Home Blog Page 513

বাংলাদেশ চাইলে তিস্তায় প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রস্তুত চীন : রাষ্ট্রদূত

০

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকার চাইলে তিস্তা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত তার দেশ।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় চীন দূতাবাসে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সরকার চাইলে তিস্তা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সাহায্য করতে প্রস্তুত চীন। তিস্তার নদীর তীরে বসবাসকারী হাজারো মানুষের কল্যাণে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা উচিত। তবে একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশের।’

তিনি আরো বলেন, ‘২০২১ সালে বাংলাদেশ সরকার তিস্তা প্রকল্পের জন্য চীনের সহায়তা চেয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। প্রকল্পটি মূল্যায়ন করার পর ২০২৩ সালে চীন বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রতিবেদন দিয়ে জানায় যে, তাদের দেয়া প্রকল্পে কিছু অপ্রয়োজনীয় উপাদান থাকায় প্রকল্পটি সংশোধন করা উচিত। কিন্তু তারপর থেকে আমরা এখনো বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাইনি।’

প্রয়োজনে র‌্যাব নতুন করে গঠন করা হবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, প্রয়োজন হলে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) নতুন করে গঠন করা হবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সভায় র‌্যাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা র‌্যাবের নাম ও পোশাক পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছি। আগামী সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো উন্নত করা হবে, আমরা কাজ করছি। কোনো ঘটনা জানার সাথে সাথে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কিশোর গ্যাং এবং ছিনতাই আগের চেয়ে কমেছে। তবে এটি এখনো সহনীয় পর্যায়ে আসেনি।’

জাহাঙ্গীর আলম আরো বলেন, সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় দম্পতিকে রামদা দিয়ে প্রকাশ্যে কোপানোর ঘটনায় জড়িতদের সাথে সাথে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

উপদেষ্টা বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলনকারীদের নির্দিষ্ট স্থানে অথবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন।
সূত্র : বাসস

পবিত্র হজ ফ্লাইট ২৯ এপ্রিল থেকে শুরু

০

পবিত্র হজ পালনের লক্ষ্যে আগামী ২৯ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে এবং আগামী ৩১ মে পর্যন্ত এই ফ্লাইট পরিচালিত হবে।

পবিত্র হজ ১৪৪৬ হিজরি ৯ জিলহজ (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৫ সালের ৫ জুন) অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহানের সভাপতিত্বে সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভায় এ তথ্য জানানো হয়েছে বলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।

সভায় আরো জানানো হয়, এ বছর ৮৭ হাজার ১ শ’ জন হজযাত্রী বাংলাদেশ হতে পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরব গমন করবেন। হজ যাত্রীদের পরিবহন ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মোট হজযাত্রীর (৫০ শতাংশ) ৪৩ হাজার ৫৫০ জন এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্স (৩৫ শতাংশ) এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স (১৫ শতাংশ) অবশিষ্ট ৪৩ হাজার ৫৫০ জন হজযাত্রী পরিবহন করবে। এ বছর ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা বিমান ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

সভায় ফ্লাইট সিডিউল, বিদেশে রেজিস্ট্রেশনকৃত বাংলাদেশীদের হজ ফ্লাইট, প্রতিটি ফ্লাইট পরবর্তী যাত্রী সংখ্যা ও অন্যান্য তথ্য পোর্টালে আপলোডকরণ, হজযাত্রীদের লাগেজ ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা এবং হজযাত্রীদের পরিবহন সেবা নিশ্চিতকরণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

হজ পরিবহন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি টাস্কফোর্স ও একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, এয়ারলাইন্স, হজ এজেন্সির প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : বাসস

হাসিনাকে ফেরত এনে বিচার করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য : প্রেস উইং

জুলাই বিপ্লবে দেশ ছেড়ে ভারতে পালানো স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে ফেরত এনে সশরীরে বিচার করানো সরকারের প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এছাড়া জুলাই গণহত্যা ও গুম-খুনের সাথে জড়িতদের বিচারের পর আওয়ামী লীগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস ব্রিফিংকালে প্রেস সচিব এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

শফিকুল আলম বলেন, ‘কিছুদিন আগে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনের যে রিপোর্ট হয়েছে, তাতে স্পষ্ট শেখ হাসিনা কী ধরনের অপরাধ করেছেন। তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এটা বড় ধরনের অপরাধ। জাতিসঙ্ঘ ও কিছু কিছু মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টের পর অনেক চাপ তৈরি হয়েছে। এই চাপের একটা নমুনা দেখেছেন যে ইন্ডিয়া টুডে একটা জরিপ করেছে, সেখানে দেখা গেছে ৫৫ শতাংশ চায় শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে। কিছু শতাংশ চাচ্ছে তাকে অন্যদেশে দিতে। মাত্র ১৬-১৭ শতাংশ মানুষ চায় শেখ হাসিনাকে ভারতে রাখতে।’

শেখ হাসিনাকে ফেরত এনে সশরীরে বিচার করানো সরকারের প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম বলে জানান শফিকুল আলম।

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের একটাই কথা, আওয়ামী লীগের যেসব নেতা-কর্মী, সমর্থক যারা জুলাই গণহত্যার সাথে জড়িত, তারও আগে গুম-খুনের সাথে যারা জড়িত, যারা ম্যাসাকারে জড়িত, করাপশনে জড়িত- সবার অবশ্যই বিচার হবে। তারপর বাংলাদেশের মানুষ, পলিটিক্যাল পার্টি তারা সিদ্ধান্ত নেবেন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যত কী হবে।’

আমিরাতের ভিসা নিষেধাজ্ঞা খুব দ্রুত উঠে যাবে
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা নিষেধাজ্ঞা খুব দ্রুত উঠে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, তাদের সাথে সম্পর্ক তলানিতে চলে গিয়েছিল, এ সম্পর্ক ভালো করতে কমপ্রিহেনসিভ আলোচনা শুরু করেছে সরকার। আমিরাতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

শফিকুল আলম বলেন, ‘দুবাইয়ে গভর্নমেন্ট সামিট প্রতিবছর হয়। এ উপলক্ষে সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার দেড় দিনব্যাপী সফর ছিল। ওই সফরে তিনি ছিলেন প্রধান (মেজর) অংশগ্রহণকারী (পার্টিসিপেন্ট)। আমিরাতের সাথে আমাদের ভিসা সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা চলছে। আমিরাতে আমাদের ভিসা রেসট্রিকশন (নিষেধাজ্ঞা) আছে। এটা বহু বছরের একটা পুরোনো সমস্যা। ২০১২ সাল থেকে একটি পুঞ্জীভূত সমস্যা তৈরি হয়েছে। আমাদের যারা জাহাজের ক্রু তারা ভিসা পাচ্ছেন না। সবার জন্য ভিসা একটা বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গভর্নমেন্ট সামিটে প্রধান উপদেষ্টার সাথে যখন আমিরাতের মন্ত্রীদের বৈঠক হয় তখন তিনি বারবার বিষয়টি উঠিয়েছেন। এ বিষয় নিয়ে সিরিয়াস আলাপ হয়েছে। এই আলাপগুলো সামনে আরো অব্যাহত থাকবে।’

প্রেস সচিব আরো বলেন, ‘এ আলাপের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সাথে আমরা নতুন করে অনেক বিষয় নিয়ে আলাপ করছি। ওদের সাথে সম্পর্কের উন্নয়নে কম্প্রিহেনসিভ ডায়ালগ হয়েছে। এর ফলে কয়েকটি বিষয় হবে- আমিরাত থেকে বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসবে। এছাড়া আমাদের ওপর যে ভিসা নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেটা দ্রুত উঠে যাবে। ভিসা নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে অনেক বাংলাদেশী বিশেষ করে প্রশিক্ষিত শ্রমিকরা সেখানে চাকরি পাবেন।’

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি দেখার জন্য অধ্যাপক ইউনূস তার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীকে নিযুক্ত করেছেন। তিনি সেখানকার চার-পাঁচজন মন্ত্রীর সাথে বিস্তারিত কথাবার্তা বলেছেন। কথাবার্তা বলার পর আমিরাত এখন বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের উন্নয়নে সিরিয়াস।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমিরাতের সাথে আমাদের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছে গিয়েছিল। সেখান থেকে সম্পর্ক (বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা) উন্নতির দিকে যাবে। বিশেষ করে আমাদের জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রে নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে।

বাংলাদেশঃ আত্মঘাতী ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় !!!

রতন তালুকদারঃ একাত্তরের মুজিব নগর থেকে ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর একসূত্রে গাঁথা। ৫ই আগষ্ট ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে বিজয়ী মানুষগুলি কয়েক ঘণ্টায় বাংলাদেশের মানচিত্রের ভেতর মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ধূলায় লুণ্ঠিত করে বিজয়ে মেতে উঠে। যেমনটি হয়েছিল ৭৫-এর ১৫ই আগষ্টে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে। সেবার বঙ্গবন্ধুর কথিত সৈনিকরা গা ঢাকা দিয়েছিলো কেউ কাঁদেনি, কেউ রাস্তায় নামেনি। এবারও স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার শোচনীয় ও লজ্জাজনক পলায়নে কথিত শেখ হাসিনার সৈনিকরা “চাচা আপন প্রাণ বাঁচা” ফর্মুলায় তাদের নেত্রীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে এদিক ওদিক পালায়, আত্মগোপনে যায় এবং সঙ্গে নিয়ে যায় ১৫ বছরের সঞ্চিত চুরির সম্পদ!

এদিকে বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশে শেখ হাসিনার অপরাধে নেমে আসে দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর এক অবর্ণনীয় দুঃখ বেদনা ও আতঙ্ক। ওরা যেন নিজ দেশে পরবাসী ও ভিন্ন গ্রহের মানুষ!

ভারতের উত্তর প্রদেশে একজন বুলডোজার বাবা আছেন। তিনি বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্য নাথ। বাংলাদেশের বুলডোজার বাবা সমন্বয়কারী ছাত্ররা, পেছনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মদদ। সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন না থাকলে ৩২ নম্বর অভিযান সফল হতো ? দেশটি কি মগের মুল্লুক !

সামনে ওরা হয়ত গোপালগঞ্জে টুঙ্গীপাড়ার কবর থেকে বঙ্গবন্ধুর হাড্ডি-গুড্ডি তুলে আল কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনের মতো বঙ্গোপসাগরে সলিল সমাধি করবে। আরও অনেক কিছু দেখবে বাংলাদেশ! মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বপ্নভঙ্গ সবে শুরু। শেখ হাসিনার দম্ভ, আত্ম-অহংকার, গণতন্ত্র হত্যা, ভোট ডাকাতির নির্বাচন, খুন, গুম এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সীমাহীন চুরির বাণিজ্য যে কত ভয়াবহ ও নির্মম ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের আগুন তাই প্রমাণ করে।

বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ও আদিবাসীরা চিরদিনই শান্তিপ্রিয়, দেশপ্রেমিক ও সোজা সরল প্রকৃতির। বাংলাদেশের ইতিহাসে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দ্বারা দেশে কোন অরাজকতা, দেশদ্রোহিতা, অন্যায়, অবিচার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বা আইন নিজ হাতে তোলে নেয়ার কোন রেকর্ড নেই গত ৫৪ বছরে।

শান্তিপ্রিয় এই নিরীহ মানুষগুলির ওপর সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের কতিপয় এবং খোদ রাষ্ট্রযন্ত্র বারবার আঘাত এনেছে। ৭২ থেকে শুরু, চলমান ২০২৫ পর্যন্ত। লক্ষণ দেখে বোঝা যায় এই নিগ্রহ অত্যাচার বৈষম্য চলতেই থাকবে। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় প্রথম দূর্গাপুজায় মূর্তি ভাঙ্গা হয় সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত আছে। সম্প্রদায়িকতার মর্মান্তিক রেলগাড়ি কখনো লাইনচ্যুত হয়নি। রামু থেকে নাসির নগর, যশোরের অভয় নগর থেকে রংপুর, পার্বত্য চট্টগ্রামের লোগান থেকে চট্টগ্রামের বাঁশখালি পযর্ন্ত সাম্প্রদায়িকতার কলেবর প্রশস্ত হয়েছে। শেখ হাসিনা হিন্দুদের রক্ষক হিসেবে ভারতের কাছে দেবী ছিলেন। ভারত ভেতরের খবর নেয়নি, তারা বাংলাদেশের সাথে ব্যবসায় মত্ত ছিলো।

শেখ হাসিনার প্রতি ভারতের ভ্রান্ত আত্মবিশ্বাসের বলি হয়েছে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়। জানমালের নিরাপত্তার অভাব, উপাসনালয়ে ভাংচুর, হিন্দু মেয়েদের উপর লোলুপ দৃষ্টি ও ধর্ষণ, জোর করে ধর্মান্তরিত করার প্রবণতা, পার্বত্য চট্টগ্রামকে আদিবাসী শূন্য করার নীরব প্রক্রিয়ায় হাজার হাজার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় দেশ ছেড়ে ভারতে শরণার্থী হয়েছে।

শেখ হাসিনার সোনার ছেলে ছাত্রলীগ দিনে-দুপুরে পুরান ঢাকার দর্জি বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তথাকথিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সুনামগঞ্জের ঝুমন দাস, রংপুরে টিটু, বরিশালের সুমন ও কুমিল্লার নারায়ণ সহ শত শত হিন্দু যুবককে ধর্ম অবমাননার নামে জেলে দেয়া হয়েছে। হিন্দু শিক্ষকের গলায় জুতার মালা দিয়ে গলাধাক্কার ঘটনাগুলি এখনো সংখ্যালঘুদের আতঙ্কিত করে।

৫ই আগষ্ট শেখ হাসিনার লজ্জাজনক পলায়নের পর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নেমে আসে অমাবস্যার কালো রাত্রি। কারও অজানা নয় যে সারাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়কে তাদের চিরচেনা মানুষগুলিও অচেনা হয়ে আঘাত এনেছে। ওদের কেটেছে বিনিদ্র রজনী। তথাকথিত সংঙ্কার আর বৈষম্যহীন বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হয়ে উঠে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের করুণার পাত্র। কি বিচিত্র এই মুল্লুক, আমরা কোন গ্রহে বসবাস করছি?

ইসকন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। পৃথিবীর প্রায় দেড়শো দেশে ইসকন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেবা দিচ্ছে। অনেক মুসলিম দেশেও ইসকন বহাল তবিয়তে আছে এমনকি মধ্যপ্রাচ্যেও। মামুলি অভিযোগ এনে বাংলাদেশে ইসকন নেতা শ্রী চিন্ময় প্রভুকে জেলহাজতে রাখা হল জাতীয় পতাকার অবমাননা ও দেশদ্রোহিতার কাল্পনিক অভিযোগে, পক্ষান্তরে জাতীয় পতাকাকে জায়নামাজ বানিয়ে এর উপর দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করলে অবমাননা হয় না?

বাংলাদেশে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলির গুতা-গুতিতে শিলপাটার ঘর্ষণে যেমন মরিচের জান বিপন্ন তেমনি মুসলিম সম্প্রদায়ের ইসলাম রক্ষার সংগ্রামে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের আত্মমর্যাদা, সহাবস্থান ও নিরাপদে বসবাস হুমকির মুখে।

এসব নাটক, গল্প উপন্যাস আর কত? দয়া করে হিন্দুদের বাঁচান। ওরা মানুষ, বাংলাদেশের ভূমিপুত্র। একাত্তরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ভূমিকা ছিল গগন ছুঁই ছুঁই দেশপ্রেম।

শেখ হাসিনার অপরাধে তাকে এনে শাস্তি দিন। পারলে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করুন। বাংলাদেশের পতাকা, সঙ্গীত সংবিধান সব বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দিন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলুণ্ঠিত করে ওপারের পাকিস্তান ভাঙ্গার জন্য পাকিস্তানের কাছে ক্ষমা চান, তাতে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের কিছুই আসে যায় না। বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা শুধু নিরাপদ থাকতে চায়, রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমুতে চায়, তারা চায় ঘরে ষোড়শী মেয়েটি যেন নিরাপদ থাকে।

বাংলাদেশের প্রায় সব কটি রাজনৈতিক দল ও সরকারের তথাকথিত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বয়ানে সংখ্যালঘুরা আর ভরসা রাখতে পারছে না। ক্রমাগত হিন্দু বিদ্বেষ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জীবনে, মননে ও চেতনায় ভয় ও দুঃস্বপ্নের হাতছানি দেখছে! মনের ভেতর রেখাপাত করছে একাত্তরের পাকহানাদার বাহিনীর নির্মমতা ও হত্যাযজ্ঞ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ও বর্তমান বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জীবনের বাঁকে বাঁকে তারা ধৈর্য্যর অগ্নি পরীক্ষা দিচ্ছে। তবু পরাজিত সৈনিকের মতো ওরা আর ভারতে যাবে না, দেশের মাটির ঘ্রাণ নিয়েই ওরা আজন্ম, আমৃত্যু এদেশেই শিকড় ধরে বেঁচে থাকবে।

ধানমন্ডির ৩২ নম্বর ভাঙ্গার ব্যাথা বুকে চেপেই বলবো, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার জেনারেল জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি “কে” ভেঙ্গেছিল? দিল্লির চার দেয়ালের ভেতর হতাশায় ভুগতে ভুগতে শেখ হাসিনা ভেবে দেখুন। একমাঘে শীত যায় না, উপর দিকে থুথু দিলে নিজের মুখেই এসে পড়ে।

আজ যাঁরা ধানমন্ডির বাংলাদেশের ঠিকানা ৩২ নম্বর ভেঙ্গে উল্লাস করছে, খিলখিল করে হাসছে তারা একদিন ইতিহাসের মীর জাফর আলী খাঁন হবে।

তারপরও শেখ মুজিব একাত্তরের সূর্য, দেশের স্থপতি।

পাদটীকাঃ ৩২ নম্বর ভাঙ্গার পর নিউইয়র্কে কতিপয় সুশীল সমাজ ও চেতনাধারী হিজড়া প্রতিবাদ করেছে। এদের বেদনা ৩২ নম্বর নয়। বাংলা একাডেমী, একুশ বা স্বাধীনতা পুরস্কার না পাওয়ার স্বপ্নভঙ্গ !!!

যা দেশের স্বার্থ রক্ষা করে, তা অবৈধ হতে পারে না : ট্রাম্প

০

যা দেশের স্বার্থ রক্ষা করে, তা অবৈধ হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল নেটওয়ার্কে এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ক্ষমতা গ্রহণের পর নির্বাহী ক্ষমতাবলে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এতে তিনি বিভিন্ন আইনি জটিলতার মুখে পড়েন। এদিকে ইঙ্গিত করে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল নেটওয়ার্কে পোস্ট দিয়েছেন তিনি।

ফরাসি সেনানায়ক ও রাজনীতিবিদ নেপোলিয়ন বোনাপার্টের উক্তি -যা দেশকে রক্ষা করে, তা অবৈধ হতে পারে না- উল্লেখ করে লিখেছেন, যে দেশকে সুরক্ষা দান করে, সে আইন ভঙ্গ করতে পারে না।’

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের সাথে যোগাযোগ করা হলে এর বেশি কিছু জানায়নি। তবে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এসব মামলার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন তিনি।

সূত্র : রয়টার্স

ভারতে রেল স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু

ভারতের রাজধানী নিউ দিল্লিতে রেল স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে। এই ঘটনায় নিহত ১৮ জনের যে তালিকা প্রকাশ করেছে প্রশাসন, সেখানে চারজন শিশু এবং ১০ জন নারী রয়েছেন।

যাত্রীদের মধ্যে একটা বড় অংশ কুম্ভ মেলায় যাওয়ার জন্য প্রয়াগরাজের ট্রেনে সফর করার উদ্দেশে জড়ো হয়েছিলেন ওই স্টেশনে।

কিন্তু ভিড়ের কারণে পরিস্থিতি একসময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। প্ল্যাটফর্মে হুড়োহুড়ি করার পাশাপাশি ফুট ব্রিজে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়।

এ সময় পদপিষ্ট হন অনেকে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

কিন্তু কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না- এর বাইরে ঘটনার নেপথ্যে যে সমস্ত কারণ রয়েছে তার সব খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি রেলের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা, গুরুতর আহতদের জন্য আড়াই লাখ টাকা এবং সামান্য আহতদের জন্য এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি, প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন অনেকে।

সঙ্গমস্থলে ভোর বেলায় স্নানের উদ্দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। সেই সময় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

কী ঘটেছিল?
কুম্ভমেলার কারণে প্রয়াগরাজ যাওয়ার ট্রেনের টিকিটের ব্যাপক চাহিদা ছিল। স্টেশনে একদিকে যেমন কুম্ভ মেলায় যাওয়ার জন্য যাত্রীদের ঢল ছিল, তেমনই অন্য গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন শনিবার।

১৪ এবং ১৫ নম্ভর প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের জন্য যাত্রীরা অপেক্ষা করছিলেন। পাশাপাশি অন্য দু’টো ট্রেন লেট করায় যাত্রীদের সংখ্যা আরও বেড়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে বিপুল সংখ্যক যাত্রী উপস্থিত ছিলেন। এরই মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

১৪ ও ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার জন্য যে ফুট ব্রিজ ব্যবহার করা হয়, সেখানেও বিপুল সংখ্যক মানুষ ছিলেন। হুড়োহুড়ি শুরু হয়, অনেকে ভারসাম্য সামলাতে না পেরে পড়ে যান।

রুবি দেবী নামে এক যাত্রী বিবিসি হিন্দিকে বলেন, ‘আমরা ১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ছিলাম। এত ভিড় ছিল যে আমরা ভেতরের দিকে যেতে পারছিলাম না। ওখানে অনেকের পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে। আমরা কোনোমতে বেঁচে গেছি।’

বিহারের পাটনার বাসিন্দা ললিতা দেবি তার ভাগ্নে গিরিধারী সাথে দিল্লি থেকে পানিপথ যাচ্ছিলেন।

গিরিধারী বলেছেন, ‘আমরা দু’জনেই প্রথমে পাটনা থেকে এসেছিলাম। নিউ দিল্লি থেকে ট্রেনে করে পানিপথ যাচ্ছিলাম। কিন্তু ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পদপিষ্ট হয়ে মামির মৃত্যু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার জন্য স্টেশনে আসা মাত্রই দেখলাম সেখানে প্রচণ্ড ভিড়। সিঁড়িতে ধস্তাধস্তির কারণে আমরা দু’জনে আলাদা হয়ে যাই।’

‘কিছুক্ষণ পর আমি শুনতে পেলাম দুই-তিনজনকে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করছেন। চাদর দেখে আমি মামিকে চিনতে পারলাম। চাদরটা সরাতেই হালকা একটা নিঃশ্বাস পড়ল।’ কথা বলতে বলতে ভেঙে পোড়েন তিনি।

শনিবারের পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনকে দায়ী করেছেন অনেকে। প্রশ্ন উঠেছে যে পরিমাণে টিকিট বিক্রি হচ্ছিল তাতে রেল কর্তৃপক্ষের আগেই অনুমান করা উচিত ছিল এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে, ঘটনার সময় পর্যাপ্ত সাহায্য মেলেনি বলেও যেমন অভিযোগ উঠেছে।

তেমনই কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, হঠাৎ ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন করা হয়। যদিও রেল সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

হিরালাল মাহাতো নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘যখন ঘোষণা করা হয় যে ১২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে আসা ট্রেন ১৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে আসবে, তখন দু’দিক থেকে লোকজন আসতে শুরু করে।’

‘এমন পরিস্থিতিতে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে। ব্রিজের উপরেই বহু মানুষ আহত হয়েছেন। কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ভিড় নিয়ন্ত্রণ করার মতো কেউ ছিল না। প্রশাসন এক ঘণ্টা পর এখানে এসেছিল।’

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী রবি অবশ্য ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন করা হয়নি বলে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি এখানে ছিলাম। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ এই পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে। ১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের লোকজন যখন দেখেন ১৪ ও ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে, তখন তারা সকলেই এদিক ওদিক ছুটতে শুরু করেন। ভিড় এত বেশি ছিল যে থামানো যাচ্ছিল না। তবে ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন করা হয়নি।’

‘(অন্য প্ল্যাটফর্মে) ট্রেন দেখা মাত্রই সেখান থেকে লোকজন দৌড়ে আসতে থাকে। ব্রিজের উপরে আরো লোক দাঁড়িয়ে ছিল। ব্যাপক ভিড় ছিল। পুলিশ সব দেখছিল, কিন্তু ভিড় থামাতে পারেনি।’

অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীরা যা বলেছেন
পদপিষ্টের ঘটনায় দিল্লির কিরারির বাসিন্দা উমেশ গিরি তার স্ত্রী শিলাম দেবিকে হারিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা মহাকুম্ভে যাচ্ছিলাম। আজমেরি গেট থেকে আমরা উঠলাম, ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেসের ট্রেন ছিল। আমার টিকিট ছিল এসি কোচে।’

‘(ব্রিজের) উপরে ওঠার পর ভিড় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে।’

‘আমার সামনে অনেকের দেহ পড়ে ছিল। তারপর ধাক্কাধাক্কি হয়, লোকজন তাদের ওপর দিয়ে যেতে শুরু করে। সেই সময় সিঁড়ির সামনে তাদের (লাশ) রাখা হয়। তখন মিডিয়া ছিল না, প্রশাসনের কেউ ছিল না।’

তার অভিযোগ সাহায্য চাইলেও, সময় মতো তা মেলেনি। তিনি বলেছেন, ‘কারো কাছে কোনো সাহায্য পাইনি। পরে অনেক দেরি হয়ে গেছে। আমি বহু পুলিশকর্মী, আরপিএফের লোকজনকে বলেছি, কিন্তু কেউ শুনতে রাজি ছিল না।’

দিল্লির সুলতানপুরীর বাসিন্দা শোভা আদতে বিহারের বাসিন্দা। এই ঘটনায় তার দেবর আহত হয়েছেন এবং দেবরানির মৃত্যু হয়েছে।

তার দেবর আহত অবস্থায় তাকে ফোন করেন। শোকতপ্ত শোভা বলেন, ‘ফোনে আমাকে সে বলেছিলে- পদপিষ্ট হয়ে আমার স্ত্রী মারা গেছে, আমার আঘাত লেগেছে। তাড়াতাড়ি এস।’

‘ওর দুই সন্তানও চাপা পড়ে গিয়েছিল কিন্তু তারা নিরাপদে ছিল। তবে তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।’

‘চিৎকার করে লোকজনকে থামতে বলেছিলাম, কিন্তু..’
ভারতীয় বায়ুসেনার কর্মকর্তা অজিত ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে ভিআইপি মুভমেন্টের জন্য এসেছি। মুভমেন্ট শেষ করে ফিরছিলাম। কিন্তু যেতে পারিনি।’

‘এমনটা ঘটার আশঙ্কা আমার সন্ধ্যাতেই হয়েছিল। কারণ আমি যখন লোক কল্যাণ মার্গ দিয়ে নয়া দিল্লি আসছিলাম, তখন নয়া দিল্লি মেট্রো স্টেশন থেকে বেরোতে এক ঘণ্টা সময় লেগেছিল, যা আসলে মাত্র দুই মিনিটের কাজ।’

বিমান বাহিনীর এই কর্মকর্তা বলেন, ‘কাজ শেষ করে ফেরার সময় পথ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এর পর আমি নিজেই ১৩ ও ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঘোষণা করি যে ভারতীয় সেনা ও প্রশাসনের তরফে সবাইকে তিন-চার দিন অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে।’

‘আমি লোকজনকে বলেছি, একই সময়ে পাঁচ থেকে দশ হাজার মানুষ ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারে না। কিন্তু কেউ শুনতে করতে রাজি ছিল না।’

প্রশাসন কী বলছে?
উত্তর রেলের মুখপাত্র হিমাংশু উপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘যখন ঘটনাটা ঘটে, তখন ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পাটনাগামী মগধ এক্সপ্রেস ও ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে জম্মুগামী উত্তর সংক্রান্তি এক্সপ্রেস দাঁড়িয়ে ছিল।’

‘সেই সময়, ১৪ ও ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দিকে যাওয়ার সিঁড়িতে কিছু যাত্রী পা পিছলে পড়ে যান যার ফলে তাদের পিছনে থাকা কয়েকজন যাত্রী ঘটনার কবলে পড়েন এবং এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটে।’

একটা উচ্চ পর্যায়ের কমিটি এই ঘটনার তদন্ত করছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

রেল পুলিশের ডিসিপি কেপিএস মালহোত্রা বলেন, ‘কেন হুড়োহুড়ি শুরু হয় এবং পদপিষ্ট হয়, তার সঠিক কারণ তদন্তের পরে জানা যাবে। যে কাজ রেল করবে।’

‘আমরা ভিড় অনুমান করেছিলাম। কিন্তু দু’টো ট্রেন দেরি করায় সেখানে বেশি সংখ্যক মানুষ জড়ো হন এবং এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।’

ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘রাত ৯টার দিকে ভিড় বাড়তে থাকে। কোনো জায়গায় যখন বেশি মানুষ জড়ো হয়ে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করে এবং সেই সময় যদি কোনো ভুল তথ্য ছড়ায়, তাতে পদপিষ্ট হওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। এখন, এক্ষেত্রে কেন এমনটা ঘটল, তা জানা যাবে তদন্তের পরে যে কাজ (তদন্ত) করবে রেল।’

পদপিষ্ট হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ডিসিপি মালহোত্রা বলেন, ‘যে ১০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাটা ঘটেছে, সেই সময় বেশি সংখ্যক মানুষ একজাগায় ছিলেন এবং দু’টো ট্রেন দেরিতে চলছিল। তবে এর নেপথ্যে কী ঘটনা রয়েছে, তা রেলের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা হবে।’

অভিযোগ উঠেছে, যাত্রীদের তিন নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে আসতে বলা হয়েছিল, যে কারণে হঠাৎ হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।

এই প্রসঙ্গে রেলের ডিসিপি মালহোত্রা বলেন, ‘না, সেরকম কিছু নয়। ঘোষণা করা হয়েছিল, রেল থেকে একটা বিশেষ ট্রেন চালানো হবে। তবে ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন করার মতো কোনো ঘটনার কথা আমার জানা নেই।’

পাশাপাশি অভিযোগ উঠেছে, প্রতি ঘণ্টায় রেকর্ড সংখ্যক টিকিট বিক্রি হয়েছে। সন্ধ্যা থেকে লাখে লাখে মানুষ জড়ো হন। চূড়ান্ত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি শুরু হয়।

এই প্রসঙ্গে ডিসিপি বলেন, ‘না, ৬টা থেকে লাখ লাখ মানুষ ছিলেন না। রাত ৯টা নাগাদ যে ট্রেন ছিল, ওই সময় ভিড় বাড়ে। সন্ধ্যা ৬টার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই ছিল।’

এনডিআরএফ-এর কমান্ড্যান্ট দৌলত রাম চৌধুরি বলেছেন, ‘১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাই। আমরা পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে খবর পেয়েছিলাম।’

রাজনৈতিক বিতর্ক
এই ঘটনার জন্য কেন্দ্র সরকারকে দুষেছেন বিরোধী নেতারা। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ ইয়াদভ। এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘দিল্লিতে মহাকুম্ভ ভক্তদের মর্মান্তিক মৃত্যু হৃদয়বিদারক। সরকারকে রাজনীতিবিদদের মতো নয় বরং একজন পরিবারের সদস্যের মতো করে ভাবতে হবে যিনি তার বাবা-মা, ভাইবোন, সন্তান এবং আত্মীয়স্বজনকে হারিয়েছেন।’

‘নিহতদের লাশ পূর্ণ সম্মানের সাথে তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য ব্যবস্থা করা উচিৎ এবং আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা প্রদান করা উচিত। বিজেপি সরকারের মৃত্যুর বিষয়ে সত্য গোপন করার পাপ করা উচিৎ নয়।’

এর আগে জানুয়ারি মাসে কুম্ভ মেলায় পদপিষ্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করেও বিজেপিকে নিশানা করেছিল বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, সেই ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তথ্য গোপন করেছে বিজেপি যদিও গেরুয়া শিবির সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেন , ‘গত রাতে নিউ দিল্লি রেলস্টেশনে যে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেছে, তাতে আমার মনে হচ্ছে সরকারের একের পর এক সত্যি উন্মোচিত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘গতকাল বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে রেল প্রশাসন এবং রেলমন্ত্রী এই খবর চাপা দেয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করছিলেন। তিনি ক্রমাগত টুইট করছিলেন যে কেউ পদদলিত হননি, ভিড় বেড়েছে। কিন্তু কেন ভিড় বাড়ল? আপনাদের অব্যবস্থার কারণেই ভিড় বেড়েছে।’
সূত্র : বিবিসি

নাট্যকর্মীরাই স্থগিত করেন মহানগর নাট্যোৎসব : মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

০

মহানগর নাট্যোৎসব স্থগিতের আসল রহস্য ফাঁস হয়েছে। এটি বন্ধে সরকার কিংবা তৃতীয় পক্ষের কোনো ভূমিকা ছিলো না। নাট্যকর্মীদের একটি অংশ এই উৎসব বন্ধ করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান, উৎসব বন্ধের জন্য নাট্যকর্মীদের একটা অংশই ভূমিকা রেখেছে। এখানে পুলিশ বা সরকার পক্ষের কোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেউ জড়িত নন।

চলচ্চিত্রকার মোস্তফা সরয়ার ফারুকী লিখেছেন, ‘নাট্যোৎসব বন্ধের খবরটা দেখে আমরা কাল সন্ধ্যা থেকেই খোঁজ খবর নেয়া শুরু করি। কারণ সরকার শিল্পকলার মাধ্যমে সারাদেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছড়িয়ে দিতে উৎসাহ দিচ্ছে, গতকালও শিল্পকলায় তিনটা প্রদর্শনী হলো। আজকেও প্রাচ্যনাটের শো আছে শিল্পকলায়। তাহলে এখানে কেনো পুলিশ উৎসব বন্ধ করতে বলবে? খোঁজ নিয়ে জানলাম, পুলিশ এ রকম কিছুই বলেনি। কালকে রাতেই বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে তারা কাউকে উৎসব বন্ধ করতে বলেনি। বরং তারা নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত। তাহলে?’

ফারুকী বলেন, ‘আমাদের দ্রুত অনুসন্ধান থেকে জানা গেলো, নাট্যকর্মীদের মধ্যেই একটা অংশ এই উৎসবের বিরোধিতা করে মহিলা সমিতি কর্তৃপক্ষের কাছে হল বরাদ্দ বাতিলের জন্য জোর দাবি জানিয়ে আসছে বেশ কিছুদিন ধরে। বিক্ষুব্ধ নাট্যকর্মীদের দাবি, এই উৎসবের আড়ালে জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতা হত্যায় বিবৃতি দিয়ে উস্কানি দেয়া কিছু ব্যক্তি বা তাদের গোত্রীয় কিছু মানুষ সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তারা দাবি জানায় জুলাইয়ে তাদের ভুমিকার জন্য বিচারের মুখোমুখি হওয়ার আগে কোনো পূনর্বাসন চলবে না। অবশেষে কালকে মহিলা সমিতি বরাদ্দ বাতিল করে।

এর আগে রাজধানীর মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে গতকাল ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ঢাকা মহানগর নাট্যোৎসব। উৎসব স্থগিতের কারণ হিসেবে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বরাতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ঢাকা মহানগর নাট্য পর্ষদের আহ্বায়ক ঠান্ডু রায়হান জানান, রমনা থানা থেকে ফোনে নাট্যোৎসব বন্ধ করতে বলা হয়েছে। পরে সেটি স্থগিত হয়ে যায়।

ফারুকী বলেন, ‘কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে, বিবৃতিতে তারা এইসব কিছু না বলে কৌশলে প্রথমে পুলিশের কাঁধে দোষ চাপানোর চেষ্টা করলো। এবং বিবৃতির শেষে বললো- মবের কারণে উৎসব বাতিল করতে হলো। তারা তো জানেই কারা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে। তাদের পরিচয় না লিখে মব বলে চালিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্য কি একটা বিশেষ ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা করা? বা কেন ঐ বিক্ষুব্ধ নাট্যকর্মীরা প্রতিবাদ করছে তারা জানে। কিন্তু সেটাও তারা বিবৃতিতে উল্লেখ না করা কি ওই বিশেষ ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা কিনা সেটা সবাই ভেবে দেখতে পারেন।’

ফারুকী প্রশ্ন রাখেন, ‘পাশাপাশি আরেকটা প্রশ্নও আসে, জুলাইয়ে তাদের ভুমিকার জন্য জাতির কাছে এখনো কি একবারও ক্ষমার চাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেছে তারা।’

কারো ধমকে কাজ করার প্রয়োজন নেই : প্রধান উপদেষ্টা

০

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অন্তর্বর্তী এই সরকারের আমলে কারো রক্তচক্ষু বা ধমকের কারণে কোনো কাজ করার প্রয়োজন নেই। নিজের মতো করে যেটা আইন, যেটা দেশের জন্য করা দরকার, সেটা করতে হবে।

আজ রোববার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের শাপলা হলে তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নিজ নিজ জেলায় সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে এক নম্বর হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

এর আগে, সকাল সাড়ে ১০টায় তিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের নিজ কার্যালয়ের শাপলা হলে উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এবার ডিসি সম্মেলন শেষ হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার)।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার সাথে ডিসিদের মুক্ত আলোচনা হবে। সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সাথে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভা হবে। রাতে হবে প্রধান উপদেষ্টার সাথে নৈশভোজ।

বিদ্রোহ থেকে সরে এসেছেন সাবিনারা, ফিরবেন অনুশীলনে

০

শেষ পর্যন্ত কোচ পিটার জেমস বাটলারের অধীনে অনুশীলন করতে রাজি হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ১৮ নারী ফুটবলার।

আজ রোববার বাফুফের মহিলা উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজ আক্তার কিরণের সাথে মিটিং শেষে অনুশীলনে ফিরতে রাজি হয়েছেন সাবিনা খাতুনসহ ১৮ জন। তবে এখনই তাদের অনুশীলনে নেয়া হচ্ছে না।

মাহফুজ আক্তার কিরণ বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশ জাতীয় দল দু’টি ম্যাচ খেলতে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাত যাবে। সে উপলক্ষে ক্যাম্প ছুটি হবে। তখন জাতীয় দল যাবে আমিরাতে। আর বিদ্রোহী ফুটবলার চলে যাবেন যার যার বাড়িতে। এরপর আবার যখন ক্যাম্প শুরু হবে তখনই বাটলারের অধীনে যোগ দিবেন সাবিনা, নীলা, সানজিদা, মনিকা, মারিয়ারা।

তবে ওই ক্যাম্পে এই বিদ্রোহীদের সবাই ডাক পাবেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কারণ বাফুফের বিশেষ কমিটি শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য অভিযুক্ত করেছে এই বিদ্রোহীদের। হয়তো তখন কয়েকজন খেলোয়াড়কে ক্যাম্পে আর নাও ডাকা হতে পারে।