট্র। এই ভূমিকা ভুলে যেও না। নিজেদের ভূমিকা ভুলে যেও না। অনেকে এখানে আছে, অনেকে নেই। যারা নেই, তারাও রাষ্ট্রের অভিভাবক। তোমাদের দায়িত্ব আছে রাষ্ট্র যেন ঠিক পথে চলে, যেন বিচ্যুত না হয়। এইটুকু মনে রাখলে রাষ্ট্র ঠিক থাকবে। নিজের অভিভাবকতত্ব ভুলে যেও না।’

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ ছাত্রদের ওপর ভরসা করে। এই বিশ্বাস ধরে রেখো। হাতছাড়া করো না। তোমরা কখনোই আশাহত হবে না। তোমরা অসম্ভবকে সম্ভব করেছ। দেশ বদলিয়ে ফেলেছ। তোমরাই পারবে। মানুষের আশা তোমাদের পূরণ করতে হবে। অন্তত সে পথে তোমাদের অগ্রসর হতে হবে। এক বিজয় করেছো, আরেক বিজয় আসবে। তোমরা বারবার আমাদের মনে করিয়ে দেবে যেন আমরাও সতর্ক হই, সজাগ হই।’

এছাড়া আগামীকাল বৃহস্পতিবার (০৫ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা বৈঠক করবেন ধর্মীয় সংগঠনের নেতাদের সাথে।

আগামী নির্বাচন কঠিন হবে : তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী দিনে যে নির্বাচন আসছে তা সহজ হবে না। আগামী নির্বাচনে আমাদের প্রধান প্রতিপক্ষ হতে পারে অনেক দুর্বল। তারপরও এই নির্বাচন দেশের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে কঠিন নির্বাচন হতে যাচ্ছে। কারণ মানুষের চিন্তা-ভাবনা, ধ্যান-ধারণার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ এখন অনেক সচেতন। তাই আপনাদেরকে এমনভাবে কাজ করতে হবে, যাতে জনগণের সমর্থন আপনার প্রতি থাকে এবং দলের প্রতি থাকে।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) নগরীর টাউনহল তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি’ শীর্ষক বিএনপির বিভাগীয় প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে কর্মশালার উদ্বোধন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলমের সভাপতিত্বে ৩১ দফা নিয়ে আলোচনা করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাঈল জবিউল্লাহ। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কোষাধ্যক্ষ রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, জলবায়ুবিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি, সাবেক এমপি রেহানা আক্তার রানু, লাইলা বেগম, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা হাবীবা, বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ারেস আলী মামুন ও আবু ওয়াহাব আকন্দ মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন।

এ সময় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, মাহমুদুল হক রুবেল, লাইলা বেগম, সামছুজ্জামান মেহেদী, আরিফা জেসমিন নাহিন, আব্দুল বারী ড্যানী, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এক কেম এম শফিকুল ইসলাম, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু, সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার রোকনসহ বিএনপির বিভাগীয়, জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ময়মনসিংহ বিভাগের ৫১২ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি অতীতে যখন দেশ পরিচালনা করেছে তখন হয়তোবা অনেক কিছু করতে পারেনি, আবার পেরেছে। তবে বিএনপি দেশের ও মানুষের কথা চিন্তা করে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ৩১ দফার পক্ষে মানুষের সমর্থন আদায় করতে হবে। এই ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব শুধু বিএনপির না, বাংলদেশের পক্ষের সকল গণতান্ত্রিক দলের চিন্তার ফসল হচ্ছে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব।

তিনি উপস্থিত নেতৃবন্দের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘অনেক নেতাকর্মী মনে করছে আমরা ক্ষমতায় চলে গেছি, এটা কিন্তু ঠিক না। আমরা ক্ষমতায় যায়নি। তখনই আমরা ক্ষমতায় যেতে পারবো যখন আমরা জনগণের সমর্থন পাবো। তাই জনগণের সমর্থন আমাদেরকে আদায় করতে হবে। জনগণের সমর্থন পেতে হলে আপনার কথা, আচরণ, উঠাবসা ও কথাবার্তাসহ সব কিছুর ওপর নির্ভর করছে আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে কি-না। এজন্য জনগণের আস্থা আমাদের ধরে রাখতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, বরং অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে আগামী নির্বাচন কঠিন হবে। কারণ মানুষের ধ্যাণ ধারণা অনেক বদলাচ্ছে। মানুষ আগের চেয়ে অনেক সচেতন।

কর্মশালায় ময়মনসিংহের বেশ কয়েকজন অংশগ্রহণকারী কিছু প্রস্তাব ও প্রশ্ন করেন। এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড করার চিন্তা করছেন। যাতে পরিবারগুলো উপকৃত হবে। কৃষকদেরও কার্ড দেয়ার পরিকল্পনা আছে। কৃষকদের পরিচয় নিশ্চিত হলে কৃষক সহজে সরকারি ভতুর্কির সুফল পাবেন।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, প্রাইমারি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়া হবে। শিক্ষা ও শিক্ষকদের মান উন্নয়ন এবং শিশুদের সামাজিক মূল্যবোধ শেখানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। মেধাবীদের প্রাথমিক শিক্ষায় নিয়ে আসা হবে।

খেলাধূলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খেলাধুলাকে পড়াশুনার সাবজক্টের সাথে যুক্ত করা যেতে পারে। এতে শিশুদের প্রতিভাব বিকশিত হবে। শিশুরা সুস্থ দেহে ভালোভাবে পড়াশুনাও করতে পারবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, খাল খননকে গুরুত্ব দেযা হবে। খাল-নদী খননের ব্যাপারে কর্মসূচি নিবেন। বৃক্ষমেলা চালু করা হবে। পাঁচ বছরে অন্তত পাঁচ কোটি বৃক্ষ রোপন করবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হতে জনগণের আস্থা ও সমর্থন আদায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা সবাইকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই, প্রতারণার মাধ্যমে ভোটে জয়ের দিন শেষ। এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া, ডামি প্রার্থী দিয়ে কিংবা রাতে ভোট দিয়ে নির্বাচনে জেতার কোনো সুযোগ নেই। আমরা বছরের পর বছর লড়াই করে জীবন দিয়ে এটি পরিবর্তন করেছি।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা ভয়ভীতি বা বাধা ছাড়াই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। জনগণকে বুঝানো এবং তাদের মন জয় করে সেই নির্বাচনে আমাদের অবশ্যই জয়ী হতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দল ক্ষমতায় গেলে আমরা কী করতে চাই সে সম্পর্কে জনগণকে ধারণা দিতেই ৩১ দফা রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি, খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ এবং তারেক রহমানের ২৭ দফা প্রস্তাবের আলোকে বামপন্থী, ডানপন্থী ও গণতান্ত্রিক দলগুলো, যারা যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, তাদের সাথে আলোচনা করে এ সংস্কার রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে।’

স্বর্ণজয়ী শ্যুটার সাদিয়া সুলতানা আর নেই

বাংলাদেশের স্বর্ণজয়ী শ্যুটার সাদিয়া সুলতানা ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি।

সাদিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সতীর্থ শুটার ও ফেডারেশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা।

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। মাঝে ২০১৭ সালে আগুনে পুড়ে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন তিনি।

শুটিংয়ে বর্ণাঢ্যময় এক ক্যারিয়ার ছিল সাদিয়ার। ২০১০ সালের কমনওয়েলথ শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে সোনা জিতেছিলেন তিনি। দলগত ইভেন্টে দিল্লির আসর থেকে শারমিন আক্তার রত্নার সাথে জুটি গড়ে জিতেছিলেন সোনা। এর আগে একই বছর এসএ গেমসে একই ইভেন্টে জিতেন সোনার পদক।

মমতার বক্তব্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি : মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশে জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষী পাঠানো নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী যে বক্তব্য রেখেছেন তা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকিস্বরুপ মন্তব্য করে অবিলম্বে এই ধরনের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার রাতে লন্ডন থেকে মোবাইল ফোনে গণমাধ্যমের কাছে দলের পক্ষে বিএনপি মহাসচিব এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘সকালে কয়েকটি পত্রিকায় একটা সংবাদ দেখলাম, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখমন্ত্রী বাংলাদেশ সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। তিনি যে উক্তি করেছেন সে বিষয়ে আমি বক্তব্য না রেখে পারছি না। তিনি (মমতা ব্যানার্জী) বাংলাদেশে শান্তিবাহিনী পাঠানোর যে কথা বলেছেন, এটা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি একটা হুমকিস্বরুপ এবং আমরা মনে করি, এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নেতৃবর্গের যে দৃষ্টিভঙ্গি তা কিছুটা হলেও প্রকাশিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতার এই বক্তব্য তার অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত। এই ধরনের কোনো চিন্তা করাও তাদের উচিত হবে না। কারণ বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে এবং সম্প্রতি একটা বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তারা গণতন্ত্রকে ফিরে পেয়েছে। এ দেশের মানুষ যেকোনো মূল্যে এই ধরনের চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষুণ্ণ হওয়া বা বিপন্ন হওয়ার যে অলীক কাহিনী ভারতীয় মিডিয়াগুলোতে প্রচারিত ও প্রকাশিত হচ্ছে তা কোনো মতেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বার বার বলেছি, এখানে ভারতের সাংবাদিকরা এসছিলেন তারাও দেখেছেন। পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের অনেক নামকরা সাংবাদিক এসেছিলেন তারা দেখেছেন বাংলাদেশে এই ধরনের কোনো পরিস্থিতি নেই। অথচ ভারতের মিডিয়া ও তাদের নেতৃবর্গ যেভাবে সম্পূর্ণ একটা মিথ্যাকে প্রচার করছেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি দিচ্ছেন তা কোনোমতেই বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ সম্পর্কে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে যে কথাগুলো বলা হচ্ছে, অতি সম্প্রতি ইসকনকে (বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ) নিয়ে যে এখানে (বাংলাদেশে) নতুন করে চক্রান্ত শুরু হয়েছে তা বাংলাদেশের মানুষ কখনোই গ্রহণ করবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটা খুব পরিস্কার যে ইসকনের সাম্প্রতিক ভূমিকা অত্যন্ত সন্দেহজনক ও রহস্যজনক এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার প্রতি হুমকিস্বরুপ।’