Home Blog Page 51

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ কর্মসূচি

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে দৈনিক সকালের রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশিরসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি জোন। কর্মসূচিতে জামায়াত নেতা মুস্তাফিজুর রহমান, মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, আনিসুজ্জামান ও জাহিনুর রহমানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

মিছিল শেষে ব্রিফিংয়ে এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ ঘিরে সাংবাদিক ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন নেতাকর্মী সাংবাদিকদের ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বলে মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদ করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

এতে মাহফুজুর রহমান শিশির গুরুতর আহত হন। তার মুখ দিয়ে রক্ত ঝরতে দেখা যায়। এ ছাড়া মারধরে আহত হন কালবেলার সংবাদকর্মী আব্দুর রহমান ইশান ও যমুনা টিভির রিপোর্টার রাব্বী সিদ্দিকীসহ কয়েকজন। পরে ঘটনাস্থলে থাকা অন্য সাংবাদিকরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের মিডিয়া বিভাগের পরিচালক আশরাফ ইমন সমকালকে বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক।

তাঁর দাবি, মিছিল শেষে দ্রুত কর্মসূচি শেষ করার জন্য কয়েকজন সাংবাদিক চাপ দিচ্ছিলেন। তখন বোঝা যাচ্ছিল না কে সাংবাদিক আর কে নয়। তারপর বাকবিতণ্ডা থেকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এজন্য জামায়াত দুঃখ প্রকাশ করছে। সেই সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, সেখানে বাকবিতণ্ডা হয় এবং তখনই সেটা নিষ্পত্তি হয়ে যায় বলে শুনেছি। কেউ আহত হয়ে থাকলে দুঃখজনক। আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।

বিশ্লেষণ তেলের দামের ভবিষ্যত এখন চীনের হাতে, কীভাবে

হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্থায়ীভাবে চালুর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যখন আলোচনায় ব্যস্ত, তখন জ্বালানি বাজারের পরবর্তী পরিস্থিতি সম্ভবত তৃতীয় কোনো দেশের ওপর নির্ভর করছে। সেই দেশ হলো- চীন।

দেশটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল ব্যবহারকারী। ইরান যুদ্ধের কারণে প্রতিদিন ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বেইজিং জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

এর মধ্যে আছে- আমদানি কমিয়ে দেওয়া, বিশাল মজুতের ওপর নির্ভর করা এবং পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়ানো। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশীয় বাজারে তেলের উচ্চমূল্যের প্রভাব পুরোপুরি দূর করতে না পারলেও তা অনেকটাই সামাল দিতে পেরেছে। যেটির প্রভাব বিশ্ববাজারেও বেশ ভালোভাবেই অনুভূত হয়েছে।

তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের পর কিছু বিশ্লেষক পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, চলতি বছরে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে বাজারে মোট অনুমিত ঘাটতি ১০০ কোটি ব্যারেল ছাড়িয়ে যাওয়ার পরও অপরিশোধিত তেলের দাম তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে আছে। অনেক বিশ্লেষক এর প্রধান কারণ হিসেবে চীনের ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করছেন।

জ্বালানি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এম্বার’-এর প্রধান দান ওয়াল্টার বলছেন, এশিয়ার বাকি দেশগুলোর ওপর এই ধাক্কা সামাল দিতে চীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এর মাধ্যমে তারা পরোক্ষভাবে বিশ্ব অর্থনীতিকেও বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে।

বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। সামনের দিনগুলোতে হয়তো এই প্রণালি স্বাভাবিক বাণিজ্যের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এমন আশার খবরে সোমবার ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ব্যারেল প্রতি ৭৮ ডলারের নিচে নেমে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতের ওপর চীনের প্রভাব বাড়ছে। ফলে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বেইজিংয়ের ভবিষ্যত নীতি ও তেলের ব্যবহারও বাজারে মূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

চীনের ‘অদৃশ্য হাত’
চলতি মাসের শুরুতে ফরাসি বহুজাতিক ব্যাংক ‘সোসিয়েত জেনেরাল’-এর বিশ্লেষকরা একটি গবেষণা নোট প্রকাশ করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৩ সালের আরব নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ মাত্র ৭ শতাংশ কমেছিল। কিন্তু দাম বেড়েছিল ১৩৪ শতাংশ। ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহে ক্ষতির পরিমাণ ১৪ শতাংশ। তারপরও দাম সেই তুলনায় আকাশচুম্বী হয়নি।

রপ্তানির জন্য রাখা গাড়ি। সম্প্রতি চীনের একটি বন্দরে। ছবি: এএফপি

রপ্তানির জন্য রাখা গাড়ি। সম্প্রতি চীনের একটি বন্দরে। ছবি: এএফপি

বিশ্লেষকরা এই বৈপরীত্যের জন্য মূলত চীনের ভূমিকাকে দেখছেন। এই ভূমিকাকে তারা অভিহিত করেছেন ‘বাজারের ভারসাম্য রক্ষাকারী এক অদৃশ্য হাত’ হিসেবে। এর কারণ হলো, প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি কমিয়ে আনার ক্ষমতা আছে চীনের। যা জাপানের মোট অপরিশোধিত তেলের চাহিদার প্রায় সমান।

বেশ কিছু কারণে চীন তাদের তেলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রিস্টাড এনার্জি’র তেল বাজার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জানিভ শাহ জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে থেকেই চীন তাদের ‘ব্যাক-আপ’ বা জরুরি অপরিশোধিত তেলের মজুত গড়ে তুলছিল। আর এতে বড় ভূমিকা রেখেছে রাশিয়া ও ইরানের সস্তা তেল।

বর্তমানে চীনের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত রিজার্ভে ১০০ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল আছে। যা তারা গত মে মাস থেকে ব্যবহার করতে শুরু করেছে। এছাড়া, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে চীনা সরকার ডিজেল ও পেট্রলের মতো পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য রপ্তানি সীমিত করেছে। ফলে দেশটির শোধনাগারগুলো বিশ্ববাজার থেকে নতুন করে অপরিশোধিত তেল কেনার আগ্রহ হারিয়েছে।

এদিকে, বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) ব্যাপক প্রসার চীনের জীবাশ্ম জ্বালানির প্রয়োজনীয়তাকেও কমিয়ে দিয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে বিক্রি হওয়া প্রতি দুটি নতুন যাত্রীবাহী গাড়ির মধ্যে প্রায় একটি ‘নিও এনার্জি ভেহিকেল’ বা বৈদ্যুতিক গাড়ি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) হিসাব অনুযায়ী, গত বছর বৈদ্যুতিক গাড়িগুলো প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেলের ব্যবহার কমিয়েছে।

চীনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত বিশেষজ্ঞ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান ল্যান্টাও গ্রুপের প্রধান ডেভিড ফিশম্যান বলছেন, তেলের চড়া দামের কারণে গ্রাহক ও শোধনাগারগুলোর চাহিদা হয়তো আগামীতেও কম থাকবে। তবে অপরিশোধিত তেলের মজুত চিরকাল ধরে রাখা সম্ভব নয়। যদি দাম কিছুটা কমে যায়, তবে চীন হয়তো আবারও সবার আগে মজুত বাড়ানো শুরু করবে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছরও বিশ্বজুড়ে তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। তবে সাম্প্রতিক এই অস্থিরতা নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি আগ্রহকেও বাড়িয়ে দিয়েছে। চীন গত মার্চ মাসে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি পণ্য রপ্তানিতে রেকর্ড গড়েছে। এই ধারা চলতে থাকলে দীর্ঘমেয়াদে অপরিশোধিত তেলের ব্যবহার কমে যেতে পারে। যা স্বাভাবিকভাবে দামেও প্রভাব ফেলবে।

শেষ বত্রিশে কার মুখোমুখি স্কালোনির আর্জেন্টিনা?

আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের টিকিট কেটেছে আর্জেন্টিনা। অপেক্ষা ছিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। তা শেষ হতে বেশি সময় লাগল না। জর্ডানের বিপক্ষে আলজেরিয়ার জয়ের সুবাদে এক ম্যাচ হাতে রেখেই গ্রুপসেরা হয়ে গেল বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

টানা দুই জয়ে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘জে’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আগামী রোববার জর্ডানের কাছে হেরে গেলেও হেড-টু-হেড এবং পয়েন্টের সমীকরণে তাদের অবস্থানের কোনো নড়চড় হবে না। এদিকে, দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে সেরা বত্রিশে খেলার আশা টিকিয়ে রেখেছে আলজেরিয়া। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে দুইয়ে আছে অস্ট্রিয়া। অন্যদিকে, টানা দুই হারে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে আসা জর্ডানের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে।

ফিফা বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, ‘জে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনা শেষ বত্রিশের নকআউট লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের। বর্তমান সমীকরণ অনুযায়ী, এই মুহূর্তে সেই রানার্সআপের জায়গাটিতে অবস্থান করছে লাতিন আমেরিকার আরেক পরাশক্তি উরুগুয়ে।

তবে এখনই উরুগুয়েকে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হিসেবে চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না। ‘এইচ’ গ্রুপের শেষ রাউন্ডের নাটকীয়তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়ে। অন্যদিকে গ্রুপের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে লড়বে আরেক নবাগত দল কেপ ভার্দে।

এই দুই ম্যাচের ফলের ওপর ভিত্তি করে লিওনেল মেসি-লিওনেল স্কালোনিদের প্রতিপক্ষ হিসেবে স্পেন, কেপ ভার্দে কিংবা সৌদি আরবের নামও চলে আসতে পারে।

রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তিন লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে, যা একই সময়ের মধ্যে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে এ সময়ে রাজস্ব আদায়ে ১০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হলেও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে ৮১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা।

গতকাল রোববার এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত অর্থবছরের একই সময়ে তিন লাখ ২৭ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল। সে তুলনায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে অতিরিক্ত ৩২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ সময়ে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে সংস্থাটির সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ তিন হাজার কোটি টাকা। প্রথম ১১ মাসে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার লাখ ৪২ হাজার ৮৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে তিন লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার দাঁড়িয়েছে ৮১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

খাতভিত্তিক হিসাবে প্রথম ১১ মাসে কাস্টমস অনুবিভাগে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। ভ্যাট অনুবিভাগে প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং আয়কর অনুবিভাগে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

এদিকে জুনের প্রথম ২০ দিনে ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। ফলে ২০ জুন পর্যন্ত মোট আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের পুরো বছরের মোট আদায় তিন লাখ ৭০ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

এনবিআর আশা করছে, জুন মাসের শেষ ১০ দিনে আরও প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হবে। সে ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায় চার লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ হবে।

গুঁড়া দুধের শুল্কে সামঞ্জস্য আনার সুপারিশ প্রস্তাবিত বাজেটে ফিল্ড মিল্ক পাউডারের শুল্ক বেড়েছে, বেবি ফর্মুলার কমেছে

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে ফিল্ড মিল্ক পাউডারের (এফএমপি) ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই হার সমজাতীয় অন্যান্য গুঁড়া দুধের শুল্ক হারের চেয়ে অনেক বেশি। অন্যদিকে প্রস্তাবিত বাজেটে বেবি ফর্মুলার ওপর আমদানি শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সারাদেশে প্রায় ৮৮ শতাংশ পরিবার ফিল্ড মিল্ক পাউডার ব্যবহার করলেও, আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য কর মিলিয়ে এর ওপর মোট করভার দাঁড়িয়েছে ৬৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। বাংলাদেশে সব ধরনের গুঁড়া দুধের ক্যাটেগরির মধ্যে এ ধরনের মিল্ক পাউডারের ওপরই করের হার সবচেয়ে বেশি। ফিল্ড মিল্ক পাউডারের আমদানি শুল্ক অন্যান্য গুঁড়া দুধের মতো হলে কর কাঠামোতে সামঞ্জস্য আসবে এবং বাজারে একটি সমতাভিত্তিক প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে।

ফিল্ড মিল্ক পাউডার কোনো বিলাসদ্রব্য বা কনফেকশনারি পণ্য নয়। বরং, এটি বাড়ন্ত শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের দৈনন্দিন প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় অনুপুষ্টি উপাদানের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। চলতি বছরের এপ্রিলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধি দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্যাটেগরির গুঁড়া দুধের শুল্ক কাঠামোর সমন্বয়ের বিষয়ে দুইপক্ষ একমত হয়।

বাংলাদেশে ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্সের (ইউরোচ্যাম) চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপদ ও সাশ্রয়ী দুগ্ধপণ্য সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফিল্ড মিল্ক পাউডারের শুল্ক কাঠামোয় সমন্বয় আনা গেলে অনিয়মভিত্তিক প্রতিযোগিতা কমবে, সরকারের রাজস্ব আহরণ আরও জোরদার হবে এবং দেশের দুগ্ধশিল্পের উন্নয়নে ইউরোপীয় বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, সব ধরনের দুগ্ধপণ্যের জন্য কাছাকাছি করহার নির্ধারণের সরকারি উদ্যোগ ইতিবাচক। ফলে দুধ আরও সাশ্রয়ী পুষ্টির উৎস হিসেবে মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) স্বাস্থ্যবিষয়ক লক্ষ্য অর্জনেও সহায়ক হবে।

শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো দেশে ফিল্ড মিল্ক পাউডার ও হোল মিল্ক পাউডার একই ধরনের শুল্ক কাঠামোর আওতায় রয়েছে। খাত-সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বাংলাদেশের শুল্ক কাঠামোয় সামঞ্জস্য আনা হলে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আবারও লেবানন যুদ্ধে সিরিয়াকে জড়ানোর ইঙ্গিত, কী বলছেন শারা

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বন্ধে একদিকে সুইজারল্যান্ডে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, অন্যদিকে লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। এমন সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বলেছেন, ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহকে সামলানোর দায়িত্ব তিনি সিরিয়াকে দেবেন।

ট্রাম্প হিজবুল্লাহর তীব্র সমালোচনা করলেও, রোববার তিনি বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ও হিজবুল্লাহকে দ্রুত পরাজিত করতে না পারার জন্য ইসরায়েলকে দোষারোপ করেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘হিজবুল্লাহকে দমন করতে না পারায় আমি ইসরায়েলের ওপর হতাশ। তারা ভবন ধ্বংস না করে কিছুই করতে পারে না।’

এরপর হিজবুল্লাহবিরোধী লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বিষয়টি সিরিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়ার খুব কাছাকাছি অবস্থানে আছি।’ এর আগে ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলন চলার সময়ও ট্রাম্প সিরিয়াকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর দ্বিতীয় দফায় মন্তব্যের পর এক সাক্ষাৎকারে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা।

২০২৪ সালের শেষ দিকে ইরান ও হিজবুল্লাহর মিত্র হিসেবে পরিচিত বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার দায়িত্ব নেন শারা। বর্তমানে দেশ পুনর্গঠন ও শাসনের আন্তর্জাতিক বৈধতা অর্জনের চেষ্টা করছেন। আরব অঞ্চলভিত্তিক গণমাধ্যম আল মাশহাদকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শারা হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

শারা বলেছেন, লেবাননের সংকট অত্যন্ত গুরুতর এবং রাজনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সিরিয়া এটি সমাধানের জন্য ভিন্ন ধরনের একটি পদ্ধতি অবলম্বনের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তার আগে যুদ্ধ বন্ধ করাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আহমেদ শারা বলেন, লেবানন সংকটের সমাধান যুদ্ধ বা শহরগুলোতে বোমাবর্ষণের মাধ্যমে আসবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাধান খোঁজার ক্ষেত্রে সিরিয়ার ভূমিকার কথা বলেছেন। কিন্তু অনেকে বিষয়টি এমনভাবে তুলে ধরছেন যেন, সিরিয়া আগামীকালই লেবাননে প্রবেশ করবে।

সমাধানের উপায় সম্পর্কে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা লেবানন ও সিরিয়ার মধ্যে সামরিক নয়, অর্থনৈতিক যোগাযোগের পথ খুঁজছি। বর্তমানে সেখানে যা ঘটছে তা থামাতে সৃজনশীল সমাধান প্রয়োজন। পুরোনো ও গতানুগতিক পদ্ধতিতে কাজ হবে না। লেবাননে সহায়তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং এমন একটি সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি যাতে সবাই আস্থা রাখতে পারে।’

প্রেম-গোপন বাগদানের গুঞ্জন অতীত, ২২ বছর পর ফিরছে পুরনো জুটি

দীর্ঘ ২২ বছর পর আবারও বড় পর্দায় একসঙ্গে দেখা যাবে বলিউডের জনপ্রিয় জুটি অক্ষয় কুমার ও রাভিনা ট্যান্ডনকে। আসন্ন চলচ্চিত্র ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ এ তাদের পুনর্মিলনকে দর্শকদের জন্য ‘ফ্যান সার্ভিস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন পরিচালক আহমেদ খান।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আহমেদ খান বলেন, অক্ষয় ও রাভিনাকে আবার একসঙ্গে পর্দায় দেখতে চেয়েছিলেন দর্শকরা। সেই ইচ্ছা পূরণ করতেই তাদের কাস্ট করা হয়েছে। তার ভাষায়, ‘দর্শক যখন তাদের আবার একসঙ্গে দেখতে চান, তখন সেই চাহিদা পূরণ করা যেতেই পারে। এটাও এক ধরনের ফ্যান সার্ভিস।’

১৯৯০-এর দশকে বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অনস্ক্রিন জুটি ছিলেন অক্ষয় ও রাভিনা। বিশেষ করে ‘মোহরা’ সিনেমায় তাদের রসায়ন দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সর্বশেষ ২০০৪ সালে ‘পুলিশ ফোর্স: এন ইনসাইড স্টোরিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তারা।

অক্ষয় কুমার, রাভিনা ট্যান্ডন

অক্ষয় কুমার, রাভিনা ট্যান্ডন

অতীতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও এই জুটি বহুবার আলোচনায় এসেছে। সে সময় তাদের প্রেম ও গোপন বাগদানের গুঞ্জনও শোনা গিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দুজনই আলাদা পথে হাঁটেন। বর্তমানে অক্ষয় কুমার  টুইঙ্কেল খান্নাকে, আর ব্যবসায়ী অনিল থাডানিকে বিয়ে করেন রাভিনা ট্যান্ডন।

আহমেদ খান জানান, রাভিনাকে ছবির প্রস্তাব দেওয়ার সময় অক্ষয়ের উপস্থিতি নিয়ে তার কোনো দ্বিধা ছিল না। বরং তিনি বলেছিলেন, ‘তাতে কী? আমরা সবাই পেশাদার শিল্পী, পরিণত মানুষ এবং বন্ধু। সেটে দারুণ সময় কাটবে।’

পরিচালকের দাবি, সিনেমার একটি নাচের দৃশ্যে অক্ষয় ও রাভিনা একসঙ্গে পারফর্ম করার সময় পুরো ইউনিট করতালি দিয়ে তাদের স্বাগত জানায়। ওই সময় সুনীল শেঠি মজা করে মন্তব্য করেন, ‘মোহরার জুটি এসে গেছে!’

অক্ষয় কুমার, রাভিনা ট্যান্ডন ও সুনীল শেঠি। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

অক্ষয় কুমার, রাভিনা ট্যান্ডন ও সুনীল শেঠি। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

শুটিংয়ের সময় পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণও করেছেন অক্ষয় ও রাভিনা। নিজেদের সন্তানদের নিয়ে গল্প করেছেন, পুরোনো কাজের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেছেন এবং বন্ধুদের মতোই আড্ডা দিয়েছেন বলে জানান আহমেদ খান।

এর আগে রাভিনা ট্যান্ডন সামাজিক মাধ্যমে ‘মোহরা’ সিনেমার সেটের পুরোনো ছবি এবং নতুন সিনেমার শুটিংয়ের কিছু মুহূর্ত শেয়ার করে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ টিমকে শুভকামনা জানিয়েছিলেন।

সবকিছু ঠিক থাকলে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ আগামী ২৬ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও সুসংহত হয়েছে।

সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করা। এছাড়া বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সন্ত্রাস দমনে ২টি কূটনৈতিক নোট বিনিময় করা হয়েছে।

সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে কুয়ালালামপুরের ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান মাহদী আমিন।

মালয়েশিয়ার পাঁচটি বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পৃথক সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ার পাঁচটি বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে পেট্রোনাস, আজিয়াটা, এয়ারএশিয়া, পার্ডুয়া এবং এমএমসি পোর্ট।

স্বল্পসময়ের এই সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যেত একান্ত বৈঠক হয়। এরপর সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে খোলামেলা আলোচনায় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। পরবর্তীতে ডেলিগেশন পর্যায়ে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৃহত্তর পরিসরে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ডেলিগেশন মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করেন। পরে মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকসমূহে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়। একইসাথে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

দ্রুততার সঙ্গে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্তকরণের আহ্বান

মাহদী আমিন বলেন, স্বাভাবিকভাবেই জনগণের স্বার্থ প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং রাজার সঙ্গে শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ঐক্যমত পোষণ করেছেন অভিবাসনের ক্ষেত্রে ব্যয় যত কমানো যায়, যত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আনা যায় এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশে শ্রমিকদের সুরক্ষা যেন নিশ্চিত করা যায়। প্রধানমন্ত্রী সম্ভব হলে দ্রুততার সঙ্গে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য পুনরায় উন্মুক্তকরণের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্বল্প অভিবাসন ব্যয়ে আরও বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণের আন্তরিক অনুরোধ জানিয়েছেন।

কারাগারে অন্তরীণ শ্রমিকদের নিয়ে আলোচনা

পাশাপাশি বিভিন্ন কারণে যেসব বাংলাদেশি শ্রমিক অবৈধ অবস্থায় রয়েছেন, কিংবা কারাগারে অন্তরীণ আছেন, তাঁদেরকে কীভাবে মানবিক ও সহানুভূতিশীল উপায়ে বৈধতার আওতায় আনা যায় অথবা প্রয়োজনে নিরাপদে দেশে ফেরত পাঠানো যায়, মালয়েশিয়ার বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সে বিষয়েও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক অনুরোধ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, উভয় বৈঠকে মালয়েশিয়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করা হয়। একইসাথে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার সম্পর্কোন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয় বৈঠকে।

জ্বালানি খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে একমত

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া একমত হয়েছে। বিশেষ করে এলএনজি, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কীভাবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও সম্মানজনকভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করা যায় এবং এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মালয়েশিয়া কীভাবে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, একইভাবে, আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি) এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মালয়েশিয়া কিভাবে সহযোগিতা করতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা হয়। ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মধ্যপ্রাচ্যে একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান অর্জনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সংলাপ, কূটনৈতিক উদ্যোগ ও গঠনমূলক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা জাতিসংঘ ও ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, মানবপাচার ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা জোরদারে দুই দেশের সরকার একত্রে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ে আলোচনা

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এবারের ঐতিহাসিক সফরে বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার মধ্যো অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খাতগুলো হলো— রাজনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, এআই এবং সেমিকন্ডাক্টর খাত, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ এবং তাঁদের কল্যাণে সহযোগিতা, শিক্ষা ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা, জ্বালানি খাত, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সহায়তা সম্প্রসারণ। উল্লেখ্য্, সর্বমোট ৯টি বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেো দুই দেশের সম্মতিতে ৩৩ দফার একটি যৌথ বিবৃতি ইস্যুি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকের আলোচনায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল অর্থনীতি, সাইবার নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতে, বিশেষ করে প্রযুক্তি পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ভূমিকার ভুয়সী প্রশংসা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

মাহদী আমিন বলেন, সভাশেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর যৌথ প্রেস কনফারেন্স হয়েছে। এই যৌথ প্রেস কনফারেন্সে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার ভুয়সী প্রশংসা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে ত্যাগ ও সংগ্রাম রয়েছে, দেশের মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য, তা স্মরণ করেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার যে ভিন্নমাত্রিক ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, তা স্মরণ করেন।

মাহদী আমিন বলেন, পারস্পরিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও কীভাবে শক্তিশালী করা যায় সে বিষয়ে দুই রাষ্ট্রনায়ক আলোচনা করেন। দুই দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে শিল্প ও ব্যবসা খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে দুই দেশ একসাথে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সাথে হালাল শিল্প ও হালাল ব্যবসার সম্ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ খাতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে হালাল পণ্য, সনদ প্রদান ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল তৈরি এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন।

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তাঁদের ইতিবাচক অবদানকে উভয় দেশ স্বীকৃতি দেয়। দুই দেশের সরকারপ্রধান শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব, যৌথ গবেষণা এবং কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণে একমত পোষণ করেন। একই সঙ্গে কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন উভয় সরকার প্রধান।

তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার, সামরিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে উভয় দেশ একমত হন। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

পর্যটন ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কীভাবে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা যায় সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

মাহদী আমিন বলেন, আজকের এই সফর কেবল একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়, এটি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক অধ্যায় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার এক নতুন দিগন্তের সূচনা। মাত্র ১৮ ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত ফলপ্রসূ সফরে যে আলোচনা, সমঝোতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, তা আগামী দিনে দুই দেশের জন্য বহুমাত্রিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি ও সুজন মাহমুদ।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী রোববার দুই দিনের সফরে মালয়েশিয়া আসেন। আজ সন্ধ্যায় মালয়েশিয়া থেকে চার দিনের সফরে চীনে যাবেন।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের কর্মসূচি ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন

দেশের ৬ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জেলাগুলো হলো- ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম ও ফরিদপুর।

আজ ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এসব জেলায় সেনাসদস্য মোতায়েন থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে আজ সোমবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা বলা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’

এতে বলা হয়, ‘এমন অবস্থায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা ও ফরিদপুর জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষায় আজ ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’

চলন্ত বাইকে ইটের আঘাত বাঁচানো গেল না রাফিকে

রাজধানীর মিরপুরের কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেল চালকের মাথায় ইট নিক্ষেপের ঘটনায় আহত সাজিদ চৌধুরী রাফি মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সোমবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

কাফরুল থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আজ সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাফির মৃত্যু হয়।’

তিনি জানান, ইটের আঘাতে রাফিকে আহতের ঘটনায় হত্যাচেষ্টা মামলা হয়েছিল। এ মামলায় এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।

৯ জুন রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোটরসাইকেলে নিজ বাসায় ফিরছিলেন ভুক্তভোগী রাফি। কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়ার আশরাফ আলী গলিতে চলন্ত মোটরসাইকেলে তার ওপর ইট নিক্ষেপ করা হয়।এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় এক তরুণ রাফিকে লক্ষ্য করে ইট ছুঁড়ে মারেন। ইটের আঘাতে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় পড়ে অচেতন হয়ে যান। এ সময় মোটরসাইকেলটি তাঁর শরীরের ওপর পড়ে থাকে।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ইট নিক্ষেপকারী তরুণই পরে আহত রাফিকে মোটরসাইকেলের নিচ থেকে বের করার চেষ্টা করেন। পরে আরও একজন সেখানে গিয়ে মোটরসাইকেলটি সরিয়ে নেন। একপর্যায়ে আহত রাফিকে একটি অটোরিকশায় তুলে হাসপাতালে নেওয়া হয়।