Home Blog Page 52

স্পেনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পরিকল্পনায় ‘অভিবাসী হামলা’ হয়েছে: ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে চাপের কাছে মাথানত না করায় স্পেনকে শাস্তি দিতেই মরক্কো থেকে অভিবাসীর ঢল নামিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। দেশ দুটি পরিকল্পিতভাবে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইরান।

গত কয়েকদিনে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার অভিবাসী স্থল ও সমুদ্রপথে মরক্কো থেকে স্পেনের ছিটমহল সেউতায় প্রবেশ করেন। এই সংখ্যা ছিটমহলটির নিয়মিত জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের সমান। ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে মানব ঢলের এই ঘটনায় অন্তত ৮৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

কেনিয়ার নাইরোবিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এই অভিবাসী ঢলকে স্পেনের বিরুদ্ধে হামলা বা আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করেছে। দূতাবাসের দাবি, নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের সমন্বয়ে স্পেনকে অস্থিতিশীল করতে এর আয়োজন করে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব।

ইরানি দূতাবাস কয়েকটি শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে ঘটনাটিকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে। তাদের মতে, এটি ইউরোপের ডানপন্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একটি উপহার। একইসঙ্গে আমেরিকান সাম্রাজ্য ও ইসরায়েলি দোসরদের বিরুদ্ধে সাহস দেখানোর শাস্তি। কারণ, সাম্রাজ্য কখনও অবাধ্যতা সহ্য করে না।

ইরানের এমন অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কেউই মন্তব্য করেনি। তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সংকট মোকাবিলায় স্পেনের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন।

এক্স পোস্টে ড্যানন লিখেছেন, স্পেন সবসময় ইসরায়েলকে জ্ঞান দেয়। অথচ তারা আফ্রিকায় এখনও ঔপনিবেশিক ছিটমহল ধরে রেখেছে। বিশ্ববাসীর কাছে এর কারণ আগে ব্যাখ্যা করা উচিত।

ভারত-বাংলাদেশে আন্দোলনের তুলনা তসলিমার, জবাব দিলেন দীপকে

নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিনের করা একটি মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে। তিনি বলেছেন, দুই দেশের আন্দোলনের তুলনা করা ঠিক হচ্ছে না।

তসলিমার মন্তব্য প্রসঙ্গে সোমবার ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দীপকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ও নেপালের আন্দোলনের সঙ্গে যন্তর মন্তরের তুলনা করা হচ্ছে শুধু বদনাম করার জন্য।’ দুই দেশের আন্দোলনের পার্থক্য বোঝাতে দীপকে বলেন, ‘আমরা আলাদা।’

রোববার করা এক মন্তব্যে তসলিমা নাসরিন সিজেপির আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের তুলনা করেন। তিনি বলেন, ভারতে সিজেপির আন্দোলন সম্পর্কে তেমন একটা খবর রাখেননি। তবে এর একটি ভিডিও ক্লিপ দেখে তাঁর ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের কথা মনে হয়েছে।

পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তসলিমা নাসরিন বলেন, ‘বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন আমাদের ধোঁকা দিয়েছে। কারণ আমরা ভেবেছিলাম ছাত্ররা কোটা পদ্ধতি বাতিল চায়। শেখ হাসিনাও তাদের দাবি মেনে নিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকারের পতন হলো। পরে দেখলাম এর পেছনে জিহাদিরা ছিল। এর ফল বাংলাদেশের জন্য ভালো হয়নি।’

তসলিমার মন্তব্যের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি দীপকে বলেছেন, দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার পর সিজেপির দায়িত্ব বেড়ে গেছে। শিগগিরই দলের পরিসর বাড়ানো হবে।

গত মাসে ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করে সিজেপি। পরে এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও যোগ দেয়। দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে আন্দোলন অন্য রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

উন্নয়নের জন্য নীতি স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি: ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী

দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ‘পলিসি ইন্ডিপেনডেন্স’ বা ‘নীতি স্বাধীনতা’ অপরিহার্য বলে মনে করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে স্বায়ত্তশাসন সংকুচিত হয়েছে। দেশীয় অগ্রাধিকারের পরিবর্তে বাইরের চাপের প্রভাবে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।  নিজস্ব অর্থনৈতিক বাস্তবতা অনুযায়ী নীতি প্রণয়ন করতে না পারলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) আয়োজিত ‘উন্নয়ন কৌশল ও নীতিগত স্বাধীনতা: বাংলাদেশের উন্নয়ন পথপরিক্রমা’ শীর্ষক আলোচনায় এসব কথা বলেন ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। রাজধানীর বনানীতে পিআরআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন গবেষণা সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার।

ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের উন্নয়নের উদাহরণ টেনে বাংলাদেশের নীতি স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ষাটের দশকে দক্ষিণ কোরিয়া যখন তাদের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা করে, তখন বিশ্বব্যাংক ‘হাস্যকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। কিন্তু কোরিয়া তাদের নিজস্ব সেনাবাহিনী ও জাপানের কাছ থেকে পাওয়া যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের টাকা ব্যবহার করে সেই প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করে। একইভাবে ভিয়েতনাম সংস্কারের জন্য বিশ্বব্যাংকের বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা ফিরিয়ে দিয়ে বলেছিল– টাকা দিয়ে সংস্কার কেনা যায় না, আমরা আমাদের মতো করেই সংস্কার করব।

ড. আনিসুজ্জামান আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশ ক্রমেই স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারাচ্ছে। বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাব যার অন্যতম কারণ। তিনি জানান, একবার তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চেয়েছিলেন কেন স্বাস্থ্য হানিকর আইসক্রিমের ওপর কর কমানো হচ্ছে, যার উত্তরে জানানো হয়েছিল যে বাচ্চারা এটি পছন্দ করে এবং অভিভাবকরা এতে খুশি হবেন। আনিসুজ্জামান মনে করেন, এ ধরনের খামখেয়ালি বাজেট প্রণয়ন এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর দখলদারিত্ব অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। এ ছাড়া নাগরিক ও সরকারের মধ্যে আস্থার চরম সংকট এবং নাগরিক সমাজের বিভক্তিকে তিনি উন্নয়নের পথে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন।

আলোচনার এক পর্যায়ে তাঁর কাছে প্রশ্ন ছিল– কেন অন্তর্বর্তী সরকার মেয়াদের শেষ মুহূর্তে এসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর উত্তরে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এটি করা বা না করা উভয় ক্ষেত্রেই সরকারের সামনে বড় ঝুঁকি ছিল। তিনি একে একটি ‘ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এই ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে। ট্রাম্প (যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট) জানতেন, ‘আমরা ফাঁদে পড়েছি। এ অঞ্চলের মধ্যে ভিয়েতনাম চুক্তি করেছে, মালয়েশিয়া করেছে, ইন্দোনেশিয়া করতে যাচ্ছে। এমন একটা পর্যায়ে তারা চুক্তি করতে বললে, চাইলেই কী তা উপেক্ষা করা যায়? আমাদের বড় বাজার (তৈরি পোশাক) সেখানে।’

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে তিনি হয়তো এমন চুক্তির বিরোধিতা করতে পারেন, কিন্তু যখন কেউ সরকারে থেকে নীতিনির্ধারণ করেন, তখন তাঁকে অনেক সময় আদর্শের চেয়ে বাস্তবতাকে  বেশি প্রাধান্য দিতে হয়। তাঁর মতে, ওই সময়ে এমন সিদ্ধান্ত না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার বলেন, ১৯৯১ সালে বাজারভিত্তিক অর্থনীতির দিকে যাত্রা শুরু হয়। তবে গত তিন দশকে অনেক প্রয়োজনীয় সংস্কার হয়নি।

এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি. রহমান বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের শর্তগুলো মূলত সুশাসন ও সংস্কারকেন্দ্রিক এবং এগুলো বাংলাদেশের নিজের উন্নয়নের জন্যই প্রয়োজন।

গবেষণা সংস্থা সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের এই সময়ে বাংলাদেশকে এখন দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তনের দিকে নজর দিতে হবে। তিনি প্রকৃত নীতি স্বাধীনতার জন্য দেশীয় স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবমুক্ত থাকার ওপর জোর দেন। গবেষণা সংস্থা সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান মনে করেন, উন্নয়ন সহযোগীরা এখন স্থানীয় প্রেক্ষাপট বোঝার চেষ্টা করছে। তবে সফল হতে হলে বাংলাদেশের নিজস্ব দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

বিজিএমইএর সহসভাপতি রেজওয়ান সেলিম শিক্ষার মান উন্নয়ন ও মেধা পাচার রোধের তাগিদ দেন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম বলেন, উচ্চ সুদের অভ্যন্তরীণ ঋণ দীর্ঘ মেয়াদে ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

বিদেশি ঋণের সুদাসল পরিশোধে গেছে ৪৪৯ কোটি ডলার সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছর

সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল বাবদ ৪৪৯ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। দেশের মুদ্রায় পরিশোধের এই পরিমাণ ৫৪ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। যা আগের অর্থবছরে (২০২৪-২৫) ছিল ৪০৯ কোটি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৪০ কোটি ডলার।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) এ-সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই উপাত্ত জানা গেছে। গতকাল রোববার সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিদেশি ঋণের মোট পরিশোধের মধ্যে মূল ঋণ ছিল ২৯৫ কোটি ডলার। বাকি ১৫৪ কোটি ডলার ছিল ঋণের সুদ। আগের অর্থবছর মূল ঋণ পরিশোধ করা হয়েছিল ২৬০ কোটি ডলার। সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয় ১৪৯ কোটি ডলার।

প্রতিবেদন বলছে, আগে নেওয়া ঋণের সুদাসল বাড়লেও নতুন ঋণের অর্থ ছাড় ও প্রতিশ্রুতি অনেক কমে গেছে। গত অর্থবছরে দেশে বৈদেশিক ঋণের অর্থ ছাড়ের পরিমাণ কমে ৮০৭ কোটি ডলারে নেমেছে। আগের অর্থবছরে বৈদেশিক অর্থ ছাড়ের পরিমাণ ছিল ৮৫৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ, অর্থ ছাড় কমেছে ৪৯ কোটি ডলার। অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণ প্রতিশ্রুতি কমে ৫২৪ কোটি ডলারে নেমেছে। আগের অর্থবছরে প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ৮৩২ কোটি ডলার। অর্থাৎ, বৈদেশিক ঋণ প্রতিশ্রুতি কমেছে ৩০৮ কোটি ডলার।

ঋণ পরিশোধ বেশি অথচ অর্থ ছাড় ও নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি কম আসার কারণ জানতে চাইলে ইআরডির সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বিদেশি ঋণ ব্যবহার করা হয় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি–এডিপির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে। গত অর্থবছর এডিপি বাস্তবায়ন পরিস্থিতি খুব খারাপ ছিল। সংগত কারণেই উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ ছাড়ের পরিমাণও কমেছে। একই কারণে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি কম। ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন।

এডিপি বাস্তবায়নে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল মাত্র ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। সংশোধিত এডিপির আকার ছিল দুই লাখ আট হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। অথচ অর্থবছর শেষে মোট ব্যয় হয়েছে মাত্র এক লাখ ৪১ হাজার ৭২ কোটি টাকা। অর্থাৎ বরাদ্দের ৬৮ হাজার কোটি টাকাই অব্যবহৃত থেকে গেছে। পুরোনো উপাত্ত বলছে, গত দুই দশকের এডিপি বাস্তবায়ন এতটা বাজে হয়নি। ২০০৪-০৫ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত কোনো অর্থবছরেই এডিপি বাস্তবায়ন ৮০ শতাংশের কম ছিল না।

ইআরডির প্রতিবেদন বলছে, গত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ঋণ ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। এ পরিমাণ প্রায় ২০৭ কোটি ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। পরিমাণে যা প্রায় ১৯১ কোটি ডলার। দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে রাশিয়া ১০৪ কোটি ডলার, জাপান ৭৯ কোটি ডলার। এ ছাড়া এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংক–এআইআইবি ৬৯ কোটি ডলার, চীন ৫৩ কোটি ডলার, ভারত ২৭ কোটি ডলার ঋণ ছাড় করেছে।

অন্যদিকে গত অর্থবছর নতুন প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে দেখা যায়, এডিবির কাছ থেকে পাওয়া গেছে ২৬৮ কোটি ডলারের ঋণদানের প্রতিশ্রুতি। বিশ্বব্যাংক দিয়েছে ৮২ কোটি ডলার। অন্যদের মধ্যে ২৫ কোটি ডলার দিয়েছে এআইআইবি, ৩১ কোটি ডলার দিয়েছে জাপান আর ২৭ কোটি ডলার দিয়েছে চীন।

নিজস্ব মব না থাকলে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না: মাহফুজ আলম

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এক ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, জুলাই আদর্শিক অক্ষ অনুযায়ী বিভক্ত হয়েছে। ডানপন্থি জুলাইয়ের সংগঠনে ডানবিরোধীরা জায়গা পাবেন না। অ-ডানপন্থিদের জুলাই সংগঠনে ডানপন্থিরা জায়গা পাবেন না। রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন মাহফুজ আলম।

পোস্টে মাহফুজ আলম আরও লেখেন, এটাই জুলাই বন্দোবস্ত। ডান-বামের বাইরে যারা যেতে চাইবেন, তাদের জন্য এতে আছে শিক্ষা। দ্রুত ডান বা অ-ডান জুলাই বেছে নিয়ে গা বাঁচান। নিজস্ব মব না থাকলে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার প্রাক্কালে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মাহফুজ আলম প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহফুজ আলম।

‘ছেলের লাশ পাই নাই, দুই বছর হয়ে গেল আমার বুক খালি’ স্বজন হারানোর বর্ণনা দিলেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা

চব্বিশের ২০ জুলাই আন্দোলনে গিয়ে যাত্রাবাড়ী রায়েরবাগের খাম্বার কাছে গুলিতে নিহত হন আব্দুর রহমান জিসান (২০)। তিনি পানির ব্যবসা করতেন। জিসানের বাবা আফ্রিকাপ্রবাসী বাবুল সরদার জানিয়েছেন, ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে ওই বছর ৩০ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করা হয়। যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ তদন্ত করছে।

যাত্রাবাড়ী থানার সামনে হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গুলিবিদ্ধ হন শিক্ষার্থী মিরাজ হোসেন। গুলিটি মিরাজের বাঁ পাঁজর ভেদ করে বের হয়ে যায়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মৃত্যু হয় তাঁর। মিরাজের বাবা মো. আব্দুর রব কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না। দোষীদের ফাঁসি হোক, এটাই আমার চাওয়া। আমি ন্যায়বিচার চাই।’

রায়ের বাজার এলাকায় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে পুলিশের গুলিতে মারা যান মো. সোহেল রানা (৩৯)। তাঁর মা রাশেদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের লাশ পাই নাই। কোনো মামলাও করি নাই। মামলা করে কী হবে। ছেলে তো পাব না। দুই বছর হয়ে গেল আমার বুক খালি। হত্যার বিচার হয় নাই। কোথায় বিচার হচ্ছে তাও জানি না।’

বাবুল সরদার, আব্দুর রব ও রাশেদা বেগমের মতো অর্ধশতাধিক স্বজন গতকাল রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর নবী টাওয়ার কনফারেন্স রুমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ী : শহীদ পরিবার ও আহতদের গণশুনানি’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের সামনে স্বজন হারানো ঘটনা বর্ণনা করেন। কেউ সন্তান, কেউ বাবা ও ভাই হত্যার বিচার চেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন।

স্বজন জানান, দুই বছর ধরে প্রিয়জনদের হারিয়ে তারা নির্বাক। নানা আশার বাণী শুনলেও দৃশ্যমান কোনো আর্থিক সহযোগিতা পাননি। চব্বিশের শহীদ পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য শুনে ন্যায়বিচার ও নিশ্চিত ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেন চিফ প্রসিকিউটর।

গণশুনানির পর চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সঠিক ও মানসম্মত বিচারের মাধ্যমে জুলাই শহীদদের রক্তের ঋণ আমরা শোধ করতে চাই।’ এ জন্য তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা নবীউল্লাহ নবী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর, তদন্ত সংস্থাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছেন এই যাত্রাবাড়ীতে। আমরা প্রাথমিকভাবে ৮৫ জনের তালিকা পেয়েছি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে ৫০-৫৫ জনকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার পর কেউ থানায় বা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘যাত্রাবাড়ীতে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হবে। অনেকগুলো মামলা ট্রাইব্যুনালে তদন্তাধীন আছে। এই এলাকার সব হত্যা মামলা একত্রিত করে একটা অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে বিচার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যথায় পৃথকভাবে এসব মামলার বিচার করতে গেলে দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার।’

এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিএনপি নেতা নবীউল্লাহ নবী বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থনে শহীদ না হলে স্বৈরাচারের পতন ঘটানো সম্ভব হতো না। আমরা শহীদ পরিবারকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। সেজন্য সরকারসহ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

গাজীপুরে ভূমি অফিসের ৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত

গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগে চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার সকালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে তাদের বরখাস্ত করেন জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সকালে কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে হঠাৎ পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি ভূমি কর্মকর্তা ও সেবা নিতে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন।

পরে নানা অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ওয়াজেদ আলী খান, অফিস সহকারী মোস্তফা কামাল, সফিকুল ইসলাম খান, আব্দুল হালিমসহ চারজনকে বরখাস্ত করেন। পরে তিনি সফিপুরে অপর একটি ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান।

১৫ টাকায় ৩০ কেজি চাল পাবেন ৫৫ লাখ কার্ডধারী

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে ১ আগস্ট থেকে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। এর আওতায় ৫৫ লাখ কার্ডধারী উপকারভোগী ৬ মাস (আগস্ট- নভেম্বর ও মার্চ এবং এপ্রিল) পর্যন্ত ১৫ টাকা কেজি দরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল বরাদ্দ পাবেন। সোমবার খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং কাজের অভাবের মৌসুমে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয় এই সুবিধা চালু করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অপুষ্টি মোকাবিলা, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের পুষ্টি উন্নয়নে এই কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে ২৪৮টি উপজেলায় প্রায় ২৫ লাখ ২৯ হাজার উপকারভোগীর মধ্যে পুষ্টি চাল এবং ২৪৭টি উপজেলায় ২৯ লাখ ৭১ হাজার উপকারভোগীর মাঝে সাধারণ চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সারা দেশে ১ হাজার ১০৮টি কেন্দ্রের (দোকান বা ট্রাক) মাধ্যমে ওএমএস কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত চাল ও আটা বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, বর্তমানে দেশে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে সবচেয়ে বেশি খাদ্য মজুত রয়েছে। খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। ২০২৬ সালের ২ আগস্ট খাদ্য মজুতের পরিমাণ ২৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন (চাল ১৯ লাখ ৬৬ হাজার ১৪৮ মেট্রিক টন, গম ২ লাখ ৮০ হাজার ১০ মেট্রিক টন এবং ১ লাখ ৫২ হাজার ১০৯ মেট্রিক টন।

বিজ্ঞপ্তি খাদ্য মন্ত্রণালয় বেলেছে, সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, অপুষ্টি কমানো এবং জনকল্যাণমূলক সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ঘরের পাশে বালুর বস্তায় বিস্ফোরণ, একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ

বরিশালের বাকেরগঞ্জে পরিত্যক্ত বোমা বিস্ফোরণে একই পরিবারের দুই নারীসহ তিনজনের শরীর ঝলসে গেছে। তারা নদীতে লাফিয়ে প্রাণে রক্ষা পান। সোমবার সকাল ৮টার দিকে ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

আহত তিনজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন- শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম (৫৫), মেয়ে ইতি (১৮) ও নাতি ফাহিম (১৫)।

শাহ আলমের ছেলে জামাল জানান, ঘরের পাশে থাকা বালুর বস্তার মধ্যে একটি বোমা বিস্ফোরণ হয়। সেখানে থাকা তার মা, বোন ও ভাগিনার শরীরে আগুন ধরে যায়। দিগ্বিদিক হয়ে তারা ঘরের সামনে থাকা তুলাতলা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ততক্ষণে তাদের শরীরের সব কাপড় পুড়ে যায়।

স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে বোমা কোথা থেকে আসলো এ বিষয়ে শাহ আলমের পরিবারের কেউ কিছু জানে না।

বাকেগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করা হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব তারেক রহমানের

দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নিয়ে আলোচনা না হলেও নির্দিষ্ট সময়ের আগেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত করার পক্ষে মত দিয়েছেন নীতিনির্ধারকরা। এ ছাড়া দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ান মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর পদত্যাগের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়।

রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চেয়ারম্যানকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দলের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বিশেষ অধিবেশনের প্রয়োজন পড়লে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য রাতে সমকালকে জানান, স্থায়ী কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী নির্বাচনের পূর্ণ দায়িত্ব তারেক রহমানের ওপর ন্যন্ত করেছে। এটি এখন বিএনপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব। তিনি যদি দলের ভেতরে বা বাইরে কারো সঙ্গে পরামর্শ করার প্রয়োজন মনে করেন, তবে সেটি সম্পূর্ণ তাঁর সিদ্ধান্ত।
বৈঠকে অংশ নেওয়া দুজন নেতাই অভিন্ন সুরে জানান, স্থানীয় নির্বাচনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া তদারকি ও পর্যালোচনার জন্য বিএনপি সুপারভাইজিং ও মনিটরিং কমিটি গঠন করবে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী কাজ এবং এক বৈঠকে শেষ করার মতো বিষয় নয়। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয় এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে সর্বশেষ তথ্য জানতে চাওয়া হয় বলে জানা যায়। বৈঠকে মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি প্রতিফলিত হয়েছে উল্লেখ করা হয়।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে প্রায় দুই ঘন্টা ব্যাপী স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উপস্থিত ছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও  ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।