Home Blog Page 505

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

দোদুল্যমান উইসকনসিন অঙ্গরাজ্য জয় পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিদ্বন্দ্বী কমলা হ্যারিসকে ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছেন তিনি। ফলে দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউসের দখল পাচ্ছেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হতে প্রয়োজন হয় ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের। সেই ম্যাজিক ফিগার এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছেন ৭৮ বছর বয়সী ট্রাম্প। তিনি ম্যাজিক ফিগারের চেয়েও বেশি ভোট পেয়েছেন। রিপাবলিকান এই প্রার্থী ২৭৭টি এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস পেয়েছেন ২২৪টি ইলেকটোরাল ভোট। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা হয়নি। এজন্য কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।

কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হওয়ার আগেই ট্রাম্প ও তার সমর্থকরা দেশজুড়ে বিজয় উদযাপন শুরু করেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট এরই মধ্যেই নিজেকে ‘বিজয়ী’ ঘোষণা করেছেন।

এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, তিনি একটি ‘অসাধারণ বিজয়’ পেয়েছেন। তার দ্বিতীয় শাসনামল ‘আমেরিকার স্বর্ণযুগ’ হবে দাবি করে রিপাবলিকান নেতা আরো বলেন, এটি আমেরিকার মানুষের জন্য একটি অসাধারণ বিজয়, যা আমাদের আবার আমেরিকাকে মহান করতে সাহায্য করবে।


এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় সময় ৫ নভেম্বর ভোরে শুরু হয় ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এতে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভোট দিতে দেখা যায় ভোটারদের। ভোটের প্রাথমিক ফলাফল সামনে আসতে শুরু করলে ট্রাম্পের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই স্পষ্ট হতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে তার দলের ইলেকটোরাল ভোটের পাল্লা।

গত নির্বাচনে দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি ট্রাম্প। ফলাফল, নির্বাচনে হার। কিন্তু এবার সেসব রাজ্যে দারুণভাবে ‘কামব্যাক’ করেছেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। জয় ছিনিয়ে এনেছেন বেশিরভাগ ব্যাটেলগ্রাউন্ডে।

পরাজয় স্বীকার করে আবেগপূর্ণ বক্তৃতা কমলার

আবেগপূর্ণ বক্তৃতার মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন কমলা হ্যারিস। তবে দেশকে নিয়ে তাদের যে স্বপ্ন রয়েছে তার জন্য লড়াই অব্যাহত রাখতে তার সমর্থকদের উৎসাহিত করেছেন। ডেমোক্র্যাটিক ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, এই লড়াই চলতে থাকবে ‘নির্বাচনী বুথে, আদালতে এবং জনগণের চত্বরে।’

তিনি যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষা নিয়েছেন এবং যেখানে তিনি আশা করেছিলেন তার বিজয়ের ভাষণ দেবেন, সেই হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া নির্বাচন-পরবর্তী ভাষণে তিনি বলেন, ‘কখনো কখনো লড়াইয়ে সময় লাগে। তার অর্থ এ নয় যে আমরা জয়লাভ করবো না।’

কমলা হ্যারিসের এই পরিষ্কার পরাজয় এমন আশাকে ধূলিস্মাৎ করে দিয়েছে যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পুনর্নিবাচনের প্রচেষ্টা থেমে যাওয়ার পর তিনি যখন নিজেকে এই শীর্ষ পদের প্রার্থী করেন, তখন মনে করা হয়েছিল যে তিনি ডেমোক্র্যাটদের রক্ষা করবেন।

তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রতিটি রাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের তুলনায় পিছিয়ে ছিলেন। তিনি ট্রাম্পকে দেশের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিরাজমান বিপদ বলে বর্ণনা করেন। তবে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের পদের জন্য তার তিনটি নির্বাচনী প্রচার অভিযানে এই প্রথম জনগণের প্রদত্ত প্রত্যক্ষ ভোটেও এগিয়ে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দু’টি অভিশংসন, গুরুতর অপরাধ এবং এর আগের নির্বাচনে তার পরাজয়ের ফল পাল্টানোর প্রচেষ্টার জন্য তিনি অভিযুক্ত থাকলেও জয়ী হন।

ট্রাম্প সম্পর্কে কমলার কড়া সতর্কতা সত্ত্বেও বুধবারের বক্তব্যে তিনি ছিলেন আশাবাদী। তিনি তার সমর্থকদের বলেন, ‘দুঃখ পাওয়া এবং হতাশ হওয়াতো হতেই পারে কিন্তু অনুগ্রহ করে জানবেন সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।’ এই সময়ে তার সমর্থকদের কেউ কেউ চোখের পানি মুছছিলেন।

হ্যারিসের সাথে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী টিম ওয়ালজ তার পরিবারসহ দর্শকদের মাঝে ছিলেন। তাছাড়া হাউসের সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলসি এবং বারবারা লিও ছিলেন। তারা উভয়ই হ্যারিসের নিজের রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা।

কমলা তার ভাষণের আগে ট্রাম্পের বিজয়ের জন্য তিনি ট্রাম্পকে ফোন করে অভিনন্দন জানান। তিনি সমবেত দর্শকদের বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকব।’

ভোটদাতারা আমেরিকান গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগকে নাকচ করে দিয়ে সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টকে হোয়াইট হাউসে ফেরত পাঠাচ্ছেন।

বাইডেন নির্বাচনের ফলাফল বৃহস্পতিবার ঘোষণা করবেন বলে কথা আছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বুধবার তিনি কমলা হ্যারিস ও ট্রাম্পের সাথে কথা বলেছেন এবং নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে তিনি তার সাথে দেখা করতে বলেছেন।

বাইডেন ট্রাম্পের সাথে ২৭ জুনের বিতর্কে বার বার থমকে যাওয়ার পর তিনি ভোটদাতাদের এ কথা আর বোঝাতে পারেননি যে ৮৬ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্টের কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। আর কমলা হ্যারিস তখনই ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী হন।

তবে তিনিও প্রথম থেকেই নানা অসুবিধার মুখে পড়েন। তিনি বাইডেনের রাজনৈতিক তৎপরতার উত্তরাধিকার হয়ে যান। যদিও তিনি নিজের সাথে বাইডেনের অর্থবহ পার্থক্য দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এই প্রতিযোগিতায় কমলা হ্যারিস টিকতে পারেননি।
সূত্র : ভিওএ

শমী কায়সারের ৭ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হত্যাচেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় অভিনেত্রী শমী কায়সারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করবে পুলিশ।

বুধবার দুপুরের পর তাকে ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে তোলার কথা রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে শমী কায়সারকে গ্রেফতার করে উত্তরা পশ্চিম ও পূর্ব থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) রওনক জাহান।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় একজন আহত হওয়ার ঘটনায় উত্তরা পূর্ব থানায় শমী কায়সারের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে উত্তরা পূর্ব থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মহিবুল্লাহ বলেন, ‘ইশতিয়াক মাহমুদ নামের একজন ভুক্তভোগী শমী কায়সারের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন। ২৯ অক্টোবর মামলাটি রুজু হয়। মামলা নম্বর ৯। এই মামলায় শমী কায়সারকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।’

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই গ্রেফতার হচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। সেই ধারাবাহিকতায় গ্রেফতার হন শমী কায়সার। তিনি আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি দেশের ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সভাপতি ছিলেন। গত ১৪ আগস্ট ই-ক্যাব থেকে পদত্যাগ করেন শমী কায়সার।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বিভিন্ন মন্তব্য করে বিতর্কিত হয়েছিলেন শমী কায়সার। তাছাড়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগে শমী কায়সারের বিরুদ্ধে এক শ’ কোটি টাকার মানহানি মামলা হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর মাগুরার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোহাম্মদ রেজওয়ান কবির। আদালত মামলাটি ঝিনাইদহ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

শমী কায়সারের বিরুদ্ধে সৈয়দ হাসান মাহমুদ নামে বিএনপির এক কর্মীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা রয়েছে। ভুক্তভোগী নিজেই গত ৯ অক্টোবর এই মামলা করেন। মামলায় শমী কায়সার ছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অভিনেত্রী তারানা হালিম, কণ্ঠশিল্পী মমতাজসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়।

আমির হোসেন আমু ৬ দিনের রিমান্ডে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর নিউমার্কেট থানা এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শাহিন রেজা আমুর রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে সকালে আওয়ামী লীগের এই নেতাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন।

অন্যদিকে আমুর আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গতকাল বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে আমুকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই বিকালে নিউমার্কেট থানাধীন নীলক্ষেত এলাকায় পুলিশের গুলিতে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ মারা যান। এ ঘটনায় তার শ্যালক আব্দুর রব নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনকে আসামি করা হয়।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস : জিয়ার মাজারে বিএনপির শ্রদ্ধা

‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।

আজ বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, ডা এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, আব্দুস সালাম আজাদকে নিয়ে শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এর আগে বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের এবং ঢাকা মহানগর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ব্যানার ও ফেস্টুনসহ মিছিল নিয়ে আসতে থাকেন। এ সময় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন, ‘লাল সবুজের পতাকায়, জিয়া তোমায় দেখা যায়’, ‘বাংলাদেশের অপর নাম জিয়াউর রহমান’, ‘স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া লও লও, লও সালাম’, ইত্যাদি।

পরে নেতাকর্মীরা মরহুম নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেয়।

আজ ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবস। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এ দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭৫ সালের এদিনে সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব ঘটেছিল, যা দেশের তৎকালীন রাজনীতির গতিধারা পাল্টে দিয়ে দেশ ও জাতিকে নতুন পরিচয়ে অভিষিক্ত করেছিল।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর সেনাপ্রধানের দায়িত্বে আসেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। এরপর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে একটি অভ্যুত্থানে গৃহবন্দি হন জিয়া। পরে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পাল্টা অভ্যুত্থানে ঢাকা সেনানিবাসের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন তিনি। এরপরই চলে আসেন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি জিয়ার নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রভাবমুক্ত হয়ে শক্তিশালী সত্তা লাভ করে। গণতন্ত্র অর্গলমুক্ত হয়ে অগ্রগতির পথে এগিয়ে যায়, এই দিন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়। মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে আসে।

আওয়ামী শাসনামলে দিবসটি স্বাচ্ছন্দ্যে উদযাপন করতে পারেনি বিএনপি। স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে সমাদৃত জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে বরং ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার নানা চেষ্টা হয়েছে। এবার দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। ১০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

আজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

আজ মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আগামী চার বছর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতিসহ বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণে কে প্রভাব বিস্তার করবে এ নিয়ে বিশ্ববাসীর নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে।

কাল পর্যন্ত দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোতে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন দুই প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এদিকে রোববার (৩ নভেম্বর) মিশিগানে প্রচারণার সময় গাজায় যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কমলা হ্যারিস। আরব আমেরিকানদের ভোটারদের সমর্থন পেতেই এই ধরনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

কমলা বলেন, গাজায় মৃত্যু ও ধ্বংসের মাত্রা এবং লেবাননে বেসামরিক হতাহত ও বাস্তুচ্যুত পরিস্থিতির কারণে এ বছরটি কঠিন ছিল। ক্ষমতায় এলে গাজায় যুদ্ধ বন্ধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। গাজা যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও ইসরাইলের নিরাপত্তার কথাও উঠে আসে কমলার বক্তব্যে।

একই দিন পেনসিলভানিয়া ও নর্থ ক্যারোলিনায় প্রচারণায় অংশ নেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। জো বাইডেনের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, ব্যর্থতার জন্য ডেমোক্র্যাটদের লজ্জিত হওয়া উচিত। রিপাবলিকান পার্টি জিতলে আগামী চার বছর স্বর্ণযুগে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

উল্লেখ্য, প্রাথমিকভাবে এই নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

কিন্তু গত জুলাইয়ে বাইডেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে ভাইস-প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল আসলে কী হবে? মার্কিন নাগরিকরা কি প্রথমবারের মতো একজন নারী প্রেসিডেন্ট বেছে নিবেন, নাকি ডেমোক্রেটিক প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসাবেন?

নিলামে উঠছে এস আলম গ্রুপের বন্ধকি সম্পত্তি

এস আলম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেডের’ খেলাপি ঋণের ১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা আদায়ে প্রতিষ্ঠানটির জামানতের সম্পত্তি নিলামের ঘোষণা দিয়েছে জনতা ব্যাংক।

গ্রুপটির চট্টগ্রাম ও গাজীপুরে জামানত জমি বিক্রি করে পাওনার এক-পঞ্চমাংশ আদায়ের আশা করছে জনতা ব্যাংক।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে এস আলম গ্রুপ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পাচার করেছে বলে অভিযোগ ওঠার মধ্যে ব্যবসায়িক গ্রুপটির বন্ধকি সম্পদ প্রথম নিলামে তুলেছে কোনো ব্যাংক।

ব্যাংকটি ১ নভেম্বর সংবাদপত্রে ২০ নভেম্বর নিলামের ঘোষণা দিয়েছে এবং আগ্রহীদেরকে তাদের দরপত্র জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম ও গাজীপুরে এক হাজার ৮৬০ শতক জমির বন্ধকি সম্পদের মূল্য সর্বোচ্চ ৩৫৮ কোটি টাকা, যা মোট পাওনা অর্থের এক পঞ্চমাংশেরও কম হবে।

এই মূল্যায়ন বকেয়া পরিমাণের চেয়ে প্রায় পাঁচগুণ কম। এ সম্পত্তি বিক্রি করে খেলাপি ঋণ পুরোপুরি আদায় করা সম্ভব নয়। বকেয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আরো আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে।

ঋণ আদালত আইনের ১২(৩) ধারা অনুযায়ী, ব্যাংক মামলা দায়েরের আগেই জামানতের সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা আদায় করা যেতে পারে।

২০২১ সালে বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা লঙ্ঘন ও ঋণসীমা অতিক্রম করে অতিরিক্ত ঋণ নিয়েছে।

এস আলম গ্রুপের ওয়েবসাইটে বলা হয়, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন শিল্পের কাঁচামাল, বাণিজ্যিক পণ্য ও নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসা পরিচালনা করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালে গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন প্রাথমিকভাবে সাধারণ বীমা ভবনে অবস্থিত জনতা ব্যাংকের চট্টগ্রাম করপোরেট শাখা থেকে ৬৫০ কোটি টাকা ঋণ নেয়।

২০২১ সাল পর্যন্ত এই ঋণ মোট ১ হাজার ৭০ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে পিএডি (পেমেন্ট অ্যাগেইনস্ট ডকুমেন্ট) ঋণ ৬১৭ কোটি ৪৭ লাখ, এলটিআর (ট্রাস্ট রিসিট) ঋণ ২২৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং সিসি হাইপো লোন ২২৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সুদসহ ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকায়।

সূত্র : ইউএনবি

এক সপ্তাহের মধ্যে বাতিল হবে সাইবার নিরাপত্তা আইন : নাহিদ

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা মো: নাহিদ ইসলাম বলেছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল হবে। এই আইনের অধীনে যত মামলা হয়েছে সব মামলাও বাতিল হবে। পাশাপাশি মত প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করে এমন সব আইন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে সেগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সোমবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অফিসকক্ষে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন‌ অ্যারাল্ড গুলব্রান্ডসেনের সাথে সাক্ষাতের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ বলেন, প্রয়োজনীয় সব সংস্কার শেষে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। অন্তর্বর্তী সরকার দেশকে পুনর্গঠন করার কাজ শুরু করেছে।

রাষ্ট্রদূত হাকোন‌ অ্যারাল্ড গুলব্রান্ডসেন বলেন, নরওয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পাশে থেকে নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠনে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

রাষ্ট্রদূত সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা নিরাপদে আছে। সবশেষ পূজায় তাদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল, ছুটি বাড়ানো হয়েছিল। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার সংখ্যালঘুদের নিয়ে রাজনৈতিক খেলায় মেতে উঠেছিল। তারা সংখ্যালঘুদের ভোটব্যাংক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অথচ তাদের আমলেই সংখ্যালঘু নির্যাতনের বড় বড় ঘটনা ঘটলেও তারা বিচার করেনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বহির্বিশ্বে নানারকম নেতিবাচক প্রচারণা করা হচ্ছে, এ বিষয়ে সত্য ঘটনা প্রচার করতে নরওয়ের সহযোগিতা কামনা করেন নাহিদ ইসলাম।

এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো: মুশফিকুর রহমান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, নরওয়ের ডেপুটি হেড অব মিশন মারিয়ান রাবে ন্যাভেলসউরডসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আবারো বিধ্বস্ত ভারতের মিগ-২৯

উত্তরপ্রদেশের আগ্রার কাছে সোমবার দুপুরে ভেঙে পড়ল ভারতীয় বিমানবাহিনীর মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান। গত দু’মাসে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার দুর্ঘটনা। সেপ্টেম্বরে রাজস্থানের পর এবার উত্তরপ্রদেশে। দুর্ঘটনার আগেই বিমান থেকে নিরাপদে বেরিয়ে গিয়েছিলেন পাইলট। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে যুদ্ধবিমানটি পাঞ্জাবের আদমপুরে বিমানবাহিনী ঘাঁটি থেকে উড়েছিল এবং আগ্রার দিকে যাচ্ছিল। ওই সময়েই আগ্রার কাছে সোনগা গ্রামে ভেঙে পড়ে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান।

সতর্ক পাইলট বিমানটি ত্যাগ করার আগে গ্রামের বসতি এলাকা থেকে দূরে একটি ফাঁকা মাঠের দিকে সেটি এগিয়ে নিয়ে যান। ওই মাঠেই ভেঙে পড়ে বিমানটি। গ্রামের বসতিপূর্ণ এলাকায় বিমানটি ভেঙে পড়লে সাধারণ মানুষের জখম হওয়া বা প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। পাইলটের দক্ষতায় তা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

যুদ্ধবিমানটি মাঠে আছড়ে পড়তেই আগুন ধরে যায় তাতে। কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রাথমিক অনুমান, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। বাহিনীর তরফে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রুটিন প্রশিক্ষণ চলার সময়েই এই গোলযোগ হয়। পাইলটের দক্ষতার কারণে ফাঁকা জায়গায় বিমানটি আছড়ে পড়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেছে বিমানবাহিনী। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে একটি অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানও শুরু করা হয়েছে।

এর আগে ২ সেপ্টেম্বরও একটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে রাজস্থানের বারমেরের কাছে আছড়ে পড়েছিল বিমানটি। ওইবারও বিমান মাটিতে আছড়ে পড়ার পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, রুশ প্রযুক্তিতে তৈরি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানে আধুনিকীকরণও করা হয়েছে। মিগ-২৯ এখন অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম এবং একই সাথে বিভিন্ন দিকে আক্রমণ শানাতে দক্ষ।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

‘মাইনাস-টু’ নিয়ে রাজনীতিতে হঠাৎ আবার আলোচনা কেন

বাংলাদেশে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘মাইনাস-২ ফর্মুলা’র বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করার পর বিষয়টি নিয়ে দলটির ভেতরে ও বাইরে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘বিএনপি বা এর শীর্ষ নেতৃত্বকে’ রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার কোনো ইঙ্গিত দলটি পাচ্ছে কিনা সেই প্রশ্নও আলোচিত হচ্ছে।

আলমগীর অবশ্য বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘বিরাজনীতিকরণের বিষয়ে সতর্ক’ করতে গিয়ে তিনি ‘মাইনাস-টু’ ফর্মুলার উল্লেখ করেছেন। তবে এখন দেশে ‘বিরাজনীতিকরণের’ চেষ্টা হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের তিনি সরাসরি কোনো জবাব দেননি।

তবে সরকারের একজন উপদেষ্টা সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, মাইনাস-টু নিয়ে কোনো চিন্তা বর্তমান সরকারের নেই।

অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রধান সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, তারা সবাইকে নিয়েই রাজনীতি করতে চান।

তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে বাদ দেয়ার প্রশ্নই আসে না। এখন বিএনপি কেন এমন ভাবছে, তা আমাদের জানা নেই।’

একজন বিশ্লেষক বলছেন, নির্বাচনকে দৃশ্যত কম গুরুত্ব দেয়া আর বিএনপিকে ইঙ্গিত করে আসা বিভিন্ন বক্তব্যের কারণেই হয়তো দলটির মধ্যে মাইনাস-টু ফর্মুলার বিষয়টি সামনে এসেছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এসে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল। তখন দুই প্রধান নেত্রী খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে জেলে নেয়ার পর ‘মাইনাস-টু ফর্মুলা’র আলোচনা জোরদার হয়েছিল।

তখন তাদের দলসহ অনেকেই অভিযোগ করেছিল যে ‘দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে’- যা পরে ‘মাইনাস-টু ফর্মুলা’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

এবারের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ও এর নেত্রী শেখ হাসিনা উৎখাত হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এরপর থেকে বিএনপি দ্রুততম সময়ে নির্বাচন দাবি করে আসছে। তবে সরকারের দিক থেকে বারবারই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর। যদিও এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য গঠিত সার্চ কমিটি তাদের কাজ শুরু করেছে।

অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের অনেকেই আকারে ইঙ্গিতে বলার চেষ্টা করছেন যে ‘আগে সংস্কার, তারপর নির্বাচন’। পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে সংস্কারের জন্য গঠিত কমিশনগুলোও কাজ করতে শুরু করেছে, যার মধ্যে সংবিধান, পুলিশ ও প্রশাসন সংস্কারের মতো কমিশন রয়েছে।

মাইনাস-টু বিষয়ে কী বলেছেন বিএনপি মহাসচিব
সোমবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২০০৭ সালে ১/১১-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় বিরাজনীতিকরণে এবং মাইনাস-টু ফর্মুলা বাস্তবায়নের ব্যর্থ চেষ্টা হয়েছিল। সেই পথ অনুসরণ করার কথা চিন্তাও করা উচিত নয়। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিএনপিকে কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বাদ দেয়ার চেষ্টা করবেন না। কারণ, বাংলাদেশের জনগণ কখনোই তা মেনে নেবে না। আওয়ামী লীগ বিএনপিকে নানাভাবে ভাঙার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে, ভবিষ্যতেও পারবে না।’

আলমগীর বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টা অপ্রত্যাশিত ও অযাচিত মন্তব্য করে বলেছেন, ‘রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় যেতে অস্থির।‘ এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। তার মতো কোনো ব্যক্তি এ ধরনের মন্তব্য করবেন তা আমরা আশা করি না।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আশা করিনি, এ মাপের মানুষ এ ধরনের কথা বলবেন। আমরা রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য উসখুস করি না। আমরা বাংলাদেশকে হাসিনামুক্ত করার জন্য কাজ করেছি। জীবন দিয়েছি, প্রাণ দিয়েছি, এখন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা দ্রুত নির্বাচন দাবি করছি।’

দেশে অতি দ্রুত নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দ্রুত নির্বাচনে যত দেরি করবেন, তত হাসিনারা আবার ফিরে আসবেন। তাই এখনো বলছি, আবারো বলছি, অতি দ্রুত নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করুন। জঞ্জাল যা আছে, তা সাফ করে ফেলুন।’

প্রসঙ্গত, সোমবার সরকারের একজন উপদেষ্টা সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘আমাদের হাতে সময় খুবই কম। কম সময়ে কতটুকু কাজ করতে পারব জানি না। রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় যেতে উসখুস করছেন। আমিও আমার শিক্ষকতা পেশায় ফিরে যেতে চাই।’

সরকারের দিক থেকে যা বলা হচ্ছে
বিএনপির মহাসচিবের বক্তব্য গণমাধ্যমে আসার পর আজ সরকারের দু’জন উপদেষ্টা বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দিয়েছেন।

উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের বলেছেন, নির্বাচনকে বিএনপি অগ্রাধিকার দেবে সেটাই স্বাভাবিক এবং সরকারেরও চূড়ান্ত লক্ষ্য সেটি। তবে নির্বাচনের আগে কোথাও কতটুকু সংস্কার দরকার, সেদিকেও সরকারকে মনোযোগ দিতে হচ্ছে।’

আরেকজন উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, মাইনাস-টু কোনোভাবেই বর্তমান সরকারের এজেন্ডা না। এ ধরনের কথা বলা অহেতুক তর্ক, অহেতুক সমস্যা ও জনমনে আশঙ্কা সৃষ্টি করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো চিন্তায় এমন কিছু নেই।

মাইনাস টু প্রসঙ্গ এলো কেন
মাইনাস-টু বিষয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘আমরা আসলে বিরাজনীতিকরণের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করছি। আমরা সবসময় বলে আসছি, সংস্কারের পাশাপাশি নির্বাচনের জন্য যাতে দ্রুত জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী গণতন্ত্রে উত্তরণে সম্ভব হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘অনেকে নানা ধরনের কথা বলছেন বলে আমরা শুনছি। সংবিধান সংস্কারসহ আরো কিছু বিষয়ে আমরা বলেছি যে এগুলো জনগণের নির্বাচিত সংসদ বা জনপ্রতিনিধিদের কাজ। সে কারণেই আমরা জরুরি সংস্কারের পাশাপাশি নির্বাচনের কথা বলছি।

মাইনাস টু অর্থাৎ বিএনপি চেয়ারপার্সন বা শীর্ষ নেতৃত্বকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে নেয়ার কোনো আশঙ্কা বিএনপি করছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, আমরা সেটি বলছি না। আমরা বিরাজনীতিকরণের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করার কথা বলছি। বিরাজনীতিকরণের চিন্তা জাতির জন্য ভালো ফল আগেও আনেনি, ভবিষ্যতেও আনবে না।’

ক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়ার পর থেকে গত তিন মাস ধরে আওয়ামী লীগের কোনো কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। দলটির প্রধান শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বেশিরভাগ নেতাই বিভিন্ন দেশে পালিয়ে গেছেন বা লুকিয়ে রয়েছেন। এর মধ্যেই ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শেখ হাসিনাসহ দলটির অনেক নেতার বিরুদ্ধে এর মধ্যেই শতাধিক মামলা হয়েছে। সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে দলের প্রধান শেখ হাসিনার বিচারের প্রক্রিয়া চলছে।

গত মাসে শেষের দিকে আওয়ামী লীগকে ‘একটি ফ্যাসিস্ট দল’ বর্ণনা করে তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘যদি আওয়ামী লীগ ফিরে আসে, তাহলে গণ-অভ্যুত্থান ও শহীদদের সাথে প্রতারণা করা হবে। আমাদের জীবন থাকতে তা হতে দেয়া হবে না।’

ফলে কার্যত এখন বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগ ও দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনা বাইরে চলে গেছেন।

এখন বিএনপির মধ্যেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে তাদেরকেও রাজনীতির মাঠ থেকে বাইরে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা হতে পারে।

বিএনপির একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম দ্রুতগতিতে শুরু না করে রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের চেষ্টা, সরকার ঘনিষ্ঠদের কিংস পার্টি গঠনের তৎপরতা, সংবিধান সংস্কার নিয়ে অতিমাত্রায় আগ্রহ এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে থাকা আইনি বাধা অপসারণে ধীরগতিসহ কিছু বিষয় নিয়ে দলটির নেতৃত্ব কিছুটা অসন্তুষ্ট।

এছাড়া বিএনপিকে ইঙ্গিত করে সরকারের কিছু উপদেষ্টা ও সরকার ঘনিষ্ঠ ছাত্রনেতাদের কয়েকজনের বক্তব্যও দলটির নেতাকর্মীদের ক্ষুব্ধ করেছে। তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, ‘বিএনপিকে উপেক্ষা করার একটা’ ইঙ্গিত ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, তারা মনে করেন বাংলাদেশের বাস্তবতায় বিএনপি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল এবং সে কারণে যা কিছু করার সেটা বিএনপিকে আস্থায় নিয়েই করতে হবে-এটাই বিএনপি মহাসচিব বোঝাতে চেয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, কিন্তু কারো কারো মন্তব্য বা কোনো কোনো মহল এমন কিছুর আভাস দিচ্ছেন যে মনে হচ্ছে তারা বিএনপিকে উপেক্ষা করতে চাইছেন। মনে রাখতে হবে শেখ হাসিনা অনেক চেষ্টা করেও খালেদা জিয়াকে মাইনাস করতে পারেনি। সেখানে বড় দল হিসেবে এখনো বিএনপিকে উপেক্ষা করা যাবে না।

খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে রাখা বা তারেক রহমানকে দেশে ফিরতে দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা তৈরি করে– এমন কোনো বিষয় আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমন দুরভিসন্ধি কেউ পোষণ করতে পারেন। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হবে না। বরং আমরা পরিষ্কার করে বলে দিতে পারি বাংলাদেশে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে বাইপাস করে কিছু হবে না।’

প্রসঙ্গত, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার চলতি সপ্তাহেই চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কবে নাগাদ দেশে ফিরতে পারবেন তাও এখনো দলটি নিশ্চিত হতে পারেনি।

কিছু মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেলেও সব আইনি বাধা অপসারণে প্রশাসনিক ধীরগতিতে দলের অনেকের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের কারো কারো বক্তৃতাও বিএনপিকে ইঙ্গিত করে দেয়া হয়েছে বলে মনে করছেন দলের নেতারা।

আবার বিএনপির বিরোধিতা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়ে ছাত্র সমন্বয়কদের কারো কারো বক্তৃতার ‘ভাষাও’ দলটির সিনিয়র নেতাদের ভালো লাগেনি।

এর মধ্যেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সারাদেশে কমিটি গঠনের যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তাকে ‘কিংস পার্টি’ গঠনের প্রক্রিয়া বলেই মনে করছেন বিএনপির অনেক নেতা। তাদের কারো কারো ধারণা, সরকারি সমর্থন নিয়ে এ ধরনের দল হলে সেটি পরিস্থিতিকে আরো ঘোলাটে করে তুলবে।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের একজন সদস্য বলছিলেন, ‘একটা ঘোলাটে অবস্থা দেখা যাচ্ছে। এর লক্ষ্য যদি হয় বিএনপি যেন ক্ষমতায় আসতে না পরে- সেটি নিশ্চিত করা, তাহলে এমন অবাস্তব চিন্তা হবে দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।’

যদিও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রধান সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, তারা রাজনীতি থেকে কাউকে বাদ দিতে চান না।

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে রাজনীতি করতে চাই। বিএনপিকে বাদ দেয়ার তো প্রশ্নই নেই। সরকারও সবার সাথে কথা বলছে। সবার আগে আলোচনায় বিএনপিকেই ডাকা হচ্ছে। বরং সরকার বিএনপিকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। এখন বিএনপি কেন এমন ভাবছে তা আমাদের জানা নেই।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মামুন আল মোস্তফা বলছেন, সরকার কিংবা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত অনেকে নির্বাচনকে কম গুরুত্ব দিয়ে সংস্কারের দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়ার কারণেই বিএনপির মধ্যে কথিত ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলার আলোচনা এসেছে বলে মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেন সরকারও প্রথমে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেটি মাইনাস টু ফর্মুলায় রূপ নেয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এবার গণঅভ্যুত্থানে বড় একটি দল উৎখাত হয়ে গেছে। বিএনপি হয়তো ভাবছে সংস্কারের নামে নির্বাচন প্রলম্বিত করে বা কিংস পার্টির মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায় আসা বিলম্বিত করার চেষ্টা হচ্ছে। আমার ধারণা, এ কারণেই তারা মাইনাস টু ফর্মুলার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।’

তাছাড়া বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে সরকার কিংবা সরকার ঘনিষ্ঠ কারো কারো বক্তৃতাও দলটিকে উদ্বিগ্ন করতে পারে বলে মনে করেন মোস্তফা।

সূত্র : বিবিসি