Home Blog Page 51

ইরানে হামলা চালানো থেকে ট্রাম্পকে বিরত রাখার প্রস্তাব সিনেটে পাস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-সংক্রান্ত সামরিক ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের লক্ষ্যে দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে একটি বিল পাস হয়েছে। বিলটিতে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান চালানোর আগে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে অথবা চলমান সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সিনেটে বিলটি ৫০-৪৮ ভোটে পাস হয়। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে প্রতিনিধি পরিষদে এটি ২১৫-২০৮ ভোটে অনুমোদিত হয়েছিল। পরে চূড়ান্ত বিবেচনার জন্য বিলটি সিনেটে পাঠানো হয়। সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও দলটির চার সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে বিলটির পক্ষে ভোট দেন। তারা হলেন লুইজিয়ানার বিল ক্যাসিদি, আলাস্কার লিসা মুরকোওস্কি, মেইনের সুসান কলিন্স এবং কেন্টাকির র্যান্ড পল। অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর মিচ ম্যাককনেল ও ডেভ ম্যাককরমিক ভোটদানে বিরত ছিলেন।

ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে শুধু পেনসিলভেনিয়ার সিনেটর জন ফেটারম্যান বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন। তবে সিনেটে বিলটি পাস হলেও এর মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ পুরোপুরি ঠেকানো যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিলটিতে ভেটো দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ভেটো অকার্যকর করতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

ভোটাভুটির পর সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নেতা চাক শুমার বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করতে এটি ছিল সিনেটে তাদের দশম প্রচেষ্টা। অবশেষে ‘যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত’ প্রস্তাবটি পাস হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কথা বলে এলেও তার নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ, অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। বর্তমানে যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্টরা। সেই সমঝোতার ভিত্তিতে সুইজারল্যান্ডে দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছে। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

জনশক্তি রপ্তানি শিগগির খুলছে না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বিদ্যমান সমঝোতার মেয়াদ শেষ এ বছরে

বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার চালু করতে চলমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় এ প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে। দ্রুত সংশোধন করা না হলে নতুন করে সমঝোতা স্মারক সই করতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ হতে পারে।
অবশ্য দুই দেশই মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সাশ্রয়ী করতে একমত হয়েছে। এতে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমে আসবে। তবে এসব প্রক্রিয়া শেষ করে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে সময় লাগবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত রোববার মালয়েশিয়া সফরে যান। পরদিন সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) গঠনের কথা বলা হয়। ওয়ার্কিং গ্রুপ বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) পর্যালোচনা করবে এবং বর্তমান বাস্তবতা ও দুই দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রণয়নের ভিত্তি তৈরি করবে। তবে দ্রুত শ্রমবাজার খুলতে বাংলাদেশ চায় সমঝোতা স্মারকের সংশোধন।
জনশক্তি রপ্তানিকারকরা সমকালকে বলেন, নতুন করে সমঝোতা স্মারক সই করার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ। চলমান সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে দুই বছর ধরে আলোচনা করতে হয়েছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে পাঁচ বছরের জন্য তা স্বাক্ষরিত হয়।

যদিও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গতকাল মঙ্গলবার সংসদে জানিয়েছেন, সরকার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে কাজ করছে। আশা করা যায়, দ্রুত দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে।

প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর সমকালকে বলেন, ‘মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।’

গত সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমান বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানান। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা এবং যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে। আমরা একমত হয়েছি, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সাশ্রয়ী হতে হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং কর্মীদের খরচ হ্রাস পায়।’

বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে প্রতারণা, প্রতিশ্রুত চাকরি ও বেতন না দেওয়া এবং অমানবিক পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করায় মালয়েশিয়া বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনার মুখে রয়েছে। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশি কর্মীদের শোষণ, তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ বা শুধু কোম্পানির লাভের জন্য তাদের ব্যবহার করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া ন্যায্য ও মানবিক করা এবং শ্রমিক ও তাদের পরিবারের স্বার্থ রক্ষায় জোর দিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ থাকে বেশি
জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক সংশোধন করে দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা সম্ভব। নতুন সমঝোতা স্মারক সই করতে সময় লাগবে। সে ক্ষেত্রে শিগগিরই কর্মী পাঠানো যাবে না।

বায়রার সাবেক মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান গুরুত্ব দিচ্ছেন শ্রমবাজার যেন টেকসই হয়। তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশক থেকেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য যতদিন খোলা থাকে; বন্ধ থাকে এর চেয়ে বেশি। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো ২০০৯ সালে বন্ধ হয়। এরপর ২০১৫ সালে সমঝোতা স্মারক সই হলে ২০১৬ সালে কর্মী পাঠানো শুরু হয়। ২০১৮ সালে কর্মী পাঠানো আবার বন্ধ হয়ে যায়। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে আবার সমঝোতা স্মারক হয়। ২০২২ সালের আগস্টে কর্মী পাঠানো শুরু হয়ে ২০২৪ সালের মে মাসে আবার বন্ধ হয়। কর্মী পাঠানো এখনও বন্ধ আছে। তিনি বলেন, সর্বশেষ সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর মাসে শেষ হবে। তাই এমন একটি পদ্ধতি নির্ধারণ করা হোক, যখন অন্যান্য দেশ থেকে মালয়েশিয়া কর্মী নেবে, তখন বাংলাদেশ থেকেও নিয়োগ দেবে।
জনশক্তি ব্যবসায়ীরা জানান, ১৪টি দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করে মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ থাকলেও বাকি ১৩ দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ চালু থাকে। শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কখনও খোলা, কখনও বন্ধ থাকে। এর কারণ দুদেশের জনশক্তি রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী ও আমলাদের সিন্ডিকেট।

২০২১ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতার স্মারকের বর্ধিতাংশের ৫, ৬ ও ৭ ধারা অনুযায়ী, বাংলাদেশ সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়ায় পাঠাবে। মালয়েশিয়া সরকার সেখান থেকে ঠিক করবে কোন কোন এজেন্সি কর্মী পাঠাতে পারবে।

২০২২ সালে বাংলাদেশ দেড় হাজার রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা দিয়েছিল। মালয়েশিয়ার তৎকালীন সরকার ২৫ এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর কাজ দিয়েছিল। কীসের ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করা হয়েছিল, তা কখনও ব্যাখ্যা করেনি তারা। এই ২৫ প্রতিষ্ঠানকে তখন ‘সিন্ডিকেট’ বলা শুরু হয়। ২০১৫ সালেও সিন্ডিকেট নামে পরিচিতি পাওয়া ১০ এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর কাজ দেওয়া হয়। তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টির এমপি, মন্ত্রী, নেতারা ছিলেন অধিকাংশ এজেন্সির মালিক।

এবার কী হবে
শ্রমবাজার খোলার আলোচনা করতে আগামী মাসে মালয়েশিয়ার মানব সম্পদমন্ত্রী আর. রামানান ঢাকা সফরে আসতে পারেন। তিনি সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে শোষণ, বৈষম্য ও আর্থিক লেনদেনমুক্ত রাখতে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের যৌথ অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সুশাসন, শ্রমিক কল্যাণ এবং নৈতিক নিয়োগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন, যা উভয় দেশের জন্যই উপকারী হবে।

ঢাকার জনশক্তি রপ্তানিকারকদের দাবি, কর্মী নিয়োগের সিন্ডিকেটের ‘গোড়া’ মালয়েশিয়া। সে দেশের সরকারের প্রভাবশালী অংশ এর নিয়ন্ত্রক। বাংলাদেশে থাকা প্রভাবশালীরা তাদের সহযোগী। তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফরে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও সর্বোচ্চ পর্যায়ে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে কথা বলেছেন। শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে এদের অনেকের প্রভাব থাকে।
বিভিন্ন সূত্র সমকালকে জানায়, মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগে কাজ করে ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডব্লিউসিএমএস) নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেট। এর মালিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয় নাগরিক আমিনুল ইসলাম নুর। তিনি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ আছে। বাংলাদেশ অংশে এর নেতৃত্বে ছিলেন ২৫ এজেন্সির ‘সমন্বয় করা’ ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের মালিক রুহুল আমিন স্বপন।

২০২২ সালের আগস্টে নিয়োগের সময় প্রত্যেক কর্মীর ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। কিন্তু মালয় শ্রমিক ইউনিয়নের গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যেক কর্মীর কাছ থেকে ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আদায় করা হয়। হাজারো কর্মী এত টাকা খরচ করে মালয়েশিয়া গিয়েও প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি। অনেককে ভুয়া চাকরির চাহিদাপত্র দিয়ে নেওয়া হয়।

সমকালে ওই সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সেবার সিন্ডিকেটে থাকা এজেন্সিগুলোকে কর্মীপ্রতি দেড় লাখ টাকা দিতে হয়েছিল বেস্টিনেটকে। প্রত্যেক কর্মীর চাহিদাপত্রের জন্য মালয়েশিয়ায় থাকা মধ্যস্বত্বভোগীকে দিতে হয় ছয় হাজার রিঙ্গিত, যা ওই সময়ের বিনিময় মূল্যে দেড় লাখ টাকা। এ ছাড়া ঢাকায় সিন্ডিকেটে প্রবেশের চাঁদা ছিল কর্মীপ্রতি এক লাখ সাত হাজার টাকা।
নিয়োগকারীদের দেওয়া চাহিদাপত্র এফডব্লিউসিএমএসে ‘অটো রোটেশন’-এর মাধ্যমে বণ্টন করা হয়েছিল। এমপি-মন্ত্রীদের প্রতিষ্ঠান অটো রোটেশনে পাওয়া চাহিদাপত্র ‘বিক্রি’ করে কোটি টাকা কামিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ ওঠে।

এসব অনিয়ম বন্ধ করতে বিদ্যমান এমওইউ সংশোধন করে এজেন্সি বাছাই ও অটো রোটেশনের শর্ত বাতিল করলে সিন্ডিকেট সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করেন জনশক্তি ব্যবসায়ীরা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হল উদ্বোধনের আগেই ফাটল, ঠিকাদার ‘বালিশকাণ্ডের’ ভবনে ফাটলের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন ১০ তলাবিশিষ্ট বিজয়-৭১ হল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আগেই বিভিন্ন দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। এই ভবনটির নির্মাণকাজ করছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আলোচিত ‘বালিশকাণ্ডের’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স অ্যান্ড কোম্পানি। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভবনে ফাটল বিষয়ে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি।

এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই হলেরই মিলনায়তনের ছাদ ঢালাই শেষে ধসে পড়েছিল। এতে ১২ শ্রমিক আহত হয়েছিলেন। তখন উঠে আসে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও নির্মাণকাজের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি।

এ ছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বহুতল চারটি ভবনের নির্মাণকাজ তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর শেষ হওয়ার কথা চলতি মাসে। অথচ কাজ শেষ হয়েছে ৭০ থেকে ৯৫ শতাংশ। বর্তমানে প্রকল্পগুলোর মেয়াদ আরও এক দফা বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে।

প্রকল্পগুলোর নির্মাণ শর্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ না হলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে অসম্পাদিত কাজের মূল্যমানের ওপর দশমিক শূন্য ৫ থেকে দশমিক ১০ শতাংশ জরিমানা গুনতে হবে। এই হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৩ কোটি টাকার জরিমানা আদায় না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল ছাড় দেওয়া হয়েছে। এ অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের প্রতিবেদনেও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রথমে ৩৬৩ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় অপরাজিতা (সাবেক প্রস্তাবিত শেখ হাসিনা) হল, বিজয় ৭১ (সাবেক প্রস্তাবিত এ এইচ এম কামারুজ্জামান) হল, ১০ তলা শিক্ষক কোয়ার্টার, ২০ তলা একাডেমিক ভবন, ড্রেন নির্মাণ, শেখ রাসেল মডেল স্কুলসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। পরে একনেক ২০১৯ সালে সংশোধিত আকারে ৫১০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। নির্মাণাধীন এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় তিন দফায় সময় বাড়িয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

আলোচিত মজিদ সন্স 
প্রকল্পের আওতায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ তলা বিজয় ৭১ হলের নির্মাণকাজ পায় রূপপুরে ‘বালিশকাণ্ডে’ তুমুল আলোচিত মজিদ সন্স অ্যান্ড কোম্পানি। তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর হলটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৯৫ শতাংশ। গত ডিসেম্বরে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাজটি সম্পন্ন করে হস্তান্তর করার কথা ছিল।

তবে হলটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের আগেই বিভিন্ন দেয়াল, পিলারের ওপরের পলেস্তারাতে ফাটল দেখা গেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। উদ্বোধনের আগেই ঝুঁকিতে থাকা শের-ই বাংলা ফজলুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের একটি ব্লকে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়।

হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য সাহিব বিল্লাহ বলেন, নিরাপত্তার জন্য আমাদের নতুন হলে আনা হয়েছে। অথচ উদ্বোধনের আগেই এই ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। এর আগে এই হলের মিলনায়তন ধসে পড়েছিল। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

রাবি শাখা ছাত্রপক্ষের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা বলেন, আমরা নিরাপত্তার জন্য এসেছিলাম। কিন্তু এখানে আরও বেশি অনিরাপদ মনে হচ্ছে।

হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মারুফ হাসান জেমস বলেন, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করা দরকার। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ভবনটির বিশেষজ্ঞ তদন্তের দাবি জানাই।

এ বিষয়ে মজিদ সন্সের নির্বাহী পরিচালক জারগিছুর রহমান বলেন, ভবনে ফাটলের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট আসার আগে এ বিষয়ে আমাদের কথা বলা ঠিক হবে না। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

এক-তৃতীয়াংশ কাজ বাকি তিন ভবনে 
মজিদ সন্স ২০ তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজও পায়। বর্তমানে ওই ভবনের ১৭ তলার ছাদের ঢালাই শেষ হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন তলার দেয়াল নির্মাণসহ একাধিক কাজ চলমান। নির্মাণাধীন অপরাজিতা হলের অষ্টম তলার ছাদের ঢালাই শেষ হয়েছে। এর বাইরে কয়েকটি তলার দেয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পটির ম্যানেজার জাকির হোসেন সমকালকে বলেন, আমাদের এখানে ৭০ শতাংশের মতো কাজ হয়েছে। আমাদের আরও এক দফা মেয়াদ বাড়াতে হবে। অন্যদিকে ১০ তলা শিক্ষক কোয়ার্টারের সপ্তম তলার ছাদ ঢালাই শেষ হয়েছে।

যা বলছেন কর্তৃপক্ষ ও ছাত্রনেতারা
এ বিষয়ে রাবি শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, আমরা অতীতে দেখেছি উন্নয়নের নামে বিপুল দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে। ঠিকাদারদের জবাবদিহির অন্যতম মাধ্যম জরিমানা আদায়। সেটি না করেই বিল দিয়ে সাবেক ‘নকীব প্রশাসন’ আগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফি বলেন, মেয়াদ বাড়ানো হয়, কিন্তু প্রকল্প শেষ হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, এই বিষয়গুলো খুব হতাশাজনক। বারবার মেয়াদ পেছালে মূলত টেন্ডার সিন্ডিকেটের স্বার্থ রক্ষা হয় আর শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়। যাদের কাজ দেওয়া হয়েছে, তাদের কড়া জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার প্রধান কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক ওবায়দুর রহমান বলেন, আমাদের প্রকল্পগুলোর বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে যে কাজ রয়েছে, তা চলমান মেয়াদে শেষ করা সম্ভব হবে না। ফলে আমাদের মেয়াদ বাড়াতে হবে। আমরা চেষ্টা করব বাস্তবসম্মতভাবে মেয়াদ বৃদ্ধি করে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে।

বিজয়-৭১ হলে ফাটলের বিষয়ে তিনি বলেন, ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক কোনো ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। বিম ও দেয়ালের সংযোগস্থল কিংবা ভিন্ন অংশে করা প্লাস্টারের কারণে এ ধরনের ফাটল দেখা দিতে পারে।

প্রকল্পের বিল পরিশোধে অডিট আপত্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রকল্পের মেয়াদকালে মালপত্রের দাম বাড়লে এবং যৌক্তিক কারণে মেয়াদ বাড়ানো হলে জরিমানার বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ থাকে। এখানে নিয়মবহির্ভূত কোনো কিছু ঘটেনি।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, এই প্রকল্পগুলো গ্রহণ করার পর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, করোনা ভাইরাসসহ নানা বাধা এসেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই প্রকল্পের চলমান মেয়াদ শেষ হবে। আমরা চেষ্টা করব আগামী মেয়াদের মধ্যে প্রকল্পগুলো শেষ করতে।

‘অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মেসির প্রথম গোলটি বাতিল হওয়া উচিত ছিল’

লিওনেল মেসি মাঠে নামেন, গোল করেন, রেকর্ড গড়েন। কিন্তু সঙ্গে জড়িয়ে যায় বিতর্ক। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করার পরেও মেসির সঙ্গী হয়েছে সম্ভাব্য লাল কার্ড বিতর্ক। এবার আলোচনায় অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের করা প্রথম গোলটি।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড় গোল করে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন মেসি। আর্জেন্টাইন অধিনায়কের নামের পাশে শোভা পাচ্ছে ১৮টি গোল। ৩৯ বছরের এই ফুটবল জাদুকরের বাম পায়ের জাদুতে বুঁদ হয়ে আছে পুরো বিশ্ব। যেদিনই তিনি মাঠে নামেন সেদিনই রেকর্ড বইয়ের কিছু পাতা ওলটপালট করে আসেন।

এতকিছুর পরেও বিতর্ক মেসির পিছু ছাড়ছে না। বিতর্ক আর সমালোচনা যেন আর্জেন্টাইন অধিনায়কের ছায়াসঙ্গী। ‘জে’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের ৩৮ ও ৯৫তম মিনিটে গোল করেন মেসি। এর মধ্যে প্রথম গোলটি আসে বাম প্রান্ত থেকে ফাকুন্দো মেদিনার বাড়ানো বলে। সেই গোল নিয়েই মূলত বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

গোলটি বিল্ডআপ করার সময় অস্ট্রিয়ার সাভের শ্লাগারকে ট্যাকল করেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার। বলের লড়াইয়ের বাইরে থাকা অবস্থায় শ্লাগার মাটিতে পড়ে গেলেও রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। অস্ট্রিয়ার খেলোয়াড়দের প্রতিবাদও আমলে নেননি তিনি।

ম্যাচ শেষে রেফারির এ সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন অস্ট্রিয়া কোচ রালফ রাংনিক। তার দাবি, ঘটনাটি ভিএআরের নজর এড়ায়নি। তিনি বলেন, ‘আমার মতে, ওটা পরিষ্কার ফাউল ছিল। কিন্তু রেফারিকে ফাউল হয়েছে বলার মতো যথেষ্ট সাহস ভিএআরের ছিল না।’

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি গোলরক্ষক পিটার স্মাইকেলও গোলটি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। ফক্স স্পোর্টসে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, মেসির প্রথম গোলটি বাতিল হওয়া উচিত ছিল। ম্যাক আলিস্টার লাথি মেরে একজন খেলোয়াড়কে ফেলে দিয়েছিল। ওটা ফ্রি-কিক হওয়া উচিত ছিল।’

শুধু রেফারির সিদ্ধান্ত নয়। ভিএআরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্মাইকেল। তিনি বলেন, ‘এটি রেফারির স্পষ্ট ভুল ছিল। বিষয়টি নিয়ে আমি কিছুটা হতাশ।’

বিটিএস তারকার বাড়িতে ১৩৩ বার কলিংবেল বাজিয়ে কারাগারে ব্রাজিলীয় নারী

বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের তারকা জাংকুকের বাড়িতে দীর্ঘদিন অনুসরণ ও হয়রানির দায়ে এক ব্রাজিলীয় নারীকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে ওই দণ্ড দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বহিষ্কারেরও মুখোমুখি হতে হতে পারে।

সিউলের একটি জেলা আদালত জানিয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ওই নারী জাংকুকের বাড়িতে বারবার যাতায়াত শুরু করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি গায়কের বাসভবনে অন্তত ২২ বার গিয়েছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ৭ ডিসেম্বর প্রথমবার জাংকুকের বাড়িতে গিয়ে তিনি বাড়ির আশপাশে ঘোরাঘুরি করেন, দেয়ালের ওপারে বিভিন্ন জিনিস ছুড়ে দেন এবং দরজার ফাঁক দিয়ে চিঠি ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কয়েকদিন পর তিনি আবার সেখানে যান এবং একটানা ১৩৩ বার কলিংবেল চাপেন। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনা তার ‘চরম মাত্রার আসক্তি ও আবেগপ্রবণ আচরণের’ প্রমাণ।

১৩ ডিসেম্বর এক খাদ্য সরবরাহকর্মীকে অনুসরণ করে পাশের ফটক দিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন সতর্কবার্তা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে ওই এলাকায় না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সেই নির্দেশ অমান্য করেন। এরপরও তিনি বারবার জাংকুকের বাসভবনে যেতে থাকেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে পুলিশ জরুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যাতে তিনি বাড়িটির ১০০ মিটারের মধ্যে যেতে না পারেন। তবুও তিনি তা মানেননি।

অবশেষে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা করে এবং বিষয়টি প্রসিকিউটরদের কাছে পাঠায়। আদালতে ওই নারী দাবি করেন, তিনি এসব কাজ করেছেন ‘ভালোবাসা থেকে’। তিনি জাংকুকের জন্য চিঠি ও ছবি রেখে যাওয়ারও চেষ্টা করেছিলেন। রায়ে বিচারক বলেন, দণ্ড নির্ধারণের ক্ষেত্রে কয়েকটি লঘুকারক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ পুনরায় করার ঝুঁকি খুব বেশি নয় বলে আদালত মনে করেছে। তবে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে সফল না হলে ওই নারীকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত বছরের জুন মাসেও ৩০ বছর বয়সী এক চীনা নারীকে জাংকুকের বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সামরিক সেবা শেষ করে দেশে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি ওই চেষ্টা করেছিলেন।

সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জামায়াতের দুঃখ প্রকাশ

রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে এই ঘটনায় দায়ী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন। তিনি বলেছেন, রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার যে অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, আমরা তার জন্য আন্তরিকভাবে গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জামায়াত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং যেকোনো গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সমাজ বিনির্মাণে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়া বা কোনো ধরনের সহিংসতা কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়।

এহসানুল মাহবুব আরও বলেন, ধানমন্ডি জোনের বিক্ষোভ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার পর সেখানে উপস্থিত কিছু অতিউৎসাহী ব্যক্তি বা অনাকাঙ্ক্ষিত বহিরাগতদের উসকানিতে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী বা কোনো উগ্র আচরণকে জামায়াতে ইসলামী কখনোই প্রশ্রয় দেয় না। এই ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত এবং কীভাবে এই ভুল বোঝাবুঝির সূত্রপাত হলো, তা খতিয়ে দেখতে দলের পক্ষ থেকে একটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করা হবে। কোনো স্তরের কর্মীর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই ক্রান্তিলগ্নে গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হওয়া দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশিরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জামায়াত আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। আবারও এই অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যা, লাশ লুকিয়ে চাওয়া হয় মুক্তিপণ

সাইপ্রাসে এক বাংলাদেশি যুবককে অপহরণের পর হত্যা করে তার লাশ জঙ্গলে পাতা দিয়ে ঢেকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত শাহরিয়ার আহমেদ ইমন (২২) নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের লোচনপুর গ্রামের গ্রিসপ্রবাসী নাসির মিয়ার ছেলে।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে সাইপ্রাস পুলিশ গত রোববার শাহীন বাবু (২২) নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় একটি জঙ্গল থেকে ইমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের বরাতে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে স্টুডেন্ট ভিসায় সাইপ্রাসে যান ইমন। বিদেশে যাওয়ার আগেই তিনি সেখানকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ভর্তি হন। সাইপ্রাসের লারনাকার ওরোক্লিনি এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। তার পরিবারের সদস্যরা মাসিক খরচ বাবদ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পাঠাতেন। পরিবারের ওপর চাপ কমাতে তিনি কাজের সন্ধান করছিলেন এবং এক পর্যায়ে একটি কাজও পান।

গত ১১ জুন বিকেলে মায়ের সঙ্গে ইমনের সর্বশেষ কথা হয়। তিনি মাকে জানান, কাজের ব্যবস্থা হয়েছে এবং সেদিন রাত থেকেই ডিউটি শুরু করবেন। বিষয়টি তিনি তার প্রবাসী বাবা ও রুমমেট রায়হান মিয়াকেও জানান। রায়হান তাকে কাজের স্থানে পৌঁছে লোকেশন পাঠাতে বলেছিলেন, যাতে প্রয়োজনে সহজে যোগাযোগ করা যায়। স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে কাজের স্থানে পৌঁছে হোয়াটসঅ্যাপে রায়হানের কাছে নিজের অবস্থানের লোকেশন পাঠান ইমন। কিছুক্ষণ পর রায়হান ‘ওকে’ লিখে জবাব দিলেও সেই বার্তাটি আর দেখেননি ইমন।

এর কিছুক্ষণ পর রাত ১০টার দিকে ইমনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকেই তার বাবা নাসির মিয়ার কাছে একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে লেখা ছিল, ‘আপনার ছেলেকে কিডন্যাপ করেছি। ছেলেকে ফিরে পেতে চাইলে ৩৫ হাজার ইউরো দিতে হবে। যদি দেন ছেলেকে ফিরে পাবেন, না দিলে তার চোখ ও কিডনি খুলে বিক্রি করে দেব।’ বার্তাটি পেয়ে নাসির মিয়া পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। তবে প্রথমে তারা ধারণা করেছিলেন, ইমনের হোয়াটসঅ্যাপ আইডি হয়তো হ্যাকড হয়েছে।

পরদিন ১২ জুন সকালে কাজ শেষে আর বাসায় ফেরেননি ইমন। এরপর রুমমেট রায়হান স্থানীয় থানায় গিয়ে নিখোঁজের অভিযোগ করেন। পরে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ইমনের পাঠানো লোকেশনেও খোঁজ করা হয়, কিন্তু তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এদিকে ইমনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ২৪ ঘণ্টাই সচল ছিল এবং প্রতিদিনই পরিবারের কাছে মুক্তিপণের টাকা দাবি করছিল অপহরণকারীরা।

নিহতের ভাই নয়ন আহমেদ জানান, ইমনের কোনো খোঁজ না পেয়ে এক পর্যায়ে পরিবার মুক্তিপণের টাকা দিতে রাজি হয়। দর-কষাকষির মাধ্যমে বাংলাদেশি টাকায় পাঁচ লাখ টাকায় সমঝোতা হয় অপহরণকারীদের সঙ্গে।

তিনি বলেন, রোববার দুপুরে চুক্তি অনুযায়ী টাকা পাঠাতে ব্যাংকে যাই। সেখানে গিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়ার পর টাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিই। এজন্য অপহরণকারীদের কাছে থাকা ভাইয়ের মোবাইল ফোন দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে চাই। কিন্তু অপহরণকারীদের কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হলে টাকা না দিয়ে বাড়ি ফিরে আসি।

নয়ন আরও জানান, একপর্যায়ে ইমনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর অফলাইনে চলে যায়। পরে ওই রাতেই তারা জানতে পারেন, সাইপ্রাস পুলিশ শাহীন বাবু নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি জঙ্গল থেকে পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় ইমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া শাহীন বাবুর বাড়ি বাংলাদেশের কোন এলাকায়, সে বিষয়ে সাইপ্রাস পুলিশ এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, সাইপ্রাসে এক শিক্ষার্থী অপহরণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় এক বাংলাদেশিকে সেখানকার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে শুনেছি। তবে বিষয়টি সাইপ্রাসের দূতাবাস থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, নিহত তরুণের পরিবারের পক্ষ থেকেও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। তারা সহযোগিতা চাইলে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

রংপুরের তারাগঞ্জে ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে মুজাহিদ ইসলাম (১৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে মুজাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে তারাগঞ্জ থানার ওসি রুহুল আমিন জানান, গ্রেপ্তার যুবক মুজাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তার দেওয়া বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুতই বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।

তবে ধর্ষণের পরেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

নিহত শিশুটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। গত শুক্রবার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি ও মাইকিং করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন শনিবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে একটি পাটখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এই ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা গত রোববার তারাগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শিশুটিকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

বিয়ে নিয়ে বিতর্ক, কাগজপত্র নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন ববি

ব্যবসায়ী মির্জা আবুল বাশারের সঙ্গে নাম জড়িয়ে ‘কথিত স্ত্রী’ বা ‘স্ত্রী’ উল্লেখ করে ঢালিউড অভিনেত্রী ইয়ামিন হক ববিকে নিয়ে খবর ছড়িয়েছে। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ববি। অভিনেত্রীর দাবি, মির্জা আবুল বাশারের সঙ্গে তাকে জড়িয়ে ছড়ানো খবরটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

গতকাল এফডিসিতে শিল্পী সমিতির নির্বাচনের মনোয়নপত্র জমা দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিতর্কিত বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন ববি।

বিয়ের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে ববি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ওই ব্যক্তি (আবুল বাশার) আমার স্বামী নন। কেউ যদি তার বিয়ের কোনো বৈধ কাগজপত্র বা বিটিএল গ্রুপের সাথে ব্র্যান্ড প্রমোশন ছাড়া অন্য কোনো লিগ্যাল সম্পৃক্ততা দেখাতে পারে, তবে তিনি যা চাইবেন তাই করতে প্রস্তুত আছেন।’

বিটিএল গ্রুপের কার্যালয়ের চেয়ারে বসা একটি ছবি প্রসঙ্গে নায়িকা বলেন, ‘একজন শিল্পী হিসেবে বিভিন্ন অফিসে গেলে সম্মান করে তাকে চেয়ারে বসতে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে উপহার দেওয়া হয়। সেসব ছবিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’

505316028 1301987907949386 8111450161644580907 n 1782207908

বিয়ে নিয়ে মিথ্যা সংবাদ পরিবারের ভোগান্তি ও মানসিক চাপ বাড়িয়েছে বলেও জানান ববি। তিনি বলেন, আমার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য দেশের বাইরে থাকেন। এই অদ্ভুত সংবাদগুলো দেখে তারা বিভ্রান্ত ও বিচলিত হয়ে পড়েছেন। এই গুজবের কারণে তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।’

তার মতে, ‘ময়না’ সিনেমায় ওই ব্যক্তি আংশিক প্রযোজক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। মূলত ববি নামটি যোগ করলে সংবাদটি দ্রুত ভাইরাল হবে—এমন চিন্তা থেকেই এই প্রপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন নায়িকা।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে মির্জা আবুল বাশার মামুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, তাকে ববির বাসা থেকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু প্রতিবেদনে ববিকে তার ‘কথিত স্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ চুক্তি হতে পারে ডিসেম্বরে

সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, বৈদেশিক খাতের চাপ মোকাবিলা এবং বাজেট সহায়তা জোরদারের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ পেতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ডিসেম্বরে নতুন ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।

তবে আইএমএফের সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচি থেকে সরে এসে সম্পূর্ণ নতুন চুক্তিতে যাওয়ার এই উদ্যোগকে সরকারের জন্য বড় ধরনের আস্থার পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, আগের কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার শর্তগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ায় নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে সরকার দ্রুত কিছু বাস্তব ও দৃশ্যমান সংস্কার কার্যক্রম শুরু করলে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা সম্ভব হবে।

এদিকে নতুন ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল আগামী ১২ থেকে ১৭ জুলাই ঢাকা সফর করবে। আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। সফরকালে তারা সরকারের সংস্কার এজেন্ডা, নীতিগত অগ্রাধিকার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচির কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ২০২২ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শুরু হওয়া আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। কারণ কর্মসূচির বেশ কয়েকটি শর্ত সরকারের অর্থনৈতিক নীতি ও নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করা হচ্ছে। এ কারণে বিদ্যমান কর্মসূচির পরিবর্তে নতুন করে তিন বছর মেয়াদি একটি ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অর্থ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, আগামী মাসে আইএমএফ মিশনের সফরের সময় সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হবে। অক্টোবরে আরেকটি পর্যালোচনা মিশন আসতে পারে। পরে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় আলোচনার পর আইএমএফের নির্বাহী বোর্ড অনুমোদন দিলে ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন ঋণ কর্মসূচি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণত আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়ায় ছয় থেকে ৯ মাস সময় লাগে। তবে বাংলাদেশ দ্রুত এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণের কাজ চলছে। তিন বছর মেয়াদি কর্মসূচির আওতায় কোন কোন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে, তার একটি অগ্রাধিকার তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগের কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত অনেক সংস্কার পদক্ষেপ বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাস্তবায়ন করা কঠিন। নতুন কর্মসূচিতে আইএমএফ এসব সংস্কার পুরোপুরি বাদ দিতে রাজি নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া বা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, এনবিআর ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং বিনিময় হার ব্যবস্থাকে আরও নমনীয় করার মতো বিষয়গুলো নতুন কর্মসূচিতেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাবে।

বাংলাদেশ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। পরে কর্মসূচির আকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে প্রায় ৩৬০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ ছাড় হয়েছে। তবে রাজস্ব আহরণ, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাত সংস্কারে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় পঞ্চম ও ষষ্ঠ কিস্তির প্রায় ১৩০ কোটি ডলার ছাড় স্থগিত হয়ে যায়।
সরকার ও আইএমএফের মধ্যে মতপার্থক্যের প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে অভিন্ন ১৫ শতাংশ ভ্যাট হার চালু, টার্নওভার কর চালু, কর অব্যাহতি কমানো, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও সারের ভর্তুকি কমানো, ব্যাংক খাত সংস্কার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড পুনর্গঠন।

জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক সমকালকে বলেন, আইএমএফের একটি কর্মসূচি মাঝপথে বন্ধ করে নতুন কর্মসূচিতে যাওয়া সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, আগের ঋণ কর্মসূচির শর্তগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে কিছুটা বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি
রয়েছে। আইএমএফ স্বাভাবিকভাবেই জানতে চাইবে, আগের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন না করে নতুন চুক্তিতে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তাঁর মতে, আগের অভিজ্ঞতার কারণে নতুন ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত খুব একটা সহজ হবে না। তবে সরকারের
জন্য সুযোগও রয়েছে। আলোচনা শুরুর আগেই যদি কিছু দৃশ্যমান সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে আইএমএফের সঙ্গে দর কষাকষিতে সুবিধা পাওয়া সম্ভব হবে এবং শর্তের কঠোরতাও কিছুটা কমানো যেতে পারে।