Home Blog Page 505

আমি শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি : মাইকেল চাকমা

গুমের ঘটনায় আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামভিত্তিক আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) নেতা মাইকেল চাকমা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগটি দায়ের করেন তিনি।

এসময় মাইকেল চাকমা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। আমি প্রধান আসামি হিসেবে শেখ হাসিনাকেই দায়ী করব।’

তার অভিযোগ দায়েরের পর ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাকে কিভাবে গুম করা হয়, তা মৌখিকভাবে জানিয়েছেন আমাদের। সেই বর্ণনা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তিনি গুমের শিকার হয়েছেন। তিনি একই বক্তব্য কমিশনের কাছেও দিয়েছেন।’

তাজুল ইসলাম জানান, মাইকেল চাকমা আজ শুধু মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছেন এবং তিনি শিগগিরই লিখিত অভিযোগও জমা দেবেন। তবে ট্রাইব্যুনাল তার ক্ষমতাবলে মৌখিক অভিযোগও আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৯ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকা থেকে মাইকেল চাকমাকে গুম করা হয়েছিল। এরপর পাঁচ বছর তিন মাস ২৭ দিন তাকে গোপন কারাগারে আটক রাখা হয়।

এসব কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আয়নাঘরের যে সমস্ত গল্প আপনারা ইতোমধ্যে শুনেছেন, ঠিক একই কায়দায়, একই প্রক্রিয়ায়, একই প্যাটার্নে তাকে এতগুলো বছর আটক রাখা হয়েছিল। বিপ্লবের পর গত ৭ আগস্ট লম্বা একটি জার্নির পরে তাকে চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের কোনো একটি অংশে ১২ কিলোমিটার দূরে জঙ্গলের মাঝে চোখ-হাত বেঁধে ছেড়ে আসা হয়।’

আজ ট্রাইব্যুনালে মাইকেল চাকমার সাথে ছিলেন আলোকচিত্রী শহীদুল আলম ও তার স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ ছিলেন।

সূত্র : বিবিসি

গঠন হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদফতর

বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ঢাকায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদফতরর’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণ, গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার এবং আহত ছাত্র-জনতার পুনর্বাসনসহ গণঅভ্যুত্থানের আদর্শ ও চেতনাকে রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত করাই হবে এই অধিদফতরের উদ্দেশ্য।

বুধবার বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম এতে সভাপতিত্ব করেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশের ৩ কিলোমিটারে জমায়েত নিষিদ্ধ

তাবলীগ জামাতের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে জমায়েত নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

বুধবার বেলা দেড়টায় এ বিজ্ঞপ্তি জারির পর বাদ জোহর থেকে মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দান ত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন জিএমপি পুলিশ কমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল করীম খান।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ আইন ২০১৮-এর ৩০ ও ৩১ ধারায় পুলিশ কমিশনারকে দেয়া ক্ষমতাবলে আজ ১৮ ডিসেম্বর তারিখ ১৪:০০ ঘটিকা হতে (দুপুর ২টা) পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বিশ্ব ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশের তিন কিলোমিটার গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এলাকায় নিম্নলিখিত আদেশ বলবৎ থাকবে।

আদেশগুলো হলো :
(ক) বিশ্ব ইজতেমা মাঠে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলো।
(খ) পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মায়দানসহ আশপাশের তিন কিলোমিটার এলাকার মধ্যে দু’ বা ততোধিক ব্যক্তি একসাথে ঘোরাফেরা জমায়েত এবং কোনো মিছিল-সমাবেশ করতে পারবে না।
(গ) কোনো প্রকার অস্ত্র-শস্ত্র, ছুরি, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্যাদি বা এ জাতীয় কোনো পদার্থ বহন করতে পারবে না।
(ঘ) কোনো প্রকার লাউড স্পীকার বা এ জাতীয় কোনো যন্ত্র দ্বারা উচ্চস্বরে কোনো শব্দ করতে পারবে না। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনস্বার্থে এই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হলো।’

নিউইয়র্কে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে আ.লীগ ও বিএনপির তুমুল হট্টগোল

নোমান সাবিত: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশি সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির অভিষেক ও বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে তুমুল হট্টগোল ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। গত সোমাবার (১৬ ডিসেম্বের) সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কের উডসাইডের তিব্বত কমিউনিটি সেন্টারে অভিষেক ও বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে একজন বক্তার উদ্দেশ্য প্রণোদিত রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ ও বিএনপিপন্থী নেতা-কর্মীদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। ফলে প্রায় আধাঘন্টা পর অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। পরে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র আসার দোহাই দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।
জানা যায়, অনুষ্ঠানটি নিয়ম মাফিক চলছিল। ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান এম আজিজ তার বক্তব্যে বিদায়ী কমিটির মৃদু সমালোচনা করেন। এরপর সাবেক ও আগামী কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান পাল্টা বক্তব্য দিলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এরপর সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম তার বক্তব্যে ৪৭, ৭১, ৯০ এবং পরে ৫ আগস্টের গণ আন্দোলনের কথা তার বক্তব্যে তুলে ধরেন সাবেক সরকার আওয়ামীলীগের কঠোর সমালোচনা করেন। এক পর্যায়ে উপস্থিত আওয়ামীলীগের কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।

nybd society 02

তাকে ভুয়া ভুয়া বলে চিৎকার করতে থাকেন।ফখরুল আলমের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হাসিব মামুন ও মুজাহিদুল ইসলাম। সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম , মহিউদ্দীন দেওয়ান ও মাহবুব তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। আওয়ামী লোকজন মারমুখি হয়ে উঠলে বিএনপির রিপন, কাজী আজম, জসিম ভুঁইয়া, মোশাররফ হোসেন, সেলিম রেজাসহ অনেকে প্রতিবাদ করতে থাকেন। তারাও আওয়ামী সমর্থকদের দিকে তেড়ে যায়। এ সময় আওয়ামীলীগ ও বিএনপিপন্থী নেতা-কর্মীদের মধ্যে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়।

বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু ধর্মীয় সংখ্যালঘু’র অবস্থান পরিবর্তন হয়নি

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক: কেরলের রাজ্যপাল আরিফ মোহাম্মদ খান, ইসলাম ধর্ম নিয়ে তাঁর ব্যাখ্যা উদার। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবুল কালাম সবার নমস্য। এদের কথা শুনলে বা মানলে ধর্ম নিয়ে ‘সভ্যতার সংঘাত’ অনেকটা কমে যেতো। নেতাজী সুভাষ বসু-র বিরুদ্ধে কোন মুসলমানকে কথা বলতে শুনিনি। এপিজে আবুল কালাম-কে নিয়ে কোন হিন্দুকে বিরূপ মন্তব্য করতে দেখিনি। তাহলে একথা কি বলা যায় যে, হিন্দু হও তো সুভাষ বসু হও; মুসলমান হও তো এপিজে আবুল কালাম হও? বড় কথা হচ্ছে, সুভাষ বসু বা এপিজে আবুল কালাম মানুষের মত মানুষ ছিলেন, ‘সবার ওপরে মানুষ সত্য’; হিন্দু-মুসলমান হওয়ার আগে একজন ভালো মানুষ হও, সেটা হলেই কেবলমাত্র একজন ভাল হিন্দু বা ভালো মুসলমান হওয়া সম্ভব? 

ভারত-পাকিস্তান নিয়ে উপমহাদেশে তর্কের শেষ নেই? স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন মওলানা আবুল কালাম আজাদ, তিনি সসম্মানে আমৃত্যু মন্ত্রিত্ব করে গেছেন। একই সময়ে পাকিস্তানে আইনমন্ত্রী ছিলেন যোগেন মন্ডল, পূর্ব-বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তিতে তিনি ব্যাপক সহায়তা করেছিলেন। অথচ মন্ত্রী থাকা অবস্থায় তাঁকে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে কলকাতা গিয়ে প্রাণ বাঁচাতে হয়েছে। এ দু’টি ঘটনা বিশ্লেষণ করলে ভারত-পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘু’র  মর্যাদা বা অবস্থান বোঝা কি সহজ হয়না? সেই পূর্ব-বাংলা পরে পূর্ব-পাকিস্তান হয়েছে, আরো পরে তা স্বাধীন বাংলাদেশ হয়েছে, কিন্তু ধর্মীয় সংখ্যালঘু’র অবস্থান পরিবর্তন হয়নি, আজো তাঁরা অত্যাচারীর আমানত, নিজদেশে পরবাসী? 

ভারতে চারজন মুসলমান রাষ্ট্রপতি হয়েছেন, জাকির হোসেন, ফখরুদ্দিন আলী আহমদ, মোহাম্মদ হিদায়েতুল্ল্যাহ  এবং এপিজে আবুল কালাম। ভারতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিমান বাহিনী প্রধান, এবং অন্য অসংখ্য পদ মুসলমানরা অলংকৃত করেছেন। একদা পশ্চিমবঙ্গের স্পীকার মুসলিম ছিলেন, কলকাতার মেয়র এখন ফিরহাদ হেকিম। বাংলাদেশে সুরেন্দ্র কুমার সিন্হা সামান্য সময় প্রধান বিচারপতি ছিলেন, তিনি দেশছাড়া হয়েছেন। বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য্য প্রধান বিচারপতি হতে পারতেন; মেজর জেনারেল চিত্ত রঞ্জন দত্ত সেনাপ্রধান হতে পারতেন; এ,কে, গাঙ্গুলী বাংলাদেশে ব্যাঙ্কের গভর্নর হতে পারতেন,  অজ্ঞাত কারণে কেউ কিছু হ’ননি! যারা ভারতে মুশকান-আরুশা বিতর্কে হাততালি দিয়েছেন, তারা কিন্তু নিজের ঘরের দিকে তাকিয়ে দেখেননি। 

ভারতের বিভিন্ন মসজিদে সমীক্ষা নিয়ে মোদিকে তুলোধুনো ওয়াইসির

প্রার্থনাস্থল আইনের তোয়াক্কা না করেই ইদানীং যেভাবে ভারতের নানা প্রান্তে সমীক্ষার জিগির তুলে একের পর মসজিদকে টার্গেট করা হচ্ছে, তা নিয়ে এবার সংসদে সরব হলেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (এআইএমআইএম) নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিষয়টি নিয়ে লোকসভায় নিজের বক্তব্য পেশ করেন তিনি।

সংবিধান প্রণয়নের ৭৫তম বর্ষ পালন উপলক্ষে এদিন লোকসভায় বক্তৃতা দেন ওয়াইসি। সেই সময়েই হায়দরাবাদের সাংসদ বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ওয়াকফ সম্পত্তি কেড়ে নেয়ার অভিযোগ তোলেন।

তিনি বলেন, ‘আজ আমি একটা প্রশ্ন করতে চাই। ধরুন কোথাও একটা ৫০০ বছরের পুরোনো মসজিদ রয়েছে… এখন আমি যদি সংসদের নিচে খোঁড়াখুঁড়ি করি, তাহলে তো সেখানেও কিছু না কিছু পাব। তাহলে কি সেটা আমার হয়ে যাবে?’

উল্লেখ্য, মোদি সরকারের আমলে যেভাবে একের পর এক মসজিদে সমীক্ষা চালানো হচ্ছে, তা নিয়ে নানা মহলেই সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ ধরনের সমীক্ষা ঘিরে দেশের নানা প্রান্তে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে। যার সাম্প্রতিকতম নিদর্শন দেখতে পাওয়া গেছে উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে।

এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করা হয়। বলা হয়, দেশের বিভিন্ন মসজিদসহ সমস্ত প্রাচীন স্থাপত্যে এ ধরনের সমীক্ষা আপাতত বন্ধ রাখতে হবে।

আর তারই পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াইসির প্রায় ৯ মিনিটের এই ভাষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

তার সেই বক্তৃতায় ওয়াইসি বর্তমানে ভারতে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আজ থেকে ৭৫ বছর আগে বাবাসাহেব যেটা বলে গিয়েছিলেন, আজও সেটা সমান প্রাসঙ্গিক। আসলে কেউই চান না যে সংখ্যালঘুরা ক্ষমতার ভাগ করে নিক।’

ওয়াইসি এর ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমাকে একটু সংসদীয় গণতন্ত্রের সাফল্য ব্যাখ্যা করতে দিন। (সংবিধানের) ২৫, ২৬, ২৯, ৩০, ১৪ এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকারগুলোই এর ভিত্তি প্রস্তুত করেছে। আমি বলব, এ বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করার মাধ্যমেই সমাজের দুর্বল শাখাগুলোতেও সুবিচার পৌঁছে দেয়া সম্ভব।’

এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ওয়াইসি দেশের নানা প্রান্তে সংখ্যালঘু মুসলিমদের প্রতি ঘটা নির্যাতনের ঘটনাগুলোও তুলে ধরেন। সেইসাথে ওয়াকফ সংশোধনী বিলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য হলো ‘ওয়াকফ সম্পত্তিগুলো ছিনিয়ে নেয়া।’

সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে ওয়াইসি বলেন, ‘আপনাদের হাতে থাকা ক্ষমতা ব্যবহার করে আপনারা আসলে ওয়াকফ সম্পত্তিগুলো ছিনিয়ে নিতে চাইছেন।’

এই বিলে এমন ব্যবস্থাপনা রাখতে হবে, যাতে ওয়াকফ বোর্ডের প্রাপ্ত অর্থ বিভিন্ন ধরনের কল্যাণমূলক কাজ, যেমন- বিধবা, বিবাহ বিচ্ছিন্না এবং অনাথদের স্বার্থে ব্যবহার করা যায়। সরকারের পক্ষ থেকে তেমনই প্রস্তাব রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে কেন্দ্রের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অভিযোগ করেছে, বর্তমান সরকার যে ওয়াকফ বিল প্রস্তুত করেছে, তাতে মুসলমানদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। যদিও সরকারের বক্তব্য হলো, ওয়াকফ বোর্ডগুলো যাতে স্বচ্ছতা এবং পূর্ণ দায়বদ্ধতার সাথে কাজ করে, তা নিশ্চিত করতেই এই সংশোধনী প্রস্তাবগুলো দেয়া হয়েছে।

নিজের বক্তৃতায় ওয়াইসি আরো বলেন, ‘সংবিধানের ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদটি পড়ুন। তাতে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোকে তাদের ধর্মীয় এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠিত করার ও বজায় রাখার অধিকার দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলছেন ওয়াকফের সাথে নাকি সংবিধানের কোনো সম্পর্ক নেই! তাকে এসব কে শেখাচ্ছেন? তাকে আগে ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদটি পড়তে বলুন।’

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

রাষ্ট্র মেরামতের সময় জানতে চাওয়ার অধিকার জনগণের রয়েছে : তারেক রহমান

রাষ্ট্র মেরামতে অন্তবর্তীকালীন সরকারের কত দিন সময় লাগবে তা জানতে চাওয়ার অধিকার জনগণের রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচনে রোডম্যাপ ঘোষণার কথা শুনলে উপদেষ্টাদের চেহারায় অস্বস্তির ছাপ ফুটে ওঠে, যা জনআকাঙ্ক্ষা বিরোধী।

রোববার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপি আয়োজিত মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্র ও রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন জন‍্য সংস্কারের বিকল্প নেই। একইসাথে এটিও মনে রাখা জরুরি কেউ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হতে চাইলে সংবিধান বাধা হতে পারে না। ফ‍্যাসিবাদ রুখতে নাগরিক জীবনের প্রতিদিনের চালচিত্র গণতন্ত্রের রাজনীতির চর্চা থাকা দরকার।’

নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা মাধ্যমে অন্তবর্তীকালীন সরকারের স্বচ্ছতা প্রকাশ হবে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার কি করতে চাইছে, রাষ্ট্র মেরামত করতে আর কত মাস কত সময় লাগবে সেটি জানার অধিকার জনগণের রয়েছে। সরকার রোডম্যাপ ঘোষণা করেলে জনগণের কাছে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নিশ্চিত করবে। এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আসবে।’

নির্বাচনের রোডম্যাপ জানতে চাইলে উপদেষ্টারা বিরক্ত হন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে রোডম্যাপ ঘোষণার কথা শুনলে উপদেষ্টাদের চেহারায় অস্বস্তির ছাপ ফুটে ওঠে, যা জনআকাঙ্ক্ষা বিরোধী। সরকার তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের কাছে যত বেশি স্বচ্ছ থাকবে জনগণ তত বেশি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘জনগণ যথেষ্ট ধৈর্য্য ধরে আছে। কারণ তারা সরকারকে সফল দেখতে চায়। অন্তবর্তী সরকার নিজেরা নিজেদের সফল দেখতে চায় কিনা তা তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। ৫ আগস্টের পর অভূতপূর্ব ঐক‍্যর মোহনায় জাতি। এ ঐক্যকে কাজে লাগাতে বৈষম্যহীন‍ সমাজ গড়তে চায় বিএনপি।’

দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতি নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি জনগণের জীবনে চাপ তৈরি করেছে। প্রতিদিনের সংসারের ব‍্যয় মেটাতে জনগণকে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। জনজীবনের নিত‍্যদুর্ভোগ ও বাজার কন্ট্রোল না করে সংস্কারের নামে সময় সংক্ষেপ করে তবে জনগণের কাছে সংস্কার আগে নাকি সংসার আগে এই প্রশ্ন মুখ‍্য হয়ে উঠতে পারে।’

গুমের নির্দেশদাতা হাসিনা, প্রমাণ পেয়েছে কমিশন

প্রধান উপদেষ্টার কাছে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা। শেখ হাসিনার পাশাপাশি তারিক সিদ্দিক, জিয়াউল, মনিরুল ও হারুনের সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে।
দেশে গত ১৫ বছরে সংঘটিত বিভিন্ন গুমের ঘটনায় নির্দেশদাতা হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন।
গতকাল শনিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে দেওয়া কমিশনের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে গুমের ঘটনায় জড়িতদের বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুসহ র‌্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছে কমিশন।
এ বিষয়ে পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়। তাতে বলা হয়, ‘গুমের ঘটনায় নির্দেশদাতা হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। এ ছাড়া হাসিনা প্রশাসনের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গুমের ঘটনায় সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং পুলিশ কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।’
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশত্যাগ করেন। এর পরপর মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে তাঁকে জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত একাধিক হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের বিশেষ শাখার সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম ও ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁরা বিদেশে চলে গেছেন বলেও প্রচার রয়েছে।
গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন গতকাল বিকেল পাঁচটায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে ‘আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ’ শিরোনামে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনটি জমা দেয়। তাতে বলা হয়, গুমের ঘটনায় কমিশনে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৬৭৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৭৫৮ জনের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কমিশনের প্রধান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী জানান, গুমের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা কাজটি এমনভাবে করেছেন, যাতে এগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যায়। বিভিন্ন বাহিনী নিজেদের মধ্যে ভিকটিম (তুলে নেওয়া ব্যক্তি) বিনিময় করেছে এবং পরিকল্পনা ভিন্ন ভিন্নভাবে বাস্তবায়ন করেছে। তিনি আরও জানান, গুমের শিকার অনেকে এখনো শঙ্কামুক্ত হতে পারছেন না। তাঁদের ওপর এতটাই ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছিল যে তাঁরা এখনো ট্রমায় ভুগছেন।
‘প্রধান উপদেষ্টা তাঁর সর্বশেষ বক্তব্যে গুমের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও সঠিক বিচারের আশ্বাস দেওয়ার পর রিপোর্টের সংখ্যা অনেক বেড়েছে’ উল্লেখ করে কমিশনের সদস্যরা অধ্যাপক ইউনূসকে আয়নাঘর (গোপন বন্দিশালা) পরিদর্শনের অনুরোধ জানান। তাঁরা বলেন, ‘আপনি আয়নাঘর পরিদর্শন করলে ভিকটিমরা (ভুক্তভোগীরা) অভয় পেতে পারেন।’
প্রধান উপদেষ্টা তাঁদের এ অনুরোধে সম্মতি দিয়ে জানান, স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল, যা আয়নাঘর নামে পরিচিতি পেয়েছে, সেগুলো দেখতে যাবেন। তিনি কমিশনের সদস্যদের তাঁদের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং কাজটি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
কমিশনের প্রধান মইনুল ইসলাম চৌধুরী জানান, তাঁরা তিন মাস পর মার্চে আরও একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দেবেন। কাজটি শেষ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে কমপক্ষে আরও এক বছর সময় প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রধান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এবং কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, মানবাধিকারকর্মী নূর খান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাবিলা ইদ্রিস ও মানবাধিকারকর্মী সাজ্জাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদও উপস্থিত ছিলেন।
২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত গুমের ঘটনাগুলো তদন্ত করতে অন্তর্বর্তী সরকার গত ২৭ আগস্ট এই কমিশন গঠন করে। কমিশনে র‌্যাব, ডিজিএফআই, ডিবি, সিটিটিসি, সিআইডি, পুলিশসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, কমিশন এখন পর্যন্ত যে ৭৫৮ জনের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করেছে, তার মধ্যে ৭৩ শতাংশ ভুক্তভোগী ফিরে এসেছেন। বাকি ২৭ শতাংশ (অন্তত ২০৪ জন ব্যক্তি) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন ৩ অক্টোবর তাদের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে জানায়, শেখ হাসিনা সরকারের সময় জোরপূর্বক মানুষকে তুলে নিয়ে গোপন বন্দিশালায় গুম করে রাখার প্রমাণ মিলেছে। ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পাওয়া এ বন্দিশালার অবস্থান ডিজিএফআইয়ের সদর দপ্তরের চৌহদ্দির মধ্যে, যা একসময় জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
ওই সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের প্রধান মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এই কমিশন সুনির্দিষ্ট কিছু উদ্দেশ্যে সিভিল কোর্ট হিসেবে কাজ করবে। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁদের তলব করা হবে।
সরকারি সূত্রগুলো জানায়, কমিশন প্রাপ্ত অভিযোগ ও তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে শেখ হাসিনা সরকারের সময় দায়িত্ব পালনকারী সামরিক ও বেসামরিক অনেক কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে অনেকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাসহ উল্লিখিত ব্যক্তিদের বাইরে আর কার কার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে, সেটা এখনই প্রকাশ করতে রাজি নয় সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। কারণ, এর সঙ্গে ঘটনার শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত রয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যেতে পারেন।
গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন মায়ের ডাক-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম বলেন, এখন দরকার শেখ হাসিনাসহ গুমের ঘটনায় যাঁদের নাম এসেছে, দ্রæত তাঁদের বিচার নিশ্চিত করা। গুম হওয়া ব্যক্তিদের কারা তুলে নিলÑতাঁদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা। গুমের অনেক আলামত নষ্ট করা হয়েছে, আরও অনেক কিছু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনে কমিশনের সক্ষমতা বাড়িয়ে যত দ্রæত সম্ভব কার্যক্রম সম্পন্ন করে অপরাধীদের বিচার করতে হবে।

শিগগিরই জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী নির্বাচন হবে: ফখরুল

শিগগিরই জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা সবসময় আশাবাদী। ইতিমধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আমরা সহযোগিতা করছি। আশা করি, খুব দ্রæত জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা হবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করার সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, আজকে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। এই দিনে ১৯৭১ সালে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে পাক-হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের প্রথিতযশা সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, অধ্যাপক, বৈজ্ঞানিক এবং সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। ১৯৭১ সালে আমরা জাতির বরেণ্য ব্যক্তিদের হারিয়েছি। আমরা জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আজ সবাই মিলে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি এবং শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মাগফিরাত কামনা করছি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্যদিয়ে দেশ গড়ার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগের সম্পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে আমরা বাংলাদেশকে একটি সত্যিকার অর্থেই গণতান্ত্রিক, আধুনিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
এ সময় বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহŸায়ক আমিনুল ইসলাম, দক্ষিণের আহŸায়ক রফিকুল আলম মজনুসহ দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্ক ভালো রাখতে চাইলে হাসিনাকে ফেরত দিতে হবে: সারজিস আলম

জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কী হবে সেটি তাদের কাজের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। সম্পর্ক ভালো রাখতে চাইলে ভারতকে খুনি শেখ হাসিনাকে আশ্রয় না দিয়ে ফেরত দিতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ তার বিচার করবে।
শনিবার দুপুরে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘শহিদ পরিবারের পাশে বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেও ছেড়ে কথা বলবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সারজিস আলম বলেন, আমরা শুধু বাংলাদেশ পুলিশ নয়; সেনাবাহিনী, অন্তর্বর্তী সরকার সবাইকে একটি জিনিস আমাদের জায়গা থেকে অনুরোধ করতে চাই। আমরা কারও অন্ধ দালাল নই। আমরা ক্ষমতাপিপাসু নই। বিবেকবোধের জায়গায় যদি আমাদের মনে হয় যে, কেউ এই অভ্যুত্থানের স্পিরিটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন, এমনকি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসও যদি হন, আমরা তাকেও ছেড়ে কথা বলব না। তিনি বলেন, আমরা বিবেকবোধ বেচে দেওয়া ওই প্রজন্ম নয়। তাহলে আমরা আমাদের প্রতিবেশী বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি ভারতের দালালি করতাম। কিন্তু আমরা তা করিনি, করব না।
সারজিস বলেন, যারা গণহত্যায় সরাসরি জড়িত ছিল তাদের আমরা বিন্দুমাত্র ছাড় দেব না। পুলিশ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ পরিচয় যা-ই হোক, এই পরিচয়গুলো মুখ্য নয়। তার বিরুদ্ধে যদি ডকুমেন্ট থাকে তাহলে আমাদের কাছে তার একমাত্র পরিচয় একজন খুনি, হত্যাকারী। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এখনো আওয়ামী লীগের অনেক নেতা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সারজিস বলেন, চব্বিশের অভ্যুত্থানের চার মাস পেরিয়েছে। খুনি হাসিনার অন্যতম দোসর নাটোরের খুনি এমপি শিমুল আজও আমাদের সামনে রয়েছে। আজও পাবনার সাঈদ চেয়ারম্যান, এই বাংলাদেশে তার অস্তিত্ব রয়েছে। অথচ এই খুনিরা প্রকাশ্যে আমার ভাইদের পুড়িয়ে মেরেছে, গুলি করে হত্যা করেছে। তাহলে বাংলাদেশের ওই বিচারব্যবস্থা, পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যারা আছেন; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-বিচারব্যবস্থার উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন যে শহিদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে; আজকে আপনারা উপদেষ্টা, পুলিশ সুপার, আইজিপি, ডিআইজি, বিভাগীয় কমিশনার-তাদের রক্তের সঙ্গে এই বেইমানি কীভাবে সম্ভব?
শহিদদের লাশ তুলে ময়নাতদন্ত নয় : সারজিস আলম বলেন, চব্বিশের অভ্যুত্থানে যারা শহিদ হয়েছে তাদের হত্যা মামলার জন্য কারও লাশ উত্তোলন করা যাবে না। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিচারিক যে মন্ত্রণালয় রয়েছে, সংশ্লিষ্ট সবাইকে একটি কথা বলে দিতে চাই-যে ভাইয়ের জীবনের রক্তের ওপরে ওই চেয়ারে আপনারা বসে রয়েছেন, আপনারা চার মাস পর তাদের লাশ উত্তোলন করতে পারেন না।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারকে হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তাদের বিচারের জন্য যদি ডেডবডি কবর থেকে তোলা না হয়, তাহলে এই চব্বিশের অভ্যুত্থানে নতুন বাংলাদেশ আনতে গিয়ে যারা শহিদ হয়েছেন কেন তাদের লাশ উত্তোলন করতে হবে?
গণহত্যায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই গণহত্যার সঙ্গে আমরা পুরো বাংলাদেশ পুলিশকে জড়িয়ে দেব না। কিন্তু দায়সারা কথাও আমরা মেনে নেব না যে, ‘খুনি হাসিনা বলেছিল বলে গুলি করেছি।’ কতিপয় পুলিশ সদস্য সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল, তাদের কেন এখনো বিচার হচ্ছে না? আজকে আমরা দেখছি ওইসব পুলিশ নতুন করে পোস্টিংয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। খুনের শাস্তি কি শুধু বদলি?
সারজিস বলেন, পুলিশ সেই মামলাগুলো নিচ্ছে না, যে মামলাগুলোতে তাদের পুলিশ সদস্যদের নাম রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক সমঝোতা হচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ওই খুনি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগকে টাকার বিনিময়ে বাঁচানোর জন্য ব্যাকডোরে নেগোসিয়েশন করছে। এই যে মামলা বাণিজ্য, এতে রাজনৈতিক দল যেমন জড়িত রয়েছে, তেমনি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও জড়িত রয়েছে। নতুন বাংলাদেশেও পুলিশ সদস্য বিভিন্ন জায়গায় মামলা-বাণিজ্য করছে। তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের দালালি আপনাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করি না। আপনারা এটা করবেন না। পুলিশ দায়িত্বশীল হলে আগামী ৬ মাসেই বাংলাদেশ ঠিক হয়ে যাবে। অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের ৬৩টি শহিদ পরিবারের মধ্যে ৪৬ পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে চেক দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ, রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কয়েকজন সমন্বয়ক বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে শহিদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।